এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাটকা বা ফ্রেশ। কিন্তু এই ভুল ধারণা স্বাস্থ্যের কী পরিমাণ ক্ষতি করছে, তা জানেই না কেউ! 

মূলত জবেহ করার পর যদি পশুর মাংস খুব বেশি নড়াচড়া করে বা খিঁচুনি দেয়, তবে বুঝতে হবে তাকে সঠিকভাবে জবাই করেনি! হালাল জবেহ করার বদলে মেরুদণ্ডে খোঁচা মেরে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে!


শেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ এবং জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিসসালাম আমাদের সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতিতে পশু জবেহ করার নিয়ম শিখিয়েছেন। এটিই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ধারালো ছুরি দিয়ে পশুর শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং ঘাড়ের দুই পাশের প্রধান রক্তবাহী ধমনীগুলো এক টানে কেটে ফেলা হয়। ইসলামি শরিয়াহর কঠোর নির্দেশ হলো, জবেহ করার সময় কোনোভাবেই পশুর মেরুদণ্ড বা স্পাইনাল কর্ড কাটা যাবে না!

যখন পশুর প্রধান রক্তনালীগুলো কাটা হয় কিন্তু মেরুদণ্ড অক্ষত থাকে, তখন ভেতর থেকে রক্ত বের হতে পারে। একটি বড় গরুর শরীরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লিটার রক্ত থাকে, যা পুরোপুরি বের হতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে।


অথচ আমাদের দেশের কসাইরা কী করছে? সামান্য কিছু বাড়তি লাভের আশায় কসাইরা যখন গরু জবেহ করে, তখন পশুর ঘাড়ের ভেতর দিয়ে ছুরির মাথা ঢুকিয়ে মেরুদণ্ডে বা স্পাইনাল কর্ডে একটি জোরে খোঁচা দেয়। এই একটা খোঁচাতেই পশু তৎক্ষণাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরের ২০-২৫ লিটার বিষাক্ত রক্ত মাংসের ভেতরেই আটকে যায়। রক্ত বের না হওয়ার কারণে মাংসের ওজন বেড়ে যায়! আপনি মাংসের দামে কসাইয়ের কাছ থেকে মাংসের সাথে রক্তও কিনে আনেন!


সঠিকভাবে জবেহ করলে পশুর শরীর থেকে প্রায় ৬০-৭০% রক্ত বের হয়ে যায়। কিন্তু মেরুদণ্ডে খোঁচা দিলে খুব সামান্য অংশই বের হয়। মেরুদণ্ড হলো মস্তিষ্কের সাথে হৃদপিণ্ডের যোগাযোগের প্রধান রাস্তা। যখনই সেখানে খোঁচা লাগে, হার্ট সাথে সাথে প্যারালাইজড হয়ে যায় বা পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। ফলে রক্ত বাইরে ঠেলে দেওয়ার মতো কোনো শক্তি আর থাকে না। তখন কেবল জবেহ করার জায়গায় কাছাকাছি যেটুকু রক্ত ছিল, সেটুকুই বের হয়। কিন্তু শরীরের ভেতরে বিশাল পরিমাণ রক্ত মাংসের ভেতরেই আটকে থাকে। কসাইরা মূলত এই কৌশলটি করে যেন মাংসের ওজন বাড়ে! একটা গরুর ২০ থেকে ২৫ লিটার রক্তের ওজন আনুমানিক ২১ কেজি থেকে ২৬ কেজি পর্যন্ত হতে পারে! যদি পশুকে প্রাকৃতিকভাবে রক্ত বের হতে দেওয়া হতো, তবে মাংস হতো স্বাভাবিক রঙের। কিন্তু মেরুদণ্ডে খোঁচা মারার কারণে সেই ২০/২৫ লিটার রক্তের বড় অংশই মাংসের পরতে পরতে জমে যায়। যার ফলে মাংস অনেক বেশি লাল দেখায় এবং ওজনও বেশি হয়। এটি ভোক্তাদের জন্য কেবল টাকার লোকসান না। পশুর রক্তসহ মাংস খাওয়ার ফলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।


বাজারের অধিকাংশ কসাইখানায় গরুর মাংস টকটকে লাল দেখা যায়। এটা মোটেও সতেজতার লক্ষণ নয়। কসাইরা মেরুদণ্ডে খোঁচা দিয়ে গরুকে ব্রেন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক করিয়ে দেয় বলে রক্ত মাংসতে জমে থাকে। পশুর রক্তে থাকে প্রচুর পরিমাণে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং নানা ধরনের জীবাণু ও টক্সিন। সঠিকভাবে রক্ত বের না হওয়া এই মাংস খেলে রক্তে থাকা বিষাক্ত উপাদানের কারণে মানুষের শরীরে অ্যালার্জি, চুলকানি, হজমে সমস্যা এমনকি ত্বকের নানা রোগ হতে পারে। অনেকে অভিযোগ করেন যে গরুর মাংস খেলেই তাদের চুলকানি হয়, অথচ কোরবানির মাংস খেলে এমনটা হয় না। এর আসল কারণ কিন্তু মাংস নয়, বরং ওই বিষাক্ত রক্ত যা বাজারের কসাইরা বের হতে দেয়নি। কোরবানির সময় আমরা নিজেরা তদারকি করে জবেহ করি এবং রক্ত বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিই বলেই সেই মাংস নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর হয়।


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাংসের পঁচন। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, যখন পশুর মেরুদণ্ডে খোঁচা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়, তখন পশুর পেশিতে থাকা শক্তির উৎস বা ATP মেটাবলিজম অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়। এর ফলে মাংস গরমে খুব দ্রুত পচে যেতে শুরু করে। আমাদের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার দেশে এটি একটি বড় সমস্যা। অথচ সঠিকভাবে হালাল জবেহ করলে পশুর শরীরে স্ট্রেস হরমোন অনেক কম থাকে, ফলে তীব্র গরমের ভেতরেও সেই মাংস অনেক বেশি সময় ভালো থাকে এবং এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে।


আপনি যদি নিজের পশু নিজে জবেহ দেন, তবে রক্ত ঝরানোর জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও সময় দিতেই হবে। শুধু গরুর ক্ষেত্রে নয় বরং খাসি, মহিষ, ভেড়া, মুরগি সবখানেই একই নিয়ম প্রযোজ্য। কিন্তু বাজারের অসাধু কসাইরা তাদের এই নিষ্ঠুর ও প্রতারণামুলক প্র্যাকটিস চালিয়েই যাচ্ছে, কারণ সাধারণ মানুষ নড়াচড়া করা মাংসকে 'ফ্রেশ' মনে করে বেশি কিনছে। যতক্ষণ ভোক্তাদের মধ্যে এই সচেতনতা না বাড়বে যে, অতিরিক্ত লাল ও কাঁপতে থাকা মাংস আসলে সঠিক নিয়মে জবেহ না করা বিষাক্ত রক্তযুক্ত মাংস, ততক্ষণ কসাইদের এই প্রতারণা বন্ধ হবে না। নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য আমাদের এখন থেকেই এই নিষ্ঠুর ও অস্বাস্থ্যকর মাংস কেনা বন্ধ করতে হবে এবং সঠিক হালাল জবেহ নিশ্চিত করার দাবি তুলতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...