ঔপনিবেশিক ভারতের এক পেশাজীবী শ্রেণী ছিল 'পাঙ্খাওয়ালা' নামে। জানেন কি তাদের সম্পর্কে আপনি?
ভারতবর্ষে আসার প্রথমদিকে ব্রিটিশদের জন্য এই অঞ্চলে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময়েও এই অঞ্চলের যে জিনিসে ব্রিটিশরা কখনোই অভ্যস্ত হতে পারেনি, তা হলো ভারতের অসহনীয় গরম।
পর্তুগিজরাই নাকি সর্বপ্রথম এ অঞ্চলে টানা পাখা নিয়ে আসে। তবে টানা পাখাকে জনপ্রিয় করে তোলে ব্রিটিশরা। পর্তুগিজদের অনুসরণ করে গরম থেকে বাঁচতে তারা গির্জা, বাসাবাড়ি ও দপ্তরে টানা পাখার ব্যবস্থা করে। সময়ের সঙ্গে দেশীয় অভিজাত বাড়িতেও এই পাখার ব্যবহার শুরু হয়। একইসঙ্গে পাখা টেনে বাতাস করতে পাঙ্খাওয়ালা নামে নতুন এক পেশাজীবী শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।
ঘরের সিলিং থেকে বড় কাঠের ফ্রেমে পাখার কাপড় আটকানো থাকত। পাখার নিচের অংশে থাকত মসলিনের ঝালর। সিলিং থেকে ঝুলানো পাখাগুলো লম্বায় ৮ থেকে ১২ ফিট এমনকি অনেকসময় ২০ থেকে ৩০ ফিটও হতো। সিলিংয়ের ৩-৪টি হুক থেকে বাহারি দড়ির সঙ্গে পাখার কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হতো।
পাঙ্খাওয়ালাদের দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই অবিরাম পাখা টানার কাজ করতে হতো। আর তাই যে ঘরে ইংরেজ সাহেব-বিবিরা অবসর যাপন করতেন সেখানে তাদের উপস্থিতি কাম্য ছিল না। অধিকাংশ সময় বারান্দা কিংবা বাইরের ঘরেই তাদের ঠাঁই মিলত।
সময়ের সঙ্গে পাঙ্খাওয়ালা নিয়োগে এক নতুন প্রবণতা দেখা দেয়। বধির, বয়স্ক কিংবা শ্রবণ শক্তি কম, এমন ব্যক্তিদের পাঙ্খাওয়ালা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়। ঘরের বাইরে ছাড়াও অনেক সময় ঘরের ভেতরে এক কোণায় পাঙ্খাওয়ালার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ ছিল।
১৮ শতকে সারাদিন পাখা টানার জন্য পাখাওয়ালারা তিন আনা করে মাইনে পেত। রাতে কাজ করলেও একইহারে বেতন থাকত। পাখা টানা ছাড়াও তাদের বাড়ি ও দপ্তরের বিভিন্ন ফুটফরমায়েশ খাটতে হতো।
বিদ্যুৎ আসার সঙ্গেই কমতে থাকে টানা পাখার ব্যবহার। ১৯ শতকের শেষ দিকে উপমহাদেশে বিদ্যুৎ আসে। ১৮৭৯ সালে কলকাতায় প্রথম বিজলিবাতি জ্বালানো হয়। ১৮৯৯ সালে চালু হয় বৈদ্যুতিক পাখা। ফলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে থাকে টানা পাখা। বিংশ শতাব্দীতে এসে পাঙ্খাওয়ালা পেশাটিও বিলুপ্ত হয়।
এইরকম তথ্যবহুল পোস্ট এবং ভিডিও পেতে আমাদের পেজটিকে ফলো করুন।
#information #gk #generalknowledge #সাধার
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন