অবশেষে E-SIM (ই-সিম) এ সুইচ করলাম, জানাচ্ছি আপনারও কেনো করা উচিৎ! ই-সিম নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর এক পোস্টে 🔥
ই-সিম দেশে নতুন কোনো প্রযুক্তি নয়, তবে ই-সিমে মুভ করার পূর্বে অনেকের অনেক প্রশ্ন থাকে। সবকিছুর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে একে একে শুরু করা যাক।
❓ অনেকে জিজ্ঞেস করেন, "ফিজিক্যাল সিম আর ই-সিমে কি সমান নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে?" — অনেকে আবার এইটাও বলেন যে ই-সিম করার পর নাকি তারা নেটওয়ার্ক কম পাচ্ছেন, কলড্রপ হচ্ছে ইত্যাদি।
🟢 দেখুন, ই-সিমের সাথে বা ফিজিক্যাল সিমের সাথে ফোনের নেটওয়ার্ক বা কল ড্রপের কোনো সম্পর্ক নেই। ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক কানেক্ট করতে যেমন "পাসওয়ার্ড" এর দরকার হয়। ঠিক মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোনের সাথে কানেক্ট করতে সিমের দরকার হয়। সিম এখানে শুধু পাসওয়ার্ডের কাজ করে, সহজ ভাষায় এর থেকে বেশি কাজ সিমের থাকে না।
সিম ছাড়ায় আপনার ফোন যেকোনো অপারেটরের নেটওয়ার্ক দেখতে পায়, কিন্তু সিম না থাকলে কোনো নেটওয়ার্ক কানেক্ট করতে পারে না। কারণ পাসওয়ার্ড নেই। সুতরাং নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি তে ই-সিম আর ফিজিক্যাল সিমের সাথে কোনো পার্থক্য নেই।
❓ কিভাবে ই-সিম ব্যবহার করা যাবে?
🟢 আপনার ফোনে ই-সিম সাপোর্ট থাকতে হবে এবং আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর ই-সিম প্রোভাইড করলে তবেই আপনি ই-সিম ব্যবহার করতে পারবেন। সাধারণত গুগল পিক্সেল, স্যামসাং এর মিডরেঞ্জ কিছু মডেল এবং ফ্ল্যাগশিপ মডেল, আইফোন ইত্যাদি বেশি ই-সিম সাপোর্ট থাকে। তবে বর্তমানে শাওমি, ওয়ানপ্লাস, নাথিং সব কোম্পানির ফোনেই মডেল ভিত্তিতে E-SIM সাপোর্ট দেখা যায়।
❓ ই-সিমের কোন সুবিধা গুলোর জন্য আমি ই-সিমে সুইচ করলাম?
🟢 সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, আপনি হয়তো ফোনে একসাথে দুইটা ই-সিম বা দুইটা ফিজিক্যাল বা একটা ই-সিম এবং ১ টা ফিজিক্যাল সিম এর বাইরে ব্যবহার করতে পারবেন না — কিন্তু আপনি একসাথে চাইলে বহু ই-সিম ফোনে সেভ করে রাখতে পারবেন।
আপনি চাইলে ১০ টা সিম ফোনে ইন্সটল করে রাখলেন। একসাথে দুইটা ব্যবহার করা যাবে সত্যি। কিন্তু সিম ইচ্ছা মতো সুইচ করতে পারবেন জাস্ট এনাবল/ডিসেবল করার মাধ্যমে। ফিজিকাল কোনো সিম বইয়ে নিয়ে বেরুতে হবে না। এইটা সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক ব্যাপার মনে হয়েছে আমার জন্য।
আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে। ফোন চুরি হয়ে গেলে চোর প্রথমে সিম খুলে ছুড়ে মারে। ই-সিমের ক্ষেত্রে সিম খুলে ফেলা সম্ভব নয়। তাই চুরি হওয়ার পরেও ফোন অন থাকলে সিম ওন থাকবে, ডাটা অন থাকবে। এতে ফোন টি ট্র্যাক করার সুযোগ বেড়ে যাবে।
আরেকটি সুবিধা হচ্ছে যারা বিশেষ করে বাইরের দেশে ভ্রমণ করেন ই-সিম তাদের জন্য আশীর্বাদ। আপনি কম খরচে অনলাইনে অনেক অ্যাপের মাধ্যমে ডাটা ই-সিম পেয়ে যাবেন। যেটা একটিভ করা সুপার ইজি। আপনি বিদেশে নেমে ইনস্ট্যান্ট ইন্টারনেট একসেস পেয়ে যাবেন, এই ই-সিমের বদৌলতে 🔥
❓ ই-সিমের অসুবিধা কি?
একটায় সমস্যা এইটা সব ফোনে সাপোর্ট করবে না। আর সাপোর্ট করলেও এক ফোন থেকে সিম আরেক ফোনে ট্রান্সফার করা ঝামেলার। ফিজিক্যাল সিম আপনি সহজে খুলে এক ফোন থেকে আরেক ফোনে মুভ করতে পারবেন।
কিন্তু ই-সিমের ক্ষেত্রে পূর্বে বর্তমান ফোন থেকে সিম টি রিমুভ করতে হবে। এরপরে নতুন ফোনে আবার স্ক্যান করে ডাউনলোড করতে হবে। যদি ফোন চুরি হয়ে যায় বা নষ্ট কিংবা হারিয়ে যায় — সেক্ষেত্রে অন্য ফোনে স্ক্যান করে কাজ করার কথা নয়, এতে সিম আবার রিপ্লেস করতে হতে পারে।
❓ ই-সিম পাবেন কিভাবে? কয়বার স্ক্যান করতে পারবেন?
ই-সিম প্লাস্টিক সিমের মতো কোনো ফিজিক্যাল সিম নয়। এইটা একটা কোড, যেটা কিউয়ার কোডের মাধ্যমে অপারেটরদের থেকে নেওয়া হয়। কোড টি স্ক্যান করলেই ই-সিম ফোনে ডাউনলোড হয়ে যায়।
বাংলালিংক এবং গ্রামীনফোন ই-সিম স্ক্যান করার লিমিট রয়েছে সর্বোচ্চ ২/৩ বার। তবে রবি এবং এয়ারটেলের ক্ষেত্রে স্ক্যান করার কোনো লিমিট নেই। আপনি আনলিমিটেড বার সিম স্ক্যান করে সুইচ করতে পারবেন।
ই-সিমে মাইগ্রেট করতে ৩০০/৩৫০ টাকা এরকম চার্জ লাগতে পারে। কোনো অপারেটরের বিশেষ লয়ালটি প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত হলে ফ্রী মাইগ্রেট সুবিধা ও পেতে পারেন।
হ্যা, আপনি যেকোনো সময় ই-সিম থেকে ফিজিকাল সিম বা ফিজিক্যাল থেকে ই-সিমে মাইগ্রেট করতে পারবেন।
ই-সিম নিয়ে আরো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট সেকশন উন্মুক্ত রইলো। উপকারী তথ্য মনে হলে শেয়ার করবেন।
#ESIM #Robi #Airtel #GrameenPhone #Banglalink
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন