মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়েছেন কখনো?
কিংবা নিয়মগুলো জানা আছে?
প্রত্যেক মাঁ-বোনের জানা মহা-জরুরী।
❑ এটা অনেক ফজিলতপূর্ণ কাজ। আর বর্তমানে গ্রাম্য এলাকায় বেশিরভাগ এমন মানুষেরা গোসল করায়, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে যারা নিজেরাই পাক পবিত্রতার বিষয়ে বেখবর, ফরজ ইবাদতটুকুতেও নেয় সতর্কতা।
এজন্য এই গুরুত্বপূর্ণ গোসলের নিয়মটা আমাদের প্র্যাকটিসিং মুসলিমাহ বোনদেরসহ সকলের জেনে রাখা ভালো। যাতে করে আমরাও এ কাজে শরীক হতে পারি ইংশাআল্লহ।
⚰️ মুসলিম মৃত নারীকে গোসলের পর্ব - (১)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
১/ প্রয়োজনীয় উপকরণ,
২/ কার্যপদ্ধতি (এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ),
৩/ সতর্কতা।
কোন মৃত বাড়িতে আপনি দেখবেন, একদল মহিলা যারা যায় শুধু গসিপিং করতে। তারা বলে মুখের কাপড়টা সরাও তো- একটু দেখতে দাও।
কিছু কিছু বিষয় অসম্ভব কঠোর হতে হয়, এটা তার মধ্যে অন্যতম।
আপনি কিছুতেই মৃতের মুখের কাপড় সরাবেননা।
আপনি কঠোর হয়ে মৃতের মুখ ঢেকে রাখবেন।
⚰️ ডেডবডি রিলেটেড যারা আছে তাদের সাথে নিয়ে পর্দা এমন ভাবে ঢেকে দিবেন, যেন একটু ফাঁক ফোকরও না থাকে।
যাচাই করে নিবেন, মৃতের গোসল দেয়ার আগে আপনার সাথে গোসল দিতে সহায়তা কারীরা আপনার সমমনা কি না।
❑ শুরুতে ডেডবডি এমন ভাবে ধরতে হবে—
যেন সে ব্যথা না পায়। মৃত ব্যক্তির শরীরে তখন খুব ব্যথা।
মৃত্যু বড় কষ্টের।
ডেডবডি ধরলেই বোঝা যায় কে ভালো কে মন্দ।
ভালো অনুভব হলে বলবো - হে আরশের মালিক! আমাকেও এমন মৃত্যু দিয়েন।
খারাপ কিছু অনুভব হলে টু শব্দ ও করবোনা।
⚰️ যে ব্যক্তি কোন মৃত ব্যক্তিকে গোসল করাবে,
আল্লাহ তাকে চল্লিশ বারের বেশি ক্ষমা ঘোষণা করেছেন।
▪️যে মৃতের জন্য ঘর বানাবে—
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতে তার জন্য ঘর বানাবেন।
▪️যে মৃতের কাফন পরিয়ে দিবে—
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতে তাকে উত্তম পোশাক পরিধান করাবেন
❑ কি কি লাগবে?
▬▬▬▬▬▬▬▬☞
১/ চারটা বড় বালতি চার কোনায় রাখবো
২/ চারটা বড় মগ চারজন ধরবে
৩/ বড়ই পাতা বেজোড় সংখ্যায় লাগবে ৫/৭/৯টি
৪/ এক হাড়ি উষ্ণ গরম পানি
৫/ tooth pick - নখের কোনা পরিষ্কার করার জন্য
৬/ বাস্কেট দুইটা
৭/ খাটিয়া
৮/ কটন/তুলা
৯/ কেচি/ছুরি
১০/ দুইটা সাবানের বাটি
১১/ চারটা বড় ওড়না
১২/ একটা নরম পাতলা কাঁথা।
১৩/ তায়াম্মুমের /বা নদীর পাক (অথেনটিক) মাটি
১৪/ তিনটা কাফনের কাপড়
এক্সিডেন্টাল কেসের ক্ষেত্রে কাপড় আরো বেশী লাগবে।
১৫/ ডেডবডি বাধার তিনটা ফিতা
১৬/ একটি হালাল দেশী সাবান (কেয়া সাবান)- কুরবানির আগে গরুকে গোসল দেয় যে দেশী হালাল সাবান সেই সাবান।
১৭/ কুলুপের মাটি পাতলা নরম কাপড় দিয়ে পেচিয়ে নেবো সাতটি কুলুপ।
১৯/ কর্পূর।
❑ মুসলিম মৃত নারীরকে গোসল পর্ব - (২)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
প্রত্যেক জীবকে মৃত্যু বরণ করতে হবে।
— [আল ইমরান, ১৮৫]
☞ প্রথম মৃতের চোখ দুটো বন্ধ করে দিতে হবে।
একটা কাপড় দিয়ে তার সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে দিতে হবে।
মৃত ব্যক্তির সম্পর্কে উপস্থিত সকলে ভালো কথা বলবে।
কারণ ফিরেশতারা তখন আমীন বলে।
☞ দ্রুত তার লোন পরিশোধ করে।
তাকে দাফনকাজ শুরু করতে হবে।
আল্লাহর রসূল (সঃ) বলেন—
যে ব্যক্তি কোন মৃত মুসলিম কে গোসল করাবে ও গোপনীয়তা রক্ষা করবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে ৪০ বার ক্ষমা করে দিবেন।
যে ব্যক্তি মৃতের জন্য কবর খুড়বে অতপর ঢেকে দিবে,
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার বসবাসের জন্য সদাকা হিসাবে একটি ঘর তৈরি করে দিলে যে সওয়াব পেত -সেই পরিমাণ সওয়াব লিখে দেয়া হবে।
আর যে ব্যক্তি কাফন পরিয়ে দিবে,
আল্লাহ তাকে জান্নাতে ইসতিবরাকের রেশমী পোশাক পরিয়ে দিবেন।
— হাদীস টি হাকিম ১/৩৫৪,৩৬২; বায়হাক্বী-৩/৩৯৫
হাদিসটি মুসলিম এর শর্তানুযায়ী সহীহ।
❑ ধাপ সমূহ—
▬▬▬▬▬▬☞
১/ মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে সবকিছু অপসারণ করা
২/ সর্বাবস্থায় ঢেকে ঢেকে গোসল করানো
৩/ বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে ওজু ও গোসল করানো
৪/ ডানদিক থেকে ও অজুর স্হান দিয়ে গোসল করানো
৫/ বেজোড় সংখ্যায় গোসল করানো
৬/ শেষ বার গোসলের পানিতে কর্পূর মেশানো।
৭/ মহিলাদের চুল তিনটা ভাগ করে মাথার পেছনে ছড়িয়ে দেয়া
৮/ ৩টি সাদা কাপর( সেলাই বিহীন) দিয়ে কাফন পরানো
❑ কার্যপদ্ধতি—
▬▬▬▬▬▬▬☞
প্রথমে মৃত ব্যক্তির শরীরে কোথাও স্কচটেপ, তবিজ, গহনা, কেনুলা, নাকফুল, ক্যাথেটার, কানের দুল, temporary dialysis pipe, ডাক্তারের সাহায্যে খুলে ফেলতে হবে।
গায়ে পরিহিত কাপড় কাধের উপর থেকে কেচি দিয়ে কাটতে হবে কনুই পর্যন্ত। আবার নীচের দিক থেকে পেট পর্যন্ত।
কোন ভাবে মৃত ব্যক্তি যেন ব্যথা না পায়।
সাবান কুচি করে কেটে দুই বাটিতে পাতলা করে গুলাতে হবে।
১টি বাটি পায়ের কাছে,
১টি বাটি মাথার কাছে রাখতে হবে।
কোন অবস্থায় বাটি পরিবর্তন করা যাবেনা।
⚰️ ঢেকে ঢেকে তিন চারটা ওরনা, কাফনের কাপড়, কটন, দড়ি, মোছার জন্য বড় পাতলা নরম কাঁথা, কর্পূর একটা ট্রেতে রাখতে হবে।
⚰️ অন্য ট্রেতে toothpicks, কুলুপের মাটি (মাটির দলা ৭ টা ছোট টুকরা করে সাদা নরম কাপরে বেধে কুলুপ বানিয়ে নিতে হবে। এই মাটিটা তায়াম্মুমের বা নদীর বা ইট ভাটার কাচা ইট থেকে সংগ্রহ করা উত্তম।
⚰️ হাতে পেচানোর জন্য পাতলা ছাট কাপড়, /ওড়না/গ্লাভস, চাকু রাখতে হবে।
⚰️ পানি চুলায় ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে বেজোড় সংখ্যক বড়ই পাতা ছেঁচে বা ছিড়ে পানিতে মিশাতে হবে।
চুলার পানিতে বড়ই পাতা না মিশানো ভালো। আগুনের তাপে বড়ই পাতার কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবণা থাকে।
❑ মুসলিম মৃত নারীরকে গোসল পর্ব - (৩)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
চারজন চারকোনা ধরে ১টা ওড়না দিয়ে মুর্দাকে ঢেকে দিয়ে পড়নের কাপড় কেটে একটা ঝুড়িতে রাখতে হবে।
সর্বাবস্হায় ঢেকে রাখবেন।
☞ কার্যক্রম—
▬▬▬▬▬▬☞
প্রথমে দেখে নিতে হবে শরীরের কোথাও ময়লা আছে কিনা।
এরপর মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে পানি ঢালতে হবে।
পেশাবের জায়গা, কুচকি, মলদ্বার ভালো করে চেক করে পরিস্কার করে নিতে হবে।
⚰️ যদি দেখা যায় অনবরত মল বের হতেই থাকে-
আবার সাবান দিয়ে প্রথম বারের মতো পরিষ্কার করতে হবে।
৪র্থ বার মাটির কুলুপের সাহায্য আবার মলদ্বার চেক করতে হবে।
যতক্ষণ মল বের হওয়া শেষ না হয় -অপেক্ষা করতে হবে।
আবার পরিষ্কার করতে হবে। এবং কুলুপ গুলো দ্বিতীয় বাস্কেটে ফেলতে হবে।
☞ আল্লাহর রসূল সঃ বলেছেন—
পৃথিবী যখন শেষ হবে, কুফরি কালামে ভরে যাবে। তাই এই বাস্কেটের সব বর্জ্য পুড়িয়ে ছাই করে ফেলতে হবে অথবা মাটির গভীরে পুতে ফেলতে হবে।
এরপরও যদি মল বের হতে থাকে -
তখন কটনের আগায় কর্পূর বেশী দিয়ে জায়গা আটকে দেবো মলদ্বারে ঢুকিয়ে দিবো। যাতে কাফন নষ্ট না হয়।
যারা লাশ বহন করে নিয়ে যাবে তাদের কষ্ট না হয়।
⚰️ গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার করার জন্য আমরা মাইয়্যাতের মা/মেয়ে/বোন /ছেলের বৌ-এর সাহায্য নেবো।
কিন্তু লোম (বগলের /নাভীর নীচের) কাটা যাবেনা।
নখ কাটা যাবেনা।
⚰️ মাইয়্যাতের পেশাবের জায়গা থেকে টেনে একটা করে কুলুপ মলদ্বার পর্যন্ত ৩ বার টেনে আনতে হবে।
যদি ময়লা লেগে থাকে—
প্রথম বারেই হাতের তালুর ঠিক মাঝখানে নাভী রেখে ডান দিকে ৩ বার, ও বাম দিকে ৩ বার (clock wise and anti clock wise)করে নাভীর চারপাশে হাত ঘোরাতে হবে।
🚫 প্রচলিত নিয়মে মুর্দাকে উঠিয়ে বসিয়ে পেটে চাপ দেয়া যাবেনা।
▪️এরপর আমরা ওজুর গোসল যেভাবে করি,
ঠিক সেভাবে ওজুর অঙ্গ গুলো আগে ধুয়ে গোসল করাতে হবে।
❑ ওজুর প্রথম ধাপ—
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
প্রথমে ডান হাত তিনবার কব্জি পর্যন্ত ধোয়াতে হবে। এরপর বাম হাত।
মুর্দাকে কুলি করানো সম্ভব নয়।
তাই হাতে পানি নিয়ে ফেলে দিয়ে শাহাদাৎ আঙ্গুলি / তর্জনী দিয়ে মুখের ডানদিকে ১ বার, ও বাম দিকে ১ বার পরিষ্কার করতে হবে। এভাবে ৩ বার পরিষ্কার করতে হবে।
যদি পান / জর্দা খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলেও মুখে বেশি ঘষামাজা করা যাবেনা।
▪️এরপর নাকে বাম হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে নাকের দুই ছিদ্র ৩ বার সাফ করতে হবে।
চাইলে নাক কটন বাড দিয়েও সাফ করা যাবে।
▪️তিনবার ডান হাত দিয়ে মুখমন্ডল মুছে নিতে হবে।
▪️চোখের কোনা সাফ করতে হবে।
▪️শরীরের নীচের পরশন পরিষ্কার করবে তারা শুধু কোমর থেকে নীচ পর্যন্ত ধোবে। যারা মাথার কাছে থাকবে, তারা শুধু উপরের অংশ নাভী পর্যন্ত ধোবে।
▪️এবার মাথা মাসেহ করবে।
দুই হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল দিয়ে কপাল থেকে পুরা চুল মাসেহ করতে হবে।
শাহাদাত আঙুল দিয়ে কানের প্যাচ গুলো,
বুড়ো আঙুল দিয়ে কানের পিছনে,
মধ্যমা ও বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে কানের লতি পরিষ্কার করতে হবে।
ঘাড় মাসেহ করার প্রয়োজন নেই।
☞ এরপর গোসলের পর্ব—
❑ মুসলিম মৃত নারীরকে গোসল পর্ব - (৪)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
যেখানে গোসল করাবেন উপরে যেন ছাদ থাকে।
চারিদিকে যেন বেড়া থাকে।
পানির লাইন যেন কাছে থাকে।
জায়গা প্রশস্ত হলে ভালো হয়।
🚫 আগরবাতি গোবর শুকিয়ে বানায়-সাথে একটু পারফিউম মিক্সড করে দেয়-তাই আগরবাতি জালাবেন না।
🚫 মশারীর নীচে গোসল করানো বিদআত। এটা করা যাবেনা।
🚫 মৃতদেহের চোখে সুরমা লাগাবেন না।
🚫 জর্দা যদি থেকে যায় মৃতদেহের মুখে তাহলে গোসল হবেনা।
🚫 মাইয়্যাতের হাতে নেইলপালিশ লাগানো আছে কিনা চেক করুন। রিমুভ করুন।
🚫 পিরিয়ডের সময় ও হাতে নেইলপালিশ লাগানো থেকে বিরত থাকুন। কারণ কেউ জানেনা মৃত্যু কখন আসবে, পিরিয়ড শুরু হলেও মৃত্যু হয়, হতে পারে।
▪️ওজু শেষ হলে কোন উৎসুক জনতাকে মাইয়্যাতের মুখ দেখতে দিবেন না।
সে যেই হোক। আমি স্ট্রিক্টলি দেখতে দেবোনা।
প্রথম কাজ হচ্ছে প্রত্যেকের হাতে প্যাচানোর জন্য চারটা বড় ওড়না জড়িয়ে বেধে নেবো।
চাইলে গ্লোবসও নেয়া যায় তবে এতে অর্থের অপচয় হয় এবং গ্লোবস পোড়ানোর সময় পরিবেশ দূষণ হবে। তাই ওড়নার কাপড় নেয়া ভালো।
আমার হাত সরাসরি যেন ডেডবডির গায়ে না লাগে।
তাই ওড়না দিয়ে হাত বেধে নেবো।
এবার মাইয়্যাতের উপরের পরশন, লোয়ার পরশন, লেফট্ পরশন ও রাইট পরশনে লোক ভাগ করে দেবো।
🚫 যিনি উপরের অংশ ধোয়াবেন,
তিনি কোন অবস্থায় নীচের অংশে যাবেন না।
পিছনে অনেক সময় স্টুল /মল থাকে।
এটা দেখবে লোয়ার পরশনে যারা থাকবে শুধু তারা।
প্রথম ধাপে শরীরের কোথায় কোথায় সূচ আছে, ক্যাথেটার আছে সব রিমুভ করবো।
🚫 সব দায়িত্ব আপনি নেবেন না।
নার্স ডাকবেন।
যদি মাইয়্যাত লিভার সিরোসিস এর হয়-
তবে রস ঝড়তেই থাকে একটু একটু করে।
যে মানুষটা মারা গেছেন, তার ক্যানসার আছে কি না, জেনে নেবো।
☞ মাইয়্যাতের ব্লিডিং শুরু হতে পারে -
কি করবো তখন?
- কটনটা কেটে ভাজ করে তার মধ্যে একটু বেশী কর্পূর দিয়ে ব্লাডকে আটকে দিবো।
▪️লিভার সিরোসিস হলে পুজ সদৃশ ব্লাড বের হবে।
ভয় পাবোনা ইনশাআল্লাহ।
▪️ল্যাপ্রোস্কোপি করে মারা গেলে ফুটোটা থেকে যায়-
তখন কি করব?
-কটন/তুলা ভাজ করে কর্পূর লাগিয়ে সেখানে আটকে দেবো।
ঘরে সবসময় তায়াম্মুমের মাটি রাখবেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে যে মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন।
সূরা মায়েদার ৬ নং আায়াতে তার প্রমান -
সেই প্রমান এখন আপনি পাবেন।
—কিভাবে?
-এক মুঠো মাটি নিয়ে অনবরত ঝড়ে পরা মল আটকে দিবেন।
আচ্ছা এতো পাতা থাকতে বরই পাতা কেন লাগবে?
—কারণ, বরই পাতার এমন একটি সাইন্টিফিক ভ্যালু আছে যা শরীরকে অন্যরকম করে দেয়।
নাভীটাকে বিসমিল্লাহ বলে -
নাভীর মিডল পয়েন্টে horizontally এবং ক্লক ওয়েরি
একটু হাত দিয়ে মেসেজ করতে হবে।
▪️নাভীর নীচের অংশ পরিষ্কার করার জন্য মাই্য়্যাতের মেয়ে/বোন/ছেলের বৌ/নিকট আত্মীয় হলে ভালো হয়।
▪️বিশ পচিশটা কুলুপ বানিয়ে ট্রেতে রাখবো।
🚫 প্রচলিত নিয়মে মাইয়্যাতকে ব্যায়াম করানোর কোন অধিকার আমার নাই। পেটে এভাবে চাপ দিয়ে মল বের করা যাবেনা।
একটা বাস্কেটে পরিধেয় কাপড় ফেলবো-
আরেকটা বাস্কেটে কুলুপ ফেলবো।
▪️মলদ্বার ভালো করে সাফ করে ওজু করিয়ে সমস্ত শরীরে সাবান মাখাবো।
একজন গ্রেটার দিয়ে কুচি কুচি করে সাবান কেটে একটা বাটিতে নেবো।
- লিকুইড সাবান ইউস না করা ভালো।
▪️একজন মাথায় সাবান মাখবে।
▪️২/১ জন হাতে কাপড় বেধে সমস্ত শরীরে কাধ থেকে পিঠ নাভীর উপর পর্যন্ত কর্পূর ও বরই পাতা মেশানো গরম পানি দিয়ে ধোব।
কাত করবো ডান ও বাম দিকে।
কাত করে পিঠের একপাশ করে করে ধোব। হাতে সাবান লাগিয়ে নেবো।
▪️শরীর কিচ্ছু নেবেনা। দুনিয়ার কিচ্ছু না।
এমনকি এই দুনিয়ার ময়লাও না।
এভাবে সাবান ও বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে পায়ের আঙুল, হাতের আঙুল সব ময়লা বের হয়ে আসবে।
❑ মুসলিম মৃত নারীরকে গোসল পর্ব - (৫)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
▪️কুলুপের কাপড়, সাহায্য কারীদের হাতে পেচানো কাপড় ইত্যাদি মৃত ব্যক্তির গোসল ও কাফনের ব্যবহৃত ফেলে দেয়ার জিনিস পত্র সব কিছু একত্রিত করে কেরোসিন বা কোন দাহ্য পদার্থের সাহায্যে পুড়িয়ে ছাই করে দিন।
যাতে কেউ এগুলোর সাহায্যে কুফরি করতে না পারে।
▪️কাফন পড়ানোর পর গোলাপজল ছিটাবেন না।
ফুলের তোড়া, ফুল দিবেন না।
▪️কাফনের উপর দুয়া লিখবেন না।
▪️মুর্দা গোসল করালে গোসল ফরজ না। নাপাকী লাগলে গোসল করতে পারেন।
🚨 সতর্কতা—
▬▬▬▬▬▬☞
১/মুর্দার খারাপ কিছু দেখলে আলোচনা করবেন না।
২/শুধু মাত্র যারা গোসল করাবেন তারাই থাকবেন।
উৎসুক জনতাকে দেখতে দিবেন না।মুর্দার ব্যপারে যেন কন গীবত না হয়।
৩/আতর, সুরমা, জাফরান ব্যবহার নিষিদ্ধ।
৪/কাফনের উপর আলাদা চাদর দিয়ে ঢেকে দিবেন।
৫/কাফন পরানোর পর মাহরাম বাদে কোন পুরুষের সামনে মুখ খুলবেন না।
৬/গোসলের আগে পরে গোসলের সহায়তাকারীগণ।
আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন দুয়া মোনাজাত করবেন না।
৭/মুর্দা গোসল করানোর পর শরীরে নাপাকি না লাগলে
সাহায্য কারী গণের গোসল ফরজ না।
গোসল না করে ঘরে ঢোকা যাবেনা, এ ধারনা ভুল।
চাইলে আপনি গোসল করতে পারেন।
৮/যেখানে গোসল করানো হয়েছে, সেখানে কন রকম বাতি জ্বালিয়ে রাখবেন না।
❑ উক্ত আলোচনার কোন তথ্য ভুল পেলে অনুগ্রহ পূর্বক আমাকে জানাবেন।
তাইবাহ একাডেমির লেকচার থেকে নেয়া।
— আসমা খাতুন
▪️আপনার মহা-উপকারের জন্য পেইজটা ফলো দিয়ে রাখবেন।
▪️ডিপ্রেশন?
▪️জ্বীনের সমস্যা?
▪️সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন?
▪️ইসলামিক সমাধান দরকার?
▪️ইসলামের যে কোনো বিষয়ের সমাধানসহ মাসয়ালা জানতে Guidelines to Jannah কে ফলো দিয়ে রাখুন।
📬 আপনার যে কোনো সমস্যার সমাধান পেতে আমাদের SMS করুন।