পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন!
Adv Md Oliur Rahman
Croydon, UK
আমি জানি বাংলাদেশের কোন মা-বাবা সন্তানদের বিপক্ষে আইন পর্যন্ত যেতে চাইবে না।অনেক victim মা-বাবা আমার চারপাশে নীরব কষ্ট সহ্য করে বসে আছে। সন্তান খোঁজ নেয় না কিংবা ভরণপোষণ দেয় না। আমি চাই সমাজের সকল অসহায় মা-বাবা আইনটিকে কাজে লাগাক।
পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে কোনো সন্তান পিতা-মাতাকে বাধ্য করে বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও বসবাস করতে, অথবা কোনো সন্তান যদি যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণে পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করেন, তাহলে কি কোনো প্রতিকার নেই? অবশ্যই আছে। এ ক্ষেত্রে তারা ভরণপোষণের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন।‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ নামের এ আইনটি বাংলাদেশে কার্যকর আছে।
কে কাকে ভরণপোষণ করবে?
আইনে ভরণপোষণ প্রদানে সন্তান বলতে শুধু পুত্রকেই বোঝায়নি বরং কন্যাকেও বুঝিয়েছে। অর্থাৎ পিতা-মাতার ভরণপোষণের দায়িত্ব শুধু ছেলের একার নয় বরং মেয়েকেও নিতে হবে। ভরণপোষণ শুধু কোনো বিশেষ সন্তান নেবে তা নয় বরং সবাইকে নিতে হবে। তবে একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তাদের পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবে। কোনো সন্তান পিতা-মাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও একত্রে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না।
কী পরিমাণ ভরণপোষণ দিতে হবে?
পিতা-মাতা যদি সন্তানের সঙ্গে বসবাস না করেন তবে তাদের প্রত্যেক সন্তান নিজ নিজ উপার্জন থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।
অপরাধের শাস্তি কী?
আইনটি সন্তানদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি অপরাধ, দণ্ড ও বিচারব্যবস্থা কেমন হবে সে বিষয়েও বিধান দিয়েছে। যেমন: কেউ যদি এই বিধানাবলি লঙ্ঘন করে তবে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থ্দণ্ড হতে পারে। অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করতে পারে আদালত। এছাড়া কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা ভরণপোষণ প্রদানে বাধা দেয় বা অসহযোগিতা করে তবে তার সাজাও উপরে উল্লিখিত দণ্ডের মতোই হবে।
অপরাধের ধরন কী?
আইনে কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তা আমলযোগ্য। এই আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলায় জামিনও পাওয়া যেতে পারে। মামলায় আপস-মীমাংসারও সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগ কোথায় করতে হবে?
অপরাধের অভিযোগ দায়ের ও বিচার হবে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। তবে অপরাধের লিখিত অভিযোগ পিতা-মাতাকেই দায়ের করতে হবে। অন্যথায় আদালত তা গ্রহণ করবেন না। পিতা-মাতার অবর্তমানে কে লিখিত অভিযোগ করার অধিকারী সে বিষয়ে আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
কপি
পেস্ট
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন