👁️👁️
মধু আহরণকারী মৌমাছির কথা তো আমরা সকলেই জানি, কিন্তু মধু আহরণকারী পিঁপড়ার কথা আমরা খুব কম মানুষই জানি.!
Camponotus inflatus যা Honeypot ants নামে পরিচিত, অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে বসবাস করে.। বিভিন্ন প্রজাতির পিঁপড়াদের মধ্যে বসবাসকারী Honeypot বা মধুপাত্র পিঁপড়া হলো বিশেষ কর্মী যারা খাদ্যের অভাব হলে তাদের নিজ উপনিবেশের জন্য জীবন্ত খাদ্য সঞ্চয়স্থান হিসেবে কাজ করে.। পিঁপড়া কর্মীদের একটি দল বিভিন্ন গাছপালা, ফুল হতে নেকটার সংগ্রহ করে এবং মধু পিঁপড়াদের খাওয়াতে থাকে। ততক্ষণ পর্যন্ত খাওয়াতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত মধু পিঁপড়াদের পেট ফুলে উঠে ফেঁটে যাওয়ার উপক্রম হয়.। মধুপাত্র পিঁপড়াদের পেট ফুলে উঠে ছোট আঙুরের আকার ধারণ করে এবং এর পেটের ভিতরে 'অ্যাম্বার' নামক তরল ছড়িয়ে পড়ে.। মধুপাত্র পিঁপড়াদের পেটে সঞ্চিত যেকোনো খাদ্য মধুতে পরিণত হয়ে থাকে.। মধুপাত্র পিঁপড়ার পেট বড়সড় হয়ে যাওয়ায় তারা নড়াচড়া করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তাই তারা তাদের আবাসস্থলের ছাদ থেকে ঝুলে থাকে.।
পিঁপড়াদের উপনিবেশ কোনো প্রতিকূল পরিবেশে খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হলে মধুপাত্র পিঁপড়াদের কাছ হতে মধু সংগ্রহ করে থাকে.। মধু পিঁপড়াগুলো এতটাই মূল্যবান যে অন্যান্য পিঁপড়া উপনিবেশগুলোও মাঝে মাঝে তাদের আক্রমণ করে এবং চুরি করে নিয়ে আসে.।
মৌমাছি এবং মধুপাত্র পিঁপড়ার মধু বাহ্যিক দৃষ্টিতে এক মনে হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য আছে.। মধুপাত্র পিঁপড়ার মধুর ঘনত্ব মৌমাছির মধুর চেয়ে কম.। এছাড়া আমরা যেরকম মিষ্টি মধু খেয়ে অভ্যস্ত মধুপাত্র পিঁপড়ার মধু সেরকম মিষ্টি নয়.। এমনকি এই মধুতে হালকা টক স্বাদ পাওয়া যায়.।
এই দুই ধরনের মধুর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হল যে, পিঁপড়ার মধুতে ফ্রুক্টোজের তুলনায় গ্লুকোজ বেশি পরিমাণে উপস্থিত থাকে, যেখানে মৌমাছির মধুর ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত.। তবে উভয় ধরনের মধুতেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি.।
Honeypot ants এর মধু কিন্তু বিভিন্ন দেশের মানুষও খেয়ে থাকে.।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন