“ক্রিয়েটিভ আইডিয়া” পেতে চান? মাত্র ৪টা সহজ উপায়!
ভালো একটা আইডিয়া বদলে দিতে পারে জীবন। হতে পারে নতুন একটি উদ্যোগের শুরু, অথবা নিজের ভেতরে জেগে ওঠা নতুন এক সম্ভাবনা।কিন্তু আমরা অনেকেই ভাবি, “আমার মাথায় কি কোনো দিন এমন অসাধারণ কিছু আসবে?”
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই টেড মঞ্চে উঠে আসেন গবেষক ও বক্তা রিচার্ড সেন্ট জন।তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো, ভালো আইডিয়ার জন্য অসাধারণ মেধা নয়, প্রয়োজন চারটি সাধারণ অভ্যাস।
চলুন, দেখে নিই সেই চারটি উপায়।
১. 💡 সমস্যা খুঁজে নিন, সেখানেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনা
বড় বড় অনেক উদ্ভাবনই এসেছে খুব সাধারণ কিছু সমস্যা থেকে।
ব্যবসায়ী রিচার্ড ব্র্যানসন একবার বিমানবন্দরে আটকে পড়েন। তাঁর পুয়ের্তো রিকো যাওয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়।তখন তিনি একটি চার্টার প্লেন ভাড়া করেন এবং সেখানে অন্য যাত্রীদের টিকিট বিক্রি করে দেন। শুধু সমস্যা সমাধানই নয়, লাভও হয় তাঁর।এখান থেকেই শুরু হয় ভার্জিন আটলান্টিক এয়ারলাইন।
সংগীতশিল্পী স্যাম স্মিথ এক সময় প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মনভাঙার কষ্টে ভেঙে পড়েছিলেন।সেই কষ্ট থেকেই তিনি লেখেন তাঁর বিখ্যাত গান Stay With Me, যেটি পরে চারটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।কষ্টের সময়ও ভাবনার জন্ম হতে পারে, যদি সেটিকে প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া যায়।
২. 👂 মন দিয়ে শুনুন, ছোট কথা থেকেও আসতে পারে বড় কিছু
চিকিৎসক ড. জিন ক্যারাথার্স এক রোগীর চোখের পাতায় ইনজেকশন দিচ্ছিলেন মাসল স্প্যাজম বন্ধ করার জন্য।রোগী হঠাৎ বললেন, “আপনি কপালে ইনজেকশন দেন না কেন?”ডাক্তার বললেন, “ওখানে তো খিচুনি নেই।”রোগী আবার বললেন, “জানি, তবে আপনি যখন কপালে দেন, তখন আমার মুখে খুব প্রশান্ত একটা ভাব চলে আসে।”
এই কথাটাই জিন মন দিয়ে শুনলেন। মাথায় এলো নতুন ধারণা, বোটক্স শুধু চিকিৎসায় নয়, রূপচর্চায়ও কাজে লাগতে পারে।এই ছোট্ট কথোপকথন থেকেই তৈরি হয় নতুন একটি বোটক্স ট্রিটমেন্ট, যা পরে ব্যবহার করেন কোটি মানুষ।
৩. 👁️ চোখ মেলে দেখুন, যেটা সবাই দেখে, সেটাই দেখুন অন্যভাবে
একদিন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খাবার খাচ্ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান।এক ছাত্র হঠাৎ করে একটি প্লেট ছুঁড়ে ফেলে। প্লেটটি ঘুরতে ঘুরতে বাতাসে ভেসে যাচ্ছিল।ফাইনম্যান লক্ষ করলেন, প্লেটের ওপর থাকা কর্নেল মেডালিয়নটি ঘুরছে প্লেটের চেয়ে দ্রুত গতিতে।এতেই তাঁর কৌতূহল জাগে। তিনি এই ঘূর্ণনের ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে তৈরি করেন একটি তত্ত্ব, যা তাঁকে এনে দেয় নোবেল পুরস্কার।
সবাই হয়তো সেই দৃশ্য দেখে ভুলে যেতেন।কিন্তু কেউ কেউ দেখেন আর ভাবেন। সেখানেই জন্ম নেয় নতুন জ্ঞান।
৪. 🖊️ ভাবনা এলে লিখে ফেলুন, নইলে তা হারিয়ে যাবে
একটি গুরুত্বপূর্ণ আইডিয়া অনেক সময় আসে হঠাৎ। আর যদি সেটা ধরে না রাখা যায়, তবে তা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
ল্যারি পেইজ, গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা, ২৩ বছর বয়সে ঘুম থেকে উঠে একটা অদ্ভুত চিন্তা করেন“পুরো ওয়েব যদি নামিয়ে রেখে শুধু লিংকগুলো রাখা যায়?”এই চিন্তা মাথায় এসেই তিনি কলম তুলে বিস্তারিত লিখে ফেলেন।পরবর্তীতে সেই ধারণা থেকেই তৈরি হয় গুগল।
অন্য কেউ হলে হয়তো ভেবে রাখতেন “সকালে লিখবো।”কিন্তু তখন আর সেই চিন্তাটা ফিরেও নাও আসতে পারত।
- অনুবাদ ও পুনর্লিখনঃ রিচার্ড সেন্ট জনের টেড টকের আলোকে
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন