এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ৮ মে, ২০২৪

অভ্যাস এবং দাম্পত্য,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 এক সাথে একই বিছানায় ঘুমালেই কিন্তু !!

মানুষটার কাছে যাওয়া যায়না। দুজন মানুষ একশো স্কয়ার ফিটের একটা রুমের ভেতর বছরের পর বছর থেকেও মাঝে মাঝে কাছে আসতে পারেনা।


আমি এরকম বেশ কিছু দম্পতিকে চিনি, যারা বহু বছর পরও সংসারের মানে বুঝে উঠতে পারেনি। সংসার করতে করতে একসময় মানুষ ধরে নেয়, একই বালিশে ঘুমানো, একই টেবিলে খাওয়া, একই রুমে ঘুরাঘুরি করা আর মাঝে মাঝে সঙ্গমে অংশগ্রহন করাটাই সংসার।


ব্যপারটা কি আসলে তাই? তাহলে, কিছু সংসার কখনো কখনো টিকে না কেন? তারাও তো একই বিছানায় ঘুমায়, একই টেবিলে খাবার খায়, একজন অন্যজনকে সঙ্গমে কো-অপারেট করে। তবুও, সংসারগুলো ভাঙে কেন?


তুমি একটা মানুষের সাথে আছো, পাশে আছো, চোখের সামনে আছো। তবুও মাঝখানে একটা দূরত্ব থাকে, এই দূরত্বটা অন্যরকম। বলা যায় না, বুঝানো যায় না, সহ্যও করা যায় না। কারো বুকের উপর শুয়েও মাঝে মাঝে নিজেকে একা লাগে। দাম্পত্য জীবনে আমি আসলে কি চাই?


সবই চাই, যা যা সবাই করে। আমি সেটাও চাই, যেটা অনেকেই করে না। সংসার মানে আসলে অভ্যাস, এই কনসেপ্টটা থেকে আমরা কেন জানি বের হতে পারি না। অভ্যাস অবশ্যই, তবুও সবই কি অভ্যাস?

নতুন কিছুই কি থাকে না? আমরা একই ছাদের নিচে থাকি, অথচ কখনো একসাথে আকাশ দেখি না।


কখনো সমুদ্র পাড়ে বসে কফির মগ হাতে নিয়ে নির্ভরশীলতার কাঁধে মাথা রাখি না। আমরা কখনো জিজ্ঞেস করিনা " তুমি কেমন আছো? তোমার মন খারাপ কেন? আমরা হাত ধরে বসে থাকি না। আমরা সঙ্গম ছাড়া একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরি না।


আমরা বুঝি না, আমার সমস্ত সময় তার সাথে কাটানোর পরও তাকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। আমরা শরীরের দিক থেকে কাছে আসি রোজ রোজ। অথচ, আমাদের মনের দূরত্ব বেড়ে চলে। রান্না করার জন্য বুয়া রাখলেও হয়, সঙ্গমের জন্য পতিতাই এনাফ। তবুও সংসার কেন করা লাগে?


সংসারের ডেফিনেশনটা শুধু নিঃশ্বাসের আদ্রতা অনুভব করার মাঝেই সীমাবদ্ধ না, এর বাইরেও অনেক কিছু থাকে। আমি একা, তুমি একা, আমরা একা; প্রচন্ড রকমের একা। একই বিছানায় নগ্ন শরীরের উপরও একা, সঙ্গম শেষেও আমরা একা।


অথচ, দিনশেষে আমার একটা আশ্রয় প্রয়োজন হয়। একজন মানুষ প্রয়োজন হয়, একটা ব্যক্তিগত নির্ভরশীলতার জায়গা প্রয়োজন হয়। সমঝোতা প্রয়োজন হয়, কারো কন্ঠস্বরে আমার জন্য একটু গভীর ভালোবাসা প্রয়োজন হয়। একটা পবিত্র স্পর্শ প্রয়োজন হয়।


এই স্পর্শটা কামনার স্পর্শ নয়, এটা একটা ভালোবাসার স্পর্শ। কাম ছাড়া ভালোবাসা পূর্নতা পায়না এটা ঠিক, তবে কাম ও যে সবসময় ভালোবাসার জন্ম দিতে পারে না, এটাও ঠিক। সংসারকে অভ্যাস বলে চালিয়ে দেওয়া মানুষরা আসলে ভালোবাসার দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে যেতে চায়।


যে দাম্পত্যে প্রেম থাকে না, সেখানে অভিনয় করে বাঁচতে হয়। এরকম অনেক দম্পতিই আছে, যারা শুধু অভিনয় করেই একটা জীবন একটা অপছন্দের মানুষের সাথে একই ছাদের নিচে কাটিয়ে দেয়। সারাদিন কাজ করে ঘরে ফিরে স্ত্রীকে সময় দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করা স্বামীও নিয়ম করে সঙ্গমটা ঠিকঠাক করে।


ব্যস্ততা আসলে একটা অজুহাত, অত'টা ব্যস্ত আসলে মানুষ থাকে না। চাইলেই একটু সময় বের করা যায়। কি জানি, আমরা হয়তো চাই ই না। প্রাক্তন প্রেমিক প্রেমিকার জন্মদিন আমাদের মনে থাকে। অথচ, নিজের স্ত্রীর জন্মদিনটা মাঝে মাঝে ভুলে যাই। সংসারের গুরুত্বটা যেন তেমন কিছুই না।


যার সাথে সারা জীবন কাটাতে হবে, যার জন্য সারাদিন পরিশ্রম করি। যাকে ভালো রাখার চেষ্টা করি,

মাঝে মাঝে বুঝিই না, সে ভালো নেই। দাম্পত্য জীবনে কলহ থাকবেই। এটাকে ইন্সটেন্ট সমাধান করার ক্ষমতা সবার থাকে না। ঝগড়া হওয়ার পর কান্না কাটি না করে, মানুষটাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকলে কেমন হয়।


মানুষ কি এতটাই নি'ষ্ঠুর, যে ভালোবাসাকে অবহেলা করতে পারে। সংসার শুধু একটা অভ্যাস, এটা থেকে বের হতে হবে। সংসার একটা স্বর্গ, এখানে শুধু যো'নী, লি'ঙ্গ, দুবেলা খাবার আর একই বিছানায় ঘুমানোর বাইরেও প্রেম, ভালোবাসা, নির্ভরশীলতা, গুরুত্ব, প্রায়োরিটি, শ্রদ্ধাবোধ, এডজাস্টমেন্ট সব প্রয়োজন হয়, সব মানে সব।


দাম্পত্য জীবন সুন্দর তখনি হয়, যখন আমরা অভ্যাস থেকে বের হতে পারি। মানুষটা একটা অস্তিত্ব হোক! অধিকার হোক, বেঁচে থাকার ডেফিনেশন হোক। একটা এডিকশন হোক, আমাদের সংসার হোক আমাদের নে'শাগ্রস্থ থাকার অ্যালকোহল। আমাদের মাঝে ভালোবাসার মাদকতা থাকাটা জরুরী, ভীষন জরুরী !!


অভ্যাস এবং দাম্পত্য

কে  ছিলেন জীবনানন্দের বনলতা সেন? কাজী জহিরুল ইসলাম,,,,

 কে ছিলেন জীবনানন্দের বনলতা সেন?

কাজী জহিরুল ইসলাম✍️ 


কবি নয়, এককভাবে বাংলা ভাষার সর্বাধিক পঠিত কবিতা যদি খুঁজতে যাই, দুটি কবিতার নাম উঠে আসে সবার ওপরে। একটি কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী", অন্যটি জীবনানন্দ দাশের "বনলতা সেন"। এই দুটি কবিতা নিয়ে বাংলা সাহিত্যে আলোচনাও হয়েছে সবচেয়ে বেশি। জসীম উদদীনের "নিমন্ত্রণ" এবং "কবর", রবীন্দ্রনাথের "সাধারণ মেয়ে", সুনীলের "কেউ কথা রাখেনি", আল মাহমুদের "সোনালী কাবিন", শামসুর রাহমানের "স্বাধীনতা তুমি", রফিক আজাদের "ভাত দে হারামজাদা", সৈয়দ শামসুল হকের "পরাণের গহীন ভিতর" প্রভৃতিও বহুল পঠিত কবিতা। তবে জীবনানন্দ দাশের "বনলতা সেন" শুধু বহুল পঠিতই নয়, এই কবিতা নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। ভিঞ্চির মোনালিসার মত বনলতা সেন হয়ে উঠেছে বাঙালির এক রহস্যময় নারী চরিত্র। অনেকেই অনুসন্ধান চালিয়ে বের করার চেষ্টা করেছেন কে এই বনলতা সেন? আদৌ কি নাটোরে কোনো অনিন্দ্য সুন্দরী বনলতা সেন ছিলেন, যিনি কুহেলিকাময় কবি জীবনানন্দ দাশকে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলেন?


আমলা, অর্থনীতিবিদ এবং লেখক আকবর আলী খান লিখেছেন, নাটোরে চাকরি করতে গিয়ে ব্রিটিশ আমলের নথিপত্র ঘেঁটে তিনি আবিস্কার করেন একসময় নাটোরে বারবনিতাদের আখড়া ছিল এবং বনলতা সেন তাদেরই একজন। যে স্নিগ্ধ, অনিন্দ্য, মায়াবী ইমেজ বনলতা সেন নামের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে বাঙালি-মানসে, আকবর আলীর এই অনভিপ্রেত আবিস্কারে তাতে বড়োসড়ো একটি ধাক্কা লাগে। কবিতায় লেখা বনলতা সেন বা নীরাকে যদি আমরা এভাবে খুঁজি তাহলে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই জুটবে না। নাটোর এবং বনলতা সেন দুটোই মেটাফোরিক। মেটাফোর বলেই থেমে যাওয়া যেত হয়ত। কল্পনায় এক সুন্দরী বনলতা সেনের ছবি এঁকে নেওয়া যেত। কিন্তু জীবনানন্দ দাশ এমন এক কবি যিনি তার প্রায় সমস্ত সাহিত্যকর্মে নিজেকেই এঁকেছেন। তাই কোনো এক রক্তমাংসের বনলতা সেন যে তাকে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলেন এটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও যায় না। কিন্তু কে সেই বনলতা সেন? শাহাদুজ্জামান রচিত জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক-জীবনীগ্রন্থ "একজন কমলালেবু" পড়তে পড়তে আমি মনে হয় বুঝে ফেলেছি কে সেই বনলতা সেন। তিনি আর কেউ না, তারই কাকাত বোন শোভনা দাশ বেবী। 


শোভনার নিবিড় সান্নিধ্য তিনি মাত্র একবারই পেয়েছিলেন। প্রথম বই "ঝরা পালক" তিনি উৎসর্গ  করেন কোনো এক নামহীন কল্যাণীয়াসুকে। ঝরা পালক বের হয় ১৯২৭ সালে। কে এই কল্যাণীয়াসু তা আমরা জেনে যাই জীবনানন্দের ডায়রি থেকে। বইটি প্রকাশের পর ডাকযোগে কলকাতা থেকে আসামে শোভনা দাশকে তিনি পাঠিয়ে দেন। শোভনা এতে রোমাঞ্চিত হয়েছিলেন এবং উৎসর্গপত্রে নিজেকে আবিস্কার করে বইটি লুকিয়ে রেখেছিলেন।


জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর প্রায় অর্ধশতাব্দী পরে জীবনের শেষ দিককার অনুরাগী ভূমেন্দ্র গুহ খুঁজে বের করেন শোভনাকে। একদিন তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। লাঠিতে ভর দিয়ে বার্ধক্যে উপনীত, ফর্শা, ছিপছিপে, বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার শোভনা ভূমেন্দ্রর সামনে এসে দাঁড়ান। এক পর্যায়ে শোভনা বলেন, 'আমি নিজের জীবন নিয়েই তো ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, মিলুদার কবিতার খোঁজ-খবর আর রাখতে পারিনি...খুব মনে আছে তার প্রথম কবিতার বইটা আমাকে উৎসর্গ করেছিলেন।'


পিতার ব্রাহ্মসমাজ-যোগসূত্রে প্রাপ্ত ব্রাহ্ম এডুকেশন সোসাইটি-প্রতিষ্ঠিত সিটি কলেজের চাকরি চলে গেলে তিনি বরিশালে ফিরে আসেন। এ সময়ে তিনি হতাশ এক যুবক। বাগেরহাটের পিসি কলেজে মাস কয়েকের জন্য একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নেয়া হবে জেনে তাতে যোগ দেন। কিন্তু মেয়াদ শেষে আবার ফিরে আসেন বরিশালে। আয়-রোজগার নেই, কবিতা লিখেও আশানুরূপ স্বীকৃতি কিংবা অর্থ কিছুই মিলছে না। বরং তার কবিতা ও তাকে নিয়ে কলকাতার বোদ্ধা সমাজ ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপই করছে বেশি। ঠিক এই সময়টাতে আসামের বন বিভাগের কর্মকর্তা তার কাকা অতুলানন্দ চিঠি লিখে মিলুকে আসামে যেতে বলেন। কত লোকই তো বনের কাঠ বেচে ধনী হচ্ছে। মিলু চাইলে কাঠের ব্যবসাও করতে পারে। জীবনানন্দের মনে যতটা না প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তার চেয়েও অধিক শোভনার সান্নিধ্য পাবার আগ্রহ মাথাচারা দিয়ে ওঠে। 


আসামে গিয়ে শোভনার নিবিড় সান্নিধ্য তিনি পেয়েছিলেন। আসামের ডিব্রুগড়ে কাটানো সময়কালে তিনি যে শোভনার নিবিড় সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তা তার ডায়রিতে লেখা আছে। শোভনার প্রতি তার প্রেম ছিল তীব্র, সমস্ত জীবন এই প্রেমেই তিনি আচ্ছন্ন ছিলেন, স্ত্রী লাবণ্য দাশের সঙ্গে তার একটি স্বাস্থ্যসম্মত দাম্পত্য সম্পর্ক কখনোই গড়ে ওঠেনি।


কনভেন্টে পড়া শোভনা আর সকলের চেয়ে আলাদা। তার হাঁটাচলা, কথা বলা, সাজ-পোশাক সবই ভিন্ন। গোল বা চৌকোনো নয়, তিনি পরেন সরু চশমা, মাথার মাঝখানে প্রচলিত সিঁথি নয়, তিনি সিঁথি করেন মাথার এক পাশে। জীবনানন্দদের বাড়িতে যৌথ পরিবারের একটি গ্রুপ ছবি আছে। সেই ছবিতে মিষ্টি মুখের তন্বী শোভনাকে দেখা গেছে সামনের দিকে ঝুঁকে বিশেষ এক কায়দায় তাকিয়ে আছেন ক্যামেরা তথা পৃথিবীর দিকে। এই দৃষ্টিই মিলুকে খুন করেছে।


শোভনা তখন হাই স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্রী। নতুন বর্ষার উচ্ছলতা দেহ ও মনে। কনভেন্ট স্কুলের বাস এসে সকালে নিয়ে যায় শোভনা ওরফে বেবীকে। সারাদিন মিলু অপেক্ষা করে কখন ফিরবে তার শোভনা। স্কুল থেকে ফিরলে বাংলোর কোনো এক ঘরে দরজা বন্ধ করে গল্পে মেতে ওঠে দুজন। কথা ওঠে বই উৎসর্গ নিয়েও। শোভনা জানতে চায়, আচ্ছা মিলুদা তুমি আমাকে বইটা উৎসর্গ করতে গেলে কেন? জবাবে জীবনানন্দ তাকে শুনিয়ে দেয় একটি কবিতা 'তুমি এই রাতের বাতাস,/ বাতাসের সিন্ধু-ঢেউ,/ তোমার মত কেউ/ নাই আর।/ অন্ধকার - নিঃসাড়তার/ মাঝখানে/ তুমি আনো প্রাণে/ সমুদ্রের ভাষা,/ রুধিরে পিপাসা,/ যেতেছ জাগায়ে,/ ছেঁড়া দেহ - ব্যাথিত মনে ঘায়ে/ ঝরিতেছে জলের মতন,-/ রাতের বাতাস তুমি, - বাতাসের সিন্ধু- ঢেউ/ তোমার মতন কেউ/ নাই আর।'


এই কবিতা পড়ার পরে কী মনে হয় না যে কবি, প্রেমিক তৈরি হচ্ছেন 'বনলতা সেন' কবিতাটি লেখার জন্য? সেই সময়ে জীবনানন্দ দাশ তার ডায়েরিতে লেখেন, "A (blind) love does so much injury". তিনি তখন শোভনার প্রতি অন্ধ প্রেমে নিমজ্জিত। এরপর তার ডায়েরিতে পাওয়া যায়, " Love & Kiss & everything - but all she refuses on her health ground, hot water bag and all that".


ডিব্রুগড়ের স্মৃতি নিয়ে জীবনানন্দ আরো লিখেছেন - 'এই তো সেদিন/ ডিব্রু নদীর পাড়ে আমরা ঘুরছিলাম/  মনে হয় যেন হাজার বছরের ওপারে চলে গিয়েছ তুমি/ শুধু অন্ধকারে বাবলা ফুলের গন্ধ যখন পাই/ কিংবা কখনও কখনও গভীর রাতে ঘাস মাড়িয়ে/ তারার আলোয় সেই ব্যথিত ঘাসের শব্দ যখন শুনি/ রক্তের বিমূঢ় উত্তেজনায়/ যখন তোমাকে আমি পাখির মত পাখিনীর কাছে পাই'


শোভনাকে তিনি কিছুতেই পাবেন না। এক পরিবারের হলেও আর্থিক সঙ্গতির দিক থেকে মিলু শোভনার স্বামী হবার যোগ্যতা রাখে না। তা ছাড়া হিন্দু সমাজে এ-ধরণের বিয়ে গ্রহনযোগ্য নয়। 


শোভনার ছবি হৃদয়ের কেন্দ্রে নিয়েই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। ততদিনে শোভনাও এই ঘোর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। মিলু দাকে স্বাভাবিক করতেই তিনি চিঠি লিখে জানান, দাদার বিয়েতে অনেক আনন্দ করতে তিনি বরিশালে আসছেন। বিয়ে বাড়িতেও জীবনানন্দ নানান অজুহাতে শোভনার সান্নিধ্য পেতে চেয়েছেন।


বাকী জীবনেও শোভনার সান্নিধ্য পাবার অনেক চেষ্টা তিনি করেছেন কিন্তু শোভনা খুব কমই সাড়া দিয়েছেন। সমস্ত জীবন এই একটি নারীই তার অস্তিত্ব জুড়ে বর্তমান ছিল। ডিব্রুগড়ের বাংলোতে শোভনার সঙ্গে কাটানো দুদণ্ড সময়ই ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। ক্রিস্টোফার মার্লোর সেই বিখ্যাত লাইনের মত, 'হেলেন হে প্রিয়তমা, আমাকে অমর করো একটি চুম্বনে', শোভনার ঠোঁটে ঠোঁট রাখাই হয়ত জীবনানন্দকে অমর করেছে। তিনি লিখেছেন, 


হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে

সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে

অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে

সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,

আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।


ডিব্রুগড়ের ঘটনার প্রায় ৬/৭ বছর পরে বুদ্ধদেব বসুর 'কবিতা' পত্রিকায় ১৯৩৫ সালে ছাপা হয় 'বনলতা সেন'। জীবনানন্দ দাশ ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র এবং অধ্যাপক ছিলেন। পশ্চিমের সাহিত্য, বিশেষ করে কবিতা, প্রচুর পড়তেন। অ্যাডগার অ্যালান পোর 'টু হেলেন' কবিতাটি তার না পড়বার কথা না। নানান সময়ে ডায়েরিতে তিনি যেসব বিদেশি কবির কথা লিখেছেন তাদের মধ্যে পো-এর নামও পাওয়া যায়। অনেকে বলেন, পো-এর টু হেলেন পড়েই তিনি বনলতা সেন কবিতাটি লিখেছেন। আমি মনে করি, সেই কবিতাটির দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে থাকতে পারেন তবে অ্যালান পো'র টু হেলেনের চেয়ে জীবনানন্দের বনলতা সেন অনেক বেশি উঁচু মাপের কবিতা। আজকের এই রচনায় বনলতা সেনকে আবিস্কারের খানিক চেষ্টা করলাম মাত্র। অন্য আরেকদিন কবিতাটির সাহিত্য-মূল্য নিয়ে আলোচনা করবো।


হলিসউড, নিউইয়র্ক। ২১ এপ্রিল ২০২২।

কাজী জহিরুল ইসলাম ✍️❤️

সকাল ০৭ টার সংনাদ তারিখ: ০৮-০৫-২০২৪ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সকাল ০৭ টার সংবাদ

তারিখ: ০৮-০৫-২০২৪


সংবাদ শিরোনাম:


প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আজ - অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন।


প্রকল্প গ্রহণের আগে তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উপকারভোগীদের সুবিধা বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। 


আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে নতুন উৎস হতে রোহিঙ্গাদের জন্য আরো তহবিল সংগ্রহের  আহ্বান শেখ হাসিনার।


চলতি বছর পাঁচ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ - কেউ অবৈধভাবে ধান মজুদ করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি খাদ্যমন্ত্রীর।


নানা আয়োজনে দেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৩-তম জন্মবার্ষিকী।


গাজা ও মিসরের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী রাফাহ সীমান্ত প্রবেশ পথের ফিলিস্তিন অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।


সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিন-শূন্যতে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০২৪

নৌকা ভাসলো মামদো নদীতে রূপান্তরের গল্প ৩৭১ #রূপান্তরেরগল্প

 নৌকা ভাসলো মামদো নদীতে

রূপান্তরের গল্প ৩৭১ #রূপান্তরেরগল্প


ভারী কুয়াশার মধ্যে চলছে গাড়ি। ছোট সড়ক। দুই পাশে মাছের ঘের। একটু এদিক সেদিক হলেই গাড়ি পড়বে খাদে। কী যন্ত্রণায় যে পড়লাম। ওদিকে জামু ভাইয়ের ফোন বন্ধ। আলিফের ফোনে চেষ্টা করছি, কোনো সাড়া নাই। 


রাত দশটা হবে। প্রথম গিয়ারে চলছে গাড়ি। রাস্তা এদিকে এতো সরু! সামনে থেকে আরেকটি গাড়ি আসলে কী যে হবে! কপাল ভালো। এদিকের লোকজন মনে হয় আগেই ঘুমিয়ে যায়। গাড়ির সামনে বসা আমি। চোখ সামনের দিকে। দুই পাশে তাকিয়ে রাস্তা মাপছি আর আগাচ্ছি। 


বংশীপুর থেকে এই রাস্তায় ঢুকেছি আধা ঘণ্টার বেশি হলো। এদিক দিয়ে আগেও চলাফেরা করেছি। গেছি সীমান্ত ঘেঁষা কৈখালীতে। একবার ওদিক দিয়ে ট্রলারে করে সুন্দরবন গেছিলা। সীমান্ত নদী ধরে কাচিকাটায় রাত কাটিয়েছি। উত্তর তালপট্টি পর্যন্ত ঘুরে আবার ফিরেছি। সমুদ্র সীমা নিষ্পত্তির পর দেখতে গিয়েছিলাম আসলে দক্ষিণ তালপট্টি আছে কী না তা দেখতে। 


সেবার মটরসাইকেলে গেছিলাম। এবারের গন্তব্য অবশ্য তারও আগে, কালিঞ্চি। কিন্তু নিজে নিজে পথ চিনে যেতে পারবো না। তার উপর গাড়ি নিয়ে যেতে হিমসিম খাচ্ছি। আধা ঘণ্টার পথকেই অনেক লম্বা মনে হচ্ছে। দুশ্চিন্তার আরেকটি কারণ জামু ভাইকে ফোনে না পাওয়া। আরেকটি সমস্যা হলো, যতো এগুচ্ছি ততোই ফোনের নেটওয়ার্ক কমছে। কমারই কথা। সামনেই ভারত সীমান্ত। 


মিনিট দশ পর একটি সেতু পড়লো। রাস্তা থেকে একটু উঁচু। জামু ভাই একটি ব্রিজ পর্যন্ত আসতে বলেছিলেন। সম্ভবত এটাই সেই ব্রিজ। কারণ এখানেই গাড়ির রাস্তা মনে হচ্ছে শেষ। গাড়ি থামালাম। বলা যায় থামতে হলো।


ফোনটা হাতে নিয়ে নামলাম। তীব্র শীত। কুয়াশার মধ্যে হাল্কা বাতাস দিচ্ছে। একদম হীম শীতল। হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এমনিতে শীত মোকাবেলার অভ্যাস আছে। তবে আজ বেশ কষ্ট হচ্ছে। কারণ ক্ষুধা লেগেছে। সহকর্মী পলিন গাড়ির ভেতর ঘুমাচ্ছেন। পরিস্থিতি যতো জটিলই হোক, তার ঘুমের কোনো সমস্যা হয় না। একবার ভাবলাম ডেকে তুলি। আবার ভাবলাম, থাক। দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে লাভ নাই, নিজের মধ্যেই থাকুক।


ব্রিজের রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছি। মনে হয় নতুন হয়েছে। নিচ দিয়ে বয়ে গেছে একটি মাঝারি খাল। নদীও হতে পারে। পুরো জোয়ার চলছে। তীব্র স্রোত। সেই স্রোতের সাথে চলছে একটার পর একটা ডিঙ্গি নৌকা। কুয়াশায় সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। তবে নৌকা বাওয়ার শব্দ আর জেলেদের কথোপকথন শুনতে পাচ্ছি।


রাত প্রায় এগারোটা। দূর থেকে মটরসাইকেলের শব্দ আসছে। ঘন ঘন হর্ন বাজাচ্ছে চালক। কয়েক মিনিট পর কাছাকাছি এসে থামলো তারা। ভাবছি আমার কাছে জামু আসবেন তো?


ওদিকে টর্চ হাতে কেউ একজন হেঁটে আসছে। ঘন ঘন আলো জ্বলছে আর নিভছে। টর্চের লক্ষ্য আমাদের দিকে। আশায় বুক বাঁধলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে লুঙ্গি পড়া একজন এসে দাঁড়ালেন। গাড়িতে আলো ফেলে নিশ্চিত হলেন। তারপর বললেন, মোহসীন ভাই? বললাম, জামু ভাই নাকী? বললেন, জ্বি ভাই। রাতের বেলা খুব কষ্ট হয়ে গেলো। খেয়া ঘাটে নৌকা ছিলো না। তারপর মটর সাইকেল জোগাড় করতেও দেরি হলো। এই রাতে কে দিবে গাড়ি? 


বললাম,আমাকে একটু জানাবেন তো? অচেনা জায়গায় দাঁড়ানো সেই কতোক্ষণ ধরে। দেখলে কে কী মনে করবে সেটাও ভাবছিলাম। সীমান্ত এলাকায় রাতের বেলা যারা চলাফেরা করা তারা সবাই সবাইকে সন্দেহ করে। অন্ধকারে একটা অঘটনও ঘটে যেতে পারে না? জামু বললেন, এদিকে নেটওয়ার্ক থাকেই না। তার উপর খেয়া পার হতে গিয়ে ফোনটা পানিতে পড়ে গেলো। আমি কি আর বসে আছি ভাই। আপনার সাথে কথা বলার পর পরই রওনা দিলাম। যাই হোক, চলেন। লোকটির মুখ ঢাকা মাফলার দিয়ে। চেহারাটা দেখতে পারলাম না।


একটা মাত্র মটরসাইকেল। মানুষ আমরা তিনজন। তাতেও অসুবিধা ছিলো না। আমাদের ব্যাগ বোঁচকা নিবো কী করে? অবশেষে শুধু শীতের কাপড়, মোবাইল ফোন আর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিষ নিয়ে তৈরি হলাম। গাড়ি ঘুরিয়ে দিলাম। চালককে বললাম, সাতক্ষীরা শহরে গিয়ে থাকবে।  আমি ফোন দিলে চলে আসবে এখানে। 


শুনেছি যাত্রীবাহী মটরসাইকেলকে এদিকে হেলিকপ্টার বলে। এর উৎপত্তি অবশ্য সাইকেল থেকে। এই অঞ্চলে সাইকেলের ক্যারিয়ারের সাথে কাঠের তক্তা বেঁধে আরেক জনের বসার ব্যবস্থা করা হতো। সেজন্যই ওই দুই চাকার বাহনকে মজা করে হেলিকপ্টার বলা হতো। এখন তার জায়গায় নেমেছে ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল। 


সামনে জামু ভাই। তিনিই চালাচ্ছেন। মাঝে আমি, আমার পেছেন পলিন। অন্ধকার ফুঁড়ে চলছে মটরসাইকেল। কোনো রকমে বসেছি। বেশ কষ্ট হচ্ছে। কারণ পাকা রাস্তা থেকে আমরা নেমে পড়েছি ইটের রাস্তায়। মাছের ঘেরের মাঝখানের সরু পথ।  


কিছু দূর গিয়ে মটরসাইকেল থেমে গেলো। নামলাম আমরা। বললাম, ভালো রাস্তা নাই ভাই? মটরসাইকেলে কিক দিতে দিতে বললেন, সোজা রাস্তায় গেলে মানুষ দেখে ফেলবে না? আমরা যে কাজে যাচ্ছি বুঝতে পারেন? বললাম, তা বুঝি। কিন্তু কষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে!


এর মধ্যে মটরসাইকেলের ইঞ্জিন চালু হলো। উঠে বসলাম আবার। তারপর আরও মিনিট কুড়ি চললাম। থামলাম একটি খেয়া ঘাটে। জায়গার নাম কালিঞ্চি। নৌকা ঘাটেই বাঁধা। মটরসাইকেল ঘাটে রেখেই উঠে পড়লাম। উল্টো পাশের লোকালয়ের নাম গোলাখালী। সুন্দরবনের ভেতরে বাংলাদেশের একমাত্র বসতি এটি। দুই দিকে নদী। বাকী দুই পাশে সুন্দরবন। গোলাখালীর সাথে সুন্দরবন একদম লাগানো। মাঝে মাঝেই বাঘ আসে। 


জঙ্গলের পাশ দিয়ে হাঁটছি আমরা। ভেড়ি বাঁধে মাটি কাটা হয়েছে ইদানিং। বাম পাশে জঙ্গল, ডানপাশে মাছের ঘের। হাঁটতে হাঁটতে এক কোণায় পৌঁছালাম। সেখানে ভাসমান একটি ঘর আছে। ভেতরে জ্বলছে কুপি বাতি। 


নাম ধরে ডাক দিলেন জামু ভাই। সাথে সাথেই সাড়া এলো। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসলেন এক বৃদ্ধ। সাথে ছোট্ট একটি ছেলে, বয়স হবে বড়জোর আট বছর। জামু বললেন, মেহমান আসছে। একটু নামো। দেখো কয়টা চিংড়ি মাছ পাও কী না। বললাম, শীতের রাতে কষ্ট করায়েন না ভাই। আমরা ডাল ভাত খাবো। আর কিছু লাগবে না। 


উনি বললেন, আপনি আমাদের সাহেবের মেহমান। ভালো মন্দ না খাওয়ালে হবে? বলেই নেমে পড়লেন ঘেরে। সাথে যোগ দিলেন প্রবীন ব্যক্তি ও তাঁর নাতি। কয়েক মিনিটের চেষ্টা ধরা হলো কেজি পাঁচেক চিংড়ি মাছ, হরিণা চিংড়ি। সাথে বেশ কয়েকটি কাঁকড়া। 


মাছ-কাঁকড়া নিয়ে আবার দশ মিনিট হাঁটলাম। চারপাশে ঘের দিয়ে ঘেরা একটি বাড়িতে ঢুকলাম। এই রাতেও সেখানে ব্যস্ততার শেষ নাই। ভাবী বাচ্চারা রান্নাঘরে কাজ করছে। এর মধ্যে দেশি মুবগির ঝোল হয়েছে। ঘেরের পারশে মাছ ভাজা চলছে। একটু আগে ধরা চিংড়িও রান্না হবে। কাঁকড়াগুলো কাটতে না করলাম। 


রান্না শেষ হতে হতে রাত বারোটা বাজলো। লদিকে ক্ষুধায় কাহিল আমরা। তবে সেকথা বলছি না। এমনিতেই ওদের ব্যস্ততার শেষ নাই। লোকালয়ের শেষ প্রান্তের এই ছোট্ট জনপদ গোলাখালীতে শ খানেক ঘর আছে। জেগে আছে শুধু এই ঘরের মানুষ। 


বড় বড় পারশে মাছ, চিংড়ি ভুনা, দেশি মোরগের ঝোল আর গরম ভাত। সাথে পাতলা ডালও রেঁধেছেন জামু ভাইয়ের স্ত্রী। পলিনসহ বসে পড়লাম। ভরপেট খেয়ে সেখানেই ছেড়ে দিলাম শরীরটাকে। সেই সকালে রওনা দিয়েছি। একটানা প্রায় ষোল ঘণ্টা সফর করেছি আজ। ক্লান্তির কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া উপায় ছিলো না। এর মধ্যে চা হয়েছে। ডাকাডাকি করেও নাকী জাগানো যায়নি আমাকে। 


রাত দুইটার দিকে ঘুম ভাঙলো। দেখি কম্বল, কাঁথা বালিশ নিয়ে তৈরি জামু ভাই। সাথে আরও দুইজন। বাজারের ব্যাগ-বোঁচকা আর কয়েকটি হাঁস-মুরগি নিয়ে দাঁড়ানো। চোখ ডলতে ডলতে উঠলাম। দেখি পলিন দাঁড়ানো। হাতে তার চায়ের কাপ। বললেন, আমরা মনে হয় রওনা দিবো ভাই। আপনি উঠেন। চোখমুখে একটু পানি দেন। তারপর চায়ে চুমুক দেন। 


শীতে কাবু আমরা। ভেড়ি বাঁধের রাস্তা ধরে হাঁটছি। কষ্ট হচ্ছে। শরীরটাকে টেনে নিচ্ছি তবুও। কুয়াশা পড়ে মাটির পথটি বেশ পিচ্ছিল। পা ফেলতে হচ্ছে সতর্কতার সাথে। অবশ্য পলিন এক হাতে আমাকে ধরে আছেন। আরেক হাতে টর্চ। পা টিপে টিপে হাঁটছি। কোন পর্যন্ত যাবো জানি না।


কতোক্ষণ হাঁটবো আমরা? জামু ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম। বললেন, এই তো ভাই। বেশিক্ষণ না। অর্ধেক ভাটায় নদীতে চর জেগে গেছে। নৌকা এই ঘাট পর্যন্ত আনতে পারেনি ওরা। 


হাঁটছি আর ভাবছি মংলা দিয়ে কাজটা কতো সহজ। ট্রলার তৈরি থাকে। বেলায়েত সর্দার বাজার সদা করে তৈরি থাকেন। আমি শুধু গাড়ি থেকে নেমে উঠে পড়ি। আজকেও সুন্দরবনে যাচ্ছি। একটি দস্যুদলের কাছে যাচ্ছি। কিন্তু এবারের পথটি একেবারেই অন্য রকম। একই সাথে ভাবছি, এখানে যদি অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় তবুও তাদের সম্ভব না। সুন্দরবনের ভেতর থেকে অপরাধী ধরা তো আরও দূরের কথা। এদিকে অভিযান চালানো সম্ভব। কিন্তু ততোক্ষণে অপরাধীদের টিকিটিও ছুঁতে পারবে না কেউ। এদিকের বনদস্যু ও চোরাকারবারীরা এই সুযোগটিই নেয়। 


একটি ডিঙ্গি নৌকা ভিড়ানো নদীর পাড়ে। যতোটা সম্ভব কাছাকাছি আনা। আমরা উঠার আগে নৌকার মাঝিরা উঠলো। জিনিষপত্রগুলো রাখলো নৌকায় পাটাতনের তলায়। ভালো করে সেঁচে জমা হওয়া পানি ফেললো। তারপর ছইয়ে ভেতরে পাতা হলো মোটা কম্বল। আরেকটি ভারী কম্বল গায়ে দিবো। বালিশগুলো জামু সাহেবের বাসা থেকে আনা, বেশ আরাম হবে। 


নৌকায় উঠলাম। ছইয়ের ভেতরে ঢুকে বসলাম। শীতের মধ্যে বিষয়টি বেশ উপভোগ করার মতো। গোলপাতার ছইয়ের ভেতরটা বেশ ছোট। তবে আরামের যে ব্যবস্থা রাখা তা বলে বুঝানো যাবে না। 


ঠেলে নামানো হলো নৌকা। পানিতে ভাসলাম। সামেন পেছনে দুইজন মাঝি। ছইয়ের ভেতরে আমি আর পলিন। আমাদের পেছনে বসেছেন জামু ভাই। লোকটি রহস্যময়। নাম শুনেছি তার। কিন্তু তার সাথে মিলাতে পারছি না একদম। আজ তিনিই আমার একমাত্র ভরসা। নিয়ে যাবেন আলিফ ডাকাতের কাছে। 


নৌকা চলছে। কোনো বাতি জ্বালানো হয়নি। কুয়াশা ঘেরা নদীতে কিছুই দেখছি না। মনে মনে ভাবছি কোন জায়গায় আমরা। কিন্তু কিছুতেই মাথায় আসছে না। শেষ পর্যন্ত জামু ভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম, কোন নদীতে আমরা? বললেন, মাহমুদা নদী। এই নদীতে আগেও এসেছি। তবে এর সাথের খালগুলো ভালো চিনি না। বললাম, কতোক্ষণের পথ? উনি বললেন, তা কে কবে? ওরা কোথায় আছে এখন কে জানে? আমরা বাইতে থাকবো, ওরা সিগন্যাল দিয়ে ডেকে নিবে। বললাম, তাহলে নৌকা চলতে থাকুক। আমি একটু ঘুম দেই। 


এমন সফরে আসলে আমার ঘুম আসে না। দুই তিন দিন ঘুমাইনি এমন সময়ও গেছে। তবে আজ ঘুম আসছে। কম্বল টেনে নিলাম। ওম আর ক্লান্তি মিলিয়ে বেশ লাগছে। চোখ বন্ধ করলাম। তবে যতোক্ষণ পারলাম কান খোলা রাখলাম। মাঝিরা একে অন্যের সাথে কথা বলছে। নিচু স্বরে বললেও বুঝতে পারছি। 


ভাটার স্রোতের সাথে চলছি আমরা। নদীটির আনুষ্ঠানিক নাম এখন মাহমুদা। তবে এর মূল নাম মামদো। এখান থেকে সোজা নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে। কম্বল মুড়ি দিয়ে জেলেদের কথোপকথন শুনছি। পেছনের মাঝি জানতে চাইলো, দয়াল আছে কোন খালে? জামু ভাই বললেন, ওই শোব্দে-গুব্দের দিকে যাও।


চলবে....


(২৫ জানুয়ারি ২০১৭, সুন্দরবন)

যারাযারা ম্যাক্সিম গোর্কির বিখ্যাত উপন্যাস 'মাদার' পড়েছেন তারা পাভেল এবং তার মা আনাকে চেনেন। পাভেলের বাবা মাইকেল ভলাসব ছিল কারখানার শ্রমিক।

 যারাযারা ম্যাক্সিম গোর্কির বিখ্যাত উপন্যাস 'মাদার' পড়েছেন তারা পাভেল এবং তার মা আনাকে চেনেন। পাভেলের বাবা মাইকেল ভলাসব ছিল কারখানার শ্রমিক।


ভোর হতে না হতেই কারখানার বাঁশি বেজে ওঠার সাথে সাথে ঢুকে যেত কারখানার ভেতরে। হাতে তুলে নিত হাতুড়ি। সারাদিন সে কারখানার আগুনে কয়লার মত জ্বলে পুড়ে সন্ধ্যার সময় ছাইয়ের মত রাস্তায় এসে পড়ত। সেখান থেকে সোজা চলে যেত ভাটিখানা। হাড়ভাঙা খাটুনি, জীবনের সব হাহাকার, যন্ত্রণা ভুলে থাকতে সারাদিনের রোজগার দিয়ে সস্তার মদ খেত। বাড়ি ফিরে অভুক্ত স্ত্রী আর পুত্রকে ঠ্যাঙাত। তারপর ঘুমিয়ে পড়ত। পরের দিন ভোররাত্রে আবার কারখানা। অত্যাধিক মদ খাওয়ার ফলে অসুস্থ হয়ে কিছুদিনের মধ্যেই মারা গেল সে।


শ্রমিকদের এই দুর্দশার চিত্র শুধু রাশিয়ার একটি শহরের খণ্ডচিত্র নয়। সেই সময় পৃথিবীর যেখানে যেখানে পুঁজিপতি শ্রেণী ও কলকারখানার উদ্ভব হয়েছে, সেই সব অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র।


বাবার মৃত্যুর পর পাভেলও হয়ে গেল কারখানার শ্রমিক। সেও মদ খেয়ে রাতে ফিরতে আরম্ভ করলো। কিন্তু সমাজতন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের সংস্পর্শে এসে সে বদলে গেল। বুঝতে পারল কারখানার কাজের বাইরেও একটি সুস্থ জীবন শ্রমিকদের প্রাপ্য। বুঝতে পারল ফল থেকে যেমন রস নিংড়ে ছিবড়ে ফেলে দেয়, তেমনি মালিক শ্রেণী তাদের জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ নিংড়ে বার করে নিচ্ছে। তারপর ছিবড়ের মতো পড়ে থাকছে জীবন। মে দিবস পালন করতে গিয়ে গ্রেফতার হলো পাভেল। তার নিরক্ষর মা আনা শ্রমিক আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে গেল। তাকে নিয়েই 'মাদার' উপন্যাস।


যদিও রাশিয়ায় নয়, মে দিবসের সূচনা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি ধনতান্ত্রিক দেশে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে ইউরোপ ও আমেরিকায় কলকারখানা এবং পুঁজিপতি শ্রেণীর দ্রুতহারে প্রসার ঘটতে থাকে। সাথে সাথে বাড়তে থাকে শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যা।


'সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত' – এই ছিলো তখনকার দিনে কাজের ঘণ্টা। ১৮০৬ সালে ফিলাডেলফিয়াতে জুতো শ্রমিকদের নেতাদের বিরুদ্ধে যখন ষড়যন্ত্রের মামলা চলছিল, তখন প্রকাশ পায় যে, শ্রমিকদের দিনে উনিশ থেকে কুড়ি ঘণ্টাও খাটানো হচ্ছিল। 


১৮২০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত কাজের সময় কমিয়ে দশ ঘণ্টা করা এবং শ্রমিক শ্রেণীর উন্নতির জন্য কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে ধর্মঘটের পর ধর্মঘট হয় ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। এর ফলে স্থানীয় ভাবে কিছু সফলতা পাওয়া যায়। 


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে ১৮৬৬ খ্রীস্টাব্দের ২০ শে আগস্ট ৬০ টি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে 'ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন' প্রতিষ্ঠা করেন। সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা হলো “এই দেশের শ্রমিক শ্রেণীকে পুঁজিবাদীদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য এই মুহূর্তে প্রথম ও প্রধান প্রয়োজন হলো এমন একটি আইন পাশ করা- যার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত রাজ্যেই সাধারণ কাজের দিন হবে আট ঘণ্টার। এই মহান লক্ষ্য পূর্ণ করার পথে সমগ্র শক্তি নিয়োগ করার সংকল্প আমরা গ্রহণ করছি।”


একই সঙ্গে ঐ বছরেই সেপ্টেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে সদস্যরা উক্ত দাবীর সমর্থন করেন। ১৮৭২ সালে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে সদর দপ্তর স্থানান্তরের পরে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রথম আন্তর্জাতিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৮৭৬ সালে সরকারি ভাবে একে ভেঙে দেওয়া হয়।

যে সমস্ত সংগ্রাম মে দিবসের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত তার সূচনা হয়েছিল ১৮৮৪ সালে। ঐ বছর সেপ্টেম্বর মাসে 'আমেরিকান ফেডারেশন অফ লেবার' নামে একটি শ্রমিক সংগঠন তাদের সম্মেলনে ঘোষণা করে যে - '১৮৮৬ সালের ১লা মে তারিখ থেকে দৈনিক আটঘন্টাকেই কাজের দিন বলে গণ্য করা হবে। আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা আমোদ প্রমোদ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম। সারা দেশ জুড়ে শ্রমিকদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়। ধর্মঘট করার ফলে যে সমস্ত সদস্যকে দীর্ঘকাল কর্মস্থান থেকে বাইরে থাকতে হবে তাদের জন্য ধর্মঘটকালীন সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়। ধর্মঘটের দিন ১লা মে ঘোষণার সাথে সাথে সংগ্রামের ব্যাপকতা বেড়ে যায়। ১৮৮১ সাল থেকে ৮৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ৫০০টি ধর্মঘট হয়। ১৮৮৫ সালে দাঁড়ায় ৭০০টি। ১৮৮৬ সালে ধর্মঘটের সংখ্যা আগের বছরের দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়, সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৭২টি।


১৮৮৬ সালের ১লা মে সমস্ত আমেরিকা জুড়ে শ্রমিক ধর্মঘট হয়। ধর্মঘটের কেন্দ্র ছিল শিকাগো। ধর্মঘট আন্দোলন সেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যাপকতা লাভ করে। তাছাড়াও অন্যান্য শহর, যেমন- নিউইয়র্ক, বালটিমোর, ওয়াশিংটন, মিলওয়াকি, সেন্টলুই, পিটার্সবার্গ, ডেট্রয়েট- ও ১ তারিখের সংগ্রামে সামিল হয়। থমকে যায় কারখানার চাকা, থমকে যায় উৎপাদন। 


ওদিকে মালিকপক্ষ ও সরকার চুপচাপ বসে ছিল না। ৩রা মে শিকাগোতে এক কারখানার ধর্মঘটী শ্রেণিরদের সভায় পুলিশ হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছ'জন শ্রমিককে হত্যা করে এবং বহু শ্রমিক আহত হয়। এর প্রতিবাদে ৪ঠা মে হে মার্কেট স্কোয়ারে একটি সভা হয়। সভা শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছিল এবং সেদিনকার মতো শেষও হতে যাচ্ছিল। এমন সময় বিনা প্ররোচনায় শ্রমিকদের পুলিশ আবার আক্রমণ করে। চারজন শ্রমিক মারা যায়। পার্সনস, স্পাইজ, ফিসার প্রমুখ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয় এবং অনেক সংগ্রামী নেতাকে জেলে পোরা হয়। তাঁদের এই আত্মবলিদান ব্যর্থ হয়নি। তিন বছরের মধ্যেই মে দিবস পরিণত হয় একটি আন্তর্জাতিক দিবসে। 


১৮৮৯ সালে বাস্তিল দূর্গ পতনের শতবার্ষিকী উপলক্ষে নানা দেশ থেকে সমাজতন্ত্রী আন্দোলনের নেতারা প্যারিসে জড় হন। তাঁদের লক্ষ ছিল প্রথম আন্তর্জাতিকের ছাঁচে নতুন একটি সংগঠন তৈরি করা। পরবর্তী কালে যার নাম হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক। এই সম্মেলনেই দেশ বিদেশের প্রতিনিধিরা আমেরিকার প্রতিনিধিদের কাছে শুনতে পেলেন মে দিবসের আট ঘণ্টার কাজের দাবিতে আন্দোলনের কাহিনী। আমেরিকান শ্রমিকদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ১লা মে আন্তর্জাতিক বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলশ্রুতি হিসাবে পরের বছরই ইংল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকা সহ বহু দেশে শ্রমিকেরা ১লা মে ধর্মঘট করে। 

সমাজতন্ত্রীদের স্বর্গ রাজ্য রাশিয়াতে কিন্তু প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯শে এপ্রিল তারিখে। কারণ সেসময় পশ্চিম ইউরোপের ক্যালেন্ডার থেকে রাশিয়ার ক্যালেন্ডার ১৩ দিন পিছিয়ে ছিল।


মে দিবস আন্দোলনে আট ঘণ্টার কাজের দাবির সাথে আরও সব তাৎপর্যপূর্ণ দাবি যুক্ত হয়। যেমন- সার্বজনীন ভোটের অধিকার, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও ঔপনিবেশিক অত্যাচারের বিরোধিতা, মিছিল ও ধর্মঘটের অধিকার, রাজবন্দীদের মুক্তি, শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংগঠন গড়ার অধিকার ইত্যাদি। মালিকপক্ষের সমস্ত দমন ও পীড়নকে অগ্রাহ্য করে মে দিবস শ্রমিকদেত মধ্যে ধীরে ধীরে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করে। লাগাতার আন্দোলনের ফলে তারা অনেক দাবি আদায় করতে সমর্থ হয়। 


বিভিন্ন সংস্কার পন্থী দলের নেতারা বারবার চেষ্টা করেছে মে দিবসের গুরুত্ব খর্ব করতে। সংগ্রামের দিনের পরিবর্তে বিশ্রাম ও আমোদ প্রমোদের দিনে পরিণত করতে। এর জন্য তারা চেষ্টা করত মে দিবস মে মাসের প্রথম রবিবার পালন করতে। কারণ রবিবার শ্রমিকদের ধর্মঘট করার প্রয়োজন হবে না। রবিবার এমনিতেই কারখানা বন্ধ থাকে। ১৯২৮ সালে আমেরিকাতে ১লা মে কে শিশু স্বাস্থ্য দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। লক্ষ যেন তেন প্রকারেণ ১লা মে'র মে দিবস বা কমিউনিস্ট দিবস হিসাবে পরিচিতি নষ্ট করা। 


তবু একশো চল্লিশ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আজও লক্ষ লক্ষ শ্রমিক একই রকম উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সারা পৃথিবী জুড়ে মে দিবস পালন করে। মে দিবস আজও মানুষকে স্বপ্ন দেখায় শোষণ পীড়নমুক্ত সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার পথ প্রস্তুত করার।


©ঐন্দ্রিল ভৌমিক #viralpost #followers #everyone #highlight


ভোর হতে না হতেই কারখানার বাঁশি বেজে ওঠার সাথে সাথে ঢুকে যেত কারখানার ভেতরে। হাতে তুলে নিত হাতুড়ি। সারাদিন সে কারখানার আগুনে কয়লার মত জ্বলে পুড়ে সন্ধ্যার সময় ছাইয়ের মত রাস্তায় এসে পড়ত। সেখান থেকে সোজা চলে যেত ভাটিখানা। হাড়ভাঙা খাটুনি, জীবনের সব হাহাকার, যন্ত্রণা ভুলে থাকতে সারাদিনের রোজগার দিয়ে সস্তার মদ খেত। বাড়ি ফিরে অভুক্ত স্ত্রী আর পুত্রকে ঠ্যাঙাত। তারপর ঘুমিয়ে পড়ত। পরের দিন ভোররাত্রে আবার কারখানা। অত্যাধিক মদ খাওয়ার ফলে অসুস্থ হয়ে কিছুদিনের মধ্যেই মারা গেল সে।


শ্রমিকদের এই দুর্দশার চিত্র শুধু রাশিয়ার একটি শহরের খণ্ডচিত্র নয়। সেই সময় পৃথিবীর যেখানে যেখানে পুঁজিপতি শ্রেণী ও কলকারখানার উদ্ভব হয়েছে, সেই সব অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র।


বাবার মৃত্যুর পর পাভেলও হয়ে গেল কারখানার শ্রমিক। সেও মদ খেয়ে রাতে ফিরতে আরম্ভ করলো। কিন্তু সমাজতন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের সংস্পর্শে এসে সে বদলে গেল। বুঝতে পারল কারখানার কাজের বাইরেও একটি সুস্থ জীবন শ্রমিকদের প্রাপ্য। বুঝতে পারল ফল থেকে যেমন রস নিংড়ে ছিবড়ে ফেলে দেয়, তেমনি মালিক শ্রেণী তাদের জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ নিংড়ে বার করে নিচ্ছে। তারপর ছিবড়ের মতো পড়ে থাকছে জীবন। মে দিবস পালন করতে গিয়ে গ্রেফতার হলো পাভেল। তার নিরক্ষর মা আনা শ্রমিক আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে গেল। তাকে নিয়েই 'মাদার' উপন্যাস।


যদিও রাশিয়ায় নয়, মে দিবসের সূচনা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি ধনতান্ত্রিক দেশে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে ইউরোপ ও আমেরিকায় কলকারখানা এবং পুঁজিপতি শ্রেণীর দ্রুতহারে প্রসার ঘটতে থাকে। সাথে সাথে বাড়তে থাকে শ্রমিক শ্রেণীর সংখ্যা।


'সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত' – এই ছিলো তখনকার দিনে কাজের ঘণ্টা। ১৮০৬ সালে ফিলাডেলফিয়াতে জুতো শ্রমিকদের নেতাদের বিরুদ্ধে যখন ষড়যন্ত্রের মামলা চলছিল, তখন প্রকাশ পায় যে, শ্রমিকদের দিনে উনিশ থেকে কুড়ি ঘণ্টাও খাটানো হচ্ছিল। 


১৮২০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত কাজের সময় কমিয়ে দশ ঘণ্টা করা এবং শ্রমিক শ্রেণীর উন্নতির জন্য কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে ধর্মঘটের পর ধর্মঘট হয় ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। এর ফলে স্থানীয় ভাবে কিছু সফলতা পাওয়া যায়। 


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে ১৮৬৬ খ্রীস্টাব্দের ২০ শে আগস্ট ৬০ টি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে 'ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন' প্রতিষ্ঠা করেন। সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা হলো “এই দেশের শ্রমিক শ্রেণীকে পুঁজিবাদীদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য এই মুহূর্তে প্রথম ও প্রধান প্রয়োজন হলো এমন একটি আইন পাশ করা- যার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত রাজ্যেই সাধারণ কাজের দিন হবে আট ঘণ্টার। এই মহান লক্ষ্য পূর্ণ করার পথে সমগ্র শক্তি নিয়োগ করার সংকল্প আমরা গ্রহণ করছি।”


একই সঙ্গে ঐ বছরেই সেপ্টেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে সদস্যরা উক্ত দাবীর সমর্থন করেন। ১৮৭২ সালে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে সদর দপ্তর স্থানান্তরের পরে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রথম আন্তর্জাতিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৮৭৬ সালে সরকারি ভাবে একে ভেঙে দেওয়া হয়।

যে সমস্ত সংগ্রাম মে দিবসের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত তার সূচনা হয়েছিল ১৮৮৪ সালে। ঐ বছর সেপ্টেম্বর মাসে 'আমেরিকান ফেডারেশন অফ লেবার' নামে একটি শ্রমিক সংগঠন তাদের সম্মেলনে ঘোষণা করে যে - '১৮৮৬ সালের ১লা মে তারিখ থেকে দৈনিক আটঘন্টাকেই কাজের দিন বলে গণ্য করা হবে। আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা আমোদ প্রমোদ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম। সারা দেশ জুড়ে শ্রমিকদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়। ধর্মঘট করার ফলে যে সমস্ত সদস্যকে দীর্ঘকাল কর্মস্থান থেকে বাইরে থাকতে হবে তাদের জন্য ধর্মঘটকালীন সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়। ধর্মঘটের দিন ১লা মে ঘোষণার সাথে সাথে সংগ্রামের ব্যাপকতা বেড়ে যায়। ১৮৮১ সাল থেকে ৮৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ৫০০টি ধর্মঘট হয়। ১৮৮৫ সালে দাঁড়ায় ৭০০টি। ১৮৮৬ সালে ধর্মঘটের সংখ্যা আগের বছরের দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যায়, সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৭২টি।


১৮৮৬ সালের ১লা মে সমস্ত আমেরিকা জুড়ে শ্রমিক ধর্মঘট হয়। ধর্মঘটের কেন্দ্র ছিল শিকাগো। ধর্মঘট আন্দোলন সেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যাপকতা লাভ করে। তাছাড়াও অন্যান্য শহর, যেমন- নিউইয়র্ক, বালটিমোর, ওয়াশিংটন, মিলওয়াকি, সেন্টলুই, পিটার্সবার্গ, ডেট্রয়েট- ও ১ তারিখের সংগ্রামে সামিল হয়। থমকে যায় কারখানার চাকা, থমকে যায় উৎপাদন। 


ওদিকে মালিকপক্ষ ও সরকার চুপচাপ বসে ছিল না। ৩রা মে শিকাগোতে এক কারখানার ধর্মঘটী শ্রেণিরদের সভায় পুলিশ হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছ'জন শ্রমিককে হত্যা করে এবং বহু শ্রমিক আহত হয়। এর প্রতিবাদে ৪ঠা মে হে মার্কেট স্কোয়ারে একটি সভা হয়। সভা শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছিল এবং সেদিনকার মতো শেষও হতে যাচ্ছিল। এমন সময় বিনা প্ররোচনায় শ্রমিকদের পুলিশ আবার আক্রমণ করে। চারজন শ্রমিক মারা যায়। পার্সনস, স্পাইজ, ফিসার প্রমুখ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয় এবং অনেক সংগ্রামী নেতাকে জেলে পোরা হয়। তাঁদের এই আত্মবলিদান ব্যর্থ হয়নি। তিন বছরের মধ্যেই মে দিবস পরিণত হয় একটি আন্তর্জাতিক দিবসে। 


১৮৮৯ সালে বাস্তিল দূর্গ পতনের শতবার্ষিকী উপলক্ষে নানা দেশ থেকে সমাজতন্ত্রী আন্দোলনের নেতারা প্যারিসে জড় হন। তাঁদের লক্ষ ছিল প্রথম আন্তর্জাতিকের ছাঁচে নতুন একটি সংগঠন তৈরি করা। পরবর্তী কালে যার নাম হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক। এই সম্মেলনেই দেশ বিদেশের প্রতিনিধিরা আমেরিকার প্রতিনিধিদের কাছে শুনতে পেলেন মে দিবসের আট ঘণ্টার কাজের দাবিতে আন্দোলনের কাহিনী। আমেরিকান শ্রমিকদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ১লা মে আন্তর্জাতিক বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলশ্রুতি হিসাবে পরের বছরই ইংল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকা সহ বহু দেশে শ্রমিকেরা ১লা মে ধর্মঘট করে। 

সমাজতন্ত্রীদের স্বর্গ রাজ্য রাশিয়াতে কিন্তু প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯শে এপ্রিল তারিখে। কারণ সেসময় পশ্চিম ইউরোপের ক্যালেন্ডার থেকে রাশিয়ার ক্যালেন্ডার ১৩ দিন পিছিয়ে ছিল।


মে দিবস আন্দোলনে আট ঘণ্টার কাজের দাবির সাথে আরও সব তাৎপর্যপূর্ণ দাবি যুক্ত হয়। যেমন- সার্বজনীন ভোটের অধিকার, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও ঔপনিবেশিক অত্যাচারের বিরোধিতা, মিছিল ও ধর্মঘটের অধিকার, রাজবন্দীদের মুক্তি, শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংগঠন গড়ার অধিকার ইত্যাদি। মালিকপক্ষের সমস্ত দমন ও পীড়নকে অগ্রাহ্য করে মে দিবস শ্রমিকদেত মধ্যে ধীরে ধীরে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করে। লাগাতার আন্দোলনের ফলে তারা অনেক দাবি আদায় করতে সমর্থ হয়। 


বিভিন্ন সংস্কার পন্থী দলের নেতারা বারবার চেষ্টা করেছে মে দিবসের গুরুত্ব খর্ব করতে। সংগ্রামের দিনের পরিবর্তে বিশ্রাম ও আমোদ প্রমোদের দিনে পরিণত করতে। এর জন্য তারা চেষ্টা করত মে দিবস মে মাসের প্রথম রবিবার পালন করতে। কারণ রবিবার শ্রমিকদের ধর্মঘট করার প্রয়োজন হবে না। রবিবার এমনিতেই কারখানা বন্ধ থাকে। ১৯২৮ সালে আমেরিকাতে ১লা মে কে শিশু স্বাস্থ্য দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। লক্ষ যেন তেন প্রকারেণ ১লা মে'র মে দিবস বা কমিউনিস্ট দিবস হিসাবে পরিচিতি নষ্ট করা। 


তবু একশো চল্লিশ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আজও লক্ষ লক্ষ শ্রমিক একই রকম উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সারা পৃথিবী জুড়ে মে দিবস পালন করে। মে দিবস আজও মানুষকে স্বপ্ন দেখায় শোষণ পীড়নমুক্ত সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার পথ প্রস্তুত করার।


©ঐন্দ্রিল ভৌমিক #viralpost #followers #everyone #highlight

আলামোহন কিন্তু প্রথম জীবনে ছিলেন সুরেন্দ্র মোহন  প্রশ্ন হল কিভাবে আলামোহন দাস তাঁর এই নাম পেলেন!

 মায়ের হাতে ভাজা মুড়ি  বিক্রি করতে গিয়ে লোকের বাড়ির বারান্দায় বসেছেন, গলাধাক্কাও খেয়েছেন। তারপর সেই মানুষ নিজের পরিশ্রম আর নিষ্ঠার জোরে একদিন হয়ে উঠলেন বিখ্যাত শিল্পপতি, তিনি আলামোহন দাশ একমাত্র বাঙালি শিল্পপতি যাঁর নামে একটা আস্ত শহর গড়ে উঠেছে,হাওড়ার দাশনগর।


নিজের চেষ্টায়  গড়ে তুলেছিলেন একের পর এক কারখানা। জুট মিল, চিনির কারখানা, ওষুধ কোম্পানি, কটন মিল, কী করলেন না? 

ভারত জুট মিল,দাশ মেশিনারি, এশিয়া ড্রাগ কোম্পানি,গ্ৰেট ইন্ডিয়ান স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি,আরতি কটন মিল সহ অনেক নামী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার নাম আলামোহন দাশ।প্রায় একশ বছর আগে তিনি তৈরি করেছিলেন কর্মসংস্থানের সুযোগ। তিনিই তো প্রকৃত অর্থে শিল্পপতি, দাশনগরের প্রতিষ্ঠাতা। 

© জোৎস্না  


আলামোহন কিন্তু প্রথম জীবনে ছিলেন সুরেন্দ্র মোহন 

প্রশ্ন হল কিভাবে আলামোহন দাস তাঁর এই নাম পেলেন!

  আমতা থানার অন্তর্গত খিলা গ্রামে সুরেন্দ্র মোহন দাস এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বয়স যখন মাত্র দুই, তখন তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়েছিলেন এবং স্থানীয় কবিরাজ তাঁকে সুস্থ করতে পারেননি।  অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয় এবং একদিন আত্মীয়রা ছোট্ট শিশুটিকে মৃত ভেবে শ্মশানে নিয়ে যায় কিন্তু তাঁর ছোট মামা হঠাৎ লক্ষ্য করলেন যে সুরেন্দ্র মোহনের চোখের পাতা নড়ছে, জীবনের লক্ষণ দেখাচ্ছে এবং শিশুটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। সবাই শিশুটিকে ‘এলা চেলে’ (প্রাণহীন ছেলে) বলে ডাকতে লাগলেন।  নামটি পরে আলা হয় এবং সুরেন্দ্র মোহন হয় আলামোহন। এই ঘটনাকে মিরাকেল ছাড়া আর কি বলবেন!


মারণ রোগ কালাজ্বরের প্রতিষেধক ইউরিয়া স্টিবামাইন  আবিষ্কার করে স্যার উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু শুধু ওষুধ আবিষ্কার করলেই সেটি রোগীর কাছে পৌঁছয়না। মেশিনে মাপ মত বড়ি কেটে প্যাকিং দরকার। সেই মেশিন বিদেশ থেকে আনতে হবে ততদিন বহু মানুষ মারা যাবেন। উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী, আলামোহন দাশের শরণাপন্ন হলেন, আলামোহন নিজের কারখানায় বাঙালি কারিগরদের দিয়ে ওষুধের বড়ি কাটা ও প্যাকিংয়ের মেশিন তৈরি করে দিলেন। ব্রহ্মচারী মহাশয় অবাক হয়ে গেলেন, তিনি বিশ্বাস করতে পারেন নি এত কম সময়ে এদেশের একজন মানুষ এত কম সময়ে বিদেশের থেকেও ভাল মানের মেশিন তৈরি করতে পারে।


এরপর আসল বিষ্ময় অপেক্ষা করেছিল স্যার উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর জন্য । এগিয়ে এসে উপেন্দ্রনাথ আলামোহন কে তাঁর কর্মক্ষমতার জন্য

ধন্যবাদ দিলেন। তখন আলামোহন বললেন তাঁর বাড়ির বারান্দায় তিনি মুড়ি বেচতেন, সামনের স্কুলের ছেলেরা সেই মুড়ি কিনত।ওই বাড়ির বারান্দায় বসার অপরাধে দারোয়ান তাঁকে গলাধাক্কাও দিয়ে বেরও করে দেয়।এসব শুনে স্যার উপেন্দ্রনাথের চোখে জল ওদিকে আলামোহনও স্যার উপেন্দ্রনাথের হাতে মেশিন তুলে দিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন।


পরাধীন ভারতবর্ষের বাঙালি বিজ্ঞান সাধক আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় আলামোহন সম্পর্কে বলেছেন : “আমার বিশ্বাস আমার দেশবাসীগণ আলামোহন দাশের নাম শুনিয়াছেন। শুধু তাঁহার অসাধারণ কার্য্যকুশলতা দেখিবার সুযোগ পান নাই। যে লোকটি প্রথম জীবনে ৭-৮ বৎসর কলিকাতার রাস্তায় রাস্তায় খৈ-মুড়ি বিক্রয় করিয়া কর্মজীবন শুরু করিয়াছিল সেই আলামোহন ও এই আলামোহন দাশ যে একই লোক এ-কথা চোখে দেখিলেও বিশ্বাস করিতে প্রবৃত্তি হয় না। কয়েকটি মাত্র অক্লান্ত কর্মী সহযোগীর সহিত দিবারাত্র পরিশ্রম করিয়া আলামোহন দাশ যে সব বিরাট শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তুলিয়াছেন তাহা দেখিয়া মনে হয় আমি এক স্বপ্নরাজ্যে আসিয়াছি। আলামোহন দাশের জুটমিল ও তিনটি ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে দেখিয়াছি। এগুলি শুধু কারখানা নহে, মরণোন্মুখ বাঙালীর তীর্থক্ষেত্র।”

সংকলনে ✍🏻 অরুণাভ সেন।।

ধ্রুবতারাদের খোঁজে ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত 


#alamohandas 

#industrialists 

#Howrah

#Dasnagar 


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, হাসিকান্না হীরাপান্না চণ্ডী লাহিড়ী ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন


(Collected)

শাশুড়ীকে সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার কিছু টেকনিক।

 শাশুড়ীকে সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার কিছু টেকনিক।


১.বিয়ের পর পরই সংসারের গিন্নী হতে যাবেন না কারন এই সংসার টাকে তৈরি করেছে আপনার শাশুড়ি তাই তাকে নিজের আপন করে নেন তাহলে সবি আপনার।


২.রান্না করতে গেলে শাশুড়িকে জিজ্ঞাসা করে রান্না করুন,প্রয়োজনে তার পছন্দের খাবার রান্না করুন।


৩.অবসর সময়ে একা সময় না কাটিয়ে শাশুড়ির সাথে তার বিয়ের পরের কথাগুলো জানতে চান,এতে আপনার শাশুড়ি পুরোনো সব স্মৃতিতে ঘুরে আসতে পারবে আপনাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে।


৪.ভালো শাশুড়িদের কিছু ইসলামিক বই শাশুড়িকে উপহার দেন তাহলে অনেকটা উপকার হতে পারে।


৫.নিজের জন্য কিছু শপিং করতে গেলে শাশুড়ির জন্যও কিনে আনুন দেখবেন খুব খুশি হবে।


৬.শাশুড়ির সাথে একসাথে বসে খাওয়া দাওয়া করুন।


৭. শাশুড়ির চুলে তেল দিয়ে দেন,চুল আচড়িয়ে দেন।


৮. শাশুড়িকে শুনিয়ে শুনিয়ে আপনার মায়ের কাছে শাশুড়ির নামে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রশংসা করুন দেখবেন মন গলে যাবে।


৯.শাশুড়ী রেগে বকা দিলে চুপ করে থাকুন,দেখবেন রাগ কমে গেলে নিজ থেকেই কথা বলবে।তর্কে জড়ালে ঝগড়া বাড়বে।


১০.শাশুড়ী অসুস্থ হলে সেবা করুন,বাড়ি থেকে বাইরে গেলে শাশুড়ির অনুমতি নেন।বাসায় ফিরলে বাহির থেকে শাশুড়ির প্রিয় খাবার কিনে আনুন।


১১.আশেপাশের মানুষের কাছে শশুর বাড়ির সবার সম্পর্কে প্রশংসা করুন ইনশাআল্লাহ সবাই ভালোবাসবে।


১২. আর শাশুড়ী কখনো মা হয় না এসব ধারনা মুছে ফেলুন।সব মানুষ এক রকম না তাই মানিয়ে নিতে শিখুন। যদি ভালো লাগে

এটাই আমার পেজ ফলো করুন


ভালোবাসা দিয়েই...

ভালোবাসা অর্জন করা সম্ভব!🙂


ছাতা আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে।

 ছাতা আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে। ঠিক কোথায় এবং কারা প্রথম ছাতা আবিষ্কার করেছিল এই নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলে মিশরীয়রা প্রথম ছাতা আবিস্কার করে আবার কেউ বলে চাইনিজরা। তবে প্রাচীন মিশর, গ্রীস এবং চীন দেশের চিত্রকর্মে ছাতার নিদর্শন পাওয়া যায়। ছাতা প্রথমে ব্যবহৃত হত সুর্যের তাপ থেকে রক্ষা পাবার জন্য এবং মহিলারাই ছিল মুলত ছাতা ব্যবহারকারী। তবে বৃষ্টি প্রতিরোধ করার জন্য প্রথম ছাতার ব্যবহার শুরু করে চাইনিজরা। ছাতা আবিষ্কারের কাহিনী অনেক পুরাতন হলেও অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত ছাতার আকৃতি ছিল অনেক বড় এবং ওজনও ছিল বেশী। যেহেতু ছাতার রডগুলো ছিল কাঠের বা তিমি মাছের কাঁটার এবং হাতল ছিল প্রায় দেড় মিটার লম্বা তাই ছাতার গড় ওজন বেশী ছিল, আনুমানিক ৪-৫কেজি।


ডারউইনের জীবনের এই ১০ তথ্য কি জানতেন? চার্লস রবার্ট ডারউইনের সঙ্গে সবার আগে যে শব্দগুচ্ছ কানে বাজে, তা হল বিবর্তন তত্ত্ব। তবে, তার বিশ্ব ভ্রমণ নিয়েও নানা সময় নানা গল্প শোনা গেছে। এর বাইরেও বেশ ঘটনাবহুল জীবন কেটেছে ডারউইনের। আসুন, তার জন্মদিনে মিলিয়ে নেই তার কোন কোন গল্প জানা আছে আগে থেকেই – ১. একই দিনে জন্মেছিলেন এব্রাহাম লিংকন ও চার্লস ডারউইন এব্রাহাম লিংকন ও ডারউইন দুজনই ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাদের কাজের ক্ষেত্র ছিল বেশ ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শ প্রেসিডেন্টের জন্ম কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে কাঠের গুড়ি দিয়ে তৈরি একটি ঘরে। আর একইসময় কেনটাকি থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ইংল্যান্ডের প্রাচীন শহর শ্রুজব্রি বা শ্রোউজব্রি শহরের এক ধনী পরিবারে জন্ম হয় ডারউইনের। ২. বিবর্তন তত্ত্ব প্রকাশে ২০ বছরের অপেক্ষা রাজকীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস বিগল’-এ ডারউইনের পাঁচ বছরের সমুদ্রযাত্রা শেষ হয়েছিল ১৮৩৬ সালে। এ যাত্রা ডারউইনের অমূল্য গবেষণা অর্থাৎ বিবর্তনে প্রকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্বে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। তবে তার এ যুগান্তকারী ধারণা মানুষ ও ধর্মযাজকদের মধ্যে শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। আর ১৮৫৮ সালের আগ পর্যন্ত বিবর্তন নিয়ে কোনো তত্ত্ব জনসমক্ষে উপস্থাপন করেননি তিনি। পরবর্তীতে, ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের সঙ্গে একটি যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে নিজের তত্ত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যান ডারউইন। এর ঠিক পরের বছরই নিজের মূল কাজ “প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির উৎপত্তি বা জীবের সংগ্রামের মাধ্যমে টিকে থাকা” নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। ৩. দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগেছেন ডারউইন বিশ্ব ভ্রমণের লম্বা সফর শেষে ফিরে আসার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন ডারউইন। এর পর থেকেই একজিমা, বমি ভাব, মাথাব্যথা ও হৃদজনিত রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন তিনি। এমন শারীরিক সমস্যা নিয়ে সারা জীবনই লড়াই করতে হয়েছে ডারউইনকে। অনেকের ধারণা, ভ্রমণের সময় ডারউইন ‘চাগাস’ নামের এক পরজীবীবাহিত রোগে আক্রান্ত হন, যার ফলে তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত এ রোগেই ডারউইনের মৃত্যু হয়েছিল। ৪. তালিকা বানিয়েছিলেন বিয়ের ভাল-মন্দ নিয়ে এমনকি হৃদয় বা অনুভূতির বিষয়েও ডারউইনের যৌক্তিক মতবাদ রয়েছে। নিজের বিয়ের আগে অর্থাৎ ১৮৩৬ সালে বিয়ের ভাল-মন্দ দিক নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন ডারউইন। তালিকার ভাল দিকগুলোর মধ্যে ছিল– ‘বিয়ে’, ‘সন্তান,’ ‘নিত্যনতুন সঙ্গী (ও বৃদ্ধ বয়সে বন্ধু) ... বা কুকুরের চেয়ে ভাল কিছু’ ও ‘বাড়ির যত্ন নেওয়ার মতো কেউ’। আর মন্দ দিকের মধ্যে ছিল– ‘বিয়ে না করা’, ‘যেখানে সেখানে যাওয়ার স্বাধীনতা’, ‘ক্লাবে পটু পুরুষদের কথোপকথন’ ও ‘সময়ক্ষেপণ’। ডারউইনের এই তালিকায় অবশ্য পারিবারিক বন্ধনের জন্য কাউকে বিয়ে করার কথা উল্লেখ না থাকলেও ১৮৩৯ সালে নিজের ফার্স্ট কাজিন এমা ওয়েজউডকে বিয়ে করেছিলেন ডারউইন। ৫. মেডিকেল স্কুল থেকে বেরিয়ে আসা ডারউইনের বাবা একজন সফল ডাক্তার ছিলেন। ছেলেকেও নিজের মতো একজন সফল ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন তিনি। ১৮২৫ সালের গ্রীষ্ম শেষে নিজ বাবার কাছে একজন শিক্ষানবিশ হিসাবে কাজ শুরু করেন ডারউইন। পরবর্তীতে, যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ ‘ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গ’-এর মেডিকেল স্কুলেও পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ডারউইন রক্তপাত ঘৃণা করতেন। এমনকি সে সময় মেডিকেল কলেজের বক্তৃতা শুনেও বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায়, নিজের বাবার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে মেডিকাল স্কুল ছেড়ে দেন ডারউইন। ৬. ১৮ বছর ধরে ১০ পাউন্ডের নোটে ছিল ডারউইনের ছবি ২০০০ সালের শুরুতে ব্রিটিশ ১০ পাউন্ড নোটের পেছনে রাজকীয় জাহাজ ‘এইচএমএস বিগল’-এর একটি ছবি’সহ দাড়িওয়ালা ডারউইনের প্রতিকৃতি ছিল। সে নোটের পেছনে একটি ম্যাগনিফাইং লেন্স, ডারউইনের ভ্রমণে দেখা বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীও দেখা যেত। তবে, ২০১৮ সালে এ ১০ পাউন্ডের নোট ছাপানো বন্ধ করে দেয় ‘ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড’। ৭. ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ কথাটি তার নিজের নয় বিবর্তনবাদের গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি ডারউইনের নিজের হলেও ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ শব্দটি আসলে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইংরেজ দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার। ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত বই ‘প্রিন্সিপালস অফ বায়োলজি’তে ডারউইনের জৈবিক ধারণার সঙ্গে নিজের অর্থনৈতিক ও সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের যোগসূত্র খুঁজে বের করতে প্রথম এই ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি। অন্যদিকে, ১৮৬৯ সালে নিজের বই ‘অরিজিন অফ দ্য স্পিশিজ’-এর পঞ্চম সংস্করণে প্রথমবারর মতো এই শব্দটির ব্যবহার করেন ডারউইন। ৮. সমাহিত হয়েছেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে ডারউইন ১৮৮২ সালের ১৯ এপ্রিল মারা যান। নিজের জীবনের শেষ ৪০ বছর কাটানো গ্রামে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি শুরু করে ডারউইনের পরিবার। তবে এর বিপরীতে, ডারউইনকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে সমাধিস্থ করার জন্য জোর প্রচার শুরু করেন তার বন্ধু ও সহকর্মীরা। সংবাদপত্র ও জনসাধারণের চাহিদার প্রেক্ষিতে ওয়েস্টমিনস্টারের তৎকালীন ডিন এই দাবি মেনে নেন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ইংল্যান্ডের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় গীর্জায় নিজের সহকর্মী বিজ্ঞানী জন হার্শেল ও আইজ্যাক নিউটনের পাশে সমাহিত করা হয় ডারউইনকে। ৯. ছিলেন ধর্মশাস্ত্রের ছাত্র “আমি তখন বাইবেলের প্রতিটি শব্দের কঠোরতা ও আক্ষরিক সত্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করিনি,” পরবর্তী সময়ে লিখেছিলেন ডারউইন। তবে বিশ্ব ভ্রমণ ও তিন সন্তানের মৃত্যুর পর ডারউইনের ধর্মীয় বিশ্বাস নড়বড়ে হতে শুরু করে। তিনি নিজেকে কখনোই নাস্তিক হিসেবে দাবি করেননি। এর পরিবর্তে, নিজেকে একজন অজ্ঞেয়বাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। অজ্ঞেয়বাদ হচ্ছে– এমন দার্শনিক চিন্তা বা ধারণা, যেখানে কোন ঈশ্বর বা পরমসত্ত্বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বা নিরস্তিত্ব উভয়ই মানুষের অজানা ও এটি তাদের দ্বারা কখনও জানা সম্ভব হবে না। ১০. তার বইয়ের পূর্ণ নাম কী ছিল সাধারণভাবে ‘দ্য অরিজিন অফ স্পিশিজ’ নামে বইটি পরিচিত হলেও ডারইউনের লেখা বইটির পূর্ণ নাম হচ্ছে - ‘অন দ্য অরিজিন অফ স্পিশিজ বাই মিনস অফ ন্যাচরাল সিলেকশন, অর দ্য প্রিজার্ভেশন অফ ফেভার্ড রেইসেস ইন দ্য স্ট্রাগল ফল লাইফ’।

ডারউইনের জীবনের এই ১০ তথ্য কি জানতেন?


চার্লস রবার্ট ডারউইনের সঙ্গে সবার আগে যে শব্দগুচ্ছ কানে বাজে, তা হল বিবর্তন তত্ত্ব। তবে, তার বিশ্ব ভ্রমণ নিয়েও নানা সময় নানা গল্প শোনা গেছে। এর বাইরেও বেশ ঘটনাবহুল জীবন কেটেছে ডারউইনের।


আসুন, তার জন্মদিনে মিলিয়ে নেই তার কোন কোন গল্প জানা আছে আগে থেকেই –


১. একই দিনে জন্মেছিলেন এব্রাহাম লিংকন ও চার্লস ডারউইন


এব্রাহাম লিংকন ও ডারউইন দুজনই ১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাদের কাজের ক্ষেত্র ছিল বেশ ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শ প্রেসিডেন্টের জন্ম কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে কাঠের গুড়ি দিয়ে তৈরি একটি ঘরে। আর একইসময় কেনটাকি থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ইংল্যান্ডের প্রাচীন শহর শ্রুজব্রি বা শ্রোউজব্রি শহরের এক ধনী পরিবারে জন্ম হয় ডারউইনের।


২. বিবর্তন তত্ত্ব প্রকাশে ২০ বছরের অপেক্ষা


রাজকীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস বিগল’-এ ডারউইনের পাঁচ বছরের সমুদ্রযাত্রা শেষ হয়েছিল ১৮৩৬ সালে। এ যাত্রা ডারউইনের অমূল্য গবেষণা অর্থাৎ বিবর্তনে প্রকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্বে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। তবে তার এ যুগান্তকারী ধারণা মানুষ ও ধর্মযাজকদের মধ্যে শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। আর ১৮৫৮ সালের আগ পর্যন্ত বিবর্তন নিয়ে কোনো তত্ত্ব জনসমক্ষে উপস্থাপন করেননি তিনি।


পরবর্তীতে, ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের সঙ্গে একটি যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে নিজের তত্ত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যান ডারউইন। এর ঠিক পরের বছরই নিজের মূল কাজ “প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির উৎপত্তি বা জীবের সংগ্রামের মাধ্যমে টিকে থাকা” নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।


৩. দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগেছেন ডারউইন


বিশ্ব ভ্রমণের লম্বা সফর শেষে ফিরে আসার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন ডারউইন। এর পর থেকেই একজিমা, বমি ভাব, মাথাব্যথা ও হৃদজনিত রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন তিনি।


এমন শারীরিক সমস্যা নিয়ে সারা জীবনই লড়াই করতে হয়েছে ডারউইনকে।


অনেকের ধারণা, ভ্রমণের সময় ডারউইন ‘চাগাস’ নামের এক পরজীবীবাহিত রোগে আক্রান্ত হন, যার ফলে তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত এ রোগেই ডারউইনের মৃত্যু হয়েছিল।


৪. তালিকা বানিয়েছিলেন বিয়ের ভাল-মন্দ নিয়ে


এমনকি হৃদয় বা অনুভূতির বিষয়েও ডারউইনের যৌক্তিক মতবাদ রয়েছে। নিজের বিয়ের আগে অর্থাৎ ১৮৩৬ সালে বিয়ের ভাল-মন্দ দিক নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন ডারউইন।


তালিকার ভাল দিকগুলোর মধ্যে ছিল– ‘বিয়ে’, ‘সন্তান,’ ‘নিত্যনতুন সঙ্গী (ও বৃদ্ধ বয়সে বন্ধু) ... বা কুকুরের চেয়ে ভাল কিছু’ ও ‘বাড়ির যত্ন নেওয়ার মতো কেউ’। আর মন্দ দিকের মধ্যে ছিল– ‘বিয়ে না করা’, ‘যেখানে সেখানে যাওয়ার স্বাধীনতা’, ‘ক্লাবে পটু পুরুষদের কথোপকথন’ ও ‘সময়ক্ষেপণ’।


ডারউইনের এই তালিকায় অবশ্য পারিবারিক বন্ধনের জন্য কাউকে বিয়ে করার কথা উল্লেখ না থাকলেও ১৮৩৯ সালে নিজের ফার্স্ট কাজিন এমা ওয়েজউডকে বিয়ে করেছিলেন ডারউইন।


৫. মেডিকেল স্কুল থেকে বেরিয়ে আসা


ডারউইনের বাবা একজন সফল ডাক্তার ছিলেন। ছেলেকেও নিজের মতো একজন সফল ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন তিনি। ১৮২৫ সালের গ্রীষ্ম শেষে নিজ বাবার কাছে একজন শিক্ষানবিশ হিসাবে কাজ শুরু করেন ডারউইন। পরবর্তীতে, যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ ‘ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গ’-এর মেডিকেল স্কুলেও পড়তে গিয়েছিলেন তিনি।


তবে ডারউইন রক্তপাত ঘৃণা করতেন। এমনকি সে সময় মেডিকেল কলেজের বক্তৃতা শুনেও বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায়, নিজের বাবার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে মেডিকাল স্কুল ছেড়ে দেন ডারউইন।


৬. ১৮ বছর ধরে ১০ পাউন্ডের নোটে ছিল ডারউইনের ছবি


২০০০ সালের শুরুতে ব্রিটিশ ১০ পাউন্ড নোটের পেছনে রাজকীয় জাহাজ ‘এইচএমএস বিগল’-এর একটি ছবি’সহ দাড়িওয়ালা ডারউইনের প্রতিকৃতি ছিল। সে নোটের পেছনে একটি ম্যাগনিফাইং লেন্স, ডারউইনের ভ্রমণে দেখা বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীও দেখা যেত।


তবে, ২০১৮ সালে এ ১০ পাউন্ডের নোট ছাপানো বন্ধ করে দেয় ‘ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড’।


৭. ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ কথাটি তার নিজের নয়


বিবর্তনবাদের গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি ডারউইনের নিজের হলেও ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ শব্দটি আসলে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ইংরেজ দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার। ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত বই ‘প্রিন্সিপালস অফ বায়োলজি’তে ডারউইনের জৈবিক ধারণার সঙ্গে নিজের অর্থনৈতিক ও সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের যোগসূত্র খুঁজে বের করতে প্রথম এই ‘সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি।


অন্যদিকে, ১৮৬৯ সালে নিজের বই ‘অরিজিন অফ দ্য স্পিশিজ’-এর পঞ্চম সংস্করণে প্রথমবারর মতো এই শব্দটির ব্যবহার করেন ডারউইন।


৮. সমাহিত হয়েছেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে


ডারউইন ১৮৮২ সালের ১৯ এপ্রিল মারা যান। নিজের জীবনের শেষ ৪০ বছর কাটানো গ্রামে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি শুরু করে ডারউইনের পরিবার।


তবে এর বিপরীতে, ডারউইনকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে সমাধিস্থ করার জন্য জোর প্রচার শুরু করেন তার বন্ধু ও সহকর্মীরা। সংবাদপত্র ও জনসাধারণের চাহিদার প্রেক্ষিতে ওয়েস্টমিনস্টারের তৎকালীন ডিন এই দাবি মেনে নেন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ইংল্যান্ডের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় গীর্জায় নিজের সহকর্মী বিজ্ঞানী জন হার্শেল ও আইজ্যাক নিউটনের পাশে সমাহিত করা হয় ডারউইনকে।


৯. ছিলেন ধর্মশাস্ত্রের ছাত্র


“আমি তখন বাইবেলের প্রতিটি শব্দের কঠোরতা ও আক্ষরিক সত্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করিনি,” পরবর্তী সময়ে লিখেছিলেন ডারউইন।


তবে বিশ্ব ভ্রমণ ও তিন সন্তানের মৃত্যুর পর ডারউইনের ধর্মীয় বিশ্বাস নড়বড়ে হতে শুরু করে। তিনি নিজেকে কখনোই নাস্তিক হিসেবে দাবি করেননি। এর পরিবর্তে, নিজেকে একজন অজ্ঞেয়বাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।


অজ্ঞেয়বাদ হচ্ছে– এমন দার্শনিক চিন্তা বা ধারণা, যেখানে কোন ঈশ্বর বা পরমসত্ত্বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বা নিরস্তিত্ব উভয়ই মানুষের অজানা ও এটি তাদের দ্বারা কখনও জানা সম্ভব হবে না।


১০. তার বইয়ের পূর্ণ নাম কী ছিল


সাধারণভাবে ‘দ্য অরিজিন অফ স্পিশিজ’ নামে বইটি পরিচিত হলেও ডারইউনের লেখা বইটির পূর্ণ নাম হচ্ছে - ‘অন দ্য অরিজিন অফ স্পিশিজ বাই মিনস অফ ন্যাচরাল সিলেকশন, অর দ্য প্রিজার্ভেশন অফ ফেভার্ড রেইসেস ইন দ্য স্ট্রাগল ফল লাইফ’।

সমুদ্র সৈকত বলতে প্রথমেই আমাদের সবার চোখে সামনে কি ভেসে ওঠে

 সমুদ্র সৈকত বলতে প্রথমেই আমাদের সবার চোখে সামনে কি ভেসে ওঠে? ধূসর বালিতে ঢাকা বিস্তীর্ণ তটে ক্রমাগত আছড়ে পড়ছে একের পর এক ঢেউ। কিন্তু ধরুন তো এমন কোনো সমুদ্র সৈকতে আপনি গেছেন যেখানে গিয়ে দেখলেন সেখানে সৈকতের রং স্বাভাবিক নয়, শুধুই লাল। 


ভাবছেন রূপকথার কোনো দেশের গল্প শোনাতে এসেছি আপনাদের সামনে। না সেরকম কোনো ব্যাপার এখানে নেই। আমাদের এই পৃথিবীতে ভূমির প্রকৃতির বৈচিত্রের অন্ত নেই। পৃথিবীতে যে সমস্ত সমুদ্র সৈকত রয়েছে তাদের মধ্যে শুধু ব্যতিক্রম চীনের পানজিয়াং সমুদ্র সৈকত।


গ্রীষ্মের রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়া অথবা বসন্তের লাল পলাশের সৌন্দর্য্য দেখে যদি আপনার মন ভালো লাগে তাহলে এই জায়গা আপনার জন্য একদম পারফেক্ট। একথা নিশ্চিত করে বলতে পারি,এখানে এলে রক্তিম এই সমুদ্র সৈকত আপনাকে নিয়ে যাবে প্রকৃতির এক অন্য জগতে।


চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে মাত্র ৬ ঘন্টা দূরত্বে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতির এই রংবাজি দেখলে আপনিও অবাক হয়ে যাবেন। দূর থেকে এক ঝলক দেখলে মনে হবে,কেউ লাল রঙের কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে গোটা সৈকত জুড়ে।


এই সমুদ্র সৈকত জুড়ে আপনি দেখতে পাবেন শুধু লাল রংয়ের অস্তিত্ব। ভাবছেন লাল রঙের সমুদ্র সৈকত এমনটাও আবার হয় নাকি? হ্যাঁ চীনের এই পানজিয়াং সমুদ্র সৈকতে এলে আপনার এমন অভিজ্ঞতাই হবে। তবে এই লাল রঙের জন্য সমুদ্রের বালি কিন্তু দায়ী নয়। বরং এর পেছনে আছে একটি অন্য গল্প‌


পানজিয়াং এই লাল সমুদ্র সৈকতের পিছনে রয়েছে সুয়েডা নামক এক শৈবালের কাহিনী। পুরো লিয়াওয়া বদ্বীপ জুড়েই দেখতে পাওয়া যায় এই শৈবালের উপস্থিতি। এপ্রিল ও মে মাসের দিকে জন্মানো এই শৈবালগুলির শরৎকালেই আসল রূপ দেখতে পাওয়া যায়। এপ্রিল মে মাসে এলে কিন্তু আপনি এই লাল রং দেখতে পাবেন না। এই সময় জন্মানো সবুজ শৈবালগুলি সমুদ্রের নোনা জল শোষণ করে ক্রমশ পরিবর্তন করতে থাকে তাদের রং।


শরতের শুরুতে এই শৈবালগুলির রং প্রথমে থাকে কমলা,তারপরে গোলাপী এবং সবশেষে টকটকে লাল। বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে অর্থাৎ পরিপূর্ণ শরতের সময় এই সমুদ্র সৈকত এক আলাদাই অনুভূতি। এই সময় দূর থেকে দেখলে মনে হয় কে যেনো লাল রঙের গালিচায় ঢেকে দিয়েছে পুরো পানজিয়াং সমুদ্র সৈকত।


চীনের এই পানজিয়াং সমুদ্র সৈকত শুধু যে তার মনভোলানো রূপের জন্য বিখ্যাত তাই নয় বরং এটি পক্ষী প্রেমীদের জন্য আদর্শ একটি গন্তব্যস্থল। এখানে দেখতে পাওয়া যায় প্রায় ২৬০ রকমের পাখি আর ৩৯৯ রকমের বন্য প্রাণী। তাই এই পশু ও গাছপালা মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে খুব জটিল এক ইকোসিস্টেম।


এছাড়াও এই এলাকায় পাওয়া যায় বিলুপ্তপ্রায় মুকুটধারী সারস পাখি আর কালো ঠোঁটের শঙ্খচিল। এখানে সারস পাখি এতটাই বেশি দেখা যায় যে পানজিয়াংকে অনেক সময় " সারসের ঘর " বলেও অভিহিত করা হয়। ১৯৮৮ সালে এলাকাটিতে গাছপালা ও পশুপাখি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


চীনের উত্তর অঞ্চলে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতের আসল সৌন্দর্য বা রূপ উপলব্ধি করতে হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যেতে হবে। কারণ এই সময় ওই শৈবালগুলির রং এতটাই উজ্জ্বল রক্তবর্ণ হয় যে সেই সৌন্দর্য্য থেকে চোখ ফেরানো যায় না।


প্রধানত লাল এই শৈবালের কারণে এই পানজিয়াং সমুদ্র সৈকতটি চীনের অন্যতম একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে। তবে পর্যটকদের কাছে একটি দুঃখের বিষয় যে পুরো সমুদ্র সৈকতের সব অংশে তাদের যাওয়া নিষেধ। 


পুরো সমুদ্র সৈকতটির কিছুটা অংশ উন্মুক্ত থাকে সকলের জন্য। শুধু তাই নয় দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চালু থাকে এই ব্যবস্থা। অর্থাৎ সেই সময়ের পরে গেলে আপনি এর সৌন্দর্য উপলব্ধি করার সুযোগ হাতছাড়া করতে পারেন।


এই প্রতিবেদন পড়ার পরে যদি চীন ভ্রমণের কথা মাথায় এসে থাকে তাহলে অবশ্যই দেখে আসুন রাজধানী বেইজিং থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকতটি। তবে মাথায় রাখবেন শুধুমাত্র শরৎকাল হলে তবেই উপলব্ধি করতে পারবেন বিচিত্র এই সৈকতের আসল রং ও রূপ।


মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 

 🌿 মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 🌿 ━━━━━━━━━━━━━━━ 🌿 ১️⃣ Mercurius Solubilis 👉 মুখে অতিরিক্ত লালা 👉 মাড়ি ফোলা ও ...