এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪

সম্পর্ক,,,,,, গল্পের শেষলাইন ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সম্পর্ক 

শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করা ও বাচ্চার জন্ম দেওয়ার জন্য মানুষ সংসার করে না।


সংসার একটা অভ্যেস, যা একসাথে থাকতে থাকতে গড়ে ওঠে, একে অপরের সাথে কথা বলতে বলতে, একে অপরকে সহ্য করতে করতে এই অভ্যেস গড়ে ওঠে।


সংসার মানে হলো একসাথে থাকতে থাকতে একে অপরের গায়ের গন্ধটা আত্মস্থ করে নেওয়া। সংসার মানে হলো মানুষটা মুখের সামনে এসে দাঁড়ালেই মানুষটার মনের ভেতর কি চলছে, সেটা বুঝে ফেলা।


সংসার মানে হলো বর অফিস থেকে ফিরলে এক গ্লাস জল রোজই মুখের সামনে তুলে ধরা।


সংসার মানে হলো ছেঁড়া বোতাম সেলাই করতে করতে নিজেদের ভেতর ভুল বোঝাবুঝি গুলো মাঝেমধ্যে সেলাই করে নেওয়া।


সংসার মানে হলো এডজাস্টমেন্ট, "তোমার আমার" থেকে আমাদের হয়ে ওঠা। সংসার মানে মাছের ঝোলে নুন বেশি হলেও চুপচাপ হাসিমুখে খেয়ে ফেলা, সংসার মানে হলো রোজই বিছানার উপর রাখা নিজের পার্টনারের ভেজা টাওয়ালটা মেলে দেওয়া।


সংসার মানে হলো বিয়ের ডেট, একে অপরের জন্মদিনের তারিখ ভুলে গেলেও মানিয়ে নেওয়া।


সংসার মানে গাঢ় নীল রং নিজের পছন্দ না হওয়া সত্ত্বেও পার্টনারের পছন্দ বলে একদিন নীল রঙের পাঞ্জাবিটা পরে ফেলা, আবার তেমনি শাড়ি পরতে একটুও ভালো না লাগলেও এক দুটো দিন নিজের পার্টনারের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে একটা লাল টকটকে শাড়ি পরে পার্টনারের সামনে এসে দাঁড়ানো।


সংসার হলো একটা প্রতিজ্ঞা, যার ভেতর মান, অভিমান, রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ, ব্যথা সবই থাকবে, কিন্তু দিনের শেষে একে অপরের মুখের সামনে ভাতের থালা তুলে দেওয়ার প্রতিজ্ঞাটা একে অপরকে করতে হবে।


সংসার মানে হলো মাসের শেষে টাকাপয়সার হিসেব করতে করতে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বলা "আজ তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাবো, আজ আমায় একটু ঘুম পাড়িয়ে দাও"


সংসার মানে হলো মাঝরাতে বরকে ঘুম থেকে তুলে  শিশির ভেজা রাস্তায় হাঁটতে যাওয়ার বায়না ধরা।


সংসার করা সহজ, কিন্তু একটা সংসারকে প্রতি মুহূর্তে যাপন করা সহজ নয়


সংসার মানে হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও একবার অন্তত ফোন করে জিজ্ঞেস করা "খেয়েছো"


সংসারে ওঠানামা, ভাঙাগড়া থাকবেই, কিন্তু হাঁপিয়ে গেলে চলবে না, একে অপরকে মানিয়ে নিতে হবে, একে অপরের সমস্যায় পাশে থাকতে হবে, একে অপরকে সাহস যোগাতে হবে


সংসারে কেউ কারোর থেকে ছোট বা বড় হয় না, দুজনেই দুজনের পরিপূরক হয়, তাই সংসার করতে গেলে একে অপরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা বড্ড জরুরি....


Abul Islam Alam গল্পের শেষ লাইন


শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

Live wire যদি নদীতে ছিঁড়ে পড়ে আর  প্রটেকশন সিস্টেম যদি কাজ না করে তাইলে কি ঘট

 যদি 132kV, 230kV, 400kV রিভার ক্রসিং ট্রান্সমিশান লাইনগুলোর Live wire যদি নদীতে ছিঁড়ে পড়ে আর  প্রটেকশন সিস্টেম যদি কাজ না করে তাইলে কি ঘটবে? 


পানি একটি উত্তম পরিবাহী। পানির সাথে বিদ্যুৎ এর সম্পর্ক রোমিও জুলিয়েটের মত। তবে এই আমার এই কথায় একটু খাদ আছে। শুধু পানি হলেই হবেনা সেটা হতে হবে অবিশুদ্ধ পানি। অর্থাৎ যে নদী বা লেকের উপর তার ছিড়ে পড়বে সেই নদী বা লেকের পানির বিশুদ্ধতার উপরেও নির্ভর করছে বিদ্যুৎ পরিবহনের ব্যাপার টি।


আচ্ছা ধরেই নিলাম অবিশুদ্ধ পানির উপরেই Live Line ছিড়ে পড়ল। তাইলে কি হবে?


যদি অবিশুদ্ধ পানির উপরে লাইভ লাইনটি ছিড়ে পড়ে তাইলে ত বিদ্যুৎ আনন্দে আত্নহারা হয়ে যাবে এবং সেই ওয়াটার এর সাথে রিলেশান তৈরি করবে। জলাশয়টি হাইড্রোইলেক্ট্রিক ফিল্ড এ রুপান্তরিত হবে। অবিরাম বিদ্যুৎ পরিবহনের দরুণ তাপ সৃষ্টি হয়ে পানিতে বুদবুদ সৃষ্টি করতে পারে। নদীর কতটুকু এরিয়া বিদ্যুতায়িত হবে নির্ভর করবে ভোল্টেজ লেবেলের উপর। 


এবার একটা প্রশ্ন সবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে যে যদি ওই মুহূর্তে যদি কেউ সাঁতার কাটে তাইলে সেই বেচারার কি হাল হবে? 


এখন ওই লোকটি বিদ্যুতায়িত হবে কিনা সেটা নির্ভর করবে নদীর গভীরতার উপর। লোকটি যদি জলাশয়ের তলদেশ স্পর্শ করে থাকে তাইলে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি হতে পারে। আর তখন ই শক খাবে। সাধারণত নদী, লেকের গভীরতা ১০০-৩০০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাই এক্ষেত্রে ঝুকি নেই। কিন্তু ছোট খাট বদ্ধ পুকুর ডোবা হলে ঝুকি থাকবে। 


আর এই অনাকাংখিত ঘটনাটি ঘটবার সম্ভবনা খুব ই কম। কারণ রিভার ক্রসিং ট্রান্সমিশান লাইন গুলোর স্যাগ অনেক বেশি। তাই ছিড়ে পড়ার সম্ভবনা খুব কম।


পাওয়ার সিস্টেম নিয়ে এরকম ভিন্ন রকম তথ্যসমৃদ্ধ মজার আর্টিকেল পেতে আমার লিখা "পাওয়ার সিস্টেম নিয়ে আড্ডা" ই-বুক টি নিতে পারেন। শুরুটা হোক শুরু থেকে হোক। অনেক সদ্য পাস করা ডিপ্লোমা/বিএসসি নবীন ভাইয়েরা চিন্তিত থাকেন ভাইবা নিয়ে। ব্যাসিক ত ভূলে গেছি! আবার অনেক সিনিয়র ভাই প্রফেশনাল কাজে মনে হয়, "ইশ! যদি আবার থিওরিটা জাবর কাটা যেত?!''


আপনাদের জন্য আমার ৮টি স্পেশাল ই-বুকঃ


ই-বুক ১ঃ ইলেকট্রিক্যাল যখন এ বি সি এর মত সহজ


ই-বুক ২ঃ সাবস্টেশন এবং সুইচগিয়ারের ময়নাতদন্ত


ই-বুক ৩ঃ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জটিল টপিকের সরল আলোচনা


ই-বুক ৪ঃ পাওয়ার সিস্টেম নিয়ে আড্ডা


ই-বুক ৫ঃ চা এর আড্ডায় পি এল সি


ই-বুক ৬ঃ ট্রান্সফরমার মহাশয়ের খুটিনাটি


ই-বুক ৭ঃ ডিসি সার্কিট নিয়ে মজার বই


ই-বুক ৮ঃ Electronics এত মধুর কেন?


সামান্য হাদিয়ার বিনিময়ে ৮টি ইবুক পেতে ইনবক্সে নক দিয়ে ইমেইল আইডি শেয়ার করুন অথবা What's app +8801741994646


শুক্রবার, ১৭ মে, ২০২৪

ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 এরা হোমো ফ্লোরেন্সিস,  মানুষের এক অবলুপ্ত প্রজাতি। মাত্র ৬০০০০ বছর আগেও এরা বেচে ছলো ,  ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্স দ্বীপে। একই সময় পৃথিবীতে বাস করছিলো আরো তিন প্রজাতির মানুষ - হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্স ( মানে আমরা বা আমাদের পূর্বপুরুষরা ),  ইয়োরোপে ও পশ্চিম এশিয়াতে হোমো নিয়ান্ডারথালেন্সিস ( বা নিয়ান্ডারথাল মানুষ,  যারা ছিলো প্রায় মানুষ,  প্রায় আমাদেরই মতো কিন্তু আলাদা মুনুষ্য প্রজাতি) ,  আর উত্তর এশিয়ায় সাইবেরিয়ায় হোমো ডেনিসোভানিয়ান্সিস।। 

 তখন তুষার যুগ তার চরম অবস্থায়। সারা উত্তর গোলার্ধ ও বিশ্বের এক বিশাল অঞ্চল পুরু বরফের আচ্ছাদনে ঢাকা।  পাথরের কুড়ুল,  পাথরের ছুরি, বরশা, পাথরের ফলা বসানো তীর দিয়ে এই চার মুনুষ্য প্রজাতি শিকার করছে হাতির চেয়ে বড়ো ম্যামথ, বল্গা হরিন, দানবীয় এল্ক হরিন,  গুহা ভল্লুকদের।।  ইয়োরোপের কঠিন ঠান্ডায় চলছে মানুষের নানা প্রজাতির বাচার লড়াই আর আমাদের পূর্ব পুরুষ হোমো সেপিয়েন্স সেপিয়েন্সদের সাথে নিয়ান্ডারথালদের লড়াই। হোমো ফ্লোরেন্সিসরা ছিলো দূরভাগ্যের শিকার। তূষার যুগের শেষের দিকে তাপমাত্রা ভাড়ার সাথে সাথে সমুদ্রের জলস্তরের উচ্চতা বাড়তে থাকে।  দুনিয়ার নানা স্থানে ছডিয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র দ্বীপের মতো ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্স দ্বীপ বিছিন্ন হয়ে পড়ে মূল স্থলভাগ থেকে।  ছোটো দ্বীপের গন্ডিতে আটকে পড়ে হোমো ফ্লোরেন্সিস মানুষরা।  খাদ্যের ভান্ডার সীমিত। এই ভাবে হাজার হাজার বছর ধরে অল্প খাদ্যের ভরসায় জীবন ধারন করতে করতে  প্রাকৃতিক নির্বাচন এদের বানিয়ে দেয় খরবাকৃতি। এদের গড় উচ্চতা ছিলো সাড়ে তিন ফুট।  এখনো অবধি সবচেয়ে ছোটো মানুষ।  আফ্রিকার পিগমী বা বুশম্যান দের থেকে ছোটো। কিন্তু ছোট্ট হলেও এরা ছিলো নিপুন শিকারী এবং এরা দারুন অস্ত্র বানাতে পারতো।  প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রমান পেয়েছেন হোমো ফ্লোরেন্সসিস মানুষররা ইন্দোনেশিয়ার অধুনা অবলুপ্ত পিগমী হাতি শিকার করতো খাদ্যের জন্য। 

এই সবচেয়ে ছোটো ও বুদ্ধিমান মানুষের প্রজাতি আজ অবলুপ্ত। জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা বলছেন মাত্র ৪০ হাজার বছর আগে এরা অবলুপ্ত হয়েছে।  কারন অজানা।  প্রাকৃতিক নির্বাচন যাদের বাচিয়ে রেখেছিল, প্রকৃতিই তাদের হনন করেছে।  

এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় মানুষের এই আত্মীয়দের কথা ভাবলে।


এই হোমো ফ্লোরেন্সিস দের নিয়ে ই 'গালিভারস ট্রাভেলস'এর কাল্পনিক কাহিনী রচিত হয়েছিল..

সকাল ৭ টার  সংবাদ।  তারিখ: ১৭-০৫-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭ টার  সংবাদ। 

তারিখ: ১৭-০৫-২০২৪ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


নানা কর্মসূচিতে আজ পালিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 

৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।


আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন - বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন - বললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।


আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় কোরবানির পশুর কোন সংকট হবে না - জানালেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। 


মানামা শীর্ষ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানালো আরব লীগ।


আজ মুম্বাইয়ে আইপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দিনের একমাত্র খেলায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স মুখোমুখি হবে লক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের ।

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০২৪

গল্পঃ স্বপ্নের ফেরিওয়ালা  তোমায়_পাওয়া অণুগল্প

 "নিজ রুমে বসে ব্যবসার হিসাব করছিলাম। পাশের রুমে স্ত্রী একটা মেয়ের সাথে কথা বলছেন। 

মেয়েটি আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে বেশ কয়েক দিন থাকছেন। তারা নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। ওনাদের কথাগুলো স্পষ্ট আমার কানে ভেসে আসছে। নিজ কাজের দিকে একটু মনোযোগ দিলাম। কিন্তু কিছুতে’ই হিসেব মেলাতে পারছিনা। সবকিছু রেখে দিয়ে বিছানায় শুয়ে একটি বই পড়বো বলে মত পূষন করলাম। কিন্তু ওনাদের কথা বলার কারণে ঠিক মন দিয়ে বই পড়া হলোনা। তাই ভাবলাম কি নিয়ে কথা বলছেন ওনারা তা শুনি।


পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েটি বলছেন, ‘আচ্ছা ভাবি আপনার স্বামী সারা দিন বাইরে থাকেন এবং আপনি ত সারাদিন একা বাসায় থাকেন, এতে আপনার খারাপ লাগে না। আপনি চাইলে ত আমার মত একটা ছোটখাটো জব করার মাধ্যমে সময়টা পার করতে পারেন। আমিও ঠিক আপনার মত সারাদিন বাসায় একা থাকতাম। কখনো টিভি দেখতাম, কখনো গান শুনতাম নয়ত ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকতাম। হঠাৎ করেই একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম যে একটা জব করলেই ত সময়টা পার করা যাবে। স্বামীর কাছ থেকে নিজের হাত খরচের জন্য টাকা চাওয়াটা নিজের সম্মানে লাগে। বিয়ের পূর্বে তো একেবারে স্বাধীন ছিলাম। আর বিয়ের পর ঘরকুনো হয়ে গেলাম। তাই এখন আর তেমন একাকীত্বের অনুভব হয়না। মাঝে মধ্যে রাতের খাবার বাইরে খেয়ে নেই। চিন্তারও অবসান হল। আপনি চাইলে আমি যেখানে জব করি, সেখানে জবের ব্যাপারে বসের সাথে কথা বলতে পারি। বেতনের দিক দিয়েও ভাল। মাসিক পঁচিশ হাজারের মতন।’


পাশের ফ্ল্যাটের ভাবির কথা শোনার পর আগ্রহ বেড়ে গেল। দেখি এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর মতামত কি!


