এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২

শিলং, কামাখ্যা, শিলচর, চেরাপুঞ্জি, ডাওকি ও বঙ্গদেশের অন্যান্য প্রাকৃতির।,,,,, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ফেইসবুক থেকে

 আজ আপনাদের ঘুরপথে/অন্যপথে নিয়ে যাবো শিলং, কামাখ্যা, শিলচর, চেরাপুঞ্জি, ডাওকি ও বঙ্গদেশের অন্যান্য প্রাকৃতির।


সুরমা মেল। নাম শুনে কী মনে হচ্ছে? আসলে সে দেশভাগের আগে যেতো শিয়ালদহ থেকে শিলচর। তবে সরাসরি নয়। তখনও ব্রহ্মপুত্রের উপর বঙ্গবন্ধু সেতু (বর্তমান বাংলাদেশের) হয়নি। ব্রড গেজ ট্রেনের প্রথম অংশ আসতো শিয়ালদহ থেকে সিরাজগঞ্জ স্টেশন, ভায়া ঈশ্বরদী (এখান থেকে খুলনা এবং পাবনা যাওয়ার প্যাসেঞ্জার ট্রেন পাওয়া যায়)। তারপর স্টিমারে করে ওপারে। ওপার থেকে জগন্নাথগঞ্জ থেকে শিলচর, ভায়া ময়মনসিংহ, সিলেট। যিনি মেঘালয় বা দু'একদিনের জন্য চেরাপুঞ্জি যেতে চাইতেন, তাঁরা নামতেন সিলেট স্টেশনে। এখন যেমন বাঙালিরা লাভা, রিসপ ইত্যাদি জায়গায় সপ্তাহের শেষ দুটো দিন কাটাতে যান, তখন বাঙালি যেতেন সিলেট থেকে মাত্র ৫০ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত চেরাপুঞ্জি কিংবা ডাওকি (নদী)। আজ যাওয়াটা অনেকটাই কঠিন। কিন্তু সেই যুগে এই সুরমা মেল ছিল সেই কঠিনের তরল মাধ্যম। আর যদি ময়মনসিংহ নামেন, সেখান থেকেও ডালু এবং গাঢ় পাহাড় খুব একটা দূরে নয়। আর যদি আপনার বুকে সাহস থাকতো, চলে যেতেন শিলচর। সেখানে দেখতেন আদিবাসীদের। উত্তর-পূর্ব ভারতের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক নিরক্ষর আদিবাসরা থাকতেন, সেখানকার পরিবেশ ছিল আজকের থেকে একটু অন্যরকম। ভয়ে যেতেন না। গেলে বড়োজোর শিলচর। এর বেশি নয়। কিন্তু আজকের দিনে অবশ্যই শিক্ষার আলো পেয়ে তারা আপনাকে স্বাগত জানাবে।

ট্রেনটি শিয়ালদহ ছাড়তো সকাল ১০:০০ টায়। তারপর, নৈহাটি, রানাঘাট, পোড়দহ, ঈশ্বরদী হয়ে বিকেল সাড়ে ৫ টায় (১৭:৩০)-এ পৌঁছে যেতেন সিরাজগঞ্জে। তারপর স্টিমারে করে ব্রহ্মপুত্রকে পেরোতে হবে। তারপর ওপারের জগন্নাথগঞ্জ স্টেশন থেকে রাত ১০ টা ৩০-এ (২২:৩০) ট্রেন ছাড়তো। পরের দিন (অর্থাৎ রাত বারোটার পর) রাত ০১ টা ২৫ (০১:২৫) নাগাত ময়মনসিংহ, ভোর ৫ টা ১০ -এ (০৫:১০)-এ সিলেট, তারপর সকাল ১১:৪৫ -এ শিলচর। এটা প্রথমে সিরাজগঞ্জ অবধি যেতো। পরে এটা বর্ধিত হয় সিলেট (ভায়া ময়মনসিংহ), তারপর আবারও বর্ধিত হয় শিলচর পর্যন্ত। আর বাঙালি পর্যটকে ভরা থাকতো এই ট্রেন—আজ যেমন সরাইঘাট কিংবা কামরুপ, কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘা।

এবার একটা কথা ভাবুন। আজ ব্রীজ হয়েছে। রেলের গতি বেড়েছে (তখন সে চলতো ৫০কিমি/ঘন্টা-এ, আজ ট্রেন চলে কমবেশি ১০০কিমি/ঘন্টা-এ) তাহলে কতো কম সময়েই আমরা শিলচর পৌঁছাতে পারতাম! আজ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে মাথা গুঁজে পড়ে থেকে তবে যেতে হয় শিলচর!

যাই হোক, ধরুন সপরিবারে শিলং যাবেন। তাহলে আপনাকে নামতে হতো সিলেট। সেখানে মোটরগাড়ীরা আপনার জন্য হাঁকডাঁক করতো। না, একচুয়ালি আপনার জন্য নয়। তাদের রোজগারের জন্য। তারা আপনাকে নিয়ে যাবে শিলং, কামাখ্যা, চেরাপুঞ্জি, ডাওকি আলাদা আলাদা রেটে। অর্থাৎ পাহাড়ের বাঁক দিয়ে এঁকেবেঁকে আপনাকে শিলং নিয়ে যেতে যতো টাকা পড়বে, কামাখ্যা যেতে তত বেশি পড়বে সিলেট থেকে। যাই হোক, এই ভাবে পাহাড়ের হাঁ করা খাদকে ভয় করে কিন্তু ড্রাইভারকে ভরসা করে পৌঁছে যেতেন শিলং, কিংবা আপনার গন্তব্যে।

যদি ময়মনসিংহ নামতেন, তবে, সেখানেও থাকতো মোটরগাড়িরা। তারা আপনাকে নিয়ে যেতো বাঘমারা, ডালু, কিংবা মেঘালয়ের তুরা। তবে, তুরা, গোয়ালপাড়া, কামাখ্যা যেতে চাইলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল আসাম মেল (দেশভাগের কারণে আজ ইনিও বিলুপ্ত!)।

যাই হোক, ঘুরলেন। সিলেটেও ঘোরার অনেক ভালো ভালো জায়গা আছে। যেমন— খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান (পাহাড়), কালা পাহাড়, মুরাইছড়া পাহাড়, হুকানচাঁদি বিল। যদি কখনও পুরুলিয়া যান, দেখবেন ওখানে প্রচুর ড্যাম। তেমনই এই সিলেটে প্রচুর ছোটোখাটো পাহাড়, প্রাকৃতিক হ্রদ, জালের মতো বিছানো নদীমালা রয়েছে। প্রকৃতি সর্বত্র।

ঘোরা হলো। এবার ফিরতে হবে। শিলচর থেকে বিকেল ০৫:৪৫ (১৭:৪৫)-এ ডাউন সুরমা মেল ছাড়তো। সিলেট ও ময়মনসিংহ যথাক্রমে ২৩:০০, পরের দিন ভোরে ০৩:৪৫ -এ আসতো। তারপর জগন্নাথগঞ্জ পৌঁছাতো সকাল ০৬:৪৫-এ। তারপর স্টিমারে করে জগন্নাথগঞ্জ থেকে সিরাজগঞ্জ। সিরাজগঞ্জ থেকে পুনরায় ছাড়তেন সকাল ১১:৩৫, তারপর রানাঘাট, নৈহাটি হয়ে শিয়ালদহ পৌছাতেন সন্ধ্যা ১৮:৫৫-এ।

ট্রেনের গতি কম ছিল। স্টিমার দিয়ে পারাপারের জন্য অনেক অতিরিক্ত সময় দেয়া থাকতো। আজ ব্রিজ হয়েছে। তাহলে ভাবুন, ট্রেনের গতি বাড়িয়ে, বীজ ব্যবহার করে অতিরিক্ত সময় না দিয়ে, কত কম সময়েই আমরা শিলচর পৌঁছাতে পারতাম। আর হয়তো, দুটো শতাব্দী কিংবা জনশতাব্দী এক্সপ্রেসও ছাড়তো। (১) কলকাতা (চিতপুর) - সিলেট শতাব্দী (স্টপেজ— ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ)। যদি গতি আরও বাড়ানো যায়, সিলেট শতাব্দীকে শিলচর পর্যন্ত বাড়ানো যেতো হয়তো।

পরের পর্বগুলিতে আপনাদেরকে ঘোরাতে নিয়ে যাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া। দেশভাগের আগে ত্রিপুরার আগরতলা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তাই বর্তমানে যারা ত্রিপুরা বেড়াতে গেলে আগরতলা নামতেন, ওনাদের নামতে হতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে, বর্তমান আগরতলা থেকে মাত্র ৩০ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত। এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া বর্তমান বাংলাদেশে অবস্থিত। হয়তো নিয়ে যাবো ঢাকা, চট্রগ্রাম, বাংলাদেশের সুন্দরবনে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে হয়, তখন সুন্দরবন একটাই ছিল। বাঘে বাংলাদেশ-ভারত চিনতো না। অবশ্য এখনও চেনে না, কারন বাঘ অবাধে ঘোরাফেরা করে। চাপাবো ইস্ট বেঙ্গল এক্সপ্রেসে, আসাম মেলে (যাদের প্রত্যেকেই আজ বিলুপ্ত)। কাঁচা হাতে কিছু ইতিহাস বলবো।

সংশোধন এবং সংযোজনঃ
ট্রেনটি ময়মনসিংহ এবং সিলেটের মধ্যে ভায়া ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে চলতো। সেক্ষেত্রে যারা আগরতলা অঞ্চলে বেড়াতে যেতেন তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলেই নামতেন।
ধন্যবাদ Alakes Guchhait
কপি
পেস্ট

কোন মন্তব্য নেই:

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...