এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২

কল্পনায়_হলেও শুধু আমারি থেকো,,,,,, অতীত ফেইসবুক থেকে,,,,

 --তোমায় বিয়েটা করতে হবে। আর শুধু মাত্র আমাকে একটা বাচ্চা দেওয়ার জন্য। ২ বছরের সংসার হবে আমাদের। 

২ বছর পর বাচ্চা কে ছেড়ে তোমাকে চলে যেতে হবে। 

আমানের কথায় মেঘ ছোটাছুটি বন্ধ করে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে , 

আমান গিয়ে মেঘের মুখের বাঁধন টা খুলে দেয়, 

--কি মনে করেন নিজেকে?খুব বড়ো মানুষ আপনি? যা বলবেন তাই শুনতে হবে আমায়?

--হ্যাঁ শুনতে হবে কারন এখন আর তোমার কাছে কোন উপায় নেই। 

আমানের কথায় মেঘ মেঘ অবাক দৃষ্টিতে তাকায় আমানের দিকে,

--মিসেস.আমান খান, আপনার পরিবার আমার কাছে বন্দী আছে। 

আপনার বাবা-র হার্ট এটাকের বিষয় টা ত আপনি জানেন। 

আপনার বাবার চিকিৎসা বন্ধ আছে। 

আপনার ছোট্ট বোনটা আর আপনার মা আমাদের কাছেই আটকা আছে। 

ওদের ৩ জনের জীবন আপনার কাছে। 

আপনি রাজি হলেই শুধুমাত্র তারা বেঁচে থাকতে পারবে। 

না হলে না। 

--আমি আমার বাবাকে বাঁচিয়ে নিবো ছাড়ুন আমাকে 

পারলে আমায় এই বন্দী দশা থেকে মুক্তি করে দেখান। তার পরে বলুন। 

--ও মিসেস.খান OK. I will set you free but only for one day.

I promise you will come back to me exactly one day later. .

আমান বাঁকা হেসে কথাগুলো বললো। 

মেঘর আমানের এই বাঁকা হাসি বিন্দু মাত্র সহ্য হচ্ছে না। 

ইচ্ছে হচ্ছে এই মুহুর্তে এই মানুষ টাকে মেরে ফেলতে। 

আমান মেঘের হাত খুলে দেয়, 

মেঘ ছাড়া পেয়ে এক দৌড়ে বেরিয়ে আসে সেখান থেকে। 

সাদা থ্রি পিচ পরা চুল এলোমেলো করা মেয়েটার  ওড়না টা পুরো সামনে দিয়ে বিছিয়ে গেছে 

মেয়েটার দৌড়াচ্ছে যার জন্য পেছনের কোন কথাই তার কানে আসছে না। 

মাথার মধ্যে শুধু একটা চিন্তা ব্যাঙ্কে  পৌঁছাতে হবে। 

বাবার জন্য মায়ের করা ডিফিএজ টা ভেঙে বাবার চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে হবে। 

মেঘ দৌড়ে  তাদের একাউন্ট করা ব্যাঙ্ক এ আসে। 

দৌড়ে আসতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। 

জায়গাটা নির্জন ছিল। 

তবে মেঘের চেনা ছিল সেই জন্য ই সে দৌড়ে আসতে পেরেছে। 

ব্যাঙ্কে এসে, 

-- Excuse me. 

--yes mam. may I help you?

--আমার মায়ের নাম মাহিমা রহমান৷ 

ওনার নামে একটা ডিফিএজ ছিল যার অধিকারি হিসাবে আমার নাম ছিল। 

সেটা এই মুহুর্তে ভাঙতে হবে। 

প্লিজ। 

--ম্যাম নামটা আবার বলুন। 

--মাহিমা রহমান। 

--ছবি ম্যাম ওনার এই টাকাগুলো আমরা গত ৩ দিনের মধ্যে ওনাকে দিতে পারবো না। 

--কেন?

--উপর থেকল ওর্ডার আছে। এটা পারবো না আমি।। 

--কিন্তু আমার বাবার জীবন মরন প্রশ্ন। 

--হতে পারে কিন্তু ম্যাম পারবো না। 

মেঘ অনেক চেষ্টা করেও কাজ টা করতে না পেরে হসপিটালে চলে আসে, 

মেঘের বাবার অবস্থা ভিশন খারাপ। 

--ম্যাম এই মুহুর্তে টাকা জমা না দিলে আপনার বাবাকে বাঁচানো সম্ভব না। 

মেঘ অসহায় হয়ে বসে পরে। 

এক দিকে তার মা আর বোন আটক। 

অন্য দিকে তার বাবার চিকিৎসা আটকে আছে। 

কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না মেঘ। 

চারিদিকে ঘুরছে সব কিছু। 

হসপিটালের একটা বেঞ্চে বসে পরে মেঘ। 

মেঘের সামনে এখন মাত্র একটা রাস্তা খোলা। 

চোখের কোনে জমে থাকা বিন্দু পানি কনা মুছে মেঘ আমানের কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে পায়ের ব্যাথা নাড়া দিয়ে ওঠে। 

এতো সময় তিরাশে তিরাশে অনেকটা পথ হেঁটেছে আর চলছে ন পা দুটো। 

সাথে থাকা ব্যাগ টাও পরে গেছিল রাস্তায়। 

মেঘ মাথা নিচু করে কাঁদছে হটাৎ তার সামনে তার চোখের পানির উপর হাত রাখে এক ব্যাক্তি। 

মেঘের চোখ থেকে নির্গত পানির ফোঁটা লোকটার হাতে গিয়ে পরে, 

মেঘ মাথা তুলে তাকায়, 

সামনে আর কেউ না আমান দাঁড়িয়ে আছে,

--পেপার রেডি আছে সাইন করে দেও। 

--আগে আমার বাবাকে ফেলে না রেখে চিকিৎসার জন্য পাঠান। 

--সাইন করলে তবে সব হবে। 

মেঘ চোখ বন্ধ করে সামনে থাকা পেপার টায় সাইন করে দেয়। 

অপারেশন থিয়েটার এর আলোটাও জ্বলে ওঠে। 

আমান মেঘের হাত ধরে এক পাশে নিয়ে আসে। 

সেখানে উপস্থিত হয় মেঘের মা আর ছোট বোন। 

ওদের দেখে ওদের কাছে যেতে চায় মেঘ। 

আমান মেঘের হাতটা আঁটকে ধরে। 

চোখের পানি বাঁধ ভেঙে গড়িয়ে পরতে থাকে। 

--আ সরি মা। 

পেছন থেকে টান অনুভব হয় মেঘের হাতে। 

--শেষ বারের  মতো মা বোনকে দেখে নেও. 

পরে গিয়ে সুযোগ নাও পেতে পারো। 

মেঘ একটা পাথরের মতো সব কথা শুনলো। 

কিছুই বললো না। 

সামনে একটা কাটা যুক্ত পথ অপেক্ষা করছে তার জন্য যেটা পারি দিতে কেউ তাকে সাহায্য করবে না। 

মেঘ চোখ বন্ধ করে নেয়। 

আর অতীতের কথা সরনে আসতে থাকে,

(মেঘ  পুরো নাম জান্নাতুল মেঘ  মা বাবার দুই মাত্র সন্তানের মড়ো জন। 

ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া মেয়েটা ভিশন চনচল স্বভাবের মা বাবা আর ছোট বোনটা তার পরিবার না জীবন বলতে গেলে। 

বাবা এক জন সামান্য সরকারি কর্মকর্তা কিছু দিন হলো রিটার্টমেন্ট এ আসছেন। 

মা ও চাকরিজীবী একটা প্রাইমেরি স্কুলে চাকরি করতেন। কিন্তু হটাৎ একটা এক্সিডেন্ট এ মায়ের পায়ে সমস্যা হয় যার জন্য চাকরিটা মাকে ছেড়ে দিতে হয়। 

