এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪

মাজরা_পোকা,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 #মাজরা_পোকা  

তিন ধরনের মাজরা পোকা বাংলাদেশের ধান ফসলের ক্ষতি করে। যেমন- হলুদ মাজরা , কালো মাথা মাজরা এবং গোলাপী মাজরা । ক্ষতিকর মাজরা পোকামাকড় দমনে #এসিমিক্স ৫৫ ই সি (AC Mix 55 EC) এবং ধানের মাজরা পোকা ও কাটুই পোকা দমনে কার্যকরী মিশ্র কীটনাশক  #এসিপ্রিডপ্লাস ৯৫ এস পি কারটাপ ৯২% + এসিটামিপ্রিড ৩%  Aciprid Plus 95 SP.

 : এ সি আই ক্রপ কেয়ার লিমিটেড :



আপনার বাগানের গাছের পাতা কুকড়ে যায়?,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌱🌱 আপনার বাগানের গাছের পাতা কুকড়ে যায়??🍃🍃


অনেকেই মরিচ,টমেটো, শিম, বরবটি পেপে বা অন্যান্য গাছের পাতা কোকড়ানো এর

জন্য কাংখিত ফলন পান না তাদের জন্য কার্যকরী কীটনাশক। ১০০% পরীক্ষিত।


মূলত মাছি পোকা ও মাকড়ের আক্রমণ হলে এমন হয়।


👉👉 যেভাবে দমন করবেনঃ-


আক্রমণ রোধে রিপকর্ড বা ইমিডাক্লোপিড গ্রুপের কীটনাশক ইমিটাফ

এবামেক্টিন গ্রুপের কীটনাশক ভারটিমেক ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায় ।


✅ ব্যবহারবিধিঃ ১ লিটার পানিতে ইমিটাফ. ০.৫ মিলি ও ভারটিমেক ১ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করে দিবেন পাতার উপর,নিচ সব গাছে বিকালে ।


👉 ৭ দিন পর আরেকবার স্প্রে করে দিবেন।

এর পর প্রতি ১৫ দিন পর পর নিয়মিত স্প্রে করে দিবেন। তাইলে আর কোকড়াবে না।


✅ তবে খেয়াল রাখতে হবে যে যদি গাছের গোড়ায় পানি থাকে অথবা গোঁড়া যদি ভিজা থাকে তাহলে অবশ্যই গাছের গোড়া খোঁচা অথবা আলগা করে দিয়ে মাটির রোদে শুকায় নিতে হবে। টপের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অবলম্বন করলে আশা করি ভালো ফলন পাবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই অবস্থায় গাছে বেশি নাইট্রোজেন ব্যবহার করা যাবে না তাহলে গাছের ফুল এবং ফল দুইটাই ঝরে যাবে।


সাধনা ঔষাধালয়,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ॥ সাধনা ঔষধালয় - একটি অনন্য ব্যতিক্রমী বাঙালি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ॥

#সাধনাঔষধালয়, ঢাকা। আজকের দিনে বড় বেমানান এই প্রতিষ্ঠান।

দোকান বন্ধ। অথচ কর্মচারীদের এখনও বসিয়ে বসিয়ে মাহিনা দেয়। সারা ভারতবর্ষে তথা বর্তমান বাংলাদেশে এটি একটি বিরল ঘটনা।

আজ ফিরে দেখা সেই ইতিহাস।

১৯০৫ সাল বঙ্গভঙ্গ।

চারিদিকে তখন স্বদেশি আন্দোলনের জোয়ার।

বিদেশি পণ্য বয়কট কর।

দেশীয় শিল্প গড়ে তুলতে নেমে পড়লেন একদল উদ্যোগী বাঙালি যুবক। নেতৃত্বে বিশ্ববিখ্যাত বাঙালী বৈজ্ঞানিক আচার্য #প্রফুল্লচন্দ্ররায় 

একের পর এক দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল।

এইচ বোসের কলের গান, কেশতেল, দেলখোশ সুবাস, সি কে সেনের জবাকুসুম, বেঙ্গল পটারি,বেঙ্গল গ্লাস ফ্যাক্টরি, পি এম বাকচির কালি, সুগন্ধি, মোহিনী মিলের কাপড়ের কারখানা,সেন রেলের সাইকেল কারখানা এবং স্বয়ং আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যাল আরো কত শিল্প।

আর এই পথ ধরে এক বাঙালি যুবক গড়ে তুললেন সাধনা ঔষধালয়। 

নাম তার যোগেশচন্দ্র ঘোষ।

সেই আমলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের এম এ।

ভাগলপুরে অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মাস্টারমশাই আচার্য পি সি রায়ের অনুপ্রেরণায় গড়ে তুললেন আয়ুর্বেদ ঔষধের কারখানা।

তার নাম হল সাধনা ঔষধালয় ঢাকা।

অচিরেই এই প্রতিষ্ঠানের নাম সারাভারতে ছড়িয়ে পড়ল।

সুভাসচন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই প্রতিষ্ঠানের ওষুধ ব্যবহার করতেন।

১৯২৪ সালে নেতাজী সুভাষচন্দ্র নিজে এলেন ঢাকায়, পরিদর্শণ করে গেলেন সাধনা ঔষধালয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জ্বর হলেই এই প্রতিষ্ঠানের ওষুধ খেতেন।

সেইসময় প্রায় চারশোর বেশি শাখা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল।

পণ্য রফতানি হত আমেরিকা, চীন, ইরাক, ইরান, আফ্রিকার দেশে।

এবার এল সেই দিন! ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

যোগেশচন্দ্র পরিবারের সকলকে কলকাতায় পাঠিয়ে দিলেন।

শত বলা সত্বেও বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেন না।

বললেন, মরলে এখানেই মরবো।

তবু এদেশ ছেড়ে কোথাও যাবো না।

ফলে যা হবার হল।

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস।

সশস্ত্র খান সেনেরা কারখানায় এলো।

গুলি করে খুন করল যোগেশচন্দ্র ঘোষকে।🙂

তবু ফ্যাক্টরি বন্ধ হল না।

কারণ সাধনা ঔষধালয়ের প্রডাক্টের তখনও প্রবল চাহিদা। 

একশো তিরিশটা দোকান চলছে ভারতে।

কলকাতায় তিরিশটা শাখা।

দাক্ষারিস্ট,চ্যবনপ্রাশ, সারিবাদি সালসা, জ্বরের ওষুধ,বিউটি ক্রিম আরো কত প্রডাক্টের তখনও হেভি ডিমান্ড।

৮০ সাল পর্যন্ত কোম্পানি চার কোটি টাকা লাভ করেছে।

তারপর ২০০৮ থেকে ২০১২ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় আধুনিকীকরণের অভাবে।

অনেক দোকান তবু খোলা ছিল।

কিন্তু যোগেশচন্দ্রের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়া বন্ধ হল না।

তাদের চলবে কিভাবে?

সারা ভারতবর্ষে এই ঘটনা এক বিরল দৃষ্টান্ত।

যেখানে মালিকরা শ্রমিক কর্মচারীদের পি এফ, গ্র্যাচুয়াটির টাকা মেরে দেয় সেখানে যোগেশচন্দ্ররা ব্যতিক্রম তো বটেই।

সব মালিক যদি এরকম হত!

এই কোম্পানির জীবিত একমাত্র বংশধর হলেন শীলা ম্যাডাম।

তিনিই উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমানে কোম্পানির মালিক।

তিনি বিবাহ করেননি।

তিনি আধ্যাত্মিকতা নিয়ে থাকেন।

এই কোম্পানির বর্তমানে কিছু দোকান এখনও খোলা আছে।

অনেক ওষুধই নেই।

বিক্রি একরকম নেই।

কর্মচারীরা বলেন আজকের দিনে ৩৪ টাকা কিংবা ৫৫ টাকায় কোন ওষুধ পাওয়া যায়?

দাম বাড়ানো দরকার।

কিন্তু শীলা ম্যাডাম অনড়।

তিনি বলেন অল্প লাভ রেখে গরীব মানুষের পাশে একটু দাঁড়ালে ক্ষতি কি?

অত টাকা করে কী লাভ?

যতদিন পারে চলুক।

তবু টিমটিম করে জ্বলছে শতবর্ষের বেশি প্রাচীন সাধনা ঔষধালয়।

এখনও কলকাতা ও রাজ্যের বুকে দু'একটা রঙচটা সাধনা ঔষধালয়ের বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে, শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে যার একটি আজও বিদ্যমান।

" সাধনা ঔষধালয়, ঢাকা" একটি আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠান।

কালের নিয়মে একদিন হারিয়ে যাবে এই প্রতিষ্ঠান।

শুধু জেগে থাকবে এক দেশপ্রেমিক বাঙালির স্বপ্ন,

"সাধনা ঔষধালয়।"

শ্রদ্ধা ছাড়া আর কিবা জানাতে পারি আপনাকে শ্রদ্ধেয় #যোগেশচন্দ্রঘোষ মহাশয়।

তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকার নিবন্ধ।

NG Banerjee এর ওয়াল থেকে



রেসিপি সমাহার - ১১

 রেসিপি সমাহার - ১১

১.  লেবুর শরবত 


উপকরণঃ


১টি মিডিয়াম লেবু

৩ টেবিল চামচ পুদিনা পাতা

এক চিমটি লবণ

৪ টেবিল চামচ চিনি 

২ গ্লাস ঠান্ডা পানি

কয়েক টুকরো বরফ কিউব।


প্রস্তুত প্রণালিঃ


*পুদিনা পাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। 


*লেবুর রস ও অন্যান্য সকল উপকরণ (বরফ ছাড়া) ব্লেন্ডারে নিয়ে ব্লেন্ড করুন। তারপর ছেঁকে নিন। 


*এখন বরফ কিউব দিয়ে ও পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন পুদিনা লেবুর শরবত।


২. পুদিনা আমের শরবত 


উপকরণঃ


২-৩টি কাঁচা আম

কয়েকটি পুদিনা পাতা

চিনি ও লবণ স্বাদমতো

১টি কাঁচা মরিচ

১ লিটার পানি।


প্রণালীঃ


*কাঁচা আম খোসা ছাড়িয়ে টুকরো টুকরো করে নিন। 


*এবার সবগুলো উপকরণ মিশিয়ে প্রায় ১০ মিনিটের মতো রেখে দিন মিশ্রণটি। 


*তারপর ব্লেন্ডারে হালকা পানি দিয়ে মিশ্রণটি ব্লেন্ড করুন। 


*এরপর ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখুন এবং তারপর পরিবেশন করুন।


৩.গাজরের শরবত 


উপকরণঃ


গাজরের রস ৫০০ গ্রাম

২ গ্রাম বাসিল

৩ গ্রাম আদা

১ টেবিল চামচ লেবুর রস

লবণ স্বাদমতো।


প্রস্তুত প্রণালিঃ


*সকল উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ড করুন। 


*তারপর ছেঁকে নিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। 


*এবার গাজরকে স্লাইস করে কেটে সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গাজরের শরবত।


৪. খেজুর-বাদামের শরবত


উপকরণঃ


নরম খেজুর আধা কাপ

বাদামকুচি আধা কাপ

ঘন দুধ ২ কাপ

চিনি পরিমাণমতো

কিশমিশ ২ চা চামচ

পানি পরিমাণমতো।


প্রণালিঃ


*খেজুর ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর খেজুরের বিচি ফেলে টুকরা করে নিন। টুকরোগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন কিছু সময়। 


*এবার সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। 


*পরিবেশনের সময় বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।


৫. টক দইয়ের শরবত


উপকরনঃ


টক দই ১ কাপ

পুদিনা পাতা কয়েকটি 

কাঁচামরিচ কুচি ১টি

ঠান্ডা পানি পরিমাণমতো

চিনি ২ টেবিল চামচ

বরফ কুচি প্রয়োজনমতো 

লবণ স্বাদমতো।


প্রস্তুত প্রণালিঃ


*প্রথমে একটি ব্লেন্ডারে টক দই, ঠান্ডা পানি, বরফ কুচি, পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ কুচি, চিনি ও লবণ একসঙ্গে নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। 


*এবার গ্লাসে ঢেলে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। 


*পরিবেশনের আগে গ্লাসের ওপর সামান্য বরফ কুচি ছড়িয়ে দিন। ব্যস, খুব সহজেই তৈরি হয়ে গেল ঠান্ডা ঠান্ডা টক দইয়ের শরবত।


৬. টক দইয়ের মিষ্টি শরবত 


উপকরনঃ


টক  দই ১ কাপ

গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ

লবণ ১/২ চা চামচ

চিনি ১/২ কাপ

পানি পরিমাণমতো

বরফের টুকরা পরিমাণমতো।

 

প্রনালীঃ


*ব্লেন্ডারে বরফ ছাড়া বাকি সব উপকরণ একে একে ঢেলে নিন। এবার ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। 


*এরপর পরিবেশন গ্লাসে ঢেলে নিন। 


*উপরে বরফ কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন। এতে শরবত খেতে আরও বেশি সুস্বাদু লাগবে।


৭. শরবত-ই মোহাব্বত 


উপকরনঃ


তরমুজের রস আধা কাপ

দুধ ২ কাপ

সুগার সিরাপ স্বাদমতো অথবা ১/২ কাপ চিনি 

বরফ পরিমাণমতো

তরমুজের টুকরা পরিমাণমতো

রুহ আফজা সামান্য।


প্রণালীঃ


*একটি পাত্রে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নেওয়া ২ কাপ দুধ নিন। 


*এবার তার সঙ্গে মেশান স্বাদমতো চিনি অথবা সুগার সিরাপ। দিয়ে দিন পরিমাণমতো বরফের টুকরা। 


*এরপর তরমুজের ফালি থেকে ছোট ছোট টুকরা করে শরবতে দিয়ে দিন। 


*এরপর তাতে মেশান সামান্য রুহ আফজা। এতে শরবতের ঘ্রাণ আরও সুন্দর হবে। এবার গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।



রোজা রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কোনো আরবীতে নিয়ত করার কথা কুরআন হাদীসে বর্ণিত নেই।,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⭕ রোজা রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কোনো আরবীতে নিয়ত করার কথা কুরআন হাদীসে বর্ণিত নেই। নিয়ত হচ্ছে অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত, মুখে উচ্চারণের সাথে নিয়তের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং সাহরী খেয়ে মনে মনে স্মরণ করতে হবে যে, “আমি আজকে রোজা রাখার নিয়ত করলাম অথবা রোজা রাখলাম।” [সহীহ বুখারী- ১/২]


🔰 তারাবীর নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রেও আরবীতে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ত নেই। নিয়তের ক্ষেত্রে মনে মনে স্মরণ করতে হবে, “আমি ২ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম”। এভাবে ২ রাকাত করে সর্বমোট ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।


⭕ কোনো কোনো মসজিদে তারাবীর নামাজের চার রাকাত পর পর “সুবহানা যিল মুলকি...” দোয়াটি পাঠ করা হয়, এই দোয়াটি পাঠ করার ব্যাপারেও কুরআন হাদীসে কোনো প্রকার দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় না। তাই চার রাকাত পর পর এই দোয়াটি পাঠ করার প্রয়োজন নেই।


🔰 তারাবীর নামাজ সম্পূর্ণ শেষ করে মোনাজাতে যেই দোয়াটি পাঠ করা হয় সেই দোয়াটি পাঠ করার ব্যাপারেও কুরআন হাদীসে কোনো প্রকার দিক নির্দেশনা পাওয়া যায় না। তবে দোয়াটির অর্থ যেহেতু সুন্দর। তাই তারাবীর নামাজ শেষে কেউ চাইলে দোয়াটি পাঠ করে দোয়া করতে পারবে, আবার কেউ চাইলে নিজের মতো করেও দোয়া করতে পারবে ইন শা আল্লাহ, এতে কোনো সমস্যা নেই।


⭕ ইফতার শুরু করার পূর্বে “আল্ল-হুম্মা লাকা ছুমতু... হিসেবে যেই দোয়াটি পাঠ করা হয়, এর ফজিলতটিও একটি দূর্বল হাদীস দ্বারা প্রমানিত। তবে ফজিলতের ক্ষেত্রে যেহেতু দূর্বল হাদীসের উপর আমল করা বৈধ তথা জায়েজ, সেহেতু শুকরিয়া আদায়স্বরূপ ইফতারের পূর্বে দোয়াটি পাঠ করা যাবে ইন শা আল্লাহ।


🔰 আর ইফতার করা শেষে আমাদের নবী করীম সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত দু'আটি পাঠ করতেন, তাই সুন্নত আদায়ার্থে আমাদেরও উচিত দোয়াটি পাঠ করা।


ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ. 


উচ্চারণঃ- “যাহাবায যমা-উ ওয়াবতাল্লাতিল 'ঊরুক্বু ওয়া ছাবাতাল আজরু ইং শা- আল্ল-হ”।


অর্থঃ- পিপাসা দূর হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল আর আল্লাহ তা'য়ালা চান তো রোযার সওয়াব লিপিবদ্ধ হল। [আবু দাউদ- ২৩৫৭]



তারাবীর নামাজ ২০ রাকাত আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🔲 তারাবীর নামাজ ২০ রাকাত আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসূল সল্লল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করেছেন। সুতরাং বিনা কারনে ইচ্ছাকৃতভাবে অলসতার ধরুন তারাবীর নামাজ ত্যাগ করা জায়েজ নেই, এতে সুন্নত তরক করার কারনে গুনাহ হবে। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাঈবা- ৭৭৭৪]


🔸 হাদীসে পাকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদানের ভিতরে এবং বাহিরে (রাত্রিবেলায়) সর্বমোট ১১ রাকাত নামাজ আদায় করতেন। আর সেটি হচ্ছে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকাত বেতের। [সহীহ বুখারী- ৩৫৬৯]


⭕ উপরোক্ত হাদীসে রমাদানের “ভিতরে এবং বাহিরে” শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। তাহলে রমাদানের বাহিরে যেটা তাহাজ্জুদ, সেটা রমাদানের ভিতরে তারাবী হয় কিভাবে..?? আমাদের দেশের আহলে হাদীস ভাইয়েরা এখানে এসে হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন, আর তাহাজ্জুদের হাদীসকে তারাবীর হাদীস বলে প্রচার করে দেন.!!


🔹 এতে মানুষ ভুল জেনে কম আমল করে আর বেশি সওয়াব অর্জন করার ফজিলত থেকে বঞ্চিত হয়.!! তাই এই ব্যাপারে খুব বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা চাই। তারাবীর নামাজ ২০ রাকাত আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা যেটা কিনা ১০০ এরও অধিক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত.!


🔲 আর রমাদান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ১০-৭০০ গুনের চেয়েও বেশি পরিমান বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই রমাদান মাসে আমলের ব্যাপারে কোনো প্রকার অলসতা, অবহেলা কিংবা গাফলতি করা যাবে না।


🔸 সুতরাং তারাবীর নামাজ ২ রাকাত করে সর্বমোট ২০ রাকাত আদায় করতে হবে। তবে অসুস্থতার ধরুন কারো পক্ষে যদি ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে সে সাধ্য মোতাবেক ৪/৮/১০/১২...২০ রাকাত নামাজ আদায় করতে পারবে।


 ⭕ মৌখিকভাবে আরবীতে কোনো প্রকার নিয়ত করার কথা কুরআন হাদীসে বর্ণিত নেই। কারন নিয়ত অন্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট, মুখের সাথে নয়। তাই নিয়ত করার ক্ষেত্রে মনে মনে স্মরণ করতে হবে, আমি ২ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম, আল্ল-হু আকবার..।


🔹 তারাবীর নামাজের ২ অথবা ৪ রাকাত পর পর কিংবা একেবারে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা শেষে দোয়া করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, নিজের মতো করে যে কোনো প্রকার দোয়া করা যাবে ইন শা আল্লাহ ✅


🔲 এশার ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নত এবং ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করে সর্বশেষ ৩ রাকাত বেতের নামাজ আদায় করতে হবে। তবে নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায়ের অভ্যাস থেকে থাকলে শেষ রাত্রিতে তাহাজ্জুদ আদায় করে এরপরে বেতের নামাজ আদায় করতে হবে।



তারাবীহ নামাযের দোয়া, মোনাজাত ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 চার রাকআত তারাবীহ নামাযের পর দোয়া

------------------------------------------------------------

প্রতি চারি রাকআত শেষে বসে নিম্নের দোআটি পড়া যায়। না পড়লেও দোষের কিছু নেই; বরং পড়তেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ঠিক হবে না।


سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح


উচ্চারণ : সোবহানা যিলমূলকি ওয়াল মালাকুতি, সোবহানাযিল ইয্যাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল জাবারূতি, সোবহানাল্ মালিকিল হাইয়্যিল্লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামৃতু আবাদান আবাদান, সুবৃহুন কুদ্দসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররূহ।


প্রতি চার রাকআত শেষে উল্লেখিত দোআ পড়ার পর কোন প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়া নিম্নের মোনাজাত করা যায়। বিশ রাকআত শেষে একত্রেও করা যায়। না করলেও দোষের কিছু নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন জামাআতে উপস্থিত লোকজনের কষ্ট না হয়।


তারাবীহ নামাযের মোনাজাত:


اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ - اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ


উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল্ জান্নাতা ওয়া নাউযু বিকা মিনান নারি, ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়াননারি, বিরাহমাতিকা ইয়া আযীযু ইয়া গাফ্ফারু ইয়া কারীমু ইয়া সাত্তারু ইয়া রাহীমু ইয়া জাব্বারু ইয়া খালিকু ইয়া বা বৃরু, আল্লাহুম্মা অজিরনা মিনান্নারি ইয়া মুজীরু ইয়া মুজীরু ইয়া মুজীরু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রা হিমীন।


অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ্! আমরা তোমার নিকট বেহেশত প্রার্থনা করি এবং দোযখ হইতে তোমার আশ্রয় চাহিতেছি। হে বেহেস্ত ও দোযখের সৃষ্টিকর্তা! তোমারই কৃপা দ্বারা, হে সর্বজয়ী। হে অতি ক্ষমাশীল! হে মহান দয়ালু! হে বৃহৎ' দোষ-আচ্ছাদনকারী! হে কৃপাময়! হে মহৎ শক্তিধর! হে মহান সৃষ্টিকর্তা! হে উপকারী! হে আল্লাহ্! আমাদিগকে দোযখ হইতে রক্ষা কর। হে মুক্তিদাতা! হে ত্রাণকর্তা! হে রক্ষাকারী! হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। তোমারই আপন অনুগ্রহে আমাদিগকে জাহান্নামের আগুন হইতে রক্ষা কর।


✓ তারাবীহ নামাযের দোআ ও মুনাজাত জানা না থাকলে করণীয়:


এ দোয়া কোন ছহীহ্ হাদীসে উল্লেখ নেই। আবার এমন কিছু লোক আছে, যারা এই দোয়া না জানার কারণে তারাবীহর নামাযই আদায় করে না। এ সকল লোকদেরকে বুঝিয়ে দেয়া দরকার যে, এ দোয়া পাঠ না করলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না। নামায হয়ে যাবে। যদি পারে তাহলে শুধু: سُبْحَانَ الله وبحمده . سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ "সুবহানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লা-হিল আযীম" পাঠ করবে। কিছু পাঠ না করে চুপ করে বসে থাকলেও নামাযের কোন ক্ষতি নেই। প্রতি চার রাক'আত পর মুনাজাত করা দুরস্ত আছে, কিন্তু বিশ রাক'আতের পর বেতর নামাযের পূর্বে মুনাজাত করাই উত্তম।



গিরিশ চন্দ্র সেন বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফের অনুবাদক নয়।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 একটি_ভুল_প্রচারের_নিরসনঃ-


গিরিশ চন্দ্র সেন বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফের অনুবাদক নয়। 

_______________

সর্বপ্রথম ১৮০৮ সালে বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া।


এরপর বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন মৌলভী নাঈমুদ্দীন ১৮৩৬ সালে।


গিরিশ চন্দ্র সেন শুধু উক্ত অনুবাদকে পুস্তক আকারে সন্নিবেশ করেছেন, গিরিশ চন্দ্র হচ্ছেন প্রকাশক। তাও অনেক পরে, ১৮৮৬ সালে।


সুতরাং কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র নন, বরং মৌলভী নাঈমুদ্দীনই পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক।


আর মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া হলেন বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন মাজীদের আংশিক অনুবাদক।


গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্ম ১৮৩৫ সালে এবং মৃত্যু ১৯১০ সালে। গিরিশ চন্দ্রের জন্মেরও আগে অর্থাৎ ১৮০৮ সালে কুরআন মাজীদের বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু করেন মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া।


এরপর গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্মের একবছর পরই অর্থাৎ ১৮৩৬ সনে মৌলভী নাঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজীদের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন।


আরবি জানেন না, আরবি ব্যাকরণ জানেন না-

এমন ব্যাক্তি কুরআন অনুবাদ করেছে এমন প্রচার মুর্খতা।


বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে যে, ভাই গিরীশ চন্দ্র সেন আল কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক। এ প্রচারণার কিছু কারণ ছিল। বৃটিশ আমলে এদেশে ব্রাহ্মধর্মের একটা জোয়ার এসেছিল।


গোঁড়া হিন্দু  গিরীশ চন্দ্র সেন এক সময় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। ব্রাহ্মধর্ম এ দেশে ছিল একটি নতুন ধর্মমত।


তাই এ ধর্মমত আপামর জনসাধারণের মধ্যে প্রচারের জন্য গিরীশ চন্দ্র নিজে উদ্যোগী হলেন।


কিন্তু অর্থকড়ির তো প্রয়োজন। সেটা আসবে কোথা থেকে! তিনি ফারসী ভাষায় পন্ডিত ছিলেন।


 মুসলমানদের পকেট থেকে টাকা বের করার জন্য বেশকিছু ইসলামী বই রচনা করলেন এবং সেই সাথে পবিত্র আল কুরআনের প্রকাশ করলেন প্রকাশক হয়ে। মুসলমানরা এ বই কিনলোও প্রচুর। ফলে বাংলা ভাষাভাষী যারাই কুরআন মাজীদের বঙ্গানুবাদ হাতে পেতে চাইলো তাদের হাতে পৌঁছে গেল তার প্রকাশিত কুরআন মাজীদ।


এ ব্যাপারে তাঁকে ব্রাহ্মসমাজ হিন্দু ব্যক্তিবর্গ এমন কি বৃটিশরাও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। ফলে মানুষ মনে করেছে পবিত্র কুরআন মাজীদের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী হচ্ছেন গিরীশ চন্দ্র সেন।


 আসলে পবিত্র কুরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী যে মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন সে কথা অল্প কিছু লোক জানলেও ব্যাপকভাবে প্রচার করার সুযোগ আসেনি।


গিরীশ চন্দ্র কুরআনের অনুবাদ বিক্রি  করে যে অর্থ লাভ করতেন তা ব্যয় করতেন ব্রাহ্মধর্ম প্রচার কাজে। ফলে ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের মিশনের সাথে কুরআন বিক্রয়ের একটা গভীর সম্পর্ক ছিল।


মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন ছিলেন একজন মুসলমান। তিনি স্বত:প্রণোদিত হয়ে আল কুরআনের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। তা প্রচারের জন্য গিরীশ চন্দ্র সেনের মতো কোনো মিশন ছিল না। যার কারণে তার প্রচার প্রসার ছিল সীমিত।


এমনি করেই আল কুরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদকারী হয়েও মৌলভী মোহাম্মদ নঈমউদ্দীন গিরীশ চন্দ্র সেনের মতো প্রচার পেতে পারেন নি॥ 


[ যত পরিমানে সম্ভব পোস্টটি শেয়ার করুন অনেকেই ভুলের মধ্যে ডুবে আছে তাদের কে জানার সুযোগ করে দিন]


তথ্যসুত্রঃ

ইন্টারনেট ও অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন মিডিয়া।


#দৈনিক_সংগ্রামঃ ২১ শে জুলাই,২০১৮.


#দৈনিক_ঢাকা পোস্টঃ ৭ই সেপ্টেম্বর,২০১৮.


#জিব্রাইলের_ডানাঃ ১লা মার্চ,২০০৯.


#বিডি_আল_কোরআনঃ ৪ঠা এপ্রিল,২০১৩.

#সাইবার_মোজাহিদঃ  জানুয়ারি,২০১৮.


#মাসিক_মদিনাঃ আগস্ট,২০০৪.

প্রশ্নোত্তর পর্ব,পৃষ্ঠাঃ ৪৭.



রবিবার, ১০ মার্চ, ২০২৪

বাগান করতে গেলে প্রয়োজন বিভিন্ন গাছের প্রয়োজনীয় উপাদান তারই মধ্যে কিছু উপাদান এর লিস্ট দেওয়া হলো:-,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আসসালামু আলাইকুম 


বাগান করতে গেলে প্রয়োজন বিভিন্ন গাছের প্রয়োজনীয় উপাদান তারই মধ্যে কিছু উপাদান এর লিস্ট দেওয়া হলো:-


১/  #সাফ --

    ♈♈২০ গ্রাম-----১০০ টাকা ( ছত্রাকনাশক )

    ✳️✳️ ১০০ গ্রাম--৩৩০ টাকা ( ছত্রাকনাশক ) 


২/  #বুস্টার

    🔰বুস্টার_২ ---------১০ মিলি---২৮০ টাকা

   

৩/কাকা ৫০ মিলি------- ৪৫০ টাকা 


৩/ #বায়োভিটা এক্স ১০০ মিলি--৪৪০ টাকা 


৪/ #মাইকোরাইজা  ----- ( উপকারী অনুজীব তৈরি করে ) 

       

      * ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-১৫০ টাকা

         * ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-৩৫০ টাকা

         * ( রি-প্যাক ) ৫০০ গ্রাম-৬৫০ টাকা

         * ১ কেজি ইন্টেক প্যাকেট -১,২০০ টাকা 


৫/ #মোবোবিন ১০০ গ্রাম--৪৫০ টাকা (গাছের অনুখাদ্য)


৬/ #কাটিংএইড  ( রুট হরমোন )

         * ১৫ গ্রাম--১৮০ টাকা 

         * ৩০ গ্রাম---২৫০ টাকা

         * ৫০ গ্রাম---৩২০ টাকা। 


৭/ #প্লানোফিক্স ১০০ মিলি---------------৩৫০ টাকা


৮/ সিংগেল সুপার ফসফেট ( SSP)দানাদার  -১০০ গ্রাম--৯০ টাকা 


            

৯/ চিলেটেড আয়রন ১০০ গ্রাম-------৭০০ টাকা


১০/  🔰🔰🔰 সকল #NPK 🔰🔰🔰 


⚜️⚜️ 19:19:19---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম--------------------- ১০০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ১৮০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৪০০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি--------------- ১,৪৫০ টাকা 


❇️❇️ NPK 20:20:20---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১১০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২০০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৪৫০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি---------------- ১,৫৫০ টাকা 


✴️✴️ NPK 00:00:50---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১৩০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২৪০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৫৫০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি--------------- ১,৬০০ টাকা 


✳️✳️ NPK 12:61:00---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১৪০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২৬০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৫৯০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি--------------- ১,৯০০ টাকা 


〽️〽️ NPK 00:52:34---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১৪০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২৬০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৫৯০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি--------------- ১,৯০০ টাকা 


🔰🔰 NPK 13:40:13---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১৪০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২৬০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৫৯০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি--------------- ১,৯০০ টাকা 


⚕️⚕️ NPK 13:00:45---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১৪০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২৬০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৫৯০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি--------------- ১,৯০০ টাকা 


✳️✳️ NPK 10:26:26---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১১০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২০০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৪৮০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১ কেজি--------------------- ৯০০ টাকা 


♈♈ ক্যালসিয়াম নাইট্রেট ---ইন্ডিয়ান প্রডাক্ট 

* ( রি-প্যাক ) ৫০ গ্রাম---------------------- ১১০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ১০০ গ্রাম-------------------- ২০০ টাকা 

* ( রি-প্যাক ) ২৫০ গ্রাম-------------------- ৪৫০ টাকা 

* ইন্টেক প্যাকেট ১ কেজি---------------- ১,৫০০ টাকা 


🛵🛵🛵🛵 ঢাকা সহ  সারা বাংলাদেশে ক্যাশ অন হোম ডেলিভারি দেয়া হয়  ( স্টীডফাস্ট কুরিয়ার চার্জ প্রযোজ্য  ) , এছাড়া সুন্দরবন কুরিয়ার অফিস ডেলিভারিতে দেওয়া হয়।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড: আতিউর রহমান স্যারের বাস্তব জীবনী এটা,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড: আতিউর রহমান স্যারের বাস্তব জীবনী এটা। লেখাটা আগে আপনার ছেলে মেয়েকে পড়ান,তারপর আপনি নিজে পড়ুন।

টাকা থাকলেই জীবনে অনেক বড় কিছু  হওয়া বা করা যায় না। ইচ্ছা থাকলে সন্মান, টাকা আপনার কাছে নিজে থেকে এসে ধরা দিবে। তাই হতাশ হবেন না।


...............................................................


আমার  জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো  পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস  ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা  পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের।

 

আমার দাদার আর্থিক অবস্থা ছিলো মোটামুটি। কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তাঁর বাড়িতে ঠাঁই দেননি। দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা  ছনের ঘরে আমরা এতগুলো ভাই-বোন আর বাবা-মা থাকতাম। মা তাঁর বাবার বাড়ি  থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন। তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়।  চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে  ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো। দারিদ্র্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি  করেছি- খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই; কী এক অবস্থা !

 

আমার মা  সামান্য লেখাপড়া জানতেন। তাঁর কাছেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি। তারপর  বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু আমার পরিবারে এতটাই  অভাব যে, আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠলাম, তখন আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার  সুযোগ থাকলো না। বড় ভাই আরো আগে স্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকেছেন। আমাকেও  লেখাপড়া ছেড়ে রোজগারের পথে নামতে হলো।

 

আমাদের একটা গাভী আর  কয়েকটা খাসি ছিল। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম। বিকেল  বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম। এভাবে দুই ভাই মিলে যা  আয় করতাম, তাতে কোনরকমে দিন কাটছিল। কিছুদিন চলার পর দুধ বিক্রির আয় থেকে  সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই। প্রতিদিন সকাল থেকে  সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে বসতাম। পড়াশোনা তো বন্ধই, আদৌ করবো- সেই স্বপ্নও  ছিল না !

 

এক বিকেলে বড় ভাই বললেন, আজ স্কুল মাঠে নাটক হবে।  স্পষ্ট মনে আছে, তখন আমার গায়ে দেওয়ার মতো কোন জামা নেই। খালি গা আর  লুঙ্গি পরে আমি ভাইয়ের সঙ্গে নাটক দেখতে চলেছি। স্কুলে পৌঁছে আমি তো  বিস্ময়ে হতবাক ! চারদিকে এত আনন্দময় চমৎকার পরিবেশ ! আমার মনে হলো, আমিও  তো আর সবার মতোই হতে পারতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে  হবে।

 

নাটক দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাইকে বললাম, আমি কি আবার  স্কুলে ফিরে আসতে পারি না ? আমার বলার ভঙ্গি বা করুণ চাহনি দেখেই হোক কিংবা  অন্য কোন কারণেই হোক কথাটা ভাইয়ের মনে ধরলো। তিনি বললেন, ঠিক আছে কাল  হেডস্যারের সঙ্গে আলাপ করবো।

 

পরদিন দুই ভাই আবার স্কুলে গেলাম।  বড় ভাই আমাকে হেডস্যারের রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভিতরে গেলেন। আমি  বাইরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট শুনছি, ভাই বলছেন আমাকে যেন বার্ষিক পরীক্ষায়  অংশগ্রহণের সুযোগটুকু দেওয়া হয়। কিন্তু হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন,  সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয় ! স্যারের কথা শুনে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল।  যতখানি আশা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম, স্যারের এক কথাতেই সব ধুলিস্মাৎ হয়ে  গেল। তবু বড় ভাই অনেক পীড়াপীড়ি করে আমার পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি যোগাড়  করলেন। পরীক্ষার তখন আর মাত্র তিন মাস বাকি। বাড়ি ফিরে মাকে বললাম, আমাকে  তিন মাসের ছুটি দিতে হবে। আমি আর এখানে থাকবো না। কারণ ঘরে খাবার নেই,  পরনে কাপড় নেই- আমার কোন বইও নেই, কিন্তু আমাকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে।

 

 মা বললেন, কোথায় যাবি ? বললাম, আমার এককালের সহপাঠী এবং এখন ক্লাসের  ফার্স্টবয় মোজাম্মেলের বাড়িতে যাবো। ওর মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। যে  ক’দিন কথা বলেছি, তাতে করে খুব ভালো মানুষ বলে মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস,  আমাকে উনি ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।

 

দুরু দুরু মনে মোজাম্মেলের  বাড়ি গেলাম। সবকিছু খুলে বলতেই খালাম্মা সানন্দে রাজি হলেন। আমার খাবার আর  আশ্রয় জুটলো; শুরু হলো নতুন জীবন। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করলাম।  প্রতিক্ষণেই হেডস্যারের সেই অবজ্ঞাসূচক কথা মনে পড়ে যায়, জেদ কাজ করে  মনে; আরো ভালো করে পড়াশোনা করি।

 

যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হলো। আমি  এক-একটি পরীক্ষা শেষ করছি আর ক্রমেই যেন উজ্জীবিত হচ্ছি। আমার আত্মবিশ্বাসও  বেড়ে যাচ্ছে। ফল প্রকাশের দিন আমি স্কুলে গিয়ে প্রথম সারিতে বসলাম।  হেডস্যার ফলাফল নিয়ে এলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, পড়তে গিয়ে তিনি কেমন যেন  দ্বিধান্বিত। আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। তারপর ফল ঘোষণা করলেন। আমি  প্রথম হয়েছি ! খবর শুনে বড় ভাই আনন্দে কেঁদে ফেললেন। শুধু আমি নির্বিকার-  যেন এটাই হওয়ার কথা ছিল।

 

বাড়ি ফেরার পথে সে এক অভূতপূর্ব  দৃশ্য। আমি আর আমার ভাই গর্বিত ভঙ্গিতে হেঁটে আসছি। আর পিছনে এক দল  ছেলেমেয়ে আমাকে নিয়ে হৈ চৈ করছে, স্লোগান দিচ্ছে। সারা গাঁয়ে সাড়া পড়ে  গেল ! আমার নিরক্ষর বাবা, যাঁর কাছে ফার্স্ট আর লাস্ট একই কথা- তিনিও  আনন্দে আত্মহারা; শুধু এইটুকু বুঝলেন যে, ছেলে বিশেষ কিছু একটা করেছে। যখন  শুনলেন আমি ওপরের কাসে উঠেছি, নতুন বই লাগবে, পরদিনই ঘরের খাসিটা হাটে  নিয়ে গিয়ে ১২ টাকায় বিক্রি করে দিলেন। তারপর আমাকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর  গেলেন। সেখানকার নবনূর লাইব্রেরি থেকে নতুন বই কিনলাম।

 

আমার  জীবনযাত্রা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমি রোজ স্কুলে যাই। অবসরে সংসারের কাজ  করি। ইতোমধ্যে স্যারদের সুনজরে পড়ে গেছি। ফয়েজ মৌলভী স্যার আমাকে তাঁর  সন্তানের মতো দেখাশুনা করতে লাগলেন। সবার আদর, যত্ন, স্নেহে আমি ফার্স্ট  হয়েই পঞ্চম শ্রেণীতে উঠলাম। এতদিনে গ্রামের একমাত্র মেট্রিক পাস  মফিজউদ্দিন চাচা আমার খোঁজ নিলেন। তাঁর বাড়িতে আমার আশ্রয় জুটলো।

 

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আমি দিঘপাইত জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হই। চাচা ওই  স্কুলের শিক্ষক। অন্য শিক্ষকরাও আমার সংগ্রামের কথা জানতেন। তাই সবার  বাড়তি আদর-ভালোবাসা পেতাম।

 

আমি যখন সপ্তম শ্রেণী পেরিয়ে অষ্টম  শ্রেণীতে উঠবো, তখন চাচা একদিন কোত্থেকে যেন একটা বিজ্ঞাপন কেটে নিয়ে এসে  আমাকে দেখালেন। ওইটা ছিল ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞাপন। যথাসময়ে ফরম পুরণ  করে পাঠালাম। এখানে বলা দরকার, আমার নাম ছিল আতাউর রহমান। কিন্তু ক্যাডেট  কলেজের ভর্তি ফরমে স্কুলের হেডস্যার আমার নাম আতিউর রহমান লিখে চাচাকে  বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় কিছু হবে। দেশে অনেক আতাউর আছে। ওর নামটা  একটু আলাদা হওয়া দরকার; তাই আতিউর করে দিলাম।

 

আমি রাত জেগে  পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিলাম। নির্ধারিত দিনে চাচার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে  রওনা হলাম। ওই আমার জীবনে প্রথম ময়মনসিংহ যাওয়া। গিয়ে সবকিছু দেখে তো  চক্ষু চড়কগাছ ! এত এত ছেলের মধ্যে আমিই কেবল পায়জামা আর স্পঞ্জ পরে এসেছি  ! আমার মনে হলো, না আসাটাই ভালো ছিল। অহেতুক কষ্ট করলাম। যাই হোক পরীক্ষা  দিলাম; ভাবলাম হবে না। কিন্তু দুই মাস পর চিঠি পেলাম, আমি নির্বাচিত  হয়েছি। এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যেতে হবে।

 

সবাই খুব খুশি; কেবল আমিই হতাশ। আমার একটা প্যান্ট নেই, যেটা পরে যাবো।  শেষে স্কুলের কেরানি কানাই লাল বিশ্বাসের ফুলপ্যান্টটা ধার করলাম। আর একটা  শার্ট যোগাড় হলো। আমি আর চাচা অচেনা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। চাচা  শিখিয়ে দিলেন, মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি যেন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে  বলি: ম্যা আই কাম ইন স্যার ? ঠিকমতোই বললাম। তবে এত উচ্চস্বরে বললাম যে,  উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।

 

পরীক্ষকদের একজন মির্জাপুর  ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এম. ডাব্লিউ. পিট আমাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে  সবকিছু আঁচ করে ফেললেন। পরম স্নেহে তিনি আমাকে বসালেন। মুহূর্তের মধ্যে  তিনি আমার খুব আপন হয়ে গেলেন। আমার মনে হলো, তিনি থাকলে আমার কোন ভয় নেই।  পিট স্যার আমার লিখিত পরীক্ষার খাতায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর অন্য  পরীক্ষকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কী-সব আলাপ করলেন। আমি সবটা না বুঝলেও আঁচ করতে  পারলাম যে, আমাকে তাঁদের পছন্দ হয়েছে। তবে তাঁরা কিছুই বললেন না। পরদিন  ঢাকা শহর ঘুরে দেখে বাড়ি ফিরে এলাম। যথারীতি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করলাম।  কারণ আমি ধরেই নিয়েছি, আমার চান্স হবে না।

 

হঠাৎ তিন মাস পর চিঠি  এলো। আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছি। মাসে ১৫০ টাকা বেতন লাগবে। এর  মধ্যে ১০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে, বাকি ৫০ টাকা আমার পরিবারকে যোগান দিতে  হবে। চিঠি পড়ে মন ভেঙে গেল। যেখানে আমার পরিবারের তিনবেলা খাওয়ার  নিশ্চয়তা নেই, আমি চাচার বাড়িতে মানুষ হচ্ছি, সেখানে প্রতিমাসে ৫০ টাকা  বেতন যোগানোর কথা চিন্তাও করা যায় না !

 

এই যখন অবস্থা, তখন  প্রথমবারের মতো আমার দাদা সরব হলেন। এত বছর পর নাতির (আমার) খোঁজ নিলেন।  আমাকে অন্য চাচাদের কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, তোমরা থাকতে নাতি আমার এত ভালো  সুযোগ পেয়েও পড়তে পারবে না ? কিন্তু তাঁদের অবস্থাও খুব বেশি ভালো ছিল  না। তাঁরা বললেন, একবার না হয় ৫০ টাকা যোগাড় করে দেবো, কিন্তু প্রতি মাসে  তো সম্ভব নয়। দাদাও বিষয়টা বুঝলেন।

 

আমি আর কোন আশার আলো দেখতে  না পেয়ে সেই ফয়েজ মৌলভী স্যারের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, আমি থাকতে কোন  চিন্তা করবে না। পরদিন আরো দুইজন সহকর্মী আর আমাকে নিয়ে তিনি হাটে গেলেন।  সেখানে গামছা পেতে দোকানে দোকানে ঘুরলেন। সবাইকে বিস্তারিত বলে সাহায্য  চাইলেন। সবাই সাধ্য মতো আট আনা, চার আনা, এক টাকা, দুই টাকা দিলেন। সব  মিলিয়ে ১৫০ টাকা হলো। আর চাচারা দিলেন ৫০ টাকা। এই সামান্য টাকা সম্বল করে  আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হলাম। যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে আমি ১৫০  টাকায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করলাম। শুরু হলো অন্য এক জীবন।

 

প্রথম দিনেই এম. ডাব্লিউ. পিট স্যার আমাকে দেখতে এলেন। আমি সবকিছু খুলে  বললাম। আরো জানালাম যে, যেহেতু আমার আর বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই তিন  মাস পর ক্যাডেট কলেজ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সব শুনে স্যার আমার বিষয়টা  বোর্ড মিটিঙে তুললেন এবং পুরো ১৫০ টাকাই বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই  থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এস.এস.সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে  পঞ্চম স্থান অধিকার করলাম এবং আরো অনেক সাফল্যের মুকুট যোগ হলো।

 

আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের অনুদানে ভরপুর। পরবর্তীকালে আমি আমার এলাকায়  স্কুল করেছি, কলেজ করেছি। যখন যাকে যতটা পারি, সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতাও  করি। কিন্তু সেই যে হাট থেকে তোলা ১৫০ টাকা; সেই ঋণ আজও শোধ হয়নি। আমার  সমগ্র জীবন উৎসর্গ করলেও সেই ঋণ শোধ হবে না!

 

(অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমানের নিজের ভাষায় তাঁর জীবন কথা)


নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...