# ***দুর্লভ ডেলেশিয়া***
![]() |
বেশ কয়েক বছর প্রথম দেখার সময় মনে হয়েছিল রঙ্গন ফুলের কোনো প্রজাতি। পরে ভুল ভাঙে। খ্যাতিমান প্রকৃতিবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার ‘ফুলগুলি যেন কথা’ গ্রন্থে গাছটির পরিচিতি দিয়েছেন রনডেলেশিয়া নামে। কোনো বাংলা নাম নেই।
বৈজ্ঞানিক নাম Rondeletia odorata রমনা পার্কে অশোককুঞ্জের উত্তর পাশ লাগোয়া কয়েকটি রঙ্গনের পাশেই ছিল গাছটি। প্রায় বছরজুড়ে ফোটা এবং মনকাড়া রঙের জন্য যেকোনো উদ্যানের জন্যই উপযোগী। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে সেদিন পার্কে গাছটিকে হতশ্রী দেখাচ্ছিল। চারদিক থেকে ছেঁকে ধরেছিল আগাছা ও বুনোলতা।
সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল গাছটি বিপন্ন। কয়েক বছর পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। হারিয়ে গেল দুষ্প্রাপ্য এই গাছটি। শুনেছি, রমনা পার্ক কর্তৃপক্ষ গাছটির মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই জানত না।
এমনকি সেখানে যে এমন একটি দুর্লভ গাছ ছিল তা-ও জানা ছিল না তাদের। এমনও হতে পারে, জানা থাকলেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি!
বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছুটা স্পর্শকাতর বলেই রনডেলেশিয়ার তেমন বিস্তার ঘটেনি। জানা মতে মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ও নিউ বেইলি রোডের ডাক বিভাগের আবাসিক ভবনগুলোর একটিতে রনডেলেশিয়াগাছ আছে। তা ছাড়া কারো ব্যক্তিগত বাগানেও থাকতে পারে।
রনডেলেশিয়ার বিভিন্ন প্রজাতি দুই আমেরিকা মহাদেশের নিরক্ষীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়।
Rondeletia odorata-র আদি নিবাস কিউবা। এটি পানামার সুগন্ধি গোলাপ নামেও পরিচিত। এরা চিরসবুজ গুল্ম। জার্মান প্রকৃতিবিদ ও অভিযাত্রী আলেক্সান্ডার ফন হামবল্ড এবং ফরাসি অভিযাত্রী ও উদ্ভিদবিদ এমে জাক আলেক্সাঁদ্রে বোঁপ্লঁ প্রথম মেক্সিকো থেকে এই গাছটি সংগ্রহ করেন। তাঁদের যৌথ অভিযাত্রার বিবরণ সংবলিত
Nova genera et Species Plantarum গ্রন্থের চতুর্থ সংস্করণে এই গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম সংযুক্ত করা হয়। বইটি ঊনবিংশ শতকের প্রথম দিকে প্রকাশিত হয়। রনডেলেশিয়া নামটি ফরাসি প্রকৃতিবিদ গিয়োম রঁদেলেত থেকে এসেছে।
রনডেলেশিয়াগাছ গড়নের দিক থেকে লম্বাটে স্বভাবের। সাধারণত এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা বিপরীত, ডিম্বাকৃতি, উপবৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার-আয়তাকার, চার থেকে ছয় সেমি লম্বা, উপরের পিঠ রোমশ। মঞ্জরি-ঢাকনা সংকীর্ণভাবে ত্রিভুজাকার থেকে ডিম্বাকৃতি বা উপবৃত্তাকার। ফুলগুলো শাখা-প্রান্তে ছোট ছোট থোকায় ফোটে। সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফুল ধরে, যা দেখতে অনেকটা রঙ্গনের মতো। রঙ উজ্জ্বল কমলা-লাল। পাপড়ির আগা ভোঁতা, প্রায় গোলাকার। ফলপড গোলাকার থেকে অবনমিত গোলাকার। বংশবৃদ্ধি হয় দাবাকলমে।
Source: BDNEWS24

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন