এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

নদীয়ার সন্দেশ বরিশালের ব্র্যান্ড -----

 * নদীয়ার সন্দেশ

বরিশালের ব্র্যান্ড

-----

.


ঘটনাটি ষাটের দশকের। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায় আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে প্রথম পরিচয় হয়েছিল সাদা ধবধবে এক ধরনের মিষ্টির সঙ্গে। কিছুটা নরম, আকৃতিগত দিক থেকে এবড়ো-থেবড়ো। সেই মিষ্টিতে মন ভরেছিল সতীশ চন্দ্র দাসের। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া গ্রামের নিজ এলাকায় ফিরে এসে তৈরি করলেন নদীয়ার সেই সন্দেশ। সঙ্গে স্হানীয় উপকরণ ও পদ্ধতি ব্যবহার করা হলো। নামকরণ করা হয় গুঠিয়ার সন্দেশ।

দূর থেকে দেখতে শিউলি ফুলের মতো। নতুন এই সন্দেশ বাজারজাতকরণে তিনি সঙ্গে নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী বন্ধু বাদশা হাওলাদারকে। ১৯৬২ সালে তারা দুজনে নতুনভাবে উৎপন্ন সন্দেশ বিক্রি করে সাড়া ফেলে দেন। সতীশ ও বাদশা দুজনের কেউই এখন আর বেঁচে নেই। কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ গুঠিয়ার সন্দেশ বরিশাল অঞ্চলে বিখ্যাত। রীতিমতো বরিশালের ব্র্যান্ড। গুঠিয়ার গ্রাম্য হাটের জৌলুস কমেছে, পাশের বিশাল খালটি তার নাব্য হারিয়েছে। কিন্তু সন্দেশের বাজার আজও জমজমাট। প্রতিদিন দেশ ও দেশের বাইরের ভোজনরসিকরা এই মিষ্টান্নের স্বাদ পেতে ছুটে আসেন গুঠিয়ায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার পেলে সেখানেও বাজিমাত করবে গুঠিয়ার সন্দেশ। 


বাঙালির খাদ্যপণ্যের তালিকায় সন্দেশ নতুন নয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য কৃত্তিবাসী রামায়ণ এবং চৈতন্যের কবিতায় সন্দেশের উল্লেখ রয়েছে।

সন্দেশ সাধারণত নরম ও লঘুপাকের হয়। কিন্তু গুঠিয়ার সন্দেশ ঠিক তার উল্টো, কড়াপাকের। এজন্য গুঠিয়ার সন্দেশ হয় কিছুটা শক্ত ও শুষ্ক। অন্যসব জায়গায় ক্ষীর সন্দেশ, সরপুরি, সাদা সন্দেশ, গুড়ের সন্দেশ, পোড়া সন্দেশের মতো হরেক নামে সন্দেশ পেলেও গুঠিয়ার সন্দেশ প্রধানত এক পল্লার ও দুই পল্লার। দুই পল্লার সন্দেশকে ডাকা হয় জোড়া সন্দেশ নামে।

গুঠিয়া বাজারে এখন মাত্র সাতটি সন্দেশের দোকান চালু রয়েছে। এরমধ্যে মাহিয়া মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী টিটুল হাওলাদার জানান, প্রতিদিন যত মানুষ এই বাজারে মিষ্টান্ন নিতে আসেন তার আশি ভাগই সন্দেশ নিতে আসেন। সন্দেশ শুধু নিজে খান এমন না, স্বজনদের জন্যও নিয়ে যান। দেশের বাইরেও অনেকে নিয়ে যান।

এই দোকানের কর্মচারী মিন্টু হাওলাদার বলেন, গুঠিয়ার সন্দেশ তৈরিতে কোনো ধরনের ভেজাল দ্রব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা গুণগত মান ঠিক রেখেই সন্দেশ বিক্রি করি। তিনি আরও বলেন, গুঠিয়ার সন্দেশের চাহিদা দেশ ও দেশের বাইরে অনেক। কিন্তু দুধ ও চিনির দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে আর আগের দামে সন্দেশ বিক্রি করতে পারছি না। তার ওপর আয়কর অফিস আমাদের ওপর বিনা কারণেই বাড়তি কর ধার্য করছে।

আরেক কারিগর শ্যামল চন্দ্র বলেন, আমার পূর্বপুরুষ ছিলেন সতীশ চন্দ্র দাস। তিনি যে পদ্ধতিতে সন্দেশ তৈরি করতেন আমরা এখনো সেভাবেই তৈরি করে থাকি। এজন্যই গুঠিয়ার সন্দেশের সঙ্গে দেশের আর কোনো জায়গার সন্দেশ মিলবে না। আমরা খাঁটি দুধ ও চিনি ব্যবহার করি। তিনি আরও বলেন, খাঁটি পণ্য বিক্রি করায় সম্প্রতি ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সরকার আমাকে পুরস্কৃত করেছেন। সরকার আশ্বস্ত করেছে ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য হিসেবে এই সন্দেশ তারা আন্তর্জাতিকভাবে বাজারজাত করবে। সেই সুযোগ পেলে গুঠিয়ার সন্দেশ নিঃসন্দেহে বিশ্ব বাজারও জয় করবে। বর্তমানে প্রতি কেজি সন্দেশ সাতশ টাকা বিক্রি হচ্ছে। 


এই সন্দেশ সুস্বাদু ও মানসম্পন্ন হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। তবে এর উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা না থাকায় সবাই এই মিষ্টি প্রস্তুত করতে পারেন না। প্রতিদিন ৫০০ কেজির বেশি চাহিদা থাকলেও উৎপাদন অর্ধেকের চেয়েও কম।



সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

সৈয়দ মুজতবা আলী / ওমর খৈয়ামের কবিতার ভাবানুবাদ,,,,,,,,

 জন্মদিনে স্মরণঃ  ও ম র  খৈ য়া ম


"রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে

প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে

বই, সে তো অনন্ত যৌবনা।"


[ সৈয়দ মুজতবা আলী / ওমর খৈয়ামের কবিতার ভাবানুবাদ





  ]


গিয়াসউদ্দিন আবুল ফাতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল খৈয়াম নামটি যেমন বড়, ঠিক তেমনি এ নামের মানুষটি অনেক বড় বড় কাজ করে গেছেন। হ্যাঁ, ওমর খৈয়ামের কথাই বলা হচ্ছে।


তিনি একইসাথে একজন দার্শনিক, কবি, গণিতজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিদ। রসকষহীন গণিত নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। আবার তিনিই লিখেছেন মধুর সব কবিতা। চতুষ্পদী কবিতার সেই অমর সংকলন ‘রুবাইয়াৎ’। 


আধুনিক বীজগণিতের ভিত্তি তৈরি হয়েছে তাঁর হাতে। কাজ করেছেন ইউক্লিডীয় জ্যামিতি নিয়েও। ভূগোল, বলবিদ্যা, খনিজবিজ্ঞান, আইন, এমনকি সঙ্গীতও বাদ যায়নি তাঁর জ্ঞানপিপাসার তালিকা থেকে। জীবনের শেষ দিকে এসে হয়েছেন শিক্ষক; শিক্ষাদান করেছেন ইবনে সিনার দর্শন ও গণিত বিষয়ে। তিনি সত্যি অসাধারণ, অতুলনীয়, অনুপম; তিনি ওমর খৈয়াম।


তাঁর বাবা ইব্রাহিম খৈয়াম ছিলেন বিখ্যাত চিকিৎসক। তাঁর মায়ের নাম জানা যায় না। 


ওমর খৈয়াম ভাগ্যবানই ছিলেন বলা চলে। কারণ তিনি ইসলামের স্বর্ণযুগে জন্মগ্রহণ করেন। সে যুগে ইসলাম ছিল সকল ধরনের গোঁড়ামি, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা বিবর্জিত। আর মুসলমানরাও ছিল মুক্তমনা ও জ্ঞানপিপাসু। 


ওমরের বাবা ইব্রাহিমও তেমনই একজন মুসলিম ছিলেন, যিনি ছেলের জন্য জরাথ্রুস্টর ধর্মে বিশ্বাসী এক শিক্ষক বামান্যর বিন মারযবানকে নিয়োগ দেন। এই বামান্যরই কিশোর ওমরকে গণিত, বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ে শিক্ষা দেন। 


১০৬৬ সালে, অর্থাৎ যে বছর ওমর আঠারো বছরের কিশোরে পরিণত হন, সে বছরই তাঁর পিতা এবং শিক্ষক উভয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পিতা এবং পিতৃতুল্য শিক্ষকের মৃত্যুতেও ভেঙে না পড়ে সংসারের হাল ধরেন তিনি। 


১০৬৮ সালে তিনি সমরখন্দে চলে আসেন। সেখানে তিনি তাঁর বাবার বন্ধু ও সে শহরের গভর্ণর আবু তাহিরের অধীনে কাজ শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই ওমরের অসাধারণ গাণিতিক জ্ঞান দেখে তাঁকে সরকারি অফিসে চাকরি দেন তাহির। এর কয়েক মাস পরই ওমর রাজার কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। এই সময়ে তিনি বীজগণিত চর্চা করতে থাকেন।


বীজগণিত দিয়েই নিজের গবেষণা জীবন শুরু করেন খৈয়াম। ১০৭০ সালে তিনি তার জীবনের অন্যতম সেরা কাজ, ‘ডেমনস্ট্রেশন অব প্রবলেমস অব অ্যালজেবরা অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’ প্রকাশ করেন। 


ওমর খৈয়াম একজন অসাধারণ কবি ছিলেন। তাঁর ‘রুবাইয়াৎ’ পড়লে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। এটি একটি কবিতা নয়, শত শত কবিতার সংকলন। ইতিহাসবিদ সাঈদ নাফসির মতে, ‘রুবাইয়াতে’ প্রায় ২,০০০ চতুষ্পদী কবিতা আছে, যেগুলোর সব বর্তমানে পাওয়া যায় না। তবে সর্বনিম্ন সংখ্যাটিও বলে, ওমর প্রায় ১২০০ এর মতো চতুষ্পদী কবিতা লিখেছেন। তাঁর এই কবিতার সংকলন ১৯ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত অবহেলিতই ছিল। 


১৮৫৯ সালে এডওয়ার্ড ফিটজগেরাল্ড এই কবিতা সংকলনের ইংরেজি অনুবাদ ‘রুবাইয়াৎ অব ওমর’ প্রকাশ করলে ওমরের কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর কবিতাগুলো পশ্চিমা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। এমনকি তাঁর নিজ দেশের চেয়েও বেশি!


ওমর খৈয়ামের জীবনের অনেক দিকই আমাদের অজানা। তাঁর অনেক কাজও দুর্ভাগ্যজনকভাবে হারিয়ে গিয়েছে কালের স্রোতে। 


১১৩১ সালের ৪ ডিসেম্বর ওমর খৈয়াম তাঁর জন্মস্থান নিশাপুরে মৃত্যুবরণ করেন। 


দীর্ঘকাল তাঁর কবরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ১৯৬৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে তাঁর কবর খুঁজে পাওয়া যায় এবং তা নিশাপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সে স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। 


ওমর খৈয়াম ১০৪৮ খ্রিস্টাব্দের আজকের দিনে (১৮ মে) পারস্যের বিখ্যাত বাণিজ্যিক শহর নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন।


সাইপ্রেসের চোখ

 সাইপ্রেসের চোখ


পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত জায়গা।

এটি সাদা মরুভূমিতে আল-ফাররা ওয়েসিস এর উত্তরে অবস্থিত, এবং এটি একটি প্রাকৃতিক এবং তাজা জলের উৎস।

আইন আল সারু একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র কারণ এটি একটি ব্যতিক্রমী শান্ত পরিবেশে তার আকর্ষণীয় প্রকৃতি উপভোগ করে, এবং বিশ্বের তল ছাড়া এর দ্বারা কি বিখ্যাত

পানি শুকানোর আগ পর্যন্ত দিনে রাতে পানি পাম্প করে পানি বের হওয়া বন্ধ করা স্বাভাবিক

কিন্তু সাইপ্রেসের চোখের অদ্ভুত ব্যাপার হল এটি শুষ্ক থাকে যতক্ষণ না কোন প্রাণী, মানুষ বা পশু, তার কাছাকাছি আসে, তাই চোখের পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় যতক্ষণ না এটি পূর্ণ হয়, যাতে আপনি পান করতে পারেন, ধুয়ে নিতে পারেন এবং আপনার জন্য যা যথেষ্ট তা গ্রহণ করতে পারেন, এবং যখন আপনি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, এটি আবার শুকিয়ে যেতে শুরু করে যতক্ষণ না এটি ফিরে আসে যে এটি যেমন ছিল।

এই অদ্ভুত ঘটনা বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল যে এই অঞ্চলের পৃথিবী স্পঞ্জের মত এক বিশেষ ধরনের ভঙ্গুর এবং সংবেদনশীল নিয়ে গঠিত। পৃথিবীর অন্তস্থলে জলের জন্য সংরক্ষণ করা হয় এবং জীবিত জীব যখন তার উপর সংকুচিত হয় তখন জল সংরক্ষণ করা হয়। 

(কালেক্টেড)

মওলানা ভাসানী,,,,,,

 ...এই ছবির জন্ম কাহিনী বর্ণনা করে জনাব জহিরুল হক বলেনঃ পয়গাম কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন, মওলানা ভাসানীর ঊননব্বইতম জন্মদিন উপলক্ষে একটি বিশেষ সংখ্যা বের করার। এই বিশেষ সংখ্যার ছাপার জন্য বার্তা সম্পাদক সৈয়দ আসাদুজ্জামান ও আমি শিল্পাচার্যের কাছে যাই মওলানার একটি ছবির জন্য। সময়টা ১৯৭০-এর ডিসেম্বরের শেষদিকে।...আমাদের ড্রইংরুমে বসিয়ে বললেন, তোমাদের কথা দিয়েছি মওলানার ছবি এঁকে দিব কিন্তু কী আঁকবো, কীভাবে আঁকবো? আমার মনের মতো করে তাঁকে আমি কিছুতেই ক্যানভাসে আনতে পারছি না। আমি যতবার তাঁর ছবি আঁকতে চেষ্টা করেছি ততবারই আমার সামনে ভেসে উঠেছে ক্ষুধা, দারিদ্র, শোষণ, গর্কি, জলোচ্ছ্বাস, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, বিক্ষোভ, সংগ্রাম আর হাহাকার। 

জহিরুল হক বলেনঃ শিল্পাচার্যকে খুব অস্থির মনে হয়েছিল আমার। তাঁকে মনে হচ্ছিল তিনি যেন একজন মা। একজন মা তার শিশুকে জন্ম দেয়ার জন্য যেভাবে প্রখর যন্ত্রণায় কাৎরায়, ভিতরে জীবন আছে, সে জীবনকে তিনি উপহার দিতে চাচ্ছেন, ভিতরে প্রাণের স্পন্দন তিনি অনুভবও করেছেন, সেজন্য দুর্লঙ্ঘ পথ অতিক্রমের তীব্র আকাঙ্ক্ষাও আছে, কিন্তু কোথায় যেন আটকে যাচ্ছে সব উদ্যোগ.........কথাবার্তার এক ফাঁকে আমি বলেছিলাম, আপনার এই যে ভাবনা তার প্রেক্ষাপটেই আঁকুন না মওলানার ছবি।...আমার এই কথা সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিয়েছিলেন তিনি।...বললেন ২/৪ দিন পর এসো। গেলাম অবশেষে ১১ জানুয়ারি, ১৯৭১-এ। আমাদের হাতে তুলে দিলেন তাঁর ‘মওলানা ভাসানী’। ছবির দিকে তাকিয়ে বিস্ময় ও উত্তেজনায় কাঁপছিলাম আমি। মনে আছে ছবিটিকে গোল করে আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন শিল্পাচার্য। দেয়ার সময় বলেছিলেন ‘ছবিটি তোমাদের দিচ্ছি বটে তবে এঁকে তৃপ্তি পেলাম না। পরিপূর্ণভাবে মওলানা ভাসানীকে আমি ফোটাতে পারলাম না’। 

এই ছবির জন্য শিল্পাচার্য কোন পারিশ্রমিক নেননি। বর্তমানে ছবিটির মূল কপি আছে সন্তোষে সৈয়দ ইরফানুল বারীর কাছে। অবশ্য ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ছবিটি ছিল দীর্ঘদিন মাটির নিচে। ফলে একটা অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের জাতীয় জাদুঘরে এর একটা রিপ্রডাকশন আছে।   

[অতিশয় সংক্ষেপিত]

[জানা অজানা মওলানা ভাসানী; আবদুল হাই শিকদার]



বাংলার বাঘ,,,,,

 *বাংলার বাঘ*


স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় চাইতেন, প্রশ্নপত্র এমন ভাবে তৈরী হোক তাতে যেন মাঝারি মেধার ছাত্ররাও ভালো ফল করতে পারে। অধ্যাপকদের তিনি বলে দেন যে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অধ্যাপকদের বিদ্যে জাহির করার জায়গা নয়, প্রশ্নপত্র যেন মাঝারি মানের ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে করা হয়। আর সমস্ত প্রশ্নপত্রই আগে স্ক্রুটিনি করবেন তিনি, তারপর তা ছাপা হবে।


সেসময়, একদিন গণিতের পণ্ডিত অধ্যাপক গৌরীশঙ্কর দে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী করে নিয়ে গেলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। গৌরীশঙ্কর দে তার কাছে গিয়ে বললেন, ‘স্যার, অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী, যদি একটু দেখে দেন।’ আশুতোষ তার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে চোখ বুলিয়ে একটু গম্ভীর হলেন। তারপর মুখে ‘হুম’ শব্দ করে বললেন, গৌরীবাবু আপনার হাতে ঘন্টা আড়াই সময় আছে? 


গৌরীশঙ্কর দে কিছু না বুঝেই বললেন, ‘আজ্ঞে তা আছে, কেন স্যার?’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তখন গৌরীশঙ্কর দে’র জন্য কাগজ-কলমের ব্যবস্থা করে দেন। তখন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় গৌরীশঙ্কর দে’কে বললেন, ‘আমি স্নানটা সেরে আসি বুঝলেন, আপনি ততক্ষণে যে প্রশ্নপত্রটি তৈরী করেছেন তার অঙ্কগুলো বরং কষে ফেলুন। তারপরই আশুতোষ কাঁধে গামছা ফেলে চলে গেলেন স্নানে।’ কথা শুনে গৌরীশঙ্কর দে’ও অঙ্ক কষতে বসে গেলেন।


ঝাড়া আড়াই ঘন্টা বাদে তার সামনে এলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তখন পরীক্ষা হত আড়াইঘন্টার। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাকে বললেন, আড়াই ঘন্টা কিন্তু ওভার গৌরীবাবু। আপনার প্রশ্নপত্রের সব অঙ্ক কষে ফেলেছেন তো? গৌরীশঙ্কর দে বললেন, ‘না স্যার, দু’তিনটে এখনো বাকি আছে।’ 


এবার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় হেসে বললেন, ‘তাহলেই বুঝুন, নিজের তৈরী প্রশ্নপত্র আপনার মতো পণ্ডিত মানুষের যদি আড়াই ঘন্টা পার হয়ে যায়, অল্পমেধার ছাত্রছাত্রীরা পারবে কেমন করে? যান, বাড়ি গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় তাদের কথা মাথায় রেখে নতুন করে একখানা প্রশ্নপত্র তৈরী করুন।’


আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এমনি এমনি *স‍্যার* উপাধি পাননি, তিনি ছিলেন সত‍্যিকারের ছাত্রদরদী একজন সুশিক্ষক।🙏🏻



আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।

 আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভারতবর্ষের অধীনে থাকা বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৫৭২ টি ছোটবড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দ্বীপপুঞ্জ। চোখ ধাঁধানো সুনীল জলরাশি এবং তার সঙ্গে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য প্রতিটি ভ্রমণকারীর মন ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু এই আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেই রয়েছে অভিশপ্ত এক দীপ রস আইল্যান্ড। আসুন জেনে নিই এই রস আইল্যান্ড সম্পর্কে অজানা বিশেষ কিছু তথ্য।


আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৫৭২টি দ্বীপপুঞ্জ থাকলেও সেগুলির মধ্যে মাত্র ৩৮টি দ্বীপে মানুষের বসতি আছে। এখানকার চোখ জুড়িয়ে দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভিতরেই লুকিয়ে আছে অন্ধকার ইতিহাস এবং ভৌতিক অনুসর্গ।


এই দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম ছোট্ট একটি দ্বীপ রস আইল্যান্ড। ভারতবর্ষ এমনকি পৃথিবীর অন্যান্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য এই দ্বীপের নামকরণ হয়েছে স্যর ড্যানিয়েল রসের নামানুসারে। তিনি ছিলেন ভারতের ব্রিটিশ শাসকদের একজন বিশেষজ্ঞ জরিপকর্মী। পোর্টব্লেয়ার বন্দরকে পাহারা দেওয়ার কাজে তিনি এই দ্বীপকে চিহ্নিত করেন। স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ শাসনে এই দ্বীপই ছিল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের হেড কোয়ার্টার।


ড্যানিয়েল রসের পাশাপাশি এই রস আইল্যান্ড দ্বীপে আরো একজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য। তিনি হলেন আর্চিব্যাল্ড ব্লেয়ার। তিনিও ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক জরিপকর্মী। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নামে এই সমগ্র দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের নামকরণ করা হয়। তার আগে এর নাম ছিল পোর্ট কর্নওয়ালিস। কিন্তু এই ভূখণ্ডের থেকেও বেশি বাসযোগ্য ছিল রস আইল্যান্ড।


আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ছিল নৈসর্গিক দৃশ্য ও প্রতিকূলতার সহাবস্থানের আদর্শ একটি উদাহরণ। চরম প্রতিকূলতার জন্য এখানেই দ্বীপান্তরের জায়গা কেন্দ্র করা হবে বলে ঠিক করেন ব্রিটিশ শাসকরা। আন্দামানে ব্রিটিশদের পা পড়ার প্রায় ষাট বছর পরে সিপাহি বিদ্রোহের পরে বন্দিদের আনা হয় এখানে। ৭৭৩ জন বন্দিকে নিয়ে পোর্ট ব্লেয়ার পৌঁছন জেলর জেমস প্যাটারসন। 


তারও কিছুদিন পরে কলকাতা থেকে আন্দামানে পা রাখেন আরও ২০০ বন্দি। তাঁরা ছিলেন মূলত সিপাহি বিদ্রোহ এবং ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রতিবাদীরা। জেলর প্যাটারসনের নির্দেশে তাঁদের পাঠানো হয় রস দ্বীপে। নির্মম অত্যাচারের মধ্যে তাঁদের লাগানো হল বন কেটে বসতি স্থাপন তৈরির কাজে। নিজেদের থাকার ছাউনি থেকে সাহেবদের বাংলো তৈরি হতে লাগল অনাহারী এইসব বন্দিদের শ্রমে।


০.৩ বর্গকিমি আয়তনের এই রস দ্বীপ তখন ঘন বনে ঢাকা। জঙ্গল কেটে দ্বীপকে বাসযোগ্য করার বহু পরিশ্রমসাধ্য কাজ করতে হয়েছিল বন্দিদের। তখন ব্রিটিশ সাহেবরা ছিলেন জাহাজে। তাঁরা ডাঙায় পা রাখেননি।শাসনের কেন্দ্রবিন্দুকে মনের মতো করে সাজিয়েছিল ব্রিটিশরা। বিলাসবহুল বাংলো, বড় গির্জা, বলরুম, বেকারি থেকে শুরু করে সমাধিস্থান। সব জায়গাতেই ছিল আধিপত্যের ছোঁয়া। জীবনযাপনের সব প্রয়োজনকে এখানে বন্দিদের দিয়ে তৈরি করিয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসকরা ।


 দ্বীপান্তরে থাকা বন্দিদের যথেচ্ছ মৃত্যু হত ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া এবং পেটের অসুখে। সে সময় তাঁদের উপর কুইনাইন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতেন শাসকরা। শোনা যায় সে সময় দশ হাজার বন্দিকে জোর করে কুইনাইন খাওয়ানো হয়েছিল। এর ফলে তাঁরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। 


১৯৪১ সালে বিধ্বংসী এক ভূমিকম্প হয় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। কিন্তু তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি পোর্টব্লেয়ার বা রস আইল্যান্ডের ব্রিটিশ উপনিবেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দ্বীপপুঞ্জ অধিকার করে জাপানিরা। 


বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পরাজয়ের পরে আবার ক্ষমতায় ফেরেন ব্রিটিশরা। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদেরও ভারতবাসের সময় ক্রমশ শেষ হয়ে আসে।এর পর দীর্ঘদিন রস আইল্যান্ড পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ১৯৭৯ সালে এখানে কেন্দ্র তৈরি করে ভারতীয় নৌসেনা।


রস আইল্যান্ডের বাসিন্দা এখন একপাল হরিণ। বিশ শতকের গোড়ায় হরিণদের সেখানে রাখা হয়েছিল ব্রিটিশদের শিকার শিকার খেলার জন্য। সেই খেলা বন্ধ হয়েছে বহু দিন। দ্বীপের সবুজকে আশ্রয় করে অতীত কারাগারে নিভৃতবাস করছে হরিণের দল।


খুব সম্প্রতি ২০১৮ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই দ্বীপের নতুন নামকরণ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামানুসারে।এখন পর্যটকরা দেখতে যান দ্বীপ জুড়ে পড়ে থাকা ব্রিটিশ শাসনের কঙ্কাল। বুনো লতাপাতার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় ব্রিটিশ কমিশনারের অতীত বাংলো, গির্জা এবং নাম পরিচয়হীন অজস্র দেওয়াল।


অতীতের প্রাণস্পন্দনের সব চিহ্নকে নিয়ে প্রাণহীন হয়ে পড়ে আছে এই দ্বীপ। একথা বলা হয় অতীতের বন্দিদের আত্মা এখনও ঘুরে বেড়ায় পরিত্যক্ত জনপদের আনাচে কানাচে।


এলেই যখন, দুটো টাকা দিয়ে যাও’, 

 এলেই যখন, দুটো টাকা দিয়ে যাও’, বলে ঋত্বিক হাত বাড়ালেন। লজ্জায় মাথা নিচু করে সুচিত্রা বললেন ‘ছিঃ দাদা। এমন করে বলছেন কেন ? আমি কি দূরের কেউ ?’। বলেই কড়কড়া কয়েকটা ১০০টাকার নোট দিলেন ঋত্বিকের হাতে ...


সাদা রংয়ের একটা এ্যাম্বাসেডরের পিছের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছেন সুচিত্রা। তীব্র দাবদাহ, পুরা কলকাতা পুড়ছে। এ্যাম্বাসেডর পার্ক স্ট্রিটে ঢুকে একটু আগাতেই ফুটপাতে একজনকে দেখে সোজা হয়ে সিটে বসলেন সুচিত্রা। 


ড্রাইভারকে গাড়ি সাইড করতে বলে নিজেই নেমে এগিয়ে গেলেন সেই মানুষটার দিকে। এই কাঠফাটা গরমে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছেন স্বয়ং ঋত্বিক ঘটক। 


হাত জোর করে প্রণাম করতে করতে সুচিত্রা বললেন


– আমাকে চিনতে পারছেন ঋত্বিক দা ? আমি সুচিত্রা, গত বছর শান্তিনিকেতনে দেখা হলো।


চশমার উপর দিকে তাকিয়ে ভালো করে মুখটা দেখলেন ঋত্বিক, তারপরে বললেনঃ


– ও হ্যা। তুমি সুচিত্রা রায় তো ? টালিগঞ্জ বাড়ি। অন্নদাশঙ্কর রায় তোমার কী রকম জ্যাঠা হন না ? ঠিক বলেছি তো ?


সুচিত্রা আপ্লুত হলেন। কি সৌভাগ্য! এত বড় মানুষটা সব মনে রেখেছে। সুচিত্রা কলকাতার শিল্পপ্রেমী বনেদি পরিবারের মেয়ে, জন্মের পর থেকেই কলকাতার সব মহিরুহদের সামনে দেখে বড় হয়েছেন; ইদানিং প্রায়ই বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রবন্ধনিবন্ধ লেখেন। ঋত্বিক ঘটক এর মূল্য সে বোঝে। ঋত্বিক ঘটক কে মনে মনে গুরু মানে সুচিত্রা। 


ঋত্বিকদার পরনে ধুলিমলিন পাজামা-পাঞ্জাবি। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। এক মাথা এলোমেলো চুল। মুখে খোঁচা খোঁচা। সে মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম।এই জবুথবু অবস্থাতেও ঋত্বিকের চোখের আগুন একফোটা কমে নি, ঋত্বিক ঘটক মানেই এক আগুনের নাম। মেঘে ঢাকা তারা, কোমল গান্ধার, সুবর্ণরেখা-এসব ছবিগুলোয় যে আগুনের ছাপ স্পষ্ট।


সুচিত্রা খেয়াল করলেন ঋত্বিকের পিছনে একটা ব্যানারে বড় করে লেখা :


 “বাংলা দেশের শরণার্থীদের জন্য দান করুন।”। 


ব্যানারের পাশেই একটা বড় বাক্স, সেখানে রাস্তার মানুষ টাকা ফেলে যাচ্ছে। 


বাক্সের পাশেই লম্বা একটি টুল। তার ওপর গিটার হাতে এক বিদেশি তরুণ বসে আছে। গায়ের রং তামাটে, হিপিদের মতো লম্বাচুল, চোখে সানগ্লাস আর মুখ ভর্তি লালচে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পরনে ঢোলা বেলবটম প্যান্ট আর রঙ্গিন হাওয়াই শার্ট। মাথায় একটি সাদা রঙের সোলার হ্যাট। 


গিটার আর মাউথ অর্গান বাজিয়ে নাকি গলায় তরুণটি গাইছে:


"Come senators, congressmen

Please heed the call

Don’t stand in the doorway

Don’t block up the hall"


গানটা সুচিত্রার পরিচিত, কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলানের গান। ঋত্বিক তরুণকে দেখিয়ে বললেন, ও হল স্টিভ টার্নার। গায়ক ও সাংবাদিক। সপ্তাহ খানেক হল আমেরিকা থেকে এসেছে। স্টিভ-এর সঙ্গে কবি অ্যালান গিনসবার্গও কলকাতা এসেছেন।


স্টিভকে হ্যালো বলে কৌতুহলী সুচিত্রা জানতে চাইলেন গিনসবার্গ কোথায়। ঋত্বিক বললেন,অ্যালান আজ সকালে শক্তির সঙ্গে বারাসাত শরনার্থী শিবিরে গিয়েছে।


– শক্তি ? মানে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ?

– হ্যা। গতকাল অবধি টাকাপয়সা যা জমেছিল তা দিয়ে ওরা ওষুধ আর খাবার কিনে নিয়ে গেল ।


ঋত্বিক সুচিত্রাকে বললেন ‘এলেই যখন, দুটো টাকা দিয়ে যাও’, বলে ঋত্বিক হাত বাড়ালেন। লজ্জায় মাথা নিচু করে সুচিত্রা বললেন ‘ছিঃ দাদা। এমন করে বলছেন কেন ? আমি কি দূরের কেউ ?’। বলেই কড়কড়া কয়েকটা ১০০টাকার নোট দিলেন ঋত্বিকের হাতে। হঠাৎ করে ঋত্বিক সুচিত্রাকে প্রশ্ন করলেনঃ


– সুচিত্রা তুমি একসঙ্গে কত লাশ দেখেছ ? ১০০? ২০০? ৩০০? ৪০০? ৫০০? ৬০০? ৭০০? ৮০০? ৯০০?

এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই অদ্ভুত এক ঘোরলাগা নিয়ে সুচিত্রা আবার এ্যাম্বাসেডরে চড়ে বসলেন। 


যে ভূখন্ডের অসহায় মানুষের জন্য এই পাগলাটে মানুষটা  তীব্র তাপদাহে পুড়েছেন, কেঁদেছেন,চিৎকার করেছেন সেই ভূখন্ডে তো ঋত্বিকদা আর কখনোই ফিরে যাবেন না জেনেও। ঋত্বিকদারা পরিবারসহ ’৪৭ সালেই এ পাড়ে চলে এসেছেন । 


তবুও … এত বড় ফিল্ম ডিরেক্টর, ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়, যে ঋত্বিক ঘটককে জগদ্বিখ্যাত চলচ্চিত্রকারদের সঙ্গে তুলনা করা হয় সে মানুষটি কেমন নাওয়াখাওয়া ভুলে জ্বলন্ত ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলার শরণার্থীদের জন্য ভিক্ষে করছেন।


(ছবিতে: ঋত্বিক ঘটক ও রমেশ জোশী।)

(ফেইসবুক ওয়াল থেকে প্রাপ্ত)

সকাল ৭ টার  সংবাদ।  তারিখ: ২০-০৫-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭ টার  সংবাদ। 

তারিখ: ২০-০৫-২০২৪ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


সপ্তাহব্যাপী জাতীয় এসএমই মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ। 


মেট্রোরেল টিকেটে ভ্যাট আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  - জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ।


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথ অবলম্বনসহ আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সরকার - বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম শুরু - পণ্য বিক্রিতে গাফিলতি হলে ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর।


টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে আজ থেকে ৬৫ দিন দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। 


ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারে দুর্ঘটনা  - প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধার তৎপরতা  বিঘ্নিত। 


প্রথম দল হিসেবে টানা চার মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ শিরোপা জয় করলো ম্যানচেস্টার সিটি।

রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪

কনস্টান্টিনোপলের রক্ষাকবজ থিওডোসিয়ান প্রাচীরের পতন!

 কনস্টান্টিনোপলের রক্ষাকবজ থিওডোসিয়ান প্রাচীরের পতন!


21 বছর বয়সে, 1453 সালে, তরুণ মেহমেদ পূর্ব #রোম বাইজান্টাইনের রাজধানী #কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের চিন্তা করেন। কিন্তু এই চিন্তা তিনি ছাড়াও আরো অনেকে করেছিলেন তার আগে।তারা প্রত্যেকেই ব্যর্থ্য হয়ে ফেরে এক দুর্ভেদ্য দেয়ালের কাছে।আর তা হল কনস্টান্টিনোপলের চারদিকে ত্রী-স্তর বিশিষ্ট সু-উচ্চ #থিওডোসিয়ান প্রাচীর।

626 সালের আভার-পার্সিয়ান আক্রমণ , প্রথম এবং দ্বিতীয় আরব আক্রমণ, টমাস দ্য স্লাভের বিদ্রোহ , চতুর্থ ক্রুসেড , প্রথম ও দ্বিতীয় #উসমানীয় আক্রমণ, সবই আকটে দিয়েছিলো এই প্রাচীর, প্রায় এক হাজার বছর আগে নির্মিত স্থল প্রাচীরের ট্রিপল লাইন কখনও লঙ্ঘন করতে পারেনি কোন বাহিনী।


সুলতান মেহমেদের সময় এটি প্রায় 10,000 রোমান সৈন্য মোতায়েন ছিলো।


মেহমেদ জানত যে এই দেয়ালগুলিকে নামিয়ে আনতে তার সেনাবাহিনীকে এমন আকার এবং শক্তির অস্ত্রের প্রয়োজন হবে যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।আর এই কাজে তাকে সাহায্য করার জন্য তিনি পেয়ে গেলেন অরবান নামে একজন হাঙ্গেরিয়ান প্রকৌশলীকে।


অরবান আসলে প্রথমে বাইজেন্টাইনদের কাছে তার কামান প্রযুক্তি অফার করেছিলেন, কিন্তু অর্থসংকট আর তার #কামান প্রযুক্তির কার্যকারীতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় তারা তাকে ফিরিয়ে দেয়।


তাই তিনি পরবর্তিতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানীতে যান এবং সুলতান মেহমেদের সাথে দেখা করেন। তিনি সুলতানকে বললেন,

"আমাকে ব্রোঞ্জ এবং সোনা দিন, আমি আপনাকে এমন  কামান তৈরি করে দেব যা পৃথিবী আগে কখনও দেখেনি।"


মেহমেদ অরবানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি কি এমন কোন কামান তৈরি করতে পারবেন যা কনস্টান্টিনোপলের থিওডোসিয়ান দেয়ালকে নামিয়ে দেবে, এবং অরবান এই উত্তরে বলেছিলেন:

"আমি ওই নগরের দেয়ালগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছি। আমি আমার কামানের পাথর দিয়ে শুধু এই দেয়ালগুলোকে নয়, ব্যাবিলনের দেয়ালকেও ধূলিসাৎ করে দিতে পারি।"


তরুণ সুলতান তাকে বিশ্বাস করলেন এবং অরবান যা চেয়েছিলেন তার সবই তাকে দিয়েছিলেন। তিন মাস পরে, দানব কামানটি সম্পূর্ণ হয় এবং অরবান এটির নাম রাখেন; #ব্যাসিলিকা।


ব্যাসিলিকা ছিল তখন পর্যন্ত নির্মিত বৃহত্তম কামানগুলির মধ্যে একটি। এটি 10 মিটারেরও বেশি লম্বা এবং এত ওজনের ছিল যে এটিকে 60টি ষাঁড় এবং 400 জন লোকের একটি দলকে কনস্টান্টিনোপলের দেয়ালের দিকে টেনে নিয়ে যেতে এর সামনের জমি সমতল করে, খাদ এবং নদীর উপর সেতু




রবিঠাকুরের আদরের কণ্যা মাধুরীলতা দেবীর আজ ১৬/০৫/ ১০৬-তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

 রবিঠাকুরের আদরের কণ্যা মাধুরীলতা দেবীর আজ ১০৬-তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

      🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

মাধুরীলতা দেবী (বেলা) ঠাকুর। (জন্ম: ২৫ অক্টোবর ১৮৮৬—মৃত্যু: ১৬ মে ১৯১৮ সাল)। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রথম বাবা হওয়ার আনন্দে ভাসিয়েছিল যে শিশু মেয়েটি, তার নাম কবি রেখেছিলেন ‘মাধুরীলতা’, তার ডাক নাম ছিল ‘বেলা’।

মাধুরীলতা বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মৃণালিনী দেবীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তাঁর জন্মের সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ২৫ বছর। মৃণালিনীর তখনো ১৩ পূর্ণ হয়নি।

কবির একান্ত স্নেহের দুলালী মাধুরীলতা বা বেলা ছিলেন অপরূপ সুন্দরী ও বুদ্ধিমান। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মাসহ বাড়ির আর সবারই প্রিয় ছিলেন, সবার কাছ থেকেই প্রচুর আদর পেতেন বেলা।

বাবা রবীন্দ্রনাথ যখন জমিদারি পরিদর্শনের জন্য মহালে যেতে আরম্ভ করেন, মাধুরীলতার বয়স তখন বছর চারেক। তখন থেকেই তিনি বাবাকে চিঠি লিখতে শুরু করেন। জোড়াসাঁকোয় রচিত, কবির বিখ্যাত কবিতা, ‘যেতে নাহি দিব,–তে ‘কন্যা মোর চারি বছরের’ উল্লেখে স্পষ্টই, কবিতাটি মাধুরীলতার কথা মনে করেই লেখা। তাঁর কাবুলিওয়ালা গল্পের ‘মিনি’ চরিত্রটি সম্পর্কে তিনি নিজেই হেমন্ত বালা দেবীকে চিঠিতে লিখে জানিয়েছিলেন—

‘মিনি আমার বড় মেয়ের আদর্শে রচিত, বেলাটা ঠিক অমনি ছিল। মিনির কথায় প্রায় বেলার কথাই সব তুলে দিয়েছি।’

শুধু সৌন্দর্য বা বুদ্ধিতে নয়, বালিকা মাধুরীলতার স্বভাবও ছিল স্নেহশীল ও দয়ালু। আর কেবল মানুষের প্রতি নয়, কীট পতঙ্গ অবধি, মাধুরীলতার মমতা ও করুণা প্রসারিত ছিল। তা লক্ষ্য করে বাবা রবীন্দ্রনাথ ‘ছিন্নপত্রাবলী’র একটি চিঠিতে লিখেছিলেন—

‘বেলার মনটি ভারী দয়ালু। খোকা (রথীন্দ্রনাথ) সেদিন একটি পিঁপড়ে মারতে যাচ্ছিল দেখে বেলা নিষেধ করার কত চেষ্টা করল, দেখে আমার ভারী আশ্চর্যবোধ হলো, আমার ছেলেবেলায় ঠিক এ রকম ভাব ছিল, কীট-পতঙ্গকে কষ্ট দেওয়া আমি সহ্য করতে পারতুম না।’

সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের তীক্ষ্ণ মনোযোগ ছিল। এর জন্য প্রভূত ব্যয় করতেও তিনি কুণ্ঠিত ছিলেন না। মেয়ের জন্য তিনি ইংরেজির শিক্ষিকা রেখেছিলেন। মেয়েদের শিক্ষিকার কাছে তার দাবি ছিল, ইংরেজি ভাষার সঙ্গে সঙ্গে তাদের যেন পিয়ানো বাজানো ও সেলাই শিক্ষা দেওয়া হয়। লন্ডনে থাকাকালে ‘স্কট’ পরিবারের মেয়েদের শিক্ষা লাভের পদ্ধতি ও শিক্ষাক্রম দেখেছিলেন, নিজের কন্যাদের বেলায় সেই আদর্শ হয়তো তাঁর মনে প্রভাব ফেলেছিল।

গৃহশিক্ষিকা ও বাবার সযত্নে মাধুরীলতা মাত্র ১৩ বছরে এতটাই দক্ষতা অর্জন করেছিলেন যে, ইংরেজিতে কবিতা রচনা করতে পারতেন। ভাই রথীন্দ্রনাথের একাদশতম জন্মদিনে পনেরো ছত্রের একটি কবিতা উপহার দিয়েছিলেন যার শুরুটা ছিল—

Thin heart must be

As pure, As the, Lily that

Blooms on the tea,

মাধুরীলতার গৃহশিক্ষিকা ছিলেন মিস পার্সনস্, তিনি ছাড়াও লরেন্স ও মিস আ্যালজিয়োরের কথা জানা যায়।

১৯০০ সালের মাঝামাঝি, রবীন্দ্রনাথের কন্যা ‘বেলা’র বিয়ের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, তখনও তাঁর বয়স ১৪ পূর্ণ হয়নি।

কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর তৃতীয় ছেলে শরৎকুমার চক্রবর্তীর সঙ্গে ১০ হাজার ৫ টাকা যৌতুক দিয়ে মাধুরীলতার বিয়ে হয় ১৯০১ সালের ১১ জুন। শরৎকুমারের বয়স তখন ৩০। রবীন্দ্রনাথের থেকে ৯ বছরের ছোট ও মৃণালিনী দেবীর চেয়ে ৪ বছরের বড় তখন জামাতা শরৎকুমার। যৌবনে বিবাহের প্রবক্তা রবীন্দ্রনাথ কেন যে এত তাড়াতাড়ি কন্যাদের বিবাহ দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন, এটি তাঁর জীবনের একটি না–মেলা অঙ্ক। সে বিবাহ দিতে গিয়ে অনেক অপমান, লাঞ্ছনা ও আর্থিক ক্ষতি তাঁকে স্বীকার করতে হয়েছিল। কূলশীলের দিক দিয়ে শরৎকুমার বিশ্বকবির মেয়ের উপযুক্ত ছিলেন না বলে সে বিয়ে তাদের আত্মীয়স্বজনদের মনঃপূত হয়নি। এ জন্য অনেক আত্মীয়স্বজন সে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তৎকালীন সমাজবিরুদ্ধ এ বিয়ের জন্য কবিকে কিছু কিছু লাঞ্ছনাও ভোগ করতে হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের মেয়েদের মধ্য একমাত্র, মাধুরীলতারই বুদ্ধিচর্চার দিকে কিছুটা ঝোঁক ছিল। তাঁর লেখার হাতও ছিল ভালো। চমৎকার ছোট গল্প লিখতেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পাদিত নবপর্যায় বঙ্গদর্শনে মাধুরীলতার ‘সৎপাত্র’ গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাচীনপন্থী মুজফ্ফরপুর শহরে স্ত্রী শিক্ষা বিস্তারে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। স্বামীর বন্ধুদের নিজের হাতে নানারকম রান্না করে খাওয়ানো তার একটা বিশেষ শখ ছিল।

মা-ভাই–বোনের অকাল মৃত্যু মাধুরীলতাকে খুব অশান্ত করে তুলেছিল। শ্বশুরের টাকায় শিক্ষা সমাপ্ত করে শরৎকুমার বিলেত থেকে ফিরে এলে রবীন্দ্রনাথ মেয়ে জামাইকে তাঁর জোড়াসাঁকোর বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেন। সেখানে আগে থেকেই কবির কনিষ্ঠা কন্যা মীরা দেবী সপরিবারে বসবাস করতেন। দুই বোনের সম্পর্ক তখন থেকেই কোনো অজ্ঞাত কারণে তিক্ত হয়ে উঠে। দুই বোনের সম্পর্কের এতই অবনতি ঘটে যে, তিন বছর পর শরৎ ও মাধুরীলতাকে জোড়াসাঁকোর বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে উঠতে হয়। মাধুরীলতা বিশ্বাস করতেন, তাদের দুই বোনের মনোমালিন্য, ঝগড়াঝাঁটিতে বাবা রবীন্দ্রনাথ গোপনে কনিষ্ঠা কন্যা মীরা দেবীর পক্ষে থাকতেন। তখন থেকেই বাবার প্রতি তাঁর বিরূপতা জন্মে, সেই বিরূপতার রেশ তাঁর মৃত্যু অবদি ছিল। রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর আত্মীয়–অনাত্মীয়, পরিচিত–অপরিচিত গোটা দেশের মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যাননি শুধু তাঁর আদরের দুলালী মাধুরীলতা ও জামাই শরৎকুমার।

১৯১৭ সালে মাধুরীলতার ক্ষয়রোগ ধরা পড়লে রবীন্দ্রনাথ নিয়মিত কন্যাকে দেখতে গিয়েছেন, চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছেন। মেয়েজামাই পছন্দ করতেন না, তবু কবি কন্যার পাশে গিয়ে বসে থাকতেন।

নিঃসন্তান মাধুরীলতা ১৭ বছর শরৎকুমারের সঙ্গে সংসার জীবন কাটান। শ্বশুর রবীন্দ্রনাথকে উপেক্ষা করলেও শরৎ ও মাধুরীর বৈবাহিক জীবন ছিল মধুর। ৪৮ বছর বয়সে স্ত্রী বিয়োগের পর আবার বিয়ে করাই ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু শরৎ তা করেননি।

মাধুরীলতার স্মরণে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে মাধুরীলতা বৃত্তি প্রবর্তন করেন। পলাতকা কাব্যগ্রন্থের শেষ প্রতিষ্ঠা কবিতাটি কন্যার মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই লিখেছিলেন কবি—


এই কথা সদা শুনি ‘গেছে চলে-গেছে চলে’

তবু রাখি বলে

বলো না সে নাই

সে কথাটা মিথ্যা তাই

কিছুতেই সহেনা যে

মর্মে গিয়ে বাজে

মানুষের কাছ





নারীদের মাঝে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ স্বাভাবিক একটি ফিজিওলজিক্যাল প্রক্রিয়া

 নারীদের মাঝে ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ স্বাভাবিক একটি ফিজিওলজিক্যাল প্রক্রিয়া । অনেকেই ভাবেন সাদা স্রাব মানেই রোগ, আসলে বিষয়টি একেবারেই তা নয়। মা...