শচীন দেববর্মণ, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় কে প্রশ্ন করলেন " কী রকম খাইলা"? ভানু প্রত্যুত্তরে জানালেন উপাদেয়।
কর্তা শুনে বললেন " মুরগির মাংসটা কেমন খাইলা"?
ভানু আরও বিগলিত ভাবে উত্তর দিলেন " অপূর্ব এমন আর খাই নাই"। কথায় কথায় শচীন কর্তা জানালেন সেদিন ওই মাংস রান্না করেছিলেন ভারতীয় সংগীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মহম্মদ রফি!
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় শচীন দেব বর্মণের গান শুনতে ভালবাসতেন, চাকরি পাওয়ার পরে প্রথম মাসের বেতনে কিনে ফেলেছিলেন কর্তার গানের রেকর্ড। নিজের তখন গ্ৰামাফোন না থাকলেও দিদির ছিল ওই গ্ৰামোফোনে গান শুনতেন। ঘোর ইস্টবেঙ্গল সমর্থক উভয়েই। ইস্টবেঙ্গলের খেলা থাকলে মাঠে দুজনের দেখা কথাবার্তা হত। কর্তার সহধর্মিণী( মীরা) ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাসমেট। দুজনেই ঢাকার জগন্নাথ কলেজের পড়ুয়া।
১৯৫৯-৬০ সালের কথা,ভানু তখন একটা ছবির জন্য বোম্বেতে দিন ১০- ১৫ ছিলেন। পরিচিত, ঘনিষ্ঠ, বাঙালিদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়েছেন। একদিন দাদামণি( অশোককুমার) এর বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী না খাইয়ে ছাড়বেন না। দাদামণি সেই সময় বাড়িতে না থাকলেও কিশোরকুমার এসেছিলেন। দাদামণির স্ত্রী শোভা বললেন " ভালোই হয়েছে, তুইও ভানুর সঙ্গে খেয়ে যা,আর ওকে যাবার পথে হোটেলে পৌঁছে দিস,দেখি রান্নার কতদূর হল"।
কিশোরকুমার, ভানুকে পরামর্শ দিলেন তাড়াতাড়ি পালিয়ে চলুন,বউদি সাতদিনের বাসি মাছ খাওয়াবে। সত্যিই সেইসময়ে ফ্রিজ খুব কম লোকের বাড়িতে ছিল। যদিওবা থাকত ফ্রিজে রেখে সাতদিন ধরে খাওয়ার রেওয়াজ ছিল না। দাদামনির বাড়িতে অবশ্য সাতদিনের বাসি মাছ খেতে হয়। তবে ভানুর কথায় তেমন বিস্বাদ লাগে নি ।
অন্য আর দিন শচীন কর্তার বাড়িতে খাওয়ার নিমন্ত্রণ। অনেকক্ষণ আড্ডার পরে খাওয়া দাওয়া হল। শচীন দেববর্মণ ভানুর কাছে জানতে চাইলেন " কী রকম খাইলা"?
সহসা জবাব উপাদেয়।
কর্তা জানতে চাইলেন মুরগির মাংস কেমন হয়েছিল। ভানু জানালেন খুব ভাল খেয়েছেন। সব শুনে মুখ খুললেন শচীন কর্তা " কে রাঁধসে জানো"?
ভানু একটু আত্মবিশ্বাসী, নিশ্চয়ই মীরা! কারণ শচীন জায়া কে চিনতেন,সে ভাল রান্না করে । দুজনেই আগে থেকে দুজনকে চেনেন। কলেজে এক ক্লাসে পড়তেন। কিন্তু শচীন কর্তার জানালেন " না সকালে রফি আইসা রাইন্ধা দিয়া গ্যাসে "।
ভানু বিস্মিত,হতবাক ভারতের বিখ্যাত গায়ক মহম্মদ রফি তিনি মাংস রান্না করেছেন। শচীন কর্তা নিজের মুখে বললেন " রফিরে কইলাম কলকাতার থিইক্যা আমার অনেক দিনের পুরনো বন্ধু খাইতে আইবো,রফি শুইন্যা নিজেই রাইন্ধা দিয়া গ্যালো "।
কিশোরকুমার সব জানতেন একদিন ভানুকে বলেই ফেললেন" আপনি অসাধ্য সাধন করেছেন - দাদামনি,শচীনদা এরা কাউকে কোন দিন খাইয়েছে বলে তো শোনা যায় না "।
#kishorekumar
পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার,ভানু সমগ্ৰ সম্পাদনা গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
#highlight Abhijit Abhisinchan Roy
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন