নারীরা বাবার নামে পরিচিত হবে।
নাম ছিল শাহানা আক্তার। এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্স সব পরীক্ষার সনদেও তার এই নাম। কিন্তু বিয়ের পর শাহানা আক্তার হয়ে যান শাহানা চৌধুরী। স্বামীর চাকরির সুবাদে তাঁকে পাড়ি জমাতে হয় সুদূর কানাডায়। সেখানে তিনি শুধুই মিসেস চৌধুরী নামে পরিচিত। বিয়ের পর স্বামীর পদবি যুক্ত হচ্ছে নারীদের নামের পাশে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে তার নিজস্ব নামটি।
ইসলাম জন্ম পরিচয়ের সূত্র প্রকাশের সময় আপন পিতা ছাড়া অন্যের দিকে নিজের পরিচয়কে সম্পর্কযুক্ত করতে কঠিনভাবে নিষেধ করেছে।
এমনকি ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, ভক্তি-শ্রদ্ধা, সম্মান প্রদর্শনসহ অন্য যে কোনো কারণ দেখিয়েই হোক না কেন, জন্মদাতা ছাড়া পরিচয় দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
কোরআন বলছে: তোমরা তাদেরকে তাদের বাবার নামে ডাক। (আল-কুরআন, ৩৩:৫)
এই আয়াতটি পালকপুত্রদেরকে তাদের প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেননা যারা বর্তমানে তাদের লালন-পালন করছেন বা ভরণ-পোষণ যোগান দিচ্ছেন, প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের পিতা নন। বরং যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছেন তারাই তাদের আসল পিতা। অনুরূপভাবে মেয়েরাও তাদের পিতার পরিচয়ে পরিচিত হবেন স্বামীর পরিচয়ে নন। এখানে পালক পুত্রকে প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, স্ত্রীদেরকেও তাদের পিতার নামে ডাকতে হবে।
সাঈদ ইবনে যুবায়ের হযরত ইবনে আব্বাসকে (রা) বলতে শুনেছেন যে, রসূল (ছাঃ) বলেছেন: যে কেউ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সমগ্র মানুষের লানত বর্ষিত হবে। (মুসনাদে আহমাদ) ইমাম বুখারীও (র) এই হাদীসটি হযরত সাদ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
সাদ ও আবু বাকরা (রা) হতে বর্ণিত, তাঁরা প্রত্যেকে বলেছেন: আমার দু' কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুহাম্মদ (ছাঃ) এর এ কথা সংরক্ষণ করেছে যে, নবী মুহাম্মদ (ছাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে। (ইবনে মাজাহ)
আবার আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী মুহাম্মদ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ছাঃ) বলেছেন: যে কেউ নিজের বাবা ব্যতীত অন্যের পরিচয়ে পরিচয় দেয় সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ সত্তর বছর হাঁটার রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে। (মুসনাদে আহমাদ)
সকল বোনদের বলি!
বাবার নামে পরিচিত হোন।
১. স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে কোন রক্ত সম্পর্ক থাকে না কিন্তু বাবা-মেয়ের রক্ত সম্পর্ক চিরদিনের।
২. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে মনোমালিন্য হলে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে তখন এই নাম থাকে না।
৩. স্বামী মারা গেলে স্ত্রী অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারে, তখন এই নামের কী দশা হবে তা সহজেই অনুমেয়।
৪. স্বামী তো বিয়ের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে না, তাহলে আপনি কেন করবেন? এটা কি আপনার অধিকারের লংঘন নয়?
:
#Hadith #হাদিস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন