এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪

সত্যজিৎ রায় নিজের শোওয়ার ঘরের সামনের বারান্দায় বসিয়ে তাঁর ছবি তুললেন। পরে সেই ছবি ' সিনে অ্যাডভ্যান্স' পত্রিকায় বড় করে বের হল।

 সত্যজিৎ রায় নিজের শোওয়ার ঘরের সামনের বারান্দায় বসিয়ে তাঁর ছবি তুললেন। পরে সেই ছবি ' সিনে অ্যাডভ্যান্স' পত্রিকায় বড় করে বের হল।

অপুর সংসারে ' অপর্ণা কে হবেন! কেউ বোধহয় রিঙ্কুর কথা বলেছিলেন! মানিকবাবুদের সাথে তাঁর বাবা- মায়ের আগেই পরিচয় আছে। টিঙ্কু ' কাবুলিওয়ালা ' ছবিতে অভিনয় করেছেন। নিশ্চয়ই এই মেয়ের ক্ষেত্রে ইরা- গীতিন্দ্রনাথ আপত্তি করবেন না!' কাবুলিওয়ালা'র টিঙ্কুর বড় বোন রিঙ্কুকে নিয়ে মানিকবাবুর বাড়িতে এসেছেন গীতীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর সহধর্মিণী। ওদিকে বিজয়া রায় গ্ৰামের মেয়ে ' অপর্ণা' চরিত্রের জন্য বেছে নেওয়া কন্যাটিকে দেখে একটু হলেও হতাশ। কিশোরী ফ্রক পরা ফুটফুটে মেয়ে, ঘাড় পর্যন্ত ঘন কোঁকড়ানো চুলের রাশি, সবথেকে বড় চেহারার মধ্যে শহুরে ছাপ। এহেন কন্যা কিভাবে ' অপর্ণা ' হবে!


 মানিক বাবু বিজয়া রায় কে বললেন -ওকে বেডরুমে নিয়ে যাও। খুব টেনে চুলটা বেঁধে ঘাড়ের উপর একটা খোঁপা করে দেবে। বাংলা ফ্যাশনে শাড়ি পরিয়ে কপালে একটা সিঁদুরের টিপ দিয়ে ঘোমটা টেনে ওকে সাজিয়ে নিয়ে এসো। সবটাই সত্যজিৎ রায়ের নির্দেশ মত হল ,শুধু বাড়তি হিসেবে বিজয়া রায় তাঁর আইব্রাউ পেনসিল দিয়ে চোখের তলায় একটু কাজলের মত লাগিয়ে দিলেন। পোশাক পরিবর্তনের পর শহরের রিঙ্কু গাঁয়ের অপরূপা অপর্ণা । অপূর্ব দুটো চোখ, ঠোঁটের কোণে একটু মিষ্টি হাসি, সঙ্গে হাসলে দুগালে টোল পড়ে।

বিজয়া রায় নিজেও অভিভূত কিন্তু মৌন। জায়ার দিকে তাকিয়ে মানিকবাবু মৌন থেকে যেন জোরেই বললেন - কেমন বলেছিলাম না ,মিলে গেল।

সেদিন সব চুড়ান্ত হল, সত্যজিৎ ,রিঙ্কুর মতামত নিলেন, শুধু একবার বললেন কী তোমার নিজের কোন ও আপত্তি নেই তো? আমরা কোনওরকম জোর করব না।

 'অপুর সংসার  'দেবী', ' আরাধনা ', ' অমর প্রেম', ' নায়ক ', সহ অনেক সফল ছবিতে তাঁর অবিস্মরণীয় উপস্থিতি। চোদ্দ বছর বয়স থেকেই শর্মিলা ছায়াছবির নায়িকা। যদিও পিতৃদেব গীতীন্দ্রনাথ চাননি মেয়ে পাকাপাকি ভাবে অভিনয় জগত বেছে নিন,শর্মিলাও চেয়েছিলেন লেখাপড়া করবেন। সেই লক্ষ্যে ভর্তি হয়েছিলেন লোরেটো কলেজে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে। নৃত্যশিল্পী অথবা চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। গগনেন্দ্রনাথের প্রপৌত্রী ছবি আঁকার স্বপ্ন স্বাভাবিক,নাচ শিখেছেন একেবারেই ছোট থেকে। 