কোন মতে সংসার টা চললেও পরিবারের সবার  সাথে ভালোবাসায় ভরা দিন গুলো ভালোই কাটছিলো। 

,

সেদিন শুক্রবার সব কিছুই ছুটির দিন। 

রিমির (মেঘের ছোট বোন)  ইচ্ছে হয়েছে আইসক্রিম খাওয়ার৷ 

তাই আপুর সাথে বিকালে বেরিয়ে পরে। 

দোকান থেকে আইসক্রিম নিয়ে দুই বোন পার্কের পাশের রাস্তা দিয়ে গল্প করতে করতে আসছে। 

দু'জন হেঁটে বাসায় আসছিল এমন সময় কিছু লোক তাদের ঘিরে ধরে। 

--কি চাই (মেঘ)  

--ম্যাম আপনাকে একটু আমাদের সাথে আসতে হবে? 

--কোথায়? (ভ্রু কুচকে মেঘ) 

--ম্যাম প্লিজ আপনি কথা বাড়াবেন না আমাদের সাথে আসুন না হলে ওর্ডার আছে আপনাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার। 

--আরে একে কথা নেই বর্তা নেই আমাকে নিয়ে যেতে চাইছেন আবার ধমক ও দিচ্ছেন।

মাথা তুলে না আছাড় দিবো রাস্তা ছাড়ুন। 

--ওকে ম্যাম। 

লোক গুলো জোর জবর দোস্তি করে মেঘকে নিয়ে আসে। 

আর রিমি অবেক চেষ্টা করেও আটকতে  পারে না। 

মেঘকে নিয়ে গেলে রিমি দৌড়ে বাসায় চলে আসে মা বাবাকে কথাটা বলার জন্য, 

মেঘকে এনে বসানো হয় আমানের সামনে। 

আমান খান। খুবই অল্প বয়সে মাফিয়া হয়ে ওঠা এক বিজনেস  ম্যান। 

দেশ থেকে নাম যার বাইরে পর্যন্ত ছাড়িয়ে আছে। 

মেঘ আমান কে সামনে দেখে কিছু সময় তাকিয়ে রয় আমানের দিকে,

--আসসালামু আলাইলুম। (আমান)  

--ওয়া আলাইকুম সালাম। 

আমাকে এখানে তুলে আনার মানে কি? 

--একটা ডিল করতে চাই আপনার সাথে মিস. মেঘ। 

--আপনি আমার নাম জানলেন কি করে? 

--কেন কুব কঠিন কিছু আপনার নাম জানাটা। 

--দেখুন আমাকে এভাবে অসভ্যের মতো তুলে আনার কারন কি? 

--আপনাকে সভ্য ভাবে প্রথমে বলা হয়েছিল। 

কিন্তু আপনি অসভ্যতার রাস্তা টা বেছে নিয়েছেন। 

--মানে কি! 

--মানে কিছু না। 

ডিলের কথায় আসি। 

--কিসের ডিল। 

--বেশি কিছু না ২ বছরের জন্য স্ত্রী আর সন্তানের মা হবার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকে 

আমানের মুখে এসব কথা শুনে মেঘ আমানের গালে ঠাটিয়ে এক চড় বসিয়ে দেয়, 

--ইয়ারকি পেয়েছেন আপনি। 

এই বিকালের সময় একা একটা মেয়েকে তুলে এনে আপনি আমায় এগুলো বলছেন। 

আমানের চোখ মুহুর্তে লাল বর্ণ ধারন করে,

চলবে,


কল্পনায়_হলেও_শুধু_আমারি_থেকো💖


লেখিকা-লামিয়া রহমান মেঘলা 


পর্ব_০১


(গল্পটা প্লিজ ধৈর্য ধরে পড়বেন।গল্প সম্পর্কে মন্তব্য জানাবেন)



কল্পনায়_হলেও_শুধু_আমারি_থেকো💖

লেখিকা-লামিয়া রহমান মেঘলা 

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,


পর্ব_০২

আমান নিজের বাম হাতে মেঘের মাথার পেছনে ধরে অন্য হাতে মেঘকে খুব কাছে নিয়ে আসে। 

মুহুর্তে মেঘের রাগ সব ভয়ে পরিনত হয়। 

মেঘের ঠোঁট দুটো আঁকড়ে ধরে আমান। 

মেঘ কিছু সময় ছোটাছুটি করার পরেই আমান মেঘকে ছেড়ে দেয়। 

মেঘ এবার সমস্ত শক্তি দিয়ে আমান কে চড় বসিয়ে দেয়। 

কিন্তু বিপরীতে আমান আবারো মেঘের সাথে একি কাজ করে। 

--আর সাহস করো না চড় মারার নাহলে এর পর যা হবে তার জন্য তুমি দায়ি থাকবে। 

আমানের কথায় মেঘ ভেজা চোখে তাকিয়ে আছে। 

একটা মানুষ হটাৎ এভাবে তার জীবনে কি করে আসতে পারে। 

এটা কি আদও সম্ভব। 

--তোমার কাছে ভাবার জন্য সময় আছে কিন্তু মাত্র ৩ দিন৷। 

যা করবে ৩  দিনে ভাবো। 

মনে রেখো তোমার জন্য আমি সব কিছু ধ্বংস করে দিতে পারি। 

কথাটা বলে আমান সেখান থেকে চলে আসে। 

আর মেঘকে আমানের লোকেরা বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসে। 

মেঘ বাসায় পৌঁছাতে, 

--কিরে মা কোথায় ছিলি রিমি বলল তোকে কারা তুলে নিয়ে গেছে কি হয়েছে মা (মাহিমা রহমান উত্তেজিত হয়ে) 

--মা রিমি তোমার সাথে মজা করেছে  তুমি চিন্তা করো না আমি ঠিক আছি। 

--মানে কি রিমি এটা কোন ধরনের অভদ্রতা। (রেগে)

--কিন্তু মা। 

মেঘ রিমিকে ইসারা করে রিমি চুপ হয়ে যায়। 

--রিমি একটু চা নিয়ে আয়। (মেঘ) 

মেঘ নিজের রুমে চলে আসে।

মেঘ চনচল সভাবের হলেও ভিশন চাপা। 

কখনো অতিরিক্ত কষ্ট না হলে তা প্রকাশ করে না। 

সবাই তাকে ভালোবাসে ওর কিছু হয়েছে শুনলে সবাই যে কষ্ট পাবে। 

রিমি চা নিয়ে আসে মেঘের জন্য। 

--আপু চা। 

--দে। 

--তুমি মিথ্যা বললে কেন। 

--বাবা মায়ের উপর এমনি অনেক চাপ প্লিজ তুই আর কিছু বলিস না ওরা সহ্য করতে পারবে না। 

--কিন্তু আপু।। ++

--রিমি না। 

--ঠিক আছে তোর যা ভালো মনে হয়। 

মেঘ চা খেয়ে নেয়, 

এভাবে চিন্তার মাঝ দিয়ে ৩ দিন কেটে যায়। 

ঠিক ৩ দিন পর। 

মেঘ নিজের রুমের বেলকনিতে বসে ছিল হটাৎ কোন অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসে। 

--হ্যালো আসসালামু আলাইকুম। 

--ওয়া আলাইকুম সালাম মিসেস.খান। 

মেঘ কন্ঠ শুনে বুঝতে পারে ওপাশের লোকটা কে। 

মেঘের বুকের মাঝে ধকধক শব্দ তিব্র হতে থাকে। 

--কি চাই? 

--আপাতত শুধু তোমাকে। 

--দেখুন আমি আপনার এসব ফালতু প্রস্তাবে রাজি নই। 

--ওকে সমস্যা নেই সামনে যা ঘটতে চলেছে তার জন্য তুমি দায়ি। 

সেদিন আমান শুধু এই কথাটা বলেই ফোনটা রেখে দিয়েছিল। 

মেঘ সেদিন না বুঝতে পারলেও প্রায় ৫ দিন পরে বাবার হটাৎ হার্ট এটাক এ বুঝতে পারে কি হচ্ছে তার সাথে। 

হসপিটালে দৌড়ে ও কোন কাজ হচ্ছিল না। 

মেঘকে জানান দিতে আবারো তুলে নিজের কাছে নিয়ে যায় আমান। 

পরের বার ঠিকি সে তার উদ্দেশ্যে সফলতা লাভ করে, 

হটাৎ গাড়ি থামার জন্য মেঘ বন্ধ চোখ দুটো খুলে তাকালো।

পাশে বসে থাকা লোকটা তাকে কোলে তুলে নিলো। 

এটা এয়ারপোর্ট। 

মেঘ অবাক হয়ে আছে। 

পাশে প্রেস এর লোক সমানে ছবি তুলছে। 

গার্ড রা সামনে দিয়ে অতিরিক্ত লোক গুলোকে সরিয়ে দিচ্ছে আর আমান কোন গল্পের নায়কের মতো রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছে। 

আমানের মুখে কালো মাস্ক। 

মেঘ খেয়াল করলো তার মুখেও একটা সাদা মাস্ক। 

কিছু সময় পরে তারা প্লেনে উঠে এলো। 

প্লেন টা যে শুধু মাত্র আমানের জন্য তা ভেতরে এসে বুঝতে বাকি রইলো না মেঘের। 

প্লেন এর ভেরতে কেউই নেই। 

শুধু দু'জন এয়ার হোস্ট। 

ব্যাগ গুলো উপরে তুলে রেখেছে। 

আমান মেঘকে একটা সিটে বসিয়ে দেয়। 

আর মুখ থেকে মাস্ক টাও খুলে দেয়। 

--আমরা কোথায় যাচ্ছি?

--যাচ্ছি কোথাও চিন্তা করো না তোমার স্বামীর বাসায় ই যাচ্ছো তুমি। 

মেঘ অবাক হয়ে তাকিয়ে রয় ফর্সা বর্ণের এই ছেলেটার দিকে। 

চোখ গুলো হালকা কটা। 

একটা সাদা সর্ট হাতার গেঞ্জি প্যান্ট এ ইন করা। 

মেঘের দিকে ঝুঁকে থাকায় চুল গুলো সামনে এসেছে, 

কে বলবে এতো মায়াবী চেহারার লোকটার পেছনে আসল রহস্য টা কি। 

--আমি যাবো না কোথাও। 

আমায়  প্লিজ আমার পরিবার থেকে আলাদা করবেন না। 

আমান মেঘের কথায় অট্ট হাসিতে মেতে ওঠে, 

--ও মাই গড তুমি কি বললা এগুলা। 

আমার ১০ দিনের পরিশ্রম তুমি বুঝেছো। 

এতো পরিশ্রম আমি কখনো করি নি কারোর জন্য করি নি। 

আমান খান কখনো কিছু পরিশ্রম করে পাই নি সৃষ্টিকর্তার দোহায় সে এমনি পেয়েছে। 

কিন্তু তোমার জবাব আমাকে পরিশ্রম করতে হয়েছে। 

আমানের কথা গুলো বলার সময় চোখে যে এক রাস ঘৃণা ছিল তা মেঘের চোখ এড়ালো না। 

কিন্তু কেন এই ঘৃণা?

আর কে এই লোকটা?

কোথায় যাচ্ছে সে? 

আদও কি সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে তার জন্য? 

কিছুর উত্তর মেঘের জানা নেই। 

আমান মেঘের সামনে থেকে সরে এসে মেঘের মুখোমুখি সিটে বসে পরে। 

মেঘ একটা পুতুলের মতো বসে আছে। 

সাদা চুরিদারি থ্রি পিচ টাই তার পরনে। 

চুল গুলো এতো ঝামেলায় এলোমেলো হয়ে আছে। 

কিছুই গোছানো নেই। 

আমান ও তার এলোমেলো দৃষ্টি মেঘের দিকে রেখেছে। 

মেয়েটার চোখ বাইরের দিকে, 

ঘন সাদা মেঘের সাথে তিব্র সূর্যের আলো। 

এই দৃশ্য টা যেন অজানা কোন সর্গ। 

--(আম্মু, আব্বু, রিমি আমায় কি খুঁজবে তোমরা? নাকি হারিয়ে গেছি বলে ছেড়ে দিবে।) 

ভিশন কান্না পাচ্ছে এই মুহুর্তে মেঘের। 

সত্যি ভিশন কান্না পাচ্ছে। 

কখনো এমনটা কল্পনায় ও আসে নি মেঘের। 

যে এটা হতে পারে। 

,

,

,

--আম্মু কই তুমি (রিমি) 

--কি হয়েছে? 

--আম্মু মেঘ আপুকে খুঁজে পাচ্ছি না কোথাও। 

--মানে কি। ও তো ব্যাঙ্কে গেছিল। 

--হ্যাঁ কিন্তু কাউন্টারে ত টাকা জমা পরেছে তাহলে ওর ত হসপিটালে থাকার কথা। 

--হ্যাঁ তুই ফোন দে। 

--দিয়েছি বন্ধ পরে গিয়ে দেখি  

ওর ফোনটা আর ব্যাগ টা কেউ এক জন নিয়ে এসেছে। 

প্রশ্ন করতে বলল,

এটা পরা ছিল রাস্তায়। 

উনি পেয়েছেন। 

--কিন্তু উনি বুঝতে পারলো কি করে এটা মেঘের আর মেঘ তোর বোন।

--আমি ওতো জানি না মা তুমি আপুকে খুঁজো। 

--খুঁজো মানে, 

মাহিমা বেগম উত্তেজিত হয়ে পরে। 

--তোরা দুই বোন মিলে আমার সাথে মজা করিস না রিমি। 

এমনি তোর বাবাকে নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি। 

--মা বিশ্বাস করো মজা করছি না সত্যি আপুকে পাচ্ছি না। 

,

প্রায় ২ ঘন্টা হয়ে গেছে মেঘের কোন খোঁজ নেই। 

মাহিমা রহমান কান্নায় ভেঙে পরেছে। 

রিমিও সাথে। 

কি হচ্ছে তাদের সাথে। 

,

প্রায় ৪ ঘন্টা হতে চলল মেঘের কোন খোঁজ নেই। 

মাহিমা বেগম দৌড়ে পুলিশ স্টেশন এ জান। 

তারা যদি তাকে কোন হেল্প করতে পারে, 

কিন্তু পুলিশ ও বলেছে যে  ২৪ ঘন্টার আগে তারা কোন রিপোর্ট লিখবে না। 

এবার সত্যি অসহায় হয়ে আছে দু'জন। 

কিছুই করার নেই, 

,

,

রাত ১২ঃ৩০ মিনিট, 

প্লেনটি গিয়ে ল্যান্ড করেছে সাউথ কোরিয়ার এয়ারপোর্টে,  

মেঘ বুঝতে পারে এটা তার দেশ নয় কিন্তু এটা ঠিক কোন দেশ তা বুঝতে পারছে না। 

আমান গিয়ে মেঘকে আবারো পাজকোলে তুলে নেয়। 

মেঘ চুপচাপ আমানের কলার্ট ধরে রেখেছে। 

ভিশন ক্লান্ত চোখ দুটো। 

বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে এর মতো এখানের এয়ারপোর্টে এ ও লোকের সমাহার। 

মেঘ খেয়াল করে দেখলো টিভিতে আমান আর মেঘের বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট এর ছবি দেখানো হচ্ছে। আর কোরিয়ান ভাষায় সংবাদ পাঠ করা হচ্ছে। 

চলবে,

কপি
পেস্ট

কোন মন্তব্য নেই:

নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...