এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪

বিয়ের আসরে ছেলের বাবা হাসিমুখে বললেন,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বিয়ের আসরে ছেলের বাবা হাসিমুখে বললেন,

"বেয়াই সাহেব, বিয়েতো হয়ে যাচ্ছে তো আমার ছেলের জন্য বলছিলাম যে পাঁচ লাখ টাকা আর একটা বাইকের ব্যবস্থা করলে সুবিধা হতো। 


আসলে চাইতাম না তবুও ওর অফিসে যাতায়াতের জন্য বাইকটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আর আমারও কিছু ঋণ-টিন আছে ওগুলাও পরিশোধ করতাম। ছেলে তো আমার একটাই। আমার যা আছে সবই তো ওর আর ওর মানে আমার বউমার।"

মেয়ে পক্ষের সকলে এই কথা শুনে চুপ করে রইলো। কিছুক্ষণ বাদেই কাজি সাহেব আসলেন বিয়ে পড়ানোর খাতা পত্র নিয়ে। যখন কাবিনের কথা উঠলো তখন মেয়ের বাবা কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কাজি সাহেবকে বললেন,

"আপনি দশ লাখ টাকা কাবিন লিখেন।"

এই কথা শুনে ছেলের বাবা ফুঁসে উঠে বললেন,

"দশ লাখ টাকা কাবিন? মগের মুল্লুক নাকি? আমার ছেলের সামর্থ্যও তো দেখতে হবে নাকি?"

মেয়ের বাবা সামান্য হেসে বলেন,

"মেয়ে তো আপনাদের কাছেই থাকবে তো দশ লাখ কাবিন হোক আর এক কোটি হোক তাতে কি আসে যায়?"

ছেলের বাবা রাগমিশ্রিত কণ্ঠে বলেন,

"যত যাই বলেন আমি এতো টাকা কাবিন দিবো না।"

মেয়ের বাবা ভরা মজলিসে সামান্য অট্টহাসি দিয়ে বলেন,

"দশ লাখ টাকা কাবিন দিতে আপনার ভয় যে ছেলে বউয়ের যদি কোনোভাবে ডিভোর্স হয়ে যায় তাহলে আপনার দশ লাখ টাকা গচ্চা যাবে আর এদিকে আপনি ঠিকই আমার কাছে ছেলের জন্য বাইক আর পাঁচলাখ টাকা নগদ চাচ্ছেন। বিষয়টা কেমন হয়ে গেলো না?"

"কিসের সাথে কি মিলান? জামাইকে শ্বশুর বাড়ি থেকে এসব টুকটাক তো সবাই দেয়। এটাতো সমাজেরই নিয়ম।"

মেয়ের বাবা ঠান্ডা মাথায় বললেন,

"যৌতুক নেওয়া যদি সমাজের নিয়ম হয় তাহলে কাবিনও বেশি দেওয়া সমাজের নিয়ম। একচোখে সবকিছু দেখলে হয় নাকি বেয়াই সাহেব?"

ছেলের বাবা এবার রাগান্বিত স্বরে বলেন,

"আমার ছেলে বড় চাকরি করে। দরকার হলে আপনার এখানে ছেলেকে বিয়ে দিবোনা, মেয়ের অভাব আছে নাকি?"

"আমার মেয়েও কিন্তু উচ্চশিক্ষিত, তাকেও আমি নিজের টাকা পয়সা খরচ করে এতোদূর এনেছি আর আপনিও আপনার ছেলের জন্য কষ্ট করেছেন, তাহলে যৌতুক কেনো মেয়ের বাবাকেই দেওয়া লাগবে? আর এখানে বিয়ের আসর ছেড়ে চলে গেলে ক্ষতি কিন্তু আপনারই। থানায় কল দিয়ে যদি বলি যৌতুকের জন্য বিয়ে ভেঙ্গে দিচ্ছেন তাহলে জেলে যাবেন কিন্তু আপনারাই। তাই ভেবে চিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েন।"

মেয়ের বাবার কথা শুনে ছেলে পক্ষের সবাই চুপ। নিরবতা ঠেলে মেয়ের বাবা পুনরায় বলে উঠলেন,

"যাইহোক আপনাদের সাথে আমারও আর আত্মীয়তা করার সখ নেই। এখনই এই অবস্থা আর বিয়ের পর আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য অত্যাচার করবেন না তার কি গ্যারান্টি? তার থেকে বরং আমার এই বিয়ের আয়োজনের যেই খরচটা হলো সেটা দিয়ে কেটে পরুন। নাহলে বিষয়টা থানা পর্যন্ত গেলে কত কি হয়ে যাবে ভাবতে পারছেন?"

ছেলের বাবাসহ ছেলে পক্ষের সকলের মাঝে পিনপতন নীরবতা।


মেয়ের বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

"যত যাই হোক আমি অন্ততঃ তোকে কোনো ছোটলোকের কাছে বিয়ে দিবো না। আমার রাজকন্যা আমৃত্যু যেনো রাজকন্যার মতোই থাকে সেই ব্যবস্থাই করবো।"

গল্পটি কেমন লাগলো জানাবেন। একটু কমেন্টে রেস্পন্স করবেন। আজকাল ফেসবুকের রিচ নেই বললেই চলে।

একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে। সে প্রায়ই ময়ূরের পিছে পিছে ঘুরে বেড়াত। ময়ূর এটা বুঝতে পারলেও না বোঝার ভান করে কাককে এড়িয়ে চলতো। এভাবে দীর্ঘদিন কেটে যায়। 


একদিন ময়ূর তার বাসার সামনে একটা হলুদ খাম দেখতে পেল। সেই খামের ভিতরে একটা ছোট্ট কালো রঙের ফুল। ময়ূর বুঝতে পারল কাকই খামের ভিতরে ফুল পাঠিয়েছে।

 

কয়েকদিন পর কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হলো। ময়ূর বলল, "তোমার শরীর যেমন কালো রঙের, তেমনি তোমার রুচিও কালো। তাই তো এত ভালো ভালো রঙের ফুল থাকতে কালো ফুল পাঠিয়েছো!"

কাক ময়ূরের কথা শুনে দু:খ পেয়ে চলে গেল।

 

বেশ কিছুদিন ময়ূর আর কাকের দেখা পেল না। এভাবে সপ্তাহ গেল, মাস গেল, বছর পেরিয়ে গেল। কাকের সন্ধান আর ময়ূর পেল না। অবশ্য ময়ূর কাকের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টাও কখনো করে নি। 


কয়েক বছর পর হঠাৎ করে কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হয়ে গেল। ময়ূর কাককে দেখে বলল, "আমার রূপ দেখে সবাই আমাকে ভালোবাসতে চায়। তুমিও তো ভালোবাসতে চেয়েছিলে। তবে আমাকে জয় করার চেষ্টা আর করলে না কেন?"


কাক জবাব দিল, "তোমার সাথে জীবনে একদিনই আমার কথা হয়েছিল। তুমি যতদিন আমার সাথে কথা বলো নি; ততদিন মনে হয়েছিল, সুন্দর রূপের আড়ালে একটা সুন্দর মনও লুকিয়ে আছে। কিন্তু যখন দেখলাম, ফুলের মতো জিনিসকেও তুমি রঙ দেখে বিচার করো; তখনই বুঝেছিলাম মরীচিকার পিছে ছুটে চলেছি। তাইতো নিজেকে সরিয়ে নিলাম।"


ময়ূর বলল, "এখন যদি তোমাকে পেতে চাই, তবে কি তুমি আমাকে ভালোবাসবে?"


কাক বলল, "চোখের নেশা কেটে গেছে। চোখের নেশা কেটে গেলে ময়ূরের সৌন্দর্যও আর চোখে ধরা পড়ে না। তখন ময়ূরকেও কাকের মতো লাবণ্যহীন মনে হয়। জীবনের আসল বাস্তবতা তখন চোখের সামনে দীপ্তিমান হয়ে ফুটে ওঠে। এই বাস্তবতা-ই সঠিক পথের দিশা দেয়। বাস্তবতাকে ভুলে আবেগে আবার গা ভাসালে দিশাহীন নাবিকের মতো অথই সাগরে ঘুরপাক খাব।"


কাক ও ময়ূর বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করল। ধীরে ধীরে দু'জনার দূরত্ব বাড়তে লাগল। এ দূরত্ব যত বাড়বে "জীবন" নামক সমুদ্র থেকে তারা তত বেশি মুক্তা সংগ্রহ করতে পারবে।

হাল ছেড়ে দেবেন না | নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন,  সাফল্য আসবেই আসবে । 

 --------------------------------------------------------------------------

হাল ছেড়ে দেবেন না | নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন,  সাফল্য আসবেই আসবে । 

________________________________________________


১৭ বছর বয়সে, তিনি কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন।

২৫ বছর বয়সে, তার মা মারা যান।

২৬ বছর বয়সে, তিনি ইংরেজি শেখানোর জন্য পর্তুগালে চলে যান।

২৭ বছর বয়সে, তিনি বিয়ে করেন।

তাঁর স্বামী তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করতেন। তাদের ঘরে একটি কন‍্যা সন্তানের জন্ম হয়।

২৮ বছর বয়সে, তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং তিনি গুরুতর বিষণ্নতায় ডুবে যান।

৩০ বছর বয়সে, তিনি এই পৃথিবীতে থাকতে চাননি।

তবে, তিনি তাঁর সমস্ত আবেগকে একটি জিনিস করার জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন যা তিনি অন্য কারও চেয়ে ভাল করতে পারেন।

আর সেটা ছিল 'লেখালেখি করা'।

৩১ বছর বয়সে, তিনি অবশেষে তাঁর প্রথম বই প্রকাশ করেন।

৩৫ বছর বয়সে, তিনি, ৪টি বই প্রকাশ করে ফেলেন এবং তাঁকে বছরের সেরা লেখক হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল।

৪২ বছর বয়সে, প্রকাশের প্রথম দিনে তার নতুন বইটির ১১ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল।

এই মহিলা হলেন জে.কে. রাউলিং। ৩০ বছর বয়সে কীভাবে তিনি আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন তা মনে আছে?

৩০ বছর বয়সে যদি আত্মহত্যা করতেন জে কে রাউলিং, তবে আমরা কি হ্যারি পটার পেতাম?

আজ, হ্যারি পটার হল একটি বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ড যার মূল্য $১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।


রাউলিং জনপ্রিয় কল্পকাহিনী হ্যারিপটার সিরিজের রচয়িতা, যা তাকে বিশ্বজুড়ে সম্মান ও জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। এ সাহিত্য কর্মের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কার জিতেছেন। সারা বিশ্বে হ্যারি পটার সিরিজের ৫০০ মিলিয়নেরও অধিক কপি বিক্রি হয়েছে।

তাই কখনো হাল ছেড়ে দেবেন না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, কঠোর পরিশ্রম করুন, সাফল্য আসবেই আসবে ।

Collected,,,

ফেইসবুক থেকে নেওয়া গল্প,,,,, রুচির রঙ্গরস পেইজ থেকে নেওয়া

 -"স্যার আমার আপনাকে ভালো লাগে খুব।" 

সটান বলে বসলো আমার ছাত্রী রুবি, শুনে অবাক হলাম আমি। রুবি আমার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী যেমন চঞ্চল তেমন অবাধ্য, কিন্তু মেয়েটা মেধাবী সেটা জানতাম। তবে হঠাৎ করে এমন কথা সে বলে বসবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার মেসবাড়ির একটা ঘরে টিউশন পড়িয়ে আমি নিজের লেখাপড়া চালাই আর গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাই। রুবি যে বড় বাড়ির মেয়ে তা জানি, ওর বাবা লেখাপড়া নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে আসেন মাঝেমাঝে দুঃখ করে বলেন মেয়েটার ছেলেমানুষি আর গেল না, সিরিয়াস নয় ফিউচার নিয়ে। রুবি যে সত্যিই ছেলেমানুষ তা আবার প্রমাণ হল মেয়েটা আমার চেয়ে কতো ছোট, অবুঝ না হলে কেউ চাকরি জোটাতে না পারা গরীব টিউশন মাষ্টারকে ভালো লাগার কথা বলে? আমি রুবিকে ধমকের সুরে বললাম -"এসব কি ধরনের কথা? আর এরকম যেনো না শুনি। না হলে তোমার বাবাকে সবটা জানাবো।"

দেখলাম রুবির চোখটা জলে ভরে গেল, হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বেরিয়ে গেল সে। বাকি ছাত্রছাত্রীরা আগেই রেরিয়ে গেছিল তাই জানাজানি হল না ব্যাপারটা। মেয়েটাকে কাঁদতে থেকে খারাপ লাগলো, আমি বুঝি এই বয়সে এমন অনেক কিছু মনে হয়, ভালো লাগা ভালোবাসা হয় তারপর বাস্তব বুঝতে শিখলে ও নিজেই বুঝে যাবে ও ভুল করেছিল। রাতে শুয়ে রুবির মুখটা ভেসে উঠলো, ওর বলা কথাটা কানে বাজছিল আপনাকে ভালো লাগে স্যার। মনে মনে ভাবলাম কদিন পরেই ঠিক হয়ে যাবে। আমার নিজের ছয় বছরের সম্পর্ক ভেঙে গেল প্রেমিকা কারো স্ত্রী হয়ে গেল একটা সরকারি চাকরি জোটাতে পারিনি বলে, আর বাচ্ছা মেয়েটা কতো বোকা! 


ভালো নাম্বার পেয়ে মাষ্টার্স পাশ করে, জমানো টাকা সব শেষ করে বি এড করেও আমি টিউশন মাষ্টার। আমি বাড়ির বড় ছেলে, বেকার বড় ছেলে। পরীক্ষায় পাশ করেও চাকরি হয় না কেস হয়ে যায়, কতোবার ইন্টারভিউতে আটকে গেছি। শেষ বয়সে এসে বাবা মাকে বলতে শুনি মরার আগে তাদের সুখশান্তি স্বাচ্ছন্দ্য কিছুই দিতে পারিনি, এতো লেখাপড়া শিখিয়ে কোনো লাভ হয়নি সত্যিই আমি অপারগ বটে। প্রেমিকা বড় অস্থির ছিল আমার সরকারি চাকরি নিয়ে, বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করার পর বাবার ঠিক করা চাকুরিজীবী ছেলের সাথে ঘর বেঁধেছে। আমার চোখের জল অসহায়ত্ব কিছুই চোখে পড়েনি তার। এরপর বয়স বেড়েছে টিউশন মাষ্টার উপাধি পাওয়ার পর আর কেউ ভালোলাগা ভালোবাসার কথা বলেনি, আমারও কাউকে নিয়ে এই ধরনের কিছু ভাবতে মন চায়নি। বাড়িতে অবশ্য বলেছে গ্রামের কোনো মেয়েকে বিয়ে করে চাষের কাজ শুরু করতে। আমি তা শুনিনি নিজের লক্ষ্য পূরণের শেষ চেষ্টাটুকু ছাড়তে নারাজ ছিলাম আমি, আর ঠিক করেছিলাম বিয়েই করবো না। ভালোবেসে দেখেছি ভালোবাসার চেয়ে প্রফেশনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর এটাও ঠিক কারো বাবা মা ই চাইবে না নিজের মেয়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে। তবে রুবি ব্যাতিক্রম ছিল, যেটাকে আমি ছেলেমানুষি ভেবে ভুল করেছিলাম। 


কিছুদিনের মধ্যেই রুবির মধ্যে অনেকগুলো পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম, আগের চেয়ে অনেক শান্ত লাগে ওকে। পড়া ঠিকঠাক করে আনে, আগের মতো ওর খাতায় ছবি এঁকে বোঝানোর জন্য হুটোপুটি করে না। চুপচাপ নিজের সাইকেল নিয়ে পড়তে আসে নির্দিষ্ট সময়ে, আগের মতো আর দেরি করে না। সত্যি বলতে ওর এই চেঞ্জটা আমার ভালো লাগেনি ওকে প্রাণবন্ত অবস্থায় বেশি ভালো লাগতো। একদিন রাত বারোটায় রুবির কল পেলাম বললো -"শুভ জন্মদিন, আপনি বারণ করেছেন বলে আর কিছু বলি না কিন্তু আমার আপনাকে ভালো লাগে।" আমি কি বলবো বুঝতে পারলাম না, বাইরে কে একজন বলে উঠলো-" দাদা পার্সেল আছে।"

বাইরে বেরিয়ে একটা বক্স পেলাম তাতে ছিল একটা সুন্দর কেক আর একগুচ্ছ লাল গোলাপ। সাথে মোড়ানো কাগজটা খুলতেই দেখলাম একটা স্কেচ, আমার ছবি। কি সুন্দর, আমি যখন পড়াই সেই মূহুর্তের একটা ছবি এঁকেছে রুবি। কতোটা ভালোভাবে দেখলে আর দক্ষতা থাকলে যে এমন ভাবে আঁকা যায় তা ভাবতেই অবাক হলাম। আজ বহু বছর পর আমাকে আমার জন্মদিনটা মনে করিয়ে দিল কেউ, ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে গেল। কেকটা খুলে দেখলাম আমার পছন্দের ফ্লেভারের, পাগলিটা কিভাবে জানলো কি জানিজানি! কেকটা একটু খেয়ে তুলে রাখলাম পরের দিন স্টুডেন্টদের দেবো বলে। 


এরপর পড়ানোর সময় প্রায় দেখতাম রুবি আমাকে দেখছে, চোখে চোখ পড়তেই লজ্জা পেয়ে যেতো। আমিও ওর মিষ্টি ফর্সা মুখটার দিকে তাকিয়ে ভাবতাম কি দেখে আমাকে ভালো লাগলো ওর! আর বুঝতাম ধীরে ধীরে আমিও ওর মায়ায় জড়িয়ে পড়ছি, একটু একটু করে আমার মন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে রুবি আমার শত চাওয়াতেও আটকাতে পারলাম না মনকে। এইভাবে আরও একটা বছর কেটে গেল সেদিন রুবিদের ব্যাচের লাস্ট ক্লাস ছিল। মনটা বিষাদে ভরে ছিল আমার, দেখলাম রুবির চোখ ছলছল করছে। শেষ ক্লাসে পরীক্ষার যাবতীয় প্রশ্ন বুঝিয়ে শেষ করলাম ক্লাস, দেখলাম রুবি শুধু আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। একে একে সবাই বাড়ি চলে গেল, সেদিন রাতে ঘুম এলো না আর চোখে, জেগে ভাবছিলাম অনেক কিছু। হঠাৎ বেজে উঠলো ফোনটা, তাকিয়ে দেখলাম রুবির কল। 


-"আপনি আমাকে ভুলে যাবেন তাই না?"

-"ভুলে তো তুমি যাবে, লেখাপড়ার চাপ আরো বাড়বে। তবে তোমার ছেলেমানুষি গুলোকে মিস করবো।"

-"আচ্ছা কাউকে ভালোবাসা কি অন্যায়?"

-"মোটেই তা নয়, কিন্তু কাকে ভালোবাসার কথা বলছোবলছো, সেটা ম্যাটার করে। কল্পনা আর বাস্তব এক নয়।"

-"আমি কি আপনার যোগ্য নই।" 

-"না আমি তোমার যোগ্য নই, সমাজের চোখে।" 

-"এমন কেনো বললেন?"

-"আমার পরিচয় কি জানো? গরীব টিউশন মাষ্টার। কারো বাড়ির লোক এমন কারো সাথে সম্পর্ক মেনে নেবে?"

-"কিন্তু ভালো থাকাটা আসল।" 

-"ভালো থাকতে গেলে ভালোবাসার সাথে সামর্থ্যটাও দরকার, সামর্থ্য মানে টাকা। আমার সেটা আমার নেই।"

-"আজ নেই, ভবিষ্যতে হবে।"

-"আমার সে সম্ভবনা নেই বললেই চলে, চাকরি পাওয়ার বয়স শেষ হতে চলেছে।" 

-"আমি চাকরি করলেই তো এক ব্যাপার হবে, দুজনের দিব্যি চলে যাবে।"

-"সত্যি তুমি ছেলেমানুষ, তুমি আমার দায়িত্ব নেবে?"

-"না দুজনে দুজনের দায়িত্ব নেবো। আমাকে দু বছর সময় দিন, আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন?"

-"দু বছরে একটা চাকরি জোগাড় করতে পারবে? চাকরির বাজার যে খারাপ।" 

-"চেষ্টা করবো প্রাণপণ চেষ্টা করবো, আমি আপনার সাথে থাকতে চাই।"

-"আচ্ছা তাই হোক দু বছর পর আমাদের আবার দেখা হবে, সেদিন চাকুরিজীবী হওয়ার পরেও যদি তোমার আজকের বলা কথাগুলো নর্ম্যাল মনে হয় তো আমি সানন্দে রাজি।"


দিন এগিয়ে চললো রুবির চেষ্টা দেখে মুগ্ধ হলাম আমি পাগলের মতো পড়ে মেয়েটা, মাঝে মাঝে কথা হয় আমার সাথে পড়াশোনার কোনো প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করে। একবারের জন্য আমাদের সে রাতের বলা কথা উচ্চারণ করেনি সে। একটার পর একটা পরীক্ষা পাশ করতে থাকে সে আমি ভাবি এই জগতে সত্যি এমন মানুষ ছিল! দুটো বছর কেটে গেছে গঙ্গার ঘাটে বসে আছি আমি, পাশে এসে ধপ করে বসলো রুবি। হতাশ গলায় বললো -"পারলাম না আমি।"

আমি মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম -"পারলে না বলে যে পারবে না এমনটা তো নয়, লেগে থাকতে হবে।"

-"আপনি আর আমার জন্য অপেক্ষা করবেন না তাই না?"

-"ইচ্ছে তো করছে না, কিন্তু অপেক্ষা করতে হবে। কারণ তুমি চাকরি করে বেকার ছেলের দায়িত্ব নিতে চাইলেও আমি চাই স্বাবলম্বী অবস্থায় তোমাকে পেতে। আমি চাকরি পেয়েছি অনেক অপেক্ষার পর এবার তোমার টার্ন। তবে মনে হয়না খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে কারণ তুমি আমার চেয়ে অনেক বেশি মেধাবী। খুব তাড়াতাড়ি তোমার বাবার সাথে কথা বলবো দেখি উনি মেনে নেন নাকি?"

রুবি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো, আমারো ওকে ছাড়তে ইচ্ছে করছিল না একটুও। 


এই স্বার্থের জগতে এখনো কিছু মানুষ স্বার্থহীন ভাবে ভালোবাসে, সে ভালোবাসাটা একদম খাদহীন। এরকম মানুষগুলোকে আগলে রেখে আপন করে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।

🫥

🖊️শ্রাবন্তী মিস্ত্রী

জীবন থেকে যে ধরনের শিক্ষাগুলো আপনি নিতে পারেন। 

 জীবন থেকে যে ধরনের শিক্ষাগুলো আপনি নিতে পারেন। 


— জীবন সুন্দর নয়।

— পরবর্তী পদক্ষেপটি নিতে পারলেই দুঃখ চলে যায়।

— আয়ু একমুহূর্তের।

— উর্ধতন অধঃস্তনের বেতন নিয়ে ভাবে না, শ্রম নিয়ে ভাবে।

— তর্কে জেতা বিজয় না, তর্কে যুক্তি দেওয়াই বিজয়।

— অতীতকে মেনে নিতে হয়।

— কারও সাথে নিজের তুলনা করতে হয় না।

— সম্পর্ক গোপন রাখা সম্পর্ক না।

— যা রাখা যায় না, ছেড়ে দিতে হয়।

— যে তোমাকে মেরে ফেলতে পারছে না, তার চেয়ে তুমি শক্তিশালী।

— সুখ কেউ এনে দেয় না।

— গরিবকে সহযোগিতা করে না কেউ।

— আগামীকাল নেই।

— সে'ক্সে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ব্রেইন।

— প্রত্যেক ব্যর্থতার পরে এই প্রশ্নটি করা উচিৎ— "এর কারণে কি আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে?"

— আমিই শ্রেষ্ঠতম।

— অন্যে আমাকে সেরা ভাবে না।

— সময় দুঃখ ভুলিয়ে দেয়।

— সবাই স্বার্থপর।

— কিছুই সিরিয়াস নয়।

— সে'ক্স-এডুকেশন না-দিয়ে বিকৃত করে ফেলা হয় তরুণ প্রজন্মকে।

— বয়স্করা অপমানিত।

— ঈর্ষা অলাভজনক।

— চিৎকার করে না-কাঁদলে দুঃখ কমে না।

— উপকার মনে রাখা হয় না।

— প্রেম কল্পনাপ্রসূত।

— ঘর থেকে বের-না-হওয়া প্রত্যেকটি মুহূর্তই মৃত।

— প্রত্যেকের দুঃখগুলো পাশাপাশি জমানো গেলে, অন্যেরগুলো দেখে নিজেকে আর দুঃখী ভাবতাম না কেউই।

— জীবন অবাঞ্ছিত উপহার।

কাজী হায়াৎ,মান্না,মৌসুমী ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মিলে সাতটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল এবং সাতটি চলচ্চিত্র ছিল সুপার ডুপার হিট।

 ♦️কাজী হায়াৎ,মান্না,মৌসুমী ও আহমেদ ইমতিয়াজ

বুলবুল মিলে সাতটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল এবং সাতটি চলচ্চিত্র ছিল সুপার ডুপার হিট। 


(১) লুটতরাজ - ১৯৯৭

(২) আম্মাজান - ১৯৯৯

(৩) কষ্ট - ২০০০

(৪) বর্তমান - ২০০০

(৫)পাঞ্জা - ২০০১

(৬) তান্তবলীলা - ২০০১

(৭) মিনিস্টার - ২০০৩


♦️পরিচালক, নায়ক, নায়িকা এবং গীতিকার ও সুরকার জুটি'র কোন চলচ্চিত্র ফ্লপ ছিলো না।বরং সুপার ডুপার হিটের পাশাপাশি বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী 'আম্মাজান' মত সর্বজন স্বীকৃত চলচ্চিত্র ছিল।


♦️শ্রুতিমধুর গানের সংখ্যায় ছিল অতুলনীয় :


(১) অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে

 শিল্পীঃ আইয়ুব বাচ্চু ও কনক চাঁপা। 


(২) তোমার আমার প্রেম এক জনমের নয়

শিল্পীঃ আইয়ুব বাচ্চু ও শাকিলা জাফর।


(৩) তোমার প্রেমের জন্য হইয়াছে মন

শিল্পীঃ কনক চাঁপা ও কুমার বিশ্বজিৎ। 


(৪) জানে জানুক জগৎবাসী

শিল্পীঃ কনক চাঁপা ও কুমার বিশ্বজিৎ। 


(৫) আমার এই অন্তরে তুমি ছাড়া 

শিল্পীঃ খালিদ হাসান মিলু ও কনক চাঁপা। 


(৬) আমার জীবন নামের ফুল

শিল্পীঃ মনির খান ও কনক চাঁপা। 


(৭) আরে ও মিনিস্টার মিনিস্টার 

শিল্পীঃ কনক চাঁপা ও এন্ড্রু কিশোর। 


♦️পরিচালক কাজী হায়াৎ-এর প্রতিটি সিনেমাতেই মান্না ও মৌসুমী জুটির অভিনয় পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।

দুরুত্ব,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 দুরুত্ব !!


কাবিন শেষ করে বউ নিয়ে বাসায় ফিরতে প্রায় রাত দশটা বেজে গেল। নতুন বউ সাজে মুনিয়া মাথায় ঘোমটা টেনে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকল। তবে চুপচাপ বাড়ি, তেমন আত্মীয় স্বজন আসেনি। সাব্বিরের নিজের খালা ফপু চাচীরাও আসেননি। অবশ্য দ্বিতীয় বিয়েতে এত আয়োজন করে দাওয়াতও করা হয় নি কাউকে। সাব্বিরের মা সবাইকে ফোন করেছেন, দোয়া চেয়েছেন এ পর্যন্তই। 


বিয়ে বা বউ নিয়ে কারো কোনো উত্তেজনা নেই। মুনিয়া ঘরে ঢোকার পরে সাব্বিরের বড় বোন সুমাইয়া আপা এসে একটু মিষ্টি দুধ মুখে দিয়ে গেলেন। দায়সারা ভাবে একটু কালোজাম কেটে মুখে ঢুকিয়ে দিলেন সাব্বিরের বড় ভাবি। 


তারপর সবাই ঘর থেকে চলে গেলেন একসাথে। আর কারো কোনো খবর নেই। সাব্বিরের দ্বিতীয় বিয়ে হলেও মুনিয়ার তো প্রথম বিয়ে! তা হোক বাপ মরা মেয়ে, চাচার বাড়িতে বড় হয়েছে। যদিও বাবা নেই, মুনিয়া এটা কখনো বুঝতে পারেনি।  বিয়ে ঠিক হবার পরে খুব কেঁদেছিল। সারা পৃথিবীতে কি পাত্রের এতই অভাব পড়েছে যে মুনিয়াকে ডিভোর্সি ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে! বাবা থাকলে কখনো এমন পারত না বোধ হয়। 


মেজ চাচা এসে বললেন, ছেলেটা ভালো। সৎ ব্যবসায়ী, ভালো আয় ইনকাম করে। কোনো কারনে ডিভোর্স হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে বসে থাকলে তো আর চলে না! ওই মেয়ের কপালে সাব্বিরের মতো ভালো ছেলে ছিল না। তাই হয়তো সংসার টেকেনি। তাছাড়া মা আমার অবস্থা তো জানিস, তোকে এক টুকরো সোনা দিতে পারব না। তোর সংসার সাজিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও আমার নেই। তোর নিজের পছন্দ থাকলে না হয় সেখানে বিয়ে দিতাম, তাও তো নেই। আমার কথা ভেবে রাজী হয়ে যা মা!


মুনিয়া চোখ মুছে বলেছে, আমি রাজী চাচা। কোনো সমস্যা নেই। 


সাব্বিরের বাড়ি থেকে কোনো দাবি দাওয়া ছিল না। মুনিয়াকে দুটো লাল টুকটুকে লাগেজ ভরে শাড়ি, গয়না, পয়নামার জিনিসপত্র দিয়েছে।  হলুদ হয়নি, মুনিয়ার খুব ইচ্ছে ছিল কাঁচা ফুলের গয়নায় সেজে একটা হলুদ সবুজ মেশানো রঙের জামদানি  পরে গায়ে হলুদে সাজবে।  সেটা আর হয়ে উঠল না। থাক, এক জীবনে সব আশা তো আর পূরণ হয় না! অবশ্য মুনিয়ার কোনো আশাই পূরণ হয় নি। 


বাবা মারা যাওয়ার পরে মাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে মামারা। আবার তাকে বিয়েও দিয়েছে। কিন্তু মুনিয়ার সেখানে জায়গা হয়নি। মামী তাকে একদিন বললেন, দেখ মুনিয়া, তোর মায়ের তেমন বয়স হয় নি। তার পুরো জীবনটা পড়ে আছে, এখন লোকে যদি দেখে তার এত বড় মেয়ে আছে, তাকে কে বিয়ে করতে আসবে বল! তার চাইতে তুই মা তোর মেজ চাচার বাড়িতে গিয়ে থাক। 

মুনিয়া পরদিনই নিজের ব্যাগটা নিয়ে চলে এসেছিল।  

চাচী  নিজের সংসারে বাড়তি বোঝা আদর না করলেও ফেলে দেন নি। কিন্তু খুব টানে টানে জীবন কেটেছে। তবে আজ এসব ভেবে আর লাভ কি!


মুনিয়াকে বসানো হয়েছে সাব্বিরের ঘরে।  সাব্বিরকে এখনো সামনাসামনি দেখেনি মুনিয়া। হোয়াটসএ্যাপে ছবিটা পাঠিয়েছিল বড় দাদা মানে মেজ চাচার বড় ছেলে।  সাব্বিরের  সাথে তার কি যেন ব্যবসা!  সেখান থেকেই বিয়ের প্রস্তাব।  না, সাব্বির দেয় নি বোধ-হয়,  মেয়ে খুঁজছে এই খবর পেয়ে বড় দাদাই যোগাযোগ করেছে। 


ঘরটা পুরো সাজানো গোছানো। একটা চার পাল্লার আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, ওয়্যার ড্রোব, একটা শোকেস ভর্তি বিভিন্ন ধরনের বইপত্র, একটা তাকের মতো কাঠের কিছু একটা, নিচে কিছু রাখা, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না কি আছে, কর্ণারে একটা এক পাল্লার আলমারিও দেখা যাচ্ছে। আয়নাটা দেখে মুনিয়ার মনে হলো, এই আয়নাটায় দ্বিতীয়বার কোনো মেয়ে ব্যবহার করছে। আগের বারও হয়তো সাব্বিরের আগের বউ এই আয়নায় মুখ দেখেছে। এই ঘরের জানালার পর্দা থেকে চারপাশে একটা রুচিশীল ছাপ, কে সাজিয়েছে,হয়তো সাব্বিরের আগের বউয়ের কেনা জিনিসপত্র।  সে তো নিশ্চয়ই বেডশিট বা জানালার পর্দা নিয়ে চলে যায় নি!

মুনিয়ার ক্লান্ত লাগছে, বালিশে হেলান দিতেই চোখ বন্ধ হয়ে এলো। সাব্বির ঘরে এলো অনেক রাতে। মুনিয়া তখন ঘুমিয়ে পড়েছে। 


সাব্বির মুনিয়াকে না ডেকে পাশে শুয়ে পড়ল। মুনিয়ার ঘুম ভাঙল জানালা থেকে আসা সকালের রোদে, পাশে কেউ নেই, তবে বালিশের মাঝখানটা ডেবে আছে, মানে কেউ ছিল। নয়তো ভেবে নিতো সাব্বির নামের ভদ্রলোক কাল ঘরে আসেন নি। আশ্চর্য বিষয়, গতকাল বিয়ে হয়েছে, ভদ্রলোককে এখনো ভালো করে দেখেনি মুনিয়া।


বিছানায় বসতে বসতে সাব্বির টাওয়েল পরে বের হলো ওয়াশরুম থেকে। মুনিয়া চোখ নামিয়ে নিলো, এভাবে কোনো অপরিচিত ছেলেকে দেখে নি কখনো। 


-ঘুম ভাঙল তোমার? রাতে দেখলাম গভীর ঘুমে৷ তাই আর ডাকিনি!


মুনিয়া ঘাড় নাড়ল।  


-ওয়াশরুমে গরম পানি রাখা আছে, গোসল করে নিতে পারো। আমি এখন বের হয়ে যাব। ফিরতে ফিরতে রাত হবে। 


মুনিয়া আবারো ঘাড় নেড়ে সায় দিলো। 


এভাবেই মুনিয়ার সংসার শুরু হলো। খুবই অদ্ভুত বিষয়, সাব্বির সকালে মুনিয়া উঠতে উঠতে চলে যায়। আর ফেরে মাঝ রাতে। মুনিয়া বসে থাকতে থাকতে ডাইনিংয়েই ঝিমিয়ে যায়। সাব্বিরের কলিংবেলে সে ধরফর করে উঠে বসে। 


কয়েকদিন এভাবে যাওয়ার পরে সাব্বির একদিন বলল, শোনো, তোমার এত রাত অবধি বসে থাকার দরকার নেই। আমি আগেও এমন রাত করেই ফিরেছি। কেউ অপেক্ষা করে থাকে নি। নিজেই নিয়ে খেয়ে নিতাম!


মুনিয়া নিচু স্বরে বলল, এখন তো আমি আছি! 


সাব্বির হো হো করে হেসে উঠল। এই কথায় হাসির কি হলো! মুনিয়া বুঝতে পারল না। 


সাব্বিরের সাথে মুনিয়ার শারিরীক ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। সাব্বির তাকে উথালপাথাল ভালোবাসায় ভাসিয়েছে, এই সম্পর্ক, পুরুষালী গন্ধ, সিগারেট পোড়া ঠোঁটের টক টক চুমুর ছোঁয়া মুনিয়াকে মাতাল করেছে, খারাপ লাগে নি।  তবে সাব্বিরের বোধ হয় মানসিক টান কম। বিশেষ মুহুর্তের পরে সাব্বির ঘুমিয়ে যায়। মুনিয়ার তখনো আরো কিছু ইচ্ছে করে। তখন ইচ্ছে করে ভালোবেসে কোমল স্পর্শ কেউ তাকে জড়িয়ে থাকুক! তীব্র কামনা নিয়ে উত্তাল চুমুর পরে কেই কপাল ছুঁয়ে উষ্ণ চুমু খেয়ে নিক। আলাদা বালিশে একহাত নয় যেন, এক পৃথিবী দূরত্বে সাব্বির ঘুমিয়ে থাকে। মুনিয়া প্রতিবারই দীর্ঘশ্বাস ফেলে। 


সাব্বিরের জামাকাপড়,  জিনিসপত্র মুনিয়ার নাড়াচাড়া করতে ভালো লাগে। এ বাড়িতে মানুষের অভাব নেই, মুনিয়ার তাই কাজ কর্ম থাকেনা বললেই চলে। দ্বিতীয় বর্ষের অনার্স পরীক্ষা সামনে, কিছু পড়াশোনাও করে তবে পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা এখনো নিশ্চিত না। কারণ বইপত্র দেখে সাব্বিরের ভাবী নাক সিটকিয়ে বলেছে, সাব্বিরের খালি বিদ্বান বউ জোটে, আগের বউ তো চাকরি পেয়েই ডানা গজিয়েছিল। এবারে আবার নতুন করে শুরু হলো!


মুনিয়ার প্রচন্ড কষ্ট লাগলেও ও কোনো উত্তর দেয় নি। সাব্বিরকে বলার মত সম্পর্ক তৈরি হয় নি এখনো। তবে মুনিয়া অনেক কষ্ট করে এতদূর পড়াশোনা চালিয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার পর থেকেই বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজা চলছিল। তবে খালি মেয়েকে নিয়ে আজকাল কোনো পাত্র ঠকতে চায় না। তাই এতদিন দেরী হলো। মুনিয়া একটু একটু করে পড়া চালিয়ে এতদূর এগিয়েছে। কে জানে, সাব্বির পড়তে দেয় কি না। না দিলে মুনিয়া জোরও করতে পারবে না। এ কারণ চাচার সামর্থ নেই ওকে আবার টানার। আহা, মুনিয়া ছেলে হলে, কিছু একটা নিশ্চয়ই করে ফেলত আর বিয়ের কথাও উঠত না!


সাব্বিরের জীবন যাপনে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগের বউ ইউনিভার্সিটির হলে থাকত, তার সাথে সংসার করা হয় নি। ফোনে আলাপে প্রেম, সেখান থেকে বিয়ে অবধি গড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়েটা টিকল না। তাই এবারে ওর টান তৈরি হয় না। শারিরীক টান তো প্রাকৃতিক চাহিদা! তবে নিয়মিত সব জামা কাপড় গোছানো পায়, বাসায় ফিরে খাবার গরম করতে হয় না। প্লেটে ভাত বেড়ে দেওয়ার লোক আছে এখন। এসব ছোটো ছোটো বিষয়গুলোতেও সাব্বিরের ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে। মুনিয়াকে আদর করতে ভালো লাগে। মেয়েটা নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের এতিম মেয়ে। তাই হয়তো সাব্বিরের সাথে কখনো তর্ক করতে যায় না। বেশি কথাও বলে না। সাব্বির প্রয়োজনীয় কিছু বললে, ঘাড় নেড়ে সায় দেয়। 


একদিন ফিরতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল। খেতে বসার পরে মুনিয়া আস্তে বলল, আমার অনার্স পরীক্ষার ডেট দিয়েছে, এই মাসের চৌদ্দ তারিখ শুরু হবে। 


সাব্বির বলল, আচ্ছা। 


আলিনগর কলেজে সিট পড়েছে, চাচার বাসা থেকে কাছে হবে। 


হুম।  


আমি কী পরীক্ষা দিব?


কেন দেবে না? পড়াশোনা করেছ তো দেখলাম। 


তাহলে দুয়েক দিনের ভেতর যেতে হবে, এডমিট তুলতে হবে। 


আচ্ছা যাও। কবে যাবে বলো, সোরাবকে পাঠাব, দিয়ে আসবে। 


মুনিয়ার ইচ্ছে হলো বলে, আপনি যাবেন না? কিন্তু বলতে সাহস পেলো না। জামাই গেলে তার বাড়তি যত্ন আছে, মেজ চাচার উপর চাপ পড়বে।  তারপর ওখানে মুনিয়া থাকত পেছনের বারান্দায়,  খাবার রুমের পাশে ছোট্ট একটা ঘরে। একটা চৌকি আর একটা পড়ার টেবিল ছিল।  এই বিশাল বাড়ি, এত সুন্দর রুম, এত আসবাবপত্র এসবে থাকা সাব্বিরকে ওখানে গিয়ে থাকতে বলতে লজ্জা লাগছে। 


মুনিয়া চলে গেল দুদিন পরে। মুনিয়া যেদিন চলে গেল, সাব্বির একটু তাড়াতাড়িই ফিরেছিল। সবাই জেগেই ছিল কিন্তু তবুও বাসাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগল। একটা দিক বোধহয় অন্ধকার হয়ে আছে, কিন্তু না তো, সব জায়গায়ই বাতি জ্বলছে। তাহলে এত নিরিবিলি লাগছে কেন!


খেতে বসে সাব্বির অনুভব করল, আজ খেতে ভালো লাগছে না।  সবই ঠিক মতো আছে, কিন্তু কোনো খাবারই বোধহয় আজ রান্না ভালো হয় নি। অল্প খেয়ে উঠে পড়ল। 


নিজের রুমে গিয়েও একই অনুভূতি।  তাহলে কী মুনিয়ার জন্য খারাপ লাগছে! কই মেয়েটা তো এত কথা বলে না তার সাথে। রোজ রাতে শুয়ে মুনিয়াকে কাছে টেনে নেয় সাব্বির।  ওর ঠোঁটে গভীর চুমু খায়। মুনিয়াও সাড়া দিতে শুরু করে। সাব্বিরের পশমাবৃত বুকে পোষা বেড়ালের মত মুখ ঘষে আদর করে দেয়! সাব্বিরের যে অনুভূতি হচ্ছে,  সেটা শারিরীক নয়, বুকের ভেতর একটা কষ্ট কষ্ট লাগছে। ঠিক কী যে নেই ধরণের। 


সাব্বির মনোযোগ ঘোরাতে চেষ্টা করে। কালকে কয়েকটা ক্যাশমেমো লাগবে। আগে ব্যবসার কাগজপত্রগুলো সব ছড়ানো ছিল, সেগুলো এখন একটা দেরাজে। আলাদা আলাদা করে রডের দোকানের ক্যাশমেমো, বালি চালানের  কাগজপত্র রাখা। মেয়েটা সব কাগজ গুছিয়ে রেখেছে, সাব্বিরের সময় লাগে না খুঁজে পেতে। 


পরের দেরাজ টেনে দেখে, এক পাশে শার্টগুলো রাখা, আরেক পাশে জিন্স। উপরের ছোটো দেরাজে সব মোজা, আন্ডারওয়্যার গোছানো। টাওয়েল দুটো ধুয়ে রাখা। মোবাইল, হেডফোন, ঘড়ি, ব্রেসলেট গুলো রাখার জায়গাটা একদম পরিপাটি। খুব যত্ন করে সাজিয়ে রাখা। 


সাব্বির চারপাশে তাকায়, পড়ার টেবিলটা ফাঁকা।  মুনিয়ার বইপত্র নেই এখানে। একটু কৌতূহল থেকে মুনিয়ার জামাকাপড় রাখার আলমারির দরজাটা খোলে সাব্বির।  একটা মুনিয়া মুনিয়া সুবাস এখানে! কিছু না সড়িয়ে প্রাণভরে সুবাস নেয় সাব্বির।  মুনিয়াকে কখনো ফোন করা হয় না! ওর চাচার বাসায়ও বিয়ের পরে কখনো যাওয়া হয় নি। সোরাব পৌছে দিয়ে এসেছে আজ। 


সাব্বির চোখ বন্ধ করে একটা নিঃশ্বাস নিলো। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ে বাইক নিয়ে বের হয়ে পড়ল।  রাত বারোটার বেশ কিছুসময় পরে মুনিয়ার চাচার বাসায় গিয়ে কড়া নাড়ল। 


মুনিয়া জেগেই ছিল। বাইকের হর্ণটা ভীষণ পরিচিত হলেও মনে হলো, এটা মনের ভুল, এত রাতে কী আর সাব্বির আসবে! 


কিন্তু অবাক হয়ে দেখল, সাব্বির এসেছে।  এত রাতে জামাই এসেছে দেখে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সাব্বির লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, আসলে আমি এত ব্যস্ত থাকি, দিনে একদম সময় পাই না। সাব্বিরের ব্যস্ততা মিথ্যে নয়, সবাই জানে। 


মাঝরাতে কিছু না করলেও আনুষ্ঠানিক আলাপ আর জামাই আদরের পরে সাব্বির মুনিয়াকে কাছে পেল যখন, তখন রাত দেড়টা বাজে। 


আজো মুনিয়া তেমন কোনো কথা বলে নি। মুনিয়ার রুমের চারপাশটা দেখে নিয়ে যেন সাব্বির মুনিয়ার বুকের ভেতরটাও এক ঝটকায় দেখে নিলো। কোনো কথা না বলে আজ মুনিয়াকে বুকে টেনে নিলো সাব্বির। আজ কোনো প্রাকৃতিক চাহিদার জন্য নয়, মুনিয়ার কপালে উষ্ণ চুমু খেয়ে এক হাতে ওকে জড়িয়ে রাখল। মুনিয়াও আজ দ্বিধা কাটিয়ে একটা হাতে সাব্বিরকে আঁকড়ে ধরল। দুজন চোখ বন্ধ করল একটা নিশ্চিন্ত নির্ভরতায়। আজ ওদের এক হাত এক পৃথিবী দূরত্ব দূরে সরে গিয়েছে নিশ্চিত।


দূরত্ব 


শানজানা আলম

জীবনানন্দ দাশ, যিনি জন্মেছিলেন এক উচ্চবংশে, কিন্তু পুরো জীবন কাটিয়ে দিলেন হতদরিদ্রতার আঁধারে।

 জীবনানন্দ দাশ, যিনি জন্মেছিলেন এক উচ্চবংশে, কিন্তু পুরো জীবন কাটিয়ে দিলেন হতদরিদ্রতার আঁধারে। বিয়ে করলেন লাবণ্যকে, যে হয়তো ঘরমুখো ছিল, কিন্তু স্বপ্ন ছিল তার আকাশছোঁয়া। চাকরিবিহীন জীবন আর স্ত্রীর সাথে বন্ধনহীন সম্পর্কের মাঝেও  জীবনানন্দ খুঁজে বেড়ালেন এমন একজন, যে তার মনের গভীরে পৌঁছাতে পারবে, অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে দিবে। এই হাহাকার আর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লিখলেন বনলতা সেন। 


আর রবীন্দ্রনাথ? চারদিকে তার গুণগান, নোবেল পুরস্কারের জয়জয়কার। কিন্তু মানুষ তখন তাকে বুঝলো না, প্রশান্তির বদলে দিলো অপমান—এতো বেদনার ভেতর দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কবিতা । একই সময়ে কেন আমাদের কবি মেসে ছারপোকার কামড় সহ্য করে, ক্ষুধার তাড়নায় চড়ুই পাখির ফেলে যাওয়া বিস্কুট খাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে গল্প লিখে গেলো?


নিজের সফলতা দেখে যেতে না পারলেও মায়ের কথা জীবনানন্দ রেখেছেন—কুসুমকুমারী দাশ, যিনি বড় হওয়ার মানে বুঝিয়েছিলেন কাজের মাধ্যমে, কথায় নয়। মনের মধ্যে বিষন্নতা আর সংসারের টানাটানির পরেও বাংলার মাটি আর হৃদয়ের সঙ্গে তার প্রেম ছিল অফুরন্ত। কখনো সুদর্শন, আবার কখনো লক্ষ্মীপেঁচা হয়ে এই বাংলায় ফিরে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। অবিশ্বাস্যভাবে, পৃথিবীতে ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া একমাত্র মানুষ জীবনানন্দই। এখন তিনি স্বেচ্ছায় প্রাণ দিলেন নাকি আসলেই দুর্ঘটনার শিকার? আজ ঠিক সেই প্রহেলিকার দিন। তার নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে জীবন আর আনন্দ, কিন্তু সারা জীবন কী পেলেন তিনি—দুঃখ ছাড়া?