শর্মিলার ছোট বোন ঐন্দ্রিলা ( টিঙ্কু) পাঁচ বছর বয়সে তপন সিংহের 'কাবুলিওয়ালা' ছায়াছবিতে অভিনয় করে সবার হৃদয় জিতে নিয়েছিলেন। কয়েকবছর পরে যখন সত্যজিৎ রায় 'অপুর সংসারের ' জন্য নতুন মুখ খুঁজছেন বাড়ির সবাই শর্মিলা কে খ্যাপায় সে কি আবেদন করবে। অবশ্য এর আগে সত্যজিৎ রায় নিজেই ফোন করেছিলেন শর্মিলার পিতার কাছে। আক্ষরিক অর্থেই অভিনেত্রী হওয়ার সব গুণ শর্মিলার মধ্যে ছিল। কথা বলা দুটো অসাধারণ চোখ,সরল নিস্পাপ চাওনি,গালের দুটো টোল,মনের ভাব ফুটিয়ে তোলার দূর্লভ ক্ষমতা সবই শর্মিলাকে নায়িকা হিসেবে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। অপুর সংসার কিংবা দেবীর সাথে কাশ্মীর কি কলি অথবা অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস দুই ধরনের ছবিতেই শর্মিলা নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে প্রমাণ করেছেন। অনেকেই বলেন শর্মিলাদের তিন বোন মায়ের ধারা বহন করেছেন। তাদের 'মা' ইরা কলেজে খুব সুন্দর অভিনয় করতেন। ইরা ১৯৪৩ সালে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ করেন। গীতীন্দ্রনাথের সাথে প্রেম,পরিণয় এমন একটা সময়ে। রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত স্নেহ করতেন ইরাকে । তবে ইরার প্রতিভা সেভাবে ফুটে ওঠার সুযোগ না পেলেও তিন মেয়ে পেয়েছেন সেই ধারা। শৈশবেই টিঙ্কু ঠাকুর তপন সিংহের আবিষ্কার, কৈশোর পেরোবার আগে শর্মিলা সত্যজিৎ রায়ের আবিষ্কার। ইরার ছোট মেয়ে রোমিলা হতে পারতেন অপর্ণা সেনের আবিষ্কার, কেননা তাঁর ইচ্ছা ছিল '৩৬, চৌরঙ্গী লেন' এ জেনিফারের ছাত্রীর ভূমিকায় রোমিলা কে নেবেন, কিন্তু মডেলিং জগতে পা রাখলেও অভিনয় রোমিলাকে টানেনি।


আর রোমিলার দিদি শর্মিলা বিয়ে করেছেন পতৌদির নবাবকে,গৃহজীবন ও কর্মজীবনে চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা করেছেন,যেমন তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি ' ছায়াসূর্য', ' অরণ্যের দিনরাত্রি ', ' নির্জন সৈকতে ', মত ছবিতে।

ঐন্দ্রিলা বা টিঙ্কু ঠাকুর আর অভিনয়ে ফেরেন নি। কিন্তু তাঁর দিদি রিঙ্কু আজও অভিনয়ের ব্যপ্তিতে অনন্য।  ' আরাধনা 'র 'মা' 'নায়কের' সাংবাদিক, মৌসমের নায়িকার সঙ্গে অমর প্রেমে'র নায়িকা।  সব চরিত্রগুলো  শর্মিলা ঠাকুর অসাধারণ অভিনয় দক্ষতায় বিশ্বসযোগ্য করতে পেরেছেন। ঐন্দ্রিলা অসাধারণ অভিনয় করে শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন,পরে খেলার জগতে তাঁকে মাঝে মাঝে পাওয়া গিয়েছে,ব্রিজ খেলায় অসমান্য দক্ষতা দেখিয়েছেন। তাস খেলার উপর লিখেছেন, অকালে না চলে গেলে হয়ত আরও লিখতেন। অবশ্য তাঁর দিদি শর্মিলা আজও অভিনয়ের ব্যপ্তিতে অনন্য। যিনি ' আরাধনা 'র 'মা' 'নায়কের' সাংবাদিক, মৌসমের নায়িকার সঙ্গে অমর প্রেমে'র নায়িকা । সব চরিত্রগুলো অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর বিশ্বাসযোগ্য করতে পেরেছেন।১৯৬৭ সালে শক্তি সামন্তের ‘অ্যান ইভিনিং ইন প্যারিস’ সিনেমায় শর্মিলার সাহসী ছবি  রীতিমত আলোড়ন ফেলে দেয় সারা দেশে। র়ক্ষণশীল মানসিকতার অনেকেই সাহসী সে ছবি দেখে সমালোচনা করেছেন , কিন্তু  লাস্য ভঙ্গিমায় শর্মিলার অভিনয় বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়। সেই বছরেই ‘ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনে’র প্রচ্ছদেও এই বেশে তাঁকে দেখা যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...