এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০২৪

মাসিক বিল ছারা ফ্রিতে TV চ্যানেল দেখতে চাচ্ছেন। তাহলে দেরি না করে এখনি যোগাযোগ করুন,,,,ফেইসবুক add

 আপনি কি কোন প্রকার মাসিক বিল ছারা ফ্রিতে TV চ্যানেল দেখতে চাচ্ছেন। তাহলে দেরি না করে এখনি যোগাযোগ করুন নিচে দেয়া নম্বরে অথবা inbox এ মেসেজ করুন ।

170 টি চ্যানেল দেখুন একদম ফ্রি দেখতে পারবেন আজীবন । কোন মাসে মাসে কোন টাকা দিতে হবে না । শুধু সেটিং বাবদ কিছু টাকা খরচ হবে ।

☑সকল চ্যানেল চকচকে-ঝকঝকে । কোন ঝির ঝির বা কোন প্রকার সমস্যা নেই  ।

☑ঝড় বৃষ্টি হলে লোকাল ডিসের ক্যাবল ছিরে যায় ফলে সেটি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত চ্যানেল দেখতে পাননা । 

আর আমাদের সেটাপটি সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে ক্যাবল বিহীন চ্যানেল রিসিভ করে দেখায় ।

আর এটি আপনার বাসাতেই সেটাপ করা থাকবে যার কারনে ঝড় বৃষ্টি হলেও চ্যানেল দেখতে কোন সমস্যা হবে না ।

☑এছারা অনেক আরো সুবিদা রয়েছে । 

যেমন,

⏩Recording option, যার সাহায্য চ্যানেলে চলাকালিন যে কোন Program Record করে রাখতে পারবেন ।

⏩Online apps 

রয়েছে যার ফলে আপনি Youtube,TikTok,We TV 

⏩আরো বিস্তারিত জানার থাকলে এখনি নিচে দেয়া নম্বরে যোগাযোগ করুন ।

📞01734376477 (imo &whatsapp)

⏩সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটর, নওগা, বগুরা, গাইবান্ধা, টাংগাইল, জামালপুর, সেরপুর, ময়মনসিংহ, গাজিপুর, ঢাকা, নারায়ণগন্জ, নরসিংদী, 

এই জেলাগুলাতে বাসায় গিয়ে সেটাপ করে দেয়া যাবে ।

তবে এর জন্য আলাদা সার্ভিস চার্জ যোগ হবে । 

আর এই জেলা গুলোর বাহিরে যারা আছেন তারা কুরিয়ারে মাধ্যমে সেটাপটি নিতে পারেন ।

এর জন্য আপনাকে কুরিয়ার খরচ বাবদ 200 টাকা এডভান্স করতে হবে ।

⏩আপনি যদি সেটাপ করতে না পারেন । এ ক্ষেত্রে 

বুকিং দেয়ার আগে আমরা প্রায় ৮০% সেটাপের কাজ করে দিবো । 

সুতরাং সেটাপের জন্য কোন ভয় নেই ।

⏩তা ছারাও সরাসরি কল এবং imo অথবা whatsapp ভিডিও কলে সেটাপ বিষয়ে সহযোগিতা পাবেন।

📦ফুলসেটাপের সাথে যা যা পাবেন,

📡ডিস এন্টেনা দেরফিট সাইজ 1 টি

🔦LNB ku band 1 টি

📼রিসিভার Echolink 7777 HD সাথে রিমোট, অথবা AV cable

🔧Canector 2 টি

Full set Price=3200 টাকা সাথে ডেলিভারী চার্জ ফ্রি



মাশরিক-মাগরিব এক্সপ্রেস" পাকিস্তানের বেলুচিস্তান থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 "মাশরিক-মাগরিব এক্সপ্রেস"

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, 

ট্রেন চলতো ১৯৫০-৬০ এর দশকে।

মাশরিক-মাগরিব এক্সপ্রেস।

বাংলা অর্থে করলে "পূর্ব-পশ্চিম" এক্সপ্রেস

এটি মুলত একটি ট্রেন হলেও ৫টি রেকে চলাচল করতো। 

বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা একটি রেক থেকে নেমে অন্য রেকে উঠে যাত্রা করতো।পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কোহ-এ-তাফতান হতে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পৌছাতে সময় লাগতো প্রায় ৬ দিন!!!

রুট ছিলঃ (লাহোর-ওয়াগা-অমৃতসার) বর্ডার, দিল্লি,বিহার,হাওড়া (গেদে-দর্শনা) বর্ডার,  

গোয়ালন্দঘাট, ফেরিতে নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রাম।

ছবি ও তথ্য : সংগৃহীত



N1,N2,,,,,N8 এগুলো কি

N1, N2,.... N8 ইত্যাদি শব্দগুলোর সাথে আমরা অনেকেই হয়তো পরিচিত। তবে আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, আসলে এ দ্বারা কি বুঝানো হয়ে থাকে আসলে। মূলত এগুলো হচ্ছে আমাদের জাতীয় মহাসড়ক (হাইওয়ে) সমূহের সংক্ষিপ্ত রূপ। যার মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায়, কোনটা কোন মহাসড়ক। চলুন আজ জেনে নিই, আমাদের দেশের আটটি মহাসড়কের সংক্ষিপ্ত নাম- 


🔴N1 = ঢাকা - চট্টগ্রাম - টেকনাফ

🟡N2 = ঢাকা - সিলেট - তামাবিল

🟢N3 = ঢাকা - ময়মনসিংহ 

🔵N4 = ঢাকা - জামালপুর

🟣N5 = ঢাকা - আরিচা - রংপুর - বাংলাবান্ধা

🟤N6 = ঢাকা - রাজশাহী - চাপাইনবাবগঞ্জ 

⚫N7 = দৌলতিয়া - খুলনা - মোংলা

⚪N8 = ঢাকা - ভাঙ্গা - বরিশাল - পটুয়াখালী





#সম্মানিত বোরে ধান আবাদি কৃষক ভাইয়েরা,

বোরো ধানের ক্ষেতে একটি সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে ধান গাছের পাতা উপর থেকে হলুদ বর্ণ হয়ে নিচের দিক পর্যন্ত শুকিয়ে যাচ্ছে। এটিকে ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া (বিএলবি রোগ) বলে।


#করণীয়:

#জমির পানি বের করে দিয়ে জমি ভেদে ৭-১০ দিন শুকনো রাখতে হবে।

#রোগাক্রান্ত ক্ষেতে বিঘা প্রতি (৩৩ শতাংশ) ৫-৭ কেজি এমওপি (পটাশ) সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

#আক্রন্ত জমিতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা যাবে না।


এবং

#প্রতি লিটার পানিতে ৬ গ্রাম সালফার (থিয়োভিট/কুমুলাস/ ফসলভিট/সালফেক্স/গেইভেট/হাদিয়াভিট/ম্যাকসালফার/ মাইক্রোথিয়ল স্পেশাল ৮০ ডাব্লিউপি যে কোন একটি) #সাথে+

#প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম 

#কুইকপটাশ/#ফাষ্টপটাশ/#মিমপটাশ/#ব্রাকপটাশ/#টপপটাশ/#রেপিডপটাশ সার যে কোন একটি  #এবং সাথে+

#প্রতি লিটার পানিতে চিলেটেড জিংক ০.২৫ গ্রাম (১০ লিটারে ২.৫ গ্রাম) হারে একত্রে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে  করতে পারেন।


#তারপরও যদি রোগের আক্রমণ না কমে। বরং রোগের আক্রমন বেশি হয় তাহলে করণীয়:


#বিসমাথিওজল গ্রুপের বালাইনাশকনাশক -

#ব্যাকট্রোবান ২০ ডাব্লিপি/ 

#ব্যাকট্রল ২০ ডাব্লিউ পি/

#রাদি ২০ ডাব্লিউ পি /

#অটোব্যাক ২০ ডাব্লিউ পি/

#বিসমাজল ২০ ডাব্লিউপি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে পারেন। অথবা


নিচের যে কোন একটি বালাইনাশক

#অনলাইন ১ গ্রাম হারে লিটারে  /

#কিমিয়া ৩ গ্রাম হারে লিটারে/

#কাসুমিন ২ মিলি হারে লিটারে/ 

#কাইসিন ০.৮ গ্রাম হারে লিটারে/ 

#কপার ব্লু/ব্লিটক্স ৩ গ্রাম হারে লিটারে/

#জিবাল/চাম্পিয়ন ৩ গ্রাম হারে লিটারে/

#ব্যাকটাফ ১.৫ গ্রাম হারে লিটারে/

#নির্ভয় ৩ গ্রাম হারে লিটারে/

#টিমসেন ১ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে পারেন।


মো: ফরিদুল ইসলাম 

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা 

ব্লক: ভোটমারী, কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট।


ভারতবর্ষের প্রথম জাতীয় পতাকার স্কেচ তৈরি করেন বিদেশের মাটি থেকে তিনি। বাংলার প্রথম বোমার কারিগর, ভারতের প্রথম পতাকা এঁকেছিলেন তিনি।,,,,

 ভারতবর্ষের প্রথম জাতীয় পতাকার স্কেচ তৈরি করেন বিদেশের মাটি থেকে তিনি। বাংলার প্রথম বোমার কারিগর, ভারতের প্রথম পতাকা এঁকেছিলেন তিনি। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে ‘অগ্নিযুগের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য ‘ বলে অভিহিত করেছিলেন!


আসল নাম হেমচন্দ্র দাস কানুনগো। সালটা ১৯০৭। জার্মানির স্টুয়ার্টগার্টে সেই পতাকা তুলে ধরেছিলেন ভিকাজী রুস্তম মাদাম কামা,একজন ভারতপ্রেমী স্বাধীনতা সংগ্রামী পার্সি মহিলা। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে বিশ্ব সোশালিস্ট কংগ্রেসের যে অধিবেশন হয় তাতে মাদাম ভিকাজি কামার সাথে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। হেমচন্দ্র চিত্রশিল্পী ছিলেন বলে, কথিত আছে মাদাম কামার অনুরোধে লাল,গেরুয়া ও সবুজ রঙের তেরঙ্গা পতাকা তৈরি করেন এবং ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ আগস্ট প্রবাসী ভারতীয়দের সম্মেলনে মাদাম কামা সেই পতাকা উত্তোলন করে সারা বিশ্বে নজর কাড়েন। পতাকার মধ্যেও ছিল বিভিন্ন বার্তা ও তথ্য। তবে বেঙ্কাইয়ার জাতীয় পতাকার রূপ দিয়ে পরিবর্তন করে মাঝে সাদা রঙে চরকার জায়গায় অশোক চক্র আঁকেন। তা গৃহীত হয় ১৯৪৭ এর ২২ জুলাই। 


ত্রিবর্ন রঞ্জিত পতাকা, গেরুয়া, সাদা, সবুজ। ভারতের জাতীয় পতাকা। কিন্তু এই ত্রিবর্ণ পতাকার প্রথম রূপ দিয়েছিলেন এক বাঙালি। কে মনে রেখেছেন হেমচন্দ্র কানুনগো কে? কেউ না। কেউ জানলই না মানুষটাকে!


হেমচন্দ্র মেদিনীপুর টাউন স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করেন। সেখানে মেদিনীপুর কলেজে এফ.এ ক্লাসে পড়বার সময় অভিভাবকদের জোরাজোরিতেই ক্যাম্বেল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু শৈশব থেকেই ছবি আঁকার অভ্যাস ছিল। শেষে কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে এবং বউবাজার আর্ট গ্যালারিতে চিত্রবিদ্যা শিক্ষা লাভ করেন। পরে তিনি মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে ড্রয়িং শিক্ষক এবং কলেজে রসায়নে ডেমনস্ট্রটরের চাকরি নেন। একদিকে আঁকার হাত অপরদিকে রসায়ণ, দুটিকেই তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন স্বাধীনতার বিপ্লবে,.


হেমচন্দ্র ১৯০২ সালে জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসুর সংস্পর্শে আসেন এবং তার মাধ্যমেই অরবিন্দ ঘোষের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। ইংরেজবিদ্বেষ বশত ইংরেজ তাড়ানোর উদ্দেশ্যে অরবিন্দ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ কিছু লাট-বেলাটকে হত্যার জন্য যে গুপ্তসমিতি গঠন করেছিলেন, হেমচন্দ্র তাতে যোগ দিয়েছিলেন। বারীণ ঘোষের বাংলা ও আসামে নানাস্থানে অপরিণত পরিকল্পনা প্রসূত ব্যর্থ অভিজানের সঙ্গে যুক্ত এই নায়ক অনুধাবন করলেন যে, যথার্থ বিপ্লবের জন্য যে সংঘঠন আর হাতিয়ার দরকার তা তাঁদের নেই। এমনকি, এই অভাব বোধটুকুও নেতা উপনেতার কারোর নেই। উপযুক্ত বোমা তৈরি, বাস্তব বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হবার জন্য তিনি বিদেশযাত্রা করেছিলেন,.


ইংল্যান্ডে কিছুকাল কাটিয়ে বুঝে গিয়েছিলেন যে পরিবেশ মোটেই অনুকূলে নেই। তখনকার প্রবাসী ভারতীয়রাও বিশ্বাস করতে পারতেন না যে, ইংরেজের সঙ্গে লড়াই করে দেশের স্বাধীনতা সম্ভব। অবশেষে একজন বিদেশী বিপ্লবীর পরামর্শে তিনি ফ্রান্সে যাওয়া স্থির করলেন। হেমচন্দ্র প্যারিসে নানাভাবে প্রচেষ্টার ফলে আসল বিপ্লবীদের গুপ্তসমীতির সদস্য হতে পেরেছিলেন এবং শক্তিশালী বোমা তৈরির ফর্মুলা শিখেছিলেন। যথাযোগ্য শিক্ষাগ্রহণের পর দেশে ফিরে কোমড় বেঁধে দেশের কাজে ব্রতী হন,.


সেই শিক্ষা তিনি দেশের বিপ্লবীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিদেশ থেকে বোমা তৈরি শিখে এসে তিনি কলকাতা ও চন্দননগরে বোমা তৈরির শিবির করেন। আলিপুর বোমা মামলার অন্যতম রূপকার এই হেমচন্দ্র কানুনগোই। তাঁর শিষ্য ক্ষুদিরাম বসুর হাতেও বোমা তুলে দিয়েছিলেন। আলিপুর বোমা মামলায় তাঁর দ্বীপান্তর হয়। ১৯২০ সালে দীর্ঘ ১১ বছর পর আন্দামানের সেলুলার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রাধানগর গ্রামে নিজের তৈরি বাড়িতেই শেষ জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৫১ সালে এই কৃতি সন্তানের মৃত্যু হয়। 


তারপ্রতি রইল আমাদের শ্রদ্ধা। 


✍️ প্রতিবাদী- Protesters 


(পরিমার্জিত ও সংগৃহীত)



গোসল করার সঠিক পদ্ধতি,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⭕ রোজারত অবস্থায় কিংবা রোজাবিহীন অবস্থায় হায়েজ [ঋতুস্রাব], নেফাজ [সন্তান জন্মদানের পর ৪০ দিন পর্যন্ত প্রবাহিত রক্ত], স্বপ্নদোষ এবং স্ত্রী সহবাস জনিত কারনে গোসল ফরজ হয়ে থাকলে কিভাবে ফরজ গোসল আদায় করতে হবে আসুন তা জেনে নেইঃ-


🔲 গোসলের ফরজ হচ্ছে ৩ টি। আর এই ৩ টি ফরজের মধ্যে যেকোনো ১ টি ফরজ বাদ পড়লে ফরজ গোসল আদায় হবে না। আর ফরজ গোসল আদায় না হলে নামাজ, আমল, ইবাদত কোনো কিছুই কবুল হবে না।


🔸 গোসলের ফরজ সমূহঃ-


১) একবার কুলি করা, 


২) একবার নাকে পানি দেওয়া,


৩) একবার সম্পূর্ণ শরীরে পানি পৌছে দেওয়া।


🔹 ফরজ গোসলের সুন্নত সমূহঃ-


১) তিনবার গড়গড়ার সাথে কুলি করা,


২) তিনবার নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌছানো,


৩) সম্পূর্ণ শরীরে ভালোভাবে পানি পৌছে দিয়ে গোসল সম্পন্ন করা।


🔸 ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে গড়গড়ার সহিত কুলি করা এবং নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌছানো ফরজ নয় বরং সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত। তাই উপরোক্ত নিয়মে গোসলের ফরজ এবং সুন্নত সমূহ আদায় করে গোসল করা হলে ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।


🔹 তবে রোজারত অবস্থায় ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে গড়গড়ার সহিত কুলি করা এবং নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌছানো যাবে না। এতে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে তিনবার কুলি করতে হবে, তিনবার (হালকাভাবে) নাকে পানি দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ শরীরে পানি পৌছে দিতে হবে। -[রুদ্দুল মুখতার- ১/২৮৪, বাদায়েউস সানায়া- ১/১১২]


⭕ ফরজ গোসল করার নিয়ম ও পদ্ধতিঃ-


🔸 সর্বপ্রথম উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া, অতঃপর লজ্জাস্থান ও লজ্জাস্থানে যা লেগে আছে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করা। এরপর পরিপূর্ণভাবে অজু করা। তারপর মাথার উপর তিনবার পানি ঢালা এবং শরীরের বাকি অংশে পানি পৌছে দেওয়া। গোসল শেষে উভয় পা ধুয়ে নেওয়া। এটিই হচ্ছে পরিপূর্ণভাবে গোসল করার সুন্নত পদ্ধতি। -[ফাতাওয়ায়ে আরকানুল ইসলাম- ২৪৮]


🔹 ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য মাথার চুল এবং পুরুষদের জন্য দাড়ি ও মাথার চুল ভালোভাবে ভিজাতে হবে।


🔸 উপরোক্ত নিয়মে গোসল করা হলে যদি অজু ভঙ্গ হয়ে না থাকে, তাহলে আর নতুন করে অজু করার প্রয়োজন হবে না। এই অজু দিয়েই নামাজ আদায় করা যাবে।


⭕ রাসূল ﷺ বলেছেন, পবিত্রতা ঈমানের অংশ, পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ, পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। আর তাই নামাজ, রোজা, আমল, ইবাদত, দোয়া ও মোনাজাত কবুল হওয়ার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা জরুরী।


🔲 তাই এখন থেকে আপনারা সবাই উপরোক্ত নিয়মে ফরজ গোসল আদায় করে নামাজ, রোজা, আমল, ইবাদত, দোয়া ও মোনাজাত করবেন ইন শা আল্লাহ 💝✅



হলুদ চাষের স্মার্ট কলাকৌশল,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 হলুদ চাষের স্মার্ট কলাকৌশল


হলুদ বা হলদি হলো হলুদ গাছের শিকড় থেকে প্রাপ্ত এক প্রকারের মসলা। ভারত, বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রান্নায় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সঠিক পদ্ধতিতে হলুদের চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক হলুদের স্মার্ট চাষ পদ্ধতি-


জমি ও মাটি নির্বাচন: 

সব ধরনের মাটিতে হলুদ চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ ও বেলে-দো-আঁশ মাটি হলুদ চাষের জন্য অতি উত্তম।


বীজ বপন: 

চৈত্র মাস কন্দ লাগানোর উপযুক্ত সময়। সাধারণতঃ ১৫-২০ গ্রাম ওজনের ১-২টি ঝুঁড়ি বিশিষ্ট কন্দ লাগাতে হয়। ৫০ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে ২৫ সে.মি. দূরে দূরে ৫-৭ সে.মি. গভীরে কন্দ লাগাতে হয়। প্রতি হেক্টরে ২৫০০ কেজি কন্দ প্রয়োজন হয়। কন্দ লাগানোর পর ভেলী করে দিতে হয়।


জাত পরিচিতি: 

ডিমলা ও সিন্দুরী নামে বাংলাদেশে দু’টি উন্নত জাত রয়েছে। ডিমলা জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ৩ গুণ ফলন বেশী দেয়।


সার প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনা: 

জমির উর্বরতার উপর সারের পরিমাণ নির্ভর করে। সাধারণতঃ প্রতি হেক্টরে সারের পরিমাণ হলোঃ গোবর ৪-৬ টন, ইউরিয়া ২০০-২৪০ কেজি, টিএসপি ১৭০-১৯০ কেজি, এমওপি ১৬০-১৮০ কেজি, জিপসাম ১০৫-১২০ কেজি ও জিংক সালফেট ২-৩ কেজি। জমি তৈরির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট ও ৮০ কেজি এমওপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।


কন্দ লাগানোর ৫০-৬০ দিন পর ১০০-১২০ কেজি ইউরিয়া ভেলী হালকাভাবে কুপিয়ে প্রয়োগ করে আবার ভেলী করে দিতে হয়। ১ম কিস্তি-র ৫০-৬০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তির- এবং আরও ৫০-৬০ দিন পর তৃতীয় কিস্তি-র সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তি-র উপরি সার হিসেবে প্রতি হেক্টরে প্রতিবারে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া ও ৪০-৪৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। ২য় ও ৩য় কিস্তি-র সার সারির মাঝে প্রয়োগ করে কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে এবং সামান্য মাটি ভেলীতে দিতে হবে।


ফসল সংগ্রহ: 

সাধারণত লাগানোর ৯-১০ মাস পর পাতা শুকিয়ে গেলে হলুদ সংগ্রহ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ টন কাঁচা হলুদ পাওয়া যায়।



সমুদ্রের নিচে রহস্যময় প্রাচীর" ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

 "সমুদ্রের নিচে রহস্যময় প্রাচীর" ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

জার্মানির বাল্টিক উপসাগরে খোঁজ মিলল প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পাথরের প্রাচীরের। বিজ্ঞানীদের অনুমান, প্রস্তর যুগে তৈরি করা হয়েছিল এই প্রাচীর। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ইউরোপে মানুষের তৈরি প্রাচীনতম নির্মাণ এটাই। মেকলেনবার্গ উপসাগর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে একটি জায়গায় শিক্ষাসফরে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন বিজ্ঞানীও। তখনই এক দল বিজ্ঞানী সমুদ্রের নিচে কিছু জিনিস পর্যবেক্ষণের সময় ওই প্রাচীরের হদিস পান।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই প্রাচীটি তৈরি হয়েছে ১,৬৭৩টি পাথর দিয়ে। উচ্চতা এক মিটারের কম, দৈর্ঘ্য ৯৭১ মিটার।

প্রায় ৩০০ টি বড় বড় বোল্ডার দিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই প্রাচীর। সেগুলোকে জুড়েছে প্রায় দেড় হাজার ছোট পাথর।

প্রাচীরটি যে পাথর দিয়ে তৈরি, সেগুলি এতটাই বড় এবং ভারী যে, তা দেখে হতভাগ হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। যে সময়ে এই প্রাচীর তৈরি, সেই সময়ে কোনো যন্ত্র ছিল না। হাতে করে কী ভাবে সেই পাথর তোলা হয়েছিল, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা প্রাচীরের আকার, গঠন দেখে আরও একটি বিষয়ে নিশ্চিত যে, কোনোভাবেই এটি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হয়নি।

সুনামি বা হিমবাহও এই প্রাচীর গঠন করেনি। মানুষই তৈরি করেছে এই প্রাচীর।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, অনেক সময় হিমবাহ পলি সঞ্চয় করে সমুদ্রগর্ভে প্রাচীর তৈরি করে। সুনামির সময় ঢেউয়ের সঙ্গে বালি, পলি ভেসে এসে জমা হয় সমুদ্রগর্ভে। তাতেও প্রাচীর তৈরি হতে পারে। কিন্তু বাল্টিক উপসাগরের প্রাচীরটি সে ভাবে তৈরি হয়নি।

গবেষকদের দাবি, প্রায় ১০ হাজার বছর আগে একটি হ্রদের ধারে তৈরি করা হয়েছিল ওই প্রাচীর।

গবেষকেরা মনে করছেন, বলগা হরিণ শিকার করার জন্য সেই প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল। সেই প্রাচীর দিয়ে ফাঁদ তৈরি করা হত।

বিশাল প্রাচীরের অদূরে ছিল অন্য একটি প্রাচীর। গবেষকেরা মনে করছেন, দ্বিতীয় ওই প্রাচীর সমুদ্রের পলির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে।

ওই প্রাচীর টপকে বলগা হরিণ এলেই তির-ধনুক দিয়ে তাদের শিকার করা হত। অনতিদূরে আরও একটি প্রাচীর থাকায় তারা দৌড়ে পালাতে পারত না। ফলে শিকারিদের ফাঁদে পড়ত।

ওই প্রাচীর পরীক্ষা করে গবেষকেরা মনে করছেন, প্রায় সাড়ে আট হাজার বছর আগে প্রাচীরটি সমুদ্রের নিচে ডুবে গিয়েছিল। সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধিই ছিল এর কারণ।


(সংগৃহীত)



দ্বীপে বৃষ্টি পড়েনা, পাখিও উড়েনা!,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 যে দ্বীপে বৃষ্টি পড়েনা, পাখিও উড়েনা!


পৃথিবীতে এমন অনেক আজব স্থান রয়েছে যেখানকার রহস্য আজও উদঘাটন করা যায়নি। আজব এসব জায়গার একটি হল বাল্ট্রা দ্বীপ। এ দ্বীপে গেলেই নাকি নাবিকরা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। নাবিক বা অভিযাত্রীদের সঙ্গে থাকা কম্পাসের আচরণও বদলে যায়। সবসময় উত্তর দিক-নির্দেশকারী কম্পাস এখানে কোনো সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে!


আবার দিক-নির্দেশক কাঁটা ইচ্ছেমতো ঘুরতে থাকে অথবা উল্টোপাল্টা দিক নির্দেশ করে। সবচেয়ে রহস্যজনক ব্যাপার হলো বাল্ট্রা দ্বীপের ওপর বিমান থাকাকালীন সময়েও এমন অদ্ভুত আচরণ করে কম্পাস। আবার দ্বীপ পার হলেই সব ঠিক। 


বাল্ট্রার আরেকটি অদ্ভুত দিক হল, এর মানসিক দিক। বাল্ট্রায় পা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে কারও মাথা অনেক হালকা হয়ে যায়। অজানা-অচেনা কোন এক জায়গায় হারিয়ে যাওয়ার আশ্চর্য রকম অনুভূতি আচ্ছন্ন করে ফেলে মনকে। বেশিক্ষণ এ দ্বীপে থাকলে দ্বীপ থেকে চলে আসার পর কিছুদিন সেই আশ্চর্য অনুভূতি থেকে যায়। পরে অবশ্য আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। 


অদ্ভুত দ্বীপ বাল্ট্রায় কোন গাছ নেই। নেই কোনো পশুপাখি। কোনো পশুপাখি এ দ্বীপে আসতেও চায় না। জোর করে এলেও কোনো পশুপাখিকে বসতি করানো যায়নি। বাল্ট্রার পাশ দিয়ে প্রাণী হেঁটে গেলেও এ দ্বীপে প্রবেশ করেনা।


শুধু তাই নয়, পাখিরাও উড়তে উড়তে বাল্ট্রার কাছে এসেই ফিরে যায়। দেখে মনে হয় যেন কোনো দেয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে ওরা। 


আরেকটি রহস্য হলো ওই দ্বীপটির চারপাশে প্রচুর বৃষ্টি হলেও এর ভেতরে কোন বৃষ্টির ফোটা পড়ে না! এমন অনেক আজব আজব রহস্যের কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।


Join our pageবিশ্ব ও মহাকাশ 

নারী দিবসের প্রতিপাদ্য  "নারীর শরীর আছে, শরীরে একটা মাথাও আছে,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 লেখার শিরোনাম  - নারী দিবসের প্রতিপাদ্য 

"নারীর শরীর আছে, শরীরে একটা মাথাও আছে" 


রোজ রোজ আপনাদের প্রশ্নগুলো দেখি 

ছোট কাপড় পরে  সিডিউস করে!

বড় কাপড় পরে হাজিগীরি ফলায়!

মাঝারি কাপড় পরে নারীবাদী সাজে!

কত জনের সাথে শুয়ে জানি কবি হয়েছে!

কত জনের সাথে হাসাহাসি করে জানি ডিরেক্টর হয়েছে!

কতজনের সাথে গলাগলি করে জানি শিক্ষক হয়েছে

কতজনের সাথে ঢলাঢলি করে জানি নায়িকা হয়েছে!

কতজনকে হস্তমৈথুন করে যেন ঢাকায় ফ্ল্যাটটা কিনেছে!

কতজনকে খুশি করে যেন শহরে ভালো আছে! 

কতজনের বিছানায় গিয়ে জানি গায়িকা হয়েছে! 

কতজনের সংসার ভেঙেছে জানি রূপ দেখিয়ে! 

কতজনের মাথা খেয়েছে এই শরীর দেখিয়ে! 

শরীরটা দেখিয়েই তো করে খাচ্ছে নইলে খুঁজে পাওয়া যেত না! 

শরীর বেচেই তো এত টাকা এখন! 

শরীরটার জন্যতো সব জায়গায় এত তার দাম?

শরীর না থাকলে আর  ডাক্তার হতে পারত! 

শরীর দিয়েই তো বশ করলো ছেলেটারে! 

শরীর দিয়ে ফাঁসাইলো ! 

শরীর, শরীর, শরীর,শরীর।

আর গালিগুলোর দিকে খেয়াল করেন মাগী, খানকি, বেশ্যা, চুতিয়া আরো যত প্রকার আছে নারীর শরীরকেই কেন্দ্র করে।

ওই মেয়ে ভালো করেছে-  শরীর

ওর বাবা নেই ভালো আছে - শরীর

ওই মেয়ে একা আছে নিশ্চয় গোপনে গোপনে- শরীর 

ওর এত অহংকার কি নিয়ে- শরীর

ওই মেয়ের লেখা এত ভালো  - শরীর। 


শরীর শরীর শরীর। 


ভাষার যে রাজনীতি সেটা বোধকরি আমরা বুঝি। বাংলা ভাষার পিতৃতান্ত্রিক গোলোযোগটা বোধহয় আমরা আরো অনুভব করতে পারি। গালি গুলোর দিকে তাকালে, সম্বোধনের দিকে তাকালে আপনার কাছে আরো স্পষ্ট হবে গালিগুলোর তীরবিন্দু আসলে নারীর শরীর।


নারীর একটা শরীর আছে  মনে রাখেন, শুধু ভুলে যান শরীরে একটা মাথাও আছে আর মাথাটা দিয়ে নারী চিন্তাও করে। 


নারীর মাথা আছে ভুলে গিয়ে নিজের যে একটা মাথা আছে সেটারও আর ব্যবহার আপনি করলেন না!


 ফলে কোন কবিতায় ঘাম,

 আর কোন কবিতায় কাম; 

কোন নায়িকা মাঠে  আর কোন নায়িকা খাটে শ্রম দিচ্ছে তা টের পান না।


এইসব গাধার বাচ্চাদের  উপর রাগ নয় বিরক্ত হই। 

কবে গাধাদের দলে একটা লিডার আসবে। এদের লিঙ্গের আগে মাথাটাকে খাটাতে শেখাবে। 


 এই যে শরীরের দামে নিত্য  নারীর কবিতা, গান, সিনেমা কিংবা আরো সকল কর্মসূচিকে বিছানা থেকে বিছানায়, যোনী থেকে স্তনে, নাভিতে দৌড়াদৌড়ি করান ভালো কথা। 

কিন্তু আমার চারটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিন তো-  


১। কবিতা কি স্তন দিয়ে লেখে নাকি মাথা দিয়ে? 

২। গান কি যোনী দিয়ে গায় নাকি কণ্ঠ দিয়ে?

৩। নারীরা যত প্রকার সেবা দেয় সব নারীচিহ্নিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়েই দেয়? 

৪। মাথাটা এখন কই আছে পর্ণে নাকি কর্ণে? 


শুনুন শুনুন, লেখা শেষ করতে গিয়ে মাথায় আসলো! 


আচ্ছা আমার লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে না এই মেয়ে এই লেখাটা লিখবার জন্য যেই বোধ গড়ে উঠলো তার জন্য কতগুলো পুরুষের সঙ্গ নিয়েছিলো?

--- জ্বি আজ্ঞে! আপনিই আমার পুরো লেখার কেন্দ্রবিন্দু। আপনাকে নিয়েই লিখেছি এই লেখা। 

আপনি পুরুষ, নারী, হিজড়া, পরি, জ্বিন যেই হোন 

এই প্রশ্ন যখন মাথায় আসবে উপর থেকে আবার পড়ুন। 

এবং  মহা আনন্দে জানুন এটা আপনিই, এই লেখা আপনাকে উৎসর্গ করা। 

🌼নারী দিবসের শুভেচ্ছা সেই সকল নারীকে যারা শরীরের আগে মাথা খাটিয়ে বাঁচে। 

কামরুন্নাহার মুন্নী

লেখক

(মানুষের পক্ষে)


২৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ 


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

সাহিত্যের স্বরূপ...      কবিতা ব্যাপারটা কী, এই নিয়ে দু-চার কথা বলবার জন্যে ফর্মাশ এসেছে।,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সাহিত্যের স্বরূপ...


     কবিতা ব্যাপারটা কী, এই নিয়ে দু-চার কথা বলবার জন্যে ফর্মাশ এসেছে।


     সাহিত্যের স্বরূপ সম্বন্ধে বিচার পূর্বেই কোথাও কোথাও করেছি। সেটা অন্তরের উপলব্ধি থেকে; বাইরের অভিজ্ঞতা বা বিশ্লেষণ থেকে নয়। কবিতা জিনিসটা ভিতরের একটা তাগিদ, কিসের তাগিদ সেই কথাটাই নিজেকে প্রশ্ন করেছি। যা উত্তর পেয়েছি সেটাকে সহজ করে বলা সহজ নয়। ওস্তাদমহলে এই বিষয়টা নিয়ে যে-সব বাঁধা বচন জমা হয়ে উঠেছে, কথা উঠলেই সেইগুলোই এগিয়ে আসতে চায়; নিজের উপলব্ধ অভিমতকে পথ দিতে গেলে ওইগুলোকে ঠেকিয়ে রাখা দরকার।


     গোড়াতেই গোলমাল ঠেকায় "সুন্দর" কথাটা নিয়ে। সুন্দরের বোধকেই বোধগম্য করা কাব্যের উদ্দেশ্য এ কথা কোনো উপাচার্য আওড়াবামাত্র অভ্যস্ত নির্বিচারে বলতে ঝোঁক হয়, তা তো বটেই। প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ধোঁকা লাগায়, ভাবতে বসি সুন্দর কাকে বলে। কনে দেখবার বেলায় বরের অভিভাবক যে আদর্শ নিয়ে কনেকে দাঁড় করিয়ে দেখে, হাঁটিয়ে দেখে, চুল খুলিয়ে দেখে, কথা কইয়ে দেখে, সে আদর্শ কাব্য-যাচাইয়ের কাজে লাগাতে গেলে পদে পদেই বাধা পাওয়া যায়। দেখতে পাই, ফল্‌স্টাফের সঙ্গে কন্দর্পের তুলনা হয় না, অথচ সাহিত্যের চিত্রভাণ্ডার থেকে কন্দর্পকে বাদ দিলে লোকসান নেই, লোকসান আছে ফল্‌স্টাফকে বাদ দিলে। দেখা গেল, সীতার চরিত্র রামায়ণে মহিমান্বিত বটে, কিন্তু স্বয়ং বীর হনুমান - তার যত বড়ো লাঙ্গুল তত বড়োই সে মর্যাদা পেয়েছে। এইরকম সংশয়ের সময়ে কবির বাণী মনে পড়ে, Truth is beauty, অর্থাৎ সত্যই সৌন্দর্য। কিন্তু সত্যে তখনই সৌন্দর্যের রস পাই,অন্তরের মধ্যে যখন পাই তার নিবিড় উপলব্ধি-- জ্ঞানে নয়, স্বীকৃতিতে। তাকেই বলি বাস্তব। সর্বগুণাধার যুধিষ্ঠিরের চেয় হঠকারী ভীম বাস্তব, রামচন্দ্র যিনি শাস্ত্রের বিধি মেনে ঠাণ্ডা হয়ে থাকেন তাঁর চেয়ে লক্ষ্ণণ বাস্তব - যিনি অন্যায় সহ্য করতে না পেরে অগ্নিশর্মা হয়ে তার অশাস্ত্রীয় প্রতিকার করতে উদ্যত। আমাদের কালো-কোলো আধবুড়ো নীলমণি চাকরটা, যে মানুষ এক বুঝতে আর বোঝে, এক করতে আর করে, বকলে ঈষৎ হেসে বলে, "ভুল হয়ে গেছে", সে বেনারসি-জোর প'রে বরবেশে দৃশ্যটা কি রকম হয় সে কথা তুচ্ছ, কিন্তু সে অনেক বেশি বাস্তব অনেক নামজাদার চেয়ে এই প্রসঙ্গে তাঁদের নাম উল্লেখ করতে কুণ্ঠা হচ্ছে। অর্থাৎ, যদি কবিতা লেখা যায় তবে এ'কে তার নায়ক বা উপনায়ক করলে ঢের বেশি উপাদেয় হবে কোনো বাগ্মীপ্রবর গণনায়ককে করার চেয়ে। খুব বেশি চেনা হলেই সে বাস্তব হয় তা নয়, কিন্তু যাকে চিনি অল্প তবু যাকে অপরিহার্যরূপে হাঁ বলেই মানি সেই আমার পক্ষে বাস্তব। ঠিক কী গুণে যে, তা বিশ্লেষণ করে বলা কঠিন। বলা যেতে পারে, তারা জৈব, তারা organic; তাদের আত্মসাৎ করতে রুচি বা ইচ্ছার বাধা থাকতে পারে, অন্য বাধা নেই। যেমন ভোজ্য পদার্থ, তাদের কোনোটা তিতো, কোনোটা মিষ্টি, কোনোটা কটু; ব্যবহারে তাদের সম্বন্ধে আদরণীয়তার তারতম্য থাকলেও তাদের সকলেরই মধ্যে একটা সাম্য আছে - তারা জৈবিক, দেহতন্তুর নির্মাণে তারা কাজে লাগবার উপযোগী। শরীরের পক্ষে তারা হাঁ-এর দলে, স্বীকৃতির দলে, না-এর দলে নয়।


     সংসারে আমাদের সকলেরই চার দিকে এই হাঁ-ধর্মীর মণ্ডলী আছে - এই বাস্তবদের আবেষ্টন; তাদের সকলকে নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে আমাদের সত্তা আপনাকে বিচিত্র করেছে, বিস্তীর্ণ হয়েছে; তারা কেবল মানুষ নয়, তারা কুকুর বেড়াল ঘোড়া টিয়েপাখি কাকাতুয়া, তারা আসশেওড়ার-বেড়া-দেওয়া পানাপুকুর, তারা গোঁসাইপাড়ার পোড়ো বাগানে ভাঙাপাঁচিল-ঘেরা পালতে-মাদার, গোয়ালঘরের আঙিনায় খড়ের গাদার গন্ধ, পাড়ার মধ্য দিয়ে হাটে যাওয়ার গলি রাস্তা, কামারশালার হাতুড়ি-পেটার আওয়াজ, বহুপুরোনো ভেঙেপড়া ইঁটের পাঁজা যার উপরে অশথগাছ গজিয়ে উঠেছে, রাস্তার ধারের আমড়াতলায় পাড়ার প্রৌঢ়দের তাসপাশার আড্ডা, আরও কত কী - যা কোনো ইতিহাসে স্থান পায় না, কোনো ভূচিত্রের কোণে আঁচড় কাটে না। এদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে পৃথিবীর চারি দিক থেকে নানা ভাষায় সাহিত্যলোকের বাস্তবের দল। ভাষার বেড়া পেরিয়ে তাদের মধ্যে যাদের সঙ্গে পরিচয় হয় খুশি হয়ে বলি "বাঃ বেশ হল", অর্থাৎ মিলছে প্রাণের সঙ্গে, মনের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রাজাবাদশা আছে, দীনদুঃখীও আছে, সুপুরুষ আছে, সুন্দরী আছে, কানা খোঁড়া কুঁজো কুৎসিতও আছে; এইসঙ্গে আছে অদ্ভুত সৃষ্টিছাড়া, কোনো কালে বিধাতার হাত পড়ে নি যাদের উপরে, প্রাণীতত্ত্বের সঙ্গে শরীরতত্ত্বের সঙ্গে যাদের অস্তিত্বের অমিল, প্রচলিত রীতিপদ্ধতির সঙ্গে যাদের অমানান বিস্তর। আর আছে যারা ঐতিহাসিকতার ভড়ং ক'রে আসরে নামে, কারও-বা মোগলাই পাগড়ি, কারও-বা যোধপুরী পায়জামা, কিন্তু যাদের বারো-আনা জাল ইতিহাস, প্রমাণপত্র চাইলে যারা নির্লজ্জভাবে বলে বসে "কেয়ার করি নে প্রমাণ - পছন্দ হয় কি না দেখে নাও"। এ ছাড়া আছে ভাবাবেগের বাস্তবতা - দুঃখ-সুখ বিচ্ছেদ-মিলন লজ্জা-ভয় বীরত্ব-কাপুরুষতা। এরা তৈরি করে সাহিত্যের বায়ুমণ্ডল - এইখানে রৌদ্রবৃষ্টি, এইখানে আলো-অন্ধকার, এইখানে কুয়াশার বিড়ম্বনা, মরীচিকার চিত্রকলা। বাইরে থেকে মানুষের এই আপন-ক'রে-নেওয়া সংগ্রহ, ভিতর থেকে মানুষের এই আপনার-সঙ্গে-মেলানো সৃষ্টি, এই তার বাস্তবমণ্ডলী - বিশ্বলোকের মাঝখানে এই তার অন্তরঙ্গ মানবলোক - এর মধ্যে সুন্দর অসুন্দর, ভালো মন্দ, সংগত অসংগত, সুরওয়ালা এবং বেসুরো, সবই আছে; যখনই নিজের মধ্যেই তারা এমন সাক্ষ্য নিয়ে আসে যে তাদের স্বীকার করতে বাধ্য হই, তখনই খুশি হয়ে উঠি। বিজ্ঞান ইতিহাস তাদের অসত্য বলে বলুক, মানুষ আপন মনের একান্ত অনুভূতি থেকে তাদের বলে নিশ্চিত সত্য। এই সত্যের বোধ দেয় আনন্দ, সেই আনন্দেই তার শেষ মূল্য। তবে কেমন করে বলব, সুন্দরবোধকে বোধগম্য করাই কাব্যের উদ্দেশ্য।


     বিষয়ের বাস্তবতা-উপলব্ধি ছাড়া কাব্যের আর-একটা দিক আছে, সে তার শিল্পকলা। যা যুক্তিগম্য তাকে প্রমাণ করতে হয়, যা আনন্দময় তাকে প্রকাশ করতে চাই। যা প্রমাণযোগ্য তাকে প্রমাণ করা সহজ, যা আনন্দময় তাকে প্রকাশ করা সহজ নয়। "খুশি হয়েছি" এই কথাটা বোঝাতে লাগে সুর, লাগে ভাবভঙ্গি। এই কথাকে সাজাতে হয় সুন্দর ক'রে, মা যেমন করে ছেলেকে সাজায়, প্রিয় যেমন সাজায় প্রিয়াকে, বাসের ঘর যেমন সাজাতে হয় বাগান দিয়ে, বাসরঘর যেমন সজ্জিত হয় ফুলের মালায়। কথার শিল্প তার ছন্দে, ধ্বনির সংগীতে, বাণীর বিন্যাসে ও বাছাই-কাজে। এই খুশির বাহন অকিঞ্চিৎকর হলে চলে না, যা অত্যন্ত অনুভব করি সেটা যে অবহেলার জিনিস নয় এই কথা প্রকাশ করতে হয় কারুকাজে।


     অনেক সময় এই শিল্পকলা শিল্পিতকে ডিঙিয়ে আপনার স্বাতন্ত্র্যকেই মুখ্য করে তোলে। কেননা, তার মধ্যেও আছে সৃষ্টির প্রেরণা। লীলায়িত অলংকৃত ভাষার মধ্যে অর্থকে ছাড়িয়েও একটা বিশিষ্ট রূপ প্রকাশ পায় - সে তার ধ্বনিপ্রধান গীতধর্মে। বিশুদ্ধ সঁগীতের স্বরাজ তার আপন ক্ষেত্রেই, ভাষার সঙ্গে শরিকিয়ানা করবার তার জরুরি নেই। কিন্তু ছন্দে, শব্দবিন্যাসের ও ধ্বনিঝংকারের তির্যক ভঙ্গিতে, যে সংগীতরস প্রকাশ পায় অর্থের কাছে অগত্যা তার জবাবদিহি আছে। কিন্তু ছন্দের নেশা, ধ্বনি-প্রসাধনের নেশা, অনেক কবির মধ্যে মৌতাতি উগ্রতা পেয়ে বসে; গদ্‌গদ আবিলতা নামে ভাষায় - স্ত্রৈণ স্বামীর মতো তাদের কাব্য কাপুরুষতার দৌর্বল্যে অশ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠে।

 

     শেষ কথা হচ্ছে : Truth is beauty। কাব্যে এই ট্রুথ রূপের ট্রুথ, তথ্যের নয়। কাব্যের রূপ যদি ট্রুথ-রূপে অত্যন্ত প্রতীতিযোগ্য না হয় তা হলে তথ্যের আদালতে সে অনিন্দনীয় প্রমাণিত হলেও কাব্যের দরবারে সে নিন্দিত হবে। মন ভোলাবার আসরে তার অলংকারপুঞ্জ যদি-বা অত্যন্ত গুঞ্জরিত হয়, অর্থাৎ সে যদি মুখর ভাষায় সুন্দরের গোলামি করে, তবু তাতে তার অবাস্তবতা আরও বেশি করেই ঘোষণা করে। আর এতেই যারা বাহবা দিয়ে ওঠে, রূঢ় শোনালেও বলতে হবে, তাদের মনের ছেলেমানুষি ঘোচে নি।


     শেষকালে একটা কথা বলা দরকার বোধ করছি। ভাবগতিকে বোধ হয়, আজকাল অনেকের কাছেই বাস্তবের সংজ্ঞা হচ্ছে "যা-তা"। কিন্তু আসল কথা, বাস্তবই হচ্ছে মানুষের জ্ঞাত বা অজ্ঞাত-সারে নিজের বাছাই-করা জিনিস। নির্বিশেষে বিজ্ঞানে সমান মূল্য পায় যা-তা। সেই বিশ্বব্যাপী যা-তা বাছাই হয়ে যা আমাদের আপন স্বাক্ষর নিয়ে আমাদের চারপাশে এসে ঘিরে দাঁড়ায় তারাই আমাদের বাস্তব। আর যে-সব অসংখ্য জিনিস নানা মূল্য নিয়ে হাটে যায় ছড়াছড়ি, বাস্তবের মূল্য-বর্জিত হয়ে তারা আমাদের কাছে ছায়া।


     পাড়ায় মদের দোকান আছে, সেটাকে ছন্দে বা অছন্দে কাব্যরচনায় ভুক্ত করলেই কোনো কোনো মহলে সস্তা হাততালি পাওয়ার আশা আছে। সেই মহলের বাসিন্দারা বলেন, বহুকাল ইন্দ্রলোকে সুরাপান নিয়েই কবিরা মাতামাতি করেছেন, ছন্দোবন্ধে শুঁড়ির দোকানের আমেজমাত্র দেন নি - অথচ শুঁড়ির দোকানে হয়তো তাঁদের আনাগোনা যথেষ্ট ছিল। এ নিয়ে অপক্ষপাতে আমি বিচার করতে পারি - কেননা, আমার পক্ষে শুঁড়ির দোকানে মদের আড্ডা যত দূরে ইন্দ্রলোকের সুধাপান-সভা তার চেয়ে কাছে নয়, অর্থাৎ প্রত্যক্ষ পরিচয়ের হিসাবে। আমার বলবার কথা এই যে, লেখনীর জাদুতে, কল্পনার পরশমণিস্পর্শে, মদের আড্ডাও বাস্তব হয়ে উঠতে পারে, সুধাপানসভাও। কিন্তু সেটা হওয়া চাই। অথচ দিনক্ষণ এমন হয়েছে যে, ভাঙা ছন্দে মদের দোকানে মাতালের আড্ডার অবতারণা করলেই আধুনিকের মার্কা মিলিয়ে যাচনদার বলবে, "হাঁ, কবি বটে', বলবে "একেই তো বলে রিয়ালিজ্‌ম্‌"। - আমি বলছি, বলে না। রিয়ালিজ্‌মের দোহাই দিয়ে এরকম সস্তা কবিত্ব অত্যন্ত বেশি চলিত হয়েছে। আর্ট্‌ এত সস্তা নয়। ধোবার বাড়ির ময়লা কাপড়ের ফর্দ নিয়ে কবিতা লেখা নিশ্চয়ই সম্ভব, বাস্তবের ভাষায় এর মধ্যে বস্তা-ভরা আদিরস করুণরস এবং বীভৎসরসের অবতারণা করা চলে। যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দুইবেলা বকাবকি চুলোচুলি, তাদের কাপড়দুটো এক ঘাটে একসঙ্গে আছাড় খেয়ে খেয়ে নির্মল হয়ে উঠছে, অবশেষে সওয়ার হয়ে চলেছে একই গাধার পিঠে, এ বিষয়টা নব্য চতুষ্পদীতে দিব্য মানানসই হতে পারে। কিন্তু বিষয়-বাছাই নিয়ে তার রিয়ালিজ্‌ম্‌ নয়, রিয়ালিজ্‌ম্‌ ফুটবে রচনার জাদুতে। সেটাতেও বাছাইয়ের কাজ যথেষ্ট থাকা চাই, না যদি থাকে তবে অমনতরো অকিঞ্চিৎকর আবর্জনা আর কিছুই হতে পারে না। এ নিয়ে বকাবকি না করে সম্পাদকের প্রতি আমার অনুরোধ এই যে, প্রমাণ করুন, রিয়ালিস্টিক কবিতা কবিতা বটে, কিন্তু রিয়ালিস্টিক ব'লে নয়, কবিতা বলেই। পূর্বোক্ত বিষয়টা যদি পছন্দ না হয় তো আর-একটা বিষয় মনে করিয়ে দিচ্ছি - বহু দিনের বহুপদাহত ঢেঁকির আত্মকথা। প্রাচীন যুগে অশোক গাছে সুন্দরীর পদস্পর্শ-ব্যাপারের চেয়েও হয়তো একে বেশি মর্যাদা দিতে পারবেন, বিশেষত যদি চরণপাত বেছে বেছে অসুন্দরীদের হয়। আর যদি শুকিয়ে-পড়া খেজুর গাছের উপর কিছু লিখতে চান তা হলে বলতে পারবেন, ওই গাছ আপন রসের বয়সে কত ভিন্ন ভিন্ন জীবনে কত ভিন্ন ভিন্ন রকমের নেশার সঞ্চার করেছে - তার মধ্যে হাসিও ছিল, কান্নাও ছিল, ভীষণতাও ছিল। সেই নেশা যে শ্রেণীর লোকের তার মধ্যে রাজাবাদশা নেই, এমন-কি এম।এ। পরীক্ষার্থী অন্যমনস্ক তরুণ যুবকও নেই যার হাতে কব্জী-ঘড়ি, চোখে চশমা এবং অঙ্গুলিকর্ষণে চুলগুলো পিছনের দিকে তোলা। বলতে বলতে আর-একটা কাব্যবিষয় মনে পড়ল। একটুকু-তলানি-ওয়ালা লেবেল-উঠে-যাওয়া চুলের তেলের নিশ্ছিপি একটা শিশি, চলেছে সে তার হারা জগতের অন্বেষণে, সঙ্গে সাথি আছে একটা দাঁতভাঙা চিরুনি আর শেষ ক্ষয় ক্ষয়ে-যাওয়া সাবানের পাৎলা টুকরো। কাব্যটির নাম দেওয়া যেতে পারে "আধুনিক রূপকথা"। তার ভাঙা ছন্দে এই দীর্ঘনিশ্বাস জেগে উঠবে যে, কোথাও পাওয়া গেল না সেই খোয়ানো জগৎ। এই সুযোগে সেদিনকার দেউলে অতীতের  এই তিনটি উদ্‌বৃত্ত সামগ্রী বিশ্ববিধি ও বিধাতাকে বেশ একটু বিদ্রূপ করে নিতে পারে; বলতে পারে, "শৌখিন মরীচিকার ছদ্মবেশ প'রে বাবুয়ানার অভিনয় করত ওই মহাকালের নাট্যমঞ্চের সঙ - আজ নেপথ্যে উঁকি মারলে তাকে আর চেনাই যায় না; এমন ফাঁকির জগতে সত্য যদি কাউকে বলা যায় তবে তার প্রতীক বাজার-দরের বাইরেকার আমরা ক'টিই, এই তলানি-তেলের শিশি, এই দাঁতভাঙা চিরুনি আর ক্ষয়ে-যাওয়া পাৎলা সাবানের টুকরো; আমরা রীয়ল, আমরা ঝাঁটানি-মালের ঝুড়ি থেকে আধুনিকতার রসদ জোগাই। আমাদের কথা ফুরোয় যেই, দেখা যায়, নটে গাছটি মুড়িয়েছে।" কালের গোয়ালঘরের দরজা খোলা, তার গোরুতে দুধ দেয় না, কিন্তু নটে গাছটি মুড়িয়ে যায়। তাই আজ মানুষের সব আশাভরসা-ভালোবাসার মুড়োনো নটে গাছটার এত দাম বেড়ে গেছে কবিত্বের হাটে। গোরুটাও হাড়-বেরকরা, শিঙভাঙা, কাকের-ঠোকর-খাওয়া-ক্ষতপৃষ্ঠ, গাড়োয়ানের মোচড় খেয়ে খেয়ে গ্রন্থিশিথিল-ল্যাজ-ওয়ালা হওয়া চাই। লেখকের অনবধানে এ যদি সুস্থ সুন্দর হয় তা হলে মিডভিক্‌টোরীয়-যুগবর্তী অপবাদে লাঞ্ছিত হয়ে আধুনিক সাহিত্যক্ষেত্রে তাড়া খেয়ে মরতে যাবে সমালোচকের কশাইখানায়।


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: দিনব্যাপী সফরে আজ ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - যোগ দেবেন খাল ...