এই ব্লগটি সন্ধান করুন
এই ব্লগটি সন্ধান করুন
এই ব্লগটি সন্ধান করুন
এই ব্লগটি সন্ধান করুন
এই ব্লগটি সন্ধান করুন
এই ব্লগটি সন্ধান করুন
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
কোন রোগের জন্য কোন টেস্ট
কোন রোগের জন্য কি টেষ্ট করা হয়ঃ
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
🔴CBC যে যে রোগে করা হয়ঃ
"""''''''''""""""""""""""'"''"'""""'''''''''"
⏩জ্বর হলে কি কারণে হচ্ছে তার ধারণা নেয়ার জন্য।অনেক সময় blood culture করতে হয়।
⏩শরীরে রক্তের পরিমাণ কেমন আছে জানার জন্য।
⏩রক্তের ঘাটতি থাকলে সেটা আয়রণ বা ভিটামিনের অভাবে হচ্ছে কিনা জানার জন্য।
⏩শরীরে এলার্জি কেমন তার ধারণা পাওয়া যায়।
⏩রক্তে ইনফেকশন বা প্রদাহ কেমন তার ধারণা পাওয়া যায়।
⏩রক্ত জমাট বাধার উপাদান কি পরিমাণ আছে তা জানা যায়।
⏩ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে কিনা তার ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়।
🔵Urine R/E প্রস্রাব টেস্ট যে যে কারনে করা হয়ঃ
""'''''''''''''''''''''''''''""""""""""""""""""
👉ইনফেকশন আছে কিনা,থাকলে সিভিয়ারিটি কতটুকু
👉ডায়াবেটিস আছে কিনা
👉প্রোটিন যায় কিনা
👉রক্ত যায় কিনা
👉কিডনীতে পাথর আছে কিনা
🔴RBS-Random Blood Sugar: ডায়াবেটিস আছে কিনা তার ধারণা করার জন্য প্রাথমিক টেস্ট।
🔵Serum Creatinine:যেইসব রোগীর কিডনীর সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হয় এ টেস্ট তাদের করা হয়।(প্রেশার ও ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বাধ্যতামূলক টেস্ট। ব্যথার ঔষধ দেয়ার আগেও এটেস্ট করা উচিত)
🔴Lipid profile: রক্তে চর্বির পরিমাণ বুঝার জন্য এটা করা হয়।হার্টের ও প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগীর জন্য এটা খুব জরুরি।
🔵Serum Bilirubin: জন্ডিস আছে কিনা দেখা হয়।একদম প্রাথমিক টেস্ট।জন্ডিস হয়ে গেলে আরো টেস্ট করতে হয়।
🔴SGPT/SGOT: লিভারের কন্ডিশন বুঝার জন্য এটা করা হয়।লিভার কতটুকু এনজাইম উৎপন্ন করছে তা দেখা হয়।
🔵Serum Electrolyte: রক্তে খনিজের পরিমাণ জানার জন্য এটা করা হয়।শরীর দূর্বল লাগলে,বেশীবমি, ডায়রিয়া এসব ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা করা হয়।
🔴HBsAG: জন্ডিস এবং লিভার কন্ডিশন বুঝার জন্য এ পরিক্ষা করা হয়।
🔵HBA1c: ডায়বেটিস বা রক্তে গ্লুকোজ নির্ণয়ের জন্য করা হয়।
🔵LFT: লিভারের সমস্যা বুঝতে এ পরিক্ষা করা হয়।
🔴BT CT: রক্তরােগের ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়।
🔵Via Test: সার্ভিক্সের ইনফেকশন বা ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য এ পরিক্ষা করা হয়।
🔴TSH: Thyroid stimulating hormone এই পরিক্ষা হরমন নির্ণয়ের জন্য করা হয়।
🔵EcG: হৃদরােগের অবস্থা বুঝার জন্য প্রাথমিক টেস্ট।
🔴ChestX-ray: বুকের ও হার্টের কন্ডিশন বুঝার জন্য করা হয়।
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
একটা ইন্টারেস্টিং গল্প
একটা ইন্টারেস্টিং গল্প বলি . . .
আমাদের শরীর যদি একটা ছোট্ট শহর হয় তবে এই শহরের প্রধান মাস্তান হচ্ছে কোলেষ্টেরল। এর সাথে কিছু সাঙ্গ পাঙ্গ আছে তবে প্রধান সহযোগী ট্রাইগ্লিসারাইড। এদের কাজ হচ্ছে রাস্তায় রাস্তায় মাস্তানি করা, মেয়েদের টিজজ করা এসব। হৃৎপিন্ড হলো এই শহরের প্রাণকেন্দ্র। শহরের সব রাস্তাগুলো এসে মিশেছে প্রাণকেন্দ্রে এসে।
.
মাস্তানের সংখ্যা বেশী হলে কি হয় আপনারা সবাই জানেন। এরা সব রাস্তাগুলো ব্লক করে দিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র অচল করে দিবে। আপনিও তখন পটল তুলবেন। না তুললেও মাস্তানদের ধর্মঘটে প্রায়ই আপনার প্রিয় শহরে এমন কিছু ঘটবে যে আপনি বেঁচেও মৃতপ্রায় হয়ে থাকবেন। বিয়েতে হাতের রিং তখনও হয়ত হাতেই আছে সাাথে হার্টেও রিং পড়তে হবে!
.
আমাদের শরীর নামক শহরে কি পুলিশ নেই? যারা মাস্তানদের ক্রসফায়ার করবে,
অথবা জেলে ভরবে।
হ্যাঁ, আছে। তার নাম এইচ ডি এল।
ও পাড়ায় পাড়ায় মাস্তানী করা এসব মাস্তানদের রাস্তা থেকে তুলে এনে জেলে ভরে রাখে। জেলখানা চিনেন তো? লিভার বা কলিজা হল জেলখানা । লিভার এইগুলোকে বাইল সল্ট বানিয়ে শহরের পয়নিষ্কাশন লাইনের মাধ্যমে (পায়খানার সাথে) শহর থেকে বের করে দেয়। কি অদ্ভুত শাস্তি মাস্তানদের!
.
খুব মজা লাগছে তাই না?
এইচ ডি এল কে বন্ধু বন্ধু লাগছে তাই না?
পুলিশের ছোট ভাই লিটল ডি এল বা সংক্ষেপে এল ডি এল আবার রাজনীতিবিদ। সে লবিং করে জেলখানা থেকে কোলেষ্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড রুপী মাস্তানদের তুলে এনে আবার রাস্তায় বসিয়ে দেয়। তাদের মাতলামো তে পুরো শরীরে জ্যাম লেগে যায়। আর এলডিএল মুখ টিপে টিপে হাসে।
এইচ ডি এল হায় হায় করে দৌড়ে আসে। কিন্তু সে এলডিএল আর মাস্তানদের যৌথ শক্তির সাথে পেরে ওঠেনা। পুলিশের সংখ্যা যত কমে মাস্তানরা ততই উল্লসিত হয়। শহরের পরিবেশ হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর।
এমন শহর কার ভালো লাগে বলুন?
.
আপনি মাস্তানদের কমিয়ে পুলিশ বাড়াতে চান?
তবে হাঁটুন।
আপনার প্রতি কদমে এইচডিএল (পুলিশ) বাড়বে, এলডিএল (লবিং করা রাজনীতিবিদ) কমবে, মাস্তান (কোলেষ্টেরল) কমবে! আপনার শহর (শরীর) প্রানচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।
আপনার প্রানকেন্দ্র (হার্ট) মাস্তানদের অবরোধ (হার্ট ব্লক ) থেকে বাঁচবে।
আর শহরের প্রানকেন্দ্র (হার্ট) বাঁচা মানে আপনিও বাঁচবেন . . .
Lets_walk
@সংগৃহীত
কামিনী রায়
আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায়'র মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।
তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ-ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তিত্ব। কোলকাতার বেথুন কলেজ থেকে তিনি ১৮৮৬ সালে সংস্কৃত ভাষায় সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বরিশালের বাকেরগঞ্জের বাসণ্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন একজন ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী, বিচারক ও ঐতিহাসিক লেখক ছিলেন।
কামিনী রায় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী,ভাবুক ও কল্পনাপ্রবণ। তিনি মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লিখতে শুরু করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয়। তিনি সেসময় 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
তাঁর লেখা কাব্যের মধ্যে 'নির্মাল্য', 'পৌরাণিকা', 'মাল্য ও নির্মল্য', 'দীপ ও ধুপ', 'জীবন পথে' ও 'শ্রাদ্ধিকী' উল্লেখযোগ্য। অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত 'মহাশ্বেতা' ও 'পুণ্ডরীক' তার দুটি প্রসিদ্ধ দীর্ঘ কবিতা। এছাড়াও ১৯০৫ সালে তিনি শিশুদের জন্য 'গুঞ্জন' নামের কবিতা সংগ্রহ ও 'বালিকা শিক্ষার আদর্শ' নামের প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেন।
১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কামিনী রায়কে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক প্রদান করে।
তিনি ১৯৩০ সালে বঙ্গীয় লিটারারি কনফারেন্সের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর, বিশেষত নারীকল্যাণমূলক কাজ করতেন।
তিনি ১৯২২-২৩ সালে নারীশ্রমিক তদন্ত কমিশনের অন্যতম সদস্য, ১৯৩০ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী ও ১৯৩২-৩৩ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন।
সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯২৯ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জগত্তারিণী পদক' লাভ করেন।
১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কামিনী রায় পরলোকগমন করেন।
পাশাপাশি দুই মসজিদ নির্মাণ করার নিয়ম
পাশাপাশি দুই মসজিদ নির্মানের বিধানঃ
বর্তমান যুগে কোন মসজিদের মোকাবেলায় তার কাছাকাছি অন্য মসজিদ নির্মাণ করা হলে এবং এর পেছনে যদি মুসলমানদের বিভক্তিকরণ ও পূর্বতন মসজিদের মুসল্লী হ্রাস প্রভৃতি অসৎ নিয়ত থাকে, তবে এতে মসজিদ নির্মাতার সওয়াব তো হবেই না, বরং বিভেদ সৃষ্টির অপরাধে সে গুনাহগার
হবে। কিন্তু এ সত্ত্বেও শরীয়ত মতে সে জায়গাটিকে মসজিদই বলা হবে
এবং মসজিদের আদব ও হুকুমগুলো এখানেও প্রযোজ্য হবে ! একে ধ্বংস করা কিংবা আগুন লাগিয়ে ভস্ম করা জায়েয হবে না। এ ধরনের মসজিদ নির্মাণ মূলতঃ গুনাহের কাজ হলেও যারা এতে নামায আদায় করবে, তাদের নামাযকে অশুদ্ধ বলা যাবে না। এ থেকে অপর একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে, কেউ যদি জিদের বশে বা লোক দেখানোর উদ্দেশে সুরাআত্-তা কোন মসজিদ নির্মাণ করে, তবে যদিও মসজিদ নির্মাণের সওয়াব সে পাবে না বরং গুনাহ্গার হবে; কিন্তু একে আয়াতে উল্লেখিত ‘মসজিদে যিরার’ বলা যাবে না। অনেকে এ ধরনের মসজিদকে ‘মসজিদে যিরার নামে অভিহিত করে থাকে। কিন্তু তা ঠিক নয়। তবে একে ‘মসজিদে যিরার এর মত’ বলা যায়। তাই এর নির্মাতাকে এ প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত রাখা যেতে পারে। যেমন, হযরত ওমর ফারূক (রাঃ) এক আদেশ জারী করেছিলেন যে, এক মসজিদের পার্শ্বে অন্য মসজিদ নির্মাণ করবে না,যাতে পূর্বতন মসজিদের জামাআত ও সৌন্দর্য হ্রাস পায়। –(কাশাফ)
[তাফসীরে মাআরেফুল ক্বোরআন- পৃ: ৫৯২-৫৯৩, সূরা তাওবা এর ১০৮ নং আয়াতের তাফসীর]
এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদের দূরত্ব :
যদি কোনো মসজিদে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হয়, তাহলে আরেকটি মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সতর্কতা হলো, এতটুকু দূরত্বে মসজিদ নির্মাণ করবে, যাতে এক ইমামের কিরাতের সঙ্গে অন্য মসজিদের ইমামের কিরাত সাংঘর্ষিক না হয়। তবে উভয় মসজিদের মাঝখানে যদি কেবল একটি দেয়াল থাকে, তবু উভয় স্থানে পৃথক জামাত আদায় করা বৈধ। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৪/৪১০)
মসজিদে জেরার বা জেদবশত মসজিদ নির্মাণ :
মসজিদে জেরারের সংজ্ঞা হলো, যে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে লোক দেখানোর জন্য, লৌকিকতা প্রদর্শনের জন্য বা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কিংবা অপবিত্র ও অবৈধ অর্থে যেটি নির্মাণ করা হয়েছে, শরিয়ত মতে তা মসজিদে জেরারের অন্তর্ভুক্ত (মাদারেকুত তানজিল : ২/১১১)। তবে হ্যাঁ, স্বাভাবিক নিয়ম মেনে, ওয়াক্ফ করে এক মসজিদের পাশে অন্য মসজিদ নির্মাণ করা হলে অনুচিত হলেও সেখানে নামাজ আদায় বৈধ। (তানবিরুল আবসার : ৪/৩৫১-৩৫২)
অনুগল্প অতীত
আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমি কেবল দশম শ্রেনির ছাত্রী। আমার বাবা ছিলো না, এমন না যে সে অন্যত্র ছিলেন বা বিয়ে করছেন। যখন আমি দ্বিতীয় শ্রেনিতে পড়ি তখন সে স্টোক করে মারা যান। আমরা ছিলাম চার বোন। আমার বড় তিন জন। আমার মা বড় তিন জনকে বিয়ে দিয়ে মা*রা গেলেও আমার কোনো ব্যাবস্থাই তিনি করে যেতে পারেন নি। বাবার মৃত্যুর পড়ে বোনেরা যতটুকু আদর ভালোবাসা দিতো, মা মারা যাওয়ার পর তা যেনো কর্পুরের মতো উবে যায়। তখন শুরু হয়েচিলো আমার জিবনের চরম খেলা। মাসের দশ দিন এক বোনের বাড়ি তো বাকি দশ দিন আরেক জনের বাড়ি। না তাদের বাড়িতে আমি নাইয়োর যেতাম না। তাদের ছেলে মেয়ে লালন পালনের জন্য, সংসারের ভারি কাজ গুলো করানোর জন্য তাদের বাড়িতে থাকতাম। বিনিময়ে তারা হয়তো আমার হাত খরচ টা চালাতো। এমনি একদিন বিকেলে যখন স্কুল থেকে ফিরেছি, আমার বড় বুবু রুবি আমার হাতে একটা শাড়ি দিয়ে বললো যাতো এইটা পড়ে আয়।
বুবু আমি তো শাড়ি পড়বার পারি না।
আইচ্ছা দারা তোরে আমি পড়াই দেই, মাজার বুবুর কথা শুনে পিছনে তাকালাম।
আমি শাড়ি পরমু কেন বুবু। আইজকা কি বাড়িত কনো অনুষ্ঠান নাকি। তখন আমার সেজো বুবু বলে কেন রে রুমি আইজকা তোর বিয়া।
রুবি বুবু মেজো বুবুকে তাগাদা দিয়ে বললো যা হালিমা ওরে তারাতাড়ি রেডি করা মেহমান রা সেই কহন থেইকা বইসা আছে।
বোনেদের কথায় আমার মুখটা চুপসে গিয়েছিলো৷ বুক ভরা সব স্বপ্ন ভেঙ্গে যেনো চুরমার হয়ে যাচ্ছিলো। চাইলেও সেই দিন মুখ ফুটে বলতে পারি নি আমি বিয়ে করবো না বুবু। আমি পড়তে চাই ।
হালিমা বুবু আমাকে সুন্দর করে শাড়ি পড়িয়ে হাতে শরবতের ট্রেটা দিয়ে বলেছিলো যা হেদের আপ্যায়ন কর। যাইয়া সুন্দর কইরা ছালাম দিবি। বুল যেনো না হয়।
বোনের কথায় সে দিন শুধু ঘাড় নারিয়ে স্বিকার করেছিলাম।
এরপর সব ঘটনা কেমন দ্রুতই ঘটে গেলো। ছেলের বোন আমার হাটা দেখলো, মাথার চুল খুলে দেখলো। আমার কোমর ছাওয়া চুল দেখে সেইদিন পাত্রের বোন আমাকে পছন্দ করেছিলো। পাত্রের কাকি যখন বলরো তা রান্না কেমন পারো, তখন আমার বোন জামাই বলেছিলো আমার শালি একদম খাসা সোনার টুকরা। সব রানবার পারে। পিঠা পায়েস, কসা মাংস সব। আমাগো বাড়ির রান্দন তো ওই করে।
আমি তখনো পাত্রের দিকে তাকিয়ে দেখিনি।
মাগড়িবের কিছু পড়ে আমার আর জামিলের বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজি আসে। কাজি যখন কবুল বলতে বলে তখন আমি জিবনের হিসাব মিলাতে ব্যাস্ত। আমার জিবনটা এমন কেনো।
বোনের নিম্ন সরের ধমকে আমার হুশ হয়।
এই রিমি কবুল বলস না ক্যান?
ধীরে ধীরে তিন বার কবুল বলে দেই।
আমার জন্য যে এরা এতটুকুই করেছে নেটাই তো অনেক।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে বোনেরা খুব সুন্দর করে বুজিয়ে বলে দেয় স্বামির সাথে কি করতে হবে। তার সব কথা যেনো মেনে চলি। কোনো প্রতিবাদ যেনো না করি।
কাঠের পুতুলের মতো আমি শুধু শুনেছিলাম।
স্বামী মানে আমার কাছে তখন বিষাক্ত কিছু। কিন্তু আমার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল প্রমানিত হয়। যখন সে রুমে ডুকেই বলে, একি তুমি এখনো এই সব ভারী কাপড় পড়ে আছো কেন। যাও চেন্জ করে আসো।
তার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেকেছিলাম সেই প্রথম বার।
ওভাবে তাকিয়ে আছো কেন, অনেক দেখতে পাবে আমায়। তোমার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি আমি, কেউ কেড়ে নিবে না। এখন যাও তাড়াতিড়ি ফ্রেশ হয়ে এসো।
সেই দিন থেকেই বদলাতে শুরু করেছিলো আমার জিবনের মরিচীকা ধরা চাঁকা।
ধীরে ধীরে সেই শ্যামপুরুষের ভালোবাসায় আটকা পড়ি আমি। আমাদের মধ্যে বন্ধু, প্রেম, ভালোবাসা সবি তৈরি করে দিয়েছিলেন উপড়ওয়ালা। বড্ড পাগল ছিলো আমার জন্য।
বিয়ের রাতে যেখানে সব পুরুষ নিজের চাহিদা মিটাতে ব্যাস্ত থাকে সেখানে জামিল আমার রেজাল্ট শিট গুলো দেখে বলেছিলো তুমি তো অনেক মেধাবী ছাত্রী। তুমি কি আরো পড়তে চাও।
ছোট করে হু বলতেই তিনি ব্যাস্ত হয়ে পড়েন ঢাকার উত্তরা ক্যান্টমেন্ট স্কুলে আমার এডমিশনের জন্য। সে দিন সারা রাত সে ল্যাপটপে বসে ছিলেন। যেখানে আমি পড়াশোনার সব স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে ছিলাম সে যেনো নতুন করে আমাকে বাচতে শিখালো।
নতুন এক ভোর উপহাড় দিয়েচিলো সে আমায়।
সে আমকর জন্য এতটাই পাগল ছিলো যে কখনো এক দিনের বেশি আমি আমার বাড়িতে থাকতে পারি নি। আমার সব বিষয়ে তার এতো বেশি খেয়াল ছিলো যা কখনো বলে বুঝানো যাবে না। আমার চুলে নিয়ম করে তেল দিয়ে দিতেন। রাতে বাসায় ফিরে চুল বেনুনী করে দিতেন।
তার ছোয়ায়ই আমি গ্রাম্য রিমি থেকে তৈরি হয়েছি আজকের এই প্রতিবাদি রিমি।
লেবার পেইন নিয়ে এই সবি ভাবছিলাম আমি। মানুষটার মুখ একদম শুকিয়ে গেছে যেনো আমার না তারি ব্যাথা করছে। আমার চাইতে বেশি ছটফট জামিল ই বেশি করছে।
একবার আমার কাছে আসছে তো একবার নার্সের কাছে যাচ্ছে।
নার্স যখন জানালো বেবি নরমালে হবেনা, তখন জামিলের মুখে আধার নেমে এসেছে যেনো। ডক্টরের কাছে রিকোয়েস্ট করে সেও আমার সঙ্গে অটিতে ছিলো। ওটির প্রতিটা মূহুর্ত সে ছটফট করে কাটিয়েছে। এর পর আসে সেই কাক্ষিত সময় যখন আমার মেয়ে জন্ম হয়।
আমার মেয়ে যখন চিৎকার করে কাদছিলো তখন জামিল আমাকে আর মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললো, তুমি আমার জীবনের শ্রেষ্ট সম্পদ উপহার । তোমাকে হারানোর ভয় আমাকে কুরে করে শেষ করে দিচ্ছিলো।
----------------সমাপ্ত------------------------
জমজম কূপের পানির রহস্য
জান্নাত থেকে আসছে
জমজম কূপের পানি!
২৪ জন ডুবুরি জম জম কূপের তলদেশে গিয়ে নিয়ে এলেন অজানা তথ্য!!
আল্লাহ পাকের কুদরত দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা !
ষাটের দশকের কথা। তখন ছিল বাদশাহ্ খালেদের
শাসনামল। ওই সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির দিয়ে পরিষ্কার কারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল জম জম কূপটি।
জম জম কূপটি পরিষ্কারের কাজ তত্বাবধান করেন প্রকৌশলী "ইয়াহইয়া কোশক"
তার প্রদত্ত বিবরণ থেকে বলা যায়, বড় ধরনের কয়েকটি পাথরের তলদেশ থেকে প্রবল বেগে পানি উৎসারিত হচ্ছে। সবচাইতে বড় পাথরের উপর স্পষ্ট আরবী হরফে “বিসমিল্লাহ্” কথাটি উৎকলিত রয়েছে।
রাসুলুল্লাহর (সাঃ) এর দাদা আবদুল মুত্তালিব-এর সময় কূপের গভীরতা ছিল মাত্র ১৪ ফুট। খলিফা মামুনুর রশীদের আমলে পুনরায় খনন করা হয় এই জম জম কূপ।
এ সময় পানির নিঃসরণ খুব বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি কূপের বাইরে পানি উপচে পড়া শুরু করেছিল। দীর্ঘ
কয়েক শতাব্দী পর সৌদি সরকার আধুনিক মেশিনের
সাহায্যে কূপ পুনঃখনন করেন।
২৪ জন ডুবুরি কূপের তলদেশে গিয়েছিলেন তা পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার জন্য।
ডুবুরিরা দেখেন, সেখানে রং-বেরংয়ের মাটির স্তর জমাট বেঁধে আছে।আর অবিরাম নির্গত পানিকে পরিশোধন করছে। তারা আল্লাহর এ কুদরত দেখে বিস্মিত হয়ে যান!
বর্তমানে জম জম কূপের গভীরতা ৫১ ফুট।
এক নজরে জম জম কূপঃ
▪️আল্লাহ তাআলার অসীম কুদরতে ৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।
▪️ভারী পানি উত্তোলনের মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০
লিটার পানি উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক সৃষ্টির
সূচনাকালের ন্যায়।
▪️পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি, জন্মায়নি কোন ছত্রাক
বা শৈবাল।
▪️সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটেই
আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।
▪️এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মউসুমে ব্যবহার ক’য়েক গুন বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।
▪️সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুন, স্বাদ ও এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই পরিমানে আছে।
▪️এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান অন্যান্য পানির থেকে বেশী, এজন্য এই পানি শুধু পিপাসা মেটায় তা না, এই পানি ক্ষুধাও নিবারণ করে।
▪️এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমান বেশী থাকার কারণে
▪️এতে কোন জীবানু জন্মায় না ।
▪️এই পানি পান করলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
#সুবহানআল্লাহ।
০১ আল ফাতিহা, সূচনা (الفاتحة),
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ১
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ১
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
উচ্চারণঃ বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
অর্থঃ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ২
ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
উচ্চারণঃ আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।
অর্থঃ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৩
ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
উচ্চারণঃ আররাহমা-নির রাহীম।
অর্থঃ যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৪
مَٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ
উচ্চারণঃ মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
অর্থঃ যিনি বিচার দিনের মালিক।
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৪
مَٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ
উচ্চারণঃ মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
অর্থঃ যিনি বিচার দিনের মালিক।
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৫
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
উচ্চারণঃ ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন।
অর্থঃ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৭
صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ
উচ্চারণঃ সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।
অর্থঃ সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
বিদায় রানী এলিজাবেথ,, ভবঘুরে ফেইসবুকে
বিদায় লুটেরা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ
=======================
১৭৫৭ সালে অপরিনামদর্শী সিরাজউদ্দৌলার পতনের আগ পর্যন্ত সুবা বাংলা ছিল গোটা দুনিয়ার মধ্যে ঐশ্বর্যশালী সুখী মানুষের একটি দেশ। তখনকার আমলের অনেক ইউরোপিয়রাই বলেছেন, বাংলার মানুষের খাবার থালায় কম করেও তিন ধরনের পদ থাকতোই। ঘি, মাখন খাওয়ার বিষয়টা তাদের জন্য ছিলো সাধারণ। তাদের গায়ে যে পোষাক ছিল তা ইউরোপিয়ানদের কাছে ভাবনারও অতীত, ঈর্ষণীয়। তখনকার আমলে বাংলার পন্য নিয়ে বাংলার বণিকরা পূর্বদেশ মানে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত পৌছে যেতো। পরবর্তীতে
নবাবের পতনের হলে তিন দফা নতুন নবাব প্রতিস্থাপনের পর মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশার খাজনা উঠানোর বিষয়টি মাত্র লাখ দেড়েক রূপিতে কিনে নেন রবার্ট ক্লাইভ। এরপর রবার্ট ক্লাইভ হিসাব করে দেখান, দেড় লাখ রূপি দেবার পরও কোম্পানির প্রায় ১৬ লাখ রূপি। বাস্তবে সেটি কোটি রূপিতে ছাড়িয়ে যায়।
এরপর থেকেই ফসলে, পন্যে উদ্বৃত্ত একটি জনপদ হয়ে যায় স্রেফ শশ্মান ঘাট। সব থেকে বেশি সংকটে পড়ে ঢাকা। ব্রিটিশদের অত্যাচার আর লুন্ঠনে একটা বাণিজ্যিক শহর পরিনত হয়ে যায় গোরস্তানে। কোম্পানির হাতে রাজস্ব উত্তোলনের দায়িত্ব থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত রাজস্ব উত্তোলন শুরু হয়।
বাংলা ১১৭৬ সাল আর ১৭৭০ ইংরেজি। সিরাজের পতনের মাত্র ১৩ বছরের মাথায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। সোনার বাংলা একটি কবরস্থানে পরিণত হয়। এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায়। সেটা ছিলো এটা দুনিয়ার নিকৃষ্টতম দুর্ভিক্ষের মধ্যে অন্যতম। সে দুর্ভিক্ষের কারণ ছিলো না যে ফসল উৎপাদন কম হয়, দুর্ভিক্ষের কারণ ছিলো সে বছরের মাত্রাতিরিক্ত খাজনা আদায়। যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো তার আগের বছর আদায়কৃত রাজস্ব ছিল দেড় কোটি রূপি। আর যে বছর দুর্ভিক্ষ হলো সে বছর আগের বছরের তুলনায় ৫ লাখ ২২ হাজার রূপি বেশি আদায় হয়েছিল।
তত্কালীন সময়ে ঢাকার মসলিনের কদর ছিল আকাশ ছোঁয়া। আর ব্রিটেন থেকে কোম্পানি কলের তৈরি কাপড় আনলেও সেটা এখানে চলত না। তারপর তারা আমাদের মসলিন উৎপাদনকারী তাঁতীতের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দেয়া শুরু করে যাতে তারা মসলিন বুনতে না পারে।
গোটা মুঘল আমলে সুবা বাংলা ১৯টি, পরে ৩৪টি ছোট ছোট নবাব ও রাজাদের অধীনে শাসন হয়েছে। সেই শাসনের বেশিরভাগ সময় মুঘল শাসনের বিষয়টি অনেক আলগা ছিল। বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে ছিল ২৩০ বছর। এই ২৩০ বছরে বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়নি। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিম হেরে যাবার পর দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানী কিনে নেয় কোম্পানি। এরপর মাত্র ৬ বছরের মাথায় ১৭৭০ সালে বা বাংলা ১১৭৬ সনে দুর্ভিক্ষ হয় যাতে মারা যায় প্রায় ১ কোটি মানুষ। এই ইতিহাস নির্মম, ভয়াবহ উপনিবেশিক শোষনের ফলাফল।
কোম্পানির শাসন ও ব্রিটেনের শাসনের মধ্যে তারা কত লোককে জোরপূর্ব দাস বানিয়েছে সেই হিসাবটা নতুন করে নেয়া আমাদের খুব দরকার, আজ না পারি, একদিন আমাদের প্রজন্ম নিবে আশা করি।
১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়ের দিকে যে দুর্ভিক্ষ হয় তাতে বাংলার প্রায় ৩০ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। এই দুর্ভিক্ষও কিন্তু ফসল উৎপাদন কম হয়েছিল সে কারণে হয়নি, বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাংলা থেকে সব খাদ্য শস্য ব্রিটেনে নিয়ে মজুদ করা হচ্ছিলো বলেই হয়েছিলো। যুদ্ধে যেখানে মাত্র ৪০ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য লড়ছিলো সেখানে ভারতীয় সৈন্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। ভারতীয়রা অকাতরে মরেছেও সে যুদ্ধের ময়দানে।
দুর্ভিক্ষের অশনি সংকেত বেজে উঠার আগে বিষয়টি তৎকালীন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে জানানো হয়েছিল, তখন রাজা ছিলেন ষষ্ট জর্জ, মানে দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা। চার্চিল নিকৃষ্ট উত্তর দিয়েছিল।
একটা সোনার দেশকে মৃতপুরি বানালো যে ব্রিটেন, ব্রিটেন উপনিবেশবাদ, তারই প্রতীকী চিহ্ন বহন করতেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন। পরিণত বয়সেই মারা গেছেন। আমরা মানি, যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক কিন্তু রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে পূর্ববঙ্গের মানুষের শোকটা ভিন্ন রকম, যা রক্তের সাথে বেঈমানি মিশ্রিত।
ইতিহাস মরে না। বাহাদুর শাহ পার্ক নামে ঢাকায় যে পার্কটা আছে ওখানে ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাকার্মী বিপ্লবীদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আর সিরাজউদ্দৌলার লাশ শহরে টেনে হিঁচড়ে নেয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ডকুমেন্ট নাড়াচাড়া করলে অপ্রকৃস্থ হয়ে যেতে হয়! মানুষ কি করে এতো পিচাশ প্রকৃতির হয়! তখনকার আমলে ব্রিটিশ শোষণ থেকে মুক্তি পাবার লক্ষ্যে অকাতরে জীবন দিয়েছেন তরুন যুব শ্রমিক কৃষকের দল। সেই বিপ্লবীদের বৃহত্তম অংশটি ছিলো বাংলাদেশের। আমাদের পূর্বপুরুষ তাদের জীবন বাজি রেখে, ভয়াবহ ইন্টারোগেশনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। আর আমরা আজ সেই ঔপনিবেশিক শোষনের পদ চিহ্নের মৃত্যুর কথা জেনে কাঁদতে পারি নি বলে দুঃখিত! আমাদের সেই মহান লড়াকু পুর্বপুরুষদের আত্মদানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা সম্ভব নয় তাই।
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের জেলগুলোতে থাকা আমাদের বিপ্লবীদের দীর্ঘশ্বাস বাংলার আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়ায়। যে রক্তের গন্ধ পায় প্রকৃতি কেতাদুরস্ত ফ্যাশনাবেল প্রজন্ম সে রক্ত দিয়ে পান করুক স্কচ হুইস্কি, জনি ওয়াকার রেডলেভেল!
বলি, কোহিনূর চুরি আর হাজার বছরের মুসলিম আবাস ফিলিস্তিনের দূর্দশার নেপথ্যে কারা? কারা শত শত বছর এই পৃথিবীর মানুষের রক্ত শুষে নিতে পানপাত্র ভরেছে?
তাই বিদায়, বিদায় রাক্ষুসী লুটেরা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, বিদায়....
সংগৃহীত
কক্সবাজারের নামকরণ যেভাবে করা হয়েছে
কক্সবাজার এর নামকরণ যেভাবে হল ৷ মেহগনি গাছের শীতল ছায়াঘেরা লাল টিনের ঐতিহাসিক এই "বাংলোবাড়িটি" ইংরেজ ক্যাপ্টেন ‘হিরাম কক্স’- এর বাংলো, যার বয়স এখন ২২০ বছর।যাঁর নামে এখন এই কক্সবাজার জেলা৷
১৭৮৪ সালের দিকে আরাকান দখল করে নিয়েছিলেন বার্মার রাজা বোধাপায়া। রাজার আক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রায় ১৩ হাজার আরাকানি এদিকে চলে আসে, আশ্রয় নেয় পালংকীতে। বলে রাখি, কক্সবাজারের প্রাচীন নাম কিন্তু পালংকী। সমুদ্র ও জঙ্গলঘেরা পালংকীতে আশ্রিত লোকজনকে পুনর্বাসনের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সকে সেখানে নিয়োগ দিয়েছিল। হিরাম কক্স পালংকী এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন একটি বাজার। প্রথম প্রথম এ বাজার ‘কক্স সাহেবের বাজার’ নামে পরিচিত ছিল। পর্যায়ক্রমে ‘কক্স-বাজার’ এবং ‘কক্সবাজার’ নামের উৎপত্তি ঘটে। জায়গাটি ‘প্যানোয়া’ নামেও পরিচিত। ‘প্যানোয়া’ শব্দের অর্থ ‘হলুদ ফুল’। তখন কক্সবাজার হলুদ ফুলের রাজ্য ছিল।
হিরাম কক্স তো দায়িত্ব নিয়েছিলেন শরণার্থী পুনর্বাসনের। কিন্তু তাঁকে তো রাত যাপন করতে হবে, করতে হবে দাপ্তরিক কাজ! এ জন্যই রামুতে নির্মিত হয় এই বাংলোবাড়ি।
ইংরেজ ক্যাপ্টেন কক্স সাহেবের বাংলো।
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
এলার্জির প্রাকৃতিক সমাধান
চলুন, এলার্জি প্রতিরোধে কিছু ভেষজ ঔষধের ব্যবহার দেখে নিই- নিম পাতা নিম পাতা ত্বকের যে কোনো সমস্যা সমাধানে অনেক কার্যকর। নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাঁচড়া চলে যায়। পোকামাকড় হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হয়। ব্যবহার: নিমপাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এক চা চামচের ৩ ভাগের ১ ভাগ নিমপাতার গুঁড়ো এবং ১ চা চামচ ইসবগুলের ভুষি ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ১/২ ঘণ্টা পর চামচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, দুপুরে ভরা পেটে এবং রাতে শোয়ার আগে খান। ইনশা’আল্লাহ এলার্জির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
তুলসী পাতা কর্পূর সমৃদ্ধ তুলসী পাতা ত্বকের যেকোন ধরণের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমাতে সহায়তা করে। তুলসির কাঁচা পাতার রস বা বিচির থেতলানের পর রস কিছুটা গরম করে সংক্রমিত জায়গায় লাগালে এলার্জি ভালো হয়। অথবা খানিকটা আদা ও তুলসি পাতা পানিতে ফুটিয়ে তাতে এক কাপ মধু মিশিয়ে দিনে ৪ থেকে ৫ বার খেলেও উপকার পাবেন।
কলা অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কলা খেলে অ্যালার্জির বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কলার চামড়ায় প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি উপাদান বিদ্যমান, যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজড্ করে তোলে। ব্রণ দূর করার জন্যও কলার চামড়া ব্যবহার করা হয়।
লেবু লেবুর রস মেশানো পানি এবং মধু শরীরের জন্য ভারি উপকারি ডিটক্সিফাইং পানীয়। এটি নিয়মিত পান করলে শরীরের টক্সিক পদার্থগুলো বের হয়ে আসবে এবং অ্যালার্জির সমস্যা কমে যাবে। বিশেষ করে লেবুর ভোলাটাইল তেল শরীরের যেকোন রকমের চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে। লেবু টুকরা করে কেটে নিয়ে চুলকানির স্থানে কিছুক্ষণ ঘষুন, চুলকানি কমে যাবে।
গ্রিন টি গ্রিন টি-তে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-হিস্টাসিন এলার্জিক প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সাহায্য করে। এটি চোখে লাল ভাব, র্যাশ বেরোনো ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। কফি, কোমল পানীয় ইত্যাদির অভ্যাস পরিহার করুন। এর পরিবর্তে দৈনিক দু-তিন বার গ্রিন টি খান।
আদা আদা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল এবং অ্যালার্জির সমস্যা প্রতিরোধ করে। বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, হজমের সমস্যা এমনকি ডায়রিয়া নিরাময়েও আদা খুব উপকারি। খানিকটা আদা কুঁচি কুঁচি করে কেটে গরম পানিতে ফুটিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খান, এলার্জির বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবেন।
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে বিদ্যমান অ্যাসিটিক অ্যাসিড এলার্জেনের সংক্রমণকে প্রতিরোধ করে। ১ গ্লাস পানিতে ২ চামচ ভিনেগার মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে এলার্জি সমস্যা দূর হয়। ব্রোমেলিন ব্রোমেলিন শরীরে প্রদাহ জনিত প্রতিক্রিয়া কমায়। নিয়মিত ব্রোমেলিনসমৃদ্ধ খাবার খান, এলার্জির সমস্যা লাঘব হবে।
উৎস: আনারস জিংক জিংকসমৃদ্ধ খাবারে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্টস্ থাকে যা এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সহায়ক। ওয়েস্টার মাশরুম জিংকের সবচেয়ে ভালো উৎস। মিষ্টি কুমড়ার বীজ, শিম বীজ, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদিতেও প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে। প্রাণিজ জিঙ্কের প্রধান উৎস হল মুরগীর মাংস। এলার্জি থেকে বাঁচতে নিয়মিত জিংকসমৃদ্ধ খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ক্যারোটিনয়েড ক্যারোটিনয়েড হলো উদ্ভিদের মধ্যস্থিত রঞ্জক বা রঙিন পদার্থ। এসবের মধ্যে ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, লুটিন, লাইকোপেন, ক্রিপটোজেন্থিন এবং জিজেন্থিন থাকে যা এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় ভালো কাজ করে। উৎস: সবুজ, হলুদ অর্থাৎ রঙিন শাক-সবজি (যেমন- গাজর, মিষ্টি কুমড়া, হলুদ, পালংশাক, ডাটা শাক ইত্যাদি)।
অনন্তমূল অনন্তমূল এক ধরনের লতানো উদ্ভিদ। এতে প্রচুর পরিমাণে স্টেরল, টার্পিন, লুপিয়ল, স্যাপোনিন ও ট্যানিন বিদ্যমান, যা এলার্জেন প্রতিরোধক। এছাড়া গাছের পাতায় ও শিকড়ে টাইলোফিরিন থাকে যা এলার্জিজনিত শ্বাসনালীর প্রদাহসহ অ্যাজমার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। ব্যবহারবিধি: ১-৩ গ্রাম মূল অথবা গাছের চূর্ণ দিনে দু’বার খাবারের পর খেলে খোস পাঁচড়া , কুষ্ঠরোগ, শ্বেতি, চুলকানিসহ সব ধরনের চর্মরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শরীরের প্রদাহ ও ব্রণে অনন্তমূল পেস্টের মতো তৈরি করে কুমুম গরম পানি মিশিয়ে প্রলেপ দিলে দ্রুত উপশম হবে, ইনশা’আল্লাহ। অথবা ৩ গ্রাম অনন্তমূল বেটে খানিকটা সৈন্ধবলবণ মিশিয়ে শরবতের মতো প্রতিদিন দু’বার খান। একজিমা ও হাঁপানির সমস্যা থাকলে তা সেরে যাবে। ইউক্যালিপটাস তেল মাথা যন্ত্রণা, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদির প্রতিকারে এক বাটি গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল নিয়ে তার ভাঁপ নিন। এতে নাক বন্ধ হওয়া, নাকের ভিতরে অ্যালার্জির কারণে কোনো প্রদাহ থাকলে তা থেকেও রেহাই মেলে। দুগ্ধজাত পদার্থ খাওয়ার পাতে টক দই, ছানা ইত্যাদি দুগ্ধজাত খাদ্য রাখুন। এদের প্রোবায়োটিক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। ফলে ধুলোবালির কারণে এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কা কমে। ঘি এক চামচ খাঁটি ঘি তুলোয় নিয়ে চুলকানির জায়গায় লাগান, আরাম পাবেন। নিয়মিত ঘি খেলেও ঠান্ডা লাগা বা এলার্জির প্রবণতা কমবে। দ্রুত ফল পেতে, ৫ থেকে ৭ ফোঁটা ঘি নারিকেল কোরায় মিশিয়ে খান। অলিভ অয়েল অলিভ অয়েলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও ভিটামিন ই যা ত্বককে এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে। ব্যবহার: খানিকটা গরম পানিতে এক কাপ এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল, এক কাপ নারকেল তেল ও চার টেবিল চামচ মোম নিন। এরপর এতে আট ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করুন। তৈরিকৃত মলমটি প্রতিদিন আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। অ্যালোভেরা অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে মশ্চারাইজিং ক্ষমতা রয়েছে। চুলকানির জায়গায় এক টুকরা অ্যালোভেরা কেটে ঘষুন, চুলকানি চলে যাবে। অ্যালার্জির কারণে মাঝে মাঝে ত্বকে লালচে দাগ দেখা যায়। এ দাগ দূর করতে গোসলের পানিতে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস্ অনেক সময় পাকস্থলীতে প্রোটিনের আধিক্য হলেও অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। তাই, এলার্জি প্রতিরোধে নিয়মিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার খান। উৎস: কাঁচা মরিচ, বাঁধাকপি, আলু, বাতাবি, টমেটো, পেয়ারা, কামরাঙ্গা ইত্যাদি। শসা এবং গাজরের রস তাৎক্ষণিক এলার্জির সমস্যা দূরীকরণে শসা এবং গাজরের রস দারুণ উপকারি। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-এলার্জিক উপাদান বিদ্যমান, যা দেহ কোষগুলোকে এলার্জেনের প্রতিক্রিয়া রুখতে সাহায্য করে। ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর অয়েল শুধুমাত্র আপনার চুলের সমস্যায় নয়, এলার্জির অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধেও সহায়ক। তাই নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে এক কাপ পানিতে ৫-১০ ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে খান। আপনার শিশুকে ছোট থেকেই সব ধরনের খাবার, ফল ও সবজি খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। এর ফলে সে খাদ্যজাত এলার্জির হাত থেকে মুক্ত থাকবে।
গল্প নীল ক্যাফের ভালোবাসা
আমার গার্লফ্রেন্ড একটা ছেলের সাথে ছবি পোস্ট করেছে! ছবিটা দেখেই বুঝা যায় দুইজন খুব ক্লোজ। গার্লফ্রেন্ডের এই আইডিতে আমি এড নাই!
আমার গার্লফ্রেন্ড কে জিজ্ঞেস করলাম, "তোমার এই আইডির কথা আমাকে বলোনি কেন?"
অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "কোন আইডি রায়হান? আমার তো একটাই আইডি। সেটাতে তো তুমি আছ।"
পোস্ট বের করে সুইটি কে দেখালাম। সুইটি চোখ বড়ো করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল," ওমা দেখছ বাবু! ছেলেটা কী ফাজিল! আমার ছবি দিয়ে ফেক আইডি খুলছে। তুমি এক্ষুণি রিপোর্ট করো।"
আমি আইডিতে রিপোর্ট করলাম। এরপরে ওই আইডিটা খুঁজে পাইনি। মনে হয় ফেসবুক ব্যান করে দিয়েছে। এর কিছুদিন পরে আরেকটা আইডি দেখলাম। সুইটি দেখে বলল, বাবু! আমি আর ফেসবুক চালাব না! এ সব ফাজিল ছেলেরা শুধু আমার ছবি দিয়ে কয়দিন পরপর ফেক আইডি খুলে। আবার দেখ ছবি এডিট করে অন্য ছেলের সাথে ছবি পোস্ট করে! ভাগ্যািস! তুমি দেখছ। যদি আব্বু দেখত তাহলে আমাকে মেরেই ফেলত। সুইটির আব্বু অবশ্য বিদেশে থাকে।
শুক্রবারে সুইটি কে কল দিলাম। " আজ বের হতে পারবা? "
"না, বাবু আজ বের হতে পারব না।"
ভেবেছিলাম শুক্রবার আর বের হবো না। এক বন্ধু জোর করে নিউমার্কেটে নিয়ে গেল। সুইটি একটা ছেলের সাথে নিউমার্কেটে এসেছে। রাতে আমাকে বলল, "বাবু তুমি রবিন কে চিনো না? ও তো আমার কাজিন। আম্মু আমাকে পাঠিয়েছে একটা জিনিস কিনতে। তুমি কি আমায় অবিশ্বাস্য করো রায়হান?"
"না, না অবিশ্বাস্য কেন করব।"
সুইটির সাথে আমার দুইবছরের সম্পর্ক। মেয়েটা খুবই ভালো। দেখতেও বেশ সুন্দর!
রবিনের সাথে আমার একদিন দেখা হলো টি এস সি তে। রবিন অবশ্য আমাকে দেখে ডাকল, "রায়হান ভাই।"
আমি প্রথমে চিনতে পারিনি। পরে চিনলাম আরে এটা তো সুইটির কাজিন। রবিন আমার কাছে এসে বলল," আপনি রায়হান ভাই না?"
রবিন আমাকে কী করে চিনল বুঝতে পারলাম না। সুইটি কি ওর ফ্যামিলিতে আমার কথা বলেছে? মেয়েটা দেখি খুবই কাজের!
"হ্যাঁ, আমিই রায়হান। আপনি?"
"আমি রবিন। আপনি তো সুইটির কাজিন তাই না?"
হতবাক হয়ে চেয়ে রইলাম। রবিন বলল, "সুইটি আপনার কথা প্রায়ই বলে।"
"সুইটি আপনার কে হয়?"
"আপনি খুব ভালো মানুষ তাই বলছি। সুইটি আমার গার্লফ্রেন্ড। "
আমার কথা হারিয়ে গেছে! কোনোমতে নিজেকে সামলিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "কতদিনের সম্পর্ক আপনাদের?"
"তিন বছর ভাই। "
ছেলে দেখি আমার সিনিয়র!
"ভাই সময় আছে?"
"হ্যাঁ ভাই।"
মুখে এখনো হাসি লেগে আছে। একটু পরে অবশ্য হাসিটা থাকবে না! আমরা মধুর ক্যান্টিনে আসলাম। আগে একটু চা খেয়ে নেই। রবিনের হাসিটা দেখতে ভালো লাগছে! ও ভাবছে গার্লফ্রেন্ডের কাজিনের সাথে সম্পর্কে ভালো হচ্ছে। সামনে কাজে লাগবে! বলা তো যায় না যদি পালিয়ে বিয়ে করতে হয়।
চা খেতে খেতে বললাম রবিন তুমি কি "সুইটির কোনো ফেক আইডি দেখেছ?"
রবিন অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল," হ্যা ভাই। কয়েকটা ফাজিল পোলা এই কাজ করেছে! "
ঠিক আমার মতোই ওকে বুঝান হয়েছে! "আইডিটা এখন নাই তাই না?"
"আমি রিপোর্ট করার পর আর নাই।"
"আইডি ঠিকই আছে। তোমাকে ব্লক করা হয়েছে! "
এবার অন্য আইডি থেকে সুইটির আইডি খুঁজে বের করলাম। রবিন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না।
"ভাই আপনি এ সব জানলেন কি করে?"
একটু হেসে বললাম, "আমিও তোমার মতো একজন ক্যান্ডিডেট! "
"বলেন কি!"
"আমি তো জানতাম তুমি সুইটির কাজিন।"
একটা ফেক আইডি খোলা ছেলেকে মেসেজ দিলাম। "আমি সুইটির কাজিন। তোমার সাথে কথা আছে যোগাযোগ করো।"
আমি আর রবিন হতবাক হয়ে শুনছি রাসেলের কথা। রাসেল হলো সুইটির ছবি দিয়ে ফেক আইডি খুলেছে। এটা অবশ্য সুইটির কথা। আসল ঘটনা রাসেলের সাথে সুইটির সম্পর্কে চার বছর ধরে চলে!
রবিন বলল, "ভাই আপনি তো আমার এক বছরের সিনিয়ার! "
তিনজন মিলে আর দুইটা আইডির রাজন আর আসলাম কে পাওয়া গেল। এরা সবাই সুইটির বয়ফ্রেন্ড। রাজনের সাথে সম্পর্ক পাঁচ বছর আর আসলাম আমাদের সবার সিনিয়ার। ওর সাথে সুইটর সম্পর্ক ছয় বছর! প্রতি বছর একজন করে যোগ হয়!
সুইটি এখন আমাদের কারো সাথে যোগাযোগ করছে না। ওর বাবা বিদেশ থেকে আসছে। কাজেই এখন ও খুব ব্যস্ত থাকবে। এটা অবশ্য আমাদের সবাইকে আলাদাভাবে জানিয়েছে সুইটি!
একজন মধ্যবয়স্ক লোকের সাথে সুইটি কে দেখলাম আমরা। এখন আমরা চারজন একসাথে সুইটিকে ফোলো করি!
রাতে সুইটিকে মেসেজ করলাম," আজ তোমার বাবার সাথে তোমাকে দেখলাম। তোমরা শপিং গেছিলা বুঝি?"
"হ্যাঁ, পরে কথা হবে। এখন আমাকে মেসেজ দিবে না। "
রবিন আমাকে কল দিয়ে বলল, "ভাই জলদি আসেন। "
"কী হয়েছে ভাই?"
"আসেন আপনাকে বলছি সব।" ছেলেটাকে খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছে।
আমি রবিনের সাথে দেখা করতে গেলাম একটা রেস্টুরেন্টে। গিয়ে দেখি রাসেল আর আসলামও এসেছে। মনে হয় সুইটির নতুন কোনো বয়ফ্রেন্ড পাওয়া গেছে!
"কী হয়েছে রবিন?"
আজ সুইটির বাবার সাথে দেখা। একটা দশ বছরের মেয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম সুইটির ছোটো বোন হবে।
আমি সামনে গিয়ে সালাম দিলাম, "আংকেল কেমন আছেন? "
উনি আমাকে চিনতে পারল না। চেনার কথাও না! আমি বললাম, "আমি সুইটির ক্লাসমেট। "
"আমাকে আংকেল ডাকছেন কেন!"
"আপনি সুইটির বাবা না?"
বিরক্ত হয়ে বললেন, "সুইটি আমার স্ত্রী। এটা সুইটির মেয়ে!"
ভাই আমি দ্রুত পালিয়ে এসেছি। পরে খবর নিয়ে জানলাম উনি সুইটির দ্বিতীয় হাসবেন্ড!
রাজা রাম মোহন রায় এর প্রনয় দিবস ২৭ সেপ্টেম্বর ফেইসবুক থেকে নেওয়া
রাজা রামমোহন রায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা।
~~~ রাজা রাম মোহন রায় ও রংপুর ~~~
রাজা রাম মোহন রায় এক জন বাঙালি দার্শনিক ও বাংলার পূনর্জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। রামমোহন রায় ছিলেন যুক্তিবাদী ও মুক্ত চিন্তার ধারক। হিন্দু সমাজের কুপ্রথা ও কুসংস্কার তিনি মেনে নিতে পারেননি। এক ঈশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। তাঁর মতে নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। তাই দেব দেবীর পূজা করা হিন্দু ধর্মের বিরোধী। আর এই বিশ্বাস থেকে তিনি দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহিত ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন। তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য। তাঁর জীবন ও কর্মের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় অধিকার করে আছে রংপুর। রাজা রাম মোহন রায়ের স্মৃতি ধারণ করে রংপুরের মাটি ধন্য।
১৭৭২ সালের ২২ মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন এক সম্ভ্রান্ত কুলীন (বন্দোপাধ্যায়) ব্রাক্ষ্মণ বংশে। বারাণসী থেকে প্রথাগত সংস্কৃত শিক্ষার পর তিনি পাটনা থেকে আরবী ও পারসী ভাষা শেখেন। পরে তিনি ইংরাজী, গ্রীক ও হীব্রু ভাষাও শেখেন। ১৭৯৬ সালে রামমোহন অর্থোপার্জনে শুরু করেন। ১৮০৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজে সিভিলিয়ান কর্মচারীদের মধ্যে জন ডিগবীর সঙ্গে তাঁর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠতা হয়। জন ডিগবি রংপুরের কালেক্টর থাকাকালীন কোম্পানির কাজে ডিগবীর অধীনে তিনি দেওয়ানরূপে রংপুরে কাজ করেন ১৮০৯ এর ২০ অক্টোবর থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত। বিলুপ্ত তামপাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের স্থানেই ছিল তাঁর বাসভবন। তাঁরা কারণেই ঐ এলাকার নাম দেওয়ানটোলা। ২০০ বছর আগের সেই আবাস স্থানের আর কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই।
রাজা রামমোহন রায়ের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রংপুরে অবস্থানকালেই তাঁর মধ্যে একেশ্বরবাদী চেতনার বিকাশ ঘটেছিল। সেই সময় রংপুরের মানুষের মধ্যে তিনি একেশ্বরবাদ প্রচারও করেছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলা তাঁর বাড়িতে (মীরগঞ্জ, সাবেক তামফাট ইউপি) ব্রাহ্মণ পণ্ডিত, সাধু সন্ন্যাসী, মুসলমান মৌলভী, জৈন মাড়োয়ারি প্রভৃতি অনেক সম্প্রদায়ের মানুষের সমাগম হতো। তিনি রামমোহন পণ্ডিতদের সাথে ধর্মীয় বিতর্ক করতেন। তিনি তাঁদেরকে পৌত্তলিকতার অসারত্ব, ব্রহ্মজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিতেন। ওই বাড়িতে বসেই তিনি কয়েকটি ঐতিহাসিক ফারসি গ্রন্থ রচনা করেন। বিখ্যাত গ্রন্থ বেদান্তের সূচনা করেন মীরগঞ্জের বাড়িতে বসেই। এখানেই অধ্যয়ন করেছিলেন অন্যান্য জৈন ধর্মগ্রন্থগুলির। এই সময়টা ছিল তাঁর ভবিষ্যতের কাজের জন্য কঠোর প্রস্তুতির সময়। যার প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন তিনি রংপুর ত্যাগের এক যুগ পর। কোলকাতায় গড়ে তুলেছিলেন ব্রাহ্ম সভা, যা পরে ব্রাহ্ম সমাজে রূপান্তরিত হয়।
রংপুরে অবস্থানকালে ১৮১০ সালের ৮ এপ্রিল রামমোহনের বড় ভাই জগমোহন রায় মারা গেলে তাঁর স্ত্রী অলনমনি দেবী সহমরণে যান। লাশের সঙ্গে একটি জীবিত মানুষের করুণ মৃত্যুর বিবরণ শুনে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রদ করার দৃঢ় সংকল্প করেন, যা ছিল ব্রাহ্মধর্মের অন্যতম পদক্ষেপ।
১৮১৪ সালে কালেক্টরেট ডিগবি রংপুর থেকে চলে গেলে রাজা রামমোহন রায়ও সেখান থেকে কলকাতা চলে যান। দিল্লির বাদশাহ আকবর তাঁকে রাজা উপাধি দিয়েছিলেন। মূলত তাঁর নির্দেশেই রামমোহন ১৮৩১ সালের ৮ এপ্রিল বিলাতে যান। সেখানে তিনি বাদশাহ আকবরের পক্ষে রাজা চতুর্থ উইলিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিলাতে থাকাকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সেখানে মারা যান। ব্রিস্টল শহরের সেলটিন গ্রেভে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
রাজা রাম মোহন রায়ের স্মরণে তাঁর মৃত্যুর প্রায় এক শত বছর পরে রংপুর কালেক্টরেটের কর্মচারীবৃন্দের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে তাঁর স্মৃতিধণ্য রংপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজা রাম মোহন ক্লাব। স্থাপনা নির্মাণের জন্য রাধাবল্লভ মৌজায় ৪০ শতাংশ জমি কেনা হয় এক হাজার ৫০০ টাকায়। আজকের রাজা রাম মোহন ক্লাস মার্কেট কমপ্লেক্সের স্থানেই ছিল সামনে ফাঁকা জায়গাসহ দেয়াল ঘেরা স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু টিনের চালাওয়ালা রাম মোহন ক্লাবের পাকা দালান। যা আমরা অনেকেই দেখেছি। সেই ক্লাব ভবন ভেঙে নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে এসে নির্মাণ করা হয় রাজা রাম মোহন ক্লাস মার্কেট কমপ্লেক্সের। ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট দেশ বরেণ্য ভাস্কর এবং রংপুর কৃতি সন্তান অনীক রেজার Aneek Reza করা রাজা রাম মোহন রায়ের ম্যুরাল মার্কেটে স্থাপন করা হয়।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, রাজা রামমোহন রায়ের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা।
তথ্য সূত্র :
মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত : নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
২০১১ সালে রংপুর রাজা রামমোহন ক্লাব প্রকাশিত ‘স্মারকগ্রন্থ’
রাজা রামমোহন রায় ও রংপুর : এ্যাডঃ মোহাম্মদ জগলুল, রংপুর আইনজীবী সমিতির স্মরণিকা (২০০৭)।
ফেইসবুক থেকে কপি করে পেস্ট করলাম
পৃথিবীর সকল নারীদের কে কি তার স্বামীর পাজোরের বাকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে,,, ফেইসবুক প্রশ্ন উত্তর রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ
প্রশ্ন: পৃথিবীর সকল নারীদেরকে কি তাদের স্বামীর পাঁজরের উপরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে?এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।
▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
পৃথিবীর সকল নারীদেরকে তাদের স্বামীর পাঁজরের
বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এই বক্তব্য সঠিক নয়। কেননা কুরআন-সুন্নাহয় এই মর্মে কোন দলিল পাওয়া যায় না। তাছাড়া এটি বিবেক বিরোধী কথা। কেননা যদি সকল নারীকে তাদের স্বামীর হাড় থেকে সৃষ্টি করা হতো তাহলে যাদের একাধিক বিয়ে হয়েছে অর্থাৎ একবার বিধবা হওয়া বা তালাক প্রাপ্তির পর আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন,আবার যারা চিরকুমারী থাকে যাদের চেষ্টার পরেও বিবাহ না হওয়ার কারণে তাদের ক্ষেত্রে এই কথার ব্যাখ্যা কী হবে? মূলত হাদীসটি বুঝার ভুলের কারণেই এমনটি বলা হয়ে থাকে। বরং কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-
সালেহীনের বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে,সকল মানুষের উৎস হচ্ছে,আমাদের পিতা আদম (আ.)এবং তাঁকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তারপর তাঁর থেকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর স্ত্রী হাওয়া (আ.)-কে। তারপর তাঁদের থেকে সৃষ্টি করেছেন গোটা মানবজাতিকে। এর দলিল হলো,মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। (সূরা নিসা,৪/১)। উক্ত আয়াতের তাফসীরে ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এক ব্যক্তি থেকে তিনি হলেন আদম (আ.) তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন তিনি হলেন হাওয়া আ.। যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তার পরে তার বাম পাঁজরের হাড় থেকে। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। জাগ্রত হয়ে যখন তাকে দেখলেন, তখন বিস্মিত হলেন এবং তার প্রতি প্রীত হলেন। তিনিও আদম আ.-এর প্রতি প্রীত হলেন। ইবনে হাতিম তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন মুকাতিল থেকে, তিনি অয়াকী থেকে, তিনি আবু হিলাল থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, (প্রথম) নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পুরুষ থেকে।(তাফসির ইবন কাসীর ২/২০৬)
.
এবার এ প্রসঙ্গে বর্ণীত হাদীসটি দেখি, আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওয়াসিয়ত করা হলো নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার। (বুখারী পর্ব ৬৭ : /৮০, হাঃ ৫১৮৬; মুসলিম ১৭/১৮, হাঃ ১৪৬৮ আল লু'লু ওয়াল মারজান, ৯৩৪)। শব্দ বিন্যাস বুখারী আর মুসলিম এ আছে – আর যদি তোমরা তাদের থেকে ফায়দা উঠাতে চাও তাহলে বাকা থাকা অবস্থায়ই তাদের থেকে উপভোগ নিতে থাকবে। আর যদি সোজা করতে চাও তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর ভেঙ্গে ফেলার অর্থ তালাক দেয়া।(সহীহ বুখারী ৩৩৩১,৫১৮৪,৫১৮৫,
৬০১৮,৬১৩৮,৬৪৭৫, মুসলিম ৪৭,১৪৬৮, তিরমিযী ১১৮৮, আহমাদ ৭৫৭১,৯২৪০, দারেমী ২২২২ লুলুগুল মারাম,১০১৫)
▪️হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ)
বলেছেন, এ হাদীসে নারীদের প্রতি সহানুভূতি এবং ইহসানের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে, আর সৃষ্টিগত বক্র স্বভাবের ও অপূর্ণ জ্ঞানের কারণে ধৈর্যধারণের উপদেশ প্রদান করা হয়েছে। আনুগত্যে দৃঢ় না থাকায় অথবা কারণ ছাড়াই তাদের তালাক দেয়াও অপছন্দনীয় কাজ, অতএব তা থেকে বিরত থাকবে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৩৩১; শারহে মুসলিম ৯/১০ খন্ড, হাঃ ১৪৬৮; মিরকাতুল মাফাতীহ)
.
ইমাম ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে ইবন ইসহাক আরো বর্ণনা করেছেন, বাম পাঁজরের হাড় থেকে, জান্নাতে যাওয়ার আগে এবং সেখানে গোশত দ্বারা ভরে দেয়া হয়েছে।(ফাতহুল বারী ৬/৩৬৮)
.
ইবনুল আরাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, বর্ণিত আছে, আদম (আ.) ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন তার বাম পাঁজরের একটি হাড় খুলে নেয়া হলো। তারপর তা দ্বারা হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন তার হুঁশ আসল তখন তাকে তার একপাশে পেলেন। তাকে দেখে তিনি বিব্রত না হয়ে প্রীত হয়েছিলেন। কেননা, তিনি তো তাঁরই অংশ। এজন্য ডান পাঁজরের তুলনায় বাম পাঁজরে একটি হাড় কম আছে। (আ’রিযাতুল আহওয়াযী ৬/৩৬৮)
.
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৫১ হি.] বলেছেন,মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম বিস্ময়কর নেয়ামত এই যে, তিনি পিতা মাতা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন মানবকুলের পিতাকে, নারী ছাড়া শুধু পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকুলের মাতাকে, পুরুষ ছাড়া শুধু নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন ঈসা ইবন মারইয়াম (আঃ)- কে। আর পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন গোটা মানবজাতিকে। যেন বান্দা এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনগুলি দেখে এবং তাঁর নেয়ামত ও ক্ষমতার দ্বারা চিনতে পারে এবং যদি তিনি কিছু চান,আর তিনি তো ‘হয়ে যাও’ বললেও হয়ে যায়।(মিফতাহু দারিস সাআ’দাহ ১/২৪২, ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতওয়া নং-১৮৩০৩৯)
.
উল্লেখ যে, অনেক ইসলাম বিরোধী এক্টিভিস্ট অপব্যাখ্যা করে বলতে চায় যে - হাদিসে বলা হয়েছে সব নারীকেই তাদের স্বামীর পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে; এবং এই কথা বলে তারা নবী (ﷺ) এর বহুবিবাহ, পাঁজরের হাড়সংখ্যা ও স্ত্রীদের নিয়ে অসার কথা বলে। আবার কেউ কেউ অবিবাহিত নারী, তালাকপ্রাপ্ত নারী, একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহ হওয়া নারীর উদাহরণ দেখিয়ে হাদিসকে ভুল বলতে চায়। কিন্তু তাদের এইসব অভিযোগের মূলেই আছে অসত্য ও অপব্যাখ্যা। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুক আমীন।(আল্লাই সবচেয়ে ভাল জানেন)
______________
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
একটি প্রেমের শিক্ষামূলক গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া
''অহনা আপু, আমার ভাইয়ার সাথে ১৫ দিন ভালোবাসার অভিনয় করবেন?'
'এই কি বলো এসব?'
'প্লিজ আপু মানা করেন না।'
'মাথা কি গেছে তোমার?'
মেয়েটা আমার হাত দুটো ধরে কাঁদো কাঁদো সুরে বললো,
'প্লিজ আপু, আপনি আমার কথায় রাজী হয়ে যান।'
আমি হাত ঝাড়া মেরে রাগত্ব স্বরে বললাম,
'তুমি তো বোন নামে কলঙ্ক। কেউ ভাইয়ের সাথে অভিনয় করার জন্য এভাবে কাউকে ফোর্স করে তোমাকে না দেখলে জানতামই না।'
মেয়েটা বিষাদের হাসি হাসলো। চোখ নামিয়ে নিচুস্বরে উত্তর দিলো,
'ভাইকে কয়েকটা দিন ভালো রাখতে যদি এতোটা নিচে নামতে হয় যে লোক ধিক্কার জানাবে। তাহলে আমি তাতেও রাজী।'
চকিতে তাকালাম মেয়েটার দিকে। চোখ বেয়ে তার নোনাজল গড়াচ্ছে। মনে হলো, এখানে ভিন্ন কোন কাহিনি আছে। ওকে বললাম,
'চলো সামনের পার্কটায় বসে তোমার কথা শুনি। কেন তুমি এমন আজব আবদার করলে আমার কাছে।'
মেয়েটা চোখ মুছে আমার সাথে হাঁটতে লাগলো। পার্কের ভোতরে গিয়ে একটা উঁচু সিমেন্টের টিলায় আমরা দুজন বসলাম। স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করলাম,
'এবার বলো, তোমার ভাইয়ের সাথে অভিনয় করতে কেন বলছো?'
মেয়েটা করুন চোখে তাকিয়ে বলতে আরম্ভ করলো,
'আমার নাম সেতু। আমার ভাইয়ার নাম হাসান।আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। বাবা মারা গেছে বহু আগে। ভাইয়া আমাদের পরিবারের সব কিছু দেখাশোনা করে। আমাদের দুই বোনের যাবতীয় খরচ, মায়ের ঔষধপাতি সবদিকে সমান নজর তার। আমাদের পড়াশোনা করাতে গিয়ে ভাইয়া নিজে পড়াশোনা করতে পারেনি৷ এসএসসি পাস করার পর স্থানীয় এক বেকারি দোকানে কাজ নেয়। ধীরে ধীরে পুঁজি জমিয়ে একটা ছোট বেকারি দিয়েছে। এই বছরের শুরুর দিকে ভাইয়া জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। ভাইয়া নিজের ব্যাপারে অনেক উদাসীন। রোগটাকে সে একদম হেলা করেছে। যার দরুন তা গাঢ়িয়ে গেছে। পাশের গ্রামের কবিরাজের চিকিৎসা করেছে। কিন্তু ফলাফল ভালো নয়। ভাইয়া আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু ভাইয়াকে কিছুতেই শহরের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজী করাতে পারিনি। কিছু বললে বলতো, এমনি ভালো হয়ে যাবো। ডাক্তারের কাছে গেলে কত খরচ হবে। এতো টাকা পাবো কোথায়? অবস্থা যখন অনেক খারাপ তখন আমরা জোর করে ভাইয়াকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিলাম।'
সেতু এতটুকু বলে কান্নায় ভেঙে পরলো। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
'তারপর ডাক্তার কি বললো?'
'ডাক্তার বললো আপনারা অনেক দেরী করে ফেলছেন। জন্ডিসকে অবহেলা করে ভাইয়া ঠিক করেনি।লিভারের ভেতরের দিকে পচন ধরে গেছে।অবস্থা অনেক খারাপ। তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তার হাতে সময় আছে ধরেন ১৬-১৭ দিন। আমরা কিছু করতে পারবো না। তাকে বাসায় নিয়ে যান। এই কথা শোনার পর আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পরছে আপু। কিছুতেই স্বাভাবিক থাকতে পারছি না। তবুও ভাইয়ার সামনে হাসিমুখে থাকতে হচ্ছে।'
'সবই বুঝলাম কিন্তু আমাকে অভিনয় করতে কেন বলছো?'
'আপনাকে অনেক আগের থেকে আমার ভাইয়া ভালোবাসে। কিন্তু বলেনি। আপনার পরিবার কখনও আমাদের মতো পরিবারে আপনাকে বিয়ে দিবে না তাই। কিন্তু এই শেষ মুহুর্তে ভাইয়ার মুখে হাসি ফুটাতে আমার আপনার কাছে আসতেই হলো। আমার ভাইটা অন্ততপক্ষে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আগে একটু খুশি নিয়ে যাক।'
'কিন্তু এটা তো তাকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে।'
'তাকে ভালো রাখার জন্য আপাতত আর কোন অপশন নেই আমার। প্লিজ অহনা আপু। আপনি রাজী হয়ে যান।'
মেয়েটার জোরজবরদস্তি আর করুন চেহারা দেখে আমি মানা করলাম না। ওকে বলে দিলাম আগামীকাল ওর ভাইকে যেনো বলে আমাকে প্রপোজ করতে। খুশিমনে সেতু আমায় জড়িয়ে ধরে প্রস্থান করলো।
পরেরদিন যথারীতি ওর ভাইয়ের সাথে সেতু হাজির। আমি পার্কের ভেতরের দিকে ছিলাম। হাসান আমায় দেখে উসখুস করছে। আমি হাসিমুখে সামনে এগিয়ে এসে বললাম,
'কি মিস্টার শুনলাম আমায় নাকি ভালোবাসেন?'
সে মাথা নিচু করে ফেললো। বোকার মতো মাথার পেছনটা চুলকে লাজুক হাসি দিলো। সেতু হাসানকে দিয়ে আমাকে প্রপোজ করালো। আমি পূর্বের কথার ন্যায় তার তা এক্সেপ্ট করলাম। মনে মনে আল্লাহর কাছে তোওবা কাটলাম। কাউকে কিছু দিন ভালো রাখার জন্য এভাবে অভিনয় করতে হবে কখনও ভাবিনি।
এরপর প্রতিদিন আমার ও হাসানের দেখা হতো।আমরা পার্কে বসে কখনো একসাথে বাদাম চিবুতাম।কখনো বা নদীর পাড়ে বসে গল্প জমাতাম। ছেলেটা ভীষণ সহজ সরল। চুপচাপ, ঠান্ডা স্বভাবের। চেহারা মা শা আল্লাহ! রোগা শরীরে মলিন হাসি সবসময় লেগে থাকতো। প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম কথা জানে না। কিন্তু আমার ধারণা ভুল করে দিয়ে দেখা গেলো সে অনেক ফাজিল। কথা বলার অঙ্গিভঙ্গি দিয়ে প্রচুর হাসাতে পারে। এর সাথে থাকলে সময় ঘোড়ার দৌড়ের গতিতে পেরিয়ে যায়। মন ভালো করার ম্যাজিকাল পাওয়ার আছে হাসানের কাছে। সপ্তাহ ঘুরতেই তাকে আমার ভালো লেগে গেলো। একদিন বিকেলে তার সাথে নদীর পাড় ঘেঁষে হাঁটছি। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাস কন্ঠে বললো,
'অহনা, যদি কখনো তোমায় ছেড়ে চলে যাই তুমি কি আমায় মিস করবে?'
আমি চমকে উঠলাম। কোনভাবে হাসানকে জেনে গেলো ও যে বেশি দিন বাঁচবে না? আমি নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রেখে কপট রাগ দেখিয়ে বললাম,
'কি ধরনের কথা এটা?'
হাসান ম্লান হেসে বললো,
'আমি জানি আমার কপালে এতো সুখ সইবে না।'
আমি কিছু বলার আগে সে কথা ঘুরিয়ে ফেললো।আমি শান্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুখন। জীবনটা দু পাতার মতো। এক পাতা পড়ে বুঝতে বুঝতে আরেক পাতা শেষ হয়ে যায়। তবে বইয়ের পাতা তো ফের পড়া যায়। কিন্তু জীবনের পাতা! আর পড়ার সুযোগ নেই।
পরেরদিন সেতু এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে খুশিতে আত্মহারা। আমি কারণ জিজ্ঞেস করতে সে বললো,
'ভাইয়াকে আজকাল অনেক খুশি দেখায়। যা তোমার কারণে সম্ভব হয়েছে। ধন্যবাদ অহনাপু!'
সময়ের কাটা বোধহয় খুব দ্রুত চলে গেলো। হাসানের সাথে অভিনয় করতে করতে কখন যে সত্যি সত্যি পছন্দ করে ফেলেছি নিজেই জানি না। দুই সপ্তাহ পরের ঘটনা। ১৪ দিনের মাথায় হাসানকে কল করে মোবাইল বন্ধ পেলাম। বুকের ভেতর ঢিপঢিপ করছে। সময় তো ঘনিয়ে এসেছে। কোন খারাপ সংবাদ নয় তো। সেতুর নাম্বারে কল করে ব্যস্ত পাচ্ছি। আমার হাত-পা কাপছে। হাসানের মোবাইল কখনও বন্ধ পাইনি। গতকাল রাতে বললো শরীরটা বেশি ভালো লাগছে না। মনটা আমার কু ডাকছে। অস্থিরতায় আমার সারা শরীর ঘেমে দরদর করে ঘাম পরছে। প্রায় বিশ মিনিট পর সেতুর কল। আমি রিসিভ করে দ্রুত জিজ্ঞেস করলাম,
'সেতু, হাসান কোথায়? ওর মোবাইল বন্ধ। ও ঠিক আছে তো?কথা বলছো না কেন?'
সেতুর চাপা স্বরের কান্না শুনে আমার হৃৎপিণ্ড অনরবত লাফাতে আরম্ভ করেছে। কিছু সময় সেতুর কান্নায় হেঁচকি উঠে গেছে। আমি রিতীমত বিরক্ত। হাসানের কোন খবর দিচ্ছে না কেন? সেতু নিজেকে একটু সামলে বললো,
'তোমার ঋণ কিভাবে শোধ করবো জানি না আপু। তুমি আমাদের অনেক বড় উপকার করছো।'
আমি অস্থির গলায় বললাম,
'এসব কথা রাখো। আগে বলো হাসান কেমন আছে?'
'অনেক ভালো আছে আপু। ঐ যে,উঠানের খাটটায় শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে।'
'মানে?'
'আমার ভাইয়া আর নেই গো আপু। ফজরের পর সে না ফেরার দেশে চলে গেছে।'
সমাপ্ত
দু_পাতার_জীবন
ভুল হলে অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন। কিন্তু বকা দিয়েন না☹️।
ইচ্ছা """ফেইসবুক গল্প
ছোটবেলায় কিসমিস খেতে খুব ইচ্ছা করত।আম্মা খেতে দিত না।বাজার থেকে অল্প কিসমিস এনে আম্মা কুটুরিতে লুকিয়ে রাখত।শুধুমাত্র সেমাই রান্না করার সময় সেই কুটুরি খোলা হত।ঐ সময় হাতে দুই তিনপিস পেয়ে অতৃপ্ত আমার বাল্যকালে খুশীর রঙ লেগে যেত।
যখন টাকা আয় শুরু করলাম তখন কিসমিস খাওয়া শুরু করলাম।মুঠো মুঠো করে কিসমিস খাইছি। হয়ত বাল্যকালের সেই তিনপিসের মত টেস্ট পাই নাই, তবে অতৃপ্ত বাল্যকালের উপর কিছুটা প্রতিশোধ নিতে তো পারছি।
ঐদিন এক সুপার শপে দেখলাম নসিলা।ছোটবেলায় টিভিতে শুধু এড দেখতাম, বাচ্চারা টিফিনে নসিলা দিয়ে পাউরুটি মাখিয়ে নিয়ে যায়। এড দেখে বুঝতাম এই জিনিস বিরাট সুস্বাদু,কিন্তু মধ্যবিত্ত বাবা মায়ের নসিলার বোতল কিনে দেয়ার আগ্রহ বা সক্ষমতা কোনটাই ছিল না।
ঐদিন এক বোতল নসিলা কিনে এনে আঙুল দিয়া চেটে পুটে খাইছি। যেটুকো সক্ষমতা আছে, সেটুকোর মধ্যে কোন আক্ষেপ রাখা যাবে না।
এক কলিগের তেল আনতে নুন ফুরায় অবস্থা।একদিন দেখি ফুল ফ্যামিলি কক্সবাজার যাবার বিমানের টিকেট সহ উপস্থিত । সবাই কানাঘুষা করতেছে।আমি ভাইরে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কি?
সে বলল, আব্বা সারাজীবন স্বপ্ন দেখাইছে রোল ১ হইলে কক্সবাজার নিয়া যাবে। ক্লাসে সবসময় রোল ১ হইত, কিন্তু স্কুল শিক্ষক আব্বার সক্ষমতা হয় নাই।আমিও ছেলেকে বলছিলাম রোল ১ হলে কক্সবাজার নিয়া যাব।একটাই জীবন,আমি আমার আব্বার মত হতে চাইনা।
জীবনটা তো ছোট। আজকে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার বয়স।টাকা জমিয়ে জমিয়ে কোন একদিন সময় করে বউ নিয়ে ঘুরতে যাবেন, ও স্বপ্ন সহজে পূরণ হবে না।সময়, টাকা, অবসর তিনটা একসাথে আপনার কোনদিন হয়ে উঠবে না।
জীবন একটু একটু চলে যাচ্ছে।আজকে যা গেল ওটাই শেষ। আজকে যা করতে পারেন নাই, ওটাই মিস করলেন।যেটুকো আপনার আছে এটুকুই অল্প করে উপভোগ করার মানেই জীবন।
জীবনটাকে নসিলা ভেবে চেটেপুটে খেতে থাকুন, কিসমিসের মত ভবিষ্যতের আশায় কুটুরিতে জমা করে রাখলে শুধু আফসোস বাড়বে।
ফেইসবুক থেকে কপি করা
তাবলীগ জামাত ফেইসবুক গল্প
-যে গল্পে অশ্রু ভিজে.🍂
রাসুল (সাঃ) এর প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) মারা যাওয়ার আগে রাসুল (সাঃ) এর দুটো হাত ধরে বললেন....
আমাকে কথা দিন,,, আপনার গায়ের জোব্বা দিয়ে আমার কাফনের কাপড় বানাবেন, আর নিজ হতে আমাকে কবরে নামিয়ে দিয়ে আমার সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি কবরের পাশেই থাকবেন। আমাকে একা ফেলে যাবেন না। রাসুল (সাঃ) অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন, " হে আমার প্রিয়তমা স্ত্রী, আমি কথা দিচ্ছি... "। খাদিজা (রাঃ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
গোসল, জানাজা শেষ করে রাসুল (সাঃ) তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিজেই কবরে শুইয়ে দিলেন, এবং কবরের পাশে অশ্রুজল চোখে কবরের পাশে দাড়িয়ে রইলেন। হাবীবের এমন বিমর্ষ মানসিক অবস্থা দেখে মহান আল্লাহ ফেরেস্তা জিবরাইল (আঃ) কে পাঠালেন।
জিবরাইল (আঃ) এসে সালাম দিয়ে জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসুল আপনি এভাবে আপনার স্ত্রীর কবরের পাশে এভাবে দাড়িয়ে আছেন কেন? রাসুল (সাঃ) বললেন, " হে জিবরাইল, আমি প্রিয়তমা স্ত্রীকে কথা দিয়েছি তাঁর সওয়াল-জবাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়বো না।
জিবরাইল (আঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি জেনে রাখুন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, খাদিজা (রাঃ) কে করা মুনকার-নাকীর এর সওয়ালের জওয়াব আল্লাহ আরশে আজীম থেকে নিজেই দিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ :-')
এই সেই খাদিজা (রাঃ), যাকে মহান আল্লাহ সালাম দিয়েছেন। যেখানে তিঁনিই কবরের সওয়াল-জবাবকে ভয় পেয়েছেন। সেখানেই আমরা যেন চিন্তাই করিনা কবরের জীবন নিয়ে। আল্লাহ আকবর। :-'(
খাদিজা (রাঃ) এর মৃত্যুর পর প্রায় প্রতি রাতেই আয়িশা (রাঃ) এর ঘুম ভেঙে গেলে, উঠে এসে দেখতেন রাসুল (সাঃ) কান্নারত অবস্থায় আল্লাহর কাছে মিনতি করছেন,
হে আল্লাহ! যখন শেষ বিচারের দিন ছেলে বাবাকে চিনবে না,বাবা ছেলেকে চিনবে না,স্বামী স্ত্রীকে আর স্ত্রী স্বামীর চেহারা দেখে বিস্তৃত হবে তখন যেনো আমি আমার আমার প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজাকে চিনতে পারি এবং তাঁকে দেখে যেন বিস্তৃত না হই।
খাদিজা (রাঃ) গোশত খেতে পছন্দ করতেন।যদিও খুব কম সুযোগ হতো।কিন্তু কখনো হঠাৎ কোন উট, দুম্বা কিংবা খাসির গোশতের ব্যবস্থা হতো,তিনি তৃপ্তি করে খেতেন। উনার মৃত্যুর পর রাসুল (সাঃ) যখনি কোন গোশত হাদিয়া পেতেন কিংবা কোনোদিন হঠাৎ কোন
পশু জবাই হতো, তখন রাসুল (সাঃ) খুব যত্নে এক ভাগ মাংস সরিয়ে রাখতেন।
সেটা একটা পোটলায় ভরে মদীনার রাস্তায় চোখ মুছতে মুছতে হাটঁতেন, প্রিয়তমা খাদিজা (রাঃ) এর কোন পুরনো বান্ধবীর দেখা পান কিনা,,, সেই আশায়। কোনো বান্ধবীকে দেখলে, পোটলাটা দিতেন।
আল্লাহ সকল হালাল সম্পর্কের বারাকাহ দান করুক।
প্রত্যেক সংসারকে আল্লাহ ভালবাসা এবং স্নেহের আঁচলে আবৃত করুক....
আমিন।
অতীত ফেইসবুক গল্প পেইজ
পাঁচ বছর পর তার সাথে আমার আজকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে দেখা।দুজনের মুখেই হাসি, উনার মুখে অপরাধীর আর আমার মুখে ব্যথা লুকানোর হাসি। নিজের স্ত্রীকে নিয়ে দাওয়াতে এসেছেন। কোলে একটা বাচ্চা মেয়েও আছে দেখছি। কাকতালীয় ভাবে দেখা। পাঁচ বছর পরেও আমার অনূভুতি গুলো কেমন আগের মতই আছে। বুঝতে পারছি না, কথা বলা উচিৎ নাকি নয়,বললেই কীভাবে কথা বলবো, কথা বলতে চাচ্ছি কিন্তু ঠোঁট নাড়িয়ে বলতে পারছি না।এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না।গলা যেনো শুকিয়ে কাঠ,পানি খেয়েও তৃষ্ণা মিটছে না।জ্বর ,সর্দি হলে যেমন হয়,ঠিক তেমন আমার গলার দশা।এর মধ্যেই উনার পাশে থাকা মহিলাটি বলে উঠলো
-"আরে আপনি সেই? গতকাল এসেছি থেকে ঝুমুর মুখে আপনার প্রশংসা শুনছি। আসলেই আপনার পছন্দ একদম আপনার মতোই সুন্দর।"
কেউ কারুর প্রশংসা করলে, উত্তরে কী বলতে হয় তা আমি খুঁজে পাচ্ছি না।তাই বোকার মতো কেমন হাসলাম। হেঁসেই খুব অনাকাঙ্ক্ষিত এক প্রশ্ন করলাম,,
উনার কোলে থাকা বাচ্চা মেয়েটির হাত ধরে জিজ্ঞেস করলাম,
-"আপনার মেয়ে বুঝি?"
-"জ্বী আমার মেয়ে।আর উনি আমার বর।"
বাচ্চা মেয়েটার হাত ধরে পূনরায় জিজ্ঞেস করলাম,
-"নাম কী মেয়ের?"
মেয়ের মা টুক করে জবাবে বললেন ,
-"হুমাইরা ইয়াসমিন ইফতি।"
আমি চমকালাম,এই নাম নিয়ে আমরা একটা সময় কত গল্প করেছি। জানেন আমাদের একটা মেয়ে হবে। টুকটুকে লাল, আপনার নামের সাথে নাম মিলিয়ে তার নাম রাখবো হুমাইরা ইয়াসমিন ইফতি।
আজকে সত্যি সত্যি উনার একটা লাল টুকটুকে মেয়ে হয়েছে। নাম টাও ঠিক সেটাই হয়েছে। কিন্তু মেয়ের মায়ের জায়গায় আমি নই অন্য কেউ। নিঃসন্দেহে ইফতির মা অনেক সুখী মানুষ।যেখানে এতো এতো ভালোবাসা দিয়ে মেয়ের নাম ঠিক করলাম আমি, কল্পনায় লাল টুকটুকে মেয়ে চাইলাম,আর উনাকে যতটা চেয়েছি তা আর কী বলবো,,
চাওয়ার পরিমাপ বোঝার জন্য হলেও একটা মেশিন আবিষ্কার করা উচিৎ ছিলো,যাতে কে কাকে কতটা সত্যি কারেই চায় তা বোঝা যেতো। কোন ফেইক মানুষের সাথে,জীবন জড়িয়ে যেতো না, হয়তো তখন কারুর।আর যাদের আমরা তীব্র ভাবে চাই তারাও হয়তো এই পরিমাপ যন্ত্রের সাহায্যে চাওয়ার পরিমাণ দেখতে পেরে আমাদের ছেড়ে যেতে বা ধোঁকা দিতে একটু হলেও কলিজা কাঁপত বোধহয়।
আমার সামনে দাঁড়ানো মহিলাটি নিঃসন্দেহে ভাগ্যবতী। যাকে হাজার বার চেয়েও আমি পেলাম না।আর উনি তা কী সহজ স্বাভাবিক ভাবে পেয়ে গেলেন। এটাকে আমি আমার দূর্ভাগ্য বলবো নাকি কর্মের ফল? বুঝতে পারছি না।
আমার কী বুকে ব্যথা হচ্ছে নাকি। চোখের পানি বিদ্রোহ করছে বোধহয় কোপল বেয়ে গড়ানোর জন্য। আমি এসবের কিছু বুঝতে পারছি না। শুধু এইটুকু বুঝতে পারছি এই মুহূর্তে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখ রাজ্যের রানী আমি। পৃথিবীর সমস্ত সুখ আমার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ছে।এই রাজ্যে সুখ ছাড়া কিছুই নেই।ব্যথা কি এই রাজ্যের মানুষ জানে না। আমি সুয়ে আছি একটা হীরের পালঙ্কে।
আমার কল্পনা বেশ কাজে দিলো, দুঃখ রা সব পালালো। আমি এখন আছি ফূর্তিতে। আমার সামনে দাঁড়ানো পুরুষটির সামনে আমাকে জীবন দিয়ে হলেও সুখী থাকতে হবে।কান্না করার অনেক সময় পাবো। আজকের এই মুহূর্তের কান্না আমার জীবনের কলঙ্কের মতো।তাই ইফতির মাকে হাসি হাসি মুখে বললাম,
-"বাহ, অসাধারণ নাম মেয়ের।তা কে রেখেছেন এই নাম?"
-"ওর বাবাই,এই নাম না রাখলেই নাকি নয়।ইফতি যখন পেটে, তখন ওর বাবাই কী বলেছে জানেন?ছেলে হলে নাম রাখার দায়িত্ব আমার,আর মেয়ে হলে উনার।মেয়ে হলেই যে উনিই রাখবেন তা নয়, মেয়ে যদি টুকটুকে সুন্দরী হয় তাহলে উনি রাখবেন আর না হলে আমি যা খুশি রাখবো।মেয়ে হওয়ার আগে অনেক বার নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিন্তু উনি আমাকে নামটা অবধি বলেননি।নামটা নাকি অনেক দামী,তাই বলা যাবে না। সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করছি, তিনি আমাকে টুকটুকে মেয়েই ভিক্ষে দিয়েছেন।"
উনার স্ত্রী বেশ সরল নয়তো এই ঘটনা টুকু উনার খুব সুখের। নয়তো এইভাবে অপরিচিত কাউকে এসব বলবেন কেন। উনার স্ত্রী যখন এসব কথা বলছেন,উনি কেমন অস্থতিতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলেন। মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন দেখলাম।
আমিও আবার হাসি মুখে বললাম,
-"নামের সাথে আপনার মেয়ের চেহারার অনেক মিল মাশআল্লাহ। আল্লাহ আপনার মেয়েকে নেক হায়াত দান করুন।"
উনি উনার স্ত্রী কে নিয়ে একটা ব্রেঞ্চে গিয়ে বসলেন। আমি জানি এখানে আমি বেশি সময় থাকতে পারবো না।দ্রুত বাসায় যেতে হবে। এখানে বিয়েতে ইনভাইট করেছে আমাকে।যার বিয়ে সে আমার পূর্ব পরিচিত নয়, গতকাল বিকালেই সদরে দেখা গয়নার দোকানে। আমি গিয়েছিলাম একটা আংটি আনতে।তখন যার বিয়ে মানে ঝুমুর উপস্থিত সেই দোকানে। আমার আংটিটি দেখে বললো,
-"আরে বাহ্ আপনার পছন্দ তো চমৎকার! আমাকেও কিছু পছন্দ করে দিন তো।"
পরে জানতে পারলাম উনার বিয়ের গয়না, কেনাকাটা শেষে আমাকে খুব করে যেতে বললো। ফোন নাম্বার নিয়ে গেলো। কিছু কিছু মানুষের আতিথেয়তা না করার মতো উপায় থাকে না।তাই বাধ্য হয়েই আজকে আসা। কিন্তু এত বছর পর উনার সাথে আমার দেখা হবে তা আমি মনের ভুলেও ভাবিনি।শুধু উনিই নয়, উনার স্ত্রী, সন্তান। অতীতের করা ভুল গুলো আমাদের ভবিষ্যতে গিয়ে দুঃখ নামের সারপ্রাইজ হিসাবে সামনে এসে চমকে দেয়।
আমি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বিয়ের কনেকে পরে কল করে কিছু একটা বলে দিবো।দ্রুত বাসায় ফিরতে হবে। আজকে আমি অনেক আয়োজন করে কাঁদবো।কজন কাঁদতে পারে,কত মানুষ কাঁদতে চেয়েও পায় না, চোখের পানি শুকিয়ে গেছে তাদের।আর আমার চোখে এখনও সাগর সমান পানি।দ্রুত হাঁটছি। রাস্তায় গিয়ে গাড়ি নিতে হবে। অনেক টা পথ সরু কাঁচা মাটির রাস্তা। এখানে গাড়ি আসে না।
-"এখনো অনেক ঘৃণা করো আমাকে?"
আমি চমকে পিছন ফিরে চাইলাম। উনি আমার পিছনে। কথার জবাব না দিয়ে হাঁটছি।
-"আমি সত্যিই প্রচণ্ড ভালোবেসেছিলাম তোমাকে!তা না হলে তোমার দেওয়া নামটাই মেয়ের নাম রাখতে এত পাগলামী করতাম না।"
এইবার আমার মুভিতে খল নায়ক যেমন হাসি দেয় নয়তো হুট করেই কেউ পাগল হয়ে গেলে যেমন হাসি দেয়,ঠিক তেমন গগন বিধারি , আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হো হো হো করে হাসতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সেভাবে হাসলাম না। বেশি হয়ে যাবে। স্বাভাবিক ভাবেই মৃদু হেসে বললাম,
-"আপনি ঠিক আগের মতোই আছেন।কথার ধরন দেখে মনে হবে সত্যি সত্যিই ভালোবাসতেন। আপনি আগের মতো থাকলেও আমি আগের মতো নেই,যে আপনার কথা বিশ্বাস করে, হাউমাউ করে কেঁদে বলবো, আমাকে বিয়ে করুন।সতীনের ঘর করতে আমি রাজি। আপনার স্টাটাসের সাথে না মিললেও আমি কারুর এঁটো জিনিসে হাত দেই না।আর ভালোবাসেননি আমি কখন বলেছি? আমি আগেও বলিনি এই কথা আর এখনো বলছিনা।ভালোবাসেন ভয়ংকর ভালোবাসেন,ঠিক সিনেমার মতো। সিনেমাতে যেমন দেখায়,নায়ক নায়িকার ভালোবাসা। কিন্তু সেই ভালোবাসাটুকু শুধু সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ বাস্তব জীবনে নয়। সেরকম আপনার ভালোবাসা অভিনয়ে সীমাবদ্ধ ছিলো বাস্তবে নয়। আমার মন নিয়ে খেলেছেন মাত্র। আপনার স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আপনি আমার জন্য এক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ মানুষ।তাই পিছন পিছন এসে কথা বলবেন না দয়া করে। আমি কথা বলতে চাইনা।"
-"তুমি সেদিনের রাগের বশে বলা কথা গুলো এখনো ধরে আছো। একটা বার আমার রাগের কারণ খোঁজার চেষ্টা করোনি।সেসব কথা বাদ দাও।আমি তোমার সাথে একদিন কথা বলতে চাই।"
-"কী কথা বলবেন? আপনি আমাকে মিথ্যা মোহে বেঁধেছিলেন তার গল্প?নাকি আপনার বিবাহিত জীবন কতটা সুখে কাটছে তার গল্প?
-"প্লীজ অনু আমি তোমাকে মিথ্যে মোহে বাঁধিনী কখনো। তোমার চলে যাওয়ার একাকিত্ব আমি মানতে পারিনি।"
-"তাই বুঝি বিয়ে করে, একাকিত্ব মিটিয়েছেন?তা বেশ! ভালো করেছেন, আমার সাথে আপনার আর কী কথা?
-"বিয়ে করে নাও অনু!সুখে থাকবে।"
-"বিয়ে করবো না কখন বলেছি? অবশ্যই বিয়ে করবো।"
উনি কেমন চুপ করে গেলেন কথা খুঁজে পাচ্ছেন না হয়তো।তাই আমি আগ বাড়িয়ে বললাম।
-"আপনি চিন্তা করবেন না। আপনাকে আমি না ঘৃণায় রেখেছি আর না ভালোবাসায়। আপনার সাথে কখনো প্রেম ছিলো আমার, আমি সেটাই ভুলে গেছি। নিজেকে অপরাধী ভাববেন না।সব সময় হাসিখুশিতে থাকবেন।হাসি খুশিতেই আপনাকে মানায়। আপনি এখন ফিরে যান।"
-"আমাকে পারলে মাফ করে দিও অনু। তোমাকে ভালোবাসতে কোথাও না কোথাও হয়তো ভুল ছিলো আমার। তোমাকে হয়তো তোমার মতো করে ভালোবাসতে পারিনি।তাই হারিয়েছি। আমি দোয়া করি, তোমার জীবনে এমন কেউ আসুক যে, তোমাকে তোমার মতো করেই ভালোবাসুক। তুমি তার ভালোবাসায় সব সময় ভালো থেকো।"
-"মনে আছে আপনার? আপনাকে বলেছিলাম, আমার মা নেই, বাবা নেই, আমার কোন পরিবার নেই। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার মতো অসংখ্য কারণ নেই। আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ আপনি। আপনাকে ছাড়া যেহেতু বেঁচে থাকতে শিখেছি, তাহলে অবশ্যই ভালো থাকবো।তার জন্য আমার কারুর ভালোবাসার প্রয়োজন হবে না।আপনি আর আমার পেছনে হাঁটবেন না।"
উনি থেমে গিয়েছিলেন সেদিন, হয়তো কথা বলার মতো কিছু খুঁজে পাননি।
আমি একটু মৃদু হেসে হাঁটতে লাগলাম,আর অল্প একটু পথ পেরুলেই পাকা রাস্তা। পিছন ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করছে।এই সামান্য ইচ্ছে পূরণ করতে কোটি টাকা লাগবে না কিংবা কোন আয়োজন করতে হবে না। পিছন ফিরলেই ইচ্ছে পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু আমি পিছন ফিরে চাইলাম না। পিছনে আছে আমার আবেগী বয়সের মায়া। বর্তমানে একজন নারীর ভালোবাসা আর একজন মেয়ের আর্দশ পিতা। সুখী পরিবারের প্রধান কর্তা। আমি চিরদুখী। আমি চাইনা আমার দুঃখ চোখের নজর উনার জীবনে পড়ুক।
পুনশ্চঃ সেই ঘটনার ছয় বছর পর আমার কাছে একটি চিঠি এসেছে।চিঠিটি লিখেছে ইফতির মা।চিঠিটা ছিলো এমন।
প্রিয় অনু
তোমার দুঃখময় জীবনের সূচনা আমি। তারপরেও আমার জীবনে তার কোন প্রভাব ফেলোনি তুমি। তুমি চাইলে এক ইশারায় ইফতির বাবাইকে তোমার জীবনে নিয়ে নিতে পারতে। কিন্তু তুমি তা করোনি। আমি তোমার পরিচয় জানার পর থেকেই খুব অপরাধ বোধে ভুগী। আমার জন্য না তুমি সুখী হতে পারলে না ইফতির বাবাই আর না আমি।ইফতির বাবাইকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু প্রচণ্ড ভালোবাসি। উনাকে ছাড়া একটা নিঃশ্বাস নেওয়ার কথাও আমি ভাবতে পারি না। ছেড়ে থাকবো কীভাবে।উনার ভালোবাসাকেও কম মনে হয়,সব ভালোবাসা যেনো তোমার জন্য তুলে রাখা, যেটুকু পাই তা উনার দায়িত্ব আর তোমার দেওয়া করুণা মনে হয়।ইফতির বাবাইও সুখী নয়, তোমার একাকিত্বময় জীবনের জন্য নিজেকে দায়ি মনে করেন। তুমি অনেক সুখী হয়ে তোমার অভিশাপ থেকে আমাদের নাম দুটি কেটে দিও প্লীজ!
ইতি
তোমার করুণার পাত্রী।
আমি চিঠিটা পড়া শেষে। সম্পূর্ণ বেখেয়ালে বলে ফেললাম,ভালো থাকুন অন্য কারুর ভালোবাসায়। দুঃখ নামের ছায়া না পড়ুক আপনার জীবনে। আমিও নাহয় ভালো থাকবো ফাইলে চোখ বুলানোর তাড়ায়।
#ফেইসবুক থেকে কপিকরা
#ভালো থাকুন অন্য কারুর ভালোবাসায়
#লিখনীতে কপি পেস্ট করা
K F C প্রতষ্ঠাতার জীবনী
* মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান
* ১৬ বছর বয়সে স্কুল থেকে ঝড়ে পড়েন
* ১৭ বছরের মাথায় মোট ৪ বার চাকরী হারিয়েছিলেন
* ১৮ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন
* ১৯ বছর বয়সে তিনি বাবা হন
* ২০ বছর বয়সে তার স্ত্রী তাঁকে ফেলে রেখে চলে যায় আর কন্যা সন্তানটিকেও নিয়ে যায় সাথে
* সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং সেখানে ব্যর্থ হন
* ইনস্যুরেন্স কোম্পানীতে যোগদান করেন এবং সেখানেও সফলতার দেখা পান নি
* নিজের মেয়েকে নিজেই অপহরণ করতে গিয়েছিলেন এবং সেখানেও ব্যর্থ হন
* চাকরী নিয়েছিলেন রেললাইনের কন্ডাকটর হিসেবে, সুবিধে করতে পারেন নি
* অবশেষে এক ক্যাফেতে রাধুনীর চাকুরী নেন
* ৬৫ বছর বয়সে তিনি অবসরে গিয়েছিলেন।
* অবসরে যাবার প্রথম দিন সরকারের কাছ থেকে ১০৫ ডলারের চেক পেয়েছিলেন।
* তাঁর কাছে মনে হয়েছিল জীবন তাঁর মূল্যহীন
* আত্মহত্যা করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
* এরপর একটী গাছের নিচে বসে জীবনে কি কি অর্জন করেছেন তাঁর একটা লিস্ট বানাতে শুরু করলেন।
* হঠাত তাঁর কাছে মনে হল জীবনে এখনো অনেক কিছু করবার বাকি আছে আর তিনি বাকি সবার চাইতে একটি জিনিসের ব্যাপারে বেশি জানেন- রন্ধনশিল্প
* তিনি ৮৭ ডলার ধার করলেন সেই চেকের বিপরীতে আর কিছু মুরগী কিনে এনে নিজের রেসিপি দিয়ে সেগুলো ফ্রাই করলেন।
* এরপর Kentucky তে প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেই ফ্রাইড চিকেন বিক্রি করা শুরু করলেন!
* জন্ম নিল KENTUCY FRIED CHICKEN তথা KFC র...
* ৬৫ বছর বয়সে তিনি দুনিয়া ছাড়তে চেয়েছিলেন আর ৮৮ বছর বয়সে এসে Colonel Sanders বিলিয়নার বনে গিয়েছিলেন।
* স্মরণীয় হয়ে আছেন KFC এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে!
-----হতাশ হবার কিছু নেই, আপনার হাতে এখনো অনেক সময় আছে বিলিয়নার হবার...শুধু চেষ্টাটি প্রয়োজন।
সংগীত
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
কিছু ইংরেজি ট্রান্সলেশন ফেইসবুক থেকে নেওয়া
১) সাতদিন যাবৎ বৃষ্টি হচ্ছে।- It has been raining for seven days.
২) সে সাতদিন যাবৎ বাসায় একা। He is alone at home for seven days.
৩) সাতদিন যাবৎ আকাশ মেঘলা।- The sky is cloudy for seven days.
৪) সে সাতদিন যাবৎ ঢাকায় ।- He has been in Dhaka for seven days.
৫) সে সাতদিন যাবৎ খুবই অসুস্থ্য।- He has been very ill for seven days.
৬) সে সাতদিন যাবৎ ঘুমাইতেছে।- He has been sleeping for seven days.
৭) সে সাতদিন যাবৎ রাস্তায়।- He has been on the road for seven days.
৮) সে সাতদিন যাবৎ বেড়াইতেছে।- He has been traveling for seven days.
৯) সে সাতদিন যাবৎ রান্না করতেছে।- He has been cooking for seven days.
১০) সে সাতদিন যাবৎ কান্না করতেছে।- She has been crying for seven days.
১১) সে সাতদিন যাবৎ হাসপাতালে।- He has been in the hospital for seven days.
১২) সে সাতদিন যাবৎ বইটি পড়ছে।- He has been reading the book for seven days.
১৩) সে সাতদিন যাবৎ বইটি লিখছে।- He has been writing the book for seven days.
১৪) সে সাতদিন যাবৎ কাজটি করছে।- He has been doing the work for seven days.
১৫) সে সাতদিন যাবৎ এই বাড়িতে আছে।- He has been in this house for seven days.
১৬) সে সাতদিন যাবৎ জ্বরে ভুগতেছে।- He is suffering from fever for seven days.
১৭) সে সাতদিন যাবৎ অংক করতেছে।- He has been doing math for seven days.
১৮) সাতদিন যাবৎ সুর্যের তাপ বাড়তেছে।- The heat of the sun has been shining for seven days.
১৯) সে সাতদিন যাবৎ ইংরেজি পড়তেছে।- He has been studying English for seven days.
রাসুল (সাঃ) কি উম্মি ছিলেন? উম্মি অর্থ কি? রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ ফেইসবুক
প্রশ্ন: রাসূল (ﷺ) কি উম্মী বা নিরক্ষর ছিলেন? উম্মী শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাই।
▬▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা:আরবী أُمِّيّ বা উম্মী শব্দের প্রসিদ্ধ অর্থ নিরক্ষর। আরবরা এই পদবীতে সুবিদিত।[তাফসীরে কুরতুবী,বাগভী] উম্মী শব্দের সাধারণ অর্থ হলোঃ যে ব্যক্তি লিখতে জানে না এবং কোন গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে পারে না। এ শব্দের দ্বারা যদি উম্মী নবী উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এর অর্থ হবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ( ﷺ)। কারণ তিনি লিখতে বা পড়তে পারতেন না। যা কুরআন-সুন্নাহর একাধিক দলিল দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (ﷺ) এর পড়াশোনা না জানা, এ ছিল এক বিরাট মু‘জিযা। কারণ তাঁকেই আল্লাহ আয়াত পাঠকারী এবং কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা দানকারী বানিয়ে দেন।(সূরা আলে ইমরান ১৬৪;সূরা জুম‘আহ্ ২)। আসমানের নিচে কুরআনই একমাত্র ইলাহী গ্রন্থ, যা তাওরাত ইত্যাদির ন্যায় ফলকে লিপিবদ্ধ আকারে দুনিয়াতে আসেনি। বরং সরাসরি উম্মী নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। সাথে সাথে মুহাম্মাদ (ﷺ)-ই একমাত্র নবী, যিনি পবিত্র কুরআনে النَّبِيُّ الْأُمِّيُّ বা ‘নিরক্ষর নবী’ হিসাবে অভিহিত হয়েছেন। (সূরা আ‘রাফ ৭/১৫৭, ১৫৮)। কুরআন আল্লাহর কালাম হওয়ার এটাও একটি বড় প্রমাণ যে, যার মুখ দিয়ে দুনিয়াবাসী বিজ্ঞানময় কুরআন শুনেছে, তিনি নিজে ছিলেন ‘উম্মী’ অর্থাৎ নিরক্ষর ব্যক্তি এবং মানুষ হয়েছিলেন নিরক্ষর সমাজে। (সূরা জুম‘আ ৬২/২)। এমনকি আল্লাহ বলেন, وَمَا كُنْتَ تَتْلُو مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتَابٍ وَلاَ تَخُطُّهُ بِيَمِيْنِكَ إِذًا لاَرْتَابَ الْمُبْطِلُوْنَ ‘আর তুমি তো এর আগে কোন বই পড়োনি এবং স্বহস্তে কোন লেখাও লেখোনি, যাতে বাতিলপন্থীরা সন্দেহ করতে পারে।’ (সূরা আনকাবূত ২৯/৪৮)। তিনি অন্যত্র বলেন, مَا كُنْتَ تَدْرِيْ مَا الْكِتَابُ وَلاَ الْإِيْمَانُ ‘তুমি জানতে না কিতাব কি বা ঈমান কি?’ (সূরা শূরা ৪২/৫২)। তাই কুরআনের ভাষা ও বক্তব্যে নিজের থেকে যোগ-বিয়োগ করার সকল প্রকার সন্দেহের তিনি ঊর্ধ্বে ছিলেন। সূরা আরাফের ১৫৭ ও সূরা জুম'আ ২নং আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুটি পদবী ‘রাসূল’ ও ‘নবী’ এবং এর সাথে সাথে তৃতীয় একটি বৈশিষ্ট্য ‘উম্মী’ উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস বলেন, أمّي ‘উম্মী’ শব্দের অর্থ হল নিরক্ষর। যে লেখা-পড়া কোনটাই জানে না। [তাফসীরে বাগভী] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও বলেছেন, “আমরা নিরক্ষর জাতি। লিখা জানি না, হিসাব জানি না।”(সহীহ বুখারী: ১০৮০ মিশকাত,১৯৭১)। অপর বর্ননায় এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রীলের সাথে দেখা করলেন। তিনি বললেন, হে জিব্রীল! আমি এক নিরক্ষর উম্মাতের কাছে প্রেরিত হয়েছি। এদের মধ্যে আছে প্রবীণা বৃদ্ধা, প্রবীণ বৃদ্ধ, কিশোর-কিশোরী। এমন ব্যক্তিও আছে যে কখনো লেখাপড়া করেনি। জিব্রীল বললেন, হে মুহাম্মাদ! (এতে ভয় নেই) কুরআন সাত রীতিতে (পড়ার অনুমতি নিয়ে) নাযিল হয়েছে। (তিরমিযী ২৯৪৪, সহীহ ইবনু হিববান ৭৩৯, আহমাদ ২১২০৪, ২১১৩২, নাসায়ী ৯৪১, আবূ দাঊদ ১৪৭৭, সহীহ আল জামি‘ ৭৮)। সাধারণ আরবদেরকে এ কারণেই কুরআন أمِّيِّنَ বা নিরক্ষর জাতি বলে অভিহিত করেছে যে, তাদের মধ্যে লেখা-পড়ার প্রচলন খুবই কম ছিল। কারও কারও মতে উম্মী শব্দটি ‘উম্ম’ শব্দের দিকে সম্পর্কযুক্ত করে বলা হয়েছে। আর উম্ম অর্থ, মা। অর্থাৎ সে তার মা তাকে যেভাবে প্রসব করেছে সেভাবেই রয়ে গেছে। কারও কারও মতে শব্দটি ‘উম্মত’ শব্দের দিকে সম্পর্কযুক্ত করে বলা হয়েছে। পরে সম্পর্ক করার নিয়মানুসারে ‘তা’ বর্ণটি পড়ে গেছে। তখন অর্থ হবে, উম্মতওয়ালা নবী। কারও কারও মতে, শব্দটি ‘উম্মুল কুরা’ যা মক্কার এক নাম, সেদিকে সম্বন্ধযুক্ত করে বলা হয়েছে। অর্থাৎ মক্কাবাসী। (তাফসীরে বাগভী সূরা আরাফ,১৫৭ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)
.
উম্মী শব্দের বিভিন্ন অর্থ থাকলেও বিখ্যাত এবং প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে যে, উম্মী অর্থ নিরক্ষর। যদিও নিরক্ষর হওয়াটা কোন মানুষের জন্য প্রশংসনীয় গুণ নয়; বরং ক্রটি হিসাবেই গণ্য। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জ্ঞান-গরিমা,তত্ত্ব ও তথ্য অবগতি এবং অন্যান্য গুণবৈশিষ্ট্য ও পরাকাষ্ঠা সত্বেও উম্মী হওয়া তার পক্ষে বিরাট গুণ ও পরিপূর্ণতায় পরিণত হয়েছে। কারণ, শিক্ষাগত, কার্যগত ও নৈতিক পরাকাষ্ঠী যদি কোন লেখাপড়া জানা মানুষের দ্বারা প্রকাশ পায়, তাহলে তা হয়ে থাকে তার সে লেখাপড়ারই ফলশ্রুতি, কিন্তু কোন একান্ত নিরক্ষর ব্যক্তির দ্বারা এমন অসাধারণ, অভূতপূর্ব ও অনন্য তত্ত্ব-তথ্য ও সূক্ষ্ম বিষয় প্রকাশ পেলে, তা তার প্রকৃষ্ট মু'জিযা ছাড়া আর কি হতে পারে? পবিত্র কুরআনে একাধিকবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উম্মী বলা হয়েছে। একই বিষয় কিছুটা ব্যাখ্যা আকারে উপস্থাপিত হয়েছে অন্য আয়াতে। আল্লাহ বলেন,وَمَا كُنتَ تَتْلُو مِن قَبْلِهِ مِن كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ “আপনি তো এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় ডান হাত দ্বারা কোনো কিতাব লিখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।”(সুরা আনকাবুত : ৪৮)
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় রঈসুল মুফাচ্ছীরীন বা মুফাচ্ছীরদের সরদার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেনঃ كان نبيكم صلى الله عليه وسلم أميا لا يكتب ولا يقرأ ولا يحسب“তোমাদের নবী (ﷺ) ছিলেন উম্মী। তিনি লিখতেন না,পড়তেন না,গণনা করতেন না।”[তাফসির কুরতুবি ; সুরা আনকাবুত : ৪৮]। ইমাম কাতাদাহ ও ইমাম মুজাহিদ একই মত পোষণ করেছেন।(তাফসির তাবারি ; সুরা আনকাবুত : ৪৮)
ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ قد لبثت في قومك يا محمد من قبل أن تأتي بهذا القرآن عمرا لا تقرأ كتابا ولا تحسن الكتابة، بل كل أحد من قومك وغيرهم يعرف أنك رجل أمي لا تقرأ ولا تكتب “(আল্লাহর কথার অর্থ হচ্ছে) হে মুহাম্মদ (ﷺ), আপনি কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনার কওমের নিকট জীবনের বড় অংশ পার করেছেন। আপনি কোনো বই-পুস্তক পড়েননি, লিখেননি। বরং আপনার কওমের এবং বাইরের প্রত্যেক ব্যক্তি জানে যে, আপনি উম্মী। আপনি পড়েন না, লেখেন না।”(তাফসির ইবনে কাসির ; সুরা আনকাবুত : ৪৮)
তাফসির আল জালালাইনে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,নিরক্ষর হওয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর একটি বড় শ্রেষ্ঠত্ব ও বড় মােজেজা। আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নবুয়ত সপ্রমাণ করার জন্য যেসব সুস্পষ্ট মােজেজা প্রকাশ করেছেন, তন্মধ্যে তাঁকে পূর্ব থেকে নিরক্ষর রাখাও অন্যতম। তিনি লিখিত কোনাে কিছু পাঠ করতে পারতেন না এবং নিজে কিছু লিখতেও সক্ষম ছিলেন না। এ অবস্থায়ই জীবনের চল্লিশটি বছর তিনি মক্কাবাসীদের সামনে অতিবাহিত করেন। তিনি কোনাে সময় কিতাবধারীদের সাথেও মেলামেশা করেন নি যে, তাদের কাছ থেকে কিছু শুনে নেবেন। কারণ মক্কায় কোনাে কিতাবধারী বাস করত না। চল্লিশ বছর পূর্তির পর হঠাৎ তার পবিত্র মুখ থেকে এমন কালাম উচ্চারিত হতে থাকে, যা বিষয়বস্তু ও অর্থের দিক দিয়ে যেমন ছিল মােজেজা তেমনি শাব্দিক বিশুদ্ধতা ও ভাষালঙ্কারের দিক দিয়েও ছিল অতুলনীয়। (তাফসীরে জালালাইন,৫ খণ্ড, ১৪ পৃষ্ঠা সূরা আনকাবুত,৪৮)
বস্ত্ততঃ মুহাম্মাদ (ﷺ) ব্যতীত দুনিয়াতে এমন কোন নবী আসেননি, যার পবিত্র যবান দিয়ে সরাসরি আল্লাহর কালাম বের হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি শেষনবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর শ্রেষ্ঠত্বের একটি বড় দলীল ও একটি বড় মু‘জেযা। মানছূরপুরী বলেন, খ্রিষ্টানদের সকলে এ বিষয়ে একমত যে, তাদের চারটি ইনজীলের একটিও মসীহ ঈসার উপরে আল্লাহর পক্ষ হতে সরাসরি নাযিল হয়নি। বরং এগুলি স্ব স্ব লেখকদের দিকে সম্পর্কিত। উক্ত প্রসিদ্ধ চারটি ইনজীল হল, মথি (إِنْجِيلُ مَتَّى), মুরকুস (مُرْقُس), লূক (لُوقَا) এবং ইউহান্না (يُوحَنَّا)। এগুলির পবিত্রতার পক্ষে খ্রিষ্টানদের যুক্তি হল এই যে, এগুলি পবিত্র রূহ মসীহ ঈসা (আঃ)-এর সাহায্য নিয়ে লেখা হয়েছে। তাদের এ দাবী যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে চারটি ইনজীলের পরস্পরের মধ্যে এত গরমিল কেন? যেগুলির বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে খৃষ্টান পন্ডিতগণ চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি আদম ক্লার্ক, নূরটিন ও হারূণ প্রমুখ খ্রিষ্টান বিদ্বানগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এই যে, ইনজীলগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের কোন সুযোগ নেই। পাদ্রী ফ্রেঞ্চ স্বীকার করেছেন যে, ইনজীলগুলির মধ্যে ছোট-বড় ৩০ হাযার ভুল রয়েছে। কথা হলো, চারটি ইনজীলের মিলিত পৃষ্ঠা সংখ্যা একশ-এর বেশী হবে না।' (রহমাতুল্লিল আলামীন ৩/২৭৩)। অথচ তার মধ্যেই যদি ত্রিশ হাযার ভুল থাকে, তাহলে বিশুদ্ধ কতটুকু আছে? আর ঐসব বইয়ের গ্রহণযোগ্যতাই বা কি? একেই তো বলে ‘সাত নকলে আসল খাস্তা’। খ্রিষ্টান ধর্মনেতাদের এইসব দুষ্কৃতির প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ বলেন,فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ- ‘ধ্বংস ঐসব লোকদের জন্য, যারা স্বহস্তে পুস্তক রচনা করে। অতঃপর বলে যে, এটি আল্লাহর নিকট থেকে আগত। যাতে তারা এর মাধ্যমে সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে। অতএব ধ্বংস হৌক তারা যা স্বহস্তে লেখে এবং ধ্বংস হৌক তারা যা কিছু উপার্জন করে।’ (বাক্বারাহ ২/৭৯)।
.
নিজের জ্ঞানের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে বলেছেনঃ إِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا“আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” [সুনান ইবনে মাজাহ ; কিতাবুস সুন্নাহ]। তাই অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন না হওয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য অমর্যাদাকর নয়। বরং এটি সায়্যিদুল মুরসালিন (ﷺ)-এর মহান এবং চিরস্থায়ী মুজিযার মধ্যে অন্যতম। যিনি কখনও একটি বাক্য লিখেননি, তিনি মানবজাতিকে মূর্খতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে জ্ঞানের আলোর দিকে নিয়ে গেছেন। রাসূল ( ﷺ) পড়াশোনা জানতেন না। এই মর্মে আরো দেখুন সূরা আলাক্ব ৯৬/১-৩ সহীহ বুখারী৩, ৩৩৯২, ৪৯৫৩, ৪৯৫৫, ৪৯৫৬, ৪৯৫৭, ৬৯৮২; মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০, আহমাদ ২৬০১৮,আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩)
.
উল্লেখ্য যে, যারা উম্মী দ্বারা ভিন্ন অর্থ করেন, তাঁরা প্রমাণ হিসেবে কিছু পত্র উপস্থাপন করেন এবং দাবী করেন যে, এগুলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিজের হাতে লেখা পত্র লিখেছেন। আবার কোনাে কোনাে আলেম প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, তিনি প্রথম দিকে নিরক্ষর ছিলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাঁকে লেখাপড়া শিখিয়ে দেন। প্রমাণ হিসেবে তাঁরা হুদায়বিয়া ঘটনার একটি হাদীস উদ্ধৃত করেন, যাতে বলা হয়েছে, সন্ধিপত্র লেখা হলে তাতে প্রথমে (আরবি) লিখিত ছিল। এতে মুশরিকরা আপত্তি তুলল যে, আমরা আপনাকে রাসূল মেনে নিলে এই ঝগড়া কিসের? তাই আপনার নামের সাথে রাসূলুল্লাহ শব্দটি আমাদের কাছে গ্রহণীয় নয়। লেখক ছিলেন আলী (রা.) রাসূলুল্লাহ ও তাকে শব্দটি মিটিয়ে দিতে বললেন। তিনি আদবের খাতিরে এরূপ করতে অস্বীকৃত হলে রাসূলুল্লাহ - নিজে কাগজটি হাতে নিয়ে শব্দটি মিটিয়ে দিলেন এবং তদস্থলে (আরবি) লিখে দিলেন। এ রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ নিজে লিখে দিয়েছেন বলা হয়েছে। এ থেকে তারা বুঝে নিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ - লেখা জানতেন। কিন্তু সত্য এই যে, সাধারণ পরিভাষায় অপরের দ্বারা লেখানােকেও “সে লিখেছে" বলা হয়ে থাকে। আর সেই হাদীসে রাসূলুল্লাহ শব্দটি কাটতে আলী (রাঃ) অপারগতা প্রকাশ করলে তখন রাসূল (ﷺ) বলেন" জায়গাটি আমাকে দেখিয়ে দাও!" অতঃপর দেখিয়ে দেয়ার পরে তিনি নিজ হাতে তা কেটে দিলেন।এছাড়া যদি ধরে নেওয়া হয় রাসূল (ﷺ) কারো দেখানো ছাড়া নিজেই সেটি কেটেছেন তাহলে এটাও সম্ভবপর যে,এ ঘটনায় আল্লাহর পক্ষ থেকে মােজেজা স্বরূপ। এতদ্ব্যতীত নামের কয়েকটি অক্ষর লিখে দিলেই কেউ নিরক্ষরতার সীমা পেরিয়ে যায় না। লেখার অভ্যাস গড়ে না উঠা পর্যন্ত তাকে অক্ষর জ্ঞানহীন ও নিরক্ষরই বলা হবে। রাসূলুল্লাহ লেখা জানতেন- বিনা প্রমাণে এরূপ বললে তার কোনাে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয় না; বরং চিন্তা করলে দেখা যায় যে, নিরক্ষর হওয়ার মধ্যেই তার বড় শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন পত্র নিজ হাতে লিখেছেন বলে সরাসরি কোন প্রমাণ নেই। সাহাবীদের মধ্যে যারা কাতিব বা লেখক বলে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পত্র লিখতেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পত্রের নিচে সীলমোহর করে দিতেন। একইভাবে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাতিব সাহাবীদেরকে নির্দেশনা দিয়ে দিতেন। তাঁরা নির্দেশনা অনুযায়ী আয়াত লিপিবদ্ধ করতেন। যত পত্র, যত সন্ধি, যত চুক্তি, যত ফরমান সবই এভাবে লেখা হয়েছে পাশাপাশি :ما مات رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قرأ وكتب রাসূল (ﷺ) পড়া-লেখা না শিখে মারা যাননি।’ মর্মে বর্ণিত আসারটি মওযূ বা জাল।(সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৪৩)।মহান আল্লাহ সবাইকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুক আমীন। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
______________________,,,,,.....।
অন্য রকম বউ এর গল্প কিছু কথা কিছু হাসি ফেইসবুক থেকে নেওয়া
আমি কখনোই বউকে মার্কেটে নিয়ে যেতে পছন্দ করতাম না।
বিয়ের পরপর দুই তিনবার বোধহয় যাওয়া হয়েছিল। মার্কেটে এই দোকান থেকে ঐ দোকানে ঘোরাঘুরি ভালো লাগতো না। আমি টাকা দিতাম,সে কিনে আনতো। যখন বাচ্চারা হলো, তখনো আমি টাকা দিতাম,সে পছন্দ করে বাচ্চাদের জামা কাপড় কিনে আনতো।
বিয়ের বহু বছর পর, কাজ সেরে একবার বসুন্ধরা সিটি গেছি একটা জনপ্রিয় ইংরেজি মুভি দেখতে। মুভি আরম্ভ হতে কিছুটা দেরি হবে,আমি টিকিট কেটে ফুডকোর্টের এক কোনায় এককাপ কফি নিয়ে বসলাম টাইম পাস করার জন্য।
কফি খাচ্ছি, সামনের টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখি,আমার বন্ধু আরফান আর ওর বউ। আমি কফি হাতে নিয়ে ওদের টেবিলে গেলাম। আরফান আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরলো।
ওর বউকে বেশ উৎফুল্ল মনে হলো।
টেবিলের উপর অনেকগুলো ব্যাগ। বুঝা যাচ্ছে বেশ কেনাকাটা করেছে। আমি মজা করে বললাম, ভাবী, আরফানকে আজ ফতুর করে ছেড়েছেন, দেখছি!
ভাবী বললেন, না ভাই, আমি এতোকিছু কিনতে চাইনি, আপনার বন্ধু পছন্দ করে জোর করে কিনে দিয়েছে।
ভাবী একটা একটা করে ব্যাগ খুলে আমাকে দেখাতে লাগলেন। ভাবী একটা জিনিস দেখাচ্ছেন আর বর্ননা করছেন আরফান কীভাবে কোন জিনিসটা পছন্দ করেছে। তার খুশি উপচে উপচে পড়ছে!
আমি জিনিসপত্র দেখছি আর ভাবছি,আরফানের বউ কতো আগ্রহ নিয়ে তার জামাইয়ের পছন্দ করে কেনা জিনিস দেখাচ্ছে। আচ্ছা, আমার বউয়ের কী এমন ইচ্ছে করে ?
অনেকদিন পর আমার মনে হলো,আহা! কতদিন বউকে নিয়ে মার্কেটে আসা হয় না!
তারও নিশ্চয় ইচ্ছে করে করে স্বামীর হাত ধরে মার্কেটে ঘুরে বেড়াতে। সেও চায় তার স্বামী তাকে পছন্দ করে কিছু কিনে দিক। মুখে হয়তো কিছু বলে না।
আরফান আর তার বউ চলে গেছে।
আমি চুপচাপ খালি কফি মগ হাতে নিয়ে বসে আছি। নিজের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করতে লাগলো। মানিব্যাগ খুলে দেখলাম, বেশি টাকা নাই,তবে এটিএম কার্ড আছে।
মুভি দেখার টাইম চলে যাচ্ছে। আমার উঠা দরকার, উঠতে পারছি না।
আমি মোবাইলটা হাতে নিলাম, বউকে ফোন দিয়ে বললাম, তুমি বাচ্চাদের রেখে এক ঘন্টার মধ্যে আমার এখানে চলে আসতে পারবে? একটা সিএনজি নিয়ে চলে আসো।
বউ ভয় পাওয়া গলায় বললো,কী হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ করেনি তো?
আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, মনে হচ্ছে শরীর কিছুটা খারাপই হয়েছে। তুমি কি আসতে পারবে?
বউ কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, তুমি এখন কোথায়?
আমি বসুন্ধরা সিটির লেভেল এইটে আছি।
হায় আল্লাহ! তুমি ওখানেই বসে থাকো,আমি এক্ষুনি আসছি। আমি না আসা পর্যন্ত ওখান থেকে উঠবে না!
এক ঘন্টার কম সময়ে বউ এসে হাজির। সে এসেই আমার কপালে ঘাড়ে হাত বুলাতে লাগলো,জ্বর এসেছে কিনা যাচাই করার জন্য!
আমি হাসিমুখে বললাম, আমার কিছুই হয় নাই, আজ দুইজন মিলে একসাথে মুভি দেখবো,এজন্যই তোমাকে ফোন করে এনেছি। আগে এককাপ কফি খেয়ে ঠাণ্ডা হও।
তবুও তার উৎকন্ঠা যায় না, সে বারবার কপালে,বুকে হাত বুলাতে লাগল। ডাক্তার দেখাতে তাগাদা দিতে লাগল। লোকজন অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
আমি দুটো কফি অর্ডার করলাম।
বউ কফি খাচ্ছে আর আমার দিকে সন্দেহ নিয়ে তাকাচ্ছে। সে পরিস্হিতি বুঝার চেষ্টা করছে। এমন একজন মানুষকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করছে,যার সাথে সে পরিচিত নয়!
আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম।
লজ্জা গোপন করে হাসতে হাসতে বললাম, ভয় পাওয়ার কিছু নাই,তোমাকে খুন করার জন্য এখানে আনা হয় নাই। আমি জানি,তোমার নামে তোমার বাবা একটা জমি আলাদা করে রেখেছেন বাড়ি করার জন্য,এখন খুন করলে সেই জমি আমি পাবো না। তোমাকে খুন করলে আমার লস হয়ে যাবে। কফিটা আরাম করে খাও।
কফি খাওয়া শেষ করে বললাম, চল, মুভি দেখবো।
বউ অবাক হয়ে বলল, মাথা খারাপ! বাচ্চাদের বাসায় রেখে এসেছি না? আগে বললে বাচ্চাদের নিয়ে আসতাম!
আমি রোমান্টিক মুড নিয়ে বললাম, আরে দূর! বাচ্চাদের সামনে তোমার সাথে প্রেম করতে পারতাম নাকি!
বুড়ো বয়সে ভীমরতি কেন হলো, জানতে পারি?
জানি না,হঠাৎ প্রেম করতে ইচ্ছে হল,কাউকে না পেয়ে ভাবলাম,তোমাকেই ফোন করি!
আচ্ছা, তাহলে এই ঘটনা!
একটা শাড়ির দোকানে গিয়ে আমি নিজে একটা শাড়ি পছন্দ করলাম,যা আগে কখনোই করিনি। বউকে বললাম, দেখ তো শাড়িটা পছন্দ হয় কিনা!
বউ বলল, তুমি একটা জিনিস পছন্দ করে দিবে,আমার পছন্দ হবে না, তা কি হয়? কিন্তু তুমি আজকে এই দামী শাড়ি কিনছো কেন? বাসায় তো আমার প্রচুর শাড়ি আছে। ওগুলোই ঠিক মতো পরা হয় না। কোন অনুষ্ঠানে গেলে একটু আধটু পরি।
শাড়ি কিনে গেলাম কসমেটিক্সের দোকানে। তার পছন্দসই অনেক জিনিস কিনলাম। বাচ্চাদের জন্যও কিছু কেনাকাটা হলো। আগে তাকে নিয়ে দোকানে ঘুরতে বিরক্তি বোধ করতাম,আজকে সারাক্ষণ তার হাতটা ধরে রাখলাম।
কেনাকাটা করে খেতে গেলাম। সে খাচ্ছে আর গল্প করছে। আমার মনে হলো,বউ অনেকদিন আমার সাথে এতো আনন্দ নিয়ে গল্প করেনি। তার প্রতিটি কথায়, খুশি উপচে উপচে পড়ছে।
আনন্দিত মানুষের মুখ দেখাও আনন্দের।
নিজের অজান্তেই মন থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এল,হায়! জীবন থেকে অনেককিছুই মিস করে ফেলেছি, যা আমার হাতের মুঠোয় ছিল!
খাওয়াদাওয়া শেষ করে সে বাচ্চাদের জন্যও কিছু খাবার প্যাক করে নিলো।
সিএনজিতে উঠে বসে আমার একটা হাত চেপে ধরে রাখলো, যা আগে কখনো করেনি। তক্ষুনি আমার মনে হলো, আরে!বউয়ের ভালবাসা পাওয়া কতো সহজ! অথচ আমরা বেশিরভাগ পুরুষ তা নিতেই জানি না!!
এখন যে কোন অনুষ্ঠানে গেলে,বেশিরভাগ জায়গায় সে এই শাড়িটা পরে যায়,যদিও এরচেয়ে দামী শাড়ি তার আছে। শাড়ি নিয়ে কথা উঠলে সে গর্ব করে বলে,এটা আমার হাজবেন্ড পছন্দ করে কিনে দিয়েছে। আগ্রহ নিয়ে সে শাড়িটা অন্যকে দেখায়। আগে সে কখনোই এসব কথা বলতে পারতো না!
আগে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মার্কেটে নিয়ে যেতে চাইতাম না, এড়িয়ে যেতাম। এখন মন খারাপ হলেই বলি, চল মার্কেট থেকে ঘুরে আসি।, মন ভালো লাগবে।
এখন সে আগের মতো যেতে চায় না। সেই মন আর নাই।
মনে মনে ভাবি, যদি আগের জীবনটা ফিরে পেতাম, নিজেকে সংশোধন করে নিতাম।
তা যে হওয়ার নয়!
আমার মনে হয়,বিয়ের পর একটা মেয়ের গর্বের একমাত্র জায়গা হচ্ছে তার স্বামী। মা, বাবা, ভাইবোন বা অন্য আত্বীয় স্বজন নয়,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ব্যার্থ প্রেমের গল্প
ফেইসবুকে থেকে কপি করা,,,,
গল্পঃ ভাবি_যখন_বউ
পর্ব_০২
.
আমি এম্বুলেন্স এর পেছনের দরজাটা খুলে ভাইয়ার লাশটা বের করলাম, আম্মু আব্বু, ভাবি সবাই এগিয়ে আসলো।
আব্বুঃ কিরে এম্বুলেন্স কেন? আর এটা কার লাশ?
আমি কোনো কথা না বলে ভাইয়ার মুখের উপর থাকা সাদা কাপড়টা সরিয়ে দিলাম।
ভাইয়াকে দেখে আম্মু একটা চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়, বাবা এসে জড়িয়ে ধরে। ভাবি ঠাস করে বসে যায়।
অঝোর ধারায় সবাই কান্না করতে থাকে। এরপর ভাইয়ার কাফন দাপন শেষ হয়, আমি আর বাবা অনেক সময় ভাইয়ার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, বাবা বাসায় আসতে চায়নি। একসময় আমি জোর করে বাসায় নিয়ে আসি।
বাসায় আসার পর ভাবি আর আম্মু আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করে, আমিও নিষেধ করিনি।
আমি স্ট্রং ছিলাম, কারণ আমিও যদি ভেঙ্গে পড়ি ফ্যামিলির কেউই হয়তো ভালো থাকবে না।
সেদিন থেকে আমাদের পরিবারের মুখের হাসি টা উড়ে গেলো। ভাবি একদম স্তব্ধ হয়ে যায়।
ভাইয়া মারা যাওয়ার পর ফ্যামিলিতে ক্রাইসিস শুরু হয়, কারণ আগে ভাইয়ার টাকা দিয়েই সব খরচ হতো। আব্বুর দোকানটাও বিক্রি করে দিছে।
আর আব্বুর এখন যে অবস্থা তার দ্বারা কোনো কাজ করা পসিবল না। বাধ্য হয়ে আমি নেমে গেলাম জীবন যুদ্ধে।
অনার্স টা শেষ না করার কারণে ভালো কোনো চাকরি পাইনি,একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নিই।
আমার কাজ হচ্ছে বাজারের প্রত্যেকটা দোকানে গিয়ে কার কি মাল রাখবে সেটা লিখে এনে মাল গুলো আবার পৌঁছে দেওয়া। যাকে বলা হয় এস আর,,,
ভাইয়ার কথা খুব মনে পড়তো, কতো কষ্ট করে ভাইয়া টাকা ইনকাম করতো এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
বেতন ছিলো কম, মাত্র ৮ হাজার টাকা। যেটা দিয়ে ফ্যামিলি কোনোমতে চললেও আব্বু আম্মুর মেডিসিন কেনা প্রায় অসম্ভব।
তাই বন্ধুদের বলে কয়েকটা টিউশনি নিয়ে নিলাম।
সকাল ৬ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত আমার এই যুদ্ধ চলতে থাকে। নিজের পড়ালেখা প্রায় শেষ করেই দিলাম, কিন্তু ভাবিরটা কন্টিনিউ রাখলাম।
এরমাঝে ভাবির বাবা মা অনেক বার এসেছে আমাদের বাসায় ভাবিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আব্বু উনার হাত ধরে অনেক রিকুয়েস্ট করে ভাবিকে রেখে দেয়।
ভাবিকে এতো ভালোবাসতো যে অন্য কারো ঘরে পাঠানোর চিন্তাও আব্বু আম্মু করতো না।
সেদিন আমি কাজ শেষ করে টিউশনি করিয়ে বাসায় আসলাম, রুমে গিয়ে চেইঞ্জ করে নিলাম তখন বাবা আমার রুমে আসলো....
আমিঃ আরে আব্বু! আসো ভিতরে আসো।
বাবাঃ আমার পাশে বস,,,,
আমি গিয়ে বাবার পাশে বসলাম,,,, বাবা আমার হাত ধরে বললো....
বাবাঃ তোর খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনারে?
আমিঃ আরে ধুর এগুলো কি বলো?
বাবাঃ তোর জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি, তুই আমাদের মাফ করে দিস।
আমিঃ আব্বু তুমি কি পাগল হইছো, এগুলো কি বলো। আমার ফ্যামিলি আমি না দেখলে কে দেখবে? আর আমার কোনো কষ্ট হচ্ছে না।
বাবাঃ অবন্তীর বাবা আসছিলো।
আমিঃ হুম কি বললো?
বাবাঃ ওরে নিয়ে যেতে চায়, এভাবে নাকি দিন যায় না।
আমিঃ তুমি কি বললে?
বাবাঃ আমি তো বলে দিয়েছি আমি আমার মেয়েকে জীবনেও দিবো না।
আমিঃ ও আচ্ছা।
বাবাঃ বেয়াই যদি আবার আসে?
আমিঃ আসবে না, টেনশন করার দরকার নেই।
বাবাঃ তোর কাছে কিছু টাকা হবে? (করুনার সুরে)
আমিঃ এভাবে কেন বলো? কত টাকা লাগবে সেটা বলো।
বাবাঃ অবন্তীর বই নাই, বই কিনতে হবে তাই।
আমি মানিব্যাগ চেক করে দেখলাম মাত্র ৫৭৬ টাকা আছে, যেটা আমার পুরো মাসের পকেট ও যাতায়াত খরচ। এটা যদি দিয়ে দিই তাহলে পুরো মাস পায়ে হেটে কাজ করতে হবে।
ধুর এতো কিছু চিন্তা করে লাভ নেই, পুরো টাকাটা বাবার হাতে দিয়ে দিলাম।
বাবা টাকা হাতে নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে নিজের রুমে চলে গেলো।
পরেরদিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলাম কেননা আমাকে পায়ে হেটে যেতে হবে, গাড়ি ভাড়া নাই।
তাই তাড়াতাড়ি উঠে রওনা দিলাম। তারপরও অফিস পর্যন্ত যেতে ২০ মিনিট দেরি হয়। বস ইচ্ছা মতো ঝাড়ি দিলো। তারপর গত কালকে রে মাল গুলোর রিসিট কেটে নিয়ে আসছি সেগুলো দোকানে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা কভার ভ্যান নিয়ে রওনা দিলাম।
অন্য একজন ভ্যান চালাচ্ছে আমি পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। হাতে অনেক গুলো মালের সেম্পল,,,
একটা দোকানে মাল দিয়ে আসার পথে ভাবিকে দেখলাম অনেক গুলো মেয়ের সাথে, মনে হয় ক্লাস শেষ করে বাসায় যাচ্ছে। ভাবির চোখ দেখেই চিনে ফেললাম যে এটা ভাবিই হবে।
আমি তখন ভ্যান ঠ্যালতেছি। ভাবি আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আমি উনার চোখে স্পর্শ পানি দেখলাম। আমি ভাবিকে দেখেও না দেখার ভান ধরে চলে গেলাম।
এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছে। বাস্তবতা কি জিনিষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
আজকে শুক্রবার, চাকরি টিউশনি সব কিছুই বন্ধ। তাই ঘুমিয়ে আছি, অনেক দিন ধরে ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না।
ভাবি আমার রুমে আসলো,,,,
ভাবিঃ জুয়েল! এই জুয়েল,,,,
আমিঃ আরে ভাবি আপনি কখনো আসলেন?
ভাবিঃ এই তো একটু আগে, অনেক বেলা হইছে এবার ঘুম থেকে উঠো।
আমিঃ হুম উঠতেছি, আসলে শরীরটা কেমন যেন ব্যাথা করতেছে, তাই ঘুমটা একটু বেশিই হলো।
ভাবিঃ তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না?
আমিঃ আরে ধুর এগুলো কি বলেন, আমি তো সুন্দর লাইফ
কাটাচ্ছি। কোনো প্রবলেম হচ্ছে না।
ভাবিঃ আমি দেখেছি কেমন সুন্দর লাইফ কাটাচ্ছো।
আমিঃ আচ্ছা আপনার পড়ালেখার কি অবস্থা? (কথা ঘুরিয়ে নিলাম)
ভাবিঃ মোটামুটি তুমি আর পড়বে না?
আমিঃ দেখি কি করা যায়, কলেজে যাওয়ার মতো তো সময় নাই। পরীক্ষাটা দিবো। যদি কপালে পাশ লেখা থাকে তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ্,,,,
ভাবিঃ হুম, আসো খেয়ে নাও।
আমিঃ আপনি যান, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
তারপর ভাবি চলে গেলো, আমি ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম।
এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছিলো, এমন একটা লাইফ কাটাচ্ছি যেটাতে নিজের স্বাধীনতা বলে কিছু নাই। পরিবারের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে সব ত্যাগ করতে হয়।
একদিন খেয়াল করে দেখলাম মায়ের শাড়ি গুলো সব পুরাতন হয়ে গেছে, ভাবিও প্রতিদিন একটা ড্রেস গায়ে দিয়ে কলেজে যায়। বাবারও পাঞ্জাবি গুলোতে ময়লা জমে গেছে। ভাবির মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে ভেঙ্গে যায় এরপর আর মোবাইল নেয়নি। তারপর লজ্জায় আর আমাদের কাওকে বলেনি। সব কিছু মিলিয়ে সবারই অবস্থা খারাপ।
নিজের শখের জিনিষ গুলা বিক্রি করে দিলাম, হুম আমার কম্পিউটার, গিটার, হাতের ঘড়ি এবং শখের মোবাইলটাও বিক্রি করে দিলাম সবার অজান্তে।
তারপর আব্বু আম্মু আর ভাবিকে নিয়ে শপিং এ গেলাম। আব্বুর জন্য কয়েকটা লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর গেঞ্জি নিয়ে নিলাম। আম্মুর জন্য শাড়ি, ছায়া, ব্লাউজ আরো টুকটাক জিনিষ নিলাম।
ভাবিকে উনার পছন্দ মতো নিতে বললাম, উনি কয়েকটা থ্রি পিছ, জুতা, কিছু কসমেটিক্স নিলো।
.
.
আম্মু বললো.....
আম্মুঃ তোর জন্য কিছু নিবি না?
আমিঃ নাহ! আমার সব আছে। (মুছকি হাসি দিয়ে)
তারপর উনাদের বাইরে দাঁড়িয়ে রেখে আমি একটা মোবাইলের দোকানে গেলাম, আমার জন্য একটা নরমাল মোবাইল নিলাম আর ভাবির জন্য একটা স্মার্ট ফোন নিলাম।
তারপর উনাদের নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
রাতের বেলা সবাই আমার রুমে আসলো,,,,
আমিঃ কি ব্যাপার সবাই একসাথে?
আম্মুঃ কেন আসতে পারি না?
আমিঃ আরে আজব না পারার কি আছে? আসো,,,,,
সবাই এসে বসলো, আমি ব্যাগ থেকে ভাবির জন্য কেনা মোবাইলটা ভাবির হাতে দিলাম।
ভাবিঃ কি এটা?
আমিঃ মোবাইল আপনার জন্য নিলাম।
ভাবিঃ আমার তো এখন মোবাইলের কোনো দরকার নেই, টাকা নষ্ট করলে কেন?
বাবাঃ সত্যি করে বলতো তুই টাকা কোথায় পেলি?
আমিঃ আমার কাছে জমানো ছিলো।
আম্মুঃ মিথ্যা বলিস কেন? সত্যি করে বল টাকা কোথায় পাইছিস?
আমিঃ কম্পিউটার, গিটার আর মোবাইলটা বিক্রি করে দিয়েছি। (মাথা নিচু করে)
বাবাঃ কেন তোরে এগুলো বিক্রি করতে কে বলেছে?
আমিঃ তোমাদের সবার কাপড়চোপড় গুলো পুরাতন হয়ে গেছে, দেখতেই তো খারাপ লাগে। সেজন্য,,,,,
ভাবিঃ তাই বলে এগুলো বিক্রি করে দিবে?
আমিঃ আরে কোনো সমস্যা নাই, আমি এখন কম্পিউটার চালানোর মতো সময় পাই না। আর গিটার তো বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। এগুলো একটারও আমার দরকার নেই?
ভাবিঃ মোবাইল কেন বিক্রি করলে?
আমিঃ এতো দামি মোবাইলের কাজ নেই এখন, সারাদিন কাজে থাকি মোবাইল চালানোর সময় কই, আর মোবাইলের প্রতি এতো শখ নাই। একটা নরমাল হলেই চলবে।
কেউ আর কিছু বললো না, নির্বাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। সবার চোখে যে পানি চলে আসছে সেটা আমি ভালো করেই দেখছি।
কিছুদিন পর আমি শুয়ে আছি, সকাল ১০.০০ টার মতো বাজে,, সোফা রুমে চিল্লাচিল্লি শুনে তাড়াতাড়ি সেখানে গেলাম, গিয়ে দেখি তালোই মানে ভাবির বাবা আর মা এসেছে।
আমি গিয়ে সালাম দিলাম, কৌশল বিনিময় করে বাজারে গেলাম বাজার আনতে, কারণ মেহমান আসছে ভালোমন্দ কিছু না হলে খারাপ দেখা যায়।
আমি বাজার থেকে কিছু বাজার করে নিয়ে আসলাম। তারপর রান্না ঘরে দিয়ে আসলাম ভাবি আর মা রান্না করতেছে।
আমি গিয়ে উনাদের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলাম।
দুপুরবেলা খাওয়াদাওয়া করে সবাই সোফা রুমে গিয়ে বসলাম। আমি বসিনি আব্বু আম্মু আর ভাবির বাবা মা সবাই বসছে, মনে হয় কিছু বলবে। ভাবি দরজা পাশে ঘোমটা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পরই ভাবির আব্বু মানে আংকেল বললো....
আংকেলঃ দেখেন বেয়াই সাব যেজন্য আমরা আসছিলাম।
বাবাঃ জ্বি বেয়াই বলুন।
আংকেলঃ আমার মেয়েটার বয়স খুব একটা বেশি না। এই বয়সে সে বিধবা হয়ে যাবে কল্পনাও করিনি। যাইহোক আল্লাহর যা পছন্দ হয়েছে তাই করেছে। আমার মেয়েটা মাত্র দুইমাস জামাইয়ের সাথে ছিলো। তারপর কি হলো সেটা তো জানেন।
এখন কথা হচ্ছে ওর তো একটা ভবিষ্যৎ আছে, এভাবে তো আর তার জীবন চলবে না।
বাবাঃ তো এখন কি করতে পারি?
আংকেলঃ আপনাদের কিছু করতে হবে না, আমাদের মেয়েকে আমরা নিয়ে যাবো। ওর অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবো। এভাবে থাকলে তো আর হবে না।
বাবাঃ না বেয়াই এটা করবেন না, আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবেন না।
আংকেলঃ দেখেন আবেগ দিয়ে তো আর জীবন চলে না। বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।
হুম এটা ঠিক যে আমার মেয়ের কপাল অনেক ভালো, আপনাদের মতো শ্বশুর শাশুড়ি পেয়েছে। খুব কম মেয়েই এই রকম শ্বশুর শাশুড়ি পেয়ে থাকে। কিন্তু আপনারা তো আর ওর কিছু করতে পারবেন না। ওকি আপনাদের সাথে জীবন কাটাতে পারবে? আপনাদের ওতো বয়স হয়েছে। মরতে তো হবেই। আপনাদের কিছু হয়ে গেলে আমার মেয়েটার কি হবে?
ভাবি নির্বাক দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে আছে, না পারছে বাবার পক্ষে কিছু বলতে না পারছে শ্বশুরের পক্ষে কিছু বলতে।
বাবাঃ কিন্তু এখানে তো ওর কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সব ঠিকঠাক মতো আছে।
আংকেলঃ হুম সব আছে বাট স্বামী তো নাই। একটা মেয়ে কি এভাবে লাইফ কাটাতে পারে? আপনিই বলুন, আপনার মেয়ে হলে আপনি কি করতেন?
বাবাঃ..........(মাথা নিচু করে বসে আছে)
আংকেলঃ আমি জানি আপনি অবন্তীকে অনেক ভালোবাসেন, নিজের মতোই দেখেন। কিন্তু অবনন্তীকে আমরা আর এখানে থাকতে দিতে পারি না। অন্তত পক্ষে ওর বাবা হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।
বাবাঃ আমার মেয়ে আমার কাছেই থাকবে, আমি আমার মেয়েকে যেতে দিবো না।
আংকেলঃ আপনি এসব কি বলছেন?
বাবাঃ হুম, আমার এক ছেলে হয়তো আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু আরেকজন তো আছে, আপনি না অবন্তীকে বাইরে বিয়ে দিতে চেয়েছেন? বাইরে দেওয়ার দরকার নেই। আমার ছোট ছেলের কাছেই ওর বিয়ে দিবো। এবার তো আর বলতে পারবেন না যে আপনার মেয়ে বিধবা? ওর স্বামী নাই। এগুলো তো আর বলতে পারবেন না।
আমি বাবার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে উনার দিকে তাকালাম, এটা কেমনে হয়, এখনো আমি অবন্তীকে ভাবি ডাকি আর সে নাকি আমার,,,,
না এটা কিছুতেই সম্ভব না, আমার মাথা ঘুরতেছে। হঠ্যাৎ করে বাবা আমার দুহাত চেপে ধরে বলে.....
বাবাঃ প্লিজ বাবা, তুই না করিস না। তুই অবন্তীকে বিয়ে কর, আমার মেয়েকে আমার কাছে থাকতে দে। প্লিজ বাবা, আমার অনুরোধ টা রাখ। নাহলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না।
বাবার কথা শুনে আমি কি বলবো কিছুই বুঝতেছি না, আম্মুও করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আম্মুঃ জুয়েল! বাপ আমার প্লিজ না করিস না।
আমি বাবার হাত ধরে হ্যা সূচক মাথা নাড়ালাম। ভাবির দিকে তাকিয়ে দেখি উনি চোখ মুছতে মুছতে রুমে চলে গেলো।
ভাবির আব্বু বললো.....
আংকেলঃ বেয়াই (বাবাকে) আপনি মানুষ না, ফেরেশতা। একটা মানুষ এতো ভালো হয় কেমনে? আমি নিজেও জীবনে আমার মেয়ের জন্য এতোকিছু করিনি যেটা আপনি করলেন।
বাবাঃ আচ্ছা বেয়াই মশাই, বিয়েটা আজকেই হয়ে যাক। আমি কাজী ডেকে নিয়ে আসি।
আংকেলঃ আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আমার ছেলেকে আর ছেলের বউকে আসতে বলি। আর অবন্তীকে বাইরে নিয়ে গিয়ে সাজিয়ে আনার জন্য বলবো।
বাবাঃ আচ্ছা আমি বাজারে গেলাম।
কোনো রকম অনুষ্ঠান ছাড়াই বিয়েটা হয়ে গেলো। ভাবি কে আজকে একটু অন্যরকম সুন্দর লাগছে। প্রথম বিয়ের ছেয়েও বেশি, শুধু একটা জিনিষের অভাব। সেটা হচ্ছে মুখের হাসিটা।
ভাইয়ার সাথে যখন বিয়ে হয়েছিলো তখন ভাবির মুখে খুব সুন্দর হাসি ছিলো, আজকে সব আছে সেটাই নেই। হয়তো এমন কিছু হয়ে যাবে কল্পনাও করেনি।
তারপর..........
.
চলবে_কি??
.
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
অফিসে চাকরি করতে চান? তাহলে এক্সেলের এই ২০টি ফর্মুলা জানতেই হবে!
অফিসে চাকরি করতে চান? তাহলে এক্সেলের এই ২০টি ফর্মুলা জানতেই হবে! অফিসে এক্সেল এর কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় তখনই, যখন আপনি জানেন...
-
#কোমর থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ব্যথা: আসল কারণ কোথায়? স্নায়ুর লাইনে ব্যথা: Holistic approach কেন জরুরি- পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ব্যথা কেন হয়?...
-
✅ কাজের বুয়ার কাহিনীঃ আমাদের বাসার কাজের বুয়া (৫৪) মাসে ১৭ হাজার টাকা আয় করেন। উনি আমাদের বাসায় সকাল ৯ টায় আসার আগে একটা মেসে রুটি বানা...
-
🧪 বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) টেস্ট ফি তালিকা (২০২৫) 🩸 রক্ত ও হেমাটোলজি টেস্ট: ✅ CBC (OPD): ৩০০ টাকা ✅ CBC (IPD): ২০...