এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫

অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য,২০১৩সালে সরকারি চাকরিতে জয়েন করেছি, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য,২০১৩সালে সরকারি চাকরিতে জয়েন করেছি, ৪৫০০ টাকা বেসিকে। ১৩ বছর চাকরি করার পরে সামান্য কিছু  বেতন বেড়েছে, সব মিলিয়ে মাস শেষে  কিছু টাকা পাই। প্রথম পোস্টিং ছিল কুমিল্লা । বছরে কয়েক বার বাড়িতে  ছুটি আসতাম। ছুটি শেষ বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় পকেটে ভাড়ার টাকাও থাকতো না। এত অল্প টাকা বেতনে কখনো বাবা,মা ,ভাই ,বোন ,কারো স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি, কোনদিন ভালো বাসে উঠে ছুটিতে বাড়িতে আসতে পারেনি। কখনো ভালো রেস্টুরেন্টে খেতে পারেনি। বাবা মাকে ভালো জিনিস খাওয়াতে পারেনি। চাকরি যখন ৩/৪ বছর তখন বিয়ে করেছি। তখন ব্যাংকে আমার ১০ হাজার টাকাও নেই, শ্বশুর বাড়িতে যখন বেড়াতে গিয়েছি, কোনদিন ভালো কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেনি, শ্বশুরবাড়িতে গেলে অনেক লজ্জা লাগ তো, কারণ আমার শ্বশুর বাড়িতে আমাকে অনেক আদর করত। প্রত্যেকটা জামাই চায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে সবচেয়ে ভালো জামাই হয়ে থাকতে। প্রত্যেকটা মানুষের কিছু প্রিয় স্বপ্ন থাকে। আমার প্রিয় স্বপ্ন ছিল , ভালো কাপড়-চোপড় পড়া ভালো জুতা পরা, একটা মোটরসাইকেল কিনে ব্যবহার করা, খুব সামান্য একটা স্বপ্ন, সেগুলো কোনদিন পূরণ করতে পারিনি, আজ চাকরি আমার ১৩ বছর প্রায় শেষ, এখন ও একটা মোটরসাইকেল কিনতে পারিনি, বাড়িতে গেলে সব সময় বন্ধুদের মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়াই। বন্ধুরা সব সময় বলে মোটরসাইকেল কখন কিনবি,  । তখন শুধু মনে মনে হাসি , কারন আমার নামের পাশে তো সরকারি চাকরিজীবী লেখা আছে , বন্ধুরা তো বলবে এটাই স্বাভাবিক।,  চাকুরী জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। প্রতিদিন রাত জেগে ডিউটি দিয়েছি, ভোতা কাচি দিয়ে ঘাস কেটেছি, ঘাস কাটতে কাটতে হাতের মধ্যে ফুচকা পড়ে গেছে, একদিন তো কান্না করে দিয়েছিলাম ঘাস কাটতে গিয়ে, তখন এক সিনিয়র সার্জেন্ট, আমার হাত দেখে বলেছিল, ও মনে হয় কোনো ভালো ফ্যামিলির ছেলে , ওকে আর ঘাস কাটতে দেয়া যাবে না কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছি, নোংরা ড্রেন পরিস্কার করেছি, ১৬ মাইল দৌড় দিয়েছি, তিন মাইল দৌড় দিয়েছি, সারা জীবন গরমের মধ্যে মোটা কাপড়ের ইউনিফরম পড়েছি , মাথায় মোটা টুপি পড়েছি, অনেক গরম পড়ছে, কখনো কখনো মনে হয়েছে মাথার টুপিটা খুলি, মোটা কাপড়ের ইউনিফর্ম টা একটু খুলি। কিন্তু ডিপার্টমেন্ট এর চাকরি সিনিয়ারদের ভয়ে কখনো তা সম্ভব হয় নাই। জীবনে কখনো কি শুনেছেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার পরে ও চাকরি চলাকালীন অবস্থায় মানুষ আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা করে, এখন অবশ্য বিজিবি, পুলিশ আর্মি, এই তিন বাহিনীর লোক আত্মহত্যা করে, তাও আবার নিজের অস্ত্র দিয়ে নিজেই, গুলি করে। কিন্তু কখনো কি কেউ জেনেছেন কিসের জন্য আত্মহত্যা করে। সেটা কখনো কেউ জানতে চায় না। এতকিছুর পরেও ,আমরা বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। কিন্তু পারিনা, এই সরকারি চাকরিতে একটা জিনিস পেয়েছি সবার কাছ থেকে, সেটা হচ্ছে ,বাবা মায়ের সাথে ভালো সম্পর্ক নেই, ভাইদের সাথে নেই, আত্মীয়-স্বজনের সাথে নেই, শশুর বাড়ির লোকজনের সাথে নেই। ইচ্ছা থাকলেও মানুষের মনের আশা পূরণ করতে পারছি না। কারণ ১৩ বছর চাকরিতে এখন বেতন পাই ২৫ + হাজার টাকার মত, এই টাকা দিয়ে কি করা সম্ভব, যার দুইটা ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে, বাবা-মা বৃদ্ধ, মাস শেষে, কোনরকম ডাল ভাত খেলে হয়তো বা পাঁচ হাজার টাকা ব্যালেন্স থাকে, কিন্তু অসুস্থ হলে আবার ৫০০০ টাকা দেনা হতে হয়। সরকারি চাকরি করি ইচ্ছা করলেই তো লুঙ্গি পড়ে ঘুরে বেড়াতে পারি না , সেই জন্য প্যান্ট পড়তে হয়। আমাদের চেয়ে রিক্সাওয়ালা অটোওয়ালাতারা অনেক ভালো আছে। কারণ তাদের তো প্যান্ট পড়ার চিন্তা নেই। আজ ০৮ টি বছর সরকার বেতন বৃদ্ধি করে না। জিনিসপত্র দাম তো আর থেমে নেই সব দ্বিগুণ হয়েছে।

আর কতদিন এভাবে চলবে। আস্তে আস্তে স্বপ্নগুলো ছোট হয়ে আসছে মন ভেঙে যাচ্ছে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। 

শরীরের বিভিন্ন রোগব্যাধি ভর করছে।

 কেউ যদি কষ্ট করে আমার লেখাগুলো দয়া করে পড়ে থাকেন।

অনুরোধ থাকবে। কেউ অবহেলার চোখে দেখবেন না। কারো দয়া বা করুণা পাওয়ার জন্য লিখিনি। বিভিন্ন টেনশন মাথার মধ্যে ভর করে, রাতে ঘুম আসে না। 

তাই লিখলাম।

 🥲🥲

ইনকামে বরকত পাচ্ছিনা এই অভিযোগ নিয়ে একদিন আমার এক প্রিয় উস্তাযের (মেন্টর) কাছে গেলাম। কোনো কিছু নিয়ে দ্বিধান্বিত-কনফিউজড কিংবা অশান্তিতে থাকলে তার সাথে কথা বললে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি আমি পাই। 

 ইনকামে বরকত পাচ্ছিনা এই অভিযোগ নিয়ে একদিন আমার এক প্রিয় উস্তাযের (মেন্টর) কাছে গেলাম। কোনো কিছু নিয়ে দ্বিধান্বিত-কনফিউজড কিংবা অশান্তিতে থাকলে তার সাথে কথা বললে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি আমি পাই। 


তো একবার এইরকম একটা ডাউট নিয়ে আমি মেন্টরের সাথে দেখা করলাম। 


আমাকে দুধ এবং চিনি ছাড়া স্রেফ গরম পানিতে ডুবানো একটা টি প‍্যাক এগিয়ে দিয়ে বললেন-তানভীর, আছো কেমন? 

আমি কিছুটা আড়ষ্টতা নিয়ে তাকে বললাম, কনফিউজড উস্তায! 


তিনি আমার চেহারার দিকে গভীর ভাবে তাকালেন, মিনিট খানেক। তারপর চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন-কি নিয়া পেরেশানিতে আছো? 

আমি তার আরো একটু সামনে এসে নিচু কন্ঠে বললাম-উস্তায, আমার ইনকাম নিয়া আমি দ্বিধায় আছি। আমি সৎ পথে উপার্জন করি। পেশাগত কাজে পারলে ২০০ ভাগ নিবেদন দিয়ে কাজ করি। তারপরও কেন জানি এতো বছর কাজ করার পরও আমার মনে হয়ে যে আমার উপার্জনে কোনো বরকত পাচ্ছিনা। 


উস্তায মন দিয়ে আমার কথা শুনলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন

*কেন তোমার এমন মনে হচ্ছে? 

আমি এবার বললাম, যে আমার সেভিংস হচ্ছেনা। প্রতিবছর যেমন আয় বাড়ছে, তেমনি খরচও বাড়ছে। 


উস্তায আবার কী মনে করে যেন আমার ডান হাতটা তার হাতে নিলেন। তারপর আবার গভীর ভাবে আমার কপাল আর চোখের দিকে তাকালেন। প্রশ্ন করলেন

_কিসের খরচ বাড়ছে তোমার? 

_এই ‍যেমন বাচ্চাদের এডুকেশন-ওদের স্কুলের বেতন, ওদের টিচারদের বেতন, কিছু অস্বচ্ছল আত্নীয় স্বজনদের খরচ। 

_কোন স্কুলে পড়ে তোমার বাচ্চারা? 

-আমি স্কুলের নাম বললাম। 

_-তানভীর, তুমি কি মনে করো, শুধু ব‍্যাংকে জমা বাড়া মানেই আয়ের বরকত? 

আমি আমতা আমতা করি। 

_এই যে তুমি সেরা একটা স্কুলে তোমার বাচ্চাদের পড়াতে পারছ, এটা কি বরকত নয়? কয়জন বাবা-মা এরকম ভালো স্কুলে তার বাচ্চাদের পড়াতে পারছে? 

হ‍্যাঁ, তা তো ঠিক। আমি মাথা নাড়ি। 

_তোমার বাচ্চারা কেমন? ওরা কি উচ্ছৃংখল? তোমাদের কথা বার্তা শোনেনা? 

-না, না উস্তায। খুব লক্ষি বাচ্চা ওরা। 

_এটা কি বরকত নয়, তানভীর? 

_জি, অবশ‍্যই। 

_বিগত ৫/৭ বছরে তোমার পরিবারে কেউ বড় রকম অসুস্থ হইছে? বা তুমি নিজে? 

_না উস্তায, আল্লাহর রহমতে কেউ ওরকম সিরিয়াস অসুস্থ হয়নাই। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়েছিল, আল্লাহর রহমতে দ্রুত সুস্থ হয়ে গেছে। 

*হাসপাতালে ভর্তি করাতে হইছিল? 

_না উস্তায, আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়েছে। 

:-এই যে তোমরা সুস্থ আছো, এটা কি বরকত না, তানভীর? আমার মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করেন তিনি। 

-জি অবশ‍্যই। 


-তানভীর, তোমার স্ত্রী কেমন মানুষ? সে কি তোমার সাথে সদাচারণ করে? তোমার খেয়াল রাখে? সে কী উন্নত চরিত্রের নয়? 

না না, উস্তায। সে অসাধারণ উন্নত চরিত্রের মানুষ। সে শুধু আমাকেই নয়। আমার সন্তাদের, আমার বাবার, আত্নীয় স্বজনেরও যত্ন নেয। 

:-আর কী বরকত চাও, তুমি? পরিবারে শান্তির চেয়ে বড় বরকত কী হতে পারে? 

:-জি উস্তায, আমি আসলে এভাবে গভীরে গিয়া চিন্তা করিনাই। 


*তোমার বাবা-মা আছেন? 

-মা নেই, বাবা আছেন? 

-বাবা কি তোমার সাথে থাকেন, নাকি আলাদা থাকেন? 

-আমার সাথে থাকেন, উস্তায। আমার সাথে। 

*তোমার বাবা তোমার সাথে থাকেন, এ যুগে বাবা-মা সাথে থাকা, কত বড় বরকত তানভীর, তুমি টের পাওনা? 

-টের পাই উস্তায। টেরপাই। আব্বা সাথে আছেন, এইটা

অনেক বড় বারাকা, উস্তায। 


তিনি আর কথা বাড়ান না। আমাকে বুকে জড়াই ধরেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। তারপর বলেন, জীবনে টাকা পয়সা-ধনসম্পদ বৃদ্ধিই শুধু বরকত না। জীবনে তুমি সুস্থ আছো, তোমার একটা সুন্দর পরিবার আছে, তুমি তাদের এবং তারা তোমার দেখভাল করতে পারছে-এটাও বরকত। জীবনে তুমি সঠিক জ্ঞানের আলো পাচ্ছ-এটাও বরকত। আত্নীয় স্বজনের খবর নিতে পারছ-এটাও বরকত। প্রতিদিন বাবার চেহারা দেখতে পাচ্ছ-এটাও বরকত। 


তুমি টাকা পয়সা ব‍্যাংকে জমাইয়া কী এরচেয়ে বেশি বরকত পাবে, তানভীর? 

*উস্তায, আপনি ঠিক বলছেন। 


তিনি আমাকে নিচ তলা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। আমি তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে পড়ি। গাড়ি সার্ট দিয়ে আমি প‍্যানারমিক সানরুফটা খুলে দিই। তারপর গভীর কৃতজ্ঞতায় আকাশের দিকে তাকাই। সেদিন ছিল জোৎস্না। রুপালী আলোয় ভেসে যাচ্ছে আকাশ। সানরুফের খোলা ছাদ দিয়ে আমি দুইহাত উপরে তুলে দাঁড়িয়ে যাই। তারপর দুচোখ বন্ধ করি। আমি অনুভব করি, পৃথিবীর সব বরকত জড়িয়ে আছে আমায়।


(তানভীর শাহরিয়ার রিমন)

Cp

ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণের দানাদার খাদ্য তালিকা :

 ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণের দানাদার খাদ্য তালিকা :

গমের ভুসি : 35 কেজি, 

ধানের গুঁড়া : 15 কেজি, 

ভুট্টার ভাঙ্গা : 16 কেজি,

খেসারি ভুসি : 15 কেজি, 

সরিষার খৈল বা সয়াবিন খৈল : 10 কেজি,

ছোলাবুট ভাঙ্গা : 3  কেজি,,

শুঁটকি মাছের গুঁড়া : 1 কেজি,

ডিবি পাউডার : 1 কেজি,, 

ডিসিপি গোল্ড পাউডার : 2 কেজি, 

আয়োডিন যুক্ত লবণ : 2 কেজি,

                মোট = 100 কেজি,,

100 থেকে 200 কেজি ওজনের একটি ষাঁড় গরুকে 

গড়ে প্রতিদিন দেড় কেজি দানাদার খাদ্য খাওয়াবেন,,

সাথে মিটমোর ফিড অথবা নারিশ ফিড 

কিংবা অন্য কোন ভালো মানের ফিড 

সকালে 350 থেকে 550 গ্রাম করে খাওয়াবেন 

বিকালে সমপরিমাণ ফিড খাওয়াবেন,,


কাঁচা ঘাসের সু ব্যবস্থা না থাকলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ সামান্য কিছুটা বেশি করে খাওয়াবেন,,


উল্লেখ্য যে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা ছাড়াও 

সামান্য কম বেশি করে বিভিন্ন উপায়ে দানাদার খাদ্য তৈরি করে খাওয়াতে পারেন,,

বিশ্বের সেরা সুখী দেশে পরিবারসহ স্থায়ী হবার সুযোগ।

 বিশ্বের সেরা সুখী দেশে পরিবারসহ স্থায়ী হবার সুযোগ।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ডের ভিসার জন্য আবেদন করবেন যেভাবে: 


৮ম বারের মত পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ নির্বাচিত হল ফিনল্যান্ড। অনেকেই পরিবার নিয়ে ফিনল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান। আশা করছি পোস্টটি তাদের উপকারে আসবে। 


প্রথমে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যেতে হবে। কিভাবে আবেদন করবেন?


Studyinfo fi এই ওয়েবসাইটে গিয়ে পছন্দের প্রোগ্রাম বেছে নিন এবং নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনকাল ও ভর্তি সম্পর্কিত বিবরণ দেখে নিন।


Scholarship/বৃত্তি:


স্নাতক (Bachelor) প্রথম বছরের জন্য সাধারণত বৃত্তি দেওয়া হয় না, তবে Early Bird Scholarship/Discount পাওয়া যায় (প্রথম বছরের টিউশন ফির 15% থেকে 50% পর্যন্ত ছাড়)। মাস্টার্স (Masters) জন্য সিজিপিএ, মোটিভেশন লেটার, IELTS, GRE স্কোর, চাকরী ও গবেষণার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা 100% পর্যন্ত স্কলারশিপ পেতে পারে।


ব্যাংক স্টেটমেন্ট/Bank statement: 


আবেদনকারীকে তার ব্যাংক একাউন্টে 9600 ইউরো দেখাতে হবে। এই টাকা অবশ্যই শিক্ষার্থীর/আবেদনকারীর একাউন্টে থাকতে হবে। কেউ যদি স্পনসর হতে চাই সেক্ষেত্রে কোন কোনো আত্মীয়তা প্রয়োজন নেই। যে কেউ স্পনসর হতে পারে। স্পনসর তার একাউন্ট থেকে আবেদনকারীর একাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার করতে পারেন। স্পনসরকে ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রদান করতে হবে।


Post Study Work Visa/ জব ভিসা : 


ফিনল্যান্ডে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করার পরে, আপনি দুই বছরের বৈধতার সাথে একটি পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাবেন। এই সময়ে চাকরি খোঁজার অনুমতি পাবেন।


PR (Permanent Residency):


আবেদনকারীকে ৪ বছরের জন্য বৈধভাবে ফিনল্যান্ডে থাকতে হবে। ফিনিশ ভাষা জানতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে জানলে ভালো। আবেদনকারীকে ট্যাক্স বাদ দিয়ে অন্তত প্রতি মাসে 1600 ইউরো উপার্জন করতে হবে। পড়াশোনার ফিল্ডে চাকরি করতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। 


কমন কিছু প্রশ্ন:


১. ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি IELTS লাগবে?

   - আবশ্যক না। তবে পৃথক এপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে IELTS, Job experience এমনকি কিছু ক্ষেত্রে SAT ,GRE স্কোরও দরকার হতে পারে।


২. ফিনল্যান্ডে বাস করা কি ব্যয়বহুল?

   - অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় মাঝারি খরচ, যা ৪০০-৬০০ ইউরো হতে পারে।


৩. আমি কি ফিনল্যান্ডে পড়াশোনা করার সময় কাজ করতে পারবো?

   - হ্যাঁ, প্রতি সপ্তাহে সর্বাধিক ৩০ ঘন্টা কাজের অনুমতি থাকবে। পড়াশোনা শেষে ফুল-টাইম কাজের অনুমতি পাবেন।


৪. ফিনল্যান্ডে আবেদনের জন্য স্টাডি গ্যাপ কত বছর পর্যন্ত গ্রহনযোগ্য?

   - স্টাডি গ্যাপ কোনো ইস্যু না, ১০/১৫ বছরের গ্যাপেও এডমিশন ও ভিসা পাওয়া যায়।


৫. আমি কিভাবে ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে পারি?

   Studyinfo fi পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়।


৬. ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার খরচ কেমন?

   - টিউশন ফি বছরে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।


৭. অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় ফিনল্যান্ডে স্যাটেল হওয়া কি সহজ?

   - হ্যাঁ, ফিনল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট/PR/সিটিজেনশিপের জন্য পড়াশোনার ফিল্ড রিলেটেড চাকরি দরকার হয় না।


৮. আমি কি আমার বাবা-মাকে ফিনল্যান্ডে নিতে পারব?

   - হ্যাঁ, ভিজিট ভিসায়।


৯. আমি কি আমার স্পাউস এবং বাচ্চাদের ফিনল্যান্ডে নিতে পারবো?

   - হ্যাঁ।


১০. আমি কি পার্ট টাইম চাকরির মাধ্যমে টিউশন ফি, থাকা খাওয়া সব ম্যানেজ করতে পারব?

    - এটা নির্ভর করবে আপনার টিউশন ফি, লিভিং এক্সপেন্স এবং শহরের উপর। যদি জব পেয়ে যান তাহলে বছরে ৮,০০০ ইউরো পর্যন্ত ম্যানেজ করা যায় সহজেই।


আশা করছি পোস্টটি আগ্রহীদের উপকারে আসবে।

যে কারণে মধ্যবিত্তরা সর্বস্বান্ত হন।

 যে কারণে মধ্যবিত্তরা সর্বস্বান্ত হন।

১. ভুল জমি বা ফ্লাট কেনা।


দেশে অসংখ্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আছে, এরা বরশি ফেলে বসে আছে টোপ গেলার জন্য এবং এ টোপ হচ্ছে মধ্যবিত্ত। কেনার সময় আপনাকে যে জমি দেখানো হয়েছে আসলে তা হয়তো কেনাই হয়নি। জমির মালিককে মাসে দুহাজার টাকা ভাড়া দিয়ে জমির উপর কোম্পানিটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছে মাত্র।


এ জমি কিনলেন তো বুড়িগঙ্গায় কষ্টের টাকা বিসর্জন দিলেন। সর্বস্ব হারানো মানুষটির এসব মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কিছুই করার থাকে না। আশেপাশে তাকালেই এদের হাতে পথের ফকির হওয়া অনেককেই দেখবেন।


উল্টাপাল্টা ডেভেলপার থেকে ফ্লাট কিনলেও একই দশা অপেক্ষা করছে।


একটি ভুল জমি বা ফ্লাট ইকুয়াল টু বাকি জীবনের কান্না।


২. অস্বাভাবিক ডিসকাউন্ট দেওয়া কোম্পানি।


এরা পঞ্চাশ হাজার টাকার জিনিস দশ হাজার টাকায় অফার করবে। কমদাম দেখে মধ্যবিত্তরা ঝাঁপ দেবেন। এর মধ্যে সামান্য কয়েকজনকে পণ্য সরবরাহ করা হবে, বাকি অসংখ্য অর্ডারকারিকে দেবে না, সোজা কথায় তাঁদের টাকা মেরে দেওয়া হবে। বঞ্চিতরা এ কোম্পানির মালিককে জীবনেও ধরতে পারবেন না। কারণ তাঁদের টাকায় সে টাউট ইতোমধ্যে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে, গড়ে তুলেছে মাস্তান বাহিনী, চড়ে বুলেট প্রুফ গাড়িতে, বাস করে দূর্গে। ক্ষমতাহীন মধ্যবিত্তের সাধ্য নেই তাকে ধরার।


৩. ক্রেডিট কার্ড।


নগদ টাকা বের হয়ে যাওয়ার সময় যেমন মন খচখচ করে করে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনার সময় তা করে না। তাই সব কিছু কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে। একবারও মনে আসে না যে, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি প্রায় ত্রিশ পার্সেন্ট সুদ আরোপ করবে। মানে ১০০ টাকার জিনিস আসলে আপনি কিনছেন ১৩০ টাকায়। এটি এমন একটি গর্ত, যেখানে ঢুকা যায়, কিন্তু বের হতে জান বেরিয়ে যায়। মিনিমাম পেমেন্টের গাড্ডায় পড়লে তো জান যাবে কিন্তু ওই গর্ত থেকে বেরুতে পারবেন না।


৪. শেয়ার বাজার।


এটি এমন একটি সুড়ঙ্গ যার ওপর পারে অপেক্ষা করছে অভিজ্ঞ খেলোয়ারেরা। ভালোভাবে এ বাজার না বুঝে সে সুড়ঙ্গে টাকা ঢুকালেন তো অপর প্রান্তে অপেক্ষামান ফিল্ডাররা ক্রিকেট বলের মতো তা খপ করে লুফে নেবে। তার মানে আপনি আউট! পারমানেন্ট আউট। জীবনেও আর খেলার সুযোগ পাবেন না। এরকম আউট হওয়া হতভাগ্য খেলোয়ার আশেপাশেই দেখতে পাবেন।


৫. অতিরিক্ত মুনাফার লোভ।


যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রচলিত বা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ মুনাফা বা সুদের চাইতে বেশি অফার করে তখনই সে প্রতিষ্ঠানে লাল পতাকা কল্পনা করবেন। মানে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি লালবাতি জ্বালিয়ে ভাগবে, তার টিকিটার খোঁজও আপনি পাবেন না। এরা তো জ্বীন-ভূত না যে বাজারের প্রতিষ্ঠিত অতি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের চাইতে বেশি মুনাফা দেবে! এটা কি সম্ভব? এদের হাতে কি আলাদীনের চেরাগ আছে? না নেই। তবে আপনার আমানতের টাকায় এ চেরাগ তারা নিজেদের জন্য তৈরি করছে। যেদিন চেরাগটি পুরোপরি জ্বলবে সেদিন আপনার টাকা বস্তায় ভরে ম্যাজিক কার্পেটে চড়ে এরা গায়েব হয়ে যাবে।


কার্পেট রেডি, কেবল উড়াল দেওয়ার অপেক্ষা।


৬. ব্যাবসা করার জন্য অন্যকে টাকা দেওয়া।


আমি এমন মানুষ খুব কম দেখেছি যারা অন্যকে ব্যাবসা করার জন্য টাকা দিয়ে সব হারান নি। দুটো কারণে এটা হয়। প্রথমত যিনি ব্যবসার জন্য টাকা নিয়েছেন তিনি নিজেই মার খেয়েছেন, ফেরত কোত্থেকে দেবেন? দুই নম্বর হলো টাকা মেরে দেওয়া। কয়েকমাস লাভ দিয়ে তারপর অস্বীকার! লাভ তো দূরের কথা আসলই ফেরত পাওয়া যায় না। তাই ব্যাবসা যদি নিজে বুঝেন তাহলে করবেন, না বুঝে লাভের আশায় অন্যকে টাকা দিলেন মানে ব্যাংকের চেক কাটলেন না, নিজের ভাগ্যকেই নিজে কেটে দিলেন। দুনিয়ার কোনো সার্জনের সাধ্য নেই তা জোড়া লাগানোর।


৭. অন্ধ প্রতিযোগিতা।


আমাদের একটা বাজে অভ্যাস হলো অন্যদের সাথে অন্ধ প্রতিযোগিতা। পাশের বাসায় ৪২ ইঞ্চি টিভি কেনা হয়েছে! আমারও কিনতে হবে। কেউ গাড়ি কিনেছে! ধারকর্জ করে আমাকেও কিনতে হবে। ফলাফল হচ্ছে, পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়া। এ ইঁদুর দৌড়ের কারণে যখন জীবনে ঘোর বর্ষা নামবে তখন হাতে ছাতা থাকবে না। ফালতু প্রতিযোগিতার কারণে সে ছাতা তো কবেই বিক্রি করে দিয়েছি!


তাহলে কী করবেন?


উত্তর: উপরের কোনোটিই করবেন না। টাকাও নিরাপদ থাকবে, আপনিও নিরাপদ থাকবেন। হাতের ছাতা হাতেই থাকুক, বর্ষাকালের জন্য।


সবার জন্য শ্রদ্ধা, শুভকামনা Florance Florance .

Copied

পুরুষ কেন নারীকে বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয় - কার্ল ইয়ুং: 

 পুরুষ কেন নারীকে বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয় - কার্ল ইয়ুং: 

( কার্ল ইয়িং , আধুনিক মনস্তত্ত্বের জনক, ফ্রয়েডের যোগ্যতম শিষ্য) 


সম্পর্কের শুরুতে সবকিছুই থাকে রঙিন স্বপ্ন । নারী তোমার দিকে তাকায়, কিন্তু তোমাকে নয়, বরং তার কল্পনার তৈরি তোমাকে দেখে। তুমি হয়তো সেই চোখের গভীরে আশার ঝলক বা এক ধরণের আকাঙ্ক্ষার ছায়া দেখতে পাও। তুমি ভাবতে শুরু করো, সে বুঝি তোমাকে চাইছে।


 কিন্তু বাস্তবে তুমি তখন শুধুই মাছের বাজারের মাছ। অথবা পেইন্টিং। মহিলা   শুধুই যাচাই করছে—তার মনে আঁকা ছবির সাথে মেলানোর জন্য। অথচ সেই চিত্র তুমি নও, কখনো ছিলেও না।


কার্ল ইয়ুং এমন ভাবেই আমাদের সতর্ক করেছেন। একজন দার্শনিকের গভীর উপলব্ধিতে, একজন মনোবিদের নিখুঁত পর্যবেক্ষণে তিনি মানুষের মনের অন্তঃস্থলে লুকানো এই রহস্য খুঁজে বের করেছিলেন। তিনি দেখলেন, নারীরা real  পুরুষদের ভালোবাসে না, বরং তাদের মনের গোপনে তৈরি একটি ফ্যান্টাসি বা কল্পনার পুরুষকে তারা ভালোবাসে।


আর সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ নারীই জানেনা যে তারা নিজেরাই প্রতারিত। তারা বিশ্বাস করে যে তারা সত্যিকারের একজনকে নির্বাচন করছে। কিন্তু বাস্তবে তারা নির্বাচন করছে সেই চরিত্রটিকে, যা তারা মনে মনে সৃষ্টি করেছে। তার পুরুষ , তার জীবনের নাটকে শুধু একজন অভিনেতা মাত্র, যার ভূমিকা তারই তৈরি।


 যখন তোমার বাস্তব চরিত্র তার স্বপ্নের চিত্রের সাথে মিলতে পারে না, তখনই সে নতুন অভিনেতার খোঁজে নামে। মানে নতুন পুরুষ খুঁজতে নামে। এই চিত্রটিকে ইয়ুং বলেছিলেন 'অ্যানিমাস', নারীর অন্তরের পুরুষ সত্তা। এই অ্যানিমাস যখন নিয়ন্ত্রণহীন, তখন তা পরিণত হয় এক স্বৈরাচারে, যা নারীদেরকে ভুল পথে চালিত করে।


পুরুষরাও এই ফাঁদে পা বাড়ায়। কারণ তারা জানেনা কীভাবে এই নারীকে চিনতে হয়। তারা মনে করে, নারীর আকর্ষণ মানেই , আমন্ত্রণ পত্র। অথচ বাস্তবে তারা শুধু একটি ভূমিকা পালন করছে এমন এক নাটকে, যেটি  নারী তার মনে মনে বহু আগেই ঠিক করে রেখেছে।


 যখন কল্পনার জগৎ ভেঙে পড়ে, তখন পুরুষরা বিভ্রান্ত ও আহত হয়। যদিও তাদের সত্যিকার কোনো দোষ নেই। ইয়ুং বলেন, এই মায়াজাল থেকে মুক্তির পথ হলো 'ইন্ডিভিডুয়েশন', অর্থাৎ নিজেকে সম্পূর্ণভাবে খুঁজে পাওয়া।


ইন্ডিভিডুয়েশন মানে নিজের সত্তাকে অন্যের চাহিদা বা অনুমোদনে নয়, বরং নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠা করা। নিজেকে চেনা ও নিজের দুর্বলতাকে মেনে নেওয়া। ইয়ুং-এর মতে, প্রকৃত পুরুষ নিজের অবচেতনের মুখোমুখি হয়, সে অন্যের কল্পনার পুতুল নয়, বরং নিজের বাস্তবতার স্রষ্টা।


আধুনিক পুরুষের সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো নিজের স্বত্বকে হারিয়ে অন্যের ইচ্ছার পুতুল হওয়া। তুমি একে প্রেম, পারস্পরিক সমঝোতা বলতে পারো, কিন্তু ইয়ুং বলছেন, এটি আসলে আত্মপ্রতারণা। কারণ নারীদের প্রকৃত আকর্ষণ সেই পুরুষের প্রতি, যে রহস্যময় ও নিজের পরিচয়ে উজ্জ্বল।


এই সত্যের মুখোমুখি হওয়া নিঃসঙ্গতার মাধ্যমে আসে। নিজের মনের গভীরে যাওয়া, নিজের ভেতরের নারী সত্তা ('অ্যানিমা')-কে জানা ও মেনে নেওয়া। ইয়ুং-এর মতে, এই পথে হাঁটলেই তুমি প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পাবে। এই স্বাধীনতা এমন ভালোবাসার জন্ম দেয়, যা নিঃস্বার্থ ও বাস্তব, যার মধ্যে কোনো কল্পনার মায়াজাল নেই।


এই পথ কঠিন এবং বেশিরভাগ মানুষ মাঝপথে থেমে যায়। কিন্তু তুমি যদি সাহস করে এই পথে শেষ পর্যন্ত হাঁটতে পারো, তাহলে তুমি নিজের জীবনের প্রকৃত রচয়িতা হয়ে উঠবে। কার্ল ইয়ুং তোমাকে কোনো সরল পথ দেখাননি, বরং দিয়েছেন আত্ম-অনুসন্ধানের এক গভীর চ্যালেঞ্জ।

হিমালয়ের কোলে পড়ে আছে একটি পা। জুতো আছে। মোজাও আছে। মোজার গায়ে সেলাই করা একটি নাম--AC IRVIN। ঠিক একশো বছরের নিঃসঙ্গতা নিয়ে পড়ে আছে পা-টি।।এই পা হয়তো প্রথম এভারেস্টের শিখর ছুঁয়েছিল। ইতিহাস সব কিছু জানে না। জানার কথাও নয়। 

 হিমালয়ের কোলে পড়ে আছে একটি পা। জুতো আছে। মোজাও আছে। মোজার গায়ে সেলাই করা একটি নাম--AC IRVIN। ঠিক একশো বছরের নিঃসঙ্গতা নিয়ে পড়ে আছে পা-টি।।এই পা হয়তো প্রথম এভারেস্টের শিখর ছুঁয়েছিল। ইতিহাস সব কিছু জানে না। জানার কথাও নয়। 


বেচাকেনা চুকিয়ে, লেনাদেনা মিটিয়ে এসি স্যান্ডি আরভিন হিমালয়ে বিলীন হয়েছিলেন ১৯২৪ সালে। কিন্তু তাঁর পা-টি এখনও পড়ে আছে। দেহের বাকি অংশ কোথায় ? কেউ জানে না। শুধু পা-টি আছে বরফের কোলে। পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত রহস্যের সাক্ষী হয়ে। 


কে এই এসি আরভিন ? একজন ব্রিটিশ পর্বত অভিযাত্রী। তিনি এবং জর্জ ম্যালোরি একশো বছর আগে প্রথম এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন বলে জনশ্রুতি। কিন্তু স্রেফ প্রমাণের অভাবে তাঁরা সেই স্বীকৃতি পাননি। দুর্গম হিমালয়ে মিলিয়ে গিয়েছিলেন অকুতোভয় দুই প্রাণ। এন্ড্রু কোমিন 'স্যান্ডি' আরভিনের বয়স তখন ২২। ম্যালোরির ৩৭। কুয়াশায় ঘেরা, বরফ আচ্ছাদিত হিমালয়ে কোথায় হারিয়ে গেলেন তাঁরা ? আজও পৃথিবীর সেরা রহস্য সেটি। 


কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্কুলশিক্ষক ম্যালোরি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিলেন ফ্রান্সে। যুদ্ধের পর দেশে ফেরার পরই পাহাড়ের নেশা চেপে বসে ম্যালোরির। বারবার ছুটে গিয়েছেন হিমালয়ের কোলে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, 'বারবার হিমালয়ে যান কেন ?' 


যে-উত্তরটি দিয়েছিলেন ম্যালোরি তা আজও সোনার অক্ষরে খোদাই করা আছে--কেন যাই ? ম্যালোরির দেহ পাওয়া যায় ১৯৯৯ সালে। আমেরিকার এক অভিযাত্রী দল তাঁর দেহ খুঁজে পায়। ৭৫ বছর ধরে হিমালয়ে পড়ে আছে একটি দেহ। কোমরে দড়ির দাগ। শুধু কাছে নেই ম্যালোরির স্ত্রীর ছবিটি। প্রিয়তমার এই ছবিটি এভারেস্টের চূড়ায় রেখে আসার কথা ছিল। সন্দেহ আরও বাড়ে। তা হলে কি এভারেস্টের চূড়াতেই আছে স্ত্রীর ছবিটি ? 


তেনজিং নোরগে এবং এডমন্ড হিলারি নন, এভারেস্টে প্রথম ওঠেন ম্যালোরি-আরভিন জুটি? সব রহস্যের কিনারা হয় না। এবং হয় না বলেই পৃথিবী এত সুন্দর। আরভিনের পা খুঁজে পাওয়া যায় গত মাসে। এক পর্বত অভিযাত্রী ও সিনেমা নির্মাতার দলের নজরে আসে জুতো-মোজা পরা একটি পা পড়ে আছে। ম্যালোরির দেহাবশেষ যেখানে মিলেছিল তার বেশ খানিক নীচে শুয়ে আছে আরভিনের পা। ওই দলের সদস্য জিমি চিন বলেন, 'মোজাটা তুলে দেখি একটা লাল রঙের লেবেল। তাতে সেলাই করা আছে আরভিনের নাম।' দেহের বাকি অংশ নেই। নেই আরভিনের কোডাক ক্যামেরাটাও। এই ক্যামেরার হদিস পেলে হয়তো ইতিহাস অন্যরকম ভাবে লেখা হতো।


আরভিনের পায়ের খবর শুনে কেঁদে ফেলেন জুলি সামার্স। জুলি আরভিনের বংশধর এবং তাঁর জীবনীকারও বটে। তাঁর কথায়, 'আমি ছোটবেলা থেকে আমি হারিয়ে যাওয়ার কথা শুনে এসেছি। যেদিন ম্যালোরির দেহ মিলল, সেদিন ভেবেছিলাম আরভিনের দেহও নিশ্চয় পাওয়া যাবে।' ম্যালোরির দেহ উদ্ধারের ২৫ বছর পর মিলল আরভিনের পা। ঘটনাচক্রে সেই অভিযানের একশো বছর পরে। হয়তো আরও ২৫ বছর পর এভারেস্টের চূড়ায় কেউ খুঁজে পাবে এক নারীর ছবি। প্রচণ্ড তুষারঝড়েও যে-ছবিটি বরফের গায়ে লেগে আছে এক না-লেখা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। সেই নারীর নাম রুথ  ম্যালোরি। জর্জ ম্যালোরির স্ত্রী।


কবি জানতেন, তাঁর পায়ের চিহ্ন একদিন পড়বে না এই বাটে। কিন্তু আরভিন কি জানতেন, তিনি নন, তাঁর পায়ের চিহ্নও নয়, তাঁর পা-টিই পড়ে থাকবে বরফে ঢাকা হিমালয়ের কোলে? একটা জুতো-মোজা পরা পা কত উথালপাতাল দেখল পাহাড়ে। ঝড় বয়, প্রবল ঠান্ডায় কাঁপতে থাকে চরাচর, কিন্তু পা-টি শুয়ে থাকে একা। একশো বছর ধরে। 


একশো বছরের নিঃসঙ্গতা নিয়ে হয়তো অন্য কাহিনি লিখবে কেউ। হয়তো কোনও নতুন অভিযাত্রী বলবে, 'কেন যাই ? বিকজ ইট ইজ দেয়ার।' হিমালয় তো থাকবেই, যেমন আছেন ম্যালোরি-আরভিন।


#Collected_Post

যে অর্থনীতি সমাজের দায়িত্ববান লোকেরা বোঝে না, তা ঐ মাছ ব্যবসায়ী বোঝেন ।

প্রতিদিন সকালে মাছ কিনতে কিনতে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথেই বন্ধুত্ব হয়ে গেছে । এইরকম এক মৎস্য ব্যবসায়ী সেদিন যা বললেন তা শুনে আমি স্তম্ভিত ! যা বললেন, তা যতটা সম্ভব অবিকৃতভাবে তুলে ধরার চেষ্ঠা করলাম।


"বুঝলে দাদা, আমাদের এখানে সরকারী চাকরী-বাকরী একেবারে কমে গেছে, বাজারের অবস্থা খুব খারাপ । সামনে আমাদের খুব খারাপ দিন আসছে । বেশ কিছু কাস্টমার চাকরী থেকে অবসর নেওয়ার পর আর আগের মত মাছ নেয় না । কিন্তু সে জায়গায় নতুন চাকরী পেয়ে যে কাস্টমার তৈরী হবে, তা একেবারেই হয় নি । সামনে আরও কয়েকজন চাকরীম্যান রিটায়্যার করবেন । তাই সামনে আরও কঠিন দিন আসছে ।" 


"দাদা ভাবছো মাছ তো কেনেন সবাই । তাহলে সরকারী চাকরীর সঙ্গে এর সম্পর্কটা কি ? তাহলে শোনো দাদা, সত্যি কথাই বলি । তোমাদের মত খরিদ্দার আমাদের বাজারের আসল সম্পদ । শুধু মাছ নয়, সারা বাজার, এমনকি সব ধরনের মিস্ত্রী সবাই নির্ভর করে তোমাদের উপরই । তোমরা আছো বলেই সকাল সকাল মাছ বেচে এগারোটা-সাড়ে এগারোটার মধ্যে বাড়ি চলে যেতে পারি । নইলে বেলা একটা-দেড়টা পর্যন্ত বসে থাকতে হত । তোমরা বড়লোক (ধনী) নও, তবে তোমাদের পকেটে মাসকাবারী পয়সা থাকে । 


তোমাদের মত চাকরীম্যানরা সকাল সাতটা-সাড়ে সাতটার আগে বাজারে আসে, অফিস যাওয়ার তাগিদে দরদাম বা যাচাই করে ঘুরে-ফিরে বাজার করার মত সময় সকাল বেলা তাদের হাতে খুব-একটা থাকেনা । পাইকারী 250-300 টাকা কেজির মাছ কিনে 350 থেকে 400 টাকা কেজিও তাদের বিক্রি করি সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত, ফলে প্রথমে ঘরের দান উঠে যায় সহজে । সব খরচ বাদ দিয়ে 400-500 টাকা লাভ হয়ে গেলেই আমি সন্তুষ্ট । 

"এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকী মাছ 200 টাকা, 180 টাকা এমনকি শেষে কেনা দামে 150 টাকায় বিক্রি করতে পারি । শেষ বেলায় খালি করে বাড়ি যাওয়া নিয়ে কথা । তখন লাভ যা হওয়ার হয়ে গেছে চাকরীম্যানদের থেকে ।


যেসব লোক একটু পরে বাজারে আসেন, তাদের কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারি শুধু তোমাদের মত কাকভোরের চাকরীম্যান কাস্টমার থাকার জন্যই । তোমাদের চাকরীর পয়সা কিন্তু শুধু আমরা খাই না । যারা আমাদের কাছে পরে 150 টাকায় মাছ কেনে, তারাও তোমাদের পয়সা খায় । কারণ তোমাদের কাছে প্রথমে বেশি দাম পেয়ে যাই বলেই তো শেষ বেলায় কেনা দামেরও কম দামে মাছ বেচতে পারি ।"


দেখো না, আমাদের এখানে নতুন চাকরী-বাকরী পাওয়া তো বন্ধই হয়ে গেছে, সাধারণ মানুষ সবার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে এবং আরও যাবে । তোমাদের মতো চাকরীম্যানদের হাতে টাকা না থাকলে সামান্য মিস্ত্রীরাও কাজ পাবেনা ।


এবার আমি বললাম একজনকে চাকরী দিয়ে মাসে ত্রিশহাজার টাকা মাইনে না দিয়ে ঐ টাকায় তোমাদের মত ব্যবসায়ী বা মিস্ত্রীদের 30 জনকে মাসিক একহাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হলে ক্ষতি কি ?


উত্তরে তিনি বললেন, "ঐ ভিক্ষার পয়সা চাই না । ওতে জল গরম হবে না । সমাজের শিক্ষিত মানুষের হাতে সরকার পয়সা তুলে দিলে সেই পয়সা ঘুরে-ফিরে আমাদের হাতেই চলে আসে । আমরা নিজেদের সামর্থ মত সেই পয়সাই অধিকার করে নিই । আমাদের কাছে সেটাই ভালো পথ । চাকরী বন্ধ হলে আমার ছেলেটাকে যে লেখাপড়া শেখাচ্ছি, সেও তো চাকরী পাবে না । আমার মতই তাকেও টেনশন-এ দিন কাটাতে হবে প্রতিদিন ।


শোনো দাদা, একটা ইঁটের বাড়ি তুমি তিন ইঞ্চি গাঁথনী দিয়েও করতে পারো । কিন্তু তাতে দশ ইঞ্চি পিলার দিতেই হবে । তুমি যদি ভাবো দশ ইঞ্চি পিলারে সিমেন্ট-স্টোন চিপস্ খরচ না করে পুরোটাই তিনইঞ্চি গেঁথে ঘরের সংখ্যা একটা বাড়াবো তাহলে পুরো বাড়িটাই ভেঙে পড়বে । তাই বাজার (হয়তো বলতে চাইছে সমাজ) ঠিক রাখতে গেলে শিক্ষিত মানুষকে তাদের প্রাপ্য দিতেই হবে । তারা পেলে আমরাও পাবো । তাদের হাত থেকে আমরা পেলে সেটা হবে আমাদের 'অর্জন' করা পয়সা, কিন্তু সেই পয়সা সরকারের হাত থেকে ভাতা হিসাবে পেলে সেটা হবে 'ভিক্ষা' ।"


ওনার কথা শুনে আমার চোখ খুলে গেছে, যে অর্থনীতি সমাজের দায়িত্ববান লোকেরা বোঝে না, তা ঐ মাছ ব্যবসায়ী বোঝেন ।


An Animesh

এক রূপে লুকানো ছিল হাজারো যোদ্ধার মৃত্যু,,,,

 “এক রূপে লুকানো ছিল হাজারো যোদ্ধার মৃত্যু…”


হেলেন ও ট্রয় নগরীর ইতিহাস: মিথ না কি বাস্তবতা?


তিন হাজার বছরেরও আগের একটি কাহিনি আজও মানুষকে বিস্মিত করে। মাত্র একজন নারীর কারণে শুরু হয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত যুদ্ধ—ট্রোজান যুদ্ধ। এই নারীর নাম হেলেন। সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে হেলেন এতটাই পরিচিত যে, তাকে নিয়েই বলা হয়: “The face that launched a thousand ships.” অর্থাৎ, যার রূপে মুগ্ধ হয়ে এক হাজার জাহাজ যুদ্ধে নেমেছিল।


কিন্তু কে ছিলেন এই হেলেন? তিনি কি কেবল কল্পকাহিনির চরিত্র, নাকি বাস্তবেই এমন একজন নারীর অস্তিত্ব ছিল? ট্রয় নগরী কি আদৌ ছিল? চলুন খুঁটিয়ে দেখা যাক।


হেলেন: রূপের দেবী না ইতিহাসের চরিত্র?


গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, হেলেন ছিলেন দেবরাজ জিউস ও রানী লেডার কন্যা। জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন অতুলনীয় রূপসী। তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক রাজপুত্র তাকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হেলেন বিয়ে করেন স্পার্টার রাজা মেনেলাউসকে।


তবে গল্প মোড় নেয় তখন, যখন ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিস হেলেনকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যায় ট্রয়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেনেলাউস গ্রিসের অন্যান্য রাজাদের সঙ্গে নিয়ে বিশাল এক সেনাবাহিনী নিয়ে ট্রয় আক্রমণ করেন। এই ঘটনাই জন্ম দেয় ট্রোজান যুদ্ধের, যা প্রায় ১০ বছর স্থায়ী ছিল।


হেলেন ছিলেন কে?


হেলেন শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে, যার অর্থ “জ্বলন্ত” বা “আলোপ্রদীপ”। এর সাথে তাঁর সৌন্দর্যের উপমা মিলিয়ে দেখা হয়। তবে অনেক গবেষকের মতে, হেলেন শুধুমাত্র একজন নারী ছিলেন না, বরং একধরনের উর্বরতা ও নারীত্বের প্রতীকী দেবী ছিলেন।


স্পার্টার দক্ষিণ-পূর্বে থেরেপনি নামক স্থানে হেলেনের মন্দির আবিষ্কৃত হয় ১৮৩৩ এবং ১৮৪১ সালে। মন্দির আবিষ্কৃত হওয়া মানেই বোঝা যায়—কোনো সময়ে তাঁকে দেবীর মর্যাদা দিয়ে পূজা করা হতো। আর সাধারণ মানুষকে তো আর দেবীর মতো পূজা করা হতো না। এ থেকেই ধারণা করা যায়, হেলেন কেবল একজন রূপসী নারীই ছিলেন না, ছিলেন পৌরাণিক গুরুত্বসম্পন্ন এক দেবীর প্রতিরূপ।


ট্রয় নগরী: হোমারের কল্পনা নাকি বাস্তব নগরী?


গ্রিক মহাকবি হোমার তার বিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়াড-এ ট্রয় নগরী ও ট্রোজান যুদ্ধের বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তবে অনেক গবেষক এই বিবরণকে কল্পকাহিনি বলে মনে করতেন। কারণ হোমারের বর্ণনায় দেব-দেবী, অলৌকিক শক্তি ইত্যাদির প্রচুর উল্লেখ ছিল।


তবে এই সংশয় কাটে হাইনরিখ স্লাইম্যান নামে এক জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদের হাতে। তিনি ১৮৭০-এর দশকে তৎকালীন তুরস্কের হিসারলিক অঞ্চলে খনন শুরু করেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে খুঁজে পান ধ্বংসপ্রাপ্ত এক নগরী, যা বহুস্তর বিশিষ্ট এবং প্রাচীন স্থাপত্যে ভরপুর। এই স্থানটিকেই গবেষকরা চিহ্নিত করেন প্রাচীন ট্রয় নগরী হিসেবে।


এর তুর্কি নাম ত্রুভা, এবং এটি তুরস্কের কানাক্কালে প্রদেশে অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো ট্রয় নগরীকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।


হেলেন হয়তো আজও বিতর্কের বিষয়—তিনি কি মানুষ ছিলেন, না দেবীর রূপ? তবে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব প্রমাণ করেছে, ট্রয় নগরী কল্পনা নয়, বাস্তব ছিল। আর হেলেনকে কেন্দ্র করেই সেই নগরীতে হয়েছিল রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ, যা আজও সাহিত্যে, নাটকে ও সিনেমায় ফিরে ফিরে আসে।


তাঁর সৌন্দর্য শুধু ইতিহাস সৃষ্টি করেনি, সৃষ্টি করেছে একটি সাংস্কৃতিক কল্পলোক, যেখানে বাস্তব ও পুরাণ মিশে একাকার।


Copyright: Mahmudul Hasan Jahid 


#love #helen #history #war #MahmudulHasanJahid

এটা সত্যি, কিন্তু তোমার খ্যাতি তার চেয়েও বেশি। পৃথিবী তোমার প্রশংসা করে, অথচ কেউ তোমাকে বোঝে না।

 (১) অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের স্ত্রী প্রায়শই তাকে কাজে যাওয়ার সময় আরও পেশাদার পোশাক পরার পরামর্শ দিতেন। আইনস্টাইন সবসময় বলতেন, "আমি এটা কেন পরবো? ওখানে সবাই আমাকে চেনে।" কিন্তু যখন তাকে প্রথমবারের মতো একটি বড় সম্মেলনে যোগ দিতে হলো, তখন তার স্ত্রী তাকে একটু সাজতে অনুরোধ করলেন। এর উত্তরে আইনস্টাইন বললেন, "আমি এটা কেন পরবো? ওখানে কেউ আমাকে চেনে না!"


(৩) আইনস্টাইনকে প্রায়শই আপেক্ষিকতার তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে বলা হত। তিনি একবার ব্যাখ্যা করেছিলেন, "এক মিনিটের জন্য গরম চুলায় হাত রাখলে এক ঘন্টার মতো মনে হবে। এক ঘন্টার জন্য একটি সুন্দরী মেয়ের সাথে বসে থাকলে এক মিনিটের মতো মনে হবে। এটাই আপেক্ষিকতা!"


(৪) যখন আলবার্ট আইনস্টাইন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন, একদিন বাড়ি ফেরার সময় তিনি তার বাড়ির ঠিকানা ভুলে যান। ট্যাক্সি ড্রাইভার তাকে চিনতে পারেনি। আইনস্টাইন ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি আইনস্টাইনের বাড়ি চেনেন কিনা। ড্রাইভার বলল, "আইনস্টাইনের ঠিকানা কে না জানে? প্রিন্সটনের সবাই জানে। তুমি কি তার সাথে দেখা করতে চাও?" আইনস্টাইন উত্তর দিলেন, "আমি আইনস্টাইন। আমি আমার বাড়ির ঠিকানা ভুলে গেছি, তুমি কি আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারবে?" ড্রাইভার তাকে তার বাড়িতে নামিয়ে দিল এবং ভাড়াও নিল না।


(৫) একবার আইনস্টাইন প্রিন্সটন থেকে ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। টিকিট চেকিং কন্ডাক্টর যখন তার কাছে এলেন, আইনস্টাইন তার জ্যাকেটের পকেটে হাত দিলেন কিন্তু টিকিটটি খুঁজে পেলেন না। তারপর সে তার প্যান্টের পকেটটা পরীক্ষা করল, কিন্তু সেখানেও সেটা ছিল না। এরপর সে তার ব্রিফকেসে খুঁজল, কিন্তু টিকিটটি পেল না। তারপর সে তার সিটের কাছে তাকাল, কিন্তু এখনও টিকিট খুঁজে পেল না।


কন্ডাক্টর বললেন, "ডঃ আইনস্টাইন, আমরা জানি আপনি কে। আমি নিশ্চিত আপনি টিকিট কিনেছেন। চিন্তা করবেন না।" আইনস্টাইন প্রশংসাসূচক মাথা নাড়লেন। কন্ডাক্টর এগিয়ে গেলেন। যখন সে অন্যদিকে তাকাল, তখন সে দেখতে পেল যে মহান বিজ্ঞানী নিচু হয়ে সিটের নীচে টিকিট খুঁজছেন।


কন্ডাক্টর তৎক্ষণাৎ ফিরে এসে বললেন, "চিন্তা করবেন না, ডঃ আইনস্টাইন। আমি জানি আপনি কে। আপনার টিকিটের প্রয়োজন নেই। আমি নিশ্চিত আপনি টিকিট কিনেছেন।" আইনস্টাইন উত্তর দিলেন, "যুবক, আমি জানি আমি কে। কিন্তু আমি জানি না আমি কোথায় যাচ্ছি।"


(৬) যখন আইনস্টাইন চার্লি চ্যাপলিনের সাথে দেখা করেছিলেন:


#আইনস্টাইন বলেছিলেন,


"তোমার শিল্প সম্পর্কে যা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে তা হল এর সর্বজনীনতা। তুমি একটা কথাও বলো না, তবুও পৃথিবী তোমাকে বোঝে।"


এর উত্তরে চার্লি চ্যাপলিন বললেন,


"এটা সত্যি, কিন্তু তোমার খ্যাতি তার চেয়েও বেশি। পৃথিবী তোমার প্রশংসা করে, অথচ কেউ তোমাকে বোঝে না।"

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: দিনব্যাপী সফরে আজ ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - যোগ দেবেন খাল ...