মাসনা, সুলাসা, রুবা'
حامدا ومصليا أما بعد
শরীআতের সকল বিষয় সুস্পষ্ট বর্ণিত ও নির্ধারিত। বিবাহ ও একাধিক বিবাহের বিধানও নির্ধারিত। এই অবধারিত বিধান নিয়ে বাড়াবাড়ি করা এবং এর স্তরকে উপরে উঠানো বা নিচে নামানো এমনকি ফকীহ ও মুজতাহিদগণের মতামত উপেক্ষা করে নিজের মত ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শরীআত বিরোধী কাজ।
এ ব্যাপারে কুরআন সুন্নাহ ও মুজতাহিদ ইমামগণের মতামতের আলোকে আলোকপাত করা হলো:-
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
تلك حدود الله فلا
تعتدوها ومن يتعد حدود الله فاولئك هم
এইসব আল্লাহ্ র সীমারেখা। তোমরা তা লংঘন কর না। যারা এইসব সীমারেখা লংঘন করে তারাই জালিম। (আল বাকারা ২২৯)
তিনি অন্যত্র বলেন-
ولا تعتدوا ان الله لا يحب المعتدي
কিন্তু সীমালংঘন কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সীমলংঘন-কারিগণকে ভালবাসেন না। (আল বাকারা ১৯০)
🔹একাধিক বিবাহের বৈধতা নিয়ে কারো কোন আপত্তি নেই বরং একাধিক বিবাবহকে অবৈধ মনে করাই কুফর।
মূলতঃ বিতর্কটা হচ্ছে শরীয়তে একাধিক বিবাহের স্তর, গুরুত্ব এবং এর সার্বজনীনতা নিয়ে। আমরা যখন মুজাকারা মুনাকাশা করবো তখন আমাদের উচিত হবে কোন কথার ভিত্তিতে আলোচনা চলছে তা লক্ষ রাখা। অন্যথায় অন্যের উপরে অন্যায় ভাবে দোষ চাপানো হবে......
🔹সম্প্রতি আমরা যা লক্ষ করছি, যারা একাধিক বিবাহ করেছেন এবং যারা এর সার্বজনীনতা দেওয়ার আন্দোলন করছেন তাদের বাড়াবাড়ি এমন চরমে পৌঁছেছে যে, যারা একাধিক বিবাহ করেনা বা করার পক্ষে না তাদেরকে নিয়ে নানা ধরণের বাজে ও অশালীন মন্তব্য করে।
যেমন, তারা প্রকৃত শাইখ নয়, প্রকৃত আলেম নয়, তারা কা-পুরুষ, ভীতু ইত্যাদি।
এগুলো সবই শরীয়তের দৃষ্টিতে চরম সীমালঙ্ঘন। আর আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না। (আল কুরআন)
আমাদের আলোচনা চলছিল শরীয়তে একাধিক বিবাহের অবস্থান কী? তা নিয়ে।
আমরা শক্তিশালী দলীল দ্বারা জানতে পারি যে, শরীয়তে একাধিক বিবাহের অবস্থান হলো, তা মুবাহ বা জায়েজ এবং এক বিবাহই সুন্নাত।
🔹আমাদের আরেকটা আলোচনা ছিল যে, আল্লাহ তা'আলা একাধিক বিবাহের অনুমতি দিয়ে আবার সতর্ক করেছেন। যা অনুৎসাহের নামান্তর।
মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণ এই ব্যাখ্যাই করেছেন।
🔹আমরা এটাই বলতে চাই যে, যার প্রয়োজন হয় সেএকাধিক বিবাহ করবে। যেহেতু আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন। যেমন অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা খাও, পান করো কিন্তু অপচয় করো না" (আল কুরআন)
এখন যার যেই পরিমান দরকার সে সেই পরিমান খাবে।
এখানে বেশি খাওয়ায় সুপুরুষ আর কম খাওয়ায় কাপুরুষ হওয়ার দালালাত করেনা।
বরং এখানে সতর্কীকরণনের বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় । আর তা হচ্ছে, তুমি খাও বা না খাও তাতে সমস্যা নেই কিন্তু 'অপচয়' করাই যাবেনা।
তদ্রুপ একাধিক বিবাহ করো বা না করো কোন সমস্যা নেই কিন্তু বেইনসাফি করাই যাবেনা। এখানেও নিষিদ্ধ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বেআদল বেইনসাফি।
এখানে একাধিক স্ত্রী যারা গ্রহন করেনা বা করেনি তারা কোনভাবেই দুষি বা অন্যায়কারী নয়। যদিও তার সামর্থ থাকে। এমনকি কারো একাধিক স্ত্রীর প্রয়োজন হওয়ার পরেও সে তারা ইচ্ছা দমিয়ে রেখে সবর করে। সেও অপরাধী নয়। রবং সে সাওয়াবের অধীকারী হবে।
তবে হ্যা গুনাহ থেকে বাঁচার এ ছাড়া আর কোন উপায় না পেলে তার জন্য একাধিক বিবাহ করতে পারে। তবে এমনটি দুর্লভ ব্যাপার।
🔹শুধু ইমাম শাফেয়ী নন বরং সব ইমামই এই ব্যাপারে একমত যে একাধিক বিবাহ বৈধ। তবে এক বিবাহ সুন্নাত ও উত্তম।
তাঁরা বিবাহ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসকে এভাবে বুঝেছেন। যার অসংখ্য দলীল আছে। প্রমান লাগলে আবার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু আমরা ইজতেহাদের আহল না হয়েও নিজেদেরকে অনেক কিছু মনে করে একটু বেশি বুঝার চেষ্টা করছি! কেমন যেন নিজেরাই আলাদা মাজহাব তৈরি করতে চাই!
🔹এবার আসি গুনাহ সম্পর্কে
গুনাহ বলতে আমরা যদি শুধু ব্যবিচারকে বুঝি তাহলে তা সঠিক নয়। ব্যবিচারের চেয়েও বড় গুনাহ আছে কিন্তু আমাদের এই বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ব্যবিচার ছাড়া আর কোন গুনাহ নেই। থাকলেও তেমন গুরুতর নয়। গুনাহের ব্যপকতাকে সংকীর্ণ করে আমরা মূলতঃ অন্য গুনাহকে শিথিল করছি বরং আড়াল করছি।
🔹আচ্ছা ব্যবিচার নিয়েই বলি।
ব্যবিচার থেকে বাঁচার কুরআন হাদিসের কী নির্দেশনা আছে?
আল্লাহ তা'আলা বলছেন-
إن الصلاة تنهي عن الفحشاء والمنكر
'নিশ্চয়ই নামাজই মানুষকে অশ্লীলতা (ব্যবিচার) থেকে ফেরাতে পারে।'
ব্যবিচার ও যাবতীয় গুনাহের ঢাল হলো তাকওয়া। আর তাকওয়া হাসিল হয় নামাজের মাধ্যমে এবং তাকওয়া হাসিলের জন্য সাদিকীন তথা আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবিচার থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ নজরের হেফাজত ও পর্দার বিধান দিয়েছেন।
এখন আল্লাহ দেওয়া উপায়গুলো না খুঁজে শুধু বিবাহ করলেই কি ব্যবিচার থেকে বাঁচা সম্ভব?
আল্লাহর দিকনির্দেশনার চেয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে বড়ো করে তোলা নির্ঘাত অন্যায়।
তাকওয়ার অন্যসব পন্থা অবলম্বন না করে 100টা বিয়ে করলেও ব্যবিচার থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।
কারন ব্যবিচারের সূচনা তো অন্তরে সৃষ্টি হয়। সেই অন্তরকে যদি শুদ্ধ না করা হয় তার ব্যবিচার চলমান থাকবে।
🔹এটা বর্তমান সামাজিক ব্যধি যে, একটা সময় গিয়ে নিজের রুপসী ও গুণবতী স্ত্রীকে আর ভাল লাগেনা। সে স্থানে অন্যের স্ত্রী বা অন্য নারী যতই নিম্নমানের হোক তাকে ভাল লাগে! আর এটা সংক্রামক রোগের মত সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই ব্যধি কি একাধিক বিবাহ না করার কারনে সৃষ্টি হচ্ছে? কস্মিনকালেও না। বরং এর প্রধান কারন হলো, নজরের হেফাজত না করা, আত্মার পরিশুদ্ধি না করা।
আল্লাহ পাক নজরকে ব্যবিচারের প্রধান ও প্রথম কারন সাব্যস্ত করেছেন।
🔹অনেক বক্তা ও আলেম নাকি আপত্তি করেছেন যে, তারা কোনভাবেই জেনার গুনাহ থেকে বাঁচতে পারছেন না! এমনকি কোন বুজুর্গের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করেও কোন লাভ হচ্ছেনা!!
আসলে কথা হলো, সব বক্তা, মুহাদ্দিস, ইমাম, খতীব কি নজরের হেফাজ করে চলে? বরং এরা নারীদের সর্বাধিক লালসার শিকার! বাজার,রাস্তাঘাট, গাড়িঘোড়া মোবাইল কোথাও কি নজর হেফাজত হচ্ছে?
অনেক বড়বড় বক্তা ও কথিত শাইখের সাথে চলে দেখেছি, নামাজের ইহতেমাম নেই, মুআমালা মুআশারার খবর নেই, তাকওয়ার বালাই নেই, আমল ও সুন্নাতের খবর নেই। এমন শাইখরা 100 বিয়ে করলে কি তারা ব্যবিচার থেকে বাঁচতে পারবে? যদিও কথাগুলো তিক্ত কিন্তু বাস্তব!
ভাইরাল বক্তাকে মহিলারা মাসআলা জিজ্ঞাসা করার সুরতে ফোন দিবে কিন্তু উদ্দেশ্য থাকে ভিন্ন। নূরানীর শিক্ষককে গার্ডিয়ান এই অজুহাত সেই অজুহাতে ফোন দিবে। দোকানদার কত সুন্দরী কাস্টমার দেখে। অনেকের সাথে মিষ্টি কথা হয়। আবার অনেকের সাথে যোগাযোগ ও হয় ধীরে ধীরে তা অন্যদিকে গড়ায়। সে ৪ বিয়ে করলেও এই মসীবতের সম্মুখীন হবে!
অনেক সময় দেখা যায় শারীরিক সক্ষমতা নেই তবুও একাধিক নারীতে আকৃষ্ট। এগুলো কিসের কারনে? নিশ্চয় আল্লাহর দেওয়া পথ পরিহার করার কারনে। সুতরাং রোগের আসল কারন উদঘাটন না করে ওষুধ প্রয়োগ করলে রুগী সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে মারা যাবে।
🔹আসলে বেপর্দা বা বদ নজরের কারনে অন্য নারীতে আকৃষ্ট হওয়ার ফলে নিজের মাঝে সৃষ্টি হয় বৈরিতা। তৈরি হয় অশান্তি। তখন সে শান্তির খোজে আরেক নারী খোঁজে। আচ্ছা এই অবস্থায় কি সে তার ১ম স্ত্রীর প্রতি ইনসাফগার হতে পারবে? নাকি যুলুমের মাত্র আরো বড়বে? কিভাবে আপনি আদল কায়েম করবেন? আমাদের দেশে ১০০% এর মধ্যে ৯০ জন একাধিক বিবাহকারী স্বামী পুরাতন স্ত্রীকে সীমাহীন যুলুম করে। তাকে কষ্ট দেয়। ঠিকমত কসামা বা বারি বন্টন করেনা।
কুরআন কি এর অনুমতি দেয়?
শুধু স্টেইজে গলাবাজি করলেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়ে যায় না।
তাছাড়া মানুষকে আকৃষ্ট করতে নিজের জীবনের বানানো গল্প বললে মানুষের বাহবা পাওয়া যাবে কিন্তু সেই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ আগুনের কাঁচি দ্বারা জিহ্বা কাটবেন। এ থেকে বাঁচা যাবে না। (এটা কাউকে খাছ করে নয় বরং এমনটি হয়ে থাকে)
🔹এবার আসি ব্যবিচারের চেয়ে গুরুত্বর গুনাহ নিয়ে দুএকটি কথা:
আমরা সাধারণত চারিত্রবান বলি তাকে যে নারীঘটিত বিষয়ে জড়িত হয়না।
অথচ তার নামাজ রোজা হজ যাকাত তথা দীনের কেন বালাই নেই। তবে কি ব্যবিচার থেকে বাঁচাই একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য?
কুরআন হাদিসের আলোকে উলামায়ে কেরামের মত থেকে জানা যে, শুধুমাত্র ব্যাবিচারীকে দুশ্চরিত্র বলা হয়না বরং দুশ্চারিত্র হলো নামাজ সহ যাবতীয় ফারায়েজ রতককারী। কারন নামাজ ও অন্যান্য ফারায়েজ পরিত্যাগ করা এবং হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ বর্জন না করার কারনেই ব্যবিচারের সৃষ্টি হয়।
তাফসীরের কিতাবে আছে, আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম আ.কে বলেছেন, নামাজ ছেড়ে দেওয়ার জেনার চেয়ে বড় অপরাধ।
হাদিসে আছে 'গীবত জেনার চেয়ে ভয়ানক।'
এক হাদিসে আছে 'গান জেনার মন্ত্র'
এমন আরো অনেক গুনাহ আছে যার সম্পর্কে কুরআন হাদিস ব্যাবিচারের চেয়েও গুরুতর বলেছে।
এখন যেসব লোক ব্যাবিচার সৃষ্টি হওয়ার সব রাস্তা খোলা রেখে শুধু বিবাহ দিয়ে গুনাহ থেকে বাঁচতে চায়, সে গ্লাস দিয়ে সমুদ্র সেচার চেষ্টা করলো। সে ১০০ বিয়ে করলেও গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবেনা।
কত বড় ভুল কথা যে আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে থেকেও গুনাহ থেকে বাঁচতে পারেনা! আসলে সে সোহবত উঠায়নি, নিজেকে সেখানে নিমগ্ন করেনি। শাইখের হেদায়েত মত চলেনি। তাহলে তার ইসলাহ হবে কীভাবে? আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবতে গিয়ে নিজেকে খাটি করা তো কুরআনের বিধান। এখানে কেন তার সংশোধন হবেনা। তাহলে নিশ্চয়ই তার কোন ঘাপলা আছে।
অথবা সে يضل به كثيرا মিসদক। কিংবা فزادهم الله مرضا এর মিসদাক!
নতুবা আল্লাহর দেওয়া সলিউশনে কেন কাজ হয়না এবং এর পরিবর্তে নিজের মত বাস্তবায়ন করতে হবে কেন?
আমি বহু মেধাবী আলেমদের দেখেছি বুজুর্গদের মজলিসে গিয়ে ছুটাছুটি করে, তাকাব্বুরী আর বেপরোয়া ভাব দেখিয়ে উঠে আসে। তার তো ইসলাহের ইচ্ছা নেই! তাহলে তার ইসলাহ হবে কীভাবে? সে গুনাহ ছাড়বে কীভাবে? বিয়ে তো গুনাহ ছাড়ার একটি ক্ষুদ্র মাধ্যম! আসল তো হলো তাকওয়া হাসিলের মেহনত করা!!
আহ এসব তরুণ আলেমরা কেন অন্ধ হয়ে আছে!
🔹এবার ইমামগণের ইজমা এর আলোকে প্রমান করার চেষ্টা করবো, একাধিক স্ত্রী রাখা শুধুমাত্র বৈধ। তা উত্তম বা সুন্নাত নয়। বরং সুন্নাত হলো এক স্ত্রী রাখা।
1. ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য কিতাব
▪️হানাফি মাজহাবের ফকোয়ার নির্ভযোগ্য কিতাব 'ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া'তে আছে-
যদি কোন পুরুষের একজন স্ত্রী থাকে এরপরও একাধিক স্ত্রী গ্রহন করতে চায় কিন্তু উভয়ের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে তার জন্য একাধিক বিবাহ হারাম। আর যদি ইসসাফ প্রতিষ্ঠায় আত্মবিশ্বাসী হয় তাহলে বৈধ। তবে (ইনসাফে আত্মবিশ্বাসী হলেও) একাধিক বিবাহ পরিহার করা এবং এক স্ত্রী গ্রহন করা উত্তম। এতে স্ত্রীকে দুঃখ ও কষ্ট না দেওয়ার কারনে সে সাওয়াবের অধিকারী হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৩৪১)
وجاء في الفتاوى الهندية: إذا كانت للرجل امرأة وأراد أن يتزوج عليها أخرى، وخاف أن لا يعدل بينهما لم يجز له ذلك، وإن كان لا يخاف جاز له، والامتناعُ أولى، ويُؤجر بترك إدخال الغم عليها
يُنْظَر: لجنة علماء برئاسة نظام الدين البلخي، الفتاوى الهندية، (1/ 341).
▪️হনাফি ফিকহের বড় ফকীক ইমাম ইবনে নুজাইম রহ. তদীয় কিতাব 'আন নাহরুল ফায়েক শরহু কানযিদ দাকায়েক' এ লেখেন- একাধিক বিবাহ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে যদি স্ত্রীকে দুঃখ মুক্ত ও খুশি রাখা যায় তবে তা অতন্ত্য সাওয়াবের কাজ। স্ত্রীকে দুঃখিত না করা ইবাদত। সর্বপোরি এক স্ত্রী রাখাই উত্তম। ইমাম আবু হানিফা রহ. স্বাধীন ব্যক্তির জন্য এক বিবাহকেই উত্তম হিসেবে গ্রনহ করেছেন
(আন নাহরুল ফায়েক শরহু কানযিদ দাকায়েক বৈরুত ২/১৯৭)
وقال سراج الدين ابن نُجيم رحمه الله «ت 1005هـ»: لو لم يزد على واحدة كي لا يدخل الغم على ضعيف القلب ورَقَّ عليها فهو مأجور، وتركُ إدخال الغم عليها يُعد من الطاعة، والأفضل الاكتفاء بواحدة
يُنْظَر: ابن نجيم، النهر الفائق شرح كنز الدقائق، تحقيق: أحمد عزو عناية، طبعة: دار الكتب العلمية- بيروت، ط1، 1422هـ، 2002م، (2/ 197).
2. ফিকহে শাফেয়ী
ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন সুরা নিসা এর ৩ নং আয়াতের আলোকে আমি মনে করি এক বিবাহ করাই উত্তম (আল হাবী আল কাবীর ১১/৪৭১, আল বায়ান ১১/১৮৯)
উল্লেখ্য : শাফেয়ী মাজহাবের বড়ো বড়ো বিদ্বানগণ একই মত পোষণ করেছেন। সেগুলো আর উল্লেখ করলাম না।
মনে রাখতে কোন ইমামের মাজহাব না মানার অর্থ এই নয় যে তার সব মত ভুল! বরং সকল আহলে হক ইমামের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে। কখনো দেখা যায় অন্য ইমাম মত হানাফী মাজহাবের সমাধান দেওয়া হচ্ছে। আবার ইমাম আবু হানীফা রহ. মত দ্বারা শাফেয়ী মাজহাবের সমাধান দেওয়া হচ্ছে। এর নজীর ভারিভুরি আছে।
قال الشافعي رحمه الله «ت 204هـ»: أُحب له أن يقتصر على واحدة وإن أبيح له أكثر؛ لقوله تعالى: ﴿ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً ﴾ [النساء: 3]
يُنظَرُ: الماوردي، الحاوي الكبير في فقه مذهب الإمام الشافعي، (11/ 417)،والعمراني، البيان في مذهب الإمام
الشافعي، (11/ 189).
3. হাম্বলী মাজহাবে ফকীহ মিরাদবী বলেন: মুস্তাহাব হলে একের অধিক বিবাহ না করা যদি তার দ্বার আব্রু রক্ষা হয় (এবং শুধুমাত্র বিলাসিতা না হয়) এটিই সঠিক মত (আল ইনসাফ বৈরুত ২০/২৫)
وقال المرداوي الحنبلي رحمه الله «ت 885هـ»: يستحب أن لا يزيد على واحدة إن حصل بها الإعفاف على الصحيح من المذهب
يُنظَرُ: المرداوي، الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، (20/ 25)، وتصحيح الفروع، مطبوع مع كتاب الفروع، لابن مفلح، تحقيق: عبد الله بن عبد المحسن التركي، طبعة: مؤسسة الرسالة- بيروت، ط1، 1424هـ، 2003م، (9/ 90).
🔹 যারা একসাথে একাধিক স্ত্রী রাখা মুস্তাহাব বা সুন্নাত বলে তাদের মতামতের অবস্থা জেনে আসা যাক।
কোন আহলে হক ইমাম এই মত পোষণ করেন না। এটি ফেরাকে বাতেলার জাহিরিয়াদের মত।
তারা বলেন, একত্রে চার স্ত্রী রাখা সুন্নাত।
তাদের দলীল:
১- নবীজী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একাধিক স্ত্রী ছিল। তিনি একটাতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁর ওফাতের সময়ও নয়জন স্ত্রী ছিল।
এই দলীলের খন্ডন: এর দ্বারা দলীর প্রদান করা ভুল। কারন, এটা নবীজীর বৈশিষ্ট্য। নবীজী বেইনসাফি ও যুলুম থেকে সম্পূর্ণ মাসুম। কিন্তু উম্মত তা থেকে মুক্ত নয়। তার দ্বারা যুলুম হবেই।
২- তাদের দ্বিতীয় দলীল:
নবীজী স. এর একটি হাদিস-
قول النبيِّ صلى الله عليه وسلم: «تَنَاكَحُوا تَكْثُرُوا»
'তোমরা বিবাহ করতে থাকো আর সন্তান জন্ম দিতে থাকো' মুসান্নাফে আব্দির (রাযযাক -১০৩৯১ , বাইহাকী-১৩৪৪৮, ইবনে মাজাহ-১৮৬৩)
এই দলীলের খন্ডন:
উক্ত হাদিসের সব সনদই যঈফ/দূর্বল। বিবাহ আহকামের অন্তর্ভুক্ত। আর আহকাম যঈফ হাদিস দ্বারা সাবেত হয়না।
এরপরও আমরা গোড়ামী ও অহংকার বশতঃ নিজেদের মত প্রতিষ্ঠায় লিপ্ত থাকবো? আকাবীর উলামায়ে কেরামের চেয়ে নিজেদেরকে বেশি পন্ডিত মনে করবো?
তাহলে আর বলার কিছু নেই।
আমার এসব কথা একক কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়। কারণ এখানে আমি সবচেয়ে দুষি , গুনাহগার ও অজ্ঞ। কেউ আমার কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন এবং ইসলাহ করবেন। আমি মাথা পেতে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবো।
وما توفيقي إلا بالله والسلام عليكم ورحمة الله
إن أصبت فمن الله وإخطأت فمني ومن الشيطان
وصلي الله وسلم علي النبي الكريم
চাচা মিসবাহ উদ্দিনের ফেইসবুক থেকে নেওয়া
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন