এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ- ১৫-০৯-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ- ১৫-০৯-২০২৪


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


দরগাহ ও মাজারে হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা - জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ।


চাপ সৃষ্টি না করে স্বেচ্ছায় কর দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অর্থ উপদেষ্টার আহ্বান।


দেশে সারের কোনো সংকট নেই - মজুতদারদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ কৃষি উপদেষ্টার। 


চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মার্কিন প্রতিনিধিদল এখন ঢাকায়।


আজ থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম।


স্থলহামলার আশঙ্কায় গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে হাজারো ফিলিস্তিনিকে সরে যাবার আদেশ ইসরাইলী সেনাবাহিনীর।


আজ কলম্বোয় তৃতীয় নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচে শ্রীলংকা ‘এ’ দলের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ- ১৪-০৯-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ- ১৪-০৯-২০২৪


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস - আটকা পড়েছেন সহস্রাধিক পর্যটক।


দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে দুই দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মার্কিন প্রতিনিধিদল।


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ৮৭৫, আহত তিন সহস্রাধিক - জানালো মানবাধিকার সংগঠন এইচ আর এস এস।


দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটে আবার উৎপাদন শুরু।


বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত হত্যার তীব্র নিন্দা জানালো বিজিবি। 


টাইফুন ইয়াগির ফলে সৃষ্ট বন্যার কারণে মিয়ানমারে ১৯ জনের প্রাণহানি।


কার্ডিফে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩ উইকেটে হারালো স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ- ১২-০৯-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ- ১২-০৯-২০২৪


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরি করতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ - জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বললেন প্রধান উপদেষ্টা।


দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি শিল্প-কারখানা চালু রাখার আহ্বান ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের।


শ্রম পরিস্থিতি উন্নয়নে ‘শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটি’ গঠন। 


বৈষম্যহীন ও গতিশীল অর্থনীতির জন্য ১২ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন - ব্যাংকিং খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয় সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন।


বাংলাদেশে পানি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে সহায়তা বাড়াবে চীন - জানালেন পানিসম্পদ ও পরিবেশ উপদেষ্টা।


গাজায় নুসেইরাত শিবিরে সর্বশেষ ইসরাইলি হামলায় ছয় জাতিসংঘ কর্মীসহ ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত।


তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ২৮ রানে হারালো অস্ট্রেলিয়া।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ- ১৩-০৯-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ- ১৩-০৯-২০২৪


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে সরকারের সাথে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা।


উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি করে জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠন।


বাংলাদেশিদের অবৈধ সম্পদ ফেরত আনতে সহযোগিতার আশ্বাস সুইজারল্যান্ডের।


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাজকে আরও গতিশীল করতে একশো দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা।


জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে সরকার - মন্তব্য অ্যাটর্নি জেনারেলের।


নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সঙ্গে আরেকটি বিতর্ক অনুষ্ঠান নাকচ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বাংলাদেশের   বিয়েবাড়িতে  যে  ঘটনাগুলো ঘটবেই:-

 বাংলাদেশের   বিয়েবাড়িতে  যে  ঘটনাগুলো ঘটবেই:-


১. বরযাত্রা শুরু হবে- এসময় দেখা যাবে গুরুত্বপুর্ণ কেউ অনুপস্তিত। খুঁজতে গেলে পাওয়া যাবে শেভ করতে সেলুনে নয়তো জুতা পলিশ করতে গেছে।


২. যথাযথভাবে আমন্ত্রণ করা হয়নি এই অভিযোগে দু'একজন আত্মীয় অনুষ্ঠান বর্জন করবে।


৩. বর/কনের চাচা ও মামা পক্ষের মধ্যে একটা রেষারেষি থাকবেই। বিয়েতে কোন পক্ষের কর্তৃত্ব বেশি হবে সেটা নিয়ে অঘোষিত প্রতিযোগীতাও চলবে।


৪.গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বর/কনের দুলাভাই কিংবা মামা টাইপের কেউ অভিমান করবে। তার মান ভাঙাতে অন্য মুরুব্বিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাবে।


৫. কনের বাড়িতে গেট দিয়ে ঢোকার সময় টাকা দেয়া নিয়ে ব্যাপক দেনদরবার হবেই। কখনও কখনও এটা মারামারির পর্যায়ে চলে যায়।


৬. বরযাত্রীরা কখনই যথা সময়ে কনের বাড়ি পৌছতে পারবে না। এবং নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বরযাত্রী বেশি হবেই। এটা নিয়ে কনে পক্ষের খোটাও শুনতে হবে।


৭. পাত্র পক্ষের দেয়া শাড়ি কিংবা গহনার মান নিয়ে দুই পক্ষের তর্কবিতর্ক হবে। এক্ষেত্রে সাধারণত কনের খালা/ফুফুরা বেশি ভুমিকা পালন করে।


৮. মেয়ের বাবা কর্তৃক ছেলের যোগ্যতা অনুযায়ি 'খুশি করে দেয়া'(যৌতুক নয় কিন্তু) নিয়েও বাদানুবাদ হবে।


৯.খাবার  নিয়ে  একটা  ঝামেলা  হবে, অনেক  সময়  অতিরিক্ত  মেহমানের  কারণে  কোন  একটা  নির্দিষ্ট   আইটেমের   শর্ট   পড়বে, আর  তাতেই  শোরগোল  ও  হুলস্তূল  পড়ে  যাবে। অনেকেই  গরুর  মাংস  খায়না  অজুহাত  দেখিয়ে   মুরগির  রোস্ট   ডাবল   নেওয়ার  চেষ্টা  করবে । পরে  আবার  গরুর  মাংসের ঐ  আইটেমটাও  নেবে।


১০.কোন   তরুণীকে   বিরক্ত   করাকে  কেন্দ্র  করে  দুপক্ষের  মধ্যে   শোরগোল  এবং  বাক্যবিনিময়  হবে।


১১.বর বা  কনে  যতই  সুন্দর  হোক  না  কেন   দাওয়াতে  আসা  মানুষজন  খুঁত  বের  করবেই।


১২. নতুন বউয়ের দোষ প্রথম খুজে পাবে বউ দেখতে আসা পাশের বাড়ির মহিলারা। এটা গ্রামে চাউর হবেও তাদের মাধ্যমে। খাবারের মান নিয়েও এরা প্রশ্ন তুলবে।


১৩. বরের  জুতা  চুরির  ঘটনা  ঘটবে, তা  থেকে জিম্মি  করে  টাকাও  ভাগিয়ে  নেওয়া  হতে  পারে।


১৪.  রং  দিয়ে  একে  অপরকে   রাঙ্গানোর  নামে  হালকা  মল্লযুদ্ধ ও  হতে  পারে!


সব শেষে সবাই সবাইকে বলবে- কিছু মনে করবে না ভাই, বিয়ে-শাদীতে এরকম টুকটাক হয়েই থাকে। আমরা আমরাই তো।

😅😅

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ- ১১-০৯-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ- ১১-০৯-২০২৪


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সমর্থন প্রদান এবং বাংলাদেশের কৃষি, সামুদ্রিক ও শিল্পসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করবে নেদারল্যান্ড।


ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে কাজ করছে সরকার - জানালেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা - অব্যাহত থাকবে ভারতীয় অর্থায়নে চলমান প্রকল্প।


দেশের  উন্নয়নে জাতীয় স্বার্থরক্ষা করে যে কোন বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে  - বললেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।


আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে - জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য চার দিনের রিমান্ডে - ফারহান ফাইয়াজকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের।


রাশিয়াকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের দায়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।


ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে কলম্বিয়া, বলিভিয়া ও ইকুয়েডর।

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

ইলিশ মাছের জন্য কারো সংসার ভাঙে? 

 ইলিশ মাছের জন্য কারো সংসার ভাঙে? আমার মায়ের ভেঙেছে। মাত্র পাঁচশো টাকা দামের ইলিশ মাছের মাথা নিজে খেয়ে ফেলার অপরাধে আম্মা চিরতরে আব্বার বাড়ি ছেড়ে হাঁটা দেন। ঘটনা টা শুরু থেকেই বলি তবে।


আমার বাবা মায়ের ভালোবাসার বিয়ে। তাদের ই ভালোবাসার ফসল আমি। তবে আমার জন্মের সাত বছর হয়ে গেলেও, আমার দাদী কখনো আম্মাকে আপন করে নিতে পারেন নি। আম্মার প্রতিটা কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে দেখতো দাদী। একটা কিছু ভুল পেলে, তা নিয়েই গাল মন্দ করে দিন পার করা ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। আম্মার প্রতি দাদীর এহেন আচরণের কারণ ছিল, দাদীর বোনের মেয়ে "মিতা ফুপি"। তিনি ছোট বেলা থেকেই আমাদের বাড়িতে থাকতেন। দাদীই তাকে বড় করেছেন। তাই দাদী সবসময় চাইতো, মিতা ফুপির সাথে আব্বার বিয়ে দিতে। কিন্তু আব্বা সে কথা অমান্য করে আম্মাকে বিয়ে করে নেন। বিয়ের আগ অব্দি আব্বা দাদীর সব কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। তাই দাদীর কথা অমান্য করে আম্মাকে বিয়ের ব্যাপারটা দাদী এত বছরেও হজম করতে পারেন নি। সেই রাগ আজ দশ বছর ধরে উনি আম্মার উপর তুলছেন।


আমার আম্মার ইলিশ মাছ খুব প্রিয় ছিল। তবে আব্বা ইলিশ মাছ আনতেন না সহজে। আনলেই দাদী চিৎকার জুড়ে দিত। আম্মা নাকি ইলিশ মাছের কাঁটা গলায় বিঁধিয়ে দাদীকে মারতে চান। কাঁটা শুধুই অযুহাত ছিল, মূলত দাদী চাইতেন না আম্মা নিজের পছন্দের খাবার খাক। এটা সবাই বুঝতো। তবে সাংসারিক শান্তির জন্য আম্মা ও আস্তে আস্তে ইলিশ খাওয়া ছেড়ে দিল। তার হয়ে আব্বা কোন দিন দাদীকে কিছু বলেন নি। যতকিছু ই হোক আব্বা সারাক্ষণ আম্মারে বলতো,

-" শেফালি, আম্মা বুড়া মানুষ। আর কয়দিন ই বা বাঁচবে? ওনার কথা কানে নিও না। একটু সহ্য করো। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।"


আম্মা আব্বার কথা পুরোপুরি মান্য করতো না। তিনি চুপচাপ সহ্য করলেও, কথা ঠিক ই কানে নিতেন। আর চোখের পানি ফেলতেন। আমি ড্যাবড্যাব করে আম্মার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বেশিরভাগ সময় ই কিছু বুঝে উঠতে পারতাম না। 


আম্মারে দেখতে না পারলেও দাদী আমাকে খুব আদর করতেন। হয়তো ওনার একমাত্র ছেলের অংশ বলেই। পুরো বাড়িতে যার সাথে উনি সব চেয়ে কম উঁচু স্বরে কথা বলতেন, সে হলাম আমি। আমারে উনি বুবু বলে ডাকত। কিছু খেলে, আমার জন্য খানিকটা রেখে দিত। আমিও দিনের বেশিরভাগ সময় দাদীর সাথে লেগে থাকতাম। উনি সারাক্ষণ ই আমার কাছে, আম্মার নামে এই সেই অভিযোগ করতেন। মিতা ফুপি কে বাদ দিয়ে আম্মাকে কেন বিয়ে করছে সেজন্য আব্বাকে নিয়ে আক্ষেপ করতেন।


আমার যখন সাত বছর বয়স, আম্মা আবার সন্তানসম্ভবা হলেন। সবাই মহাখুশি। সেই থেকে আমি আর আম্মা সারাদিন গুটুর গুটুর গল্প করতাম, নতুন বাবুকে নিয়ে। ওই সময় টা আমি সারাদিন আম্মার আগে পিছে ঘুরতাম। তখন অতশত বুঝতাম না। তাই ভাবতাম, এই বুঝি বাবুকে পরী রা দুনিয়ায় দিয়ে যাবে আর আমি বড় আপা হয়ে যাবো। দাদী আদর করে ডেকে কাছে বসালেও আমার মন পড়ে থাকতো আম্মার কাছে। বেশিক্ষণ দাদীর কাছে থাকতাম না। আমার এসব ব্যাবহারে দাদী ফুঁসে উঠতো আম্মার উপর। আম্মা নাকি, আব্বার মত আমাকেও তার থেকে দূরে সরাচ্ছে। আমি ঘুনাক্ষরে ও টের পাই নি, বড় আপা হওয়ার উত্তেজনায় আমি চির কালের জন্য আমার ছোট সাথী কে হারিয়ে ফেলবো।


এক রাতে আমি আম্মা আর আব্বার মাঝে শুয়ে ছিলাম। আব্বা নরম গলায় আম্মারে জিজ্ঞেস করলো,

-"শেফালি, এখন ভালা মন্দ খাইতে হইবো তোমার। নয়তো আমাগো শিমুল রানীর খেলার সাথী দুর্বল হইবো। কও তোমার কি খাইতে মন চায়?"


আম্মা আবেগী গলায় উত্তর দিল,

-"অনেক দিন থেকে ইলিশ মাছ খাওয়ার জন্য মন উথাল পাথাল করতাছে। এখন তো ইলিশের সিজন। আপনি কাল একটা ইলিশ আনবেন? আমি নিজ হাতে রান্না করে খামু।"


আব্বা হাসতে হাসতে সম্মতি দেয়। পরের দিন ঠিক ই সকালে উঠে আব্বা আমারে নিয়ে হাটে যায়। আমি হাটের সব থেকে বড় ইলিশ টার দিকে আঙুল দিয়ে আব্বারে ইশারা করি। আব্বা ওই ইলিশ টাই নেয়। খুশি মনে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরেই আম্মার কাছে দৌড়ে যাই। আম্মা ও হাসি হাসি মুখে ইলিশ মাছ টা নিজে কেটে রান্না করে। সারাবাড়ি ইলিশের গন্ধে মো মো করছিল। 


দুপুরে আমাকে আর দাদীকে খেতে দেয় আম্মা। দাদী ইলিশের মাথা চায় খেতে। কিন্তু আম্মা ওটা আগেই খেয়ে ফেলছিলো। স্বভাব সুলভ ভাবে দাদী আবার গাল মন্দ করা শুরু করে আম্মারে। আম্মা তার পাতে মাছের বড় এক পিস দেওয়ার জন্য পাতিল নিয়া আসতেই, তিনি ছোঁ মেরে পাতিল নিয়ে উঠানে ছুড়ে মারে। 


ওই সময় আব্বা দোকান বন্ধ করে দুপুরের ভাত খেতে বাড়ি আসে। বাড়ি তে পা দিতেই দেখে উঠানে ইলিশ মাছের তরকারি পরে আছে। আব্বারে দেখেই দাদী নাক কান্না করতে করতে আব্বার দিকে ছুটে আসে। আব্বা তখন হতভম্ব হয়ে আম্মার দিকে তাকিয়ে আছে। দাদী সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আব্বাকে বানিয়ে বানিয়ে বলেন,

-" দেখ আশরাফ, তোর বউয়ের কাছে ইলিশ মাছের মাথা টা খাইতে চাইছি দেইখা চেইতা গেছে। ওর জন্য আনা খাবার আমি চাইছি কেন? আমি নাকি তোর বউয়ের খানার দিকে নজর দেই। আমি শুধু কইলাম, বুড়া মানুষের মনের কি ঠিক আছে? কখন কি খাইতে মন চায়। তোর বউ আমারে কয়, ওই ইলিশের কাডা যেন আমার গলায় বাইজ্যা আমি মরি। এসব শুইন্যা আমি কান্দন শুরু করছি, তাই পাতিল সহ আমার সামনে ফালাইয়া দিয়া কইছে সব মাছ যেন আমি খাই।"


আব্বা উত্তরের আশায় পুনরায় আম্মার দিকে তাকায়। আম্মা শুধু নিচু গলায় বলে, 

-"পোয়াতি অবস্থায় একটা মাছের মাথা খাইছি বইলা এতো মিথ্যা কথা বলতে আপনার মুখে বাঁধতাছে না আম্মা? আপনিও তো একজন মা। জানেন ই তো এই সময় মনের অবস্থা। "


আম্মার কথা শুনে দাদী দ্বিগুন চেতে যায়। বিশ্রী ভাষায় গালাগাল শুরু করে। গালাগালির এক পর্যায়ে তিনি আম্মারে অভিশাপ দিয়ে বলেন,

-" তুই যদি মিথ্যা বলস, তোর যেন মরা বাচ্চা হয়।"


এটা শুনে আম্মা আর নিজেরে ধরে রাখতে পারলেন না। উঁচু গলায় দাদীকে কটু কথা বলে বসলেন। আব্বা সাথে সাথেই আম্মার গালে একটা চড় মেরে দেন। আম্মা অসুস্থ শরীরে টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। এরপর ই ঘটে যায় ভয়ংকর রক্তারক্তি কান্ড। আম্মা মাটিতে পড়ে পেটে হাত দিয়ে একনাগাড়ে চিৎকার শুরু করেন। আব্বা আর দাদী ভড়কে যান। কোন মতে ধরাধরি করব আম্মাকে তখনই হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু আম্মা বেঁচে গেলেও, বাচ্চা টা মরে যায়। আম্মা ওই রাতেই আমাকে নিয়ে নানা বাড়িতে চলে যায়। পরেরদিন সকালে আব্বা আম্মামে আনতে গেলে, আম্মা সোজা সাপ্টা বলে দেন, উনি আর ওই বাড়ি যাবেন না।

আব্বা নিজের কাজের জন্য অনেক ক্ষমা চান। উনি আম্মাকে বুঝাতে চেষ্টা করেন, দাদীর অভিশাপেই উনি রেগে গেছিলেন। তবে যতই হোক দাদী তো ওনার মা। তাই দাদী কে না পেরে আম্মাকে চড় দিয়ে বসেন।

আম্মা হিসহিসিয়ে বলেন,

-" আমারে যেমন দশ বছর ধরে সবকিছু চুপচাপ সহ্য করে মানিয়ে নিতে বলছেন, ওইরকম আপনার আম্মারেও যদি বুঝাতেন আমারে মানতে না পারলেও মানিয়ে চলতে। তাইলে আজ আমার বাচ্চা টা মইরা যাইতো না। আমার সাথে যা করছেন তার জন্য আপনারে আমি মাফ করলেও। আমার বাচ্চার মরার দায় থেকে আপনারে মাফ করমু না। নিজের বউয়ের উপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে যে পারে না, তার ঘর আমি করমু না।"


এরপর ও আব্বা বহুবার আমাকে আর আম্মাকে আনতে গেলেও আমরা আর যাই নি। আমাকে আম্মা যেতে কখনো নিষেধ করে নি। কিন্তু ওইদিন নিজের মায়ের উপর হওয়া অন্যায় দেখে আমার ছোট মনেও বাবা আর দাদীর জন্য ঘৃণা সৃষ্টি হয়। একসময় আব্বা ও আসা বন্ধ করে দিলেন।


বহুবছর কেটে গেলেও আম্মা আব্বার মধ্যে ডিভোর্স হয় নি। কিন্তু তারা একদিনের জন একসাথে ও থাকেন নি। প্রতি মাসে আব্বা লোক মারফত আমার আর আম্মার খরচ বাবদ টাকা পাঠিয়ে দিত। 


কিন্তু আজ হঠাৎ আব্বা আবার আমাদের দুয়ারে আসেন। এখন আমি মেট্রিক দিবো। আব্বা অনেক টাই বুড়িয়ে গেছেন। আম্মার হাত ধরে হাউমাউ করে কান্না করতে শুরু করেন। দাদী নাকি মৃত্যু শয্যায়। সারাদিন শুধু আম্মার নাম ধরে ডাকে আর কান্না করে। তার শেষ একটা ই ইচ্ছা আম্মার কাছে মাফ চাওয়া। মৃত্যুর কথা শুনে, আম্মা আর স্থির থাকতে পারলেন না। তৎক্ষনাৎ আমাকে বগলদাবা করে দাদীবাড়ির দিকে রওনা দিলেন। 


আম্মারে দেখেই দাদী চোখের পানি ছেড়ে,নিজের করা পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে শুরু করলেন। আম্মা তারে বাচ্চাদের মতো জড়িয়ে ধরে বুঝাতে লাগলো। হঠাৎ দাদী আব্বাকে ডেকে বললেন,

- আশরাফ, বাজান একটা ইলিশ আনবি? অনেকদিন শেফালির হাতের রান্ধন খাই না। খুব ইচ্ছা করতাছে। ও মাছ রান্না কইরা আমার সামনে বইসা মাথা খাইবো। আমি মন ভইরা দেখমু। এতে যদি আমার পাপের ক্ষমা হয়।"


আম্মার দিকে ফিরে বলেন,

-"কিরে মা, এই বুড়ি টারে চাইরডা ভাত রাইন্ধা খাওয়াবি না?"


আম্মা কান্না করতে করতে সম্মতি দিলেন। এই ভালোবাসা টুকুই তো এতবছর মা চেয়েছিলেন। আমি এক কোনে বসে অবাক চোখে দেখি আমার পরিবারের পুণর্মিলন।


.

সমাপ্ত


🖊 জান্নাতুল আক্তার মুন্নি

রবীন্দ্রনাথকে লেখা নজরুলের একটি চিঠি,,,,

 রবীন্দ্রনাথকে লেখা নজরুলের একটি চিঠি


রবীন্দ্রনাথের উপর লেখা নজরুলের অনেকগুলি কবিতা পাওয়া গেলেও রবীন্দ্রনাথকে লেখা নজরুলের একটি মাত্র পুরা চিঠিই পাওয়া গেছে। সেই চিঠিটি লেখার ইতিহাস হ'ল-


নজরুল এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে ১৯৩৪ সালে 'নাগরিক' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। পত্রিকাটি প্রকাশিত হ'ত কলকাতার ১সি মন্মথ ভট্টাচার্য স্ট্রীট থেকে। এই পত্রিকার ২য় বর্ষের অর্থাৎ ১৯৩৫ সালের পূজা সংখ্যার জন্য নজরুল রবীন্দ্রনাথের কাছে একটি লেখা চেয়ে এই চিঠিটি লিখেছিলেন। নজরুলের লেখা চিঠিতে তারিখ ছিল - ২৮শে আগস্ট ১৯৩৫


রবীন্দ্রনাথকে লেখা নজরুলের সেই চিঠিটি,-


শ্রীচরণারবিন্দেষু,

গুরুদেব! বহুদিন শ্রীচরণ দর্শন করিনি। আমার ওপর হয়ত প্রসন্ন কাব্য-লক্ষ্মী হিজ মাস্টার্স-ভয়েসের কুকুরের ভয়ে আমায় ত্যাগ করেছেন বহু দিন। কাজেই সাহিত্যের আসর থেকে আমি প্রায় স্বেচ্ছানির্বাসন নিয়েছি। আপনার তপস্যায় আমি কখনো উৎপাত করেছি বলে মনে পড়ে না, তাই অবকাশ সত্ত্বেও আমি আপনার দূরে দূরেই থেকেছি। তবু জানি আমার শ্রদ্ধার শতদল আপনার চরণস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি।


আমার কয়েকজন অন্তরঙ্গ সাহিত্যিক ও কবি বন্ধু 'নাগরিক' পরিচালনা করছেন। গতবার পূজায় আপনার কিরণস্পর্শে ‘নাগরিক’ আলোকিত হয়ে উঠেছিল, এবারও আমরা সেই সাহসে আপনার দ্বারস্থ হচ্ছি। আপনার যে-কোনো লেখা পেলেই ধন্য হব। ভাদ্রের শেষেই পূজা সংখ্যা 'নাগরিক' প্রকাশিত হবে, তার আগেই আপনার লেখনীপ্রসাদ আমরা পাব আশা করি।

আপনার স্বাস্থ্যের কথা আর জিজ্ঞাসা করলাম না। - ইতি


প্ৰণত 

নজরুল ইসলাম


নজরুলের এই চিঠির উত্তরে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতন থেকে ১৯৩৫-এর ১লা সেপ্টেম্বর নজরুলের কলকাতার ঠিকানায়, এই চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন।


কল্যাণীয়েষু,                                  

অনেকদিন পরে তোমার সাড়া পেয়ে মন খুব খুসী হ'ল।, কিছু দাবী করেছ — তোমার দাবী অস্বীকার করা আমার পক্ষে কঠিন। আমার মুস্কিল এই, পঁচাত্তরে পড়তে তোমার অনেক দেরি আছে। সেইজন্য আমার শীর্ণশক্তি ও জীর্ণদেহের 'পরে তোমার দরদ নেই। কোনো মন্ত্রবলে বয়স বদল করতে পারলে তোমার শিক্ষা হোতো। কিন্তু মহাভারতের যুগ অনেক দূরে চলে গেছে। এখন দেহে, মনে মানব সমাজকে চলতে হয় সায়েন্সের সীমানা বাঁচিয়ে।

অনেকদিন থেকে আমার আয়ুর ক্ষেত্রে ক্লান্তির ছায়া ঘনিয়ে আসছিল, কিছুদিন থেকে তার উপরও দেহযন্ত্রের বিকলতা দেখা দিয়েছে। এখন মূলধন ভেঙে দেহযাত্রা নির্বাহ করতে হচ্ছে, যা ব্যয় হচ্ছে তা আর পূরণ হবার নেই।


তোমাদের বয়সে লেখা সম্বন্ধে প্রায় দাতাকর্ণ ছিলুম, ছোটোবড়ো সকলকে অন্ততঃ মুষ্ঠি ভিক্ষাও দিয়েছি। কলম এখন কৃপণ, স্বভাবদোষে নয়, অভাববশতঃ । ছোটো বড়ো নানা আয়তনের কাগজের পত্রপুট নিয়ে নানা অর্থী আমার অঙ্গনে এসে ভিড় করে। প্রায় সকলকে ফেরাতে হলো। আমার অনাবৃষ্টির কুয়োর শেষতলায় অল্প যেটুকু জল জমেছিল, সেটুকু নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি কৃপণের অখ্যাতি শেষ বয়সে স্বীকার করে নিয়ে রিক্ত দানপাত্র হাতে নিয়ে বিদায় নেব। যারা ফিরে যাবে, তারা দুয়ো দিয়ে যাবে, কিন্তু বৈতরণীর মাঝ দরিয়ায় সে ধ্বনি কানে উঠবে না।


আজকাল দেখতে পাই ছোটো ছোটো বিস্তর কাগজের অকস্মাৎ উদ্‌গম হচ্ছে ফুল ফসলের চেয়ে তাদের কাঁটার প্রাধান্যই বেশি। আমি সেকেলে লোক, বয়সও হয়েছে। সাহিত্যে পরস্পর খোঁচাখুঁচির প্রাদুর্ভাব কেবল দুঃখকর নয়, আমার কাছে লজ্জাজনক বোধ হয়।

এই জন্যে এখানকার ক্ষণসাহিত্যের কাঁচা রাস্তায় যেখানে সেখানে পা বাড়াতে আমার ভয় লাগে। সাবধানে বাছাই করে চলবার সময় নেই, নজরও ক্ষীণ হয়েছে, এইজন্যে এই সকল গলিপথ এড়িয়ে চলাই আমার পক্ষে নিরাপদ। তুমি ভরুণ কবি, এই প্রাচীন কবি তোমার কাছ থেকে আর কিছু না হোক, করুণা দাবী করতে পারে। অঙ্কিঞ্চনের কাছে প্রার্থনা ক'রে তাকে লজ্জা দিয়ো না। এই নতুন যুগে যে সব যাত্রী সাহিত্যতীর্থে যাত্রা করবে, পাথেয় তাদের নিজের ভিতর থেকেই সংগ্রহ করতে হবে।


শুনেছি বর্ধমান অঞ্চলে তোমার জন্ম। আমরা থাকি তার পাশের জিলায় যদি ঐ সীমানা পেরিয়ে আমাদের দিকে আসতে পারো খুসী হব। স্বচক্ষে আমার অবস্থাও দেখে যেতে পারবে। ইতি-


স্নেহরত 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


১৫ ভাদ্র ১৩৪২


নজরুল এই চিঠি পেয়ে খুবই অভিভূত হয়ে পড়েন এবং ‘তীর্থ পথিক' নামক একটি কবিতার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের পত্রের উত্তর দেন।

#collected

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ- ১০-০৯-২০২৪

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ- ১০-০৯-২০২৪


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাঁদাবাজি রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন অর্থ উপদেষ্টা।


পয়লা অক্টোবর থেকে সুপার শপগুলোতে পলিথিন ও পলিপ্রপিলিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ।


কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আহ্বান - ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধের নির্দেশ।


আগামী শনিবার ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সম্মান জানাবে সরকার - জানালেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা।


বাংলাদেশের ইসলামি চিন্তাবিদদের সাথে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজনের প্রস্তাব ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূতের।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে স্থানীয় সময় আজ মুখোমুখি হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস।


ওভালে তৃতীয় ও শেষ ক্রিকেট টেস্টে ইংল্যান্ডকে আট উইকেটে হারালো শ্রীলংকা।

কুষ্টিয়া শহরে কি আছে কি নাই!

 "কুষ্টিয়া শহরে কি আছে কি নাই!


মজমপুর বাসস্টান্ড থেকে উঠবেন আটোতে, দশ মিনিট পড়ে ৫ টাকা দিয়ে বড়বাজার রেলগেটে নামবেন। কুষ্টিয়া শহর ঘুরে দেখা শেষ।


তারমাঝে রথখোলার মন্দির পাড় হওয়ার সাথে সাথে পুরাতন কলকাতার আবহাওয়া পাবেন হালকা। যারা পুরাতন কলকাতাতে ঘুরেছেনে তারা বুঝবেন। আশে পাশের বিল্ডিং গুলা, দোকানের প্যাটার্নের, রাস্তার পানিপুরি ফুচকার মাঝে এ আমেজটা আছে।


বড় বাজার রেলগেটে নেমেই দেখবেন হাতের ডানে গান্ধী হোটেল। হাতে অফুরন্ত সময় থাকলে ধাম করে ডাবল ডিমের একটা মোগলাই এখানে খাওয়া যেতেই পারে। গান্ধী হোটেলর অপরদিকে কচুরী পাবেন খেতে৷


বড় বাজার থেকে ইচ্ছা হলে দুই মিনিট হেটে গড়াই নদীর তীরে যেতে পারেন, আবার আরেকটা অটো নিয়ে লালন শাহ এর মাজার ঘুরে দেখতে পারেন। মাঝ রাস্তাতে পড়বে টেগর লজ! রবী ঠাকুরের বাড়িতে উকি দিতেই পারেন। আর পুরা এই এলাকার মাঝে আছে, এক সময়কার এশিয়ার সব থেকে বড় বস্ত্রকল 'মোহিনী মিল'।


মোহিনী মিলের গেটের পাশেই কিন্তু পাবেন বিখ্যাত তিলের খাজার কারখানা। সাহস নিয়ে ঢুকে পড়বেন। ধীম ধাম গরম তিলের খাজা চালান করবেন পেটে। কুমিল্লার রসমালাই অনেক বিখ্যাত! খুব টেস্ট, বিশ্বাস করেন কুষ্টিয়া রসমালাই বিশেষ করে অশোকের রসমালাই খাওয়ার পড়ে, আপনাকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে৷ কুমারখালীর দই খাওয়ার পড়েও আপনাকে বগুড়ার দই-এর টেস্টের সাথে একটা পরীক্ষা করা লাগতেই পারে।


যেখানে শাহের বারাম খানা!! সেখানে গিয়ে গান শুনবেন। খানেক জিড়াবেন। একটা কুলফি খাবেন৷ অতঃপর রানীর ঘাটে বসে কালী নদীর শান্ত পানির দোলনের সাথে হাওয়া দেখবেন বাতাস খাবেন।


কুষ্টিয়াতে কিন্তু আবার গরুর দুধের চা বেশী চলে। আমরা মাঝে মাঝেই চা খেতে চলে যাই মোল্লা তেঘরিয়ার মোরে,কখনো রাহিনীতে আবার কখনো কাটাইখানা মোড়ে।ইচ্ছে হলে চা এর সাথে টা হিসেবে আপনি পোড়া রুটিও খেতে পারেন।আহা কি স্বাদ!অমৃতের মতো৷ গরম গরম পেটিস খেতে হলে হরিবাসোর মোরে মন্দিরের পাশে! বিকালে আড্ডাবাজির জন্য সরকারি কলেজের পুকুর হচ্ছে বেস্ট।সেখানকার ঝালমুড়ি খেয়ে দেখতে পারেন।মন্দ নয়!


বিকালে আগে ঘোরার জায়গা ছিলো রেইনউইক বাধ! এখন সেটা হরিপুর শেখ রাসেল ব্রীজ। ব্রীজে এপার ওপার দুইপারে জনসমুদ্র! এই জনসমুদ্র ভালো না লাগলে হুট করে চলে যাবেন মোহনায়! পদ্মার পেট ফুড়ে গড়াই এখানেই জন্মেছে! আহা কি তার রুপ! মনে হয় সাগর। শহরের দিকে গড়াই শুকনা।এটা কিন্ত কুষ্টিয়ার মিনি কক্সবাজার।


কুষ্টিয়া



নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...