লেখার শিরোনাম - নারী দিবসের প্রতিপাদ্য
"নারীর শরীর আছে, শরীরে একটা মাথাও আছে"
রোজ রোজ আপনাদের প্রশ্নগুলো দেখি
ছোট কাপড় পরে সিডিউস করে!
বড় কাপড় পরে হাজিগীরি ফলায়!
মাঝারি কাপড় পরে নারীবাদী সাজে!
কত জনের সাথে শুয়ে জানি কবি হয়েছে!
কত জনের সাথে হাসাহাসি করে জানি ডিরেক্টর হয়েছে!
কতজনের সাথে গলাগলি করে জানি শিক্ষক হয়েছে
কতজনের সাথে ঢলাঢলি করে জানি নায়িকা হয়েছে!
কতজনকে হস্তমৈথুন করে যেন ঢাকায় ফ্ল্যাটটা কিনেছে!
কতজনকে খুশি করে যেন শহরে ভালো আছে!
কতজনের বিছানায় গিয়ে জানি গায়িকা হয়েছে!
কতজনের সংসার ভেঙেছে জানি রূপ দেখিয়ে!
কতজনের মাথা খেয়েছে এই শরীর দেখিয়ে!
শরীরটা দেখিয়েই তো করে খাচ্ছে নইলে খুঁজে পাওয়া যেত না!
শরীর বেচেই তো এত টাকা এখন!
শরীরটার জন্যতো সব জায়গায় এত তার দাম?
শরীর না থাকলে আর ডাক্তার হতে পারত!
শরীর দিয়েই তো বশ করলো ছেলেটারে!
শরীর দিয়ে ফাঁসাইলো !
শরীর, শরীর, শরীর,শরীর।
আর গালিগুলোর দিকে খেয়াল করেন মাগী, খানকি, বেশ্যা, চুতিয়া আরো যত প্রকার আছে নারীর শরীরকেই কেন্দ্র করে।
ওই মেয়ে ভালো করেছে- শরীর
ওর বাবা নেই ভালো আছে - শরীর
ওই মেয়ে একা আছে নিশ্চয় গোপনে গোপনে- শরীর
ওর এত অহংকার কি নিয়ে- শরীর
ওই মেয়ের লেখা এত ভালো - শরীর।
শরীর শরীর শরীর।
ভাষার যে রাজনীতি সেটা বোধকরি আমরা বুঝি। বাংলা ভাষার পিতৃতান্ত্রিক গোলোযোগটা বোধহয় আমরা আরো অনুভব করতে পারি। গালি গুলোর দিকে তাকালে, সম্বোধনের দিকে তাকালে আপনার কাছে আরো স্পষ্ট হবে গালিগুলোর তীরবিন্দু আসলে নারীর শরীর।
নারীর একটা শরীর আছে মনে রাখেন, শুধু ভুলে যান শরীরে একটা মাথাও আছে আর মাথাটা দিয়ে নারী চিন্তাও করে।
নারীর মাথা আছে ভুলে গিয়ে নিজের যে একটা মাথা আছে সেটারও আর ব্যবহার আপনি করলেন না!
ফলে কোন কবিতায় ঘাম,
আর কোন কবিতায় কাম;
কোন নায়িকা মাঠে আর কোন নায়িকা খাটে শ্রম দিচ্ছে তা টের পান না।
এইসব গাধার বাচ্চাদের উপর রাগ নয় বিরক্ত হই।
কবে গাধাদের দলে একটা লিডার আসবে। এদের লিঙ্গের আগে মাথাটাকে খাটাতে শেখাবে।
এই যে শরীরের দামে নিত্য নারীর কবিতা, গান, সিনেমা কিংবা আরো সকল কর্মসূচিকে বিছানা থেকে বিছানায়, যোনী থেকে স্তনে, নাভিতে দৌড়াদৌড়ি করান ভালো কথা।
কিন্তু আমার চারটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিন তো-
১। কবিতা কি স্তন দিয়ে লেখে নাকি মাথা দিয়ে?
২। গান কি যোনী দিয়ে গায় নাকি কণ্ঠ দিয়ে?
৩। নারীরা যত প্রকার সেবা দেয় সব নারীচিহ্নিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়েই দেয়?
৪। মাথাটা এখন কই আছে পর্ণে নাকি কর্ণে?
শুনুন শুনুন, লেখা শেষ করতে গিয়ে মাথায় আসলো!
আচ্ছা আমার লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে না এই মেয়ে এই লেখাটা লিখবার জন্য যেই বোধ গড়ে উঠলো তার জন্য কতগুলো পুরুষের সঙ্গ নিয়েছিলো?
--- জ্বি আজ্ঞে! আপনিই আমার পুরো লেখার কেন্দ্রবিন্দু। আপনাকে নিয়েই লিখেছি এই লেখা।
আপনি পুরুষ, নারী, হিজড়া, পরি, জ্বিন যেই হোন
এই প্রশ্ন যখন মাথায় আসবে উপর থেকে আবার পড়ুন।
এবং মহা আনন্দে জানুন এটা আপনিই, এই লেখা আপনাকে উৎসর্গ করা।
🌼নারী দিবসের শুভেচ্ছা সেই সকল নারীকে যারা শরীরের আগে মাথা খাটিয়ে বাঁচে।
কামরুন্নাহার মুন্নী
লেখক
(মানুষের পক্ষে)
২৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
ফেইসবুক থেকে নেওয়া
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন