ধোলাইখালের উপর দিয়ে এই লোহার ব্রিজটি নির্মান কাজ শুরু হয়েছিলো ১৮২৩ সালে।
সেকালের ঢাকার কালেক্টর ওয়ালটার সাহেবের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিলো এই ব্রিজ। এর আগে ছিলো খাল পারাপারে ভীষণ অসুবিধা। আবার এই অঞ্চলে কোন বাজার না থাকায় পুলের নিচে একটি বাজার ও করে দিয়েছিলেন ওয়ালটার সাহেব। ওয়ালটার সাহেবের উদ্যোগে বিবি মরিয়মের সেই বিখ্যাত কামান (আসলে তা মীর জুমলার কামান) সেই কামান সোয়ারীঘাট থেকে উত্তোলন করে চকবাজারে স্থাপন হয়েছিলো। তাঁর দূরদর্শী ভূমিকা ছিলো অনন্য। ধোলাইখাল ব্রিজ নির্মানের বছরই তথা ১৮২৩ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো৷ যা পরবর্তীতে ১৮৬৪ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলো।
ঢাকার বাসিন্দারা তখন ওয়ালটার সাহেবের কর্ম তৎপরতায় এতোই খুশি হয়েছিলেন যে একটি ছড়া তাদের মুখে লেগেই থাকতো।
'ওয়ালটার সাহেবনে পুল বানায়া-
উন্ কা নিচে গঞ্জ্ বসায়া-
আওর চাত্তক ধারি কামান,
গুড় গুড় চাল...।'
ঐ অঞ্চলে ওয়ালটার রোড নামে যেই রোডের এখনো নাম আছে তিনিই সেই ওয়ালটার সাহেব। তবে একসময়ের সেই প্রবাহমান ধোলাইখাল এখন সরু ক্ষুদ্র নর্দমাই বলা চলে। সেই ধোলাইখালে একসময় ৫২ নৌকার নৌকাবাইচ হতো। একসময় ধোলাইখালের উপর দিয়ে ১০টা ব্রিজ ছিলো। তবে এটিই ছিলো সর্ববৃহৎ। বর্তমানে পুরনো ধোলাইখালের মাত্র ৫ শতাংশ টিকে আছে।
ছবি: ১৯০৪ সালে ফ্রিৎজ ক্যাপের তোলা ধোলাইখালের উপরে লোহার ব্রিজ।
সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র (ইশতিয়াক)
![]() |

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন