🍁জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বহুল ব্যবহৃত ২০টি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো। প্রতিটি ওষুধের কার্যকারিতা এবং লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে বর্ননা দিচ্ছি ~
### ১. একোনাইট (Aconite Napellus)
হঠাৎ কোনো রোগের শুরুতেই এই ওষুধটি জাদুর মতো কাজ করে।
ঠান্ডা বাতাস লেগে জ্বর বা সর্দি হলে এটি প্রথম পছন্দ।
অত্যধিক মৃত্যুভয় এবং অস্থিরতা এই ওষুধের প্রধান লক্ষণ।
গায়ের চামড়া গরম ও শুকনো থাকে কিন্তু প্রচুর পিপাসা থাকে।
অস্থিরতার কারণে রোগী এপাশ-ওপাশ করতে থাকে।
মধ্যরাতে বা সন্ধ্যার পর লক্ষণের বৃদ্ধি ঘটে।
আকস্মিক ভীতি বা আতঙ্কের পর অসুস্থতায় এটি বেশ কার্যকর।
নাড়ি অত্যন্ত দ্রুত এবং শক্ত অনুভূত হয়।
শরীরের যেকোনো জ্বালাপোড়া বা ব্যথায় এটি দ্রুত কাজ করে।
এটি সাধারণত রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রয়োগ করা হয়।
### ২. আর্নিকা (Arnica Montana)
যেকোনো ধরনের আঘাত বা থেঁতলে যাওয়ার জন্য এটি শ্রেষ্ঠ ওষুধ।
পড়ে গিয়ে চোট পাওয়া বা মচকানোর ব্যথায় এটি দারুণ কাজ করে।
রোগী মনে করে তার বিছানা খুব শক্ত এবং ব্যথায় কেউ ছুঁলে বিরক্ত হয়।
শরীরের কোথাও কালশিটে পড়লে এটি দ্রুত রক্ত চলাচলে সাহায্য করে।
অস্ত্রোপচারের পর বা প্রসবের পরবর্তী ব্যথায় এটি দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীর মেজমেজ করলে এটি উপকারী।
মাথায় আঘাত পাওয়ার পর অজ্ঞান হয়ে গেলে এটি জীবনদায়ী হতে পারে।
হৃৎপিণ্ডের পেশির দুর্বলতা বা হাইপারট্রফিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ব্যথার জায়গাটি কালচে বা নীলচে হয়ে গেলে এটি দ্রুত কাজ দেয়।
এটি বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ—উভয়ভাবেই ব্যবহারযোগ্য।
### ৩. বেলাডোনা (Belladonna)
হঠাৎ প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক জ্বরের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
রোগীর মুখমণ্ডল লাল হয়ে যায় এবং চোখ উজ্জ্বল দেখায়।
শরীরের উত্তাপ এত বেশি থাকে যে হাতে তাপ অনুভূত হয়।
মাথাব্যথা বা যেকোনো ব্যথায় দপদপানি অনুভূত হয়।
রোগী আলোর দিকে তাকাতে পারে না এবং শব্দ সহ্য করতে পারে না।
গলার ব্যথা বা টনসিলের সমস্যায় এটি দ্রুত আরাম দেয়।
প্রবল জ্বরের ঘোরে রোগী প্রলাপ বকতে পারে।
হঠাৎ আসে এবং হঠাৎ চলে যায়—এমন লক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়।
শিশুদের দাঁত ওঠার সময়ের জ্বরে এটি খুব ভালো কাজ করে।
শরীরের কোথাও লাল হয়ে ফুলে গেলে এটি প্রদাহ কমায়।
### ৪. আর্সেনিক অ্যাল্ব (Arsenic Album)
পেটের অসুখ বা ফুড পয়জনিংয়ের জন্য এটি একটি আদর্শ ওষুধ।
রোগীর প্রচণ্ড মৃত্যুভয় এবং মানসিক অস্থিরতা থাকে।
অল্প অল্প করে ঘনঘন পানি পান করার প্রবণতা দেখা যায়।
শরীরের যেকোনো নিঃসরণ বা ব্যথায় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া থাকে।
মাঝরাতের পর লক্ষণের বৃদ্ধি এই ওষুধের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
পচা মাছ, মাংস বা ফল খেয়ে পেট খারাপ হলে এটি কাজ করে।
ঠান্ডা খাবার খেলে পেটে ব্যথা বা বমি শুরু হতে পারে।
রোগী খুব দুর্বল বোধ করে কিন্তু অস্থিরতায় এক জায়গায় বসতে পারে না।
সর্দি বা হাঁপানির টান রাতে বেড়ে গেলে এটি উপকারে আসে।
আর্সেনিক অ্যালবাম শরীরের জীবনীশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
### ৫. রাস টক্স (Rhus Toxicodendron)
বর্ষাকালে বা বৃষ্টিতে ভিজে যদি শরীর ব্যথা হয় তবে এটি মহৌষধ।
রোগী স্থির হয়ে বসে থাকলে ব্যথা বাড়ে কিন্তু হাঁটলে কমে।
হাড়ের সংযোগস্থল বা লিগামেন্টের ব্যথায় এটি খুব কার্যকর।
জিহ্বার অগ্রভাগে লাল ত্রিকোণ চিহ্ন এই ওষুধের চেনার উপায়।
চর্মরোগে যদি ফোস্কা পড়ে এবং প্রচণ্ড চুলকানি থাকে তবে এটি দিন।
শরীরের জড়তা কাটাতে এবং পেশির প্রসারণে এটি সাহায্য করে।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় শরীর খুব শক্ত অনুভূত হয়।
এটি সাইটিকা বা বাতের ব্যথার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ওষুধ।
গরম সেঁক দিলে রোগী আরাম অনুভব করে।
স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় যেকোনো রোগের বৃদ্ধিতে এটি ব্যবহৃত হয়।
### ৬. ব্রায়োনিয়া অ্যাল্বা (Bryonia Alba)
শরীরের সামান্য নড়াচড়াতেই যদি রোগের বৃদ্ধি ঘটে তবে এটি দিন।
রোগী চুপচাপ শুয়ে থাকতে চায় এবং নড়লে কষ্ট বাড়ে।
অত্যধিক পিপাসা এবং বড় বড় ঢোক গিলে পানি পান করার ইচ্ছা।
জিহ্বা ও মুখগহ্বর সবসময় শুকনো থাকে।
বুকে ব্যথা বা শুকনো কাশির জন্য এটি দারুণ কাজ করে।
ব্যথার জায়গায় চাপ দিয়ে শুলে রোগী আরাম পায়।
মলত্যাগ খুব কঠিন এবং শুকনো গুটির মতো হয়।
মাথাব্যথা হলে মনে হয় মাথা ফেটে যাবে।
যেকোনো ঝিল্লি বা মেমব্রেনের প্রদাহে এটি খুব কার্যকরী।
ধীরে ধীরে রোগের আক্রমণ ঘটে এমন ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।
### ৭. নাক্স ভূমিকা (Nux Vomica)
অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত ওষুধের কুফল দূর করতে এটি সেরা।
পেট পরিষ্কার না হওয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় এটি ব্যবহৃত হয়।
অল্প অল্প মল ত্যাগের ইচ্ছা কিন্তু বারবার বেগ পাওয়া।
অতিরিক্ত কফি, মদ বা মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তিতে এটি কাজ করে।
রোগী খুব খিটখিটে মেজাজের এবং শীতে কাতর হয়।
খাওয়ার পরপরই পেটে ভারবোধ বা গ্যাস হলে এটি উপকারী।
যেকোনো ধরনের হজম প্রক্রিয়ার গোলযোগে এটি প্রাথমিক ওষুধ।
মানসিক পরিশ্রম যারা বেশি করেন তাদের জন্য এটি খুব ভালো।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মেজাজ খারাপ ও অস্বস্তি থাকে।
অনিদ্রাজনিত সমস্যায় এটি রাতে ঘুমের আগে ব্যবহার করা যায়।
### ৮. ইপিকাক (Ipecacuanha)
ক্রমাগত বমি বমি ভাব এবং বমির জন্য এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বমি হওয়ার পরেও অস্বস্তি বা বমি ভাব দূর হয় না।
জিহ্বা সবসময় পরিষ্কার এবং ভেজা থাকে।
পিপাসাহীনতা এই ওষুধের একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
গলায় গড়গড় শব্দ হওয়া কাশির ক্ষেত্রে এটি চমৎকার কাজ করে।
শিশুদের বদহজম বা পেটের অসুখে বমি থাকলে এটি দিন।
নাক দিয়ে বা শরীরের যেকোনো ছিদ্র দিয়ে উজ্জ্বল লাল রক্তক্ষরণ।
পেটের কামড়ানি বা আমাশয়ের ব্যথায় এটি বেশ কার্যকর।
বর্ষাকালে সর্দি-কাশির সাথে হাঁপানির টানে এটি দেওয়া হয়।
খাবার দেখলেই বা খাবারের গন্ধে বমি ভাব আসলে এটি কার্যকর।
### ৯. হিপার সালফার (Hepar Sulphur)
শরীরের কোথাও পুঁজ হওয়ার প্রবণতা থাকলে এটি দ্রুত কাজ করে।
রোগী ঠান্ডায় অত্যন্ত কাতর এবং খোলা বাতাস সহ্য করতে পারে না।
যেকোনো ছোট ক্ষত খুব দ্রুত পেকে যায় এবং ব্যথা করে।
ক্ষত স্থান থেকে পুরনো পনিরের মতো দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হয়।
গলার ব্যথায় মনে হয় যেন কোনো কাঠি ফুটে আছে।
প্রচণ্ড রাগী এবং খিটখিটে স্বভাবের রোগীদের জন্য এটি ভালো।
শরীরের চামড়া সামান্য কিছুতে ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে।
ঠান্ডা লাগলে কানে ব্যথা বা টনসিলের ব্যথায় এটি কার্যকর।
হালকা গরম কাপড় জড়িয়ে রাখলে রোগী আরাম বোধ করে।
এটি ফোড়াকে খুব দ্রুত পাকিয়ে দেয় অথবা শুকিয়ে ফেলে।
### ১০. ক্যানথারিস (Cantharis)
আগুনে পুড়ে গেলে বা গরম কিছু দিয়ে ছ্যাঁকা লাগলে এটি জাদুর মতো কাজ করে।
প্রস্রাবে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া এবং বারবার প্রস্রাবের বেগে এটি সেরা ওষুধ।
পুড়ে যাওয়া স্থানে ফোস্কা পড়া রোধ করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
যেকোনো ধরনের জ্বলুনি বা দাহ কমাতে এটি অতুলনীয়।
প্রস্রাবের সাথে রক্ত গেলে বা পুঁজ এলে এটি দ্রুত উপশম দেয়।
শরীরের চামড়া পুড়ে গিয়ে জ্বালাপোড়া করলে বাহ্যিকভাবেও লাগানো যায়।
পিপাসা থাকলেও পানি দেখলে বা পান করলে কষ্ট বাড়ে।
কিডনি বা মূত্রথলির প্রদাহে এটি চমৎকার কাজ করে।
পোড়া ব্যথার কারণে রোগী খুব ছটফট করতে থাকে।
সদ্য পুড়ে যাওয়া স্থানে এটি ব্যবহার করলে দাগ হওয়ার ভয় কম থাকে।
### ১১. লেডাম পল (Ledum Palustre)
মশা, মৌমাছি বা যেকোনো পোকামাকড় কামড়ালে এটি প্রাথমিক ওষুধ।
পেরেক বা সুচ ফুটে যাওয়ার ক্ষতে এটি টিটেনাস প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
শরীরের নিচের অংশ থেকে বাতের ব্যথা উপরের দিকে উঠলে এটি দিন।
আঘাতপ্রাপ্ত স্থান ঠান্ডা হয়ে যায় কিন্তু রোগী ঠান্ডা সেঁকেই আরাম পায়।
কালো বা নীল হয়ে যাওয়া চোখের চারদিকের কালশিটে দূর করে।
পায়ের গোড়ালি মচকানো বা হাড়ের ব্যথা সারাতে এটি খুব কার্যকর।
রক্তশূন্যতা এবং দুর্বলতার ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে।
কামড়ানোর জায়গায় যদি তীব্র চুলকানি বা লালচে ভাব থাকে।
পশু-পাখির কামড়ে ইনফেকশন রোধ করতে এটি প্রয়োগ করা হয়।
আঘাতের জায়গা শীতল অনুভূত হওয়া এর প্রধান লক্ষণ।
### ১২. পালসেটিলা (Pulsatilla)
নরম মেজাজের এবং ক্রন্দনশীল রোগীদের জন্য এটি প্রধান ওষুধ।
পিপাসাহীনতা এই ওষুধের সবচেয়ে বড় চেনার উপায়।
খোলা বাতাসে ঘুরলে বা ঠান্ডা লাগালে রোগী ভালো বোধ করে।
তৈলাক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর বদহজম হলে এটি দিন।
শরীরের যেকোনো নিঃসরণ ঘন, হলদেটে এবং যন্ত্রণাহীন হয়।
মেয়েরদের ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় এটি খুব ভালো কাজ করে।
ব্যথা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘনঘন যাতায়াত করে।
বন্ধ ঘরে থাকলে রোগীর শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি বাড়ে।
বিকেলে বা সন্ধ্যার পর রোগের বৃদ্ধি ঘটে।
মানসিকভাবে শান্ত প্রকৃতির মানুষের ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকর।
### ১৩. চায়না (Cinchona/China)
শরীরের তরল পদার্থ ক্ষয়ের কারণে দুর্বলতায় এটি মহৌষধ।
রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত ঘাম বা ডায়েরিয়ার পর দুর্বলতায় এটি দিন।
পেটে প্রচণ্ড গ্যাস হওয়া এবং পেট ঢোলের মতো ফুলে যাওয়া।
হজমে সমস্যা এবং কোনো খাবারই ঠিকমতো হজম না হওয়া।
মাথা ঘোরে এবং কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া এর লক্ষণ।
সামান্য ছোঁয়া লাগলে ব্যথা বাড়ে কিন্তু জোরে চাপলে ভালো লাগে।
পর্যায়ক্রমে জ্বর আসা বা ম্যালেরিয়া জ্বরের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।
অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দূর করতে এটি সাহায্য করে।
শরীর খুব ঠান্ডা হয়ে যায় কিন্তু রোগী বাতাস চায়।
অসুস্থতার পর দ্রুত বল ফিরে পেতে এটি ব্যবহৃত হয়।
### ১৪. স্পঞ্জিয়া (Spongia Tosta)
হঠাৎ দমবন্ধ করা শুকনো কাশির জন্য এটি সেরা ওষুধ।
কাশির শব্দ অনেকটা করাত দিয়ে কাঠ কাটার মতো মনে হয়।
রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে এটি দিন।
গরম খাবার বা পানীয় খেলে কাশিতে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়।
হৃৎপিণ্ডের সমস্যার কারণে শ্বাসকষ্টেও এটি কাজ করে।
গলগণ্ড বা থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় এটি ব্যবহৃত হয়।
বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হয় এবং কফ তোলা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
মাঝরাতের আগে কাশির বৃদ্ধি এই ওষুধের বৈশিষ্ট্য।
কন্ঠনালীতে জ্বালাপোড়া এবং শুষ্কতা অনুভূত হয়।
হাঁপানির টান বা শ্বাসরোধকারী কাশির জন্য এটি ঘরে রাখা জরুরি।
### ১৫. হাইপারিকাম (Hypericum)
স্নায়ু বা নার্ভের যেকোনো আঘাতের জন্য এটি প্রধান ওষুধ।
আঙুলের মাথায় চোট বা দরজায় আঙুল চাপা লাগলে এটি দিন।
মেরুদণ্ডে আঘাত লাগার পর তীব্র ব্যথায় এটি দারুণ কাজ করে।
ছিঁড়ে যাওয়া বা কেটে যাওয়া ক্ষত যেখানে প্রচুর স্নায়ু থাকে।
অস্ত্রোপচারের পর নার্ভের ব্যথা কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
ব্যথা নিচ থেকে উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে খিঁচুনি রোধ করতে এটি কাজ করে।
দাঁত তোলার পর বা মাড়ির ব্যথায় এটি বেশ কার্যকর।
এটি 'আর্নিকা'র মতো কিন্তু নির্দিষ্টভাবে স্নায়ুর ওপর কাজ করে।
পশু বা পোকামাকড়ের কামড়ে স্নায়বিক যন্ত্রণা কমাতে এটি দিন।
### ১৬. কলোসিন্থ (Colocynthis)
পেটে প্রচণ্ড মোচড়ানো ব্যথার জন্য এটি অসাধারণ ওষুধ।
রোগী ব্যথার সময় পেটের ওপর চাপ দিয়ে বা সামনের দিকে ঝুঁকে থাকে।
রাগের কারণে বা মানসিক ক্ষোভ থেকে পেট খারাপ হলে এটি কাজ করে।
ডান দিকের সাইটিকা বা স্নায়বিক ব্যথায় এটি ব্যবহৃত হয়।
পেটে গ্যাসের কারণে প্রচণ্ড অস্বস্তি ও কামড়ানি অনুভূত হয়।
গরম সেঁক দিলে বা জোরে চাপ দিলে ব্যথা কমে।
পাকস্থলী এবং অন্ত্রের পেশির খিঁচুনি দূর করতে এটি সাহায্য করে।
আমাশয়ের সময় পেট ব্যথায় এটি দ্রুত আরাম দেয়।
ফলমূল খাওয়ার পর পেট ব্যথায় এটি প্রয়োগ করা হয়।
এই ওষুধের রোগী ব্যথার যন্ত্রণায় খুব অস্থির হয়ে পড়ে।
### ১৭. কফিয়া ক্রুডা (Coffea Cruda)
অতিরিক্ত আনন্দের পর অনিদ্রা হলে এই ওষুধটি কার্যকরী।
মস্তিষ্ক খুব সজাগ থাকে এবং অনেক চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়।
ইন্দ্রিয়শক্তি অত্যন্ত প্রখর হয়ে যায় এবং সামান্য শব্দে কষ্ট হয়।
দাঁতে ব্যথা যা ঠান্ডা পানি মুখে রাখলে কমে যায়।
অতিরিক্ত কফি পান করার কুফল দূর করতে এটি ব্যবহৃত হয়।
মানসিক উত্তেজনা বা খবরের কারণে স্নায়বিক অস্থিরতা।
ঘুম আসলেও রোগী ঘুমাতে পারে না এমন অবস্থায় এটি দিন।
মাথাব্যথা মনে হয় যেন মাথায় কোনো পেরেক ঠুকছে।
নার্ভের যন্ত্রণায় রোগী পাগলের মতো হয়ে যায়।
শান্ত ও গভীর ঘুম ফিরিয়ে আনতে এটি সহায়তা করে।
### ১৮. ডিজিটালিস (Digitalis)
হৃৎপিণ্ডের ধড়ফড়ানি বা নাড়ির গতি খুব ধীর হলে এটি দেওয়া হয়।
একটু চলাফেরা করলেই মনে হয় হার্ট বন্ধ হয়ে যাবে।
লিভারের সমস্যার কারণে জন্ডিস হলে এটি ভালো কাজ করে।
মল সাদাটে বা মাটির মতো রঙের হলে এটি নির্দেশিত হয়।
বুকে ভারী বোধ এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এর লক্ষণ।
হৃৎপিণ্ডের ভালভের সমস্যায় এটি টনিক হিসেবে কাজ করে।
প্রস্রাব পরিমাণে খুব কম এবং বারবার বেগ পাওয়া।
রোগীর চেহারা নীলচে বা ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে।
ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে রোগী জেগে ওঠে।
এটি ব্যবহারের সময় অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
### ১৯. সাইলেসিয়া (Silicea)
শরীরের ভেতর আটকে থাকা কোনো কাঁটা বা কাঁচ বের করতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
পুঁজ বের করা এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সারাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
রোগী খুব শীতে কাতর এবং মাথায় সব সময় কাপড় রাখতে চায়।
হাতের তালু এবং পায়ের তলায় অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম হয়।
যেকোনো চর্মরোগ যা সহজে সারতে চায় না তাতে এটি কার্যকর।
শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি ঠিকমতো না হলে এটি দেওয়া হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্যের এমন অবস্থা যেখানে মল বেরিয়ে আবার ঢুকে যায়।
এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
দাঁতের গোড়ায় পুঁজ বা ফোড়া হলে এটি দ্রুত কাজ করে।
ধীরস্থীর কিন্তু জেদী স্বভাবের রোগীদের জন্য এটি উপযোগী।
### ২০. ইউফ্রেসিয়া (Euphrasia)
চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং চোখের প্রদাহে এটি মহৌষধ।
চোখ লাল হয়ে যায় এবং জ্বালাপোড়া করে।
চোখের সাথে নাক দিয়ে সর্দি ঝরে কিন্তু নাকের সর্দি ত্বকে ক্ষত করে না।
চোখ থেকে যে জলীয় পদার্থ বের হয় তা ঘন এবং ঝাজালো হয়।
আলোর দিকে তাকালে চোখে প্রচণ্ড অস্বস্তি ও পানি আসা।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা আঠা দিয়ে লেগে থাকা।
এটি সর্দি-কাশির সাথে চোখ জ্বলার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে।
চোখে বাইরের কিছু পড়লে বা আঘাত লাগলে এটি ব্যবহৃত হয়।
শিশুদের চোখ ওঠার সমস্যায় এটি নিরাপদ ও কার্যকর।
বাহ্যিকভাবে চোখ ধোয়ার জন্য এর লোশন ব্যবহার করা যায়।
🚫 Respect Original Creation
কপি করলে কপিরাইটের ঝুকি থাকে।
নিরাপদ থাকতে শেয়ার করে রেখে দিন।
🩺Dr.Md.Forhad Hossain
D.H.M.S(B.H.B),DHAKA
Pdt(Hom)
Consultant:Homoeopathic Medicine
Helpline:01955507911