**১. আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মুখ নিঃসৃত বাণী (হাদীস) তোমরা লিপিবদ্ধ করো না। কুরআন ছাড়া কেউ যদি আমার কথা লিপিবদ্ধ করে থাকে তবে সেটা যেন মিটিয়ে ফেলে। আমার হাদীস বর্ণনা করো, এতে কোন অসুবিধা নেই। যে লোক আমার উপর মিথ্যারোপ করে- হাম্মাম (রহঃ) বলেন, আমার ধারণা হয় তিনি বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে; তবে সে যেন জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্ধারণ করে নেয়। [মুসলিম :৭৪০০, ইন্টারন্যাশনাল ৩০০৪]**
**২. আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (হাদীস) লিপিবদ্ধ করে রাখার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু তিনি আমাদেরকে অনুমতি দেননি। [তিরমিজি :২৬৬৫]**
হাদিসবাদীদের দাবি হলো হাদিস লেখার নিষেধাজ্ঞা কেবল ইসলামের প্রাথমিক যুগের জন্য প্রযোজ্য ছিল। অন্যথায় কুরআনের সাথে হাদিস মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হাদিসের কিতাবগুলো থেকে কখনোই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলো ইসলামের প্রথম যুগের হাদিস।
হাদিস লেখায় নিষেধাজ্ঞা যদি কেবল ইসলামের প্রাথমিক জন্য প্রযোজ্য হয়, তাহকে খোলাফায়ে রাশেদেনীদের কেউ কেন হাদিসের কিতাব লিখেননি এর ব্যখ্যা কী হবে? এমনকি হাদিসের কিতাবগুলোতে খোলাফায়ে রাশেদীন থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যাও অতি নগণ্য। যা প্রমাণ করে তাঁরা মুখেও হাদিস বর্ণনা করতেন না।
**৩. হযরত আয়েশা থেকে বর্ণিত যে তার পিতা(আবু বকর) লোকজন থেকে ৫০০টি লিখিত হাদিস সংগ্রহ করেন এবং তার সবগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। (তাজকিরাতুল হাফিজ আল-যাহাবী, অধ্যায় ১, পৃষ্ঠা ৫)**
**৪. হযরত আয়েশা থেকে বর্ণিত, আমার পিতা (আবু বকর) রাসুলের অনেকগুলো হাদিস সংগ্রহ করেন এবং এর সংখ্যা ছিল ৫০০। এরপর একরাতে আমি দেখতে পেলাম আমার আব্বা বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনার এরূপ অস্থিরতার কারণ কি কোনো শারীরিক অসুস্থতা নাকি আপনি এমন কোনো খবর পেয়েছেন যার জন্য আপনি উদ্বিগ্ন? আমার আব্বা এর কোনো উত্তর দিলেন না। যখন সকাল হলো তখন তিনি আমাকে বললেন ‘কন্যা, তোমার কাছে যেই হাদিসগুলো আছে সেগুলো নিয়ে এসো’। অতঃপর তিনি আগুন দিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে দিলেন। (তাদ্বীন-ই হাদিস, পৃষ্ঠা ২৮৫-২৮৮)**
**৫. নবীর মৃত্যুর পর হযরত আবু বকর সকলকে একত্র করেন এবং ঘোষণা দেন, তোমরা রাসুলের উপর এমন সব কথা আরোপ করো যেগুলো নিয়ে তোমরা নিজেদের মধ্যেই বিতর্কে লিপ্ত। তোমাদের পরে যারা আসবে তারা নিশ্চিতভাবেই আরো বেশি মতবিরোধ করবে। সুতরাং আল্লাহর রাসুলের নামে তোমরা কিছু বর্ণনা কোরো না। আর যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তাহলে বলো, আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আছে আল্লাহর কিতাব। এতে যা বৈধ(হালাল) করা আছে তা বৈধ করো আর যা নিষেধ করা আছে তা নিষেধ করো। (তাজকিরাতুল হাফিজ আল-যাহাবী, পৃষ্ঠা ৩২১)**
**৬. সায়িব ইবনু ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি মদিনা থেকে মক্কা পর্যন্ত সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদীসও বর্ণনা করতে শুনিনি। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৯)**
**৭. ওরওয়া ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণিত, হযরত ওমর নবীর নামে হাদিস লেখা নিষিদ্ধ করেন এবং ঘোষণা দেন ‘আল্লাহর কিতাবের পাশে আর কোনো কিতাব থাকবে না’। (জামিউল বায়ান আল-ইলম,অধ্যায় ১, পৃষ্ঠা ৬৫)**
**৮. হযরত ওমরের খিলাফতকালে প্রচুর পরিমাণে হাদিস উদয় হতে থাকে। তিনি সকলকে দিয়ে শপথ করান যে তারা তাদের সব হাদিস তার কাছে নিয়ে আসবে। তার নির্দেশমতো, লোকজন তাদের হাদিসের সংগ্রহ তার নিকট নিয়ে আসে, অতঃপর তিনি সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। (তাবক্বাত-এ ইবনে সা’দ, ভলিউম ৫, পৃষ্ঠা ১৪১; তাদ্বীন-ই হাদিস, পৃষ্ঠা ৩৯৯)**
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন