এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২২

দারুল উলুম দেওবন্দ এর ইতিহাস

💠 চমৎকার বর্ণনা শৈলীতে দারুল উলুম দেওবন্দ এর ইতিহাস : 💠


👉[আমার একটু কথা শোনো! 

বেফাক বোর্ড সিলোবাসভুক্ত কওমী মাদরাসার সানাবিয়া উল্ইয়া-শরহে বেকায়া জামাতের জন্য নির্ধারিত আরবী রচনা শিক্ষার অনন্য ও অতুলনীয় একটি কিতাব- `আত্বরীকু ইলাল ইনশা'

যার তুলনা বইটি নিজেই। একজন শিক্ষার্থীর সেরা পাথেয়। যার মাধ্যমে রচনা কাকে? বলে তা না জানা একজন ছাত্রও জগদ্বিখ্যাত লেখক হওয়া সম্ভব। যার লেখক বাংলার এক কিংবদন্তী, উজ্জ্বল নক্ষত্র- মাও. সুলতান যওক নদভী হাফিজাহুল্লাহ। 

তার কথা আজ না হয় রেখেই দিলাম।


🔹এই কিতাবের যে অধ্যায়টি আমাকে শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সেই মুগ্ধতা আমি কখনই ভুলতে পারিনা। কয়েকটি শব্দেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দকে তুলে ধরা হয়েছে তাতে। যা পড়ে এই কচি হৃদয়ে দেওবন্দ এর ভালবাসা, শ্রদ্ধা আরো হাজার গুণ বেড়ে যায়।

 সেটিই আজ আপনাদের জন্য পেশ করলাম। মিসবাহ]


انْقَرَضَتْ دَوْلَةُ المُسْلِمِيْنَ فِي الهِنْدِ ، وَرَسَخَتْ قُدَمُ اِنْكِلِيْزَ فِي أَرْضِهَا سنة ١٨٥٧ م....................

🔹প্রেক্ষাপট: 

খ্রিষ্টীয় ১৮৫৭ সালে ভারতবর্ষে মুসলমানদের রাজত্ব শেষ হয়ে যায় এবং

ব্রিটিশ বেনিয়াদের পা মজবুত হয়ে যায়। তথা ইংরেজ শাসনের গোড়াপত্তন হয় ।

তখন খ্রিষ্টান পাদ্রী এবং ধর্ম যাজকরা গ্রাম-গঞ্জে ও শহর-বন্দরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে

পড়ে, তারা মানুষকে খ্রিষ্টধর্মের প্রতি আহ্বান করতে থাকে। সাধারণ মানুষের

অন্তরে সন্দেহ ও বক্রতার বীজ বপন করতে থাকে। মুসলমানগণ তখন দু'টি বিপদাশঙ্কায় ছিলেন, মুরতাদ হওয়ার আশঙ্কা এবং নাস্তিক হওয়ার আশঙ্কা ।

তখন দীনি মাদরাসা এবং দরস ও তাদরীসের হালকাসমূহ যেগুলো থেকে উলামায়ে কেরাম এবং বড় বড় ইমাম বের হতেন, সেগুলো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের অপেক্ষায় ছিল। 

রাষ্ট্র কর্তৃক কোন সাহায্য সহযোগিতা না থাকা এবং দ্বিনী জ্ঞানের প্রতি মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনা কম থাকার কারণে। 

তাছাড়া অবস্থা এমন ছিল যে, যখনই কোনো মাদরাসা বন্ধ হতো তখন অন্য কোনো মাদরাসা এর স্থলাভিষিক্ত হতো না। যখনই কোনো আলেম অথবা বড় কোনো উস্তাদ চলে যেতেন, অন্যজন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন না।

 অন্যদিকে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছিল । এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র এবং জনসাধারণের সাহায্য-সহযোগিতা ভোগ করছিল ।

এ সময়ে উলামায়ে হক দীন এবং উলূমে দীনের ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন ।

ইসলামি রাষ্ট্রের পতন ও কুফরী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর ভারতবর্ষে ইসলামের

ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আশঙ্কা বোধ করলেন। তারা দেখলেন যে, রাষ্ট্র তাদেরকে সাহায্য করবে না, কোনো শক্তি তাদের রক্ষা করবে না, তারা এমন কোনো সম্পদেরও মালিক নয় যা তারা ব্যয় করবে এবং এমন কোনো পদ ও চাকরিরও অধিকারী নয়, যার প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করবে । প্রকৃত পক্ষেই তারা দুর্বল ও নিঃস্ব ছিলেন। 

তাদের সম্পদ ছিল ইলম। পুঁজি ছিল দীন। পাথেয় ছিল তাওয়াক্কুল । অস্ত্র ছিলো ইখলাস । 


🔹যাদের হাতে দারুল উলুমের সূচনা:


ফলে তারা এ সব নিয়েই দাঁড়ালেন, উদ্যোগী

হলেন। আর বললেন যে, আমরা দীনের একটি দুর্গ নির্মাণ করবো, যেখানে ইসলামি শরিয়ত আশ্রয় নিবে, যার শরণাপন্ন হবে উলূমে দীন। এই ঘাঁটিটি হবে সাহারানপুর জেলাধীন দেওবন্দ নামক সাধারণ একটি গ্রামের ছোট এক মসজিদে।

সে লক্ষ্যে খোদাভীরু, আত্মমর্যাদাপূর্ণ, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন উলামাদের ছোট একটি

দল সংঘবদ্ধ হলেন ।

তাদের অধিকাংশই ছিলেন শাহ ওয়ালী উল্লাহ মোহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এর খান্দানের শিষ্য এবং শায়খে কাবীর হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কীর ছাত্র ।

একজন মহান নেতা শায়খ মুহাম্মদ কাসিম নানুতবী তাদের নেতৃত্বে ছিলেন । (মৃত

১২৯৮ হি.) সেখানে তারা একটি ডালিম গাছের নিচে দীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন,

যা ছিল ১২৮৩ হিজরি সনে ।


🔹দারুল উলুমের প্রথম শিক্ষক এবং প্রথম ছাত্র:


মাত্র একজন শিক্ষক ও একজন ছাত্র দ্বারা মাদরাসাটির সূচনা হয়। শিক্ষক হলেন

মোল্লা মাহমুদ দেওবন্দী আর ছাত্র ছিলেন শাইখ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী (শাইখুল

হিন্দ (র.)। 


🔹যাদের দ্বারা ভারতবর্ষে ইসলাম ও ইলমের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো:


সে দিনটি ছিলো ভারতবর্ষের ধর্মীয় ইতিহাসে প্রশংসনীয় ও উল্লেখযোগ্য একটি দিন। গরীব, নিঃস্ব ও সাধারণ মুসলমানদের সাহায্য- সহযোগিতায় মাদরাসাটি চালু হয়।


 প্রথম দিন থেকেই নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ এ প্রেক্ষাপটে ইমামে রাব্বানী শায়খ রশীদ আহমদ গাংগুহী এবং শাহ রফীউদ্দিন দেওবন্দীর মতো ব্যক্তিত্ব আর মহান সংস্কারক ও ইসলামি লেখক শায়খ আশরাফ আলী থানভী (র.) প্রমুখ। মাদরাসার যাবতীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন ।


🔹যাঁরা পাঠদানের গুরু দায়িত্বে ছিলেন:


দরস ও তাদরীসের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন শাইখ সালেহ মুহাম্মদ ইয়াকুব নানুতুবী, আলিমে রাব্বানী শাইখ মাহমুদ হাসান দেওবন্দী, যিনি এ প্রতিষ্ঠানের সর্ব প্রথম ছাত্র ছিলেন, যুগশ্রেষ্ঠ আলিম, ইমামুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরি, প্রসিদ্ধ বীর মুজাহিদ শাইখ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর মতো প্রমুখ আলেমগণ । 


🔹দারুল উলুম যেমন গুণীজন তৈরি করেছিল?


ফলে আল্লাহভীতির হৃদয়, অল্পে তুষ্টি, বিনয় ও নম্রতা এবং খেদমতের মতো মহান গুণাবলি এদেশে ছড়িয়ে পড়ে। 

তার প্রথম পর্যায়ে যে কেউ তাকে পরিদর্শন করতেন, তিনি মনে করতেন যে, আধ্যাত্মিকতায় আবাদ করা কোনো খানকায় তিনি অবস্থান করছেন। 


🔹দারুল উলুমের প্রসার ও প্রচার:


দিন দিন মাদরাস পরিধি বৃদ্ধি পেতে লাগলো । তার সুনাম ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে লাগলো । সততা, আল্লাহভীতি এবং ইলমে হাদীস ও ফিক্বহশাস্ত্রে শিক্ষকদের জ্ঞানগভীরতার প্রশিদ্ধি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বিধায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল এবং অন্যান্য ইসলামি দেশসমূহের বিরাট

সংখ্যক শিক্ষার্থী দেওবন্দ মাদরাসার উদ্দেশ্যে আসতে লাগল ।


🔹ভারতবর্ষে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে দারুল উলুম এর অবদান: 


ভারতবর্ষে মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে দারুল উলূম দেওবন্দের ফারেগীন ছাত্রদের বিরাট প্রভাব । বিদআতের বিলুপ্তি সাধন, নব আবিষ্কৃত প্রথার উচ্ছেদ, আকিদার সংশোধন ও পরিমার্জন, দীনের দিকে দাওয়াত, সুন্নতের অনুসরণ এবং ভ্রান্ত পথের অনুসারীদের সাথে বিতর্ক ও তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর ছাত্রদের বিরাট অবদান রয়েছে । 


রাজনীতি, দেশ রক্ষা এবংজালিম বাদশাহর সামনে হক কথা বলার ক্ষেত্রেও কোনো কোনো ছাত্রের প্রশংসাযোগ্য পদক্ষেপ রয়েছে।


🔹দারুল উলুমের বিশাল গ্রন্থাগার:


 দারুল উলূম দেওবন্দের বড় একটি গ্রন্থাগার রয়েছে, যেখানে লাখো গ্রন্থ রয়েছে।

এর অধিকাংশ হলো পাঠ্যভুক্ত কিতাবের পুনরাবৃত্তি । এখানে হস্তলিখিত কিছু সংখ্যক

পাণ্ডুলিপিও রয়েছে । 


🔹দারুল উলুমের বৈশিষ্ট্য:


দারুল উলূমের বৈশিষ্ট্য হলো, কুরআন সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা, কঠোরভাবে মাযহাব পালন করা, পূর্বসূরীদের অনুসরণের প্রতি পূর্ণ যত্নবান হওয়া,

পুণ্নাহর প্রতিরক্ষা এবং শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলবী (র.)-এর কাফেলাকে সাহায্য প্রদান। 


🔹দারুল উলুমের সিলেবাস:


দারুল উলুম সে নেসাবে তা'লীম গ্রহণ করেছিল, দরসে নেজামীর নেসাবে

তা'লীমের ভিত্তিতে যে নেসাব রচনা করা হয়েছে। 


🔹যুগচাহিদা পূরণে দারুল উলুম দেওবন্দ:


পরিশেষে বর্তমান যুগের ডাক দারুল উলূম শ্রবণ করেছে এবং নেসাবে তা'লীম সংস্কার ও উন্নতি সাধনের ডাকে সাড়া দিয়েছে ।


🔹বিশ্ব মুসলিমের কামনা:


দারুল উলুম স্বীয় মহিমায় অমর হয়ে থাকবে এ ধরার বুকে এবং জন্ম দিবে সেসব সূর্য সন্তান যারা আমরণ খেদমত করে যাবে দ্বিন ও পৃথিবী বাসীর। 


মূল লেখক: আল্লামা সুলতান যওক নদভী হাফিজাহুল্লাহ


[পোস্ট এর জন্য কিঞ্চিৎ পরিবর্তন: মিসবাহ ইবনে আবু বকর] 

কপি
পোস্ট

কোন মন্তব্য নেই:

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...