ইসলামের দৃষ্টিতে বাসর রাত কোনো কুসংস্কার বা জোরজবরদস্তির রাত নয়; বরং এটি ইবাদত, দোয়া, ভালোবাসা ও পরস্পরের প্রতি সম্মান দিয়ে শুরু করার একটি পবিত্র সময়। নিচে কুরআন–সুন্নাহর আলোকে বাসর রাতে করণীয় বিষয়গুলো সংক্ষেপে ও সহজভাবে দেওয়া হলো—
১. আল্লাহর কাছে দোয়া দিয়ে শুরু করা:
স্বামী স্ত্রীর মাথায় হাত রেখে দোয়া করবে— দোয়া (হাদিসে বর্ণিত):
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা জাবালতাহা ‘আলাইহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা জাবালতাহা ‘আলাইহি।”
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তার কল্যাণ ও তার স্বভাবের কল্যাণ চাই এবং তার অনিষ্ট ও তার স্বভাবের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
📚 (আবু দাউদ)
২. দুই রাকাআত নফল নামাজ (মুস্তাহাব):
বাসর রাতে স্বামী-স্ত্রী একসাথে বা আলাদা আলাদা ২ রাকাআত নফল নামাজ আদায় করা উত্তম।
✔ এতে দাম্পত্য জীবনে বরকত আসে
✔ শয়তানের কুমন্ত্রণা দূরে থাকে
৩. কোমল ব্যবহার ও লজ্জাশীলতা:
ইসলাম লজ্জা ও শালীনতাকে গুরুত্ব দেয়। হঠাৎ কঠোরতা বা ভয় সৃষ্টি করা হারাম।
নবী ﷺ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে উত্তম সে, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।”
📚 (তিরমিজি)
৪. জোরজবরদস্তি সম্পূর্ণ হারাম:
স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কিছু করা গুনাহ। ইসলাম কখনোই নারীর উপর জুলুম সমর্থন করে না। বাসর রাত মানেই সহবাস—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
৫. সহবাসের আগে দোয়া পড়া:
“বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতান…”
📚 (বুখারি, মুসলিম)
✔ এতে সন্তান হলে শয়তানের ক্ষতি থেকে হেফাজত হয়
৬. পরস্পরের সাথে কথা বলা ও পরিচিত হওয়া:
বাসর রাত শুধু শারীরিক নয়। মানসিক সম্পর্ক গড়ার রাত। কথা বলা, ভয় দূর করা, আস্থা তৈরি করা সুন্নতের শিক্ষা।
যেগুলো ইসলামে নেই (কুসংস্কার):
🚫 ফুল দিয়ে আঘাত
🚫 নির্দিষ্ট সময় বা রীতিনীতি বাধ্যতামূলক করা
🚫 অন্যদের চাপ বা হাস্যরস
🚫 প্রমাণহীন লোকাচার
সংক্ষেপে বললে:
বাসর রাত = দোয়া + নামাজ + সম্মান + ভালোবাসা + ধৈর্য
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন