এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ : ০৩-০১-২০২৬

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ : ০৩-০১-২০২৬


আজকের সংবাদ শিরোনাম

....................................................


* সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের শোক প্রকাশ অব্যাহত-দেশে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত-সকল মসজিদে দোয়া, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা

 

* বেগম জিয়ার কবরে পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন---ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে শ্রদ্ধা নিবেদনে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল

 

* ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অব্যাহত

 

* জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গ্রহণযোগ্য ও ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে---বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

 

* রাজধানীর উপকণ্ঠে পূর্বাচলে আজ শুরু হচ্ছে ৩০-তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

 

* ২০২৫ সালে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন---রেমিটেন্সের পরিমাণ  প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

 

* শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনে দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের

 

* এবং সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রংপুর রাইডার্সের নিজ নিজ খেলায় জয়লাভ

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ০২-০১-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ০২-০১-২০২৬ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের শোক প্রকাশ অব্যাহত --- দেশে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত --- সকল মসজিদে দোয়া, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা।


বেগম জিয়ার কবরে পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন --- ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে শ্রদ্ধা নিবেদনে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অব্যাহত।  


জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গ্রহণযোগ্য ও ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে --- বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।


আগামীকাল শুরু হচ্ছে ৩০-তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ।


২০২৫ সালে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন ---  রেমিটেন্সের পরিমাণ  প্রায় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহত অন্তত ১৭।


এবং সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারালো চট্টগ্রাম রয়্যাল্স --- সিলেট টাইটান্সের মোকাবেলা করছে রংপুর রাইডার্স।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ : ০২-০১-২০২৬

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ : ০২-০১-২০২৬


আজকের সংবাদ শিরোনাম

....................................................


* আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত--বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগদান উপলক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ‍থেকে আসা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

 

* জাতীয় নগর নীতির খসড়া অনুমোদন---কমানো হলো মোবাইল ফোন ব্যবহারের খরচ--উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত 


* প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু

 

* মা- বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণকারী দেশবাসীর প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

 

* খালেদা জিয়ার ঐক্যের পথ অনুসরণ করতে চায় জামায়াত--বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতে বললেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির

 

* যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় ইসরাইলের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করলো ১৭টি মানবাধিকার সংস্থা

 

* এবং সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আজ চট্টগ্রাম রয়্যালস - ঢাকা ক্যাপিটালসের ও সিলেট টাইটান্স - রংপুর রাইডার্সের মোকাবেলা করবে

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ০১-০১-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ০১-০১-২০২৬ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


জাতীয় নগর নীতির খসড়া অনুমোদন --- কমানো হলো মোবাইল ফোন ব্যবহারের খরচ --- উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত।


প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু।


হ্রাস করা হলো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ।


শুরু হলো খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬ --- টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রত্যাশা।


জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল উন্মুক্ত করে দেওয়া হল সবার জন্য --- সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা।


মায়ের জানাজায় অংশ গ্রহণকারী দেশবাসীর প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা।


সুইজারল্যান্ডের রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্তত ৪০,  আহত শতাধিক।


এবং সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারালো সিলেট টাইটান্স --- এখন রংপুর রাইডার্সের মোকাবেলা করছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ৩১-১২-২০২৫ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ৩১-১২-২০২৫ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া 

 প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নিলেন খালেদা জিয়ার জানাজায় --- পাকিস্তান ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা 

জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর সমস্ত প্রবেশ পথে লাখ লাখ মানুষের ঢল --- স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জানাজায় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন বিএনপি নেত্রী --- মায়ের জন্য দোয়া ও ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান 

 বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ ছিল সাধারণ ছুটি --- শুরু হলো তিনদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক 

 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ --- বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ 

কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আরেকটি ঘটনাবহুল বছর --- গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও শান্তির প্রত্যাশাসহ নতুন ভোরের অপেক্ষা

জানুয়ারি থেকে গাজায় কয়েকটি সহায়তা গোষ্ঠীর কার্যক্রম স্থগিত করার ইসরাইলি হুমকি ফিলিস্তিনিদের কাছে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী পৌঁছানোর পথে বাধা  হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেছে ইইউ 

 এবং আগামীকাল সিলেটে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ঢাকা ক্যাপিটালস- সিলেট টাইটান্সের, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-রংপুর রাইডার্সের মোকাবেলা করবে

একটা কাঠির হিসাব ৪০ বছর হজরত ঈসা আঃ এর কাহিনী

 একদা হযরত ঈসা (আ.) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবরের মাটি ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল।  (উল্লেখ্য, হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্যতম প্রধান মুজেযা (অলৌকিক ক্ষমতা) ছিল, তিনি মহান আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারতেন। )


হযরত ঈসা (আ.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "দুনিয়াতে তোমার কাজ কী ছিল?"


লোকটি উত্তর দিল, "হে আল্লাহর নবী! আমি একজন কুলি ছিলাম। মানুষের বোঝা মাথায় বহন করতাম এবং তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতাম। আমার জীবনটি খুব সাধারণ ছিল।"


হযরত ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কবরের অবস্থা কী? তোমার হিসাব-নিকাশ কেমন চলছে?"


লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল,


"একবার আমি এক ব্যক্তির এক বোঝা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) মাথায় করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার দাঁতের ফাঁকে কিছু একটা আটকে গিয়েছিল। আমি মালিকের অজান্তেই সেই লাকড়ির বোঝা থেকে একটি ছোট্ট কাঠি (খিলাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য) ভেঙে নিলাম এবং তা দিয়ে দাঁত খিলাল করলাম।


এরপর যখন আমার মৃত্যু হলো, আল্লাহ তা’আলা আমাকে বললেন, 'হে আমার বান্দা! তুমি কি জানতে না যে আমি তোমাকে আজ এই হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? অমুক ব্যক্তি তার টাকা দিয়ে কাঠ কিনেছিল এবং তোমাকে মজুরি দিয়েছিল তা বয়ে নেওয়ার জন্য। তুমি সেই মালিকের অনুমতি ছাড়া কেন একটি কাঠি ভেঙে নিলে?'


হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কসম, আমি আজ ৪০ বছর ধরে এই একটিমাত্র খড়কুটোর হিসাব দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আজও মুক্তি পাইনি! দয়া করে আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন।"


আমরা অনেক সময় অন্যের অতি ক্ষুদ্র জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করি। আমরা একে খুব তুচ্ছ মনে করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আল্লাহর কাছে ‘আমানত’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অন্যের হক যদি একটি খড়কুটোর সমপরিমাণও হয়, তবুও পরকালে তার কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে।


সূত্র: আয যাহরুল ফাইহ (ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)


#way_of_islam808 #foryoupage #viral #viralpost

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬

জোঁক  – আবু ইসহাক

 জোঁক

 – আবু ইসহাক



সেদ্ধ মিষ্টি আলুর কয়েক টুকরা পেটে জামিন দেয় ওসমান। ভাতের অভাবে অন্য কিছু দিয়ে উদরপূর্তির নাম পেটে জামিন দেওয়া। চাল যখন দুর্মূল্য তখন এ ছাড়া উপায় কী?


ওসমান হুঁকা নিয়ে বসে আর মাজু বিবি নিয়ে আসে রয়নার তেলের বোতল। হাতের তেলোয় ঢেলে সে স্বামীর পিঠে মালিশ করতে শুরু করে।


ছয় বছরের মেয়ে টুনি জিজ্ঞেস করে—এই তেল মালিশ করলে কী অয় মা?


পানিতে কামড়াইতে পারে না। উত্তর দেয় মাজু বিবি।


পানিতে কামড়ায়? পানির কি দাঁত আছে নি?


আছে না আবার। ওসমান হাসে। দাঁত না থাকলে কামড়ায় ক্যামনে?


টুনি হয়তো বিশ্বাস করত। কিন্তু মাজু বিবি বুঝিয়ে দেয় মেয়েকে-ঘাস,লতা-পাতা, কচু-ঘেঁচু পইচা বিলের পানি খারাপ অইয়া যায়। এই পানি গতরে লাগলে কুটকুট করে। ওরেই কয় পানিতে কামড়ায়।।


ওসমান হুঁকা রেখে হাঁক দেয়- কই গেলি তোতা, তামুকের ডিব্বা আর আগুনের মালশা লইয়া নায় যা। আমি আইতে আছি।


তেল নিয়ে এবার ওসমান নিজেই শুরু করে। পা থেকে গলা পর্যন্ত ভালো করে মালিশ করে। মাথা আর মুখে মাখে। সর্ষের তেল। তারপর কাতে ও ঠুকা নিয়ে সে নৌকায় ওঠে।


তেরোহাতি ডিঙিটাকে বেয়ে নিয়ে চলে দশ বছরের ছেলে তোতা।


দেখতে দেখতে পাটক্ষেতে এসে যায় নৌকা। পাট গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে ওসমানের চোখ তৃপ্তিতে ভরে ওঠে। যেমন মোটা হয়েছে, লম্বাও হয়েছে প্রায় দুই মানুষ সমান। তার খাটুনি সার্থক হয়েছে।


সে কি যেমন-তেমন খাটুনি। রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে ক্ষেত চষো রে-ঢেলা ভাঙো রে-উড়া বাছে রে-তারপর বৃষ্টি হলে আর এক চাষ দিয়ে বীজ বোনো। পাটের চারা বড় হয়ে উঠলে আবার ঘাস বাছো, ‘বাছট’ করো। ‘বাছট’ করে


-ফ্যান আনছছ দে-দে শিগগির।


তোতা মাটির খোরাটা এগিয়ে দেয়।


লবণ মেশানো এক খোরা ফেন। ওসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে চুমুক দেয়। সবটা শেষ করে অস্ফুট স্বরে বলে, শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।


ফেনটুকু পাঠিয়েছে এজন্য স্ত্রীকেও সে ধন্যবাদ দেয় অব্যক্ত ভাষায়।


এরকম খাটুনির পর এ ফেনটুকু পেটে না দিলে সে পানি থেকে উঠতেই পারে না নৌকার ওপর। এবার আউশ ধান কাটার সময় থেকেই এ দশা হয়েছে। অথচ কতই বা আর তার বয়স : চল্লিশ হয়েছে কি হয়নি।


ওসমান পাটের হাতাগুলো তুলে ধরে। তোতা সেগুলো টেনে তোলে নৌকায়। গুনে গুনে সাজিয়ে রাখে। পাট তুলতে তুলতে ওসমান জিজ্ঞেস করে ছেলেকে—কী রানছেরে তোর মা?


ট্যাংরা মাছ আর কলমি শাক।


—মাছ পাইল কই?


-বড়শি দিয়া ধরছিল মায়।


ওসমান খুশি হয়।


পাট সব তোলা হয়ে গেলে ওসমান নৌকায় ওঠে। নৌকার কানিতে দুই হাতের ভর রেখে অতি কষ্টে তাকে উঠতে হয়।


-তোমার পায়ে কালা উইডা কি বাজান? তোতা ব্যস্তসমস্ত হয়ে বলে।


-কই?


-ওই যে, জোঁক না জানি কী। আঙুল দিয়ে দেখায় তোতা।


-জোঁকই ত রে। এইডা আবার কখন লাগল? শিগগির কাচিটা দে।


তোতা কাস্তেটা এগিয়ে দেয়। ভয়ে তার শরীরের সমস্ত লোম কাটা দিয়ে উঠেছে।


ডান পায়ের হাঁটুর একটু ওপরেই ধরেছে জোঁকটা। প্রায় বিঘতখানেক লম্বা। করাতে জোঁক রক্ত খেয়ে ধুমসে হয়ে উঠেছে।


ওসমান কাস্তেটা জোঁকের বুকের তলা দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়। এবার একটা শক্ত কাঠি দিয়ে জোঁকটা কাতের সাথে চেপে ধরে পোচ মারে সে। জোঁকটা দু টুকরো হয়ে যায়, রক্ত ঝরাতে ঝরাতে খসে পড়ে পা থেকে।


–আঃ বাঁচলাম রে। ওসমান স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।


-ইস, কত রক্ত। তোতা শিউরে ওঠে।


ছেলের দিকে তাকিয়ে ওসমান তাড়া দেয়, -নে, এইবার লগি মার তাড়াতাড়ি।


তোতা পাটবোঝাই নৌকাটা বেয়ে নিয়ে চলে।


জোঁক হাঁটুর যেখানটায় চুমুক লাগিয়েছিল সেখান থেকে তখনও রক্ত ঝরছে। সেদিকে তাকিয়ে তোতা জিজ্ঞেস করে, বাজান, কেমুন কইর‌্যা জোঁকে ধরল তোমারে, টের পাও নাই?


– না রে বাজান। এগুলো কেমুন কইরা যে চুমুক লাগায় কিছুই টের পাওয়া যায় না। টের পাইলে কি আর রক্ত খাইতে পারে।


জোকটা কত বড়, বাস্পসরে


—দুও বোকা। এইডা আর এমুন কী জোঁক। এর চেয়ে বড় জোঁকও আছে।


জমি থেকে পাট কেটে ফেলার পরও ঝামেলা পোয়াতে হয় অনেক। জাগ দেওয়া, কোষ্টা ছাড়ানো, কোষ্টা ধুয়ে পরিষ্কার করা, রোদে শুকাননা। এসব কাজও কম মেহনতের নয়।


পাট শুকাতে শুকাতেই চৌধুরীদের গোমস্তা আসে। এক জন কয়াল ও দাড়িপাল্লা সঙ্গে নিয়ে সে নৌকা ভিড়ায় ওসমানের বাড়ির ঘাটে।


বাপ-বেটায় শুকনো পাট এনে রাখে উঠানে।।


মেপে মেপে তিন ভাগ করে কয়াল।


গোমস্তা হাঁক দেয়- কই ওসমান, দুই ভাগ আমার নায় তুইল্যা দ্যাও।


ওসমান হাঁ করে চেয়ে থাকে।


– আরে মিয়া চাইয়া রইছ ক্যা? যাও।


– আমারে কি এক ভাগ দিলেন নি?


– হ।


– ক্যা?


– ক্যা আবার।


– দুই ভাগ পামু।


-হ দিব হনে তোমারে দুই ভাগ। যাও ছোড হুজুরের কাছে।


–হ এহনই যাইমু।


– আইচ্ছা যাইও যখন ইচ্ছা। এহন পাট দুই ভাগ আমায় নায় তুইল্যা দিয়া কথা কও।


– না দিমু না পাট। জিগাইয়া আহি।


– আরে আমার লগে রাগ করলে কী অইব, যদি হুজুর ফিরাইয়া দিতে কয়েন, তহন না হয় ফিরত দিয়া যাইমু।


ওয়াজেদ চৌধুরীর ছেলে ইউসুফ বৈঠকখানার বারান্দায় বসে সিগারেট ফুঁকছে। ওসমান তার কাছে এগিয়ে যায় ভয়ে ভয়ে। তার পেছনে তোতা।


-হুজুর, ব্যাপার কিচ্ছু বুঝতে পারলাম না। ওসমান বলে।


– কী ব্যাপার? সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে ইউসুফ।


-হুজুর, তিন ভাগ কইর‌্যা এক ভাগ দিছে আমারে।


-হ্যা, ঠিকই ত দিয়েছে।


ওসমান হাঁ করে চেয়ে থাকে।


-বুঝতে পারলে না? লাঙল-গরু কেনার জন্য টাকা নিয়েছিলে যে পাঁচশ।


ওসমান যেন আকাশ থেকে পড়ে।


-আমি টাকা নিছি! কবে নিলাম হুজুর?


-হ্যা, এখন ত মনে থাকবেই না। গত বছর কাগজে টিপসই দিয়ে টাকা নিয়েছিলে, মনে পড়ে? গরু-লাঙল কেনার টাকা দিয়েছি। এজন্য আমরা পাব দুদু ভাগ, তোমরা পাবে এক ভাগ।


–আমি টাকা নিই নাই। এই রকম জুলুম খোদাও সহ্য করব না।


যা যা ব্যাটা, বেরো, বেশি তেড়িবেড়ি করলে এক কড়া জমিও দেব না কোনো ব্যাটারে।


ওসমান টলতে টলতে বেরিয়ে যায় ছেলের হাত ধরে।


ফেরবার পথে তোতা জিজ্ঞেস করে, “বাজান কেমুন কইরা লেইখ্যা রাখছিল; টিপ দেওনের সময় টের পাও নাই? ছেলের প্রশ্নের উত্তর দেয় না ওসমান। একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে তার মুখ থেকে শুধু উচ্চারিত হয়—আহা-হা-রে। তোতা চমকে তাকায় পিতার মুখের দিকে। পিতার এমন চেহারা সে আর কখনও দেখেনি।


চৌধুরী বাড়ির সীমানা পার হতেই ওসমান দেখে-করিম গাজী, নবু খাঁ ও আরও দশ বারোজন চাষী এদিকেই আসছে। করিম গাজী ডাক দেয় কী মিয়া শেখের পো, যাও কই।


-গেছিলাম এই বড় বাড়ি। ওসমান উত্তর দেয়—আমারে মিয়া মাইরা ফালাইছে এক্কেবারে। আমি বলে টাকা নিছিলাম পাঁচশ-


কথা শেষ না হতেই নবু খাঁ বলে- ও, তুমিও টিপ দিছিলা কাগজে?


-হ ভাই, কেমন কইর‌্যা যে কলমের খোঁচায় কী লেইখ্যা থুইছিল, কিছুই টের পাই নাই। টের পাইলে কি আর এমন অয়! টিপ নেওনের সময় গোমস্তা কইছিল— জমি বর্গা নিবা তার একটা দলিল থাকা ত দরকার।


-হ, বেবাক মানুষেরেই এমবায় ঠকাইছে।


করিম গাজী বলে- আরে মিয়া এমন কারবারডা অইল আর তুমি ফির‌্যা চলছ?


-কী করমু তয়?


– কী করবা, খেঁকিয়ে ওঠে করিম গাজী। -চল আমাগ লগে, দেহি কী করতে পারি।


ওসমান দেখে এদের সকলের হাতে লাঠি। করিম গাজী তাড়া দেয়- কী মিয়া, চাইয়া রইছ ক্যা? আরে এমনেও মরছি অমনেও মরছি। একটা কিছু না কইর‌্যা ছাইড়্যা দিমু?


ওসমান তোতাকে ঠেলে দিয়ে বলে, তুই বাড়ি যা গা।।


তার ঝিমিয়ে পড়া রক্ত জেগে ওঠে। গা ঝাড়া দিয়ে বলে- হ চল। রক্ত চুইষ্যা খাইছে। অজম করতে দিমু না, যা থাকে কপালে।

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬

কাজের বুয়ার কাহিনীঃ

 ✅ কাজের বুয়ার কাহিনীঃ

আমাদের বাসার কাজের বুয়া (৫৪) মাসে ১৭ হাজার টাকা আয় করেন। উনি আমাদের বাসায় সকাল ৯ টায় আসার আগে একটা মেসে রুটি বানান। সেখানে তিনি ভোর ৬ টায় পৌঁছে ৮ টার মধ্যে রুটি বানানো শেষ করে ৯ টার মধ্যে আমাদের বাসায় আসেন। সেই মেস থেকে আমাদের বাসার রিকশা ভাড়া ৪০ টাকা। এই দূরত্ব তিনি হেঁটে হেঁটে আসেন বলেই ৫০ মিনিট লেগে যায়।


-রুটি বানানোর জন্য তিনি মাসিক ২৫০০ টাকা পান ও সকালে নাস্তা সেখানেই করেন।


আমাদের বাসায় ৩টা কাজ করেন- (১) কাপড় ধোয়া (২) ঘর মোছা ও (৩) রাতে ও সকালের ময়লা বাসন কোসন হাড়ি পাতিল ধোয়া। এই ৩ কাজ করতে ওনার ১ ঘন্টা ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে।

-এই ৩ কাজের জন্য তিনি আমাদের কাছ থেকে ২৩০০ টাকা পান।


এরপরে তিনি চলে যান একটি অফিসে। সেখানে তিনি দুপুরের খাবার রান্না করেন ও সেখানি দুপুরের খাওয়া সেরে নেন। সেখানে তিনি রান্না বাবদ ২৪০০ টাকা (৮ জনের জন্য ৩০০ টাকা করে) বেতন পান। মাসের ১৫/১৬ দিন অফিসের বেঁচে যাওয়া খাবার দিয়ে উনি রাতের খাবার ম্যানেজ করেন। এই খাবার তিনি বাসায় নিয়ে আসেন।


উপরের ৩ কাজ মিলিয়ে ওনার মাসিক বেতন দাঁড়ায় ৭২০০ টাকা ও প্রায় ৩ বেলা খাবারই ফ্রী অর্থাৎ মাসে ১৫ বেলা ওনাকে নিজ খরচে খেতে হয়। এই ১৫ দিন রাতে উনি নিজেই রান্না করেন।


উনি দুপুরে অফিস থেকে ফিরে বাসায় এসে ঠিক ২ ঘন্টা ঘুমান। বিকালে তিনি মাটির চুলা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। 


সন্ধ্যার পরে কোন না কোন রাস্তার পাশে ওনাকে পিঠা বানাতে দেখা যায়। কখনো পিঠা, কখনো পেঁয়াজু ইত্যাদি বানিয়ে সেখান থেকে গড়ে ৩০০ টাকা লাভ বের করেন। অর্থাৎ এই ব্যবসা থেকে ওনার আয় হয় মাসে ৯ হাজারের মত। তবে চাঁদাবাজদের ঝামেলা, পুলিশের হয়রানী ও গোলযোগ পূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঝে মাঝে তিনি ব্যবসা করতে পারেন না।


 বিশেষ করে বর্ষাকালে ওনার ব্যবসা প্রায় বন্ধই থাকে। সে সময় তিনি অবশ্য হোটেলে মশলা বাটার কাজ নেন।


ওনার বিয়ে হয়েছিল ১৬ বছর বয়সে। স্বামী মারা গেছে যখন মেয়ের বয়স ১২ ও ছেলের বয়স ৮। গ্রামে খাবার দাবার না পেয়ে বাচ্চা দুটিকে সাথে করে শহরে নিয়ে এসেছিলেন। ওনার নাতনী এই বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।


ওনার কথা বলেছি এই কারণে, উনি প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা জমান। সেই জমানো টাকা দিয়ে প্রতি ৩/৪ মাস পর পর ওনার এলাকার জমি কিনেন। আজ এই জমির বায়না তো কাল সেই জমির রেজিষ্ট্রেশন। এরপরে আরেক জমি বন্ধক দিয়েছেন। 


আরেক জমি বন্ধক থেকে ছাড়িয়েছেন। এই কাজ তিনি গত ২৫ বছর ধরে করছেন। ২৫ বছর আগে ওনার আয় কম ছিল, জমির দামও কম ছিল। এখন ওনার আয় বেড়েছে, জমির দামও বেড়েছে।


সম্পূর্ণ খালি হাতে যে মহিলা ২৫ বছর আগে গ্রাম ছেড়েছেন আজ তিনি গ্রামের ৮ বিঘা জমির মালিক। ওনার একটা জমি আছে যেটার মার্কেট প্রাইস এখন ৪৫ লক্ষ টাকা। ২ টা জমি আছে এখন মার্কেট প্রাইস ৩০ লক্ষ টাকা। সেদিন ওনার সাথে হিসাব করে দেখলাম ওনার অর্জিত সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা!!

জিজ্ঞেস করলাম "এত সম্পদ থাকার পরেও এত কষ্ট করেন কেন?"


উনি উত্তর দিলেন "কষ্ট করতে করতে সহ্য হয়ে গেছে। এখন আর বসে থাকতে ভাল লাগে না। এছাড়া একটা সময় আসবে তখন তো আর কষ্ট করা যাবে না, শরীর কুলোবে না। তাই এখন কাজ করি।"

এই মহিলা ২৫ বছর চাকরি+ব্যবসা করে প্রায় ১ কোটি টাকা সম্পদের মালিক হয়েছে অথচ ১৪ বছর চাকরি করে আমি ফইন্নি ফইন্নিই রয়ে গেলাম। হঠাৎ মনে হল, বয়স এখনো শেষ হয় নি। আমাদের বুয়া ২৯ বছর বয়সে স্ট্রাগল শুরু করে এই পর্যায়ে এসেছে। আমারও তো এখনো অনেক সুযোগ রয়েছে। কাজে লাগাই না কেন?

.

লেখা: ফখরুল ইসলাম

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ব্যথা: আসল কারণ কোথায়?,,,, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 #কোমর থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ব্যথা: আসল কারণ কোথায়?

স্নায়ুর লাইনে ব্যথা: Holistic approach কেন জরুরি-


পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ব্যথা কেন হয়?

(পিঠ → নিতম্ব/হিপ → উরু → পিণ্ডলি → পা)

অনেকেই বলেন—

 “ডাক্তার, কোমর ব্যথা ছিল, এখন পা পর্যন্ত নামছে”

“নিতম্বে ব্যথা, কিন্তু পায়ের পেছনটা বেশি টানে”

এর মূল কারণ বুঝতে হলে স্নায়ুর (Nerve) গঠন বুঝতে হবে।


পুরোটা আসলে একই স্নায়ুর লাইনে যুক্ত-

কোমরের নিচ থেকে একটি প্রধান স্নায়ু (Sciatic nerve) বের হয়ে—

১- নিতম্ব

২- উরু

৩- পিণ্ডলি

 পায়ের পেছনের অংশ

পর্যন্ত একটানা লম্বা লাইনের মতো নেমে গেছে।


 তাই এই লাইনের যেকোনো এক জায়গায় চাপ পড়লেই,

ব্যথা পুরো পথ ধরে ছড়িয়ে যেতে পারে।

ঠিক যেমন—

বিদ্যুতের তারের এক জায়গায় সমস্যা হলে, পুরো লাইনে প্রভাব পড়ে।


যেসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি স্নায়ু চাপে পড়ে

 কোমরের নিচের অংশ (L4–L5 / L5–S1)

 ডিস্ক বের হয়ে আসা (Disc prolapse)।

 ডিস্ক ক্ষয় / ফাঁকা কমে যাওয়া।

লক্ষণ:----

১- কোমর ব্যথা

২- নিতম্বে নামে

৩- উরু → পিণ্ডলি → পা পর্যন্ত ছড়ায়

৪- বসলে বা ঝুঁকলে বাড়ে


 নিতম্বের গভীর পেশি (Deep gluteal muscle / Piriformis area)

১-  দীর্ঘদিন বসে থাকা

২-  ভুল ভঙ্গি

৩-  পেশি শক্ত হয়ে স্নায়ুকে চেপে ধরে

লক্ষণ:--

১- নিতম্বের গভীরে ব্যথা

২- অনেকক্ষণ বসলে বাড়ে

৩- পা পর্যন্ত টান বা জ্বালা


উরুর পেছনের দিক (Hamstring + fascia)

পেশি ও ফ্যাসিয়া শক্ত হয়ে গেলে

লক্ষণ:---

১- টান ধরা ব্যথা

২- হাঁটার সময় বা নামাজে বসলে টান

৩- পিণ্ডলি বা পায়ের নিচ পর্যন্ত নামে


পিণ্ডলি, পায়ের পেছনের নিচের অংশ ও গোড়ালি

 নিচের পেশি শক্ত ও অচল হলে

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

অনেক সময় সমস্যা নিচে,

কিন্তু ব্যথা অনুভূত হয় উপরে (কোমরে বা নিতম্বে)

— একে বলে Referred pain।


এক জায়গায় চাপ পড়লেও পুরো পা কেন ব্যথা করে?

কারণ—

 স্নায়ু একটানা লম্বা একটি লাইন

এক জায়গায় চাপ = পুরো লাইনে সিগনাল বিকৃত

ঠিক বিদ্যুতের তারের মতো—

যেখানেই চাপ দেবেন,

পুরো লাইনে সমস্যা দেখা দেবে।


স্নায়ুর ব্যথার ক্লাসিক লক্ষণ:--

১-  ব্যথা সরল লাইনে ছড়ায়

২-  ঝিনঝিনি / জ্বালাপোড়া / বিদ্যুৎ শকের মতো লাগে

৩-  বেশি সময় বসলে, ঝুঁকে কাজ করলে, গাড়ি চালালে বাড়ে

৪- শুধু ম্যাসাজ বা ব্যথার ওষুধে স্থায়ী সমাধান হয় না


সংক্ষেপে মূল কথা:---

যেখানে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে,

সমস্যা সব সময় সেখানে থাকে না।

সঠিক চিকিৎসার জন্য জানতে হবে—

স্নায়ু ঠিক কোন জায়গায় চাপে পড়েছে


গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য

যারা—

১-  দীর্ঘদিন কোমর বা পা ব্যথায় ভুগছেন

২- অনেক চিকিৎসা নিয়েও স্থায়ী সমাধান পাননি

৩-  MRI/এক্স-রে করেও কনফিউজড 

তাদের জন্য 

Holistic Medicine কিভাবে কাজ করে?

হলিস্টিক মেডিসিনের লক্ষ্য শুধু

 ব্যথা কমানো নয়

বরং— স্নায়ুর ওপর চাপ কেন পড়ছে, সেটার মূল কারণ ঠিক করা


 Root cause নির্ণয়

১- ডিস্ক, পেশি, ফ্যাসিয়া, ভঙ্গি, ওজন, জীবনযাপন

২- কোথায় স্নায়ু আটকে আছে তা চিহ্নিত করা


স্নায়ুর চাপ ধীরে ধীরে মুক্ত করা

১- নির্দিষ্ট থেরাপি

২- পেশি ও ফ্যাসিয়া রিলিজ

৩- রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা।

 এতে স্নায়ু স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে


শরীরের নিজস্ব Healing ক্ষমতা সক্রিয় করা

১- ইনফ্ল্যামেশন কমানো

২- পেশির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা

৩- নার্ভ নিউট্রিশন সাপোর্ট


শুধু উপসর্গ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান

১- বারবার ব্যথা ফিরে আসে না

২- ওষুধ নির্ভরতা কমে

৩- দৈনন্দিন কাজ ও চলাফেরা স্বাভাবিক হয়


তাদের জন্য Holistic Medicine একটি কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান।


বিশেষ দ্রষ্টব্য

যারা দীর্ঘদিন ধরে কোমর, নিতম্ব বা পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ব্যথায় ভুগছেন

এবং বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না.!🤫

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কিছু পিকিউলার বা অদ্ভুত লক্ষণ 

 হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কিছু পিকিউলার বা অদ্ভুত লক্ষণ 


✅ কেস টেকিংয়ের গুরুত্ব প্রসঙ্গে অর্গাননের ৮৩ নম্বরে হ্যানিম্যানের লেখা অ্যাটেনশন ইন অবজারভিং কথাটা বুঝাতে অনেকগুলি ঔষধের উদাহরণ দিয়েছিলাম। আজ হঠাৎ দেখলাম "হোমিওপ্যাথি সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞান " নামের একটি আই ডি সেই লাইন গুলি হুবহু পোস্ট করে লিখেছে ---নবীনদের জন্য এটুকু দিলাম। নিচে হেরিংয়ের একটি ছবি।কত বড় নির্লজ্জ বেহায়া এই মালটি। সেই জন্য পোস্টটি আবার দিলাম। আর এই জন্যই ফেসবুকে ভিডিও ছাড়া আর কোন লেখা দেব না। কারণ এরকম ইতর মার্কা চোরামো আগে আরো অনেকবার দেখেছি । 


🟦 চোখে চোখ রেখে যখন কোন ছেলে কথা বলতে পারে না, আড়ে আড়ে তাকিয়ে কথা বলে, কারণ প্রতিনিয়ত হস্তমৈথুন করে বলে ভাবে তার চোখ মুখ বসে যাওয়া ভাবছি সামনের লোকটি বুঝতে পারবে -- স্টাফিসেগ্রিয়া। 

🟦 দরদর করে ঘামতে থাকে = হিপার সালফ , মার্ক সল, সাইলিসিয়া। 

🟦 পা দুটি সমানে নাড়াতে থাকে = নেট্রাম মিউর।

🟦 সর্দি বাচ্চার নাক দিয়ে লম্বা দড়ির মতন ঝুলে পড়ছে = কেলি বাইক্রম।

🟦  থাইরয়েড বা প্যারোটিড গ্লান্ড ফুলে পাথরের মতো শক্ত  = ব্রোমিয়াম।

🟦 ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলতে থাকে  =  ইগ্নেশিয়া। 

🟦 বোকার মতন সব ব্যাপারে হাসতে থাকে = ক্রোকাস স্যাট, ক্যানাবিস ইন্ডিকা।

🟦 রোগ লক্ষন বলতে বলতে কাঁদতে আরম্ভ করে = পালসেটিলা, সিপিয়া, 

🟦 ছোট খাটো ব্যাপার নিয়ে গন্ডগোল পাকায়,সব সময় গন্ডগোল করার প্রবৃত্তি  =  ক্যামোমিলা, নাক্স ভম।

🟦 আস্তে আস্তে প্রশ্নের উত্তর দেয় = জেলসিমিয়াম , হেলিবোরাস, মার্ক সল, ফস এ্যাসিড,  ফসফরাস।

🟦 খুব দ্রুত উত্তর দেয়  =  হিপার , লাইকো।

🟦 হ্যাঁ,বা না, এইরকম একটি বা দুইটি শব্দের মধ্যে দিয়ে উত্তর দিতে চায়  = ফসফরিক এ্যাসিড। 

🟦 খুব বেশী কথা বলে,এক বিষয় থেকে অন্য বিষয় নিয়ে বকতে থাকে = সিমিসিফিউগা, হায়োসিয়ামাস , ল্যাকেসিস।

🟦 বোকার মতো উত্তর দেয় =  ব্যারাইটা কার্ব , ফস এ্যাসিড, 

🟦 বুদ্ধিমত্তার সাথে উত্তর দেয় = লাইকো , ফসফরাস।

🟦 দুই তিনবার একই প্রশ্ন করার পর উত্তর দেয় = কষ্টিকাম , মেডোরিনাম , জিঙ্কাম মেট।

🟦 ঘোরের মধ্যে পড়ে থেকেও সঠিক উত্তর দেয়  = আর্নিকা, ব্যাপ্টিসিয়া, হেলিবোরাস, হায়োসিয়ামাস,  ফসফরিক এ্যাসিড, ইত্যাদি।

🟦 নোংরা ড্রেসে চেম্বারে  ঢুকেই লম্বা চওড়া ফিলোসফি মার্কা অর্থাৎ দার্শনিক মার্কা  লেকচার আরম্ভ করে = সালফার।

🟦 খুব বিষন্ন বা মনমরা, চেহারার মধ্যে হতাশার ছাপ = ইগ্নেশিয়া, নেট্রাম সালফ,  ফসফরিক এ্যাসিড, , সোরিনাম, সিপিয়া।

🟦 সাহসী বা ভয়ডরহীন, চেহারায় বা কথা বলার সময় সাহসিকতা ফুটে উঠে = স্টাফিসেগ্রিয়া।

🟦 চোখে মুখে উদ্বিগ্ন বা দুশ্চিন্তার ছাপ = এ্যাকোনাইট, আর্সেনিক, কষ্টিকাম।

🟦 শিশুরা অস্থির প্রকৃতির, একজায়গায় স্থির থাকে না  = কেলি ব্রোম , ফসফরাস, ট্যারেন্টুলা হিস ।

* শিশুরা যে কোন ধরনের গান বাজনা শুনলেই নাচতে শুরু করে = ট্যরেন্টুলা হিস।

🟦 অতিরিক্ত রিলিজিয়াস ম্যানিয়া = হায়োসিয়ামাস , ল্যাকেসিস ,লিলিয়াম ট্রিগ , স্ট্রামোনিয়াম।

🟦 উচ্চাকাঙ্খা খুব বেশী, এবং অহংকারী = লাইকো, প্লাটিনাম।

🟦 খুবই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন (fastidious) = আর্সেনিক , কার্সিনোসিন ,নাক্স ভম।

🟦 অধৈর্য্য = ক্যামোমিলা , নাক্স ভম, সালফার।

🟦 প্রায়ই আত্মহত্যার কথা বলে  =  অরাম মেট,নেট্রাম সালফ , সোরিনাম।

🟦 খুব সিম্প্যাথিটিক, দরদী,  সবাইকে উপকার করে = কার্সিনোসিন, কষ্টিকাম , ফসফরাস।

🟦 বাচ্চা সবসময় ঘ্যান ঘ্যান করে  = এ্যান্টিম ক্রুড, এন্টিম টার্ট, আর্সেনিক।

★ রোগীর শরীর থেকে  বাজে দুর্গন্ধ পাওয়া গেলে = মার্ক সল , সাইলিসিয়া,

Copy: Dr.Rabin Barman

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ২০-০৩-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ২০-০৩-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দী...