এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪

গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা বা ফিড ফর্মুলেশন করার খুবই  চ্যালেঞ্জের

 গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা বা ফিড ফর্মুলেশন করার খুবই  চ্যালেঞ্জের। প্রিয়   খামারি ভাই আপনি নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন যে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ খামারে লাভ বা প্রফিট করা সম্ভব নয়।

কারন একটি খামারে সবচেয়ে বেশি টাকা যে খাতে ব্যয় হয় তাহলো খাদ্য ব্যবস্থাপনা।

তার উপর ইদানীংকালের গরু বাজারদর যেমন কম আর গো-খাদ্যের বাজার দর তেমনি বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের cost-effective ফিডিং পলিসি অবলম্বন না করলে নিশ্চিত লক্ষন লোকসান।


আর তাই আপনার গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা সকল উপকরনের পুষ্টিগুণ ও দাম সম্পর্কে যেমন সঠিক ধারণা থাকা দরকার তেমনি আধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সাথে পরিচিত হওয়া দরকার।

তবে আপনি cost-effective ফিড অর্থাৎ সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য করতে পারবেন। 


➡️গরু মোটাতাজাকরণে খাদ্য তালিকা।

ভুট্টা সয়াবিন মিলচাগমের ভুসি  চাউল এর খুদখৈল মটর খেসারি ইত্যাদি আমাদের দেশের প্রধান দানাদার খাদ্যের উপাদান।

পরিমাণ মতো বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট ভিটামিন ও মিনারেল মিশিয়ে সুসম দানাদার খাদ্য তৈরি করা হয়।

গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরিতে খাদ্যের গুনাগুন মানের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।


খাদ্যে প্রোটিন ফ্যাট কার্বাইড ইত্যাদি পরিমাণ চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের মধ্যে সর্ব হচ্ছে কিনা দেখতে হবে। গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য মোটাতাজাকরণে গরুকে নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে আশানুরূপ উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হয়। 


➡️গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা বা ফর্মুলেশন।

কম খরচ এবং সবখানে পাওয়া যায় এমন ১০০ কেজি গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরীর ফর্মুলেশন দেওয়া হল।


ভুট্টা ভাঙ্গা      ৩৫ কেজি

গম ভাঙ্গা       ১৫ কেজি

ধান ভাঙ্গা       ২৫ কেজি

সয়াবিন খৈল  ২০ কেজি

শুটকির গুড়া    ৩

DCP/MCP      ২  কেজি


সাথে পরিমাণ মতো লবণ, এমাইনো এসিড, ফ্যাট, ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স,  

সোডিয়াম বাই কার্বনেট বা খাবার সোডা দিয়ে দিবেন।

আপনাদের প্রয়োজনের জন্য কিছু সাপ্লিমেন্ট নাম এবং পরিমাণ দিয়ে দিলাম। 

১/এমসিপি পাউডার ১.৫ কেজি

২/ক্যাটল প্রিমিক্স ২৫০ গ্রাম

৩/লাইমস্টোন ১.৫ কেজি

৪/ফ্যাট ২৫০ গ্রাম

৫/সিআর ৫০ গ্রাম

৬/রুমেইন টনিক ১০০ গ্রাম

৭/লাইসিন ৫০০ গ্রাম

৮/টক্সিন বাইন্ডার ২০০ গ্রাম

৯/মেথিওনিন ৩০০ গ্রাম

১০/এনজাইম ২৫০ গ্রাম

১১/কলিন ২০০ গ্রাম

১২/ফিশ প্রোটিন  ৩ কেজি

এগুলো প্রতি ১০০ কেজি খাদ্যে ব্যবহার করতে পারেন। 

এই টেবিল অনুযায়ী যদি আমরা গরুকে খাবার গ্রহণ করাই তবে অতি সহজে আমরা লাভবান হতে পারব । 


➡️গরু মোটাতাজাকরণে খাদ্য সরবরাহ পদ্ধতি

গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প  গাবাদিপশুসহ পরিমানমতো সুষম মোটাতাজা খাদ্য সরবরাহ সবচেয়ে গুরুত্ব।

খাবারের তালিকায় শর্করা আমিষ চর্বি ভিটামিন মিনারেল এর পরিমাণ সাধারণত খাদ্যের চেয়ে বেশি থাকতে হবে।

সাথে প্রচুর পরিমাণ টিউবয়েলে টাটকা পানি সরবরাহ করা প্রয়োজন।


গরু মোটাতাজাকরণ দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি খরকে প্রক্রিয়াজাত করে UMS বানিয়ে খাওয়াতে হবে।


প্রতিদিন একই সময়ে একই ধরনের  খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। খাদ্য ও খাদ্য প্রদানের সময় কোনটা পরিবর্তন করা যাবেনা।

খাদ্য ধুলোবালিমুক্ত হতে হবে, খাদ্য সহজপাচ্য হতে হবে।


➡️মোটাতাজাকরণ গরুর আঁশযুক্ত খাদ্য

মোটাতাজাকরণ গরু কে তার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত খাদ্য অবশ্যই দিতে হবে। কিছু কিছু খামারি মনে করে খর বিচালী বা ঘাস কম খাইয়ে দানাদার খাবার বেশি খাইয়ে গরুকে দ্রুত মোটাতাজা করন করা সম্ভব।

কিন্তু আসলে তা সঠিক নয়, কখনো কখনো প্রচুর ঔষধ পত্র প্রয়োগ করে হয়তো সম্ভব কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ে।


গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য এ পর্যন্ত ফাইবার বা আঁশ এর অভাব থাকলে নিম্নে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হতে পারে।


🔸পেটে এসিডিটি তৈরি হয়

🔸হজম ক্ষমতা কমে যায়

🔸খাদ্যের অরুচি দেখা দেয়


➡️কম খরচে গরু মোটাতাজাকরণ।

গরু মোটাতাজাকরণের শুরুর দিকে ১০০ বডি ওয়েট এর জন্য ১.৫ কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে।

গরু যখন অনেকটা মোটাতাজা হয়ে যাবে তখন ১০০ কেজির জন্য এক কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে।

গরুর পেটে গ্যাস সৃষ্টি হয় এমন খাদ্য যেমন ভাত বা খুদের যাও বেশি পরিমাণে খাওয়ানো উচিত নয় এর ফলে গরুর পেট ফুলে যেতে পারে।

যার ফলে গরু অসস্তি বোধ করবে কিছু খেতে চাইবে না এবং তার স্বাস্থ্য কমে যাবে ।


১০০ কেজি জন্য প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হবে।

কাঁচা ঘাস না থাকলে বিকল্প হিসেবে UMS ব্যবহার করতে দেখতে হবে।

শুধু UMS খাওয়ানোর ফলে প্রতিদিন একটি গরু ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বাড়ে। 

সাথে গরুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে এতে গরুর শরীর সতেজ থাকবে।


➡️গরু মোটাতাজাকরণে দানাদার খাদ্যের ভূমিকা।

গরু মোটাতাজাকরণ দানাদার খাদ্যের ভূমিকা অনেক গুরুত্ব।

কারন একটা গরুকে যদি আমরা মোটাতাজা করতে চাই তবে দানাদার খাদ্য অবশ্যই তাকে খাওয়াতে হবে।

তবেই সে মোটাতাজা হয়ে গড়ে উঠবে। মোটাতাজাকরণে অনেক লাভবান হওয়া যায় কম খরচে তৈরি দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর ফলে।

শুধুমাত্র ভুসি অথবা একটি খাদ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সব উপাদান পাওয়া সম্ভব নয়।

তাই মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে আমাদের কম খরচে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য মিক্সিং এর মাধ্যমে একটি সুষম খাদ্য তৈরি করতে হবে তাহলে আমরা লাভবান হতে পারবো।

গরুকে মোটাতাজা করনের জন্য দানাদার খাদ্যের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।


পোস্টটা শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রেখে দিন যাতে প্রয়োজন এর সময় খুঁজে পেতে সহজ হয়। আসুন 

সবাই মিলে ইনভাইট করি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করি বেশি বেশি পোস্ট করতে উৎসাহ যোগায় ধন্যবাদ।


পোস্টটা শেয়ার করে রেখে দিন ১০০% কাজে আসবে ইনশাল্লাহ।


মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

যে কারণে মধ্যবিত্তরা সর্বস্বান্ত হন।,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 যে কারণে মধ্যবিত্তরা সর্বস্বান্ত হন।

১. ভুল জমি বা ফ্লাট কেনা।


দেশে অসংখ্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি আছে, এরা বরশি ফেলে বসে আছে টোপ গেলার জন্য এবং এ টোপ হচ্ছে মধ্যবিত্ত। কেনার সময় আপনাকে যে জমি দেখানো হয়েছে আসলে তা হয়তো কেনাই হয়নি। জমির মালিককে মাসে দুহাজার টাকা ভাড়া দিয়ে জমির উপর কোম্পানিটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছে মাত্র।


এ জমি কিনলেন তো বুড়িগঙ্গায় কষ্টের টাকা বিসর্জন দিলেন। সর্বস্ব হারানো মানুষটির এসব মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কিছুই করার থাকে না। আশেপাশে তাকালেই এদের হাতে পথের ফকির হওয়া অনেককেই দেখবেন।


উল্টাপাল্টা ডেভেলপার থেকে ফ্লাট কিনলেও একই দশা অপেক্ষা করছে।


একটি ভুল জমি বা ফ্লাট ইকুয়াল টু বাকি জীবনের কান্না।


২. অস্বাভাবিক ডিসকাউন্ট দেওয়া কোম্পানি।


এরা পঞ্চাশ হাজার টাকার জিনিস দশ হাজার টাকায় অফার করবে। কমদাম দেখে মধ্যবিত্তরা ঝাঁপ দেবেন। এর মধ্যে সামান্য কয়েকজনকে পণ্য সরবরাহ করা হবে, বাকি অসংখ্য অর্ডারকারিকে দেবে না, সোজা কথায় তাঁদের টাকা মেরে দেওয়া হবে। বঞ্চিতরা এ কোম্পানির মালিককে জীবনেও ধরতে পারবেন না। কারণ তাঁদের টাকায় সে টাউট ইতোমধ্যে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে, গড়ে তুলেছে মাস্তান বাহিনী, চড়ে বুলেট প্রুফ গাড়িতে, বাস করে দূর্গে। ক্ষমতাহীন মধ্যবিত্তের সাধ্য নেই তাকে ধরার।


৩. ক্রেডিট কার্ড।


নগদ টাকা বের হয়ে যাওয়ার সময় যেমন মন খচখচ করে করে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনার সময় তা করে না। তাই সব কিছু কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে। একবারও মনে আসে না যে, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি প্রায় ত্রিশ পার্সেন্ট সুদ আরোপ করবে। মানে ১০০ টাকার জিনিস আসলে আপনি কিনছেন ১৩০ টাকায়। এটি এমন একটি গর্ত, যেখানে ঢুকা যায়, কিন্তু বের হতে জান বেরিয়ে যায়। মিনিমাম পেমেন্টের গাড্ডায় পড়লে তো জান যাবে কিন্তু ওই গর্ত থেকে বেরুতে পারবেন না।


৪. শেয়ার বাজার।


এটি এমন একটি সুড়ঙ্গ যার ওপর পারে অপেক্ষা করছে অভিজ্ঞ খেলোয়ারেরা। ভালোভাবে এ বাজার না বুঝে সে সুড়ঙ্গে টাকা ঢুকালেন তো অপর প্রান্তে অপেক্ষামান ফিল্ডাররা ক্রিকেট বলের মতো তা খপ করে লুফে নেবে। তার মানে আপনি আউট! পারমানেন্ট আউট। জীবনেও আর খেলার সুযোগ পাবেন না। এরকম আউট হওয়া হতভাগ্য খেলোয়ার আশেপাশেই দেখতে পাবেন।


৫. অতিরিক্ত মুনাফার লোভ।


যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রচলিত বা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ মুনাফা বা সুদের চাইতে বেশি অফার করে তখনই সে প্রতিষ্ঠানে লাল পতাকা কল্পনা করবেন। মানে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি লালবাতি জ্বালিয়ে ভাগবে, তার টিকিটার খোঁজও আপনি পাবেন না। এরা তো জ্বীন-ভূত না যে বাজারের প্রতিষ্ঠিত অতি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের চাইতে বেশি মুনাফা দেবে! এটা কি সম্ভব? এদের হাতে কি আলাদীনের চেরাগ আছে? না নেই। তবে আপনার আমানতের টাকায় এ চেরাগ তারা নিজেদের জন্য তৈরি করছে। যেদিন চেরাগটি পুরোপরি জ্বলবে সেদিন আপনার টাকা বস্তায় ভরে ম্যাজিক কার্পেটে চড়ে এরা গায়েব হয়ে যাবে।


কার্পেট রেডি, কেবল উড়াল দেওয়ার অপেক্ষা।


৬. ব্যাবসা করার জন্য অন্যকে টাকা দেওয়া।


আমি এমন মানুষ খুব কম দেখেছি যারা অন্যকে ব্যাবসা করার জন্য টাকা দিয়ে সব হারান নি। দুটো কারণে এটা হয়। প্রথমত যিনি ব্যবসার জন্য টাকা নিয়েছেন তিনি নিজেই মার খেয়েছেন, ফেরত কোত্থেকে দেবেন? দুই নম্বর হলো টাকা মেরে দেওয়া। কয়েকমাস লাভ দিয়ে তারপর অস্বীকার! লাভ তো দূরের কথা আসলই ফেরত পাওয়া যায় না। তাই ব্যাবসা যদি নিজে বুঝেন তাহলে করবেন, না বুঝে লাভের আশায় অন্যকে টাকা দিলেন মানে ব্যাংকের চেক কাটলেন না, নিজের ভাগ্যকেই নিজে কেটে দিলেন। দুনিয়ার কোনো সার্জনের সাধ্য নেই তা জোড়া লাগানোর।


৭. অন্ধ প্রতিযোগিতা।


আমাদের একটা বাজে অভ্যাস হলো অন্যদের সাথে অন্ধ প্রতিযোগিতা। পাশের বাসায় ৪২ ইঞ্চি টিভি কেনা হয়েছে! আমারও কিনতে হবে। কেউ গাড়ি কিনেছে! ধারকর্জ করে আমাকেও কিনতে হবে। ফলাফল হচ্ছে, পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়া। এ ইঁদুর দৌড়ের কারণে যখন জীবনে ঘোর বর্ষা নামবে তখন হাতে ছাতা থাকবে না। ফালতু প্রতিযোগিতার কারণে সে ছাতা তো কবেই বিক্রি করে দিয়েছি!


তাহলে কী করবেন?


উত্তর: উপরের কোনোটিই করবেন না। টাকাও নিরাপদ থাকবে, আপনিও নিরাপদ থাকবেন। হাতের ছাতা হাতেই থাকুক, বর্ষাকালের জন্য।


সবার জন্য শ্রদ্ধা, শুভকামনা।


*************************ধন্যবাদ ।।।।

👇

please follow my page 

👇

নলেজ-Knowledge

মসলিন শিল্পের বিলুপ্তি: এক অন্যতম সংবেদনশীল কাপড় বোনার প্রক্রিয়ার হারিয়ে যাওয়া

 মসলিন শিল্পের বিলুপ্তি: এক অন্যতম সংবেদনশীল কাপড় বোনার প্রক্রিয়ার হারিয়ে যাওয়া!


১৮৫১ সালে মসলিন ব্যবসা যখন ব্রিটিশ বণিকদের হাতে, তখন ব্রিটেনে রানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী প্রিন্স আলবার্টের উদ্যোগে একটি ‘গ্রেট এক্সিবিশন’ করা হয়, যেখানে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় এক লাখ চমকপ্রদ জিনিস যোগাড় করে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক বিশালতা ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তির ব্যাপারে ইউরোপীয় অভিজাতদের ধারণা দেওয়া। আশ্চর্যজনকভাবে অনুষ্ঠানের আলো কেড়ে নেয় ‘ঢাকাই মসলিন’। ব্যাপক আলোচনা হয় এর সূক্ষ্মতা নিয়ে। একে আলোয় নিয়ে আসার জন্য বাহবার অংশীদার হয় ব্রিটিশ অভিজাতেরা। আর নেটিভরা থাকে প্রাদপ্রদীপের আড়ালে।


উপমহাদেশে ব্রিটিশ বণিকদের আগমনের পূর্বে দীর্ঘদিন ঢাকাই মসলিনের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে মুঘলরা। বংশানুক্রমে তাঁতিরা মসলিন তৈরি করে গেছে, তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মধ্য এশিয়া, আরব, ইউরোপীয় বণিকেরা বিপুল মুনাফায় বিক্রি করেছে। মুঘলরা আয় করেছে এ বাণিজ্যের শুল্ক থেকে। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মসলিন বোনা হতো, গুজরাট থেকে শুরু করে বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল তালিকায়। এর মধ্যে কদর বেশি ছিল ঢাকাই মসলিনেরই।


ভারতে ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তন ও দিল্লীর কেন্দ্রে মুঘল শাসনের কঙ্কালসার দশার ফলে পুরো ব্যবসার চক্রটি বদলে যায়, ফুটি কার্পাস চাষি ও মসলিন তাঁতিদের স্বার্থের চেয়ে লাভের ব্যাপারটি মুখ্য হয়ে উঠে, একেকটি মসলিনের সূক্ষ্ম কারুকার্য করতে দরকার ছিল এক বছরের কাছাকাছি সময়, কিন্তু সেই তুলনায় ছিল না পারিশ্রমিক বা স্বীকৃতি। গবেষকদের ধারণা, কঠিন এবং বিশেষায়িত এই শ্রমের যোগ্য মজুরি না পেয়ে ও ঋণের বোঝায় পিষ্ট হয়ে কাজ ছেড়েছে মসলিন তাঁতিরা।


তাঁতিদের কাছ থেকে মসলিন কেনার ব্যবসাটিকে ব্রিটিশরা নিজেদের করে নেয়, দামের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাদের হাতে। দীর্ঘ সময় নিয়ে সূক্ষ্ম কাজের পুরো সময়টায় তাঁতির হাত খালি, প্রয়োজন মেটাতে তার দরকার ঋণ, সরল চাষিদের দাদন বা অগ্রীম ঋণ দিয়ে শোষণ করার ঘটনা শুধু মসলিনে নয় সব স্থানীয় শিল্পেই ঘটেছে। এছাড়া ভারতবর্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল সরিয়ে নেওয়া। ব্রিটেনে শিল্প বিপ্লবের ফলে মেশিনে বোনা সূক্ষ্ম বস্ত্র বাজারে আসতে শুরু করে, আর বংশানুক্রমে আঁকড়ে ধরে থাকা মসলিন তাঁতিরা পেশা পরিবর্তন করে, কেউ ঋণের চাপে, কেউ মুনাফালোভী বণিকদের অত্যাচারে হারিয়ে যেতে থাকে।


এভাবেই সময়ের সাথে ঢাকাই মসলিন ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়, বংশানুক্রমে কয়েকশত বছর ধরে চলে আসা মসলিনের তাঁতগুলো বন্ধ হয়ে যায়, হারিয়ে যায় পৃথিবীর অন্যতম সংবেদনশীল এক কাপড় বোনার প্রক্রিয়া।


তথ্যসূত্র: 

ক। বিবিসি ফিউচার, জারিয়া গোরভেট

খ। উইকিপিডিয়া 

গ। রোর বাংলা, শাহ মো. মিনহাজুল আবেদীন।


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

সকাল ০৭ টার সংবাদ তারিখ: ১৪-০৫-২০২৪

 সকাল ০৭ টার সংবাদ

তারিখ: ১৪-০৫-২০২৪


সংবাদ শিরোনাম:


হজ্বযাত্রীদের ভিসা অনুমোদনের সময় বাড়াতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। 


বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর জন্য স্পিকারের আহ্বান।


কারো মদদে বিএনপি চাঙ্গা হয়ে যাবে সে পরিস্থিতি তাদের নেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের। 


পদ্মা সেতু নিয়ে যারা সমালোচনা— করেছিলেন, জাতির কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ — বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


দীর্ঘ দুই মাস পর দেশের মাটিতে নোঙর করেছে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ।


ভারতের মুম্বাইয়ে আকস্মিক ধূলিঝড়ে ১২ জন নিহত।


গোপালগঞ্জে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী।

সোমবার, ১৩ মে, ২০২৪

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ 

 বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ। এটি ২০১৮ সালের ১১ মে (বাংলাদেশ সময় ১২ মে) কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ৫৭ তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশের তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশ।


১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি সদ্য স্বাধীনতা লাভ করা দেশের তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে তথ্য প্রযুক্তির উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে চালু করেন দেশের প্রথম এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এটি একটি মাইলফলক ঘটনা। বঙ্গবন্ধুর মতো এমন একজন প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী নেতা জীবিত থাকলে বাংলাদেশ যে অনেক আগেই মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণ করত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে, তার সুযোগ্য কন্যা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন দূরদর্শী রাষ্ট্র নেতা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৩ বছর পর ২০১৮ সালের ১২ মে তাঁর সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা, স্পেস ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।


সকাল ০৭ টার সংবাদ তারিখ: ১৩-০৫-২০২৪

 সকাল ০৭ টার সংবাদ

তারিখ: ১৩-০৫-২০২৪


সংবাদ শিরোনাম:


চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ – গড় পাশের হার ৮৩ দশমিক শূন্য-চার - শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমাতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে - বললেন প্রধানমন্ত্রী।


বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ইতালির ব্যবসায়ীদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান।


দেশ পরিচালনা করছে জনগণের সরকার, অদৃশ্য শক্তির ধারণা বিএনপির মানসিক ট্রমা - মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের।


রাজধানীর তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নগর বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে - জানালেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী।


গণমাধ্যম কর্মী আইনে সাংবাদিকদের প্রাপ্য সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে - বললেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।


ভারতে আজ অনুষ্ঠিত হবে লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ।


আহমেদাবাদে আজ রাতে আইপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরস্পরের মোকাবেলা করবে কোলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্স।

একটি  বিশেষ সতর্কতা মূলক পোষ্ট।

 একটি বিশেষ সতর্কতা মূলক পোষ্ট।


বাঁচতে হলে জানতে হবে। মিনিকেট চালের ভাত গরমকালেও অনেকক্ষণ ভালো থাকে! আহারে! কত ভালো চাল! তাইনা?


আসুন জেনে নিই আসলেই কি আমরা ভালো চাল খাচ্ছি?নাকি আবর্জনা?


❌ মিনিকেট নামে কোন ধান চাষ হয়না বাংলাদেশে। 

তাহলে, এই চাল বাজারে আসে কোথা থেকে- এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ, মিনিকেট চাল তৈরী হয় কারখানায়।


🌾দেশী জাতের ধান (মোটা চালের) চালকলে আসার পর শুরু হয় তেলেসমাতি। প্রথমে ধানের খোসা ছাড়ান হয়। খোসা ছাড়ানোর পর চালের অকৃত্রিম/ন্যাচারাল রঙে কিছুটা খয়েরি/বাদামি আভা থাকে। এরপর কেমিক্যাল ও হোয়াইটনার মেশিনের মাধ্যমে চালের খয়েরি/বাদামি আভার আবরণটিকে আলাদা করা হয়। এই আবরণটি বাদ দেওয়ার পর চাল কিছুটা সরু ও সাদা হয়। এখানেই শেষ নয়, পলিশার মেশিনের মাধ্যমে পলিশ করলেই হয়ে গেল মিনিকেট চাল।


🗣️এবার প্রশ্নের তীর তাক করে কেউ বলতেই পারেন- মোটা চালকে এতোভাবে প্রসেস করে মিনিকেট বানালে তো চাল ব্যবসায়ীর ক্ষতি। 

এবার ক্ষতির হিসেবটা করা যাক- ১০০০কেজি মোটা চাল প্রসেস করে মিনিকেট বানালে সাধারণত চাল পাওয়া যায় ৯৩৩কেজি, সাদা খুদ ২৬.৫ কেজি, কালো খুদ ১৪কেজি, মরা চাল ৪.৫ কেজি, ময়লা ০.৭৫ কেজি এবং পলিশ ২৭ কেজি। যোগ করলে দেখা যায় এক হাজার কেজি চাল প্রসেস করার পর পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬কেজি বেশী। 

এই ছয় কেজি হচ্ছে জলীয় বাষ্প ও পানি। রাইস ব্রান তেল কারখানাগুলো পলিশ কিনে নেয়, সাদা খুদ বাজারে চালের অর্ধেক দামে বিক্রি হয়। কালো খুদ আর মরা চাল পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি হয়। ভাবছেন চাল প্রসেসের খরচ কত? ১০০০কেজি মোটা চাল প্রসেস করে মিনিকেট বানাতে খরচ হয় মাত্র ৯০০টাকা হতে ১৫০০টাকা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৯০পয়সা থেকে দেড় টাকা।


🤔মোটা চাল প্রসেস করে মিনিকেট বানিয়ে বিক্রেতা একটু বেশী লাভ করলে ক্রেতার ক্ষতি কি? 

ছোট ক্ষতি হচ্ছে ক্রেতা চিকন চালের দামে মোটা চাল কিনছেন, অর্থাৎ কেজিতে ১৫থেকে ২০টাকা পর্যন্ত ঠকছেন। বড় ক্ষতি হলো কেজিতে ১৫ থেকে ২০টাকা বেশী দিয়ে মিনিকেট চাল নয়, ক্রেতা কিনছেন মোটা চালের আবর্জনা। কারণ, প্রসেস করার মাধ্যমে চালের উপরি আবরণ (bran অর্থাৎ pericarp, seed coat, aleurone layer, embryo) বা পুষ্টিকর অংশ বাদ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, চালের সর্বমোট ৮৫ ভাগ ভিটামিন B3 থাকে pericarp–এ, প্রোটিন আর ফ্যাট থাকে Aleurone layer -এ, খনিজের ৫১ ভাগ ও মোট আঁশের ৮০ ভাগ থাকে bran –এ, ভিটামিন B1 ও ভিটামিন E থাকে embryo -তে। চালের সব পুষ্টিকর উপাদান তেলের মিলে বিক্রির জন্য প্রসেস করে আলাদা করার পর চাল আর চাল থাকেনা, হয়ে যায় চালের আবর্জনা।


❌ মিনিকেট চাল নামে চালের আবর্জনাকে যতোটা ক্ষতিকর মনে করছেন বাস্তবে আরও বেশী ক্ষতিকর। মোটা চালকে মিনিকেটে রূপান্তর করার বিভিন্ন পর্যায়ে সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড + টুথপেস্ট +এরারুটের মিশ্রণ, সোয়াবিন তেল, ফিটকারি, বরিক পাউডার ব্যবহার করা হয়। প্রতি মৌসুমেই বের হয় নিত্য নতুন কৌশল।


❌ মিনিকেট চালে কখনো পোকা ধরেনা। কারণ পোকাও জানে এই চাল খাওয়ার যোগ্য নয়, এতে পুষ্টিগুণ নেই। 

অথচ দেখতে সুন্দর এই অখাদ্যকে আমি আপনি আমাদের পরিবার কে নিশ্চিন্তে খাওয়াচ্ছি এবং নিজেরাও খাচ্ছি! 

কিন্তু কেন!?😕


✨শুধু চাল নয়, এমন আরও হাজারো অখাদ্য, আবর্জনা আমরা প্রতিনিয়ত খেয়ে যাচ্ছি জেনে- না জেনে আর তার ফলাফল স্বরূপ ভুগতে হচ্ছে কঠিন কঠিন রোগে সেই সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছি এক ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনব্যবস্থা! 

হিসেব টা মেলানো খুবই সহজ, বাড়িতে কোনো মুরব্বী থাকলে একটু জেনে নিতে হবে আগেকার দিনে তারা কেমন খাবার খেয়ে জীবন যাপন করেছে আর তাদের রোগ বালাই কেমন ছিলো এবং তাদের চিকিৎসা-ই বা কেমন ছিলো।

আজকের দিনে আমরা হাজারো নিত্য নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আর নিত্য নতুন ঔষধ সেবন করে চলেছি যা একটা রোগকে ঠিক করে আরো শত রোগের জন্ম দিচ্ছে আমাদের শরীরে। এ যেনো এক চোরাবালির মধ্যে ডুবে আছি আমরা।


"সুস্বাস্থ্য যেমন

সকল সুখের মূল, 

ঠিক তেমন

স্বাস্থ্যকর খাবার সুস্বাস্থের মূল।"


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

রবিবার, ১২ মে, ২০২৪

পিরোজপুরের মাদ্রাসাছাত্রী আমিনাকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদসূচক চিঠি 

 পিরোজপুরের মাদ্রাসাছাত্রী আমিনাকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদসূচক চিঠি দেখে বোঝা যায় সেই সময় রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয়তা সকল প্রকার বাঙালীর কাছে কত বেশি ছিলো! সময়টা ১৯৪০ এর দিকে। আমিনার পোশাক এবং চিঠিতে আমিনার নিজের নামের আগে 'কুমারী' শব্দের ব্যবহারটাও লক্ষণীয়।


শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন মহাফেজখানায় রবীন্দ্রনাথের কয়েক হাজার চিঠির সচিবকৃত অবিকল নকল সংরক্ষিত আছে। কবির হাতে লেখা মূল চিঠি প্রাপকের কাছে ডাকে পাঠানোর আগে তাঁর সচিব চিঠির অনুলিপি করে রাখতেন। তাঁকে লেখা ভক্ত–অনুরাগী ও অন্যদের মূল চিঠি কবি সযত্নে রক্ষা করতেন।


এমনই একটি চিঠি রবীন্দ্রভবনের নথিতে পাওয়া যায় দুই দশক আগে। চিঠিটি জনৈক কিশোরী আমিনা মোজাহারের লেখা। তারিখ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭ বঙ্গাব্দ। তৎকালীন বৃহত্তর বরিশালের অবিভক্ত বাকেরগঞ্জ জেলার পিরোজপুর মহাকুমার স্বরূপকাঠি থানার আকলম গ্রাম থেকে পাঠানো কয়েক লাইনের সম্বোধনহীন ছোট চিঠি। নিচে লেখিকার ঠিকানা: চতুর্থ শ্রেণি, আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা, স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


কাজী আমিনা মোজাহার কাজী মোজহার উদ্দীন আহমদ ও হাকিমুন্নেছার কন্যা। স্বরূপকাঠির আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসার ওই তালেবে এলেম- পরবর্তীতে বরিশাল সৈয়দানুন্নেসা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯৪৭), ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে আইএ (১৯৪৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং এমএ (১৯৫৮) পাস করেন। হলি ক্রস কলেজ ও ময়মনসিংহ মুমিনুন্নেসা কলেজে শিক্ষকতার পর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি সওগাতসহ অন্যান্য সাময়িকপত্রে রচনা প্রকাশ করেন এবং ভাষা ও বিরচন নামে পাঠ্যবই লেখেন। পরিণত বয়সে আমিনা চারণ করেছেন তাঁর রবীন্দ্রস্মৃতি। পাঠ্যবইয়ে আর চয়নিকায় কবির কবিতার সঙ্গে প্রথম পরিচয় তাঁর। প্রবেশিকা পাঠ্য বাংলা সংকলনে ‘শা–জাহান’ কবিতার আবৃত্তি শুনেছিলেন। পাঠ্যবইয়ে শামসুন্নাহার মাহমুদ ও আনোয়ারা [বাহার] চৌধুরীর লেখা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে প্রবন্ধ পড়েছেন। তাঁর নিজের কথায়:


‘আমি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একটা মধুর আত্মীয়তা অনুভব করতে লাগলাম। আর এই স্পর্ধাটুকুই তাঁকে চিঠি লিখতে উদ্বুদ্ধ করলো আমাকে।...একদিন অতি সঙ্গোপনে বাড়ির সবাইকে লুকিয়ে একখানা চিঠি লিখে ফেললাম।’


এক গরমের দুপুরে পোস্টমাস্টার আমিনার বাবাকে ডেকে পাঠালেন। মোজহার উদ্দীন রবীন্দ্রনাথের প্রতীক [মনোগ্রাম] আঁকা চিঠিটি মেয়েকে দিলেন।

চিঠি পাওয়ার পর বালিকার প্রতিক্রিয়া:

‘আমি পড়তে পারলাম না। আমার সমস্ত হৃদয়মন বারবার শিহরিত হতে লাগল। আমি বিছানায় শুয়ে কাঁদলাম। বাবাও জোহরের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে মোনাজাত করতে করতে কাঁদলেন।’ (উদ্ধৃত, কাজী সাইফুদ্দীন ওমর, ‘স্বরূপকাঠির প্রত্যন্ত পল্লীগ্রামে রবীন্দ্রনাথের চিঠি’)।


আমিনার যে সম্বোধনহীন চিঠির আশীর্বাদী উত্তর দিয়েছিলেন কবি, সেই চিঠির পাঠ:


➡️ আকলম

১৩ই জ্যৈষ্ঠ

আপনি আমাকে চিনেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। বাংলা বইয়ের মধ্যে আপনাকে দেখেছিও। আপনি আমাদের ছোট ছেলেমেয়েদের খুব ভালবাসেন। আবার আমরা চিঠি লিখলে উত্তরও নাকি দেন। তাই আমি চিঠি লেখছি (ক.) উত্তর দিবেন কিন্তু। আচ্ছা আপনাকে কি বলে ডাকব?

কুমারী আমিনা মোজাহার

চতুর্থ শ্রেণী

আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা

পো. স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


↔️ কবির ছোট আশীর্বাদী চিঠির বয়ান:

GOURIPUR LODGE

KALIMPONG

কল্যাণীয়াসু

তোমার চিঠিখানি পেয়ে খুশি হলুম। আমার আশীর্বাদ গ্রহণ কর। ইতি ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭

শুভার্থী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


ছবিতে সেই আমিনা মোজাফফর যাকে রবীন্দ্রনাথ পত্র পাঠান।


⭕ এমন সব পোস্ট দেখতে চাইলে ফলো করুন। ⭕

সকাল ০৭ টার সংবাদ তারিখ: ১২-০৫-২০২৪

 সকাল ০৭ টার সংবাদ

তারিখ: ১২-০৫-২০২৪


সংবাদ শিরোনাম:


এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে আজ - ফল হস্তান্তর করা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।


দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে টেকসই কৌশল উদ্ভাবনের জন্য প্রকৌশলীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান।


ক্ষমতায় থাকার সময় ভারতের সঙ্গে শত্রুতা করে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল বিএনপি - বললেন ওবায়দুল কাদের।


দেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে সবধরণের পদক্ষেপ নেবে সরকার - জানালেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।


গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাফাহ থেকে আরো কয়েক হাজার বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ ইসরাইলের।


আজ মিরপুরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম ও শেষ  ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়ের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

শনিবার, ১১ মে, ২০২৪

এক কোম্পানীতে ছিলো এক পিপড়া। সে প্রতিদিন ৯টায় অফিসে ঢুকতো। তারপর কারো সঙ্গে সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে কাজে বসে যেত

 🤨এক কোম্পানীতে ছিলো এক পিপড়া। সে প্রতিদিন ৯টায় অফিসে ঢুকতো। তারপর কারো সঙ্গে সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে কাজে বসে যেত।


সে যে পরিমাণ কাজ করত, তাতে কোম্পানির উৎপাদন হতো প্রচুর এবং এর ফলে সে আনন্দের সঙ্গেই জীবন নির্বাহ করত।


ওই অফিসের সিইও সিংহ অবাক হয়ে দেখত, এই পিঁপড়াটি কোনো ধরনের সুপারভিশন ছাড়াই প্রচুর কাজ করছে। সিংহ ভাবল, পিঁপড়াকে যদি কারও সুপারভিশনে দেওয়া হয়, তাহলে সে আরও বেশি কাজ করতে পারবে।


কয়েক দিনের মধ্যেই সিংহ একটি তেলাপোকাকে পিঁপড়ার সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ দিল। সুপারভাইজার হিসেবে এই তেলাপোকাটির ছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, আর সে দুর্দান্ত রিপোর্ট লিখতে পারত।


তেলাপোকাটি প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিল, এই অফিসে একটি অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম থাকা উচিত।


কয়েক দিনের মধ্যেই তেলাপোকার মনে হলো, তার একজন সেক্রেটারি দরকার, যে তাকে রিপোর্ট লিখতে সাহায্য করবে। … সে একটা মাকড়সাকে নিয়োগ দিল এই কাজে যে সব ফোনকল মনিটর করবে, আর নথিপত্র রাখবে।


সিংহ খুব আনন্দ নিয়ে দেখল যে তেলাপোকা তাকে প্রতিদিনের কাজের হিসাব দিচ্ছে আর সেগুলো বিশ্লেষণ করছে গ্রাফের মাধ্যমে। ফলে খুব সহজেই উৎপাদনের ধারা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাচ্ছে এবং সিংহ সেগুলো বোর্ড মিটিংয়ে ‘প্রেজেন্টেশন’ আকারে পেশ করে বাহবা পাচ্ছে।


কিছুদিনের মধ্যেই তেলাপোকার একটি কম্পিউটার ও লেজার প্রিন্টার প্রয়োজন হলো এবং এগুলো দেখভালের জন্য আইটি ডিপার্টমেন্ট গঠন করল। আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেল মাছি।


আমাদের কর্মী পিঁপড়া, যে প্রতিদিন অফিসে এসে প্রচুর কাজ করে মনের সুখে গান গাইতে গাইতে বাসায় ফিরত, তাকে এখন প্রচুর পেপার ওয়ার্ক করতে হয়, সপ্তাহের চার দিনই নানা মিটিংয়ে হাজিরা দিতে হয়।


নিত্যদিন এসব ঝামেলার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটায় উৎপাদন কমতে লাগল, আর সে বিরক্ত হতে লাগল।


সিংহ সিদ্ধান্ত নিল, পিঁপড়া যে বিভাগে কাজ করে, সেটাকে একটা আলাদা ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে সেটার একজন ডিপার্টমেন্ট প্রধান নিয়োগ দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।


সিংহ ঝিঁঝিপোকাকে ওই ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিল। ঝিঁঝিপোকা প্রথম দিন এসেই তার রুমের জন্য একটা আরামদায়ক কার্পেট ও চেয়ারের অর্ডার দিল।


কয়েক দিনের মধ্যেই অফিসের জন্য স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করতে ঝিঁঝি পোকার একটি কম্পিউটার ও ব্যক্তিগত সহকারীর প্রয়োজন হলো। কম্পিউটার নতুন কেনা হলেও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ঝিঁঝিপোকা নিয়োগ দিল তার পুরোনো অফিসের একজনকে।


পিঁপড়া যেখানে কাজ করে, সেখানে আগে ছিল চমৎকার একটা পরিবেশ। এখন সেখানে কেউ কথা বলে না, হাসে না। সবাই খুব মনমরা হয়ে কাজ করে।


ঝিঁঝিপোকা পরিস্থিতি উন্নয়নে সিংহকে বোঝাল, ‘অফিসে কাজের পরিবেশ’ শীর্ষক একটা স্টাডি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।


পর্যালোচনা করে সিংহ দেখতে পেল, পিঁপড়ার বিভাগে উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।


কাজেই সিংহ কয়েক দিনের মধ্যেই স্বনামখ্যাত কনসালট্যান্ট পেঁচাকে অডিট রিপোর্ট এবং উৎপাদন বাড়ানোর উপায় বাতলে দেওয়ার জন্য নিয়োগ দিল।


পেঁচা তিন মাস পিঁপড়ার ডিপার্টমেন্ট মনিটর করল, সবার সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলল। তারপর বেশ মোটাসোটা একটা রিপোর্ট পেশ করল সিংহের কাছে। ওই রিপোর্টের সারমর্ম হলো, এই অফিসে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী বেশি। কর্মী ছাঁটাই করা হোক।


পরের সপ্তাহেই বেশ কয়েকজন কর্মী ছাঁটাই করা হলো। বলুন তো, কে সর্বপ্রথম চাকরি হারাল?


ওই হতভাগ্য পিঁপড়া। কারণ, পেঁচার রিপোর্টে লেখা ছিল, ‘এই কর্মীর মোটিভেশনের ব্যাপক অভাব রয়েছে এবং সর্বদাই নেতিবাচক আচরণ করছে, যা অফিসের কর্মপরিবেশ নষ্ট করছে।


সংগৃহীত..

মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 

 🌿 মুখের দুর্গন্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ হোমিও ঔষধ সমূহ 🌿 ━━━━━━━━━━━━━━━ 🌿 ১️⃣ Mercurius Solubilis 👉 মুখে অতিরিক্ত লালা 👉 মাড়ি ফোলা ও ...