যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় (১ম পর্ব)
১.রোযা অবস্থায় পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকা জরুরি, সুতরাং যদি কোন ব্যক্তি দিনের বেলায় ইচ্ছা করে উপরোল্লিখিত তিনটি কাজের যে কোন একটি কাজ করে তাহলে তার রোযা ভেঙ্গে যাবে। এবং তার উপর কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।
২.সুবহে সাদিক না হওয়ার পূর্ণ ধারণার উপর কেউ সেহরী খেল অথচ তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে ( সেহরী খাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে) অথবা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্ণ ধারণায় ইফতার করল অথচ বাস্তবে তখনও সূর্য অস্ত যায়নি, এমতাবস্থায় তাকে ঐ রোযাটির কাযা করতে হবে। তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। পক্ষান্তরে সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ সেহরী খেয়ে নেয় আর বাস্তবেও সুবহে সাদিক হয়ে থাকে, তাহলে তার কাযা ওয়াজিব হবে, আর যদি সূর্য অস্ত না যাওয়ার প্রবল ধারণা সত্ত্বেও ইফতার করে নেয় আর বাস্তব দেখা যায় সূর্য অস্ত যায়নি তাহলে তার কাযা কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।
৩.সুবহে সাদিক হয়নি এই সংবাদ পেয়ে কোন ব্যক্তি খানা খেল, কিন্তু পরবর্তীতে তার খবর ভুল বলে প্রমাণিত হলে তার ঐ রোযার কাযা করতে হবে, কাফ্ফারা দিতে হবে না।
৪.সূর্য অস্ত চলে গেছে, ইফতারির সময় হয়েছে-দুই ব্যক্তির এই খবরের ভিত্তিতে রোযাদার ইফতার করল। কিন্তু অপর দুই ব্যক্তি বলল: না, এখনও ইফতারির সময় হয়নি। পরবর্তীতে দেখা গেল আসলেই ইফতারির সময় হয়নি-সূর্য অস্ত যায়নি। তাহলে ঐ রোযাদারকে রোযার কাযা করতে হবে, তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না।
৫.যদি কেউ রোযা রাখার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করে, তাহলে তার রোযা ভাঙ্গবে না। তার রোযা বহাল থাকবে। তবে কেউ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও যদি খায় তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা ওয়াজিব হবে, তবে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে শামী ৩য় খন্ড- ৩৬৫ পৃষ্ঠা)
![]() |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন