হঠাৎ আমার এক ভালো বন্ধুর কথা মনে হলো।
তাই দাদুভাইয়ের দাদীকে নিয়ে তার শহরের বাসায়
মিষ্টি কিনে নিয়ে উপস্থিত হলাম। বাসার কাছে যেয়ে
তাকে কল দিলাম। আগে তার বাসায় যাইনি। এই ই
প্রথম। রাশেদ হাইস্কুল পার করার আগেই বাংলাদেশ
বিমান বাহিনীতে চলে যায়। তারপর কত বছর পার
হলো তাকে এবং তার পরিবারের সাথে দেখতেই
খুলনা আমার বাসা থেকে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি
দিয়ে তার বাসায় প্রবেশ করলাম। রাশেদ, তার স্ত্রী,
তার ছেলেমেয়ের আদরে সত্যিই অভিভূত হলাম।
রাশেদ যখন ঢাকায় জব করে। আমি একদিন তার
কর্মস্তলে যাই। ১৯৮৬ সাল। আমি তখন রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পড়ি। আমি গেলে রাশেদ
কত যে খুশি হয়েছিলো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আমাকে আদরে আপ্যায়নে কমতি রাখে নাই। আমি
আসার সময় রাশেদ আমার হাতে ১০০ টাকা
দিয়ছিলো।বলে রাখা ভালো তখন এই ২২০০০/ টাকার
স্কেল ছিলো ৭৫০ টাকা। আর তখন আমার মাস্টার্সের
ফর্ম ফিল আপ করতে লেগেছিলো ১২৫ টাকা । তাহলে একজন সাধারন সৈনিকের বেতন কত ছিলো একটু
ভেবে দেখবেন। তার মানে তার বেতনের ৩ ভাগের ১
ভাগ আমাকে সম্মানী দিয়েছিলো। আমি টাকা নিতে
না চাইলে সে জোর করে আমার পকেটে দিয়ে দেয়।
সে কথা আজিও মনে করে আমি তার ভালোবাসার
শ্রদ্ধা জানাই।
রাশেদ খুব ভালো ছেলে। নম্রতা ভদ্রতার
এক অনন্য দৃষ্টান্ত রাশেদ। ছোটকাল থেকে সে ও
অভাবের সাথে যুদ্ধ করেছে। এখন সে ছেলেমেয়ে
বিয়ে দিয়ে শহরে বসবাস করছে। পরিবারে তেমন
অভাব আর নেই। বেশ ভালো আছে। আসলে সৎ
থাকলে এবং সৎভাবে আয় করলে তার অভাব
থাকলেও অনেক সুখে থাকতে পারে।
আমি দেখেছি যারা সৎভাবে আয় করে এবং ব্যয়
করে তাদের আয় কম হলেও তারা চিরসুখী থাকে।
শরীর ভালো থাকে। ছেলেমেয়ে ও ভালো থাকে।
আল্লাহর রহমত তাদের উপর বর্ষিত হয়। আর অসৎ
পথে উপার্জনের টাকা স্থায়ী থাকে না। এই জীবনে
বহু প্রমান আমার সামনেই দেখেছি।
অসৎ পথের আয়ের পরিবারের কথা জানলে
সেই পরিবারের কথা সরাসরি না বলে শুধু বর্তমান
অবস্থা জানাতে পারেন। মানুষ যদি একটুও এতে
ভালো হয়।তাহলে আমার আপনার দেশের লাভ।
রাশেদ ফ্লাটবাড়ি করে নাই। এখনো এই টিনের
চালের এবং টিনের বেড়ার ঘরে সুখে আছে শান্তিতে
আছে। আসুন আমরা অল্পে খুশী হই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন