এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪

আমরা কেন MOP এমওপি সার বা পটাশ সার জমিতে ব্যবহার করবো? 

 আমরা কেন এমওপি সার বা পটাশ সার জমিতে ব্যবহার করবো? 


ধান চাষে পটাশ সারে, ফলন বাড়ে অধিক হারে।এমপি সার বা পটাশ সারের কাজ: এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ সারে শতকরা ৫০ ভাগ পটাশিয়াম থাকে। এমওপি উদ্ভিদ কোষের ভেদ্যতা রক্ষা করে। উদ্ভিদে শর্করা বা শ্বেতসার দ্রব্য পরিবহনে সহায়তা করে। লৌহ ও ম্যাংগানিজের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। 


👉পটাশ_সারের_কাজ:

১/ পটাশ সার গাছের শিকড় বৃদ্ধি করে এবং পাতার আকার বাড়ায়।

২/ প্রতি ছড়ায় পুষ্ট দানার সংখ্যা বৃদ্ধি করে ও দানার ওজন বাড়ায়।

৩/ গাছের দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ যেমন খরা, ঠান্ডা, রোগবালাই ইত্যাদি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 


৪/ ফসলের গুনগত মান বৃদ্ধি করে। 


👉পটাশিয়াম_অভাবের_কারণ: 


১/ মাটিতে পটাশিয়াম প্রয়োগের পরিমান প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে পটাশের ঘাটতি হয়।

২/ ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটি থেকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণের ফলে।

৩/ বেলে মাটিতে চুয়ানি জনিত অপচয় বেশি হলে এর অভাব দেখা যায়। 


👉পটাশিয়াম সারের অভাবজনিত লক্ষণ:

১/ গাছ গাঢ় সবুজ ও ছোট হয়ে থাকে এবং নেতিয়ে পড়ে।

২/ পটাশিয়ামের অভাবে প্রাথমিক অবস্থায় পাতার আগার দিক হলদেটে কমলা রং ধারন করে পরে এ বিবর্ণ রঙ আস্তে আস্তে পাতার গোড়ার দিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পাতা মরপ বা শুকিয়ে যায়। 


৩/ অনেক সময় গাঢ় সবুজ পাতায় তিলের দানার মতো ছোট ছোট বাদামী দাগ দেখা যায়। 

৪/ গাছে রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।

৫/ শিকড়ের বৃদ্ধি কম হয় এবং প্রায়শই তা পচন রোগে আক্রান্ত হয়।

৬/ চিটার হার বেড়ে যায়।

৭/ ধান গাছ হেলে পড়ে ফলন কমে যায়।

৮/ শীষে অনেক সময় অনিয়মিত ভাবে সাদা দাগ দেখা দেয়। 


👉পটাশিয়ামের অভাব দূরীকরণ:

১/ ফসল কাটার পর এর অবশিষ্টাংশ মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

২/ পরিমান মতো পটাশিয়াম সার মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। 

৩/ মাটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চুয়ানো জনিত অপচয় রোধ ও শিকড় বৃদ্ধিকে তরান্বিত করে পটাশিয়ামের গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর অভাব অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। 


👉পটাশ সার প্রয়োগের সময় পদ্ধতি

১/ সাধারণ জমি তৈরির শেষ চাষের সময় পটাশ সার প্রয়োগ করতে হয়। 

২/ পটাশ সার একক ভাবে অথবা নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সারের সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

৩/ বেলে মাটিতে পটাশের অতিরিক্ত চুয়ানিজনিত রোধে কিস্তিতে প্রয়োগ করা উচিত। সে ক্ষেত্রে অর্ধেক সার কুশি গজানোর সময় প্রয়োগ করতে হবে।

মুড়াপাড়া রাজবাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও শতবর্ষী জমিদার বাড়ি।

 মুড়াপাড়া রাজবাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও শতবর্ষী জমিদার বাড়ি। বিভিন্ন সময় এ জমিদার বাড়িটি কয়েকজন জমিদার কর্তৃক সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। এটি উপজেলার মুড়াপাড়া নামক গ্রামে অবস্থিত। বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা থেকে সড়ক পথে এর দুরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। স্থানীয়রা একে মঠেরঘাট জমিদার বাড়ি বলেও অভিহিত করে।


মুড়াপাড়া রাজবাড়িটি ৬২ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন বাবু রামরতন ব্যানার্জী যিনি এ অঞ্চলে মুড়াপাড়া জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর তার কয়েকজন বংশধর কর্তৃক প্রাসাদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার প্রতাপচন্দ্র ব্যানার্জী এই ভবনের পিছনের অংশ সম্প্রসারণ করেন ও পরিবার নিয়ে এখানেই বসাবাস শুরু করেন।


তার পুত্র বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাসাদের সামনের অংশে একটি ভবন নির্মাণ ও ২টি পুকুর খনন করেন। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে তার দুই পুত্র জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ও আশুতোষ চন্দ্র ব্যানার্জী কর্তৃক প্রাসাদের দোতালার কাজ সম্পন্ন হয়।


১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর জগদীশ চন্দ্র তার পরিবার নিয়ে কলকাতা গমন করেন। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাড়িটি দখল নেয় এবং এখানে হাসপাতাল ও কিশোরী সংশোধন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে এখানে স্কুল ও কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির দায়িত্ব গ্রহণ করে সেটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে এটি সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ নামে পরিচিত।


দ্বিতল এ জমিদার বাড়িটিতে ৯৫টি কক্ষ রয়েছে।

রয়েছে সংলগ্ন ২টি পুকুর,বাড়ির সামনে একটি বৃহদাকার পুকুর,পেছনভাগে মোটামুটি বড় "সামনেরটা থেকে কিছুটা ছোট" আরেকটি পুকুর। এছাড়াও পুরো জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে বেশকিছু নাচঘর,আস্তাবল,

মন্দির,ভাণ্ডার ও কাচারি ঘর। মন্দিরের ওপরের চূড়াটি প্রায় ৩০ ফুট উঁচু। মূল প্রাসাদে প্রবেশের পথে রয়েছে বেশ বড় একটি ফটক। একটি আম বাগানও আছে জমিদার বাড়ির পাশে। দুটি পুরনো মঠ রয়েছে প্রধান সড়কের পাশে।।


-------- সংগৃহীত

যখন বাজারে এক ভরি সোনার দাম ২০ টাকা তখন একটি গান গাইতে তিনি পারিশ্রমিক নিতেন ৩০০০ টাকা 

 যখন বাজারে এক ভরি সোনার দাম ২০ টাকা তখন একটি গান গাইতে তিনি পারিশ্রমিক নিতেন

৩০০০ টাকা । চমকে উঠবেন না, তিনি দেশের প্রথম ‘সুপারস্টার’ গায়িকা,গানের শেষে,প্রত্যয়ের সিগনেচার কণ্ঠ "মাই নেম ইজ গওহর জান!"শোনা যায় তিনি যখন সাফল্যের চুড়োয় তখন তিনি ফি-সন্ধ্যায় রেশমি পর্দা

ছয় ঘোড়ার ফিটনে ময়দানে বেড়াতে বের হতেন । জনৈক বাইজির এই ঠাটবাটে বিরক্ত হয়ে কোনও ইংরেজ রাজপুরুষ না কি গওহরকে ১০০০ টাকা জরিমানা করেছিলেন, গওহর সেই টাকা কড়কড়ে নগদে কার্যত তাঁর মুখে ছুড়ে মারেন।


প্রকাশ্যে নাক সিঁটকোলেও, তথাকথিত অভিজাত লোকেদের তাঁর দরবারে হত্যে দিতে হত। আড়ালে অনেকেই তাঁকে বলতেন বাঈজি, কেউ মানসিকতায় উদার, শিল্পীর সম্মান জ্ঞাপন করেছেন। তাতে গওহর জানের কিছু যায় আসে নি। কারণ তিনি ইতিহাসের অধ্যায়। প্রথম ভারতীয় শিল্পী হিসেবে গওহর জানের গান রেকর্ড করা হয়।দেশের প্রথম কোটিপতি সংগীত শিল্পী হওয়ার কৃতিত্বও তাঁর। গওহরের কথা বলার আগে চলুন একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক। বেনারসের বাঈজি পাড়ায় সংগীত কত্থকে পারদর্শী মলকা জানের খ্যাতি লোকমুখে ছড়াতে সময় লাগে নি। একসময়ে তিনি চলে আসলেন বেনারস থেকে কলকাতা। কিন্তু কেন!

 ইংরেজ সৈনিক হার্ডি হেমিংস বিবাহ করেছিলেন রুক্মিনী নামের এক ভারতীয়কে। তাঁদের কন্যা অ্যাডলিন ভিক্টোরিয়া হেমিংস। ওই অ্যাডলিন বিবাহ করলেন রবার্ট উইলিয়াম ইওয়ার্ডকে। তবে একসময়ে নাচ-গানে দক্ষ ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে স্বামী রবার্টের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে । ওদিকে কন্য্যা সন্তানটিকে একা তাঁর পক্ষে মানুষ করা কঠিন হচ্ছে।সেই সময় খুরশিদের সঙ্গে আলাপ। মেয়ের নাম গওহর রাখলেন ভিক্টোরিয়া। নিজে হলেন ‘মলকা জান’। 


কলকাতায় নাচ গানে গওহরের হাতেখড়ি।

 ক্লাসিক্যাল হিন্দুস্তানি থেকে ভোকাল মিউজিক, কত্থকে তালিম নিলেন ।ধ্রুপদী নৃত্য, বাংলা কীর্তনের সঙ্গে শিখেছিলেন রবীন্দ্রসংগীত । ‘হমদম’ ছদ্মনামে লিখতেন গজলও। ১৮৮৭ সালে দ্বারভাঙা রাজের দরবারে প্রথম বার আত্মপ্রকাশ,বেনারসেও দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নেন। ১৯১০ সালে প্রথম বার গেলেন মাদ্রাজ।

ধীরে ধীরে সেই সময়ের সবচেয়ে দামি শিল্পীতে পরিণত হলেন সেই সময় বাজারে এক ভরি সোনার দাম যেখানে ২০ টাকা ছিল, একটি গান গাইতে ৩০০০ টাকা পারিশ্রমিক নিতেন গওহর। 


শুধু অভিজাত শ্রেণী,রাজা মহারাজারা গওহরের গান শুনবে? তাঁর গান সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়।১৯০২ সালে 78rpm-এ প্রথম গওহরের গান রেকর্ড করা হয়, যা বাজারে ছাড়ে গ্রামোফোন কোম্পানি অফ ইন্ডিয়া। যে কারণে গওহর ‘দ্য গ্রামোফোন গার্ল’ নামেও পরিচিত। ৬০০টিরও বেশি গান গেয়েছেন গওহর।  মামলা লড়তে গিয়ে জমি-বাড়ি বিক্রি করতে হয় তাঁকে। গওহরের গাওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য গান হল, ‘জবসে গয়ে মোরি সুদ’, ‘রস কে ভরে তোরে ন্যায়ন’, ‘মেরে দর্দ-ই-জিগর’, আজও যার নিত্য নতুন সংস্করণ উঠে আসে। গওহরের গাওয়া ভজন ‘রাধে কৃষ্ণ বোল মুখসে’ আজও জনপ্রিয়।প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে মামলা মোকদ্দমায় সর্বস্বান্ত হয়ে কলকাতার বাড়িটা একদিন চোখের জলে ছাড়তে হয়েছিল ভারতের গানের রানিকে। মহীশূরের রাজার ডাকে শেষমেশ চিরতরে কলকাতাই ছাড়তে বাধ্য হন গওহর।১৯৩০ সালের ১৭ জানুয়ারি মারা যান গওহর। তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় সংগীতের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও গহহর ভারতীয় সংগীতের সেই দাপুটে রানি যাঁর গান শেষে সেই সিগনেচার কণ্ঠ "মাই নেম ইজ গওহর জান"।


Collected

পেট চালাতে সার্কাস দলে কাজ করতেন অভিনেতা তুলসী চক্রবর্তী, সাজতেন জোকার----

 পেট চালাতে সার্কাস দলে কাজ করতেন অভিনেতা তুলসী চক্রবর্তী, সাজতেন জোকার----

পথের পাঁচালি তে প্রসন্ন গুরুমশাই এর চরিত্র করার সময়ই সত্যজিৎ রায়ের নজরে পড়েন তিনি | পরে সত্যজিৎ রায় যখন তাকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন “পরশ পাথর” এ হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন আনন্দে | শুটিং এর সময় লোকেশন এ তার জন্য গাড়ী পাঠিয়ে দিতেন সত্যজিৎ রায় | দুদিন যাতায়াতের পর তিনি সত্যজিৎ রায়কে বলেছিলেন- এই ট্যাক্সি করে যাতায়াত করতে তিনি পারছেন না। এতে তিনি তাঁর অভিনয়ের স্বত:স্ফূর্ততা হারিয়ে ফেলছেন। তারপর থেকে তিনি আবার ট্রামেই যাতায়াত শুরু করেন। আজকালকার দিনে, কেউ ভাবতে পারবেন- এই কথা? অভিনয় করতেন কোনো মেকআপ ছাড়াই । সত্যজিৎ রায় একটি অমোঘ কথা বলেছিলেন তাঁর সম্বন্ধে | একটি সাক্ষাৎকারে উনি বলেন-” তাঁর অভিনয়ের কদর এই পোড়া দেশে কেউ করে না তবে আমেরিকায় জন্মালে উনি নিশ্চিত অস্কার পেতেন” | যদিও পরশ পাথরের জন্য সত্যজিৎ রায় তাঁকে প্রতিদিন একশো টাকা পারিশ্রমিক এর প্রস্তাব দিলে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন-” ওরে বাবা আমি এত টাকা পাওয়ার যোগ্য নই.. আর সিনেমা পাড়ায় যদি রটে যায় আমি রোজ একশো টাকা নিচ্ছি আমি আর কাজ পাব না মানিকবাবু |”


তিনি বাংলার গর্ব কিংবদন্তি অভিনেতা তুলসী চক্রবর্তী |


প্রবল দারিদ্র্যের সঙ্গে আজীবন লড়াই করলেও মুখের হাসি ছিল অনাবিল | অনুপকুমার কে ছেলে বলতেন তুলসী চক্রবর্তী | প্রবল শীতে একবার অনুপকুমার তুলসী চক্রবর্তী কে একটি সোয়েটার কিনে দেওয়ায় অনুপকুমার কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিলেন তুলসী চক্রবর্তী | অভাব থাকলেও অভিনয়ের জন্য নূন্যতম টাকা নিতেন তুলসী চক্রবর্তী। উত্তমকুমার থেকে সত্যজিৎ, সকলকেই টাকা হাতে দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ‘অবাক পৃথিবী’-র সময় একবেলা কাজের জন্য তাঁকে দেওয়া হল তিনশো টাকা। তিনি কিছুতেই তা নেবেন না। কারণ, তখন তাঁর রেট দিনে একশো পঁচিশ টাকা। দলের অনেকের জামা-জুতো ছিঁড়ে গেলে নিজের হাতে সেলাই করে দিতেন তুলসীবাবু। অবসর সময়ে পৌরোহিত্য করে সংসার চালাতেন।


৩ মার্চ, ১৮৯৯ সালে কৃষ্ণনগরের গোয়ারী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন তুলসীবাবু। রেলে চাকুরীরত বাবার অকালমৃত্যুর পর মা নিস্তারিণী দেবীকে নিয়ে কলকাতায় এসে তাঁর প্রথম লক্ষ্যই ছিল একটা ভাল চাকরী জোগাড় করা |


ভাল গান গাইতে পারতেন, বিশেষ করে কীর্তনাঙ্গের গান। কাকার অর্কেষ্ট্রা পার্টির গ্রুপ ছিল। তুলসী চক্রবর্তীও সে দলে যোগ দিয়ে কীর্তন ও শ্যামা সঙ্গীত গাইতেন। পরে কাকা স্টার থিয়েটারে যোগ দিলে কলকাতার রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে চিৎপুরের এক মদের দোকানে বয়ের কাজ জোটালেন। কাকা খবর পেলে কাজ ছাড়তে হল। এরপর কাজ নিলেন ঘড়ি সারাইয়ের দোকানে। সেখানে বেশিদিন মন টিকল না। বাড়ি থেকে পালিয়ে বর্মা গেলেন। যে জাহাজে পালালেন সেটিতে বোসেস সার্কাস পার্টিও চলেছিল। সেখানেই চাকরি নিলেন। মাঝে মধ্যে শোয়ের ফাঁকে জোকারও সাজতেন। এভাবেই তিনি হাস্য-কৌতুকের প্রতি ঝোঁকেন।


তুলসী চক্রবর্তী সার্কাসে থেকে কিছু খেলা যেমন শিখলেন তেমনি শিখলেন উর্দু ও হিন্দী বলতে। সার্কাসে তিনি ছয়মাস মত ছিলেন। চলে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলতেন- ‘শরীর থেকে জন্তু-জানোয়ারের গন্ধ বেরচ্ছে দেখে চলে এলুম।’ কাকা তখন তাঁকে ছাপাখানায় কম্পোজিটরের কাজ জুটিয়ে দিলেন। সেখানে থিয়েটারের হ্যান্ডবিল ও পোস্টার ছাপা হত। তা দেখে তার অভিনেতা হতে ইচ্ছে করল।


জ্যাঠামশায়কে অনেক অনুরোধ করায় তিনি স্টার থিয়েটারে অপরেশ মুখোপাধ্যায়ের সাহায্যে ঢোকালেন। সে সময় প্রেসে তার মাইনে ছিল ৩২ টাকা। স্টারে এলেন ৮ টাকার মাইনেতে!


তৎকালীন ষ্টার থিয়েটারের মালিক ছিলেন অপরেশ মুখোপাধ্যায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই চোখে পড়ে যান অপরেশবাবুর। এই অপরেশবাবুই তালিম দেন তুলসী চক্রবর্তীকে। টপ্পা গান, পাখোয়াজ বাজানো- সব শিখেছিলেন। ১৯২০ সালে প্রথম ষ্টেজে অভিনয় করেন। ১৯২৭ সাল পর্যন্ত তিনি ষ্টার থিয়েটারেই ছিলেন। পরে যোগ দেন, মনমোহন থিয়েটারে। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪২টা নাটকে অভিনয় করেন। তুলসী চক্রবর্তীর সিনেমা শুরু ১৯৩২ সালে, নিউ থিয়েটারের ‘পুনর্জন্ম’ সিনেমায়। তাঁর শেষ সিনেমা মৃত্যুর আঠারো বছর পর মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে ‘আমি রতন’।


সারাজীবনে ৩১৬ টি বাংলা ও ২৩ টি মত হিন্দী সিনেমা করলেও দারিদ্র ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। ১১ ডিসেম্বর ১৯৬১ তে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই অভিনেতা। পয়সাও ছিল না চিকিৎসার জন্য। প্রচণ্ড দারিদ্রতা তো ছিলই, তার ওপরে নিজের বাড়ীটা দান করেছিলেন এলাকার দরিদ্র পুরোহিতদের জন্য। স্ত্রী উষারাণী দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন একমুঠো খাবারের জন্য। দারিদ্রের কারণে স্বামীর সবকটি মেডেল বিক্রী করতেও বাধ্য হয়েছিলেন। মারা যাবার পর সরকারের তরফ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোরও কোনও বন্দোবস্ত ছিল না তখন। অবশ্য তাতে কিছু আসে যায় না। তিনি আছেন। বাঙালির অন্তরে আছেন থাকবেনও।


প্রয়াণদিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য |

কিশোর হেলাল হাফিজ প্রেম করতেন হেলেন নামে এক কিশোরী সাথে।

 কিশোর হেলাল হাফিজ প্রেম করতেন হেলেন নামে এক কিশোরী সাথে। নেত্রকোনায় তারা প্রতিবেশী ছিলেন। হেলেনের বাবা ছিলেন একজন দারোগা। আর হেলাল হাফিজের পিতা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। দারোগার মেয়ের সাথে স্কুল শিক্ষকের ছেলের প্রেম মেনে নিতে পারেননি দারোগা বাবু। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন এক সিনেমা হলের মালিকের সাথে ঢাকায়। খুব সম্ভবত মুন সিনেমা হলের মালিকের সাথে। 

হেলেনের বিয়ে হয়ে যাবার পর হেলাল হাফিজ দশ-পনেরো দিন কারো সাথে কোনো ধরনের কথা বলেননি। তার ভাবি তার বিয়ের জন্য তাকে কোনো মেয়ের ছবি দেখালেই তিনি বলতেন, 'ভাবি, এই মেয়েটা দেখতে ঠিক আমার মায়ের মতো।' এর পর তার ভাবি তাকে আর কোনো মেয়ের ছবি দেখাতে সাহস করেননি।


তীব্র দুঃখ বুকে চেপে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান হেলাল হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেখাপড়াও করেছেন। ব্যতিক্রমী ও সহজবোধ্য কবিতা লেখার ফলে তার খ্যাতি ক্যাম্পাস থেকে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ল দেশব্যাপী। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তার আলোড়ন সৃষ্টিকারী কাব্যগ্রন্থ 'যে জলে আগুন জ্বলে। হেলেনের স্বামী বইমেলা থেকে অন্যান্য বইয়ের পাশাপাশি 'যে জলে আগুন জ্বলে' বইটিও কিনে বাসায় নিয়ে যান। হেলেন যখন দেখতে পেলেন বইটির পুরোটা জুড়ে বিধৃত আছে হেলেন-হেলাল প্রেম উপাখ্যান, আছে হেলালের কষ্টের ইতিবৃত্ত আর হেলেনের জন্য হেলালের শব্দে-শব্দে নিঃশব্দ হাহাকার; তখন ক্রমশ তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে, তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। হেলেনের স্বামী দেশে-বিদেশে হেলেনের উন্নত মানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও হেলেন আর ভারসাম্য ফিরে পাননি। একপর্যায়ে স্বামীর কাছ থেকে হেলেন তালাকপ্রাপ্ত হন।

নেত্রকোনায় বাবার বাড়ি ফিরে যান হেলেন। তাকে শেকল দিয়ে ঘরে বেধে রাখতে হয়। 


হেলাল হাফিজ নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারেননি। কিংবা সে প্রেম থেকে বের হতে পারেননি।


তাই আর কখনো বিয়ে করেননি।


খুব গুছিয়ে থাকতেন। গোছালো মানুষ ছিলেন। তাকে দেখে বুঝা যেতো না, ভেতরে ভেতরে তার ভেতর এতোটা ভাঙ্গন।

কতবার পড়েছি আর হেসেছি মনে নেই ফুলকপি সমাচার!!

 কতবার পড়েছি আর হেসেছি মনে নেই


ফুলকপি সমাচার!!


একজন শখের কবি একবার ফুলকপি নিয়ে একটা কবিতা ফেসবুকে লেখেন!! এরপর যা যা হয়েছিল সেটা ওনার বয়ানেই শুনুন.....


“মানুষের মাথায় ভূত চাপে, আমার মাথায় চেপেছিলো ফুলকপি!! কোন দুঃখে আমি সেদিন ফুলকপি নিয়ে একটা ছড়া লিখেছিলাম,


                      "শীতের দিনে,

                      তোমার কাছে,

                      ফুল চাইনি প্রিয়;

                      সময় পেলে,

                      রান্না করে,

                      ভাজা ফুলকপি দিও!!"


ফেসবুকে এই ছড়া পোস্ট করার পর, আমার জীবন এবং যৌবন ''ভাজা ভাজা, তিলের খাজা'' হয়ে গেছে !!


বউ আমাকে বললো:- এই কবিতা কার উদ্দেশ্যে লিখেছো?


আমি সরল গলায় বললাম, "কার উদ্দেশ্যে মানে?"


এরপর একদমে অনেকগুলো প্রশ্ন করলো!! সবমিলিয়ে প্রায় শ-পাঁচেক প্রশ্ন; সব কটা প্রশ্ন আমার মনে নেই; অল্প কয়েকটা মনে আছে যেমন:-


১. প্রথম লাইনে একটা শব্দটা আছে, "প্রিয়"!! কে তোমার প্রিয়?


২. কে তোমাকে ফুল দেয়? 


৩. কেন দেয়? 


৪. কীভাবে দেয়? 


৪. কোথায় দেয়? 


৫. দিনে কয় বার দেয়? 


৬. কি ফুল দেয়? 


৭. আর কি কি দেয়?


৮. কি কি দিতে বাকি রাখছে?


৯. তাজা ফুল না প্ল্যাস্টিকের ফুল? 


১০. কার কাছে তুমি এই শীতে ফুলের বদলে ফুলকপি চাইছো? 


১১. এত কিছু থাকতে ফুলকপি চাইতে গেলে কেন? 


১২. কাঁচাফুলকপি না চেয়ে রান্না করা ফুলকপি কেন চাইলে? 


১৩. অন্য কোনো মেয়ে কেন তোমার জন্য ফুলকপি রাঁধবে? 


১৪. ঘরের রান্না মুখে রোচে না? 


১৫. ফুলকপি মানে কি সবজি ফুলকপি না এর অন্য কোনো গোপন অর্থ আছে? 


১৬. সারাজীবন ফুলকপি খেয়েও শখ মেটেনি?


১৭. আর কত ফুলকপি চাও?


১৮. কবে তোমার পেট ভরবে?


১৯. বুড়ো হচ্ছো আর ক্ষিধে বাড়ছে তোমার না?


২০. পেয়েছো কি তুমি?


২১. তোমাকে কি আমি খেতে দিই না?


২২. রাস্তা ঘাটে ফুলকপি চেয়ে বেড়াও? 


২৩. আজ ফেসবুকে চাইছ , কাল কি থালা নিয়ে রাস্তায় বসবে? 


২৪. পরশু কি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেবে? 


২৫. আমার কাছে চাইলে কি আর আমি ফুলকপি দিতাম না? 


সর্বশেষ প্রশ্নটা বড়ই নির্মম:- 


২৬. তোমার এত নোলা কেন?


আমি কোনও প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে দিতে পারিনি ফলে আমার জীবন হয়ে গেছে ফুলকপিময় !!


সকালে রুটির সাথে ফুলকপি ভাজা, দুপুরে রান্না করা ফুলকপি, রাত্রে ফুলকপি দিয়ে মাছ!! মাঝে বেলায় বেলায় ফুলকপি আর ফুলকপি; মাঝখানে ফুলকপির স্যুপ পর্যন্ত খেতে হয়েছে!! গত এক সপ্তাহে আমি যে পরিমাণ ফুলকপি খেয়েছি, মাটি ও মানুষের উপস্থাপকও তার গোটা জীবনে এতগুলি ফুলকপি দেখেননি!!


আজ সন্ধ্যায় বললাম, আদা দিয়ে একটু লাল চা করে দাও, একটু সর্দি লেগেছে!! ও পাথর মুখ করে চা বানাতে গেলো; আর আমি ভয়ে ভয়ে রইলাম!! চায়ে আদার বদলে ফুলকপি দিয়ে ফেলে কিনা কে জানে!! অশেষ কৃপায় খানিকবাদে ও আদা চা নিয়ে এলো; গলাটা একটু কোমল করে বলল, খালি পেটে চা খাবে না। ফুলকপির বড়া ভেজেছি। ওটা খেয়ে তারপর চা খাও !!


পুনশ্চ:- আরেকটা প্রশ্ন ছিলো এখন মনে পড়েছে!! "কি আছে ফুলকপিতে, যা আমার নেই? (বলে কান্না)


পুনশ্চ ২ :- আরেকটা প্রশ্নও ছিল; এক্ষুনি মনে পড়লো:- "সত্যি করে বলো তো, আমাকে না জানিয়ে তুমি এ পর্যন্ত কতগুলি ফুলকপি খেয়েছো? লুকিয়ে লুকিয়ে!!”


©️লিখা: আশীফ এন্তাজ রবি.

আলবার্ট আইনস্টাইন এর ব্যর্থতার গল্প -

 আলবার্ট আইনস্টাইন এর ব্যর্থতার গল্প -------

পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সফল বিজ্ঞানীদের একজন তিনি। তিনি এতটাই সফল যে,

"বিজ্ঞানী" শব্দটা মাথায় আসলেই বেশিরভাগ মানুষ তাঁর কথা ভাবেন। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা মেধাবী বলা হয় তাঁকে।


কিন্তু ১৮৭৯ সালে জন্ম নেয়া এই জার্মান জিনিয়াসকে একটা সময় পর্যন্ত গর্ধভ মনে করা হত। কিছুতেই তিনি ভালো ছিলেন না। কথা বলা শিখতেই তাঁর ৪ বছর লেগেছিলো। পড়াশুনায় ছিলেন একদম কাঁচা। ১৬ বছর বয়সে জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয় ভাবে ফেল করেন।


ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতই বাজে রেজাল্ট করতেন যে,একাধিক বার পড়াশুনা বাদ দেয়ার চিন্তা করতে হয়েছিল। মারা যাওয়ার সময়ে তাঁর বাবার একমাত্র দু:খ ছিল যে এই গর্ধভ ছেলে জীবনে কিছুই করতে পারবে না। বাবার এই কথায় আইনস্টাইন বহুদিন ধরে মনে কষ্ট চেপে রেখেছিলেন।


কোনও কাজ না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে ইন্সুরেন্স সেলস ম্যানের কাজ নেন। কোনও কাজ না পারলে মানুষ এই ধরনের চাকরি করতো। ২ বছর পর তিনি পেটেন্ট অফিসে কাজ পান। যেখানে নতুন ডিভাইস পেটেন্ট করার আগে পরীক্ষা করা হতো।


কিন্তু একটা সময়ে এই মানুষটাই পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর সেই "ডাল ব্রেন" নিয়ে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি মূল সূত্র সৃষ্টি করে গেছেন।  বিজ্ঞানে অবদানের জন্য নোবেল প্রাইজ জিতেছেন।  প্রমাণ করেছেন যে চেষ্টা করলে সবাইকে দিয়েই সবকিছু সম্ভব।।


শেষ কথা -------

প্রতিটি মানুষের জীবনেই ব্যর্থতা আসে। কোনও বড় স্বপ্নই একবারে পূরণ হয় না। এটা জীবনেরই একটা অংশ। পৃথিবীতে অসাধারণ সাফল্য সেইসব মানুষই অর্জন করতে পারেন,যাঁরা বার বার ব্যর্থ হয়েও চেষ্টা করে যান। 


------ সংগৃহীত

কিংবদন্তি মান্না দে খুব সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন কিশোর যথেষ্ট ভাল মানুষ ছিলেন

 কিংবদন্তি মান্না দে খুব সুস্পষ্ট ভাবে বলেছেন কিশোর যথেষ্ট ভাল মানুষ ছিলেন। কিন্তু কিশোরকুমার নাকি কিঁপটে! মান্না দে বলেছেন তিনি এমন ঘটনা জানেন কিশোর নিজের পয়সা খরচ করে স্টুডিয়ো ভাড়া নিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে গান গেয়েছেন। আসলে সুবিধাবাদী লোকদের থেকে কিশোর নিজেকে আলাদা করে রাখতেন। সবচেয়ে বড় কথা কেন নিজের কষ্ট করা উপার্জনের টাকা আজেবাজে কেন খরচ করবে। মান্না দে বলেছেন কিশোর ভালই করত  কষ্টের টাকা বাজে নষ্ট না করে।

ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি কিশোরকুমার গাঙ্গুলি সম্পর্কে যত প্রশংসা করা হয় কমই করা হয়। আমাদের দেশে অনেক বরেণ্য শিল্পীর জন্ম হয়েছে,তারা প্রতিভায় কম নন। কিন্তু কতজন পেরেছেন  কিশোরকুমারের মত প্রকৃত অর্থে মানুষের শিল্পী হতে ! সারা ভারতের সব স্তরের মানুষের কাছে কিশোরের কণ্ঠ আজও কি বিপুল জনপ্রিয় সেকথা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। উদাত্ত খোলামেলা গলা, নিজস্ব ঢঙ বারেবারে শ্রোতাদের মোহিত করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কিশোরকুমার গান শেখেননি, রেওয়াজ খুব নিয়ম মেনে করতেন কি! কিন্তু অসামান্য উদাত্ত কণ্ঠে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী আবালবৃদ্ধবনিতা কে তাঁর কণ্ঠে মোহিত হয়েছেন।


 মান্না দে বলেছেন ক্ষেমচাঁদ প্রকাশের সুরে যখন কিশোর ' মুকাদ্দার' ছবিতে প্রথম গান গাইতে আসে তারা সবাই বুঝতে পেরেছিলেন কালবৈশাখীর মত সংগীতের জগতে এক শিল্পীর আবির্ভাব হয়েছে যিনি নিজের প্রতিভার জোরে, প্রতিভার দ্যুতিতে একদিন অন্য সবাইকে ম্লান করবেন। কিশোর কুমারের আবির্ভাবের আগে বোম্বেতে মহম্মদ রফি যুগ চলছে, কিন্তু শুনতে হয়ত খারাপ লাগবে কিশোর আসার পর থেকেই 

 আস্তে আস্তে রফির গানের হাওয়া ক্রমেই কিশোরমুখী হল। এটা হল বাস্তবতা। আক্ষরিক অর্থে কিশোর ও মুকেশ হয়ে উঠেছিলেন জনগনের শিল্পী। তবে জনপ্রিয়তায় কিশোর সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। 

ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


মেহেমুদ একবার মান্না দে' কে বললেন ' পডেশন' ছবির গান গাইতে হবে। কিশোরের সঙ্গে ডুয়েট। ' চতুর নার' গান ভারতীয় সংগীতের দুই কিংবদন্তি গাইলেন । গানটির রেকর্ডিং শুরু হয় প্রায় সকাল নটায় শেষ হয় প্রায় বারো ঘন্টা পরে। কেমন গেয়েছিলেন কিশোর কুমার? মান্না দে বলেছেন অপূর্ব গেয়েছিলেন,গলায় এত বৈচিত্র্য অবিশ্বাস্য রকমের ভাল। গানটা রেকর্ডিংয়ের পরে সবাই বলাবলি করছিলেন মান্না যখন গাইছেন মনে হচ্ছে কোনও মানুষ গান নিয়ে তপস্যা করছেন, অন্যদিকে কিশোরকে দেখুন কত ন্যাচারাল ভাবে গাইলেন। আসল কথা হল কিশোরকুমার অবিশ্বাস্য একজন জন্মগত প্রতিভা। মান্না কিশোরের ডুয়েট সবাই মনে রেখেছেন ' চলতি কা নাম গাড়ি' তে ' বাবু সমঝে ইশারে'। ভারতীয় সিনেমার আইকনিক ছবি 'শোলে'তে মান্না- কিশোরের ডুয়েট ' এ দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে' কেউ কখনও ভুলতে পারবেন?


কিশোরকুমার একটি বিষয়ে বেশ খুঁতখুঁতে ছিলেন গানের কথা বা সুর পছন্দ না হলে সে গান কিছুতেই গাইতেন না। বড়দের খুব সম্মান করতেন। আর একটা খুব মজার জিনিস করতেন ডুয়েট গানের মাঝে খুব হাসাতেন। মান্না বলতেন কি হচ্ছে কিশোর? এত হাসালে কিভাবে গান গাইবে? কিশোর তখন চুপ করে যেতেন। হ্যাঁ কোনও গান ভাল না গাইতে পারলে কিশোরকুমার নিজে খুব অতৃপ্ত হতেন,মনে মনে বিড়বিড় করতেন এরপর আস্তে আস্তে ঠিক মনোসংযোগ করে ফেলতেন। যখন গানটি ভাল করে গাইতে পারলেন চোখ মুখ খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠত। তবে হ্যাঁ কিশোরকুমার আসলে সুবিধাবাদী লোকদের থেকে নিজেকে আলাদা করে রাখতেন। হয়ত সেই কারণে তিনি কিঁপটে বলে প্রচার হয়েছে, কখনও বা বলা হয়েছে একটু পাগলাটে ধরনের মানুষ। সত্যি কি তাই!

 ধ্রুবতারাদের খোঁজে 

#kishorekumar 

#MannaDey 

#playbacksinger 

#legend

#dhrubotaraderkhonje 

#song 

#music 


 পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, জীবনের জলসাঘরে মান্না দে

সক্রেটিস করেছিলেন দুই বিয়ে। প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি সুন্দরী ছিলেন বটে! কিন্তু মুখে ছিলো বিষ আর চোখে আগুন। সক্রেটিসের ঘরে ঝগড়া লেগেই থাকতো। সারাদিন জ্ঞান বিলায় লোকটা। 

 সক্রেটিস করেছিলেন দুই বিয়ে। প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি সুন্দরী ছিলেন বটে! কিন্তু মুখে ছিলো বিষ আর চোখে আগুন। সক্রেটিসের ঘরে ঝগড়া লেগেই থাকতো।


সারাদিন জ্ঞান বিলায় লোকটা।  বিনিময়ে একটি কড়িও নেন না। কোনো আয় উপার্জন নেই। ঘরে তিন সন্তান, এক স্ত্রী। এর উপর করেছেন দ্বিতীয় বিয়ে, মির্টো নামের এক মেয়েকে! বাপের কিছু সম্পদ আছে তার। একে বাড়াবে দূরে থাক, গরিবদের দিয়েই শেষ করে চলছেন।

কতো আর সহ্য করবেন জ্যানথিপি?


একরাতে ঘরে নেই খাবার, ছেলে-মেয়ে কেঁদেকেটে ঘুমিয়েছে। সক্রেটিস ঘরে বসে ধ্যান করছেন। জ্যানথিপির সহ্য হলো না। শুরু করলেন বকাঝকা।

যেই সেই বকা নয়, ভয়াবহ কিছু!


সক্রেটিস নিরবে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। বাইরে এসে চাঁদের আলোয় শুরু করলেন বইপড়া।

জ্যানথিপি এটা দেখে তো আরো আগুন!

করলেন কী? ঘরে সারা দিনের জমানো ময়লাপানি ছিলো এক গামলায়। সেই গামলার পানি ঢেলে দিলেন সক্রেটিসের উপর!


সক্রেটিস রাগ করলেন না। বরং হেসে বললেন, এতো গুরুগম্ভীর মেঘের গর্জনের পরে এক পশলা বৃষ্টি না হলে কি আর শোভা পায় ?!


গ্রীষ্ম হোক আর শীত হোক, সক্রেটিসের গায়ে থাকতো একটাই কোট। সব ঋতুতে এটাই পরতেন। অন্য কোনো জামা ছিলো না তার। পায়ে ছিলনা কোনো জুতা। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, সুখের সুযোগ ত্যাগ করে এতো  কষ্টের জীবন কেন বেছে নিলেন?


সক্রেটিস বললেন, এটা  বেছে নিলাম, যাতে লোভের কুকুরগুলো  বুঝে- সত্য, জ্ঞান ও স্বাধীনতা এমন  এমন এক সুখ, যাকে ক্রয় করতে হয় কষ্ট ও কৃচ্ছ্রতার বিনিময়ে!


সেখান থেকেই আমরা পাই তাঁর বিখ্যাত উক্তি - "যদি তুমি ভালো বউ পাও তাহলে তুমি সুখি হবে, আর না পেলে তুমি দার্শনিক হবে"।

রাজ্জাক-ববিতা অভিনিত-অনন্ত প্রেম ----

 রাজ্জাক-ববিতা অভিনিত-অনন্ত প্রেম ----

বাংলাদেশের একটি সিনেমায় এমন একটা দৃশ্য ছিল যা পৃথিবীর আর কোনো সিনেমায় নেই। নায়ক আর নায়িকা পালিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। নায়কের দাড়ি শেভ করা দরকার,কিন্তু আয়না নেই। অগত্যা নায়িকার চোখের আয়নায় নায়ক দাড়ি কাটছে। নায়িকার মুখের বেশ কাছে নায়ককে ঝুঁকে আসতে হয়েছে। তাঁরা দুজনের নিঃশ্বাসের উত্তাপ অনুভব করছে। একই সিনেমায় পলাতক নায়ক পরিশ্রান্ত হয়ে ঘুমাচ্ছে। নায়িকা ঘুমন্ত নায়কের শিয়রে বসে গাইছে - আলো তুমি নিভে যাও …যাও… রাত আঁধার হয়ে যাও …যাও।


সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে রোমান্টিক এইসব দৃশ্য আর দেখার উপায় নেই। কারন সিনেমাটা হারিয়ে গেছে। ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটার নায়ক রাজ্জাক,নায়িকা ববিতা। এই সিনেমাতেই দেশের সিনেমার ইতিহাসে প্রথম নায়ক নায়িকার চুম্বন দৃশ্য ছিল "যদিও পরে তা বাদেই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়" এখন সিনেমাটা খুঁজে পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো যদি কারো ব্যক্তিগত সংগ্রহে থেকে থাকে। 


অনন্ত প্রেমের গল্প -----

একেবারেই নতুন ভিন্ন গল্পকাঠামো নিয়ে নির্মিত হয় "অনন্ত প্রেম" ছবিতে রাজ্জাক এবং তার তিন বন্ধু খলিল এটিএম শামসুজ্জামান ও ব্লাক আনোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ববিতাও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। খলিল ববিতাকে পছন্দ করে,কিন্তু ববিতা তাকে পাত্তা দেয় না। সে ক্ষেত্রে খলিলকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে রাজ্জাক,ব্ল্যাক আনোয়ার ও এটিএম শামসুজ্জামান। পরিকল্পনা করতে থাকে কীভাবে ববিতাকে পটানো যায়। সেই মতে নির্জন স্থানে ববিতাকে আক্রমণ করে তিন বন্ধু। আর ববিতার সাহায্যে এগিয়ে আসে খলিল। সাজানো মারামারির কারণে সবাইকে হারিয়ে ববিতার চোখে হিরো হয়ে যায় খলিল।


পরবর্তীতে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ববিতাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে ইজ্জত লুটতে চায় খলিল। চিৎকার শুনে রাজ্জাক ও বন্ধুরা এগিয়ে যায়। তবে এবার সত্যিকারের মারামারির একপর্যায়ে রাজ্জাকের হাতে খলিল খুন হয়। ববিতাকে তার বাসায় পৌঁছে দিয়ে রাজ্জাক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। ঘটনার সঙ্গে ববিতার নাম জড়ালে তার বদনাম হবে ভেবে রাজ্জাক পুলিশের কাছে বলে টাকা নিয়ে ঝগড়ার কারণে বন্ধুকে একাই খুন করেছে।


পরে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যায় রাজ্জাক। এ দিকে শৈশবে মাতৃহীন ববিতাকে অত্যাচার-অনাচারের অংশ হিসেবে এক লম্পটের সঙ্গে সৎমা বিয়ে দিতে চাইলে বিয়ের আসর থেকে ববিতাও পালিয়ে যায়। রাজ্জাক ও ববিতা দুজনই পালিয়ে যায় দুদিক থেকে,

তবে ট্রেনে দেখা হয়ে যায় তাদের। এবার তারা পালিয়ে চলে যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অরণ্যে। যেখানে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা একে অপরের প্রেমে পড়ে যায়,

শুরু হয় এক অনন্ত প্রেম কাহিনির যাত্রা। গভীর পাহাড়ি অরণ্যে ভেসে ওঠে মধুর সেই সুর - ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই,তুমি হলে মনের রানি।


এ দিকে ব্ল্যাক আনোয়ার ও এটিএম শামসুজ্জামান পুলিশের হাত থেকে পালাতে গিয়ে গুলি খেয়ে মারা যায়। ফলে প্রকৃত ঘটনার সাক্ষী দেওয়ার মতো আর কেউ থাকে না। রাজ্জাকের নামে পুলিশের হুলিয়া জারি হয়,হন্য হয়ে পুলিশ খুঁজতে থাকে তাকে। একপর্যায়ে তাদের সন্ধানও পেয়ে যায়,গভীর অরণ্যের মাঝে তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাবার সময় একটি ঝর্ণার কাছে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় দুজনের। মৃত্যুর সময় ভালোবাসার নির্দশন স্বরূপ পরস্পরকে চুম্বন করেন তারা। শেষ পর্যন্ত ঝর্ণার তীরে পড়ে থাকে তাদের আলিঙ্গনবদ্ধ প্রাণহীন দেহ। মূলত এটাই কালজয়ী চলচ্চিত্র "অনন্ত প্রেম" এর মূল কাহিনি৷


ছবির শেষ দৃশ্যের দিকে রাজ্জাক ববিতার একটি চুম্বন দৃশ্য ছিল,যা পরবর্তীতে বাদ দেওয়া হয়। যার একমাত্র কারণ ছিলেন ববিতা। তিনি কিছুতেই এরকম একটি দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হচ্ছিলেন না,তবে রাজ্জাক সাহেব এমনভাবে বুঝিয়েছিলেন তাতে আর ববিতা দৃশ্যটি না করে থাকতে পারেননি। তবে শুটিংয়ের পরই ববিতা আফসোস করতে থাকলেন,রীতিমত কান্নাকাটি শুরু করেন। ভাবলেন এরকম দৃশ্য দেখলে তো তাকে আর কেউ বিয়ে করবে না। ঠিক তখন রাজ্জাক সাহেব আশ্বস্ত করে ববিতাকে বললেন "আগে তুমি দৃশ্যটি দেখ, যদি ভালো না লাগে এটি বাদ দিয়ে দেবো" অবশ্য পরে ববিতা দৃশ্যটির শিল্পরূপ দেখে বাদ না দেওয়ার জন্য বলেছিলেন,কিন্তু তখন রাজ্জাক সাহেব ববিতার ভবিষ্যতের কথা ভেবে দৃশ্যটি আর রাখেননি। তিনি ভেবেছিলেন এরকম একটি দৃশ্যের জন্যে হয়তো ববিতার ভবিষ্যতের উপর কোন প্রভাব পড়তে পারে। সহশিল্পীর প্রতি এমন দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা দেখিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্জাক - ববিতারা।


তবে ছবি মুক্তির আগে এক বিবৃতিতে রাজ্জাক এটাও বলেন,আমার ছবির শেষ দৃশ্যে একটি চুম্বন দৃশ্য ছিল। পত্রিকায় সে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আমার অগণিত ভক্ত,অনেক মা-বোন ব্যক্তিগতভাবে অনেক চিঠি এবং টেলিফোনে আমার কাছে প্রশ্ন রেখেছেন যে,

চুম্বন দৃশ্যটি ছবিতে না থাকলেই কি নয়? আমি পুরো ছবিটি আবার দেখে উপলব্দি করলাম যে চুম্বন দৃশ্য না থাকলে ছবির এতটুকুও সৌন্দর্যহানি হয় না। ঐটুকু ছাড়াই এ ছবি দর্শকদের ভালো লাগবে। তাই ভক্ত এবং মা-বোনদের অনুরোধ রক্ষার্থে আমি চুম্বন দৃশ্য বাদ দিয়ে দিয়েছে।


তূমুল দর্শকপ্রিয় ছবিটির সবকটি গানও পেয়েছিল সমান জনপ্রিয়তা। সংগীত পরিচালক ছিলেন আজাদ রহমান সাহেব,অবশ্য "ঐ আকাশ যতদিন থাকবে,এই পৃথিবী যতদিন থাকবে,আমি যে তোমারই থাকবো" গানটির পরিচালক ছিলেন জনাব খন্দকার নূরুল আলম সাহেব,গীতিকার ছিলেন কাজী আজিজ আহমেদ সাহেব৷


আজাদ রহমানের সুরে_আলো তুমি নিভে নিভে যাও যাও_ঐ কোর্ট কাচারির এমনই রায়_তোমারই কাছে আমি বারবার আসবো_ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই। গানগুলো এখনো সমান জনপ্রিয় বিশেষ করে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখায় খুরশীদ আলম ও সাবিনা ইয়াসমিনের কন্ঠে "ও চোখে চোখ পড়েছে যখনি" গানটি সময়ের স্পর্শকে বাঁচিয়ে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি ক্ল্যাসিক গানে পরিণত হয়েছে। গানটির শুটিং হয়েছিল কাপ্তাইয়ের অসাধারণ সুন্দর সব লোকেশনে!


লিখেছেন - আরিফুল হাসান

বাংলা মুভি ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা।

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:০৮-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:০৮-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: হাওর অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দে...