আপনি কি জানেন, জাপানে শিশুদের জন্য আলাদা ব্যাংক আছে? elementary school বয়স থেকেই জাপানি শিশুরা নিজের নামে account রাখে, নিজেরাই টাকা জমা দেয়, নিজেরাই টাকা তোলে। অভিভাবক পাশে থাকতে পারে, কিন্তু কাজ করে দেওয়ার অনুমতি নেই। জাপানিদের philosophy খুব পরিষ্কার—বাচ্চাকে financial literacy শেখানো এবং independent বানানো।
এই বিষয়টা বোঝার আগে একটা প্রশ্ন করি। আপনার বাচ্চা কি বারবার খেলনা, chips, chocolate আবদার করে? কেন করে জানেন? কারণ সে জানে না এগুলো কিনতে কত টাকা লাগে, এই টাকা কোথা থেকে আসে, কিভাবে খরচ করতে হয়, কোন কোন purpose-এ টাকা ব্যবহার করা উচিত আর কেন কিছু টাকা জমিয়ে রাখা জরুরি। আমাদের দেশে আমরা চাই না বাচ্চা কষ্ট পাক, চাই না সে কোনো কিছু না পেয়ে মন খারাপ করুক। তাই যা চায়, তাই দিয়ে দিই। অথচ একটু struggle, একটু অপেক্ষা, একটু অভাবই বাচ্চাকে বাস্তববাদী করে তোলে। চাওয়া মাত্র সব পেয়ে যাওয়া বাচ্চাটা বয়সে বড় হয় ঠিকই, কিন্তু তার অর্থনৈতিক জ্ঞান develop হয় না। একসময় স্কুলে আপনি যে টিফিনের টাকা দেবেন সেটাও তার কাছে কম মনে হবে। বন্ধুর দামী phone, laptop, bike তাকে টানবে। তার কাছে শুধু একটাই অনুভূতি থাকবে—আমার এটা চাই। আপনি কিভাবে দেবেন বা টাকা কোথা থেকে আসবে, সেটা তার ভাবনার অংশই হবে না।
এই ছেলে বা মেয়েটা যখন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে hostel বা mess-এ থাকবে, তখন সে বুঝবে না টাকা কিভাবে manage করতে হয়। আপনি আপনার হিসেব করে টাকা দেবেন, কিন্তু সে চলবে নিজের ইচ্ছেমতো। local bus ছেড়ে Uber, অল্প পথ হেঁটে না গিয়ে রিকশা, online-এ যেটা ভালো লাগবে সেটাই কেনা, হুট করে restaurant-এ বন্ধুদের treat দিয়ে সব টাকা শেষ। এরপর মাসের ২০ তারিখে আবার টাকা চাইলে আপনি ভাববেন, পুরো মাসের টাকাই তো দিয়েছিলাম। তখন কৈফিয়ত চেয়ে লাভ নেই। এর চেয়ে ভালো ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাকে money management শেখানো।
ঠিক এখানেই জাপানিরা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। তারা ভীষণ দূরদর্শী। একজন জাপানি অভিভাবক জানেন, ২০–২৫ বছর পর তিনি তার সন্তানকে কেমন মানুষ হিসেবে দেখতে চান, আর সেই অনুযায়ী ছোটবেলা থেকেই groundwork তৈরি করেন। বাচ্চাদের জন্য আলাদা banking system রেখে তারা বাচ্চাকে শেখাতে চায়—টাকার দায়িত্ব নিজের, সিদ্ধান্তের ফল নিজের, আজ খরচ করলে কাল কম থাকবে, অপেক্ষা করতে পারা শক্তি, প্রয়োজন আর শখ আলাদা করা, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার দায় নেওয়া। এতে বাচ্চা emotionally mature হয়, impulse control শেখে, নিজের ওপর বিশ্বাস তৈরি হয়। সে টাকার slave হয় না, টাকা তার tool হয়ে দাঁড়ায়।
আমরা চাইলেই রাতারাতি এমন system চালু করতে পারব না। কিন্তু নিজেদের বাস্তবতায় চাইলে অনেক কিছুই করা যায়। আপনি কি কাজ করেন, কত কষ্ট করে টাকা income করেন—এই কথাগুলো বাচ্চার সাথে বলুন। অনেকেই নিজের financial struggle hide করতে চান, সেটারও যুক্তি আছে। কিন্তু বাচ্চাকে অন্তত বোঝাতে হবে টাকা কিভাবে আসে আর কিভাবে শেষ হয়। সে লিখতে শিখলেই বাজারের list লিখতে দিন। তাকে সাথে করে বাজারে নিন। দোকানদারকে টাকা দেওয়া, রিকশাওয়ালাকে ভাড়া দেওয়া—এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই বাচ্চার মাথায় ধারণা তৈরি করে। কোনো কিছু আবদার করলে সঙ্গে সঙ্গে না দিয়ে পরের salary পর্যন্ত অপেক্ষা করান, সে বুঝুক টাকা আসতে সময় লাগে। অফিস থেকে ফিরে বা ব্যবসার দিন কেমন গেলো সেই গল্প বাচ্চার সামনে বলুন। কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে বোঝান, হঠাৎ জরুরি সময়ের জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখা কেন দরকার।
বাস্তব জীবন থেকেই বাচ্চারা financial literacy শেখে, যদি আমরা শেখাতে পারি। মনে রাখবেন, academic পড়াশোনার চেয়েও এই অর্থনৈতিক জ্ঞান আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি জরুরি।
#parenting #positiveparenting #smartparenting