রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ান – ইতিহাসের সবচেয়ে অপমানজনক বন্দিত্ব!
রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে বহু যুদ্ধে বহু সম্রাট অংশ নিয়েছেন। কেউ জিতেছেন, কেউ হেরেছেন। কিন্তু ইতিহাসে একমাত্র একজন রোমান সম্রাট যিনি যুদ্ধক্ষেত্রে জীবিত বন্দি হয়ে শত্রুর দাসে পরিণত হন—তিনি হলেন সম্রাট ভ্যালেরিয়ান (253 – 260 খ্রিস্টাব্দ)।
ভ্যালেরিয়ান ছিলেন রোমের একজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ সম্রাট, যিনি পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বের হন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পার্থিয়ান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান পারস্য সাম্রাজ্যকে দমন করা। ২৬০ সালে Battle of Edessa তে তিনি মুখোমুখি হন সাসানিদ সাম্রাজ্যের শাসক, 'শাপুর প্রথম' এর।
এই যুদ্ধে রোমান সেনাবাহিনীর এক লাখের বেশি সৈন্য নিহত বা বন্দি হন, আর সম্রাট ভ্যালেরিয়ান জীবিত অবস্থায় শত্রুর হাতে বন্দি হন — যা ছিল রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে অভূতপূর্ব ঘটনা। শাপুর তাঁর বিজয়ের গৌরব চিরস্মরণীয় করে রাখতে ভ্যালেরিয়ানকে ব্যক্তিগত দাস হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি ঘোড়ায় ওঠার সময় বন্দি সম্রাটের পিঠকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতেন — যা ছিল অপমানের চূড়ান্ত রূপ। এই ঘটনার বিবরণ শাপুরের বিজয়শীল শিলালিপিতে খোদাই করা হয়।
বিভিন্ন পারস্য ও রোমান ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, শাপুর প্রথম তাঁকে দীর্ঘ সময় দাসের মতো ব্যবহার করার পর অবশেষে হত্যা করেন।কিন্তু তার মৃত্যুর পরও অপমান শেষ হয়নি। শোনা যায়, সম্রাটের শরীর থেকে চামড়া ছাড়িয়ে তা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে, ভিতরের হাড় ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বাদ দেওয়া হয় — আজকের ভাষায় যাকে বলা হয় "taxidermy"। এরপর সেই চামড়ার দেহ ভরে তোলা হয় খড় ও ফাইবারে, এবং একে পারস্যের রাজধানী গুন্দিশাপুর বা ক্টেসিফোনে একটি রাজপ্রাসাদে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মৃত প্রাণী বা মানুষের চামড়াকে সংরক্ষণ করে তাকে জীবিত অবস্থার মতো দেখানো হয়।
এই ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে — প্রাচীনকালের রাজনীতি ও যুদ্ধ কেবল তলোয়ার বা সৈন্য দিয়ে যুদ্ধ করাই ছিল না। বরং,
"মনস্তাত্ত্বিক বিজয়" বা শত্রুকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলা ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।সম্রাট ভ্যালেরিয়ান ছিলেন এক পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের মুখ। তাঁকে জীবন্ত বন্দি করা, দাসের মতো ব্যবহার করা, আর শেষে মানবজ্যন্তি বানিয়ে প্রদর্শন করা — এসব ছিল পারস্য সম্রাটের তরফ থেকে শুধু প্রতিশোধ নয়, একটি বার্তা: “আমরা রোমকেও নিচুতে নামাতে পারি।”
#collected
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন