এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

যে কারণে মধ্যবিত্তরা সর্বস্বান্ত হন।,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 যে কারণে মধ্যবিত্তরা সর্বস্বান্ত হন।

১. ভুল জমি বা ফ্লাট কেনা।


দেশে অসংখ্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আছে, এরা বরশি ফেলে বসে আছে টোপ গেলার জন্য এবং এ টোপ হচ্ছে মধ্যবিত্ত। কেনার সময় আপনাকে যে জমি দেখানো হয়েছে আসলে তা হয়তো কেনাই হয়নি। জমির মালিককে মাসে দুহাজার টাকা ভাড়া দিয়ে জমির উপর কোম্পানিটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছে মাত্র।


এ জমি কিনলেন তো বুড়িগঙ্গায় কষ্টের টাকা বিসর্জন দিলেন। সর্বস্ব হারানো মানুষটির এসব মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কিছুই করার থাকে না। আশেপাশে তাকালেই এদের হাতে পথের ফকির হওয়া অনেককেই দেখবেন।


উল্টাপাল্টা ডেভেলপার থেকে ফ্লাট কিনলেও একই দশা অপেক্ষা করছে।


একটি ভুল জমি বা ফ্লাট ইকুয়াল টু বাকি জীবনের কান্না।


২. অস্বাভাবিক ডিসকাউন্ট দেওয়া কোম্পানি।


এরা পঞ্চাশ হাজার টাকার জিনিস দশ হাজার টাকায় অফার করবে। কমদাম দেখে মধ্যবিত্তরা ঝাঁপ দেবেন। এর মধ্যে সামান্য কয়েকজনকে পণ্য সরবরাহ করা হবে, বাকি অসংখ্য অর্ডারকারিকে দেবে না, সোজা কথায় তাঁদের টাকা মেরে দেওয়া হবে। বঞ্চিতরা এ কোম্পানির মালিককে জীবনেও ধরতে পারবেন না। কারণ তাঁদের টাকায় সে টাউট ইতোমধ্যে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে, গড়ে তুলেছে মাস্তান বাহিনী, চড়ে বুলেট প্রুফ গাড়িতে, বাস করে দূর্গে। ক্ষমতাহীন মধ্যবিত্তের সাধ্য নেই তাকে ধরার।


৩. ক্রেডিট কার্ড।


নগদ টাকা বের হয়ে যাওয়ার সময় যেমন মন খচখচ করে করে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনার সময় তা করে না। তাই সব কিছু কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে। একবারও মনে আসে না যে, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি প্রায় ত্রিশ পার্সেন্ট সুদ আরোপ করবে। মানে ১০০ টাকার জিনিস আসলে আপনি কিনছেন ১৩০ টাকায়। এটি এমন একটি গর্ত, যেখানে ঢুকা যায়, কিন্তু বের হতে জান বেরিয়ে যায়। মিনিমাম পেমেন্টের গাড্ডায় পড়লে তো জান যাবে কিন্তু ওই গর্ত থেকে বেরুতে পারবেন না।


৪. শেয়ার বাজার।


এটি এমন একটি সুড়ঙ্গ যার ওপর পারে অপেক্ষা করছে অভিজ্ঞ খেলোয়ারেরা। ভালোভাবে এ বাজার না বুঝে সে সুড়ঙ্গে টাকা ঢুকালেন তো অপর প্রান্তে অপেক্ষামান ফিল্ডাররা ক্রিকেট বলের মতো তা খপ করে লুফে নেবে। তার মানে আপনি আউট! পারমানেন্ট আউট। জীবনেও আর খেলার সুযোগ পাবেন না। এরকম আউট হওয়া হতভাগ্য খেলোয়ার আশেপাশেই দেখতে পাবেন।


৫. অতিরিক্ত মুনাফার লোভ।


যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রচলিত বা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ মুনাফা বা সুদের চাইতে বেশি অফার করে তখনই সে প্রতিষ্ঠানে লাল পতাকা কল্পনা করবেন। মানে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি লালবাতি জ্বালিয়ে ভাগবে, তার টিকিটার খোঁজও আপনি পাবেন না। এরা তো জ্বীন-ভূত না যে বাজারের প্রতিষ্ঠিত অতি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের চাইতে বেশি মুনাফা দেবে! এটা কি সম্ভব? এদের হাতে কি আলাদীনের চেরাগ আছে? না নেই। তবে আপনার আমানতের টাকায় এ চেরাগ তারা নিজেদের জন্য তৈরি করছে। যেদিন চেরাগটি পুরোপরি জ্বলবে সেদিন আপনার টাকা বস্তায় ভরে ম্যাজিক কার্পেটে চড়ে এরা গায়েব হয়ে যাবে।


কার্পেট রেডি, কেবল উড়াল দেওয়ার অপেক্ষা।


৬. ব্যাবসা করার জন্য অন্যকে টাকা দেওয়া।


আমি এমন মানুষ খুব কম দেখেছি যারা অন্যকে ব্যাবসা করার জন্য টাকা দিয়ে সব হারান নি। দুটো কারণে এটা হয়। প্রথমত যিনি ব্যবসার জন্য টাকা নিয়েছেন তিনি নিজেই মার খেয়েছেন, ফেরত কোত্থেকে দেবেন? দুই নম্বর হলো টাকা মেরে দেওয়া। কয়েকমাস লাভ দিয়ে তারপর অস্বীকার! লাভ তো দূরের কথা আসলই ফেরত পাওয়া যায় না। তাই ব্যাবসা যদি নিজে বুঝেন তাহলে করবেন, না বুঝে লাভের আশায় অন্যকে টাকা দিলেন মানে ব্যাংকের চেক কাটলেন না, নিজের ভাগ্যকেই নিজে কেটে দিলেন। দুনিয়ার কোনো সার্জনের সাধ্য নেই তা জোড়া লাগানোর।


৭. অন্ধ প্রতিযোগিতা।


আমাদের একটা বাজে অভ্যাস হলো অন্যদের সাথে অন্ধ প্রতিযোগিতা। পাশের বাসায় ৪২ ইঞ্চি টিভি কেনা হয়েছে! আমারও কিনতে হবে। কেউ গাড়ি কিনেছে! ধারকর্জ করে আমাকেও কিনতে হবে। ফলাফল হচ্ছে, পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়া। এ ইঁদুর দৌড়ের কারণে যখন জীবনে ঘোর বর্ষা নামবে তখন হাতে ছাতা থাকবে না। ফালতু প্রতিযোগিতার কারণে সে ছাতা তো কবেই বিক্রি করে দিয়েছি!


তাহলে কী করবেন?


উত্তর: উপরের কোনোটিই করবেন না। টাকাও নিরাপদ থাকবে, আপনিও নিরাপদ থাকবেন। হাতের ছাতা হাতেই থাকুক, বর্ষাকালের জন্য।


সবার জন্য শ্রদ্ধা, শুভকামনা।


*************************ধন্যবাদ ।।।।

👇

please follow my page 

👇

নলেজ-Knowledge

মসলিন শিল্পের বিলুপ্তি: এক অন্যতম সংবেদনশীল কাপড় বোনার প্রক্রিয়ার হারিয়ে যাওয়া

 মসলিন শিল্পের বিলুপ্তি: এক অন্যতম সংবেদনশীল কাপড় বোনার প্রক্রিয়ার হারিয়ে যাওয়া!


১৮৫১ সালে মসলিন ব্যবসা যখন ব্রিটিশ বণিকদের হাতে, তখন ব্রিটেনে রানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স আলবার্টের উদ্যোগে একটি ‘গ্রেট এক্সিবিশন’ করা হয়, যেখানে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় এক লাখ চমকপ্রদ জিনিস যোগাড় করে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক বিশালতা ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তির ব্যাপারে ইউরোপীয় অভিজাতদের ধারণা দেওয়া। আশ্চর্যজনকভাবে অনুষ্ঠানের আলো কেড়ে নেয় ‘ঢাকাই মসলিন’। ব্যাপক আলোচনা হয় এর সূক্ষ্মতা নিয়ে। একে আলোয় নিয়ে আসার জন্য বাহবার অংশীদার হয় ব্রিটিশ অভিজাতেরা। আর নেটিভরা থাকে প্রাদপ্রদীপের আড়ালে।


উপমহাদেশে ব্রিটিশ বণিকদের আগমনের পূর্বে দীর্ঘদিন ঢাকাই মসলিনের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে মুঘলরা। বংশানুক্রমে তাঁতিরা মসলিন তৈরি করে গেছে, তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মধ্য এশিয়া, আরব, ইউরোপীয় বণিকেরা বিপুল মুনাফায় বিক্রি করেছে। মুঘলরা আয় করেছে এ বাণিজ্যের শুল্ক থেকে। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মসলিন বোনা হতো, গুজরাট থেকে শুরু করে বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল তালিকায়। এর মধ্যে কদর বেশি ছিল ঢাকাই মসলিনেরই।


ভারতে ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তন ও দিল্লীর কেন্দ্রে মুঘল শাসনের কঙ্কালসার দশার ফলে পুরো ব্যবসার চক্রটি বদলে যায়, ফুটি কার্পাস চাষি ও মসলিন তাঁতিদের স্বার্থের চেয়ে লাভের ব্যাপারটি মুখ্য হয়ে উঠে, একেকটি মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকার্য করতে দরকার ছিল এক বছরের কাছাকাছি সময়, কিন্তু সেই তুলনায় ছিল না পারিশ্রমিক বা স্বীকৃতি। গবেষকদের ধারণা, কঠিন এবং বিশেষায়িত এই শ্রমের যোগ্য মজুরি না পেয়ে ও ঋণের বোঝায় পিষ্ট হয়ে কাজ ছেড়েছে মসলিন তাঁতিরা।


তাঁতিদের কাছ থেকে মসলিন কেনার ব্যবসাটিকে ব্রিটিশরা নিজেদের করে নেয়, দামের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাদের হাতে। দীর্ঘ সময় নিয়ে সূক্ষ্ম কাজের পুরো সময়টায় তাঁতির হাত খালি, প্রয়োজন মেটাতে তার দরকার ঋণ, সরল চাষিদের দাদন বা অগ্রীম ঋণ দিয়ে শোষণ করার ঘটনা শুধু মসলিনে নয় সব স্থানীয় শিল্পেই ঘটেছে। এছাড়া ভারতবর্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল সরিয়ে নেওয়া। ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লবের ফলে মেশিনে বোনা সূক্ষ্ম বস্ত্র বাজারে আসতে শুরু করে, আর বংশানুক্রমে আঁকড়ে ধরে থাকা মসলিন তাঁতিরা পেশা পরিবর্তন করে, কেউ ঋণের চাপে, কেউ মুনাফালোভী বণিকদের অত্যাচারে হারিয়ে যেতে থাকে।


এভাবেই সময়ের সাথে ঢাকাই মসলিন ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়, বংশানুক্রমে কয়েকশত বছর ধরে চলে আসা মসলিনের তাঁতগুলো বন্ধ হয়ে যায়, হারিয়ে যায় পৃথিবীর অন্যতম সংবেদনশীল এক কাপড় বোনার প্রক্রিয়া।


তথ্যসূত্র: 

ক। বিবিসি ফিউচার, জারিয়া গোরভেট

খ। উইকিপিডিয়া 

গ। রোর বাংলা, শাহ মো. মিনহাজুল আবেদীন।


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

সকাল ০৭ টার সংবাদ তারিখ: ১৪-০৫-২০২৪

 সকাল ০৭ টার সংবাদ

তারিখ: ১৪-০৫-২০২৪


সংবাদ শিরোনাম:


হজ্বযাত্রীদের ভিসা অনুমোদনের সময় বাড়াতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। 


বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর জন্য স্পিকারের আহ্বান।


কারো মদদে বিএনপি চাঙ্গা হয়ে যাবে সে পরিস্থিতি তাদের নেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের। 


পদ্মা সেতু নিয়ে যারা সমালোচনা— করেছিলেন, জাতির কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ — বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


দীর্ঘ দুই মাস পর দেশের মাটিতে নোঙর করেছে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ।


ভারতের মুম্বাইয়ে আকস্মিক ধূলিঝড়ে ১২ জন নিহত।


গোপালগঞ্জে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী।

সোমবার, ১৩ মে, ২০২৪

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ 

 বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ। এটি ২০১৮ সালের ১১ মে (বাংলাদেশ সময় ১২ মে) কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশ।


১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি সদ্য স্বাধীনতা লাভ করা দেশের তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে চালু করেন দেশের প্রথম এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এটি একটি মাইলফলক ঘটনা। বঙ্গবন্ধুর মতো এমন একজন প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী নেতা জীবিত থাকলে বাংলাদেশ যে অনেক আগেই মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণ করত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে, তার সুযোগ্য কন্যা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন দূরদর্শী রাষ্ট্র নেতা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৩ বছর পর ২০১৮ সালের ১২ মে তাঁর সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা, স্পেস ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।


সকাল ০৭ টার সংবাদ তারিখ: ১৩-০৫-২০২৪

 সকাল ০৭ টার সংবাদ

তারিখ: ১৩-০৫-২০২৪


সংবাদ শিরোনাম:


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ – গড় পাশের হার ৮৩ দশমিক শূন্য-চার - শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমাতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে - বললেন প্রধানমন্ত্রী।


বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ইতালির ব্যবসায়ীদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান।


দেশ পরিচালনা করছে জনগণের সরকার, অদৃশ্য শক্তির ধারণা বিএনপির মানসিক ট্রমা - মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।


রাজধানীর তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে - জানালেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী।


গণমাধ্যম কর্মী আইনে সাংবাদিকদের প্রাপ্য সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে - বললেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।


ভারতে আজ অনুষ্ঠিত হবে লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ।


আহমেদাবাদে আজ রাতে আইপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরস্পরের মোকাবেলা করবে কোলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্স।

একটি  বিশেষ সতর্কতা মূলক পোষ্ট।

 একটি বিশেষ সতর্কতা মূলক পোষ্ট।


বাঁচতে হলে জানতে হবে। মিনিকেট চালের ভাত গরমকালেও অনেকক্ষণ ভালো থাকে! আহারে! কত ভালো চাল! তাইনা?


আসুন জেনে নিই আসলেই কি আমরা ভালো চাল খাচ্ছি?নাকি আবর্জনা?


❌ মিনিকেট নামে কোন ধান চাষ হয়না বাংলাদেশে। 

তাহলে, এই চাল বাজারে আসে কোথা থেকে- এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ, মিনিকেট চাল তৈরী হয় কারখানায়।


🌾দেশী জাতের ধান (মোটা চালের) চালকলে আসার পর শুরু হয় তেলেসমাতি। প্রথমে ধানের খোসা ছাড়ান হয়। খোসা ছাড়ানোর পর চালের অকৃত্রিম/ন্যাচারাল রঙে কিছুটা খয়েরি/বাদামি আভা থাকে। এরপর কেমিক্যাল ও হোয়াইটনার মেশিনের মাধ্যমে চালের খয়েরি/বাদামি আভার আবরণটিকে আলাদা করা হয়। এই আবরণটি বাদ দেওয়ার পর চাল কিছুটা সরু ও সাদা হয়। এখানেই শেষ নয়, পলিশার মেশিনের মাধ্যমে পলিশ করলেই হয়ে গেল মিনিকেট চাল।


🗣️এবার প্রশ্নের তীর তাক করে কেউ বলতেই পারেন- মোটা চালকে এতোভাবে প্রসেস করে মিনিকেট বানালে তো চাল ব্যবসায়ীর ক্ষতি। 

এবার ক্ষতির হিসেবটা করা যাক- ১০০০কেজি মোটা চাল প্রসেস করে মিনিকেট বানালে সাধারণত চাল পাওয়া যায় ৯৩৩কেজি, সাদা খুদ ২৬.৫ কেজি, কালো খুদ ১৪কেজি, মরা চাল ৪.৫ কেজি, ময়লা ০.৭৫ কেজি এবং পলিশ ২৭ কেজি। যোগ করলে দেখা যায় এক হাজার কেজি চাল প্রসেস করার পর পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬কেজি বেশী। 

এই ছয় কেজি হচ্ছে জলীয় বাষ্প ও পানি। রাইস ব্রান তেল কারখানাগুলো পলিশ কিনে নেয়, সাদা খুদ বাজারে চালের অর্ধেক দামে বিক্রি হয়। কালো খুদ আর মরা চাল পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি হয়। ভাবছেন চাল প্রসেসের খরচ কত? ১০০০কেজি মোটা চাল প্রসেস করে মিনিকেট বানাতে খরচ হয় মাত্র ৯০০টাকা হতে ১৫০০টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৯০পয়সা থেকে দেড় টাকা।


🤔মোটা চাল প্রসেস করে মিনিকেট বানিয়ে বিক্রেতা একটু বেশী লাভ করলে ক্রেতার ক্ষতি কি? 

ছোট ক্ষতি হচ্ছে ক্রেতা চিকন চালের দামে মোটা চাল কিনছেন, অর্থাৎ কেজিতে ১৫থেকে ২০টাকা পর্যন্ত ঠকছেন। বড় ক্ষতি হলো কেজিতে ১৫ থেকে ২০টাকা বেশী দিয়ে মিনিকেট চাল নয়, ক্রেতা কিনছেন মোটা চালের আবর্জনা। কারণ, প্রসেস করার মাধ্যমে চালের উপরি আবরণ (bran অর্থাৎ pericarp, seed coat, aleurone layer, embryo) বা পুষ্টিকর অংশ বাদ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, চালের সর্বমোট ৮৫ ভাগ ভিটামিন B3 থাকে pericarp–এ, প্রোটিন আর ফ্যাট থাকে Aleurone layer -এ, খনিজের ৫১ ভাগ ও মোট আঁশের ৮০ ভাগ থাকে bran –এ, ভিটামিন B1 ও ভিটামিন E থাকে embryo -তে। চালের সব পুষ্টিকর উপাদান তেলের মিলে বিক্রির জন্য প্রসেস করে আলাদা করার পর চাল আর চাল থাকেনা, হয়ে যায় চালের আবর্জনা।


❌ মিনিকেট চাল নামে চালের আবর্জনাকে যতোটা ক্ষতিকর মনে করছেন বাস্তবে আরও বেশী ক্ষতিকর। মোটা চালকে মিনিকেটে রূপান্তর করার বিভিন্ন পর্যায়ে সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড + টুথপেস্ট +এরারুটের মিশ্রণ, সোয়াবিন তেল, ফিটকারি, বরিক পাউডার ব্যবহার করা হয়। প্রতি মৌসুমেই বের হয় নিত্য নতুন কৌশল।


❌ মিনিকেট চালে কখনো পোকা ধরেনা। কারণ পোকাও জানে এই চাল খাওয়ার যোগ্য নয়, এতে পুষ্টিগুণ নেই। 

অথচ দেখতে সুন্দর এই অখাদ্যকে আমি আপনি আমাদের পরিবার কে নিশ্চিন্তে খাওয়াচ্ছি এবং নিজেরাও খাচ্ছি! 

কিন্তু কেন!?😕


✨শুধু চাল নয়, এমন আরও হাজারো অখাদ্য, আবর্জনা আমরা প্রতিনিয়ত খেয়ে যাচ্ছি জেনে- না জেনে আর তার ফলাফল স্বরূপ ভুগতে হচ্ছে কঠিন কঠিন রোগে সেই সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছি এক ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনব্যবস্থা! 

হিসেব টা মেলানো খুবই সহজ, বাড়িতে কোনো মুরব্বী থাকলে একটু জেনে নিতে হবে আগেকার দিনে তারা কেমন খাবার খেয়ে জীবন যাপন করেছে আর তাদের রোগ বালাই কেমন ছিলো এবং তাদের চিকিৎসা-ই বা কেমন ছিলো।

আজকের দিনে আমরা হাজারো নিত্য নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আর নিত্য নতুন ঔষধ সেবন করে চলেছি যা একটা রোগকে ঠিক করে আরো শত রোগের জন্ম দিচ্ছে আমাদের শরীরে। এ যেনো এক চোরাবালির মধ্যে ডুবে আছি আমরা।


"সুস্বাস্থ্য যেমন

সকল সুখের মূল, 

ঠিক তেমন

স্বাস্থ্যকর খাবার সুস্বাস্থের মূল।"


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

রবিবার, ১২ মে, ২০২৪

পিরোজপুরের মাদ্রাসাছাত্রী আমিনাকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদসূচক চিঠি 

 পিরোজপুরের মাদ্রাসাছাত্রী আমিনাকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদসূচক চিঠি দেখে বোঝা যায় সেই সময় রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয়তা সকল প্রকার বাঙালীর কাছে কত বেশি ছিলো! সময়টা ১৯৪০ এর দিকে। আমিনার পোশাক এবং চিঠিতে আমিনার নিজের নামের আগে 'কুমারী' শব্দের ব্যবহারটাও লক্ষণীয়।


শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন মহাফেজখানায় রবীন্দ্রনাথের কয়েক হাজার চিঠির সচিবকৃত অবিকল নকল সংরক্ষিত আছে। কবির হাতে লেখা মূল চিঠি প্রাপকের কাছে ডাকে পাঠানোর আগে তাঁর সচিব চিঠির অনুলিপি করে রাখতেন। তাঁকে লেখা ভক্ত–অনুরাগী ও অন্যদের মূল চিঠি কবি সযত্নে রক্ষা করতেন।


এমনই একটি চিঠি রবীন্দ্রভবনের নথিতে পাওয়া যায় দুই দশক আগে। চিঠিটি জনৈক কিশোরী আমিনা মোজাহারের লেখা। তারিখ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭ বঙ্গাব্দ। তৎকালীন বৃহত্তর বরিশালের অবিভক্ত বাকেরগঞ্জ জেলার পিরোজপুর মহাকুমার স্বরূপকাঠি থানার আকলম গ্রাম থেকে পাঠানো কয়েক লাইনের সম্বোধনহীন ছোট চিঠি। নিচে লেখিকার ঠিকানা: চতুর্থ শ্রেণি, আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা, স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


কাজী আমিনা মোজাহার কাজী মোজহার উদ্দীন আহমদ ও হাকিমুন্নেছার কন্যা। স্বরূপকাঠির আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসার ওই তালেবে এলেম- পরবর্তীতে বরিশাল সৈয়দানুন্নেসা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯৪৭), ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে আইএ (১৯৪৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং এমএ (১৯৫৮) পাস করেন। হলি ক্রস কলেজ ও ময়মনসিংহ মুমিনুন্নেসা কলেজে শিক্ষকতার পর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি সওগাতসহ অন্যান্য সাময়িকপত্রে রচনা প্রকাশ করেন এবং ভাষা ও বিরচন নামে পাঠ্যবই লেখেন। পরিণত বয়সে আমিনা চারণ করেছেন তাঁর রবীন্দ্রস্মৃতি। পাঠ্যবইয়ে আর চয়নিকায় কবির কবিতার সঙ্গে প্রথম পরিচয় তাঁর। প্রবেশিকা পাঠ্য বাংলা সংকলনে ‘শা–জাহান’ কবিতার আবৃত্তি শুনেছিলেন। পাঠ্যবইয়ে শামসুন্নাহার মাহমুদ ও আনোয়ারা [বাহার] চৌধুরীর লেখা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে প্রবন্ধ পড়েছেন। তাঁর নিজের কথায়:


‘আমি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একটা মধুর আত্মীয়তা অনুভব করতে লাগলাম। আর এই স্পর্ধাটুকুই তাঁকে চিঠি লিখতে উদ্বুদ্ধ করলো আমাকে।...একদিন অতি সঙ্গোপনে বাড়ির সবাইকে লুকিয়ে একখানা চিঠি লিখে ফেললাম।’


এক গরমের দুপুরে পোস্টমাস্টার আমিনার বাবাকে ডেকে পাঠালেন। মোজহার উদ্দীন রবীন্দ্রনাথের প্রতীক [মনোগ্রাম] আঁকা চিঠিটি মেয়েকে দিলেন।

চিঠি পাওয়ার পর বালিকার প্রতিক্রিয়া:

‘আমি পড়তে পারলাম না। আমার সমস্ত হৃদয়মন বারবার শিহরিত হতে লাগল। আমি বিছানায় শুয়ে কাঁদলাম। বাবাও জোহরের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে মোনাজাত করতে করতে কাঁদলেন।’ (উদ্ধৃত, কাজী সাইফুদ্দীন ওমর, ‘স্বরূপকাঠির প্রত্যন্ত পল্লীগ্রামে রবীন্দ্রনাথের চিঠি’)।


আমিনার যে সম্বোধনহীন চিঠির আশীর্বাদী উত্তর দিয়েছিলেন কবি, সেই চিঠির পাঠ:


➡️ আকলম

১৩ই জ্যৈষ্ঠ

আপনি আমাকে চিনেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। বাংলা বইয়ের মধ্যে আপনাকে দেখেছিও। আপনি আমাদের ছোট ছেলেমেয়েদের খুব ভালবাসেন। আবার আমরা চিঠি লিখলে উত্তরও নাকি দেন। তাই আমি চিঠি লেখছি (ক.) উত্তর দিবেন কিন্তু। আচ্ছা আপনাকে কি বলে ডাকব?

কুমারী আমিনা মোজাহার

চতুর্থ শ্রেণী

আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা

পো. স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


↔️ কবির ছোট আশীর্বাদী চিঠির বয়ান:

GOURIPUR LODGE

KALIMPONG

কল্যাণীয়াসু

তোমার চিঠিখানি পেয়ে খুশি হলুম। আমার আশীর্বাদ গ্রহণ কর। ইতি ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭

শুভার্থী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


ছবিতে সেই আমিনা মোজাফফর যাকে রবীন্দ্রনাথ পত্র পাঠান।


⭕ এমন সব পোস্ট দেখতে চাইলে ফলো করুন। ⭕

সকাল ০৭ টার সংবাদ তারিখ: ১২-০৫-২০২৪

 সকাল ০৭ টার সংবাদ

তারিখ: ১২-০৫-২০২৪


সংবাদ শিরোনাম:


এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে আজ - ফল হস্তান্তর করা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।


দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে টেকসই কৌশল উদ্ভাবনের জন্য প্রকৌশলীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান।


ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের সঙ্গে শত্রুতা করে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল বিএনপি - বললেন ওবায়দুল কাদের।


দেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে সবধরণের পদক্ষেপ নেবে সরকার - জানালেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।


গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাফাহ থেকে আরো কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ ইসরাইলের।


আজ মিরপুরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম ও শেষ  ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়ের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

শনিবার, ১১ মে, ২০২৪

এক কোম্পানীতে ছিলো এক পিপড়া। সে প্রতিদিন ৯টায় অফিসে ঢুকতো। তারপর কারো সঙ্গে সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে কাজে বসে যেত

 🤨এক কোম্পানীতে ছিলো এক পিপড়া। সে প্রতিদিন ৯টায় অফিসে ঢুকতো। তারপর কারো সঙ্গে সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে কাজে বসে যেত।


সে যে পরিমাণ কাজ করত, তাতে কোম্পানির উৎপাদন হতো প্রচুর এবং এর ফলে সে আনন্দের সঙ্গেই জীবন নির্বাহ করত।


ওই অফিসের সিইও সিংহ অবাক হয়ে দেখত, এই পিঁপড়াটি কোনো ধরনের সুপারভিশন ছাড়াই প্রচুর কাজ করছে। সিংহ ভাবল, পিঁপড়াকে যদি কারও সুপারভিশনে দেওয়া হয়, তাহলে সে আরও বেশি কাজ করতে পারবে।


কয়েক দিনের মধ্যেই সিংহ একটি তেলাপোকাকে পিঁপড়ার সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ দিল। সুপারভাইজার হিসেবে এই তেলাপোকাটির ছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, আর সে দুর্দান্ত রিপোর্ট লিখতে পারত।


তেলাপোকাটি প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিল, এই অফিসে একটি অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম থাকা উচিত।


কয়েক দিনের মধ্যেই তেলাপোকার মনে হলো, তার একজন সেক্রেটারি দরকার, যে তাকে রিপোর্ট লিখতে সাহায্য করবে। … সে একটা মাকড়সাকে নিয়োগ দিল এই কাজে যে সব ফোনকল মনিটর করবে, আর নথিপত্র রাখবে।


সিংহ খুব আনন্দ নিয়ে দেখল যে তেলাপোকা তাকে প্রতিদিনের কাজের হিসাব দিচ্ছে আর সেগুলো বিশ্লেষণ করছে গ্রাফের মাধ্যমে। ফলে খুব সহজেই উৎপাদনের ধারা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাচ্ছে এবং সিংহ সেগুলো বোর্ড মিটিংয়ে ‘প্রেজেন্টেশন’ আকারে পেশ করে বাহবা পাচ্ছে।


কিছুদিনের মধ্যেই তেলাপোকার একটি কম্পিউটার ও লেজার প্রিন্টার প্রয়োজন হলো এবং এগুলো দেখভালের জন্য আইটি ডিপার্টমেন্ট গঠন করল। আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেল মাছি।


আমাদের কর্মী পিঁপড়া, যে প্রতিদিন অফিসে এসে প্রচুর কাজ করে মনের সুখে গান গাইতে গাইতে বাসায় ফিরত, তাকে এখন প্রচুর পেপার ওয়ার্ক করতে হয়, সপ্তাহের চার দিনই নানা মিটিংয়ে হাজিরা দিতে হয়।


নিত্যদিন এসব ঝামেলার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটায় উৎপাদন কমতে লাগল, আর সে বিরক্ত হতে লাগল।


সিংহ সিদ্ধান্ত নিল, পিঁপড়া যে বিভাগে কাজ করে, সেটাকে একটা আলাদা ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে সেটার একজন ডিপার্টমেন্ট প্রধান নিয়োগ দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।


সিংহ ঝিঁঝিপোকাকে ওই ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিল। ঝিঁঝিপোকা প্রথম দিন এসেই তার রুমের জন্য একটা আরামদায়ক কার্পেট ও চেয়ারের অর্ডার দিল।


কয়েক দিনের মধ্যেই অফিসের জন্য স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করতে ঝিঁঝি পোকার একটি কম্পিউটার ও ব্যক্তিগত সহকারীর প্রয়োজন হলো। কম্পিউটার নতুন কেনা হলেও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ঝিঁঝিপোকা নিয়োগ দিল তার পুরোনো অফিসের একজনকে।


পিঁপড়া যেখানে কাজ করে, সেখানে আগে ছিল চমৎকার একটা পরিবেশ। এখন সেখানে কেউ কথা বলে না, হাসে না। সবাই খুব মনমরা হয়ে কাজ করে।


ঝিঁঝিপোকা পরিস্থিতি উন্নয়নে সিংহকে বোঝাল, ‘অফিসে কাজের পরিবেশ’ শীর্ষক একটা স্টাডি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।


পর্যালোচনা করে সিংহ দেখতে পেল, পিঁপড়ার বিভাগে উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।


কাজেই সিংহ কয়েক দিনের মধ্যেই স্বনামখ্যাত কনসালট্যান্ট পেঁচাকে অডিট রিপোর্ট এবং উৎপাদন বাড়ানোর উপায় বাতলে দেওয়ার জন্য নিয়োগ দিল।


পেঁচা তিন মাস পিঁপড়ার ডিপার্টমেন্ট মনিটর করল, সবার সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলল। তারপর বেশ মোটাসোটা একটা রিপোর্ট পেশ করল সিংহের কাছে। ওই রিপোর্টের সারমর্ম হলো, এই অফিসে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী বেশি। কর্মী ছাঁটাই করা হোক।


পরের সপ্তাহেই বেশ কয়েকজন কর্মী ছাঁটাই করা হলো। বলুন তো, কে সর্বপ্রথম চাকরি হারাল?


ওই হতভাগ্য পিঁপড়া। কারণ, পেঁচার রিপোর্টে লেখা ছিল, ‘এই কর্মীর মোটিভেশনের ব্যাপক অভাব রয়েছে এবং সর্বদাই নেতিবাচক আচরণ করছে, যা অফিসের কর্মপরিবেশ নষ্ট করছে।


সংগৃহীত..

কাদম্বরীদেবী মারা যাওয়ার পর স্বজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘তাঁকে ভালোবাসি’...

 কাদম্বরীদেবী মারা যাওয়ার পর স্বজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘তাঁকে ভালোবাসি’...


১৯০৮ সালের মে মাস! এক ঊনষাট বছরের পুরুষ ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় আনমনে লিখে রাখছেন কিছু শব্দের কোলাজ—


‘আজ আমার জন্মদিন— ৫৯ বৎসরে পদার্পণ করলুম— মেজো বৌঠানের কাছে ধুতি-চাদর-রুমাল ও পাঞ্জাবী পেলাম— মেজদাদা একটা বই দিয়েছেন— বৈকালে কোলদের নাচ হল— পানিবাবু— নরেন ডাক্তার এসেছিলেন—’


জন্মদিনে এইটুকু পাওয়া? এইটুকু মাত্র স্বীকৃতি হয়তো প্রাপ্য ছিল না মানুষটার। ওই ডায়েরির পাতা থেকে জানা যায়, ডায়েরি লেখকের লেখা ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ নাটকটিও নাকি অভিনয় করা হয়েছিল সেদিন। অনেকেই এইবার অনুমান করে নিয়েছেন, কার কথা বলছি। এই উদাসী শব্দগুলি যিনি লিখেছিলেন, তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির অত্যন্ত প্রতিভাবান এক সদস্য। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সারদা সুন্দরী দেবীর ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। ১৮৪৯ সালের ৪ মে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়। বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। রূপে, গুণে, উৎসাহে, উদ্দীপনায় সেই আমলের প্রতিভাবান তরুণ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ একদিকে নাটক লিখছেন, অন্যদিকে অনুবাদ করছেন অদ্ভুত ক্ষিপ্রতায়। ‘সরোজিনী’, ‘অলীকবাবু’— এই নাটক দুটি অত্যন্ত সাড়া ফেলেছিল তখনকার নাট্যমহলে। বাংলা নাট্যসাহিত্যে অদ্ভুতনাট্যের ধারা তিনিই নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বহুভাষাবিদ ছিলেন। গান লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন, জমিদারি পরিচালনা করেছেন, স্বদেশি স্টিমারের প্রচলন করেছেন। ঠাকুরবাড়ির হিন্দুমেলা, স্বদেশী সভা, ভারতী পত্রিকা, তাঁতের কাপড় কল প্রতিষ্ঠা, শিকার ও বন্দুক চালনা শেখানো, সর্বজনীন পোশাকের প্রচলন— সব তাঁর উদ্যোগে সম্ভব হয়েছে। দেবেন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মসভার সম্পাদকও ছিলেন তিনি। সেতার, পিয়ানো, ভায়োলিন, হারমোনিয়াম বাজাতেন অনায়াসে। বীণাবাদিনী নামে একটি সঙ্গীত বিষয়ক পত্রিকা  প্রকাশ করতেন। তাঁর আঁকা ছবি দেখে রোটেনস্টাইন মুগ্ধ হয়েছিলেন। বর্তমানে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা অনেক ছবি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে।লালন ফকিরের একমাত্র ছবিটি তাঁরই আঁকা। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নীলচাষ করে অর্থ উপার্জন করেছিলেন একসময়। খুলনা ও বরিশালের ভিতর দিয়ে স্টিমার চলার প্রয়োজনে স্টিমারের শেল কিনেছিলেন তিনি। পরে তা ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করে জাহাজ চালু করেন— সরোজিনী নামে। তারপর ফ্লোটিলা নামের ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ভাগ্যের পরিহাসে এই জাহাজের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিভাবান  এই যুবক নিজের অজান্তে আরো একটি কাজ করে গিয়েছেন। একটি কিশোর ছেলেকে নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে মুগ্ধ ও আবিষ্ট করে গিয়েছেন। সেই কিশোর ছেলেটি একদিন বিশ্বকবি হবেন। জগৎ জোড়া তাঁর নাম! সেদিনের কিশোর রবি তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের শেষে পৌঁছেও জ্যোতিদাদার কথা বলবেন বারবার। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ বালককেও শ্রদ্ধা করতে জানতেন। তাই রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা বিকশিত হয়েছিল নিজের মতো করে। একটা সময় জ্যোতিরিন্দ্রনাথই ছিলেন রবীন্দ্রনাথের পরম নির্ভরতার জায়গা। একথা কোনোদিন অস্বীকার করেননি রবীন্দ্রনাথ।


জ্যোতিরিন্দ্রনাথের স্ত্রী কাদম্বরী ছিলেন ঠাকুরবাড়ির কর্মচারী শ্যামলালের মেয়ে। সত্যেন্দ্রনাথ ও জ্ঞানদানন্দিনীর তখন অনেক আশা জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে নিয়ে। কর্মচারীর মেয়ে  কাদম্বরীকে কোনোদিনই সুনজরে দেখতে পারেননি তাঁরা। নিজেদের অসন্তোষও তাঁরা যথেষ্ট প্রকাশ করেছিলেন। অথচ এই কাদম্বরীকে কেন্দ্র করেই জোড়াসাঁকোর তেতলার ছাদে জন্ম নিল ‘নন্দন কানন’! একসময় জ্যোতিরিন্দ্রনাথের প্রেরণায় কাদম্বরী ঘোড়ায় চড়ে তাঁর সঙ্গে গড়ের মাঠে হাওয়া খেতে যেতেন। কাদম্বরীকে পেয়ে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের মন আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল সেই সময়। ঘরোয়া পরিবেশে শুরু হল সাহিত্যচর্চা। কখনও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ সস্ত্রীক চলে যেতেন চন্দননগরের গঙ্গাতীরে, মোরান সাহেবের বাগান বাড়িতে। রবীন্দ্রনাথ থাকতেন তাঁর প্রিয় দুটি মানুষের সঙ্গে। খোলা আকাশ, তিনটি উদার শিল্পী মন, তরুণ বয়স, অপার মুগ্ধতা —জ্যোতিরিন্দ্রনাথের জীবন তখন কানায় কানায় পরিপূর্ণ। ‘জীবনস্মৃতি’তে স্মৃতিচারণা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ এই পূর্ণ বিকশিত পদ্মফুলের মতো মুহূর্তগুলির। ঠিক যেন ল রূপকথা! কিন্তু, জীবন বড়ো নিষ্ঠুর। তাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথের জীবনটা রূপকথা হতে গিয়েও হল না। কাদম্বরীর একাকিত্ব, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের উদাসীনতা, ভাগ্য বিপর্যয়, সন্তানহীনতা, জীবনের ব্যস্ততা— একে একে দুর্ভাগ্যের দূত হয়ে এল জ্যোতিরিন্দ্রনাথের জীবনে।


জ্যোতিরিন্দ্রনাথের মতো অমন নাট্যকার যেন গিরিশ ঘোষকে নিজের আসন ছেড়ে দিলেন। এই প্রসঙ্গে অমৃতলাল বসুকে বলেছিলেন, ‘নাট্যজগতে গিরিশচন্দ্র প্রবেশ করিয়াছেন, আমার নাটক রচনার আর প্রয়োজন নাই।’ ব্যবসায় ভরাডুবি আর স্ত্রীর আত্মহত্যা জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল। কাদম্বরী যখন মারা যান, জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বয়স তখন পঁয়ত্রিশ। অথচ সারাজীবন অন্য কোনো নারী আসেনি তাঁর জীবনে। স্বজনদের প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলেছিলেন, ‘তাঁকে ভালোবাসি।’ শুধুই অনুশোচনা? নাকি পথ ভুলে যাওয়া ভালোবাসার স্বীকৃতি? একরকম স্বেচ্ছা নির্বাসনই নিয়েছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। কাজ পাগল জ্যোতিরিন্দ্রনাথের জীবনের শেষ সময়টা কাটে রাঁচিতে, মোরাদাবাদ পাহাড়ে, শান্তিধামে। বিলাসী এই মানুষটির গৃহসজ্জা বলতে ছিল একটিমাত্র ছবি— নিজের হাতে আঁকা কাদম্বরী দেবীর পেনসিল স্কেচ। এই নির্বান্ধব পুরীতে জীবনের প্রিয় মানুষের ছবি বলে দেয় অনেক না বলা কথা। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বেদনার ইতিহাস বড়ো কম নয়! প্রিয় রবীন্দ্রনাথের চোখে তিনি ছিলেন আদর্শস্থানীয়। অথচ কাদম্বরীর মৃত্যু রবীন্দ্রনাথের মনে এই আদর্শের উচ্চতা থেকে তাঁকে যে নামিয়ে দিয়েছিল— একথা বুঝতেন তিনি। এই বেদনা বুকে নিয়েই তাঁর স্বেচ্ছা নির্বাসন। কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী কাদম্বরীর মৃত্যুর পর ‘সাধের আসন’ কাব্যে জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে রীতিমত আক্রমণ করেছিলেন কবিতার ভাষায়। রবীন্দ্রনাথও কি দায়ী করেননি তাঁকে? আর তিনি নিজে? হয়তো জীবনের এই পরিহাস তাঁর জন্য বরাদ্দ ছিল। জীবন তাঁকে যা যা দিয়েছে, সব কেড়ে নিয়েছে এক এক করে। সত্যেন্দ্রনাথ, জ্ঞানদানন্দিনীর পরিবারের অংশ হয়ে, নিজের হঠাৎ থেমে যাওয়া জীবনের গতি ছাড়াও নিজের  প্রকাশহীন শিল্পচর্চার গল্পই জ্যোতিরিন্দ্রনাথের জীবনের ট্র্যাজেডি।


১৯০৮ সালে লেখা জোতিরিন্দ্রনাথের ডায়েরি, বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের জীবনী থেকে তাঁর জীবনের ঘটনা জানা যায়। কিন্তু তাঁর ব্যথার কাহিনি কেউ লেখেনি। সত্যেন্দ্রনাথের পৌত্র সুবীরেন্দ্রনাথের প্রতি জীবনের শেষবেলাকার সবটুকু স্নেহ উজাড় করে দিয়েছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। হয়তো ঠাকুরবাড়ির এই বালকটিকে ফেলে আসা জীবনের অপূর্ণ ভালোবাসা দিয়ে স্বস্তি পেতে চেয়েছিলেন তিনি। ঠাকুরবাড়ির এই প্রতিভা পূর্ণ সিদ্ধি পেল না এক জীবনে। এক সময়ের উজ্জ্বল বহ্নিশিখার দীপ নিভে যাওয়ার গল্পটি সত্যি বড়ো বেদনার। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ যেন এক অভিশপ্ত গন্ধর্ব। ১৯২৫ সালের ৪ মার্চ তাঁর শাপমুক্তি ঘটেছিল। 


সহায়ক গ্রন্থ :-


১. ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল, চিত্রা দেব।

২. ঠাকুরবাড়ির বাহিরমহল, চিত্রা দেব।

৩. কবিমানসী, প্রথম খণ্ড, জগদীশ ভট্টাচার্য।

৪. রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ, পূর্ণানন্দ চট্টোপাধ্যায়।

Collected

মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 

 🌿 মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 🌿 ━━━━━━━━━━━━━━━ 🌿 ১️⃣ Mercurius Solubilis 👉 মুখে অতিরিক্ত লালা 👉 মাড়ি ফোলা ও ...