এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

বরফের দ্বীপ এলসমেয়ার, জনবসতি মাত্র দেড়শো জন,,,,,,

 " বরফের দ্বীপ এলসমেয়ার, জনবসতি মাত্র দেড়শো জন " 


***********************************


এলসমেয়ার দ্বীপ, গ্রিনল্যান্ড::--


সম্পূর্ণ বরফের পুরু আস্তরণে তৈরি এক দ্বীপ এই এলসমেয়ার। ইউরোপীয় গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিমে কানাডার আর্কটিক আর্কিপেলাগোর উপর অবস্থিত এটি।এই দ্বীপটি প্রায় ৭৫ হাজার ৭৬৭ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 


অঞ্চলটি শীত প্রধান এলাকায় অবস্থিত হওয়ার কারণে সারা বছরই এখানে পুরু বরফের চাদরে ঢাকা থাকে। বেশ কয়েক বছর পূর্বে এখানেই আবিষ্কৃত হয়েছিল ৩৫৭ মিলিয়ন বছরের পুরনো এক জীবাশ্ম যা প্রাণীজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার বলে মনে করেছেন বিজ্ঞানীরা। সমগ্র এই অঞ্চলটিকে ঘিরে রয়েছে আর্কটিক কর্ডিলার পর্বতমালা। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জীবন যাত্রার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার জন্য সমস্ত দ্বীপটিতে হাতে গোনা মাত্র ১৫০ জনের মতো মানুষ বসবাস করে।


জ্ঞানওবিজ্ঞান ফেইসবুক থেকে নেওয়া 






বাসিরহাটের ঐতিহাসিক ধান্যকুড়িয়া,,,,,,,,,,

 বাসিরহাটের ঐতিহাসিক ধান্যকুড়িয়া 🏤


আজ থেকে প্রায় দুশো তিরিশ বছর আগের কথা। সুবিশাল এই রাজবাড়ি বানিয়েছিলেন ধান্যকুড়িয়ার জমিদার মহেন্দ্রনাথ গায়েন। সেসময় ফুলেফেঁপে উঠেছিল তাঁর পাটের ব্যবসা। মূলত ইংরেজদের সঙ্গেই চলত তাঁর লেনদেন। আর সেই সুবাদেই উত্তর ২৪ পরগণার এই প্রান্তিক অঞ্চলেও নিত্যদিন লেগে থাকত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবদের আনাগোনা। তাঁদের বিলিতি সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে উস্কে দিতেই ইউরোপীয় দুর্গের আদলে এই রাজবাড়ি নির্মাণ করেন মহেন্দ্রনাথ।🏰🏯


৩০ একর জায়গায় জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই রাজবাড়ির মধ্যেই রয়েছে আস্ত এক পুষ্করিণী, যাতে রাজবাড়ির প্রতিচ্ছবি ঝলমল করে সারাদিন। গোটা দুর্গটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে বিশাল এক বাগানও। দুর্গের ভেতরে ঢুকলেও রীতিমতো চমকে যেতে হবে। নানা ধরনের ভিক্টোরিয়ান কারুকাজ থেকে শুরু করে রয়েছে ইতালিয় কাচের তৈরি আসবাব। যা এক কথায় মন্ত্রমুগ্ধকর। গ্রীষ্মকালে এই রাজবাড়িতে এসে অনেক সময়ই ছুটি কাটাতেন ব্রিটিশ সাহেবরা। তাঁদের জন্য ছিল পৃথক নহবতখানা, অতিথিশালা। এমনকি সেসময় এই রাজবাড়ির জন্য পৃথক রেল স্টেশনও তৈরি করেছিল মার্টিন কোম্পানি। গায়েন গার্ডেন নামের সেই স্টেশনে এসে থামত ন্যারো গেজের ছোট্ট বাষ্পচালিত ট্রেন। বর্তমানে অবশ্য সেই স্টেশনের অস্তিত্ব নেই আর। ২০০৮ সালে তা অধিগ্রহণ করে সরকার। গড়ে ওঠে অনাথ মেয়েদের সরকারি হোম। তবে মূল বাড়িটির কিছু অংশের পুনর্নির্মাণ হলেও, সামগ্রিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটি। বাড়ির সামনে অবস্থিত শ্বেত পাথরের দুটি সিংহ মূর্তির একটি চুরি গিয়েছিল বহু আগেই। কয়েক বছর আগে আরেকটি সিংহও চড়া দামে বিক্রি করে দেন মহেন্দ্রনাথের উত্তরসূরিরা। তবে শুধু ঔপনিবেশিক ইতিহাসই নয়, এই বাড়িতে শুটিং হয়েছে ‘সত্যান্বেষী’, ‘সাহেব-বিবি-গোলাম’, ‘সূর্যতপা’-সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রেরও। অভিনয় করে গেছেন স্বয়ং উত্তমকুমার। এমনকি বিদেশি বিভিন্ন চলচ্চিত্রেরও শুট হয়েছে এই দুর্গেই।🏘️🏡

♦️লেখাটি ভালো লাগলে, দয়া করে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।💚


সংগৃহীত । গ্রামের গল্প গ্রুপ থেকে shahadut Hasan এর ওয়াল থেকে নেওয়া। ✍️







সকাল ৭ টার  সংবাদ।  তারিখ: ১৪-০৬-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭ টার  সংবাদ। 

তারিখ: ১৪-০৬-২০২৪ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর। 


বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন সংশোধনী বিল-২০২৪ জাতীয় সংসদে উত্থাপন। 


মিঠা পানির মাছ আহরণে চীনকে পেছনে ফেলে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত বাংলাদেশ - জানালেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।


রাজধানীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট --- প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী।


সৌদি আরবে আজ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।


রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তার পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে জব্দ রুশ সম্পদ ব্যবহারে সম্মত হয়েছে জি-সেভেন।


কিংসটাউনে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নেদারল্যান্ডসকে ২৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

ব্যক্তিগত কম্পিউটারে পাওয়ার সাপ্লাই কীভাবে কাজ করে,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ব্যক্তিগত কম্পিউটারে পাওয়ার সাপ্লাই কীভাবে কাজ করে


কম্পিউটার চালানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলির একটি হল পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU)। পাওয়ার সাপ্লাই ছাড়া কম্পিউটার শুধুই ধাতু ও প্লাস্টিকের বাক্স।


পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কম্পিউটারের এসি বিদ্যুৎকে ডিসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে। বাসাবাড়িতে সরবরাহকৃত এসি (Alternating Current) বিদ্যুৎ সরাসরি কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় না, কারণ কম্পিউটার চালানোর জন্য ডিসি (Direct Current) বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। 


পিএসইউ এসি বিদ্যুৎকে ডিসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ সরবরাহ করে।

.


# বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পাওয়ার সাপ্লাই


১. ইনপুট পর্যায়: পিএসইউ প্রথমে বাসাবাড়ির এসি বিদ্যুৎ গ্রহণ করে। এটি সাধারণত ১০০-২৪০ ভোল্ট এসি, যা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।


২. রেক্টিফিকেশন এবং ফিল্টারিং: ইনপুট এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয়। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে রেক্টিফিকেশন বলা হয়। রেক্টিফিকেশনের পর, ডিসি ভোল্টেজ স্থিতিশীল করতে ফিল্টারিং করা হয়।


৩. ভোল্টেজ রেগুলেশন: ফিল্টারিংয়ের পরে, ডিসি ভোল্টেজকে আরও নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা নিশ্চিত করে যে কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে সঠিক ভোল্টেজ সরবরাহ হচ্ছে।


৪. আউটপুট পর্যায়: পিএসইউ থেকে ভিন্ন ভোল্টেজ আউটপুট থাকে, যেমন ৩.৩ ভোল্ট, ৫ ভোল্ট, এবং ১২ ভোল্ট ডিসি। এই আউটপুটগুলি কম্পিউটারের মাদারবোর্ড, হার্ড ড্রাইভ, এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশে সরবরাহ করা হয়।


কম্পিউটারের ডিজিটাল সার্কিট ৩.৩ ভোল্ট এবং ৫ ভোল্ট ডিসি ব্যবহার করে, আর ডিস্ক ড্রাইভ ও ফ্যানের জন্য ১২ ভোল্ট ডিসি প্রয়োজন হয়। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ক্ষমতা ওয়াটে মাপা হয়, যা ভোল্টেজ (বৈদ্যুতিক বিভবের একক) এবং অ্যাম্পিয়ার (বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক) এর গুণফল।


পাওয়ার সাপ্লাইকে অনেক সময় সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাইও বলা হয়, কারণ এটি সুইচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসি বিদ্যুৎকে কম শক্তির ডিসি ভোল্টে রূপান্তর করে।

.


# ওয়াটেজ রেটিং


পিএসইউ-এর কার্যক্ষমতা নির্ধারণের জন্য ওয়াটেজ রেটিং গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্দেশ করে যে ইউনিটটি কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, ৪৫০ ওয়াটের একটি পিএসইউ মানে এটি সর্বোচ্চ ৪৫০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।


পিএসইউ-এর অনেকগুলি কানেক্টর একসাথে কাজ করে মাদারবোর্ড, মাইক্রোপ্রসেসর, এবং সাটা বা হার্ডডিস্কে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। ল্যাপটপ এবং মিনি পিসিতে পাওয়ার সাপ্লাই কম্পিউটারের মূল অংশের বাইরে থাকে, যাতে স্থান বাঁচানো যায়।


কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশের শক্তি চাহিদার উপর ভিত্তি করে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট নির্বাচন করা হয়। যদি পিএসইউ প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্ষমতার হয়, তাহলে কম্পিউটার সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না, এবং অতিরিক্ত ক্ষমতার হলে এটি বিদ্যুৎ খরচ বাড়াতে পারে। সর্বোপরি, পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে সঠিক ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যাতে সব অংশ নিরবিচ্ছিন্নভাবে এবং সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে।

.


# ডেস্কটপ কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই


পার্সোনাল কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই সাধারণত সিপিইউ কেসিংয়ের এক কোণে ধাতব বাক্সের মধ্যে থাকে। অনেক কম্পিউটারে সিপিইউর পেছন থেকে পাওয়ার সাপ্লাই দেখা যায়। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে পাওয়ার কর্ড বা বিদ্যুতের তার ঢোকানোর জায়গা বা রিসেপ্টেকল এবং যন্ত্রপাতি ঠাণ্ডা রাখার জন্য একটি কুলিং ফ্যান থাকে।


আপনি যদি অনেক বছর ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে মনে থাকতে পারে যে প্রথম দিকের কম্পিউটারগুলিতে বড় লাল রঙের টগল সুইচ থাকত, যেগুলি অন করতে শক্তি প্রয়োগ করতে হত। এই সুইচগুলি আসলে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ১২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করত।


কিন্তু এখনকার কম্পিউটারগুলিতে অন করার জন্য মৃদু চাপ দিলেই চলে। কম্পিউটার বন্ধ করার জন্য আমরা সাধারণত স্ক্রিনের মেনু অপশন থেকে "শাটডাউন" কমান্ড দিই। এই সময় অপারেটিং সিস্টেম থেকে পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার সিগন্যাল পাঠানো হয়।


কম্পিউটার চালু করতে সিপিইউর পুশ বাটনে চাপ দিলে, পাওয়ার সাপ্লাইয়ে ৫ ভোল্টের সিগন্যাল পাঠানো হয়। পাওয়ার সাপ্লাইয়ে একটি বিশেষ সার্কিট থাকে, যা ৫ ভোল্টের স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার দিয়ে চলে। একে ভিএসবি (VSB) বা "স্ট্যান্ডবাই ভোল্টেজ" বলা হয়, যা কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও সক্রিয় থাকে। তাই কম্পিউটার বন্ধ থাকা অবস্থাতেও পুশ বাটন কাজ করে, কারণ এই স্ট্যান্ডবাই ভোল্টেজ সবসময় পাওয়ার সাপ্লাইকে প্রস্তুত রাখে।

.


# সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই


১৯৮০ সালের আগে পাওয়ার সাপ্লাই বেশ ভারি ও বড় আকারের ছিল। সেই সময় ১২০ ভোল্ট এবং ৬০ হার্টজ এসি বিদ্যুৎকে ৫ ভোল্ট এবং ১২ ভোল্ট ডিসি বিদ্যুতে রূপান্তর করতে বড় ট্রান্সফর্মার এবং ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হত, যেগুলির কোনো কোনোটি সোডা ক্যানের মত বড় আকারের ছিল। সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই প্রযুক্তির আগমনের ফলে বর্তমানের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটগুলি অনেক ছোট এবং হালকা হয়েছে। 


সুইচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরিকৃত পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটগুলি বেশি দক্ষ, কম্প্যাক্ট এবং কম তাপ উৎপাদন করে। এগুলি কম শক্তি খরচ করে ও ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক। ফলে, সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই প্রযুক্তি পুরনো ভারি এবং বড়সড় পাওয়ার সাপ্লাইয়ের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং আধুনিক।

.


• কীভাবে সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই কাজ করে


১. উচ্চ কম্পাংকের বিদ্যুৎ: সুইচার প্রযুক্তি এসি বিদ্যুৎকে ৬০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি থেকে আরও বেশি কম্পাংকে রূপান্তর করে। এতে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ট্রান্সফর্মারগুলি ছোট হওয়া সত্ত্বেও ১২০ ভোল্ট বিদ্যুৎকে কম ভোল্টেজে রূপান্তর করতে পারে।


২. রেক্টিফিকেশন এবং ফিল্টারিং: উচ্চ কম্পাংকের এসি বিদ্যুৎকে ডিসি বিদ্যুতে রূপান্তর করা সহজ। ফলে পাওয়ার সাপ্লাইতে ভোল্টেজের তারতম্য কম হয়, যা কম্পিউটারের ক্ষুদ্র ও সংবেদনশীল যন্ত্রাংশগুলিকে সুরক্ষা দেয়।


৩. বিদ্যুৎ গ্রহণের দক্ষতা: সুইচার পাওয়ার সাপ্লাই এসি লাইনের থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন ঠিক ততটুকু গ্রহণ করে, ফলে অপচয় কম হয়। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কতটুকু ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে পারে, তা সাধারণত ইউনিটের গায়ে লেবেলে লেখা থাকে।

.


# পাওয়ার সাপ্লাই স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন


এক সময় ব্যক্তিগত কম্পিউটারের জন্য অন্তত ছয় ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া যেত। তবে ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে, এটিএক্স ভিত্তিক পাওয়ার সাপ্লাই স্ট্যান্ডার্ডটি ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হয়। এর সর্বশেষ সংস্করণ হল এটিএক্স 12V 2.0। এটিএক্স স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পাওয়ার সাপ্লাইগুলি এটিএক্স কেসের সাথে মানানসই এবং এটিএক্স মাদারবোর্ডের সাথে বৈদ্যুতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের তারগুলিতে মানসম্পন্ন এবং চাবিযুক্ত কানেক্টর ব্যবহার করা হয়, যা ভুল সংযোগের ঝুঁকি কমায়। ডিস্ক ড্রাইভের জন্যও একই ধরনের কানেক্টর ব্যবহৃত হয়, যা কুলিং ফ্যানগুলিতে ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ করে তোলে। কালার কোডেড তার এবং মানসম্পন্ন কানেক্টর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের মধ্যে পছন্দের সুযোগ দেয়। যারা কম্পিউটারের পাওয়ার কেবল নিয়ে ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের জন্য নন-মডুলার পিএসইউ একটি ভাল বিকল্প, কারণ এতে সবকিছুই আগে থেকেই সংযুক্ত থাকে।


উইন্ডোজ, ম্যাক এবং লিনাক্স সিস্টেমগুলি অ্যাডভান্সড কনফিগারেশন অ্যান্ড পাওয়ার ইন্টারফেস (এসিপিআই) নামক একটি কোড ব্যবহার করে কম্পিউটারের ভেতরের যন্ত্রাংশে শক্তি খরচ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করে। এসিপিআই নির্ধারণ করে কম্পিউটার স্লিপ মোডে থাকাকালীন কোথায় পূর্ণ, কোথায় আংশিক এবং কোথায় শূন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে।


# পাওয়ার সাপ্লাই ওয়াটেজ


একটি কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ওয়াট নির্ধারণ করতে হলে ব্যবহৃত সমস্ত যন্ত্রাংশের (যেমন CPU, GPU, RAM, হার্ড ড্রাইভ ইত্যাদি) সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ খরচ যোগ করতে হয়। তবে মনে রাখবেন, পাওয়ার সাপ্লাই কখনোই তার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানো উচিত নয়। তাই ২০-৩০% অতিরিক্ত ক্ষমতা সহ PSU কেনা বাঞ্ছনীয়।


যেমন, একটি ৪০০ ওয়াটের সুইচিং পাওয়ার সাপ্লাই সাধারণত ২৫০ ওয়াটের বেশি শক্তি ব্যবহার করে না। তবে আপনি যদি মাদারবোর্ডের সবকটি স্লট ব্যবহার করেন বা কম্পিউটারের কেইসে সবকটি হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার করেন, তাহলে একটি উচ্চ ক্ষমতার PSU প্রয়োজন হবে।


উচ্চ-লোডের কাজের জন্য (যেমন গেমিং, ভিডিও এডিটিং) ২০০০ ওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার PSU প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য ২০০-৩০০ ওয়াটের PSU যথেষ্ট। ল্যাপটপ এবং মিনি পিসির জন্য, ৫০ ওয়াট বা তার কম ক্ষমতার PSU ব্যবহার করা যেতে পারে।


প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্ষমতা সহ PSU কেনা ভাল, কারণ PSU কে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। এটি অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে, যা যন্ত্রাংশের ক্ষতি করতে পারে।  


নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের সময় বা কম্পিউটার আপগ্রেড করার সময় পাওয়ার সাপ্লাই আপগ্রেড করার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

.


# ব্যক্তিগত কম্পিউটারের পাওয়ার সাপ্লাই সমস্যার সমাধান


ব্যক্তিগত কম্পিউটারে পাওয়ার সাপ্লাই অংশেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, পিসি চালু করার পর যতবার এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায়, ততবার এটি গরম এবং ঠাণ্ডা হয়।


সাধারণত, কুলিং ফ্যান থেমে থাকলে বোঝা যায় যে পাওয়ার সাপ্লাইয়ে সমস্যা হয়েছে। এ সময় কম্পিউটারের যন্ত্রাংশগুলি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। উল্লেখ্য, কম্পিউটারের সকল যন্ত্রাংশই পাওয়ার সাপ্লাই থেকে ডিসি বিদ্যুৎ গ্রহণ করে।


পাওয়ার সাপ্লাই সমস্যা বোঝার আরেকটি উপায় হচ্ছে, কম্পিউটার বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে পোড়া গন্ধ পাওয়া। আবার, কুলিং ফ্যানেরও সমস্যা হতে পারে। এই সময় পাওয়ার সাপ্লাই অংশের যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। যখন কোনো কারণ ছাড়াই কম্পিউটার রিবুট করে অথবা উইন্ডোজ ফেইলিওর (Failure) দেখায়, তখন এটি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের সমস্যা হতে পারে।


পাওয়ার সাপ্লাইয়ে সমস্যা হলে, প্রথমে কম্পিউটারের সাথে দেওয়া ম্যানুয়ালগুলি পরীক্ষা করুন। সিপিইউ কেস খুলে অ্যাডাপ্টার কার্ড অথবা মেমোরি লাগানোর অভিজ্ঞতা থাকলে, সতর্কতার সাথে পাওয়ার সাপ্লাই পরিবর্তন করতে পারেন। তবে অবশ্যই আগে পাওয়ার কর্ড বা বিদ্যুতের তার খুলে নিন, কারণ কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও তারের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকতে পারে।


পাওয়ার সাপ্লাই সমস্যার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে ভাল। নিয়মিত কম্পিউটার পরিষ্কার করে ধুলোবালি অপসারণ করলে পাওয়ার সাপ্লাই ভাল অবস্থায় থাকে। ভাল মানের পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করলে সমস্যা তৈরির আশঙ্কা  কম থাকে।

.


# পাওয়ার সাপ্লাই প্রযুক্তির অগ্রগতি


সাম্প্রতিক সময়ে মাদারবোর্ড এবং চিপসেটের উন্নতির ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই পাওয়ার সাপ্লাই ফ্যানের প্রতি মিনিটে ঘূর্ণন (RPM) দেখতে পারেন। এজন্য বায়োস এবং মাদারবোর্ড প্রস্তুতকারক কোম্পানির দেওয়া উইন্ডোজ অ্যাপ্লিকেশনের প্রয়োজন হয়। নতুন ডিজাইনের পাওয়ার সাপ্লাই ফ্যানগুলি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। প্রয়োজনমত ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, ফলে শীতল করার জন্য যতটুকু গতি প্রয়োজন, ফ্যান সেই গতিতেই চলতে পারে।


ওয়েব সার্ভারগুলিতে আলাদা পাওয়ার সাপ্লাই থাকে। যখন একটি পাওয়ার সাপ্লাই কাজ করছে, তখন অন্যটি ব্যাকআপ হিসেবে থাকে। আজকাল সার্ভারের জন্য তৈরি নতুন কম্পিউটারগুলিতে অতিরিক্ত পাওয়ার সাপ্লাই যুক্ত থাকে, যার ফলে সিস্টেমে দুই বা তার বেশি পাওয়ার সাপ্লাই কাজ করে। একটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, আর অন্যটি ব্যাকআপ হিসাবে থাকে। মূল পাওয়ার সাপ্লাই কোনো কারণে নষ্ট হলে, দ্বিতীয় পাওয়ার সাপ্লাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে। এই ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কারণে মূল পাওয়ার সাপ্লাই পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা সহজেই করা যায়।


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

অস্ট্রিয়ার ছোট্ট শহরের প্রতিরুপ তৈরি করেছে চীন, দেখতে হুবহু আসলটির মত,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

"অস্ট্রিয়ার ছোট্ট শহরের প্রতিরুপ তৈরি করেছে চীন, দেখতে হুবহু আসলটির মত "


************************************


 হলস্ট্যাট গ্রাম,হুইঝো, চীন::--


হলস্ট্যাট হল ইউরোপের ছোট্ট দেশ অস্ট্রিয়ার একটি রূপকথার শহর, যা একটি মনোরম লেকের তীরে অবস্থিত। অত্যন্ত সুন্দর এবং পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার জন্য এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে মনোনীত। 


কিন্তু এটা ভাবলে আপনি অবাক হবেন অস্ট্রেলিয়ার এই সুন্দর শহরটির একদম অবিকল প্রতিরূপ তৈরি করেছে প্রতিবেশী দেশ চীন। এটি তৈরি করতে তাদের প্রায় এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ হয়েছে। হলস্ট্যাটের অত্যাশ্চর্য শহরটি চীনে একজন খনির টাইকুন দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। তবে এর নির্মাণের কারণ অজানা। 


পুরো নির্মাণ পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছিল।শহরটির মেয়র তাদের দেশে তার শহর পুনর্নির্মাণের চীনের সিদ্ধান্তে এতটাই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে তিনি সেখানে এসেছিলেন চীনা স্থপতিদের এই অদ্ভুত ক্রিয়াকলাপ পরিদর্শনের জন্য। তিনি দেশের সাথে ভবিষ্যত সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নথিতে স্বাক্ষর করেন এবং প্রতিরূপটি খুলেন। চীনের তৈরি এই শহরটির বাড়িগুলি এবং রাত্রিকালীন আলোকিত ক্রাইস্ট চার্চটি দেখতে হুবহু আসলটির মতো।









জ্ঞানওবিজ্ঞান জ্ঞানওবিজ্ঞানফেসবুকপেজ 

fb 

fbviral 

fbpost24 fbviralpost unknown unknownfacts 

gk generalknowledge quiz 

QuizTime 

city 

duplicated 

austria 

China 

holostat 

huizo duplicatecity tourist 

touristspot

সকাল ৭ টার  সংবাদ।  তারিখ: ১৩-০৬-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭ টার  সংবাদ। 

তারিখ: ১৩-০৬-২০২৪ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


প্রযুক্তি ভিত্তিক, উন্নত, টেকসই ও জ্ঞান ভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার — জাতীয় সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী।


গ্লোবাল ফান্ড অ্যান্ড স্টপ টিবি পার্টনারশিপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের নেতৃবৃন্দের জোট ও গ্লোবাল ফান্ড চ্যাম্পিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর দুটি স্থায়ী হাটসহ ২২টি পশুর হাটে আজ শুরু হচ্ছে কোরবানির পশু বেচাকেনা।


সারাদেশে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ট্রেনে ঈদ যাত্রা।


পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা ও ক্রায়োস্ফিয়ার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী।


গ্রামীণ টেলিকমের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে কোম্পানির চেয়ারম্যান ডক্টর ইউনূস ও অপর ১৩ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে অভিযোগ গঠন। 


গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘ। 


নিউইয়র্কে আইসিসি টি—টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত - ত্রিনিদাদে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন  নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলছে - আজ রাতে কিংসটাউনে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বুধবার, ১২ জুন, ২০২৪

বিশ্বের সর্বপ্রথম "শীতাতপ" নিয়ন্ত্রিত মহাসড়ক...

 ✍️✍️বিশ্বের সর্বপ্রথম "শীতাতপ" নিয়ন্ত্রিত মহাসড়ক...!


গত [ফেব্রুয়ারি'23] ৯৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মহাসড়কটি তৈরি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে! দুবাইয়ের একটি স্থাপনা সংস্থা ইউআরবি(URB)'র অধীনে এই মহাসড়কটি গড়ে তোলা হয়েছে!2040 সালে খুলে  দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত...


এই মহাসড়কে কোন গাড়ি চলবে না,শুধু মাত্র বাই-সাইকেল রাইডার আর পায়ে হেঁটে চলা পাবলিকদের জন্যই কেবল।


এখানে মূলত জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হবে...


মহাসড়কটি স্টিলের খাঁচার উপর দিয়ে কাঁচে মুড়ানো একটি আবরণ থাকবে।এই মহাসড়কের আশেপাশে কেনা কাটার জন্য থাকবে শপিংমল,রেস্তোরাঁ,আন্ডার গ্রাউন্ড সাইকেল পার্কিং, বাণিজ্যিক প্লেস,সিনেমা-থিয়েটার,এক্সারসাইজ বা ব্যায়ামাগার ও শিশুদের জন্য থাকবে নিরাপদ বিনোদনের ব্যবস্থা...


সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং জলবায়ু টেকসই মহাসড়কটির নাম দেয়া হয়েছে ‘‘সাসটেইনেবল আরবান হাইওয়ে’’ বা দ্যা লুপ (The Loop)।


কার্টেসি – আশা





সকাল ৭ টার  সংবাদ।  তারিখ: ১২-০৬-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭ টার  সংবাদ। 

তারিখ: ১২-০৬-২০২৪ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


আশ্রয়ণের ঘর পেল আরও সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি পরিবার — গৃহহীন ও ভূমিহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে এসব বাড়ি, বললেন প্রধানমন্ত্রী — ২৬টি জেলাসহ আরও ৭০টি উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা।


জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় স্থানীয় অভিযোজন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার জন্য লোকাল অ্যাডাপ্টেশন চ্যাম্পিয়ন্স অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করলেন শেখ হাসিনা।


বিশ্বব্যাপী মন্দা বিরাজ করলেও সরকারের যুগোপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তে সচল রয়েছে দেশের অর্থনীতি — বললেন রাষ্ট্রপতি।


রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত — 

আজ থেকে পুরোদমে শুরু হবে পশু বেচাকেনা। 


হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


নর্থ সাউন্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এখন অষ্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করছে নামিবিয়া।

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪

বাবার পরী রানু,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বাবার পরী রানু


'কুচকুচে কালো সে জাতে স্প্যানিয়েল, 

তুলতুলে গা যেন রেশমি রুমাল। 

আমি তাকে বুশিবল নাম দিয়ে ডাকি 

বুশিবল এ শহরে আছে একটাই... 

বুশিবল বুশিবল তুমি যে আমার, 

বুশিবল বুশিবল আমিও তোমার।' 


একটি কালো রঙের কুকুরের প্রতি ভালবাসা নিয়ে এই গান আজও বাঙালির ঘরেঘরে জনপ্রিয়। 

বাংলা সঙ্গীত জগতে এক কিশোরীর মাদকতাময় কণ্ঠ নতুন বাঁক ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেই কিশোরীটি হলেন রাণু মুখোপাধ্যায়, কিংবদন্তী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কন্যা। কিন্তু রাণু হেমন্ত-কন্যা পরিচয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি, স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কী দিয়ে নিজের আইডেন্টিটি তৈরি করে ফেলেছিলেন খুব অল্পদিনেই। স্টারকিড হওয়ার দৌলতে রাণুর সঙ্গীত জগতের লাইমলাইটে আসা হয়তো সহজ ছিল, কিন্তু বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়ে যেভাবে রাণু মুখার্জীর নামটা এক নম্বরে উঠে এসেছিল, সেই লড়াইটা কিন্তু সহজ ছিল না। বাবা যে একজন কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার, সেই বোধটা ছোটবেলায় ছিল না রাণুর। বাবার ব্যস্ততা, বাড়িতে নিয়মিত সঙ্গীত তারকাদের যাওয়া-আসার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন জয়ন্ত ও রাণু, হেমন্তর পুত্র-কন্যা। জয়ন্ত বড়, রাণু ছোট। রাণু ছোট বলে সবার আদুরে। মুম্বইয়ের খারেতে তখন থাকেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। বাড়ির নাম 'গীতাঞ্জলি'। হেমন্তর প্রতিবেশী ছিলেন বিখ্যাত গীতিকার শৈলেন্দ্র। একবার রাণু স্কুল থেকে ফিরে সুর করে নার্সারি রাইম শোনাচ্ছিলেন বাবা আর শৈলেন্দ্র আঙ্কলকে। সুরটা দু'জনেরই পছন্দ হয়ে গেল। তৈরি হল সেই বিখ্যাত গান, 'নানি তেরি মোরনি কো মোর লে গ্যয়ে'। রেকর্ডিং স্টুডিওয় যাওয়ার পথে গাড়িতেই পুরো গানটা মেয়েকে শিখিয়ে দিলেন বাবা। সহজেই গান তুলে নেওয়ার প্রতিভা রাণুর ছিল সেই বয়সেই।  বাবার সুরে ও রেকর্ডে রাণু মুখোপাধ্যায়ের প্রথম গান 'মাসুম' ছবিতে শোনা গিয়েছিল ১৯৬০ সালে।  এভাবেই খেলার ছলেই রাণুর গান শেখা। সেইসঙ্গে রক্তে তো গান ছিলই। মা বেলা মুখোপাধ্যায় আর বাবা হেমন্ত মুখোপাধ্যায় দুজনেই গানের জগতের দিকপাল।


হেমন্তর পরিবারে কন্যা সন্তান ই বেশি। একমাত্র পুত্র সন্তান হেমন্তর ছেলে জয়ন্ত। একমাত্র নাতিকে চোখে হারাতেন হেমন্তের মা। হেমন্তর বড়দার শক্তিদাসের ছয় মেয়ে। এক মেয়ে সুমিত্রা মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের গানে বিখ্যাত। কোন পুত্র সন্তান নেই। মেজ ভাই হেমন্তর মেয়ে রানু। সেজ ভাই তারাজ্যোতির একটিই মেয়ে শাশ্বতী। ছোট ভাই সুরকার অমল মুখোপাধ্যায়ের দুই মেয়ে পারমিতা ও মধুমিতা। সবে ধন নীলমণি জয়ন্ত। যদিও হেমন্তর বোন নীলিমার তিন মেয়ের সাথে এক ছেলে হয়। যদিও তাঁরা আলাদা গোত্রের। 


অগ্রদূত পরিচালিত ছোটদের ছবি 'বাদশা'তে বাবার সুরে রাণুর গাওয়া তিনটি গান বিশাল জনপ্রিয় হয় মাস্টার শঙ্কর ঘোষের লিপে। 'লালঝুঁটি কাকাতুয়া', 'শোন শোন শোন মজার কথা ভাই' এবং 'পিয়ারিলালের খেলা দেখে যা'। 'লালঝুঁটি কাকাতুয়া' তো ঘুমপাড়ানি গানই হয়ে গেল ঘরে-ঘরে। আজও ছোটদের গান বললেই এক নম্বরে আসবে রাণুর গাওয়া 'লালঝুঁটি কাকাতুয়া ধরেছে যে বায়না, চাই তাঁর লাল ফিতে চিরুনি আর আয়না।'


হেমন্ত-কন্যা ছবিতে নায়িকা হওয়ারও অফার পেয়েছিলেন সেসবে আর এগোননি রাণু। ছোটবেলায় রাণু কিন্তু শিশুশিল্পী রূপে অভিনয়ও করেছেন হিন্দি ছবিতে, 'বন্ধন', 'অনুরাধা' এবং 'বিশ সাল বাদ'।


হেমন্ত-রাণু বাবা-মেয়ের জুটির দ্বৈতকণ্ঠে  রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ডও বেরিয়েছিল। 'অমল ধবল পালে লেগেছে' এবং 'এ পারে মুখর হল কেকা ওই'। 


মহুয়া রায়চৌধুরীর লিপে 'আশীর্বাদ' ছবিতে 'ফুলের গন্ধের মতো তোমায় জড়িয়ে আমি রাখব' রাণু গেয়ে সেরা গায়িকার বিএফজেএ পুরস্কার পান। হেমন্ত চেয়েছিলেন তাঁর সুরে মহুয়ার লিপে অরুন্ধতী এবার নয় রাণু গাইবেন। কিন্তু আশীর্বাদ ই মহুয়ার শেষ ছবি হল নিয়তিতে। যে কারণে রাণু-মহুয়া জুটির গান হিট হয়েও পরে আর হলনা। 


হেমন্তর মৃত্যুর পরও রাণু এ আর রেহমানের সুরে প্লে ব্যাক করেছিলেন রাম গোপাল ভার্মার দাউদ ছবিতে। গৌতম মুখোপাধ্যায়, রাণুর স্বামী অনেক গানেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ডিংয়ে সহকারী সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। হেমন্ত চেয়েছিলেন তাঁর মেয়ে সারা জীবন গান নিয়েই থাকুক। রাণু মনে-প্রাণে আজও গান নিয়েই আছেন কিন্তু বহু যুগ তিনি গানের জগতের বাইরে। কেন এই অভিমান? নাকি গানের জগত বদলে যাওয়াতেই তাঁর এই অন্তরাল?


হেমন্তর মৃত্যুর পর গানের জগতের দরজা রাণুর জন্য বন্ধ হতে থাকে। নিজের খামখেয়ালি পোনা, কিছুটা বাবার মেয়ে স্টারডম প্রদর্শন কখনও বা একেবারেই উদাসনীতার থেকে লাইমলাইটের বাইরে বেরিয়ে যান রাণু। অন্তরা চৌধুরী আর রানু মুখোপাধ্যায়ের পরপর জন্মদিন। দুজনেই ছোটদের গানে অসম্ভব জনপ্রিয় হন। কিন্তু দুজনেরই গলার টেক্সচার দূর্দান্ত ছিল। রোম্যান্টিক গানে সেভাবে ব্যবহার করেননি ওঁদের কেউ। ছোটদের গানেই দুজনে টাইপকাস্ট হয়ে গেলেন। অন্তরা হাজার বাঁধা পেরিয়ে নিজের গানের ক্যারিয়ার বাঁচিয়ে রাখলেও রাণু সে পথে একেবারেই হাঁটেননি। যে কারণে অন্তরা আট থেকে আশির কাছে চেনা কন্ঠ হলেও রাণু হননি। বাবার প্রস্থানের পর বাংলার সুরকাররা রাণুকে সেভাবে গানও দেননি। বম্বে থেকেও হিন্দি গানে কাজে লাগেনি ওমন পপ গানের কন্ঠ। যদিও 'লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া' র গানের আসল শিল্পী কে তাতে রাণু মুখোপাধ্যায়ের নাম আসবেই? 


আজ জন্মদিনে ৬৬ বছরের রাণু কী আজও গেয়ে ওঠেন বাবার সুরে 'লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া' ? কে জানে গুনগুন করেন কিনা যখন বেড়ান তিনি পাইন বনে!


কৃতজ্ঞতা  শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্রাট আকবরের রাজসভায় নবরত্নের অন্যতম রত্ন ছিলেন রামতনু পান্ডে 

 সম্রাট আকবরের রাজসভায় নবরত্নের অন্যতম রত্ন ছিলেন রামতনু পান্ডে । অনুমান করা হয় ১৫৮৯ সালে ৬ ই মে সুরলোকে যাত্রা করেন সুর সম্রাট রমতনু পান্ডে ওরফে তানসেন,

শ্রদ্ধাঞ্জলি

একটি প্রতিবেদন

ঋণ আপন কথা

*********

বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ, সঙ্গীত জগতের সম্রাট কিংবদন্তি সুর স্রষ্টা তানসেন। তার পুরো নাম রামতনু পাণ্ডে। মোঘল সম্রাট আকবর তাকে তানসেন উপাধিতে ভূষিত করেন। তানসেন নামের অর্থ যিনি সঙ্গীত দিয়ে হৃদয় দ্রবীভুত করেন। যিনি চাইলেই গান গেয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারতেন, আবার গান গেয়েই নামাতে পারতেন আকাশ থেকে অঝর ধারার বৃষ্টি। তানসেন শুধু বড় গায়কই ছিলেন না তিনি ছিলেন গীতিকার ও কবি। আধুনিক ধ্রুপদ সঙ্গীতের প্রবক্তা তানসেন কিছু রাগের নবরুপ দিয়েছিলেন সে সকল রাগ তার নামের সাথে আজও জড়িয়ে আছে। যথাঃ মিয়াকী দরবারী কানাড়া, মিয়াকী মল্লার, মিয়াকী তোড়ি। এসব রাগ সেই যুগ হতে আজও সকলের কাছে সমান জনপ্রিয়। কিংবদন্তি এই সঙ্গীত যাদুকরের আজ ৪২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। যদিও তার জন্ম-মৃত্যু সাল নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। মাহবুবুল হক সংকলিত বিশ্বতারিখ অনুযায়ী ১৫৮৯ সালের ৬ মে তিনি মৃত্যুৃবরণ করেন। সঙ্গীত জগতের সম্রাট কিংবদন্তি সুর স্রষ্টা তানসেনের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলৌকিক ক্ষমতাধর, সঙ্গীতের যাদুকর তানসেন আনুমানিক ১৫০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের মধ্য প্রদেশের অন্তর্গত গোয়ালিয়ের বেহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম রামতনু পাণ্ডে। তার বাবা মুকুন্দ পাণ্ডে একজন কবি এবং তিনি ছিলেন বারাণসীর বাসিন্দা। তার কোনো সন্তানই বেঁচে থাকতো না। শোনা যায় মৃতবৎসা স্ত্রীকে তিনি গোয়ালিয়রের মুহাম্মাদ গওস এর মাদুলী গ্রহন করেন যাতে করে তানসেনের জন্ম হয়। শেখ মুহাম্মদ গাউস ষোড়শ শতাব্দীর অন্যতম সুফী দরবেশ ও ফকির ছিলেন। সকল ধর্ম বিশ্বাসের লোকের কাছে তিনি সনামধন্য ছিলেন। ছেলের জন্মে তিনি অতি আনন্দিত হন এবং এই জন্মের পিছনে সাধু গাউসের আশীর্বাদ রয়েছে বলে বিশ্বাস করতেন। তিনি ছেলের নাম রাখেন রামতনু (রামতনু পাণ্ডে)। ছোটবেলা থেকেই রামতনু সঙ্গীত শিক্ষা করতে শুরু করেন। এই শিক্ষায় তার গুরু ছিলেন বৃন্দাবনের তৎকালীন বিখ্যাত সঙ্গীত শিক্ষক হরিদাস স্বামী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার মেধার ক্ষমতা প্রকাশিত হয়।

কথিত আছে ১০ বছর বয়সে রামতনু গাছের আড়াল হতে বাঘের ডাক নকল করে সঙ্গীতাচার্য্য স্বামী হরিদাসকে ভয় দেখাতে চেষ্টা করে। তার মেধা দেখে স্বামীজি বিস্মিত হন এবং তার বাবাকে বলে নিজের সাথে বৃন্দাবন নিয়ে যান। সেখানেই রামতনু সঙ্গীতের তালিম নেন বেশ কয়েক বছর। এই বৃন্দাবনেই তানসেনের মূল ভিত রচিত হয়। বিভিন্ন রাগের সুষ্ঠু চর্চার মাধ্যমে তিনি বিখ্যাত পণ্ডিত শিল্পীতে পরিণত হন। অনেক বিখ্যাত হওয়ার পরও তাই তিনি সময় পেলেই বৃন্দাবন আসতেন। বৃন্দাবন থেকে বেহাটে ফিরে তানসেন শিব মন্দিরে সঙ্গীত সাধনা শুরু করেন। লোকমুখে শোনা যায়, তার সঙ্গীতে মন্দিরের দেয়াল আন্দোলিত হত। স্থানীয়রা পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, তানসনের সঙ্গীতের কারণেই মন্দিরটি এক দিকে একটু হেলে পড়েছে। তানসেন সম্বন্ধে আরও কিছু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমনঃ বৃক্ষ ও পাথরকে আন্দোলিত করা, নিজ থেকেই বাতি জ্বালানো এবং যখন বৃষ্টির কোন চিহ্নই নেই তখন বৃষ্টি আনয়ন করা ইত্যাদি। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর রামতনু গওসের কাছে যান আর তার সাথেই বসবাস শুরু করেন। এই সময় গওসের সহায়তায় রাজা মানসিংহের বিধবা স্ত্রীর সভায় যোগ দেন রামতনু। তিনি এসময় ধর্মান্তরীত মুসলমান রমনী প্রেমকুমারী, পরে যার নাম হয় হোসেনী তাকে বিয়ে করেন ও মুসলিম ধর্ম গ্রহন করেন। তার নাম হয় আতা আলি খাঁ। তবে তানসেন ইসলাম গ্রহন করেছিলেন কি না তা নির্ভরযোগ্য ভাবে জানা যায় না। এর পক্ষে ও বিপক্ষে দুইদিকেই প্রচুর মত পাওয়া যায়। তানসেনের দুজন স্ত্রী ও পাচ সন্তানের খবর পাওয়া যায় যথাঃ হামির সেন, সুরত সেন, তরঙ্গ সেন ও বিলাস খাঁ নামে ৪ পুত্র এবং স্বরস্বতী দেবী নামে এক কন্যা।

মোঘল সম্রাট আকবরের সভায় নবরত্নের এক রত্ন ছিলেন আতা আলি খাঁ। দিল্লীর সম্রাট আকবর সিংহাসনে বসার সাত বছর পর ১৫৬২ খ্রীস্টাব্দে আতা আলী খাঁ এর কথা জানতে পান ও তাকে দিল্লীর দরবারে অধিষ্ঠিত করেন। সে সময় তিনি রেওয়ার মহারাজা রাজারাম( রামচাঁদ) এর সভা গায়ক ছিলেন। সম্রাট আকবার একদিন আতা আলী খাঁ এর গান শুনে এতই বিমোহিত হয়ে পড়েন যে তার গলা থেকে কন্ঠহার খুলে তাকে পরিয়ে দেন এবং তার নাম দেন তানসেন। তানসেনের সময়ে আকবরের রাজসভায় আরো নামজাদা গায়ক ও সংগীতজ্ঞ ছিলেন। এদের মধ্যে মিয়া খোদাবক্স, জ্ঞান খাঁ, দারিয়া খাঁ, মিয়া মসনদ আলি খাঁ, বাবা রামদাস, সুরদাস, নবাব খাঁ, রাজ বাহাদুরসহ অনেকে।

তৎকালীন সমসাময়িক সঙ্গীতজ্ঞরা তানসেন এর এমন সৌভাগ্যে হিংসায় এক কুটকৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা যড়যন্ত্র করে তাকে পুড়ে মারবার জন্য দীপক রাগইতে বলেন। দীপক রাগ এমনি এক শক্তিশালী রাগ যা গাইলে গান থেকে সৃষ্ট আগুনে তানসেনের শরীর ঝলসে যাবার সম্ভাবনা ছিলো। তানসেন তা জানতেন। তাই তিনি প্রথমে রাজী হননি। তিনি জানতেন, দীপক রাগ গাওয়ার পর যখন আগুন জ্বলবে তাকে নেভানোর জন্য প্রয়োজন হবে মেঘমল্লার রাগ। কিন্তু একার পক্ষে তো একসাথে দুটো রাগ গাওয়া সম্ভব নয়। ষড়যন্ত্রকারীও জানতেন, তানসেন কোনদিন এই রাগ পরিবেশন করবেন না তাই তানসেনের বিরোধীপক্ষ সম্রাট আকবরকে সংগীতানুষ্ঠানের সময় অনুরোধ করলেন তানসেনের কণ্ঠে দীপক রাগ শুনতে। সরল বিশ্বাসে সম্রাট আকবর তানসেনকে অনুরোধ করলেন দীপক রাগ গাইতে। বিচক্ষণ তানসেন বিপজ্জনক এই রাগের পরিবেশনার জন্য সময় চেয়ে নিলেন সম্রাটের কাছে। তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করার জন্য মেয়ে স্বরস্বতী ও গুরু কন্যাকে মেঘমল্লার গানে তালিম দিতে লাগলেন।

(চিত্রে রাগ মেঘ মল্লার)

নিজ কন্যা স্বরস্বতী ও গুরু কন্যাকে তালিম দেবার পর এক দিন রাজসভায় দীপক রাগ গাওয়ার ঘোষণা দিলেন। তানসেনের এই পূর্ব প্রস্তুতির কথা কেউ জানতেন না। নির্দিষ্ট দিনে রাজসভায় লোকে লোকারণ্য। মাঝখানে বসে আছেন স্বয়ং সম্রাট আকবর যথাসময়ে বসল গানের আসর। শত্রু পক্ষের ধারণা, কিছুক্ষণের মধ্যে তানসেনের ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে। তানসেন শুরু করলেন দীপক রাগ। শুরু হওয়ার পর এক সময় সভাগৃহের সমস্ত মোমবাতিতে আগুন ধরে গেল। অবস্থা দেখে সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে লাগলেন। তানসেনের নিজের শরীরেও আগুন জ্বলতে শুরু করলো। তিনি ছুটলেন বাড়ির দিকে। সেখানে নিজ কন্যা ও গুরুকন্যা সমস্বরে মেঘমল্লার গাইছে। আকাশ থেকে নামতে শুরু করেছে বৃষ্টিধারা। সেই বৃষ্টিজল নিভিয়ে দিলো তানসেনের শরীরের জলন্ত আগুন। শোনা যায় এই ঘটনার পর অসুস্থবস্থায় ছয়মাস তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। তিনি যেমন গানের সুর-মূর্ছনায় আগুন ধরাতে পারতেন, আবার মেঘমল্লারে বৃষ্টির ধারাও নামাতে পারতেন।তেমনি দরবারি গান গেয়ে সুস্থ করতে পারতেন দুরারোগ্য রোগীকে। তানসেন গান গেয়ে দিনের আলোকে অন্ধকার করে রাত। রাতের আঁধার দূর করে দিনের আলোয় ভরে দিতে পারতেন চারদিক। শুধু গানে নয়, যন্ত্র সংগীতেও তার অসীম ক্ষমতা। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র বীণা। এটা তানসেনেরই আবিষ্কার।

এই মহান সঙ্গীত সাধক ৮৩ বছর বয়সে ১৫৮৯ সালের ৬ মে আগ্রায় মৃত্যুবরণ করেন। গোয়ালিয়ের কাছে বেহাটে গোয়ালিয়রের মহান সুফি সাধক শেখ মুহাম্মদ গাউসের সমাধি কমপ্লেক্সেই মিয়া তানসেনে সমাধি রচিত হয়েছিল। গাউস এবং তানসেনের দুইটি সমাধি পাশাপাশি রয়েছে। সাধু গাউসের সমাধির ডান পাশে তানসেনের সমাধি অবস্থিত। সমাধিটি আজও অটুট রয়েছে। সমাধিস্থলে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে তানসেন স্মরণে জাতীয় পর্যায়ে সঙ্গীত উৎসব হয়। দেশ, বিদেশের সঙ্গীত শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতানুরাগীরা সেখানে যোগ দেন।

From দা শুর ডাইরি

 সংগৃহীত


রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ ১৪-০৫-২০২৬

 রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ ১৪-০৫-২০২৬ আজকের সংবাদ শিরোনাম আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে, এইচএসসি জুনে --- জানালেন শিক...