আশির দশক ছিল বাংলা ছায়াছবির গানে রাজকীয় সময়। আর ডি বর্মণ আর বাপ্পি লাহিড়ীর যুগ। টলিউডে বাপ্পি লাহিড়ীর সবথেকে সুপারহিট ছবি ঐ সময় অঞ্জন চৌধুরীর কাহিনি চিত্রনাট্য সংলাপে 'গুরুদক্ষিণা'। বম্বের অনুসরণ করেই টালিগঞ্জে এসেছিল গোল্ডেন ডিস্ক রিলিজ অনুষ্ঠান। সর্বাধিক ক্যাসেট বিক্রির নিরিখে সুপারহিট গান গুলিকে ও তাঁর নির্মাতাদের গোল্ডেন ডিস্ক সম্মান দেওয়া হত।
'বিধাতা দিয়েছে স্বর তুমি দিলে সুর
স্নেহভরা মমতায় বাধা হল দূর,
সবাকার পদরেণু মাথায় নিলাম,
এ আমার গুরু দক্ষিণা
গুরুকে জানাই প্রণাম'
কিশোর কুমারের এই গান তখন সবার মুখে মুখে। কিন্তু ছবির গানের সাফল্য কিশোর কুমার দেখে যেতে পারেননি। ১৯৮৭ সালেই প্রয়াত হন তিনি। তবে কিশোরের অকাল মৃত্যুতে যেন ভবেশ কুণ্ডুর গানের এমন কথা 'এ আমার গুরুদক্ষিণা,গুরুকে জানাই প্রণাম আরো বেশি প্রভাব ফেলল শ্রোতাদের মনে।
তাপস পাল-শতাব্দী রায় জুটির মেগা হিট যেমন এ ছবি তেমন কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কামব্যাক সুপারহিট ছিল 'গুরুদক্ষিণা'। তারপর থেকে অঞ্জন চৌধুরী ক্যাম্পেই কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের পর এক ছবি রিলিজ হতে থাকে। 'বিধিলিপি' থেকে 'ছোট বউ'।
গুরুদক্ষিণার গোল্ডেন ডিস্ক রিলিজের অনুষ্ঠান হয়েছিল সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালের মাঠে। গাঁথানি মিউজিক কোম্পানির কর্ণধার শশীকান্ত গাঁথানি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। তাই লেখা ছিল 'Welcome to Gathani'। এইসময় এইচএমভি-কে কিছুটা হলেও পিছনে ফেলে দিয়েছিল গাঁথানি রেকর্ডস। সুরকার বাপ্পি লাহিড়ীর সাথে বম্বে থেকে হাজির হন তাঁর বাবা-মা অপরেশ লাহিড়ী ও বাঁশরী লাহিড়ী। যাঁরা ছিলেন পঞ্চাশের দশকের বিখ্যাত সঙ্গীত তারকা দম্পতি। ছবির প্রযোজক আর গীতিকার দুজনেই এক লোক ভবেশ কুণ্ডু। ভিলেন রোলেও তিনিই।
--- সংগ্রহীত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন