এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫

জুতা পরিয়ে দিবে কে কে,,,,,,,

 দক্ষিণ ভারতের কোন এক নবাবের রাজ্য যখন শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন নওয়াব ছিলেন নিরুদ্বেগ। তিনি ভেবেছিলেন, শত্রু মোকাবেলা করার জন্য তো রয়েছে বেতনভুক লাঠিয়াল, বরকন্দাজ, অশ্বারোহী ও তীরন্দাজ বাহিনী। তারাই যথেষ্ট। তাদের কাজ তারাই করবে। আমি খামখা এ নিয়ে কেন মাথা ঘামাতে যাবো।


নওয়াব হাম্মানখানা থেকে এইমাত্র গোসল সেরে এসে কাপড়-চোপড় পরে আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে বসেছেন। কিছুক্ষণ পরই টেবিলে খানা লাগানো হবে। খানার সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছেন। নফর তার কক্ষে প্রবেশ করে বললো, জাহাপনা! শত্রুরা চারিদিক থেকে এগিয়ে আসছে, এখনই রাজপ্রাসাদ ঘিরে ফেলবে। যে যেদিকে পারে, পালাচ্ছে। ফটকে পালকি ও ঘোড়া আছে, আপনার যেটা পছন্দ হয় তাতে সওয়ার হয়ে পালান। একথা ক'টি বলে নফর দ্রুত নিজেই পালালো। নওয়াব তার খাস নফরকে জুতা-মোজা পরিয়ে দেয়ার জন্য ডাকলেন, কিন্তু সে ডাকে কেউ সাড়া দিল না। নওয়াব জানতেন না যে, সেও পালিয়েছে। কি আর করা। নওয়াব তো আর নিজ হাতে জুতা পরতে পারেন না। প্রেস্টিজ বলতে তো একটা কথা আছে। বাধ্য হয়ে তিনি জুতার সারির দিকে চেয়ে বসেই থাকলেন।


রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করা হলো। নওয়াবের খাস কামরায় শত্রু সেনারা প্রবেশ করলো। তারা নওয়াবকে নিরুদ্বেগ অবস্থায় এভাবে বসে থাকতে দেখে তো অবাক! একজন জিজ্ঞাসা করলো, সবাই পালিয়ে গেছে, আপনিও তো পালাতে পারতেন। কেন আপনি পালাবার চেষ্টা না করে এভাবে বসে আছেন? নওয়াব সাহেব একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, যে আমাকে সব সময় জুতা পরিয়ে দেয়, পা থেকে জুতা খুলে দেয়, সেই জুতার নফরকে অনেক ডাকাডাকি করলাম, কিন্তু পেলাম না, কখন যে পালিয়েছে তা জানি না। জুতা পরাবার লোক না থাকলে জুতা পরি কি ভাবে আর বিনা জুতায় পালাবোই বা কেমনে?


এক সৈনিক জিজ্ঞাসা করলেন, নিজের পায়ে নিজের জুতা পরবেন, এজন্য কি চাকর লাগে?


নওয়াব বললেন, আমি তো আর তুমি নই। আমি নওয়াব হয়ে নিজের হাতে জুতা পরতে পারি না। ইজ্জত কি সওয়াল।


শত্রুপক্ষের সেনানায়ক নওয়াবের এ কাহিনী শুনে বললেন, যদি এই নওয়াব জীবিত থাকেন তাহলে তাকে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক। লোকজন তাকে দেখবে আর বলবে, ভারতবর্ষে এমন নওয়াবও ছিল, যে নিজের হাতে নিজের জুতা পরলে মনে করতো তাতে ইজ্জত থাকে না। তাই পালাতে পারেনি পাদুকা শূন্য পদযুগলের কারণে। যদি মারা যান তবে মমি করে রাখা হোক এই কাহিনীর নায়ককে যুগ যুগান্তরকাল পর্যন্ত স্মরণীয় করে রাখার জন্য। অতঃপর সেনানায়ক বললেন, ভারতবর্ষে এমন রাজা-মহারাজা আর নওয়াব আছেন বলেই তো সহজ বিজয় আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে।


বই: প্রেস্টিজ কনসার্নড

লেখক: জহুরী


#everyoneシ゚ #highlightsシ゚

কোন মন্তব্য নেই:

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...