এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---


পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না।


নাটোরের মহারানী ভবানী ও নড়াইলের জমিদার। তার নাতনির জন্য শুরু হল "পরীর খাট"তৈরির কাজ।একটানা কাজ করছে কাঠ মিস্ত্রি যে করেই হোক তৈরি করতেই হবেই পরীর খাট,কাজ শেষ হবার কোন লক্ষণ রানী ভবানী দেখতে পেল না,মনে হলো তাজমহল তৈরি হচ্ছে।শুধু টুকটাক হাতুড়ির শব্দ শোনা ছাড়া কিছুই নজরে এলো না।টানা আটটি বছর ধরে খাটের কাজ চললো ত্রিশজন মিস্ত্রি এই কাজ করলো।এক সময় রানীকে দেখানো হলো পরীর খাট।লক্ষণীয় হলো চারটি পরীর একই চেহারা,উচ্চতা,হাতের মাপ,পায়রে মাপ একই।

একটি কে সরিয়ে অন্যটি দেখলে একটাই মনে হবে।কি নিখুঁত কোকড়ানো চুলের বাহার,হাতের পিছনে পরীর পাখা,চোখের পাতা,হাতের নখ,

পায়ের নখ,হাতে গাদা ফুল,কাপড়ের ডিজাইন 

দেখলে মনে হবে বর্তমান সময়ের আধুনিক ডিজাইনাররা এই পোষাকের ডিজাইন করেছে,

একেবারেই আধুনিকতায় ভরপুর,অসাধারণ

এক শিল্পকর্ম এটি,খাটটি জুড়ে দিলে কোন জোড়া খুঁজে পাওয়া মুশকিল,চারটি পরী হলো খাটের পায়া রানী ভবানীর পছন্দ হলো।সে নাতনীকে খাটটি উপহার দিল। কিংবদন্তি আছে ঐ মিস্ত্রিদের নাকি হাত কেটে ফেলেছিল যাতে করে আর এই ধরনের খাট তৈরি করতে না পারে,এই ঘটনা কতটুকু সত্য জানি না,এর কোন সাক্ষী তো আর বেঁচে নেই!!!

এই খাটটি রানী ভবানীর ইচ্ছেতেই নাতির জন্য তৈরি করা হয়েছিল।রানী ভবানী চলে যায় দত্তক পুত্র রামকৃষ্ণের কাছে জমিদারি অর্পণ করে মুর্শিদাবাদ একমাত্র মেয়ের কাছে।ওয়ারেন হেস্টিংস জোর পূর্বক সকল সম্পদ জমিদারি কেড়ে নেন।


সুচতুর বুদ্ধিমান নড়াইলের জমিদার কালীশঙ্কর লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হওয়ার ফলে নাটোরের বিশাল জমিদারি বাকী খাজনার দায়ে নিলামে বিক্রয় হতে থাকলে, কালীশঙ্কর সুকৌশলে নাটোরের বিশাল তালুক ও মহাল নিলামে ক্রয় করে পিতার ক্ষুদ্র জমিদারি বৃদ্ধি করেন।


এক বিশাল রাজবাড়ি নির্মাণ করেন।রানী ভবানীর সম্পত্তি নিলামে কিনতে কিনতে কোন এক সুযোগে এই পরীর খাটটি কালীশঙ্কর নড়াইল তার রাজবাড়িতে নিয়ে আসেন।

নড়াইলের কালীশঙ্করের জমিদারির প্রধান পন্ডিত ছিলেন শশিভূষন স্মৃতি রত্নের পুত্র বামন দাস বিদ্যাসাগর।আমি আগেই আপনাদের জানিয়েছিনড়াইলের জমিদারগন শিক্ষানুরাগী ছিলেন,সে কারনের তৎকলীন বামন দাস বিদ্যাসাগরের মতো জ্ঞানি ব্যক্তিকে প্রধান পন্ডিত করেছিলেন।ভারতবর্ষের জমিদারি যখন ব্রিটিশ সরকার বিলুপ্ত করে তখন এই 'পরীর খাট'নড়াইলের জমিদার কালীশঙ্কর নাকি তার প্রধান পণ্ডিত বামন দাস বিদ্যাসাগরকে দান করে ছিলেন।সেই দান করা খাটটি বামন দাস বিদ্যাসাগরের তৃতীয় পুত্র লক্ষী নারায়ণ ভট্টাচার্য নড়াইল জমিদার বাড়ি থেকে ইতনা নিয়ে আসে,ইতনা বামন দাস বিদ্যাসাগরের  নিজেদের বাড়ি বর্তমান ফাতেমা ম্যানসনে।কিন্তু দুঃখের বিষয় তারা খাটটি সেটিং করতে পারলেন না।এই সেটিংনা করার ব্যাপারটি এরকম যখন নাটোরের মহারানী ভবানীর ওখান থেকে খাটটি আনা হয় তখন এর প্রতিটি সংযোগ স্থলের নাট, বোল্ড সে কাঠের হোক আর লোহার হোক হারিয়ে যায়।সে কারনে নড়াইলের জমিদার এবং বামন দাস বিদ্যাসাগরের পুত্র লক্ষী নারায়ণ ভট্টাচার্য এই খাটে ঘুমাতে পারেননি।১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে।

আশির দশকে এক সাংবাদিক নড়াইল ইতনা ঘুরতে এসে এই খাট দেখে তখন পত্রিকায় নিউজ করলে,,

সরকারি উচ্চ মহলের প্রচেষ্টায় খাটটি সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে রাখা হয়। যা জনসাধারণের দেখার জন্য এখনো সেখানে সংরক্ষিত আছে--

লেখা চিত্রকর আজগর আলী সহযোগিতায়।

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...