আমার স্ত্রীর কথা গভীর মনে শুনে যাচ্ছি। তিনি বললেন, ‘আসলে আমার স্বামী বাসায় থাকা অবস্থায় যেমন আমি একাকীত্বের অনুভব করিনা, ঠিক তেমনি তিনি বাসায় না থাকলেও উনার অবর্তমানে

একাকীত্ব অনুভব করিনা।’


ভাবি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘মানে?’ আমার স্ত্রী শান্ত ভাবে বললেন, ‘আপনাকে ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলি। শুরুতে আমার প্রতিদিনকার রুটিন সম্পর্কে একটু বলি। আমার রুটিন অনুযায়ী রাতের শেষ ভাগে তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরুর ঘণ্টা খানেক পূর্বে ঘুম থেকে জেগে ওযু করে স্বামীর ওয়ুর পানি উঠিয়ে রাখি। তারপর স্বামীকে জাগিয়ে দিয়ে প্রথমে তওবা করি পরে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে অল্প কিছুক্ষণ কয়েকটা সূরা তেলাওয়াত করি। আমার স্বামিও তেলাওয়াত করেন। তারপর ফজরের আযানের পূর্বে’ই আমার স্বামীকে মসজিদে পাঠিয়ে দেই। তার কারণ হল সবার প্রথম আযানের পূর্বে মসজিদে গেলে খুব বেশি সওয়াব মিলে। ফজরের আযান হয়ে গেলে সালাত আদায় করি ও আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করি। সালাত আদায় করবার পর যিকির করি। মসজিদ হতে স্বামী বাসায় এসে গভীর মনে আমার কোলে মাথা রেখে কোরান তেলাওয়াত শুনেন। সূর্যোদয়ের বারো মিনিট পর আমরা  একসাথে ইশরাকের সালাত আদায় করি। সালাতের পর তিনি আমার সঙে রান্নার কাজে যথেষ্ট সাহায্য করেন। শুরুতে এক কাপে চা বানিয়ে আমরা দুজন খাই। তারপর এক চুলায় আমি তরকারি ও অন্য চুলায় তিনি ভাত রান্নার পাশাপাশি অনেক গল্প করি। ভাত রান্না শেষ হয়ে গেলে ওনাকে ফ্রেশ হতে পাঠিয়ে দেই। তারপর তিনি ফ্রেশ হয়ে ভেজা চুল নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। আমি খুব যত্ন সহকারে মাথা মুছে দিয়ে ফ্রেশ হতে যাই। তিনি সুন্দরভাবে সকল খাবার টেবিলে সাজিয়ে রেখে দিয়ে রুমে চলে আসেন। আমাকে কোলে করে খাবার টেবিলে নিয়ে আসেন। আসলে টেবিল বলতে আমি নিচের দিকটা বুঝিয়েছি। আমরা রাসূলের সুন্নাহ্ অনুযায়ী যতটুকু পারি সেটা মেনে চলতে চেষ্টা করি। তারপর তিনি নিজে আমাকে খাইয়ে দেন ও খাওয়া শেষে তিনি তৈরি হতে রুমে যান। এর ফাঁকে আমি অল্প একটু গুছিয়ে নিয়ে দুপুরের খাবার গরম করে টিফিন নিয়ে নিজ রুমে আসি। তিনি তৈরি হয়ে টিফিন হাতে করে নিয়ে ব্যবসার কাজে চলে যান। তারপর দরজা বন্ধ করে সবকিছু গুছিয়ে নেই। সারে নয়টা বা দশটার দিকে জায়নামায বিছিয়ে চাশতের সালাত আদায় করে গোসল করে নেই। যেই যুহরের আযান হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায় করে কোরান পাঠ করি এবং যাওয়ালের সালাত পড়ে নেই। কোরান তেলাওয়াত সমাপ্ত করে স্বামীকে ফোন দিয়ে সালাতের ব্যাপারে কথা বলি। তারপর খাওয়া দাওয়া করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেই। সারে তিনটার দিকে আমার স্বামী ফোন দিয়ে আমাকে জাগিয়ে দেন। নয়ত আমি জেগে যাই। হাত মুখ ধোঁয়ে শ্বাশুরির সাথে ফোনে কথা বলার পর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলি, ননদের সাথে ফোনে কথা বলা সমাপ্ত করে একটু বই পড়ি। আসরের সালাত আদায় করার পর কয়েকটা সূরা পাঠ করে বাসার সকল জানালা লাগিয়ে নেই। ঠিক মগরীবের সালাত আদায় করে,অল্প কয়েকটা সূরা তেলাওয়াত করবার মধ্যখানে স্বামী ফোন দিয়ে বলেন আমার কিছু লাগবে কিনা। অবশ্য বাজারের দিকটা আমার স্বামীকে আজ পর্যন্ত বলতে হয়নি। কেননা তিনি নিজ থেকেই যা কিছু লাগবে তা আসার সময় নিয়ে আসবেন। কোরআন তেলাওয়াত সমাপ্ত করে রান্নাঘরে গিয়ে রান্না করি। ঈশার সালাত আদায় করে তওবা করার পর ইস্তেখারা সালাত পড়ি। তারপর দুটি সূরা তেলাওয়াত করি। ঈশার সালাতের পর তিনি খুব ক্লান্ত ভাব নিয়ে আসেন। পূর্বে সালাম দিয়ে মুখের ঘামগুলো খুব যত্নসহকারে মুছে দেই। হাত থেকে ব্যাগটা নেই। এক গ্লাস পানি নিয়ে ওনার দিকে এগিয়ে দেই। আমার স্বামি গ্লাসের অর্ধেক পানি পান করে আমার দিকে বাড়িয়ে দেন। বাকিটুকু আমি পান করি। ওনার দিকে টাওয়ালটা এগিয়ে দেই। তিনি ফ্রেশ হতে গেলে আমি এক কাপ চা তৈরি করে নিয়ে আসি। তারপর চা খেতে খেতে গল্প করি। শেষে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ি। 


আপনাকে এতোকিছু বললাম এই জন্যই যে, আমি কখনোই নিজেকে একা ভাবিনা। আমার স্বামী বাসার বাইরে থাকলেও ওনার ভালোবাসা আমাকে সবসম’য়ই উৎসাহ দেয়। সেই সাথে আমি ওই সময়টাতে সালাত ও কোরআন তেলাওয়াতকে দিনটার একাকীত্বের সঙ্গী হিসেবে গ্রহন করি। এতে করে পরকালের কিছুটা সঞ্চয় করতে সক্ষম হই ও এমন সুযোগ করে দেবার জন্য আল্লাহর দরবারে স্বামীর কল্যাণ কামনা করি। এরকম একটা ভাল সুযোগ থেকে আমি কখনোই বাদ পড়ে যেতে চাইনি কখনো। আমার হাত খরচের সবকিছু তিনি নিজের হালাল উপার্জন থেকে দেন। বিয়ের দিন তিনি আমাকে একটা বাক্সের মতন জিনিস দিয়েছিলেন। রাতের বেলা তিনি বাসায় এসে সেই বাক্সে দশ টাকা পাঁচ টাকা করে দেন। এতে করে অল্প অল্প করে অনেকটা টাকা জমা হয়ে যায়। কি প্রয়োজন বাইরে বের হয়ে পরপরুষের ওই চোখের খোরাক মেটানো। আমার কাছে স্বামী এবং ইবাদাত’ই পরম বন্ধু। আলহামদুলিল্লাহ এই বন্ধুদের নিয়েই বেশ আড্ডা দেই প্রতিদিন। আল্লাহর রহমতে বেশ ভাল আছি।’


গল্পঃ স্বপ্নের ফেরিওয়ালা 

তোমায়_পাওয়া


অণুগল্প

চাঁদে রোবট ট্রেন তৈরি করতে চায় নাসা"

 "চাঁদে রোবট ট্রেন তৈরি করতে চায় নাসা"


চাঁদে একটি রোবট ট্রেন নির্মাণ! শুনে মনে হবে সাই-ফাই উপন্যাসের পাতা থেকে ছেঁড়া কোন গল্প! তবে এটি এখন আর গল্প নয়। চাঁদের চারপাশে নির্ভরযোগ্য পরিবহনের জন্য প্রথম সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী রেলওয়ে স্টেশন তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা নাসা। শুক্রবার (১০ মে) এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যর সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইল এ তথ্য জানায়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ট্রেনটি পৃথিবীর তুলনায় কিছুটা আলাদা হবে। রেলওয়ে স্টেশনে, ফ্লেক্সিবল লেভিটেশন অন এ ট্র্যাক, যা মূলত চাঁদের পৃষ্ঠে ভাসমান অবস্থায় প্রতিদিন ১শ’ টন পর্যন্ত পদার্থ পরিবহনের জন্য লেভিটেটিং ম্যাগনেটিক রোবট ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।


নাসা-র জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির একজন রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ার প্রজেক্ট লিডার ড. ইথান শ্যালার বলেছেন, ২০৩০ সালের দিকে শোব ধরনের চন্দ্র অভিযানের ক্ষেত্রে এই রোবোটিক পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গাছেরাও কথা বলে! (পর্ব ১)

 গাছেরাও কথা বলে! (পর্ব ১)

******************************************

নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী ও সবুজ বিপ্লবের জনক নরম্যান বোরলগ বলেছিলেন, ‘গাছেরা কথা বলে ফিস ফিস করে। সে কথা শুনতে হলে যেতে হবে তাদের কাছে।’ অর্থাৎ গাছেরাও কথা বলে! গাছ কি আসলেই কথা বলে? ওদের ঠোঁট-মুখ-দাঁত নেই যে ওরা কথা বলবে। মানুষের এগুলো আছে বলেই সে অন্যের সঙ্গে কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। বিভিন্ন প্রাণী প্রজাপতি, পাখি, ঝিঁঝিঁ পোকা—এদেরও নিজস্ব ভাষা আছে। ফুলের কি সেরকম কোনো ভাষা আছে, যা দিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে বা অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে পারে? অনেক উদ্ভিদ বিজ্ঞানীই এসব নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন, জানতে চেয়েছেন আসলে উদ্ভিদের ভাষা কী? কীভাবে তারা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে?


ফুলে ফুলে মৌমাছি ঘোরে কেন? পাতায় কেন শুঁয়াপোকার মা এসে বসল, ডিম পাড়ল, আর সেসব ডিম ফুটে সেখানে বাচ্চা বেরিয়ে পাতাটাকে খাওয়া শুরু করল? কেন এসব ঘটছে? লক্ষ্যণীয় বিষয়, কিছু পোকা নির্দিষ্ট গাছ ছাড়া অন্য গাছে বসতেই চায় না। কিছু প্রজাপতি নির্দিষ্ট কিছু গাছের ফুলেই ঘুরে বেড়ায়। বিজ্ঞানীরাও তা দেখেছেন। তাঁরা বলছেন, প্রতিটি উদ্ভিদের বিশেষ একধরনের গন্ধ আছে। বলা যায় সিগন্যাল দেওয়ার পদ্ধতি। উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের গন্ধ বিভিন্ন রকম। তাই সেসব গন্ধ শুঁকে গাছের সে অংশ খুঁজে পেতে পোকাদের কোনো অসুবিধা হয় না। এই গন্ধ তৈরি করে উদ্ভিদের কিছু উদ্বায়ী জৈব যৌগ, যাকে ইংরেজিতে বলে ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড (VOCs)।


উদ্ভিদ এসব জৈব রাসায়নিক বাতাসে ছড়িয়ে দিলে, সে গন্ধ পেয়ে ছুটে আসে পতঙ্গরা। এমনকি ছাগলও হয়তো তা বোঝে। এ কারণে ছাগলের প্রথম পছন্দ কাঁঠাল পাতা। আর একেবারে অপছন্দ অড়হর গাছের পাতা। কাঁঠাল পাতা ছাগলের দেহে প্রোটিন তৈরিতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তাই ছাগল এটা বেশি পছন্দ করে। কিন্তু ছাগল এটা বুঝল কী করে? গাছ এই উদ্বায়ী জৈব যৌগ দিয়ে শুধু যে বিভিন্ন প্রাণীকে তার কাছে টেনে আনে, ব্যাপারটা শুধু তা নয়। কোনো গাছ যখন বিপদে পড়ে, তখন তার কথা সে পাশের গাছকে জানিয়ে দেয় বিশেষ একরকম উদ্বায়ী যৌগ নিঃসরণ করে। আবার অনেক সময় গাছ তার দেহ থেকে এমন কিছু উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা জৈব রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়ে, যার কারণে আগত প্রাণীরা বিভ্রান্ত ও বিতাড়িত হয়। গাঁদা ফুলগাছের শিকড় এমন একধরনের জৈব রাসায়নিক যৌগ মাটিতে নিঃসরণ করে, যার কারণে গাঁদা ফুলগাছের আশপাশে থাকা গাছেদের শিকড়ের কাছে শিকড়ে গিঁট সৃষ্টিকারী কৃমিরা ঘেঁষতে পারে না। কৃমিদের জন্য গাঁদা ফুলগাছ বিতাড়ক বা বিকর্ষক হিসেবে কাজ করে। ফলে সেসব গাছে আর কৃমির সংক্রমণ হয় না। কৃমি রোগও সৃষ্টি হতে পারে না।


প্রতিটি গাছই প্রকৃতিতে অনেক রকম ধকল ও ঝুঁকির মধ্যে বেঁচে থাকে। গাছকে সইতে হয় রোগের যন্ত্রণা, পোকার কামড়, মানুষের কুঠারের আঘাত ও কাঁচির খোঁচা, আবহাওয়ার চরম তাপদাহ, শৈত্যপ্রবাহ, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ইত্যাদি। এজন্য গাছকে এসব ধকল সহ্য করে টিকে থাকতে হলে খাপ খাওয়ানোর কিছু কৌশল রপ্ত করতে হয়। ঘটাতে হয় কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। কী করতে হবে, তা বুঝতে হলে গাছকে নিজের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য উদ্বায়ী জৈব যৌগভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়।


গাছ যখন কোনো বিপদে পড়ে, তখনই তারা এই উদ্বায়ী জৈব যৌগ নিঃসরণ করে বলে জানা গেছে। শুধু বিপদে নয়, গাছের নিজেদের কিছু বিশেষ প্রয়োজনেও সে এটা নিঃসরণ করে। যেমন, একটি উভলিঙ্গ ফুলের ভেতরে থাকে পুরুষ ও স্ত্রী জননাঙ্গ। পুরুষ জননাঙ্গের পরাগধানীতে থাকে পরাগরেণু আর স্ত্রী জননাঙ্গের গর্ভদণ্ডের মাথায় থাকে গর্ভমুণ্ড। যখন ফুল ফোটে তখন গর্ভমুণ্ড একধরনের আঠালো পদার্থ নিয়ে পরাগরেণু গ্রহণের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করে। গর্ভমুণ্ডের মাথায় সেই পরাগরেণু পড়লে হয় পরাগায়ন। পরাগায়নের পর হয় গর্ভাধান ও নিষিক্তকরণ। তারপর জন্ম নেয় ফল ও বীজ। প্রাকৃতিকভাবে বাতাস বা অন্যভাবে কিছুর মাধ্যমে ফুলের পরাগায়ন ঘটে। তবে ফুলের পরাগায়ন বেশি ঘটায় পতঙ্গরা। তাই ফুলের এই কাজটি করার জন্য ফুল আমন্ত্রণ জানায় পতঙ্গদের। ফুল তার পাঁপড়ি থেকে বাতাসে এমন একধরনের উদ্বায়ী জৈব রাসায়নিক যৌগ বাতাসে ছেড়ে দেয়, পাঁপড়িতে বিভিন্ন রঞ্জকের সমন্বয়ে এমন রং সৃষ্টি করে, যাতে পতঙ্গকুল সেসব ফুলের দিকে আকৃষ্ট হয়। আবার আমন্ত্রণ দিয়ে ফুল অতিথির কাছ থেকে উপকৃত হলে সেও অতিথিকে আপ্যায়ন করে তার মধু খাইয়ে। পরস্পরের মধ্যে এই যোগাযোগকে প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম বললেও আসলে এর পেছনে রয়েছে এক রহস্যময় বৈজ্ঞানিক ঘটনা।


একটা গাছ যখন বিপদে পড়ে বা আক্রান্ত হয়, তখন তার প্রতিক্রিয়া গাছের মধ্যে দেখা যায়। গাছ তখন পাশের গাছকে সে কথা জানিয়ে দেয় একধরনের জৈব যৌগ উত্পাদন ও নিঃসরণের মাধ্যমে। বাতাসে সেই উদ্বায়ী পদার্থ ভেসে ভেসে চলে যায় পাশের গাছগুলোর কাছে। আক্রান্ত গাছটি ওসব গাছকে তখন সেই যৌগের মাধ্যমে বিপদ সংকেত পাঠায়। বলে—ভাই আমি বিপদে পড়েছি, তুমি শিগগিরই তোমার মধ্যে এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোল। নিজেদের আরও শক্তিশালী করো। ভারী অদ্ভুত বায়ুবাহিত সেসব ভাষা! গ্রহীতা গাছই যে কেবল সে ভাষা বা সংকেত বুঝতে পারে, শুধু তাই না; সেসব গাছের রক্ষাকারীরাও সে ভাষা কিছুটা বুঝতে পারে। তাই তারাও তখন সে গাছকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে। 


একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। জাব পোকা নামে একধরনের ক্ষতিকর পোকা আছে। শিমগাছে এদের প্রচুর দেখা যায়। এরা সেসব গাছ থেকে রস চুষে খেয়ে গাছের সর্বনাশ করে। গাছের মধ্যে ভাইরাস জীবাণু ঢুকিয়ে দেয় সেসব বাহক পোকারা। কিন্তু পোকাদের কাছে এই ভাইরাস আসে কোথা থেকে। জাব পোকা যখন কোনো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত গাছের রস চুষে খায়, তখন সে রসের সঙ্গে গাছের ভাইরাস ওদের মুখের মধ্যে চলে আসে। মুখের মধ্যে তিন ঘণ্টার বেশি সময় সেসব ভাইরাস জীবাণুরা সক্রিয় থাকে। যখন জাব পোকারা অন্য কোনো সুস্থ শিমগাছে বসে ও সেখান থেকে রস চুষে খাওয়া শুরু করে, তখন সেসব ভাইরাস সেই সুস্থ গাছের কোষে ঢুকে পড়ে ও মোজাইক ভাইরাস রোগ রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগের কারণে শিমের পাতায় হলদে-সবুজ নকশাতে মোজাইকের মতো দাগ তৈরি হয়। পাতা কুঁকড়ে যায়, ফুল শুকিয়ে যায়, বিকৃত হয় শিম। এটি কোনো গাছে ঘটলে সেসব গাছ অন্য গাছদের খবর পৌঁছে দেয়। অন্য গাছেরা সে খবর জানতে পারে আক্রান্ত গাছ থেকে একধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থের গন্ধ থেকে। তখন গাছেরা সেই শত্রুর বিরুদ্ধে নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। দেখা গেছে, লেডি বার্ড বিটল নামে একধরনের পরভোজী পোকা জাব পোকাদের শিকার করে খায়। তখন গাছ এমন একধরনের উদ্বায়ী রাসায়নিক যৌগ নিঃসরণ করে, যার গন্ধে লেডি বার্ড বিটলরা আকৃষ্ট হয় ও সেই গাছে এসে বসে। জাব পোকারা পাশের গাছ থেকে এসে সেই গাছে বসলে তখন লেডি বার্ড বিটল তাদের ধরে শিকার করে। ফলে গাছ জাব পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। 


গবেষকরা দেখেছেন, প্রতিটি গাছের প্রজাতি ও ঘটনা বা পরিস্থিতির সঙ্গে এসব উদ্বায়ী জৈব রাসাযনিক যৌগের উপাদানও বদলে যায়। কখনো তা এককভাবে, আবার কখনো কয়েকটি যৌগের সংমিশ্রণে হয়। ভারী অদ্ভুত আর নাটকীয় এসব বিষয়! গবেষকরা একই গাছের মধ্যে সংকেত পাঠানো ও একটি গাছ থেকে অন্য গাছে সংকেত আদান প্রদানের এসব ভাষার রহস্য বুঝতে অনেক গবেষণা করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, গাছেরা যোগাযোগের জন্য একটি যৌগ ব্যবহার করে, নাকি কয়েকটি জৈব রাসায়নিক যৌগের মিশ্রণ ব্যবহার করে? গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, যখন অক্ষত পপলার ও সুগার ম্যাপল গাছ কোনো ক্ষতিগ্রস্ত গাছের কাছে অবস্থান করে, তখন দেহের মধ্যে কিছু ফেনলিক যৌগ ও ট্যানিন জমা করে। সেজব্রাশ (বৈজ্ঞানিক নাম: Artemisia tridentata) নামে এক প্রজাতির উদ্ভিদ মিথাইল জেসমোনেট (MeJA) নামে এক প্রকার রাসায়নিক যৌগ নিঃসরণ করে, যা পত্রভূক জীবের বিরুদ্ধে উদ্ভিদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আর ক্ষতিগ্রস্ত গাছ এটা করতে অক্ষত গাছকে উদ্দীপ্ত করে সংকেত পাঠায়। যদিও গবেষকরা আসলে এই ধরনের যোগাযোগের বিষয়ে এখনও খুব স্পষ্ট ধারণা পাননি। তবে এটা যে ঘটছে, তা তাঁরা নিশ্চিত। 

তথ্যসূত্রঃ- প্রথম আলো 

ভূগোলিকা_Bhugolika

পৃথিবীর সবথেকে ছোট দেশ গুলোর একটি,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ বললে অনেকেই বলতে পারবেন সেই দেশের নাম। কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে পৃথিবীর সবথেকে ছোট দেশের নাম কি ? অনেকেই হয়তো বলতে পারবেন আবার অনেকেরই এ উত্তর অজানা। জ্ঞান ও বিজ্ঞানের আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই পৃথিবীর পাঁচটি ছোট দেশের সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য।

আমাদের আজকের এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে::--

৩. নাউরু ( Nauru)

বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ নাউরু অস্ট্রেলিয়ার পূর্বে অবস্থিত মাত্র ২১ বর্গ কিলোমিটারের একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্র। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দ্বীপ রাষ্ট্রও বলা যেতে পারে এটিকে। এর পাশাপাশি এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন প্রজাতন্ত্র। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবহুল দেশের মাঝে এটি দ্বিতীয় জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

নাউরু ফসফেট নামক খনিজে সমৃদ্ধ। ওশেনিয়া অঞ্চলের এই দেশকে প্রথম প্রথম অনেকে অস্ট্রেলিয়ার কোনো দ্বীপ বলেই মনে করতেন। তবে নাউরু কিন্তু স্বাধীন একটি দেশ। সবথেকে মজার ব্যাপার এই দেশটির নিজস্ব কোনো রাজধানী শহর নেই।

১৯০৭ সাল থেকে এখানকার অর্থনীতির প্রধান আয় আসে ফসফেট খনিজ আকরিক আহরণ করার মাধ্যমে। তবে বর্তমানে খনিজ ফসফেট প্রায় শেষ হয়ে এসেছে আর এ কারণের এই ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রে বেকারত্বের হার দিন দিন বেড়ে চলেছে।

ভাবতে অবাক লাগে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ জনগণকে চাকরি দিয়েছে সরকার। বাকি সবাই প্রায় বেকার। দেশটি ছোট হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্থূলকায় মানুষের দেশ হিসেবেও প্রথমেই আসে এই নাউরুর নাম।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো এ দেশটিতে কোন সংবাদপত্র প্রকাশ করা হয় না। দেশের মোট জনসংখ্যার বেশির ভাগই অস্ট্রেলিয়। এদেশের জনসংখ্যার মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের সমুদ্রের মাছ ধরা অন্যতম প্রধান জীবিকার মধ্যে পড়ে।

এত অল্প জনসংখ্যা হওয়া সত্ত্বেও এদেশের মানুষের মধ্যে দক্ষতার অভাব নেই। কম জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও এই দেশটি কমনওয়েলথ এবং অলিম্পিক গেমস্-এ অংশগ্রহণ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এই দেশের সরকারি মুদ্রা অস্ট্রেলিয়ান ডলার এবং এই অঞ্চলের অধিবাসীদের বলা হয় নাউরুয়ান।

এত কম জনসংখ্যা সত্ত্বেও এখানে একটি ছোট বিমানবন্দর রয়েছে। যার নাম 'নাউরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'। এখানকার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান ধর্ম অনুসরণ করেন। আবার অনেকেই আছেন যারা কোনও ধর্ম মানেন না।


ছোট কিংবা বড়, সবার জীবনে চলার পথে কথা গুলো কাজে লাগবে---

 ★ছোট কিংবা বড়, সবার জীবনে চলার পথে কথা গুলো কাজে লাগবে---

===========================================


১. কখনো বাসে বা ট্রেনে জানালার পাশে বসে মোবাইল টিপবেন না। কখন নিয়ে যাবে, টেরই পাবেন না।

-

২. রিকশাতে বসে কোলে ব্যাগ রাখবেন না। পাশ থেকে মোটর সাইকেল কিংবা গাড়িতে করে এসে হ্যাচকা টান দিবে।

-

৩. রাস্তায় কিছু খাবেন না, কিছুই না। দূর পাল্লার যাত্রা হলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসুন অথবা প্যাকেটজাত কিছু খান। পাশের যাত্রী কিছু দিলে খান না, তাতে কি? হয়ত যে পানি বা ডাব কিনলেন, বা অন্য কিছু তাতেই থাকতে পারে চেতনা নাশক ঔষধ।

-

৪. ট্রেন জার্নিতে দরজার পাশে, দুই বগির পাশে দাড়াবেন না। কিংবা যতোই ভালো লাগুক দরজায় দাঁড়িয়ে সিগারেট খাবেন না। ট্রেনের ছাদে চলাচল যতোই রোমান্টিক লাগুক, যে গ্যাং গুলো ছিনতাই করে, তারা খুবই নির্দয় এবং বেপরোয়া। অনেক যাত্রীর লাশ পাওয়া যায় সারাদেশের ট্রেন লাইনের আশেপাশে। বেশিরভাগই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে ফেলা হয়।

-

৫. কপাল খারাপ হলে ছিনতাইয়ের শিকার হবেন। ধরা যাক হলেন। কি করবেন ? ছিনতাইকারী বেশ কয়েক জন। আপনি একা, চারপাশে কেউ নেই। আপনাকে ঘেরাও করে রেখেছে। আপনার পকেটে দামী ফোন, টাকা। এসব ক্ষেত্রে ভালো হয় ফোন, টাকার মায়া ত্যাগ করা। কারণ যারা ছিনতাইকারী তাদের বেশীরভাগই নেশাগ্রস্থ। আপনার জীবনের দাম পৃথিবীর যেকোনো দামী ফোনের চেয়েও অনেক বেশি।

-

৬. বান্ধবী বা মেয়ে বন্ধুর সাথে রেস্টুরেন্ট বা পার্কে যাচ্ছেন। হঠাৎ দেখবেন আপনার চারপাশে একদল ছেলের আবির্ভাব। এরা কিন্তু একটা গ্যাং। দেখবেন আপনাদের নিয়ে নানা রকম আজে বাজে কথা বলছে, বাজে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসলে ওরা চাইছেই আপনাকে উত্তেজিত করে একটা ঝামেলায় বাধাতে। এতে ওদের লাভ, সেটা কিরকম ? ধরা যাক আপনি মাথা গরম করে ঝামেলায় জড়ালেন। ওরা আপনাকে অপমান করেছে বলে আপনি পাল্টা কিছু বললেন বা করলেন। এই পেয়ে গেলো সুযোগ। ওরা তখন বাইরে থেকে নেতা গোছের কাউকে ধরে আনবে। যিনি এসেই আপনাকে আপনার বান্ধবীর সামনেই নানান রকম ভাবে জেরা করবে। তারপর বিচারে আপনাকেই দোষী বানিয়ে দেবে। অত:পর মিটমাট করার নাম করে আপনার কাছ থেকে জরিমানা বাবদ টাকা পয়সা কিংবা দামী ঘড়ি, ফোন অথবা ল্যাপটপটা রেখে দেবে। তাই এসব জায়গায় কথা বাড়ানো মানেই ঝামেলা ডেকে আনা। আর নির্জন জায়গা হলে এদের দেখা মাত্রই সরে পড়ুন।

-

৭. ভোররাতে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। সাহস দেখিয়ে রাস্তায় নেমে পড়তে যাবেন না। বাসস্টপে বা ট্রেন স্টেশনেই অপেক্ষা করুন। সকালে যখন রাস্তায় যথেস্ট মানুষ থাকবে তখন বের হন।

-

৮. ট্রেন স্টেশনে বা সদরঘাটে নিজে নিজে বয়ে নিয়ে যেতে পারেন না এমন বোঝা নিয়ে এসেছেন তো মরেছেন। মাথায় করে পৌঁছে দেয়ার নামে আপনার কাছ থেকে চাদার মতো ৪০০-৫০০ টাকা খসিয়ে ছাড়বে কুলিরা। তাই সাবধানে থাকুন, দরদাম করে তারপর কুলি ঠিক করুন।

-

৯. নিউমার্কেট বা নীলক্ষেতের মত জায়গায় কেনা কাটা করতে গেলে খুবই সাবধান। কৌতুহলের বশে কোনো কিছুর দাম জিজ্ঞেস করলেও

এখানে আপনাকে পাল্টা দাম বলার জন্য জোরাজুরি করবে। মনে রাখবেন এখানে মেজাজ দেখিয়ে লাভ নাই, এখানকার দোকানীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করে।

-

১০. বাসে উঠলে প্যান্টের পিছনের পকেটে মোবাইল, মানিব্যাগ এসব কিছু রাখা নিরাপদ না। দেখবেন ভিড়ের মাঝে বাসে ওঠতেছেন যে কেউ টান মেরে নিয়ে যেতে পারে টের ও পাবেন না। তাই সামনের পকেটে এসব জিনিস রাখুন।

-

১১. বাণিজ্যমেলা, চিড়িয়াখানা, চন্দ্রিমা উদ্যান কিংবা শিশুপার্কে গিয়ে দাম খুব ভালো করে না জেনে কিচ্ছু খাবেন না। দেখা যাবে একটা সিংগাড়া কিংবা আধা প্লেট বিরিয়ানি খাইয়ে ৪০০-৫০০টাকার বিল ধরিয়ে দেবে আপনাকে।

-

১২. রাতে ঘোরাঘুরি না করাই ভালো। ছিনত্যাইকারী ধরলেতো কথাই নেই। এমনকি ‌( কিছু বিপদগামী) পুলিশ ( সক‌লেই  নয় ) ধরলেও বিপদ। যতই নির্দোষ হন, পুলিশ যদি বুঝতে না চায় আর আপনাকে আটকে রাখার নিয়ত যদি থাকে, তাহলে আপনার কিছুই করার থাকবে না।

-

১৩. বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন, হঠাৎ একটা মাইক্রোবাস এসে থামলো আপনার সামনে। সেটা প্রাইভেট গাড়িও হতে পারে। আপনাকে চালক

বলবে সে গ্যারেজে ফেরার পথে বাড়তি কিছু ‘ট্রিপ’ নিচ্ছে। খুব অল্প ভাড়ায় আপনাকে পৌছে দেবার কথা বলবে। আপনি উঠবেন না। মেয়ে

হলেতো আরো আগে না।

-

১৪. রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ ভদ্রবেশি কেউ এসে, সে হতে পারে ছেলে বা মেয়ে বা বয়ষ্ক পুরুষ কিংবা মহিলা, আপনার ফোন চাইলো।

বললো, উনার কোন একটা সমস্যার কথা, এক্ষুনি একটা ফোন দিতে হবে কাউকে। আপনি বিশ্বাস করে ফোনটা দিলেন, দেখবেন পরক্ষণেই হুট

করে বাইকে উঠে হাওয়া।

-

১৫. সাথে সবসময় পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে রাখুন। বিপদে পড়লে খুব কাজে দেয়। হয়তো কোনো দূর্ঘটনা ঘটেছে, অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন, তখন যারা উদ্ধার কাজে আসবে তারা আপনার পরিবার পরিজনকে জানাতে পারবে।

-

১৬. নতুন বিবাহিত হলে এবং স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঘুরতে এলে কাবিননামার ছবি মোবাইলে তুলে রাখুন। কখন কোন কাজে লেগে যাবে বুঝতেও

পারবেন না।


সবচেয়ে বড় কথা, সবসময় সতর্ক থাকুন, চোখ কান খোলা রাখুন।


মনে রাখবেন, সবসময় দোয়া পড়ে ঘর থেকে বাহির হবেন। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে, উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আ'লাল্লাহি লা হা'ওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহ তাআলার নামে ও তার ওপর ভরসা করেই ঘর থেকে বের হচ্ছি। কোনো অন্যায় কাজ থেকে বাঁচার শক্তি ও কোনো পুণ্যময় কাজ করার ক্ষমতা একমাত্র তিনিই দিয়ে থাকেন।

 

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তখন (এ দোয়া পড়ে ঘর থেকে বের হওয়া ব্যক্তিকে) বলা হয় তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত, তোমার জন্য তা একেবারেই যথেষ্ট ওপরন্তু তুমি একান্ত নিরাপদ। তখন শয়তানগুলো তার কাছ থেকে সরে যায়। আর তখন অন্য শয়তান তাকে বলে এমন ব্যক্তিকে নিয়ে তোমার আর কিই বা করার আছে যে হিদায়াতপ্রাপ্ত, যার জন্য উক্ত দো‘আই যথেষ্ট এবং সে নিরাপদ। (আবু দাউদ ৫০৯৫, তিরমিজি ৩৪২৬)


আপনার নিরাপত্তা আপনারই হাতে। এই বিষয়ে আপনারা সতর্ক থাকবেন।

নিজে সতর্ক ও সচেতন থাকুন এবং অন্যকেও সতর্ক ও সচেতন করুন।



কফিহাউজ গানের জন্মকাহিনী

 কফিহাউজ গানের জন্মকাহিনী

কফিহাউজ গানটি নিয়ে মান্না দে সবসময় নিজের চেয়েও বেশি কৃতিত্ব দেন গীতিকার সুরকারকে। তিনি শুধু গানটা গেয়েছিলেন মাত্র।

তার মতে, হেমন্ত গাইলে গানটা সুপারহিট হতো আর শ্যামল মিত্র গাইলে তো হিট। তবে মান্নার কণ্ঠে যে গানটি চিরকালীন পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন গানটির সুরকার সুপর্ণকান্তি।

তবে মান্না দে এ গানটির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে ‘স্বপ্নের কফি হাউস’ শীর্ষক একটি গান প্রথম গানটির ঠিক কুড়ি বছর বাদে গেয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যময় কারণে সেটি শোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাঙালি।

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা গানটির গীতকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের কথায় সুর দিয়েছিলেন নচিকেতার পুত্র সুপর্ণকান্তি ঘোষ। মান্না দের মতে, গৌরীবাবু লিখেছিলেন দুর্দান্ত।

সুরকার সুপর্ণকান্তি অসাধারণ কাজ করেছিলেন। এই গানটির জন্ম কাহিনীটি  বেশ গল্পের মতো।

সময়টা ১৯৮৩ সাল। গীতিকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদার তখন আশা ভোঁসলেকে নিয়ে প্রচুর হিট প্রেমের গান লিখে চলেছেন। কিন্তু পূজার গান মান্না দের জন্য তিনি লিখতে পারছেন না। সবই লিখছেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল গৌরী প্রসন্নের মনে। এ সময় একদিন নচিকেতা ঘোষের নিউ আলিপুরের বাড়িতে গিয়েছিলেন গৌরী প্রসন্ন। উদ্দেশ্য ছিল  শক্তি ঠাকুরকে দিয়ে একটি গান তোলা।

সেই সময় সেরা জুটি ছিলেন নচিকেতা ও গৌরী প্রসন্ন। সেই সূত্রে নচিকেতার ছেলে সুপর্ণকান্তির সঙ্গেও বেশ ভাল সম্পর্ক। তবে বাড়িতে আসার অনেকক্ষণ পরে সুপর্ণকান্তিকে দেখতে পেয়ে গৌরী প্রসন্ন মজা করেই বলেন, `কী বাইরে আড্ডা মেরে সময় কাটাচ্ছ? এর উত্তরে সুপর্ণকান্তি তার গৌরী কাকাকে বলেন, `কী সব গদগদে প্রেমের গান লিখছো। একটা অন্যরকম গান লিখে দেখাও না। এই আড্ডা নিয়েও তো গান লিখতে পারো। `

এবার গৌরী প্রসন্ন বলেন, তুমি তো অক্সফোর্ডের এমএ হয়ে গিয়েছো। আড্ডা নিয়ে বাংলা গান গাইবে? সুপর্ণ এবার বলে, কেন নয়। কফি হাউসের আড্ডা নিয়েও তো একটা গান লিখতে পারো। গৌরী প্রসন্ন এবার বলেন, তোমার বাবা (নচিকেতা ঘোষ) কি আর সে গান গাইবেন? তর্ক চলছে বটে কিন্তু গৌরী প্রসন্ন এরই মধ্যে মনে মনে তৈরি করে ফেলেন দুটি লাইন।

এরপরেই সুপর্ণকান্তিকে বললেন, লিখে নাও- ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই/ কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই। ’ সুপর্ণও সঙ্গে সঙ্গে দুটো লাইনেই সুর দিয়ে শুনিয়ে দেন। উপস্থিত শক্তি ঠাকুর সেবার পূজায় গানটা গাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেও সুপর্ণ রাজি হননি। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই ঠিক করে নিয়েছিলেন মান্না দের কথা।

কিন্তু গানের বাকি লাইনগুলো? পরের দিন সকালেই গৌরী প্রসন্নের স্ত্রী সুপর্ণকান্তিকে ফোন দিলেন । সারা রাত জেগে বহুদিন পরে গান লিখেছেন অসুস্থ গৌরী প্রসন্ন। তখনই তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। দু’দিন পরে গানটা নিয়ে হাজির। কিন্তু শেষ স্তবক যোগ করার পক্ষপাতী ছিলেন না গৌরী প্রসন্ন। সুপর্ণকান্তি চান যোগ করুন একটি স্তবক।

