আয়েশা রোশান ১৯ বছর বয়সী পাকিস্তানি তরুণী, হার্টের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিল। তার হার্ট ফাংশান প্রায় অকেজো হয়ে এসেছিল।
পাকিস্তানে চিকিৎসা করিয়ে সুফল পাওয়া যায়নি বিধায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছর ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হেলথকেয়ার হাসপাতালে আয়েশাকে ভর্তি করা হয়েছিল।
তার দেহে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হার্ট প্রতিস্থাপন করা জরুরি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জানা যায়, সদ্য মৃত ৬৯ বছর বয়সী এক পুরুষের হার্ট পাওয়া গেছে যেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আয়েশার দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে।
এই অপারেশনটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন হয়।
গত সপ্তাহে আয়েশাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।
এই অস্ত্রোপচারের ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ লক্ষ রুপি, যা ঐশ্বর্য ট্রাস্ট, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকরা যৌথভাবে বহন করেছেন।
এটি আয়েশার জন্য, তার পরিবারের জন্য একটি ভালো খবর হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। পাকিস্তানের অনেকেই এই অপারেশানের সংবাদে ক্ষুব্ধ হয়েছে।
৬৯ বছর বয়সী ওই পুরুষ দিল্লির বাসিন্দা ছিলেন যিনি ব্রেইন ডেড হয়ে মারা যান এবং তাঁর হার্টটি আয়েশার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
কিন্তু পাকিস্তানি কিছু নাগরিক এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন কারণ তারা জানতে পেরেছে মৃত ওই ব্যক্তিটি ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
তাদের মতে, আয়েশা একজন মুসলিম নারী, তার দেহে একজন হিন্দু পুরুষের হার্ট (হৃৎপিন্ড) প্রতিস্থাপন করা ঠিক হয়নি, আয়েশা এবং তার পরিবারের এতে গুনাহ হয়েছে।
এমনকি পাকিস্তানের সেই মুসলিমদের কেউ কেউ এও বলেছে, আয়েশার উচিত ছিল হার্ট প্রতিস্থাপন না করা, অথবা মুসলিম কারো হার্ট জোগাড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা! হিন্দু ব্যক্তির হার্ট গ্রহণ করা অপেক্ষা মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়াই ভালো ছিলো!
আহারে আয়েশা, দু:খিনী আয়েশা!
ধর্মের জন্য মানুষ নাকি মানুষের জন্য ধর্ম!
সংগৃহীত
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন