এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪

ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী, পরে মহাকাশ পাড়ি জমান—কে তিনি?,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 # ***ছিলেন গার্মেন্টসকর্মী, পরে মহাকাশ পাড়ি জমান—কে তিনি?***


একজন ট্রাক চালকের মেয়ের স্বপ্ন আর কতই বা বড় হবে! তার ওপর মা যদি হন গার্মেন্টস কর্মী, স্বপ্নটা তখন স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে একটা কাজ জুটিয়ে খাওয়া-পরার নিশ্চয়তার গণ্ডিতেই বাঁধা থাকে। তা সেই মেয়ে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশের নাগরিক কিংবা ইউরোপের ঝাঁ চকচকে কোনো শহরের বাসিন্দাই হোন কেন, এ অবস্থা থেকে মহাকাশ জয়ের স্বপ্নটা তাই আকাশ-কুশুমই হতে পারে। হাড়-জিরজিরে পরিবারের স্কুল-পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা কখনো-কখনো বিমানের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন বটে, সেটাও অতিবাসানার কাতারেই পড়ে। কিন্তু কিছু মানুষ তো ব্যতিক্রম থাকেনই, আকাশ-কুশুম স্বপ্নটাকেই তাঁরা স্রেফ অধ্যাবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের জোরেই বাস্তবে পরিণত করে নিজেরা পৃথিবীর অমর ইতিহাসগাথার অংশ হয়ে যান।


রুশ মহাকাশচারী ভেলেন্তিনা তেরেসকোভাও তেমনি অমর ইতিহাসগাথার অংশ হয়ে গেছেন পৃথিবীর প্রথম নারী মহাকাশচারী বনে গিয়ে। অথচ তাঁর জীবনের গল্পটাও হতে পারত আর দশটা হত-দরিদ্র মেয়ের মতো।


ভেলেন্তিনার জন্ম ১৯৩৭ সালে ৬ মার্চ বলশয় মাসলেনিনকভ গ্রামে। বাবা ট্রাক চালক, মা গার্মেন্টে ছোট্ট চাকরি করেন।


কিন্তু দুবছর বয়সেই বাবাকে হারান রুশ-ফিনিশ যুদ্ধে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রাম ছাড়েন। চলে আসেন ইয়ারোস্লাভ এলাকায়। সেখানেই স্কুলে ভর্তি হন।


কিন্তু স্কুলে পড়ার সঙ্গতি তাঁর ছিল না। মা গার্মেন্টেসে চাকরি করেন, তাই তেরেসকোভাও চাকরি খুঁজতে থাকেন।


প্রথমে একটা টায়ার তৈরির কারখানায় কাজ জুটিয়ে নেন। পরে মায়ের মতো তিনিও চলে যান গার্মেন্টেসে। দিনে চাকরি আর রাতে স্কুল।


এভাবেই অতি কষ্টে তেরেসকোভার লেখাপড়ার পাঠ চলে। ছাত্রাবস্থায় বুকের ভেতর একটা স্বপ্ন বুনন করে চলেন—একদিন তিনি পাইলট হবেন, প্যারাশুট নিয়ে লাফ দিয়ে পড়বেন বিমান থেকে।


লেখাপড়া অসমাপ্ত রেখেই তেরেসকোভা স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটাই এগিয়ে যান। বন্ধুর পরামর্শে ভর্তি হন এক স্কাই ডাইভিং ক্লাবে। সেই ক্লাবের ব্যানারে আঞ্চলিক স্কাই ডাইভিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রথমবারেই বাজিমাত! সবাইকে পেছনে ফেলে সেই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন তেরেসকোভা।  কিন্তু মায়ের এগুলো পছন্দ নয়। তিনি ভাবতেন, আর দশটা মেয়ের মতো ভেলেন্তিনাও মেয়েদের কাজ করুক। রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তখন তুঙ্গে। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে—সবর্ত্রই চলছে তাঁদের পেশী প্রদশর্নের প্রতিযোগিতা। দূর মহাকাশই বা কূরুক্ষেত্র হবে না কেন?


১৯৬১ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে মোক্ষমভাবে টেক্কা দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ইতিহাসের প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন রুশ নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন। সোভিয়েতের এই জয় কিন্তু মার্কিনিদের দমাতে পারেনি, তার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র দেয় ১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রংদের চাঁদের অবতরণের মধ্য দিয়ে। গ্যাগারিনের মহাশূন্য ভ্রমণের পর সোভিয়েতের ভাবনায় তখন নতুন কিছু উঁকি দিচ্ছে। তাঁরা এবার একজন নারীকে মহাশূন্যে পাঠাতে চান। কিন্তু কার ভাগ্যে ছিঁড়বে সেই দুর্লভ মর্যাদার শিঁকে। রুশ মহাকাশবিজ্ঞানীরা আবেদন চাইলেন দেশের নারীকূলের মধ্য থেকে। নির্বাচক দলের প্রধান ইউরি গ্যাগারিন স্বয়ং। হাজার চিঠি আসে রুশ নারীদের কাছ থেকে। তাদের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে তাদের ডাকা স্বাক্ষাৎকারোর জন্য। এঁদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় পাঁচজনকে। কিন্তু মাত্র একজনকে পাঠানো হবে মহাকাশে।


ভাইভা থেকে নির্বাচিত পাঁচ জনকে মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হলো। চলল দীর্ঘ এক বছরের প্রশিক্ষণ। শেষমেষ পাওয়া গেল আসল জনকে। স্বল্প-শিক্ষিতা ভেলেন্তিনা নির্বাচিত হলেন মহাকাশ ভ্রমণের জন্য। ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন ভস্কত ৬ মহাকাশে প্রথমবারের মতো উঠল নারীর জয়-পতকা।


মহাশূন্যে প্রায় ৭২ ঘণ্টার সফর ছিল তেরেসকোভার। এর মধ্যে তিনি ৪৮ বার পৃথিবী প্রদিক্ষণ করেন। মাঝে তাঁর নভোযানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পড়তে বেঁচে যায়। ১৯ জুন পৃথিবীতে অবতরণ করেন তেরেসকোভা।


মহাকাশ জয়ের পর তেরেসকোভা আত্মন্নোয়নে মনযোগ দেন। আবার শুরু করেন অসমাপ্ত লেখাপড়া। ডিপ্লোমা ও ডক্টটেরট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে বিয়ে করেন নভোচর আন্দ্রিয়ান নিকোলায়েভকে। পরে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সোভিয়েতের পতন হয়েছে ঠিক হয়েছে ঠিকই কিন্তু তেরেসকোভার রাজনৈতিক পরিচয় মুছে যায়নি আজও। ২০১৬ সালে তিনি রুশ ফেডারেল সরকারের সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হন। একই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন আগেও। ভেলেন্তিনা তেরেসকোভার বয়স এখন ৮৬ বছর। এই সাহসী নারীর স্বপ্ন কিন্তু ফুরায়নি এখনো। তিনি এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন মঙ্গলজয়ের। এ শতাব্দীর ত্রিশের দিকে মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে চায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা। মঙ্গলযাত্রীরো আর কখনো পৃথিবীতে ফিরবে না জেনেও সম্প্রতি তেরেসকোভা সেই অভিযানের অংশ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সূত্র : দ্য গার্ডিয়য়ান

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

নোবেলের সেই দিন...ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 নোবেলের সেই দিন...


পুরস্কারের চিঠি হাতে পেয়ে রবিঠাকুর মেটাতে চেয়েছিলেন আশ্রমের নালা সারাইয়ের খরচ!


সে দিন খুব হাওয়ার রাত।


খোয়াইজুড়ে রাস পূর্ণিমার গোল হলুদ চাঁদ উঠেছে।


চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে পারুল বন।


জোব্বার পকেট থেকে টেলিগ্রামের কাগজটা বের করলেন কবি।


ভাঁজ খুলে বার দু’য়েক পড়লেন। চেয়ে রইলেন দূর বনপথে। চোখে উদাস করা চাহনি।


তারপর উদাসীন ভাবে নোবেল প্রাপ্তির টেলিগ্রামটা সচিবের দিকে এগিয়ে বললেন, ‘‘নিন, নেপালবাবু। এই আপনার ড্রেন তৈরির টাকা!’’


রবিঠাকুরের কথা শুনে নির্বাক আশ্রম-সচিব নেপালচন্দ্র রায়!


দু’চোখের কোণ ভিজে এল তাঁর!


নোবেল কমিটির কাছে কবির ঠিকানাই ছিল না!


শেষে সুইডিশ অ্যাকাডেমি ‘গীতাঞ্জলি’-র প্রকাশক ম্যাকমিলান কোম্পানির কাছ থেকে ঠিকানা নেয়। ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার লন্ডন থেকে কেবলগ্রাম পাঠায় ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের ঠিকানায়।


কমিটি লেখে, “SWEDISH ACADEMY AWARDED YOU NOBEL PRIZE LITERATURE PLEASE WIRE ACCEPTATION SWEDISH MINISTER.”


১৫-র মধ্যরাতে জোড়াসাঁকোয় নোবেলের কেবলগ্রাম এল, ঘুমোতে পারেননি কবির ছোট জামাই নগেন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়। সারা রাত্তির বাইরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন, কখন আলো ফুটবে।


ঘড়িতে যখন সবে সকাল ৭-১০, নগেন্দ্রনাথ দৌড়ে গেলেন ডাকঘরে। তড়িঘড়ি টেলিগ্রাম করে শ্বশুরকে জানালেন তাঁর নোবেল প্রাপ্তির খবর!


কিন্তু জামাই নগেন্দ্রর ওই টেলিগ্রাম নয়, সেদিন কবি তাঁর তিন সুহৃদের টেলিগ্রামে নিজের নোবেল প্রাপ্তির খবর প্রথম জেনেছিলেন!


কবির নোবেল প্রাপ্তির খবর কলকাতায় প্রথম ছাপে ইংরেজি সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা ‘এম্পায়ার’।


১৩ তারিখ নোবেল-পুরস্কার কমিটি কবির নাম ঘোষণা করার পর, স্টকহোমের রয়টার প্রতিনিধি খবরটি প্রথম ‘ব্রেক’ করেন।


নিউইর্য়ক ইভনিং পোস্টে সে খবর প্রকাশিত হয়। এদেশে রয়টারের খবর এল পরের দিন, ১৪ নভেম্বর সকাল ৯টায়। ততক্ষণে সেদিনের কাগজ ছাপা হয়ে বেশিরভাগ বিক্রিও হয়ে গিয়েছে! সে দিনের ‘এম্পায়ার’ দেখেই শোরগোল পড়ে সন্ধেরাতের শহরে।


শোরগোলের কথা জানিয়েছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে সীতা দেবী।


তিনি সে দিন কলেজ থেকে ফিরছিলেন।


‘পুণ্যস্মৃতি’-র পাতায় লিখছেন, ‘‘কলেজ হইতে ফিরিবামাত্র শুনিলাম যে রবীন্দ্রনাথ Nobel Prize পাইয়াছেন। কলিকাতা শহরে মহা হৈ চৈ বাধিয়া গেল। শুনিলাম কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম কবিকে এই খবর টেলিগ্রামে জানাইতে গিয়াছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে টেলিগ্রাম লিখিতে জানিতেন না, অন্য কাহাকেও দিয়া লিখাইতে গিয়া দেরি হইয়া গেল, তাঁহার আগেই আর-একজন টেলিগ্রাম পাঠাইয়া দিলেন।’’


রাজপথে সে দিন কাগজের হকররা ছোটাছুটি করে হুলুস্থূল কাণ্ড বাঁধায়।  জোড়াসাঁকো থেকে গড়ের মাঠ, হাটেবাজারে শুধু রবির জয়গাথা।


সে দিনের কথা পাওয়া যায় চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিতেও।


চারু লিখছেন, ‘‘আমি প্রবাসী-আপিসে প্রুফের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে আছি, বেলা তখন তিনটে হবে...।’’


প্রেসের ভিতর সত্যেন্দ্র ঢুকেই চিৎকার করে চারুকে বললেন, ‘‘আমি তোমায় মারব।’’


বেগতিক দেখে প্রুফ সরিয়ে সত্যেন্দ্রর উল্লাস দেখেন চারু।


হেসে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী এমন সুখবর যে আমায় মারতে ইচ্ছে করছে?’


‘‘আন্দাজ করো!’’


সত্যেন্দ্রর হাতে একতাড়া ‘এম্পায়ার’ কাগজ দেখে চিৎকার করে ওঠেন চারু! ‘‘রবি-বাবু নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন!’’


আনন্দের চোটে সত্যেন্দ্র কথার খেই হারিয়ে কাগজটা টেবিলে মেলে ধরলেন।


চারুচন্দ্র লিখছেন, ‘‘আমি বললাম, ‘রবিবাবুকে টেলিগ্রাম করেছ?’ সত্যেন্দ্র বললেন, ‘আমি নগেন গাঙ্গুলির কাছে এসপ্লানেডে শুনেই কাগজ কিনে নিয়ে তোমাকে খবর দিতে ছুটে এসেছি। টেলিগ্রাম তো আমি করতে জানি না - তুমি যা হয় করো।’ তখন আমরা দুজনে কান্তিক প্রেসে গিয়ে মণিলালকে খবর দিল‌াম। আর তিনজনের নামে রবি-বাবুকে টেলিগ্রাম করলাম আমাদের সানন্দ প্রণাম জানিয়ে - Nobel Prize, our pranams। আমাদের টেলিগ্রামটা নগেনবাবুর টেলিগ্রামের পরে রবি-বাবুর কাছে পৌঁছেছিল, তাতে সত্যেন্দ্র ক্ষুণ্ণ হয়ে বলেছিলেন, ‘টেলিগ্রাম করতে জানলে আমিই আগে খবর দিতে পারতুম!’’’


সত্যিটা সত্যেন্দ্র তখনও জানতেন না, তাঁদের টেলিগ্রামই কবির হাতে পৌঁছয় প্রথম।


‘রবিজীবনী’-র লেখক প্রশান্তকুমার পাল লিখছেন, ‘‘১৪ নভেম্বর রাত্রি ৭-৪৪ মিনিট পর্যন্ত বোলপুরে পৌঁছনো এরূপ টেলিগ্রামের সংখ্যা ৭টি, তার মধ্যে চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-কথিত নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের টেলিগ্রাম বা রবীন্দ্রনাথ-কথিত বিলেতের প্রকাশকের কেবলগ্রাম কোনোটিই নেই। তবে ‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’ ফাইলে মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের একত্রে পাঠানো টেলিগ্রামটি পাওয়া যায়।’’


কলকাতায় ৪টে ১০ নাগাদ এই টেলিগ্রামটি জমা পড়ে। বোলপুর ডাকঘরে পৌঁছয় ঠিক তেত্রিশ মিনিট পর। কবির আমন্ত্রণে সে দিনই বেলা সাড়ে ১১টায় শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন বাঁকুড়ার ওয়েসলিয়ান কলেজের অধীন হাই স্কুলের অধ্যক্ষ পাদ্রী এডওয়ার্ড জন টমসন। পাদ্রীসাহেব বাংলা জানতেন। তাঁকে কবি বাংলাতেই চিঠি লিখে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সাহেব লিখছেন, “About 4.30, I had tea. He came in suddenly and said, ‘Mr. Thomson, will you excuse me for a few hours? I have to go somewhere.”


অতিথি টমসনের কাছ থেকে সময় নিয়ে কোথায় গেলেন রবীন্দ্রনাথ?


বনবিহারে।


রেল লাইনের পুব পাড় ধরে মোটর গাড়িতে চড়ে জোব্বা উড়িয়ে চললেন পারুলবনের দিকে।


সঙ্গে কয়েকজন বিদেশি অতিথি, এস্রাজ নিয়ে গানের ভাণ্ডারী দিনুঠাকুর, ছেলে রথি আর সচিব নেপালচন্দ্র।


পথেই দেখা হল, বোলপুরের ডাক পিয়োনের সঙ্গে। কবি তাঁকে দেখে গাড়ি থামাতে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘কোনও সংবাদ আছে?’’


‘‘আজ্ঞে। কলকাতা থেকে তার আছে আপনার।’’


এর পর টেলিগ্রাম হাতে পেয়েও কবি তখনই খুললেন না। সকলের দেরি হবে ভেবে জোব্বার পকেটে রেখে দিলেন কাগজখানা। কিন্তু সকলের কৌতূহল থামে না। এখন টেলিগ্রাম!


সবার অনুরোধে চাঁদের আবছা আলোয় বনপথেই টেলিগ্রাম খুললেন কবি।


প্রথমে বিশ্বাস হয়নি!


তিন প্রিয় মানুষ পাঠানো সু-সংবাদ পড়ে বলেন, ‘‘উঁহু, সম্ভবত টেলিগ্রামের ভাষায় ভুল আছে বুঝলে!’’


সকলের উৎসুক চোখ কবির মুখের দিকে!


ফের পড়লেন তিনি।


তার পর নেপালবাবুর দিকে এগিয়ে দিলেন কাগজখানা। রথীন্দ্র দেখলেন কাগজে লেখা, ‘‘নোবেল প্রাইজ কনফারড অন ইউ, আওয়ার কনগ্র্যাচুলেশনস।’’


এক আকাশ চাঁদের সে রাতে আশ্রামের চতুর্দিকে কেবল রবিরব। পুজোর ছুটির পর সবে খুলেছে রবিবাবুর ‘গানের স্কুল।’


বাড়ি থেকে ফিরে ছুটির হোম-টাস্ক নিয়ে মনখারাপ ছোটদের। তারই মাঝে সন্ধেরাতের হাওয়ায় রটল কবির নোবেল প্রাপ্তির খবর।


সে সময় প্রমথনাথ বিশী শান্তিনিকেতনের ছাত্র। ‘রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতন’-এ তিনি লিখছেন, ‘‘শীতের প্রারম্ভে নূতন-ওঠা বেগুনভাজা পরিবেশিত হইয়াছে... সহসা অজিতকুমার চক্রবর্তী রান্নাঘরে ঢুকিয়া চীৎকার করিয়া বলিলেন, ‘গুরুদেব নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন’।’’


প্রাক্তনীর স্মৃতির পথে ফিরে দেখি, আশ্রমের অধ্যাপক অজিত চক্রবর্তীর চলাফেরা প্রায় নৃত্যের তালে পরিণত হয়েছে। চঞ্চল হয়ে উঠেছেন ‘গম্ভীরপ্রকৃতির লোক, চলাফেরায় সংযত’ ক্ষিতিমোহন সেন। বিদ্যালয়ের সর্বাধ্যক্ষ জগদানন্দ রায় এসে যখন তিন-চার দিনের ছুটি ঘোষণা করলেন, তখন ছাত্ররা বুঝতে পারল, ‘ব্যাপার কিছু গুরুতর!’


প্রমথ লিখছেন, ‘‘কোথায় গেল ক্লাসের নিয়মিত ঘণ্টা, কোথায় গেল অধ্যাপকদের গম্ভীর চালচলন, স্নানাহারের সময়ও গোলমাল হইয়া গেল!’’


সেই রাতে গৌরপ্রাঙ্গণে চাঁদের আলোয় বিস্তর আমোদ করেছিল আত্মহারা শান্তিনিকেতন আশ্রম।


পিয়ার্সন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কাফ্রিদের ঢাল-তরোয়াল-মুখোশ এনেছিলেন। সে সব তিনি বের করে দেন আনন্দ-নৃত্যের জন্য। পিয়ার্সন ও ছেলেদের নাচের মাঝেই কালি-ঝুলি মেখে সং সেজে হাজির হলেন সুধাকান্ত। কোমরে তাঁর জড়ানো কুয়োর লম্বা দড়ি!


লেজ নিয়ে কী লম্ফ-ঝম্প!


কবি অবিচল থাকলেও, সে দিন এমনই উল্লসিত হয়ে ওঠেন আশ্রম সদস্য ও তাঁর আপনজনেরা। কবির বড়দাদা, ঋষিপ্রতিম দ্বিজেন্দ্রনাথও খবর পেয়ে তাঁর নিচুবাংলার ঘর থেকে দৌড়ে গিয়েছেন কবিকে বুকে জড়িয়ে ধরতে! আদর করে বলেছেন, ‘রবি, তুই নোবেল প্রাইজ পেয়েছিস!’ 


বোলপুরের ডাকঘর উপচে পড়ছে অভিনন্দন বার্তায়। অজস্র চিঠি-টেলিগ্রাম!


খুব কাছের কয়েকজনকে কবি নিজেই উত্তর লিখলেন। বন্ধু রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীকে লিখলেন, ‘‘সম্মানের ভূতে আমাকে পাইয়াছে, আমি মনে মনে ওঝা ডাকিতেছি - আপনাদের আনন্দে আমি সম্পূর্ণ যোগ দিতে পারিতেছি না। আপনি হয়ত ভাবিবেন এটা আমার অত্যুক্তি হইল কিন্তু অন্তর্যামী জানেন আমার জীবন কিরূপ ভারাতুর হইয়া উঠিয়াছে। ‘কোলাহল ত বারণ হল/ এবার কথা কানে কানে’ এই কবিতাটি দিয়া আমি গীতাঞ্জলির ইংরেজি তর্জ্জমা শুরু করিয়াছিলাম। কারণটা যে কতদূর সফল হইল তাহা দেখিতেই পাইতেছেন।’’ লিখলেন রোটেনস্টাইনকেও!


বাকিদের পাঠানো হল, রবীন্দ্র-হস্তাক্ষরে লেখা চিঠির বয়ান।


২৩ নভেম্বর কবিকে সংবর্ধনা জানাতে বিশেষ ট্রেন এল বোলপুরে!


সে ট্রেনের খবর জানিয়ে কাগজে বিজ্ঞপ্তি বের হয়। জানানো হয়, শান্তিনিকেতন যাওয়ার ভাড়া ৩ টাকা চার আনা! কে নেই বিজ্ঞপ্তির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ব্রজেন শীল, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, নীলরতন সরকার। সু-সজ্জিত রেলগাড়ি ছাড়তে ৫৫ মিনিট দেরি হয়।


কারণ সভাপতি জগদীশচন্দ্র বসু স্টেশনে পৌঁছতে পারেননি!


দুপুরে ট্রেন যখন বোলপুরে এল, কবির নামে জয়ধ্বনি উঠল বোলপুরের ভুবনডাঙার আকাশ জুড়ে।


আম্রকুঞ্জে সংবর্ধনা সভায় কবি এলেন গরদের ধুতি পাঞ্জাবিতে, তাঁকে মালা পরিয়ে দিলেন সভাপতি জগদীশচন্দ্র। কবি বসলেন মাটির বেদীতে, পদ্মপাতায়। রেশমের কাপড়ে কবি সত্যেন্দ্র দত্তের খসড়া করা অভিনন্দনপত্রটি পড়লেন হীরেন্দ্রনাথ দত্ত। একটি লজ্জাবতী লতার গাছ উপহার দিলেন জগদীশচন্দ্র!


সকলের অভিনন্দন শেষে এ বার কবির পালা।


কবি গাইবেন মাস তিনেক আগে লেখা গীতিমাল্যের একটি গান, ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে।’


কিন্তু হঠাৎ খুব রেগে গিয়ে গানের দলকে থামিয়ে দিলেন তিনি!


আম্রকুঞ্জের সভায় ছিলেন সীতাদেবী। তিনি লিখছেন, ‘‘বোধ হয় আর কিছু বলবার সংকল্প প্রথমত তাঁহার ছিল না। কিন্তু তাঁহাকে প্রিয়তমের মত ভালোবাসিয়াছে এমন বাঙালীরও যেমন অভাব নাই, এবং ছিলও না, তেমনি চিরকাল তাঁহাকে বিদ্বেষ করিয়াছে এবং লোকচক্ষে হীন করিতে চেষ্টা করিয়াছে, এমন বাঙালীরও অভাব তখন ছিল না।’’ সভার সামনের সারিতে বসেছিলেন তেমন কয়েকজন।  


কবি তাঁদের দেখেই ধৈর্য হারান!


উঠে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বললেন, ‘‘...আজ আপনারা আদর করে সম্মানের যে সুরাপাত্র আমার সম্মুখে ধরেছেন তা আমি ওষ্ঠের কাছে পর্যন্ত ঠেকাব, কিন্তু এ মদিরা আমি অন্তরে গ্রহণ করতে পারব না। এর মত্ততা থেকে আমার চিত্তকে আমি দূরে রাখতে চাই।’’


বহুচর্চিত সে সভার স্মৃতিপাঠে কেউ কেউ এমনও লিখেছেন, কবি সে দিন বক্তৃতায় সংবর্ধনাকারীদের তুলনা করেছিলেন সেই সব গ্রাম্য বালকদের সঙ্গে, যারা কুকুরের লেজে টিন বেঁধে রাস্তায় রাস্তায় তাড়া করে বেড়ায়! কেবল লোকের মুখের কথা নয়, নিজেও লেখেন এমন কথা মর্মদাহে!


তাঁর অভিভাষণে সভায় মৃদু গুঞ্জন ওঠে। অনুগামীরা কেউ কেউ না খেয়েই ট্রেন ধরতে ফেরেন বোলপুর স্টেশনে।


কবি তাঁদের জন্য মণ্ডা-মিঠাই-কমলালেবু পাঠিয়ে দেন ট্রেন ছাড়ার আগে!


গহন বেদনা আর অভিমানে কয়েক দিন পরে পিলুতে লেখেন, ‘লুকিয়ে আসে আঁধার রাত’।


আপন কথায় খাম্বাজে গাঁথেন, ‘আমার সকল কাঁটা ধন্য করে!’


এই আমাদের রবিঠাকুর!


(সংগৃহীত)



দুর্লভ ডেলেশিয়া,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 # ***দুর্লভ ডেলেশিয়া***



বেশ কয়েক বছর প্রথম দেখার সময় মনে হয়েছিল রঙ্গন ফুলের কোনো প্রজাতি। পরে ভুল ভাঙে। খ্যাতিমান প্রকৃতিবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার ‘ফুলগুলি যেন কথা’ গ্রন্থে গাছটির পরিচিতি দিয়েছেন রনডেলেশিয়া নামে। কোনো বাংলা নাম নেই।


বৈজ্ঞানিক নাম Rondeletia odorata রমনা পার্কে অশোককুঞ্জের উত্তর পাশ লাগোয়া কয়েকটি রঙ্গনের পাশেই ছিল গাছটি। প্রায় বছরজুড়ে ফোটা এবং মনকাড়া রঙের জন্য যেকোনো উদ্যানের জন্যই উপযোগী। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে সেদিন পার্কে গাছটিকে হতশ্রী দেখাচ্ছিল। চারদিক থেকে ছেঁকে ধরেছিল আগাছা ও বুনোলতা।


সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল গাছটি বিপন্ন। কয়েক বছর পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। হারিয়ে গেল দুষ্প্রাপ্য এই গাছটি। শুনেছি, রমনা পার্ক কর্তৃপক্ষ গাছটির মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানত না।


এমনকি সেখানে যে এমন একটি দুর্লভ গাছ ছিল তা-ও জানা ছিল না তাদের। এমনও হতে পারে, জানা থাকলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি!


বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছুটা স্পর্শকাতর বলেই রনডেলেশিয়ার তেমন বিস্তার ঘটেনি। জানা মতে মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও নিউ বেইলি রোডের ডাক বিভাগের আবাসিক ভবনগুলোর একটিতে রনডেলেশিয়াগাছ আছে। তা ছাড়া কারো ব্যক্তিগত বাগানেও থাকতে পারে।


রনডেলেশিয়ার বিভিন্ন প্রজাতি দুই আমেরিকা মহাদেশের নিরক্ষীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়।


Rondeletia odorata-র আদি নিবাস কিউবা। এটি পানামার সুগন্ধি গোলাপ নামেও পরিচিত। এরা চিরসবুজ গুল্ম। জার্মান প্রকৃতিবিদ ও অভিযাত্রী আলেক্সান্ডার ফন হামবল্ড এবং ফরাসি অভিযাত্রী ও উদ্ভিদবিদ এমে জাক আলেক্সাঁদ্রে বোঁপ্লঁ প্রথম মেক্সিকো থেকে এই গাছটি সংগ্রহ করেন। তাঁদের যৌথ অভিযাত্রার বিবরণ সংবলিত


Nova genera et Species Plantarum গ্রন্থের চতুর্থ সংস্করণে এই গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম সংযুক্ত করা হয়। বইটি ঊনবিংশ শতকের প্রথম দিকে প্রকাশিত হয়। রনডেলেশিয়া নামটি ফরাসি প্রকৃতিবিদ গিয়োম রঁদেলেত থেকে এসেছে।


রনডেলেশিয়াগাছ গড়নের দিক থেকে লম্বাটে স্বভাবের। সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা বিপরীত, ডিম্বাকৃতি, উপবৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার-আয়তাকার, চার থেকে ছয় সেমি লম্বা, উপরের পিঠ রোমশ। মঞ্জরি-ঢাকনা সংকীর্ণভাবে ত্রিভুজাকার থেকে ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার। ফুলগুলো শাখা-প্রান্তে ছোট ছোট থোকায় ফোটে। সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফুল ধরে, যা দেখতে অনেকটা রঙ্গনের মতো। রঙ উজ্জ্বল কমলা-লাল। পাপড়ির আগা ভোঁতা, প্রায় গোলাকার। ফলপড গোলাকার থেকে অবনমিত গোলাকার। বংশবৃদ্ধি হয় দাবাকলমে।


Source: BDNEWS24


সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ১১-০৩-২০২৪ ।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ১১-০৩-২০২৪ ।


আজকের শিরোনাম:


একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করছে সরকার-প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বললেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইহসানুল করিম হেলালের ইন্তেকাল - রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক।


দেশের বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনীতি থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিএনপি - সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।


পবিত্র রমজান মাসের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসছে আজ।


রমজান মাসে সাশ্রয়ী মূল্যে চলবে দুধ, ডিম, মাছ, মাংস বিপণন কার্যক্রম - ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার করছে বিএসটিআই।


রমজানে স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করলেন হাইকোর্ট।


ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু আজ।


কাঠমাণ্ডুতে, ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের শিরোপা জিতে নিলো বাংলাদেশের মেয়েরা।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

গুড় থেকে কিভাবে এলো গৌড় দেশ,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 গুড় থেকে কিভাবে এলো গৌড় দেশ?


খুবই পরিচিত একটি শব্দ— গুড়। এককালে বাঙালি ঘরে অতিথি এলে গুড়-জল দিয়ে অভ‍্যর্থনা জানানো হতো। বাঙালি ঘরের শিশুরা দুধ-গুড় আর গুড়-মুড়ি খেয়ে বড়ো হতো। এখনকার মতো তখন প‍্যাকেটজাত শিশুখাদ্য ছিল না। আর এই প্রিয় গুড় থেকেই দেশটার নাম হয়ে গেল গৌড়দেশ, সংক্ষেপে “গৌড়।”

প্রাচীন বাংলার ( অন্য বানানে “বাঙলা” ) নাম ছিল গৌড়। পাঁচটি মৌলিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পুরো দেশটি পরিচিত ছিল পঞ্চগৌড় নামে।

১) পঞ্চগৌড়ের প্রথম ভাগ ছিল লাল মাটির দেশ “রাঢ়।” ভাগীরথীর পশ্চিম তীরের এলাকায় অবস্থিত আজকের বীরভূম, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মুর্শিদাবাদ, দুমকা, সাহেবগঞ্জ, দেওঘর, গোড্ডা, ধানবাদ, পুরুলিয়া, সিংভূম, রাঁচির পূর্ব অংশ, গিরিডির দক্ষিণ-পূর্ব অংশ নিয়ে ছিল রাঢ়। সবচেয়ে বড়ো এই এলাকা।

২) গৌড়ের দ্বিতীয় এলাকা ছিল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের ব-দ্বীপ এলাকা। এর নাম ছিল “সমতট, ” সাধারণভাবে বলা হতো “বাগড়ি।” পূর্ব মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ দুই চব্বিশ পরগণা, কলকাতা এবং বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, গোয়ালন্দ, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ছিল এই এলাকায়।

এই সমতটের রাজা ভগীরথ পদ্মা থেকে গঙ্গা, জলঙ্গী প্রভৃতি একশোটি খাল কেটে তাকে সমুদ্রের সঙ্গে জুড়েছিলেন। সেজন্য গঙ্গার আরেক নাম হয়ে যায়, শতমুখী। রামায়ণের সগর রাজা ছিলেন এই সমতটের রাজা। তাঁর “সগর” নাম থেকেই হয়েছে “সাগর।”

৩) তৃতীয় অংশ ছিল বরেন্দ্র। গঙ্গার উত্তরে আজকের মালদহ ও দিনাজপুর এলাকা।

৪) গঙ্গার উত্তর তীরে ছিল বিদেহ বা মিথিলা। রাজা মিথি এই দেশ জয় করে ত্রিহোত্রীয় যজ্ঞ করেছিলেন। তাই এর আরেক নাম তিরহুত অর্থাৎ তীরভূমি। পঞ্চগৌড়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে ছোট এলাকা।

৫) এর পরের অংশ “বঙ্গ।” গৌড়দেশের নদীমাতৃক এলাকা অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের ঢাকা অঞ্চল ছিল এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

আর বঙ্গের কাছাকাছি এলাকা পরিচিত ছিল “বঙ্গাল” নামে। অনেকে মোগল যুগের লেখক আবুল ফজলের “আইন-ই-আকবরী” থেকে “বঙ্গাল” শব্দের ব‍্যাখ‍্যা করেন, “বঙ্গ” + “আল” = বঙ্গাল অর্থাৎ আল দিয়ে ঘেরা যে দেশ, তার নাম “বঙ্গাল” বলে থাকেন।


কিন্তু বৌদ্ধযুগ থেকেই “বঙ্গাল” শব্দটির ব‍্যবহার রয়েছে। চর্যাপদে দেখা যাচ্ছে, “ভুসুকু আজ তু বঙ্গালী ভইলী।” কাজেই মোগল আমলের বহু আগে থেকেই এই দেশের নাম “বঙ্গাল।” বঙ্গের কাছাকাছি যে অঞ্চল, তার নাম ছিল “বঙ্গাল।” সংস্কৃতে যা ছিল গৌড়দেশ, বাংলায় তা হয়ে যায় “বাঙলাদেশ।” ফিরে আসি গৌড়ের নামকরণ প্রসঙ্গে। এই দেশ ছিল আখের গুড়, তাল গুড়, খেজুর গুড়ে সমৃদ্ধ এলাকা। বৈদিক শব্দ “গুড়।” এই “গুড়” শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত “ষ্ণ” প্রত‍্যয় যোগে উৎপন্ন হয় “গৌড়” শব্দ। এখান থেকে তৈরি গুড় রপ্তানি হতো বিভিন্ন দেশে। এমনকি, যখন পোর্তুগীজরা এদেশে এসেছিলেন, তখন তাঁরা এদেশ থেকে মূলত গুড় ও চিনি রপ্তানি করতেন। এজন্য তাঁরা এদেশের সপ্তগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দর দুটিকে ব‍্যবহার করতেন। এভাবেই গুড়ের দেশ হিসেবে ব‍্যাপক অর্থে পঞ্চ গৌড় মিলে গোটা উত্তর ভারতের নাম হয়ে যায় “গৌড়দেশ।” আর সাধারণভাবে “গৌড়দেশ” বলতে বোঝায় “বাঙলা।” বৌদ্ধযুগের পরে ব্রাহ্মণদের গাঞি-গোত্রাদি নির্ধারণের জন্য প্রয়াগে একটি বড়ো মেলা বসেছিল। অনেক আলোচনার পর শেষে ভারতের দশ শ্রেণির ব্রাহ্মণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচ শ্রেণির ছিল উত্তর ভারতের এবং এঁদের নাম দেওয়া হয়েছিল “পঞ্চগৌড়ী। জম্মু, কাশ্মীর, পাঞ্জাবের সারস্বত ব্রাহ্মণ এবং রাজস্থান, হরিয়াণার গৌড় ব্রাহ্মণ। এই ব্রাহ্মণরা গৌড়দেশ থেকে গিয়েছিলেন বলে এঁদের বলা হয়েছে গৌড় ব্রাহ্মণ। এঁরা মাছ-মাংস খেতেন না। আর বাঙলার ব্রাহ্মণরা মাছ-মাংস খেতেন বলে তাঁরা স্বীকৃতি পাননি।

অন্যদিকে, অন্য পাঁচ শ্রেণির ব্রাহ্মণ ছিলেন পঞ্চ দ্রাবিড়ী ব্রাহ্মণ। এঁদের মধ্যে ছিলেন উত্তর প্রদেশের কনৌজী ব্রাহ্মণ, গুজরাটের নাগর ব্রাহ্মণ এবং উত্তর বিহারের মৈথিলী ব্রাহ্মণ। যাই হোক, গুড় থেকেই যে গৌড় হয়েছে তা বোঝা গেল। গুড় বাংলায় একটি জনপ্রিয় খাদ‍্য। শীতকালে খেজুর গুড় শীতের নতুন বার্তা বয়ে আনে। তাই শীতকালে খেজুর গুড় থেকে তৈরি পাটালির সংস্কৃত নাম “নববার্তা, ” যা থেকে চলতি কথায় হয়েছে “নবাত।” অন্যদিকে, ফাল্গুনে তৈরি এখো গুড় অর্থাৎ আখের গুড়ের ব‍্যাপক ব‍্যবহার হয় বাঙালির দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন ধরণের নাড়ু, আরশে তৈরিতে।

তাই গুড় বৈদিক যুগ থেকে এখনো সমান জনপ্রিয়। গুড় থেকে গৌড় নামটিও সার্থক।


সংগৃহীত



মাজরা_পোকা,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 #মাজরা_পোকা  

তিন ধরনের মাজরা পোকা বাংলাদেশের ধান ফসলের ক্ষতি করে। যেমন- হলুদ মাজরা , কালো মাথা মাজরা এবং গোলাপী মাজরা । ক্ষতিকর মাজরা পোকামাকড় দমনে #এসিমিক্স ৫৫ ই সি (AC Mix 55 EC) এবং ধানের মাজরা পোকা ও কাটুই পোকা দমনে কার্যকরী মিশ্র কীটনাশক  #এসিপ্রিডপ্লাস ৯৫ এস পি কারটাপ ৯২% + এসিটামিপ্রিড ৩%  Aciprid Plus 95 SP.

 : এ সি আই ক্রপ কেয়ার লিমিটেড :



আপনার বাগানের গাছের পাতা কুকড়ে যায়?,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌱🌱 আপনার বাগানের গাছের পাতা কুকড়ে যায়??🍃🍃


অনেকেই মরিচ,টমেটো, শিম, বরবটি পেপে বা অন্যান্য গাছের পাতা কোকড়ানো এর

জন্য কাংখিত ফলন পান না তাদের জন্য কার্যকরী কীটনাশক। ১০০% পরীক্ষিত।


মূলত মাছি পোকা ও মাকড়ের আক্রমণ হলে এমন হয়।


👉👉 যেভাবে দমন করবেনঃ-


আক্রমণ রোধে রিপকর্ড বা ইমিডাক্লোপিড গ্রুপের কীটনাশক ইমিটাফ

এবামেক্টিন গ্রুপের কীটনাশক ভারটিমেক ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায় ।


✅ ব্যবহারবিধিঃ ১ লিটার পানিতে ইমিটাফ. ০.৫ মিলি ও ভারটিমেক ১ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করে দিবেন পাতার উপর,নিচ সব গাছে বিকালে ।


👉 ৭ দিন পর আরেকবার স্প্রে করে দিবেন।

এর পর প্রতি ১৫ দিন পর পর নিয়মিত স্প্রে করে দিবেন। তাইলে আর কোকড়াবে না।


✅ তবে খেয়াল রাখতে হবে যে যদি গাছের গোড়ায় পানি থাকে অথবা গোঁড়া যদি ভিজা থাকে তাহলে অবশ্যই গাছের গোড়া খোঁচা অথবা আলগা করে দিয়ে মাটির রোদে শুকায় নিতে হবে। টপের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অবলম্বন করলে আশা করি ভালো ফলন পাবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই অবস্থায় গাছে বেশি নাইট্রোজেন ব্যবহার করা যাবে না তাহলে গাছের ফুল এবং ফল দুইটাই ঝরে যাবে।


সাধনা ঔষাধালয়,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ॥ সাধনা ঔষধালয় - একটি অনন্য ব্যতিক্রমী বাঙালি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ॥

#সাধনাঔষধালয়, ঢাকা। আজকের দিনে বড় বেমানান এই প্রতিষ্ঠান।

দোকান বন্ধ। অথচ কর্মচারীদের এখনও বসিয়ে বসিয়ে মাহিনা দেয়। সারা ভারতবর্ষে তথা বর্তমান বাংলাদেশে এটি একটি বিরল ঘটনা।

আজ ফিরে দেখা সেই ইতিহাস।

১৯০৫ সাল বঙ্গভঙ্গ।

চারিদিকে তখন স্বদেশি আন্দোলনের জোয়ার।

বিদেশি পণ্য বয়কট কর।

দেশীয় শিল্প গড়ে তুলতে নেমে পড়লেন একদল উদ্যোগী বাঙালি যুবক। নেতৃত্বে বিশ্ববিখ্যাত বাঙালী বৈজ্ঞানিক আচার্য #প্রফুল্লচন্দ্ররায় 

একের পর এক দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল।

এইচ বোসের কলের গান, কেশতেল, দেলখোশ সুবাস, সি কে সেনের জবাকুসুম, বেঙ্গল পটারি,বেঙ্গল গ্লাস ফ্যাক্টরি, পি এম বাকচির কালি, সুগন্ধি, মোহিনী মিলের কাপড়ের কারখানা,সেন রেলের সাইকেল কারখানা এবং স্বয়ং আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যাল আরো কত শিল্প।

আর এই পথ ধরে এক বাঙালি যুবক গড়ে তুললেন সাধনা ঔষধালয়। 

নাম তার যোগেশচন্দ্র ঘোষ।

সেই আমলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এম এ।

ভাগলপুরে অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মাস্টারমশাই আচার্য পি সি রায়ের অনুপ্রেরণায় গড়ে তুললেন আয়ুর্বেদ ঔষধের কারখানা।

তার নাম হল সাধনা ঔষধালয় ঢাকা।

অচিরেই এই প্রতিষ্ঠানের নাম সারাভারতে ছড়িয়ে পড়ল।

সুভাসচন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই প্রতিষ্ঠানের ওষুধ ব্যবহার করতেন।

১৯২৪ সালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র নিজে এলেন ঢাকায়, পরিদর্শণ করে গেলেন সাধনা ঔষধালয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জ্বর হলেই এই প্রতিষ্ঠানের ওষুধ খেতেন।

সেইসময় প্রায় চারশোর বেশি শাখা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

পণ্য রফতানি হত আমেরিকা, চীন, ইরাক, ইরান, আফ্রিকার দেশে।

এবার এল সেই দিন! ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

যোগেশচন্দ্র পরিবারের সকলকে কলকাতায় পাঠিয়ে দিলেন।

শত বলা সত্বেও বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেন না।

বললেন, মরলে এখানেই মরবো।

তবু এদেশ ছেড়ে কোথাও যাবো না।

ফলে যা হবার হল।

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস।

সশস্ত্র খান সেনেরা কারখানায় এলো।

গুলি করে খুন করল যোগেশচন্দ্র ঘোষকে।🙂

তবু ফ্যাক্টরি বন্ধ হল না।

কারণ সাধনা ঔষধালয়ের প্রডাক্টের তখনও প্রবল চাহিদা। 

একশো তিরিশটা দোকান চলছে ভারতে।

কলকাতায় তিরিশটা শাখা।

দাক্ষারিস্ট,চ্যবনপ্রাশ, সারিবাদি সালসা, জ্বরের ওষুধ,বিউটি ক্রিম আরো কত প্রডাক্টের তখনও হেভি ডিমান্ড।

৮০ সাল পর্যন্ত কোম্পানি চার কোটি টাকা লাভ করেছে।

তারপর ২০০৮ থেকে ২০১২ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় আধুনিকীকরণের অভাবে।

অনেক দোকান তবু খোলা ছিল।

কিন্তু যোগেশচন্দ্রের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া বন্ধ হল না।

তাদের চলবে কিভাবে?

সারা ভারতবর্ষে এই ঘটনা এক বিরল দৃষ্টান্ত।

যেখানে মালিকরা শ্রমিক কর্মচারীদের পি এফ, গ্র্যাচুয়াটির টাকা মেরে দেয় সেখানে যোগেশচন্দ্ররা ব্যতিক্রম তো বটেই।

সব মালিক যদি এরকম হত!

এই কোম্পানির জীবিত একমাত্র বংশধর হলেন শীলা ম্যাডাম।

তিনিই উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমানে কোম্পানির মালিক।

তিনি বিবাহ করেননি।

তিনি আধ্যাত্মিকতা নিয়ে থাকেন।

এই কোম্পানির বর্তমানে কিছু দোকান এখনও খোলা আছে।

অনেক ওষুধই নেই।

বিক্রি একরকম নেই।

কর্মচারীরা বলেন আজকের দিনে ৩৪ টাকা কিংবা ৫৫ টাকায় কোন ওষুধ পাওয়া যায়?

দাম বাড়ানো দরকার।

কিন্তু শীলা ম্যাডাম অনড়।

তিনি বলেন অল্প লাভ রেখে গরীব মানুষের পাশে একটু দাঁড়ালে ক্ষতি কি?

অত টাকা করে কী লাভ?

যতদিন পারে চলুক।

তবু টিমটিম করে জ্বলছে শতবর্ষের বেশি প্রাচীন সাধনা ঔষধালয়।

এখনও কলকাতা ও রাজ্যের বুকে দু'একটা রঙচটা সাধনা ঔষধালয়ের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে, শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে যার একটি আজও বিদ্যমান।

" সাধনা ঔষধালয়, ঢাকা" একটি আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠান।

কালের নিয়মে একদিন হারিয়ে যাবে এই প্রতিষ্ঠান।

শুধু জেগে থাকবে এক দেশপ্রেমিক বাঙালির স্বপ্ন,

"সাধনা ঔষধালয়।"

শ্রদ্ধা ছাড়া আর কিবা জানাতে পারি আপনাকে শ্রদ্ধেয় #যোগেশচন্দ্রঘোষ মহাশয়।

তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকার নিবন্ধ।

NG Banerjee এর ওয়াল থেকে



রেসিপি সমাহার - ১১

 রেসিপি সমাহার - ১১

১.  লেবুর শরবত 


উপকরণঃ


১টি মিডিয়াম লেবু

৩ টেবিল চামচ পুদিনা পাতা

এক চিমটি লবণ

৪ টেবিল চামচ চিনি 

২ গ্লাস ঠান্ডা পানি

কয়েক টুকরো বরফ কিউব।


প্রস্তুত প্রণালিঃ


*পুদিনা পাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। 


*লেবুর রস ও অন্যান্য সকল উপকরণ (বরফ ছাড়া) ব্লেন্ডারে নিয়ে ব্লেন্ড করুন। তারপর ছেঁকে নিন। 


*এখন বরফ কিউব দিয়ে ও পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন পুদিনা লেবুর শরবত।


২. পুদিনা আমের শরবত 


উপকরণঃ


২-৩টি কাঁচা আম

কয়েকটি পুদিনা পাতা

চিনি ও লবণ স্বাদমতো

১টি কাঁচা মরিচ

১ লিটার পানি।


প্রণালীঃ


*কাঁচা আম খোসা ছাড়িয়ে টুকরো টুকরো করে নিন। 


*এবার সবগুলো উপকরণ মিশিয়ে প্রায় ১০ মিনিটের মতো রেখে দিন মিশ্রণটি। 


*তারপর ব্লেন্ডারে হালকা পানি দিয়ে মিশ্রণটি ব্লেন্ড করুন। 


*এরপর ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখুন এবং তারপর পরিবেশন করুন।


৩.গাজরের শরবত 


উপকরণঃ


গাজরের রস ৫০০ গ্রাম

২ গ্রাম বাসিল

৩ গ্রাম আদা

১ টেবিল চামচ লেবুর রস

লবণ স্বাদমতো।


প্রস্তুত প্রণালিঃ


*সকল উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। 


*তারপর ছেঁকে নিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। 


*এবার গাজরকে স্লাইস করে কেটে সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গাজরের শরবত।


৪. খেজুর-বাদামের শরবত


উপকরণঃ


নরম খেজুর আধা কাপ

বাদামকুচি আধা কাপ

ঘন দুধ ২ কাপ

চিনি পরিমাণমতো

কিশমিশ ২ চা চামচ

পানি পরিমাণমতো।


প্রণালিঃ


*খেজুর ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর খেজুরের বিচি ফেলে টুকরা করে নিন। টুকরোগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিছু সময়। 


*এবার সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। 


*পরিবেশনের সময় বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।


৫. টক দইয়ের শরবত


উপকরনঃ


টক দই ১ কাপ

পুদিনা পাতা কয়েকটি 

কাঁচামরিচ কুচি ১টি

ঠান্ডা পানি পরিমাণমতো

চিনি ২ টেবিল চামচ

বরফ কুচি প্রয়োজনমতো 

লবণ স্বাদমতো।


প্রস্তুত প্রণালিঃ


*প্রথমে একটি ব্লেন্ডারে টক দই, ঠান্ডা পানি, বরফ কুচি, পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ কুচি, চিনি ও লবণ একসঙ্গে নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। 


*এবার গ্লাসে ঢেলে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। 


*পরিবেশনের আগে গ্লাসের ওপর সামান্য বরফ কুচি ছড়িয়ে দিন। ব্যস, খুব সহজেই তৈরি হয়ে গেল ঠান্ডা ঠান্ডা টক দইয়ের শরবত।


৬. টক দইয়ের মিষ্টি শরবত 


উপকরনঃ


টক  দই ১ কাপ

গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ

লবণ ১/২ চা চামচ

চিনি ১/২ কাপ

পানি পরিমাণমতো

বরফের টুকরা পরিমাণমতো।

 

প্রনালীঃ


*ব্লেন্ডারে বরফ ছাড়া বাকি সব উপকরণ একে একে ঢেলে নিন। এবার ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। 


*এরপর পরিবেশন গ্লাসে ঢেলে নিন। 


*উপরে বরফ কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন। এতে শরবত খেতে আরও বেশি সুস্বাদু লাগবে।


৭. শরবত-ই মোহাব্বত 


উপকরনঃ


তরমুজের রস আধা কাপ

দুধ ২ কাপ

সুগার সিরাপ স্বাদমতো অথবা ১/২ কাপ চিনি 

বরফ পরিমাণমতো

তরমুজের টুকরা পরিমাণমতো

রুহ আফজা সামান্য।


প্রণালীঃ


*একটি পাত্রে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নেওয়া ২ কাপ দুধ নিন। 


*এবার তার সঙ্গে মেশান স্বাদমতো চিনি অথবা সুগার সিরাপ। দিয়ে দিন পরিমাণমতো বরফের টুকরা। 


*এরপর তরমুজের ফালি থেকে ছোট ছোট টুকরা করে শরবতে দিয়ে দিন। 


*এরপর তাতে মেশান সামান্য রুহ আফজা। এতে শরবতের ঘ্রাণ আরও সুন্দর হবে। এবার গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।



রোজা রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কোনো আরবীতে নিয়ত করার কথা কুরআন হাদীসে বর্ণিত নেই।,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⭕ রোজা রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কোনো আরবীতে নিয়ত করার কথা কুরআন হাদীসে বর্ণিত নেই। নিয়ত হচ্ছে অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত, মুখে উচ্চারণের সাথে নিয়তের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং সাহরী খেয়ে মনে মনে স্মরণ করতে হবে যে, “আমি আজকে রোজা রাখার নিয়ত করলাম অথবা রোজা রাখলাম।” [সহীহ বুখারী- ১/২]


🔰 তারাবীর নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রেও আরবীতে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ত নেই। নিয়তের ক্ষেত্রে মনে মনে স্মরণ করতে হবে, “আমি ২ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম”। এভাবে ২ রাকাত করে সর্বমোট ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।


⭕ কোনো কোনো মসজিদে তারাবীর নামাজের চার রাকাত পর পর “সুবহানা যিল মুলকি...” দোয়াটি পাঠ করা হয়, এই দোয়াটি পাঠ করার ব্যাপারেও কুরআন হাদীসে কোনো প্রকার দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় না। তাই চার রাকাত পর পর এই দোয়াটি পাঠ করার প্রয়োজন নেই।


🔰 তারাবীর নামাজ সম্পূর্ণ শেষ করে মোনাজাতে যেই দোয়াটি পাঠ করা হয় সেই দোয়াটি পাঠ করার ব্যাপারেও কুরআন হাদীসে কোনো প্রকার দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় না। তবে দোয়াটির অর্থ যেহেতু সুন্দর। তাই তারাবীর নামাজ শেষে কেউ চাইলে দোয়াটি পাঠ করে দোয়া করতে পারবে, আবার কেউ চাইলে নিজের মতো করেও দোয়া করতে পারবে ইন শা আল্লাহ, এতে কোনো সমস্যা নেই।


⭕ ইফতার শুরু করার পূর্বে “আল্ল-হুম্মা লাকা ছুমতু... হিসেবে যেই দোয়াটি পাঠ করা হয়, এর ফজিলতটিও একটি দূর্বল হাদীস দ্বারা প্রমানিত। তবে ফজিলতের ক্ষেত্রে যেহেতু দূর্বল হাদীসের উপর আমল করা বৈধ তথা জায়েজ, সেহেতু শুকরিয়া আদায়স্বরূপ ইফতারের পূর্বে দোয়াটি পাঠ করা যাবে ইন শা আল্লাহ।


🔰 আর ইফতার করা শেষে আমাদের নবী করীম সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত দু'আটি পাঠ করতেন, তাই সুন্নত আদায়ার্থে আমাদেরও উচিত দোয়াটি পাঠ করা।


ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ. 


উচ্চারণঃ- “যাহাবায যমা-উ ওয়াবতাল্লাতিল 'ঊরুক্বু ওয়া ছাবাতাল আজরু ইং শা- আল্ল-হ”।


অর্থঃ- পিপাসা দূর হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল আর আল্লাহ তা'য়ালা চান তো রোযার সওয়াব লিপিবদ্ধ হল। [আবু দাউদ- ২৩৫৭]



নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...