শেষ পর্যন্ত রাজি হন। লেখেন দুর্দান্ত সেই লাইন- ‘সেই সাতজন নেই, তবুও টেবিলটা আজও আছে। ’ কিন্তু শেষ তিনটি লাইন তিনি লিখেছিলেন চেন্নাইয়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পথে হাওড়া স্টেশনে বসে একটি সিগারেটের প্যাকেটের উল্টো পিঠে। এক চেনা লোকের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দেন সুপর্ণকান্তির কাছে।

তারপর সুপর্ণকান্তির সুরে মুম্বইয়ে গানটি রেকর্ড করেন মান্না দে। তৈরি হয়ে যায় একটা ইতিহাস। তবে কফি হাউসের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে ‘স্বপ্নের কফি হাউস’ নামে একটি গান রেকর্ড করেছিলেন মান্না দে। একটি নতুন রেকর্ড কোম্পানিই রেকর্ড করিয়েছিল গানটি। কিন্তু সুপর্ণকান্তি জানিয়েছেন, সেই গানের অরিজিনাল স্পুলটি পাওয়া যায়নি। ফলে অন্য স্পুল দিয়ে কাজ করতে হয়েছিল। নিখিলেশ, মইদুলদের নিয়ে দ্বিতীয় গানটি লিখেছিলেন শমীন্দ্র রায় চৌধুরী। প্রথম গানের স্কেলেই গানটা করেছিলেন মান্না দে। দ্বিতীয় গানটি প্রথমটির থেকেও সুরের বৈচিত্রের বিচারে অনেক ভাল হয়েছিল। কিন্তু কোথায় গেল সেই স্বপ্নের কফি হাউস কেউ জানে না। মান্না দেও হতাশ। তিনি শুধু বলেছেন, বাঙালি তো জানতেই পারল না সেই গানের কথা।

কফি হাউজ নিয়ে মান্না দের দুটি গান আছে। দুটি গান এখানে তুলে ধরা হল বাংলানিউজ পাঠকদের জন্য...

শিল্পী- মান্না দে

কথা- গৌরী প্রসন্ন মজুমদার

সুর- সুপর্ণ কান্তি ঘোষ

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেল গুলো সেই

আজ আর নেই...........................। ।

নিখিলেশ প্যারিসে মইদুল ঢাকাতে নেই তারা আজ কোন খবরে

গ্র্যান্ড এর গীটারিষ্ট গোয়ানিস ডি সুজা ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে

কাকে যেন ভালবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে পাগলা গারদে আছে রমা রায়

অমলটা ধুক্ছে দুরন্ত ক্যান্সারে জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়। ।

সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে শুনেছি তো লাখপতি স্বামী তার

হীরে আর জহরতে আগা গোড়া মোড়া সে গাড়ী বাড়ি সব কিছু দামি তার

আর্ট কলেজের ছেলে নিখিলেশ সান্যাল বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকতো

আর চোখ ভরা কথা নিয়ে নির্বাক শ্রোতা হয়ে ডি সুজাটা বসে শুধু থাকতো। ।

একটা টেবিলে সেই তিন চার ঘণ্টা চারমিনার ঠোঁটে জ্বলতো

কখনো বিষ্ণুদে কখনো যামিনী রায় এই নিয়ে তর্কটা চলতো

রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক কাজ সেরে ঠিক এসে জুট্তাম

চারটেতে শুরু করে জমিয়ে আড্ডা মেরে সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম। ।

কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ মুছে যাবে অমলের নামটা

একটা কবিতা তার কোথাও হলোনা ছাপা পেলো না সে প্রতিভার দামটা

অফিসের সোসালে এমেচার নাটকে রমা রায় অভিনয় করতো

কাগজের রিপোর্টার মইদুল এসে রোজ কি লিখেছে তাই শুধু পড়তো। ।

সেই সাতজন নেই আজ টেবিলটা তবু আছে সাতটা পেয়ালা আজো খালি নেই

একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি শুধু সেই সেদিনের মালী নেই

কত স্বপ্নের রোদ ওঠে এই কফি হাউজে কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়

কতজন এলো গেলো কতজনই আসবে, কফি হাউজটা শুধু থেকে যায়। ।

কফি হাউজ-২

স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলো কফি হাউজেই,

আজ আর নেই

জীবনে চলার পথে হারিয়ে গিয়েছে অনেকেই,

আজ আর নেই

নিখিলেশ লিখেছে প্যারিসের বদলে

এখানেই পুজোটা কাটাবে

কী এক জরুরি কাজে ঢাকার অফিস থেকে

মইদুলকেও নাকি পাঠাবে

একটা ফোনেই জানি রাজি হবে সুজাতা

আসবেনা অমল আর রমা রায়

আমাদের ফাঁকি দিয়ে কবেই তো চলে গেছে

ওদের কখনো কি ভোলা যায়?

স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলো কফি হাউজেই,

আজ আর নেই

জীবনে চলার পথে হারিয়ে গিয়েছে অনেকেই,

আজ আর নেই

ওরা যেন ভালো থাকে একটু দেখিস তোরা

শেষ অনুরোধ ছিল ডিসুজার

তেরো তলা বাড়িতে সবকিছু আছে তবু

কিসের অভাব যেন সুজাতার

একটাও তার লেখা হয়নি কোথাও ছাপা

অভিমান ছিল খুব অমলের

ভালো লাগে দেখে তাই সেই সব কবিতাই

মুখে মুখে ফেরে আজ সকলের

স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলো কফি হাউজেই,

আজ আর নেই

জীবনে চলার পথে হারিয়ে গিয়েছে অনেকেই,

আজ আর নেই

নাম যশ খ্যাতি আর অনেক পুরস্কার

নিখিলেশ হ্যাপি থেকে গিয়েছে

একটা মেয়ে বলে সুজাতা বিয়েতে তার

দুহাত উজার করে দিয়েছে

সবকিছু অগোছালো ডিসুজার বেলাতে

নিজেদের অপরাধী মনে হয়

পার্ক স্ট্রীটে মাঝরাতে ওর মেয়ে নাচে গায়

ইচ্ছে বা তার কোন শখে নয়

স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলো কফি হাউজেই,

আজ আর নেই

জীবনে চলার পথে হারিয়ে গিয়েছে অনেকেই,

আজ আর নেই

কার দোষে ভাঙলো যে মইদুল বলেনি

জানি ওরা একসাথে থাকেনা

ছেলে নিয়ে মারিয়ম কোথায় হারিয়ে গেছে

কেউ আর কারো খোঁজ রাখেনা

নাটকে যেমন হয় জীবন তেমন নয়

রমা রয় পারেনি তা বুঝতে

পাগলা গারদে তার কেটে গেছে শেষ দিন

হারালো সে চেনা মুখ খুঁজতে

স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলো কফি হাউজেই,

আজ আর নেই

জীবনে চলার পথে হারিয়ে গিয়েছে অনেকেই,

আজ আর নেই

দেওয়ালের রঙ আর আলোচনা পোস্টার

বদলে গিয়েছে সব এখানে

তবুও প্রশ্ন নেই,

যে আসে বন্ধু সেই

আড্ডা তর্ক চলে সমানে

সেই স্বপ্নের দিনগুলো বাতাসে উড়িয়ে ধুলো

হয়ত আসছে ফিরে আজ আবার

অমলের ছেলেটার হাতে উঠে এসেছে

ডিসুজার ফেলে যাওয়া সে গীটার

স্বপ্নের মতো ছিল দিনগুলো কফি হাউজেই,

আজ আর নেই

জীবনে চলার পথে হারিয়ে  গিয়েছে অনেকেই,

আজ আর নেই।।

(তথ্যসূত্রঃ গুগল, ছবিঃ গুগল)



ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

নারীদের মাঝে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ স্বাভাবিক একটি ফিজিওলজিক্যাল প্রক্রিয়া

 নারীদের মাঝে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ স্বাভাবিক একটি ফিজিওলজিক্যাল প্রক্রিয়া । অনেকেই ভাবেন সাদা স্রাব মানেই রোগ, আসলে বিষয়টি একেবারেই তা নয়। মা...