There is a movie called 'Grave Of The Fireflies.' There is a dialogue there " Why do fireflies have to die so soon?"

এর উত্তর কিন্তু কেও জানে না কিন্তু আমাদেরই এক বাঙালি ৭০ বছর আগে এর উত্তর দিয়ে গেছে। তিনি আমাদের বিষন্নতার কবি--

 ''পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়,

 প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন 

 মরে যেতে হয়" (দুজন - বনলতা সেন)

নূর জাহান - কিংবদন্তি নায়িকা ও কণ্ঠশিল্পী।,,,,,,

 নুর জাহান - কিংবদন্তি নায়িকা ও কণ্ঠশিল্পী। --------

কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী নূরজাহান উপমহাদেশের অন্যতম  খ্যাতিমান শিল্পী,সুরকার,অভিনেত্রী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। এছাড়াও নুরজাহান এর সম্মানিত খেতাব মালিকা-ই-তারান্নুম নামে পরিচিত সুরের রানী হিসেবে ছিলেন একজন পাকিস্তানি গায়িকা এবং অভিনেত্রী।


নুর জাহান জীবনের প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশ ভারতের হয়ে অভিনয় জীবন এবং খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দেশভাগ হওয়ার পরবর্তীতে পাকিস্তানের হয়ে একজন নিবেদিত প্রাণ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। 


নায়িকা হিসেবে বলিউড চলচ্চিত্র জগতে নুরজাহান যেসব সিনেমায় অভিনয় করেন,তার উল্লেখ্যযোগ্য হলো ১৯৩৫ শীলা,গুল বাকাওলি,ইমানদার,

পিয়াম-ই-হক,সজনি,যমলা জাত,চৌধুরী,রেড সিগনাল। উমরিদ,সাসরাল।


এছাড়া নুরজাহানের চন্দনি,ধীরাজ,ফরিয়াদ খান্দান - ১৯৪২ সালের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র।

নাদান,দুহাই, নকার - ১৯৪৩ সালে সর্বোচ্চ ব্যাবসা সফল ভারতীয় চলচ্চিত্র লাল হাবেলী,১৯৪৪ সালে দোস্ত,সব গুলো চলচ্চিত্রে তিনিই ছিলেন হিরোইন।


কণ্ঠশিল্পী নুরজাহান প্রায় ৬ দশকের অধিক সময় ধরে তার কর্মজীবনের পার করেন। তিনি বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন।


যার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি পাকিস্তানের অন্যতম সম্মানসূচক মালিকা-ই-তারান্নুম বা সুরের রানী খেতাব লাভ করেছিলেন। তিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি সংগীতের অন্যান্য ধারার প্রতিও দূরদর্শী ছিলেন।


কণ্ঠশিল্পী নুরজাহান ভারতীয় সঙ্গীত অনুরাগী একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পিতা মাতার বাদ্যযন্ত্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি শৈশবকাল থেকেই একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। 


যদিও নুরজাহান বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অতি সহসাই দর্শক প্রিয়তা পেয়ে বলিউড চলচ্চিত্র জগতে সাড়া ফেলেছিলেন। কিন্তু গান যেহেতু তার হৃদয় তন্ত্রীতে অবিচ্ছেদ্য ভাবে গাথা তাই একসময় অভিনয় ছেড়ে গানকেই কন্ঠে তুলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুরের মুর্ছনায় জড়িয়ে ছিলেন। 


নুর জাহান ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন ভাষায় প্রায় ১৮ হাজার এর উপরে গান রেকর্ড করেছেন, যার মধ্যে যেমন:- উর্দু,পাঞ্জাবী,পশতু,সিন্ধী এবং ফার্সি ভাষাও রয়েছে। সঙ্গীতশিল্পী আহমেদ রুশদির সাথে দ্বৈতকণ্ঠ দিয়ে তিনি পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক চলচ্চিত্রের গানের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করার কীর্তি গড়েন।


জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গানের ভুবনে সুরের ইন্দ্রধনু তুলে ধরার জন্য নুরজাহানকে সর্বকালের সেরা একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে মনে করা হয়। 


এছাড়াও নুরজাহান একজন মহিলা পরিচালক হয়ে পাকিস্তানের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনা করার জন্য তাকে প্রথম মহিলা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


১৯৬৫ সালে রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান নূর জাহানকে অভিনয় এবং সঙ্গীতে অসাধারণ অবদানের জন্য স্বীকৃতিস্বরুপ পাকিস্তানের অন্যতম সম্মানীয় পুরস্কার "প্রাইড অব পারফরমেন্স" প্রদান করেন।


বিশেষ করে নুরজাহান ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়কার সবচে বেশী দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য। এছাড়াও তিনি পাকিস্তানি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কার তামা-ই-ইমতিয়াজ এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ পুরষ্কার জিতে নেন।


নূর জাহান পাকিস্তানে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন একে একে ২ বার। এরমধ্যে ১৯৮৭ সালে একবার এবং ২০০২ সালে মৃত্যু পরবর্তী সময়ে আরো একবার পান।


নূর জাহান ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের কাসুরের একটি পাঞ্জাবী মুসলিম পরিবারে ২১ শে সেপ্টেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমদাদ আলী এবং ফতেহ বিবি দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। এগারো ভাই বোনের মধ্যে নুরজাহান অন্যতম একজন হিসেবে শিল্পী হিসেবে পৃথিবীতে পরিচিতি লাভ করেন।


নূর জাহান ১৯৪২ সালে শওকত হোসেন রিজভীকে বিয়ে করেন। এরপর ১৯৫৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এই দম্পতির ঘরে তিন সন্তানের জন্ম হয়,যেখানে জিল-ই-হুমা নামে একজন কন্যা সন্তান সঙ্গীতশিল্পী হন।


এছাড়া ১৯৫৯ সালে শিল্পী নুরজাহান পুনরায় এজাজ দারানিকে বিবাহ করেন। এই দম্পতির ঘরেও তিন সন্তানের জন্ম হয় কিন্তু পরিশেষে আগের মতই ১৯৭০ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।


২০০০ সালের ২৩শে ডিসেম্বর কণ্ঠী শিল্পী নুরজাহান মৃত্যু বরণ করেন।।

ভাষা সম্পর্কে গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 চায়ের কাপে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ার সময় হঠাৎ মাথায় আসলো যে এই চা চীনা শব্দ। আবার বিস্কুট ফরাসি শব্দ। বিস্কুটের সাথে থাকা চানাচুর হিন্দি। চায়ে যে চিনি ও পানি থাকে সেখানে চিনি চীনা অথচ পানি হিন্দি শব্দ। আবার চা ভর্তি পেয়ালাটা ফারসি কিন্তু কাপটা ইংরেজি শব্দ। এদিকে ইংরেজি শব্দটাই আবার পর্তুগিজ।😫🤪

চা চীনা হলেও কফি কিন্তু তুর্কি শব্দ। আবার কেক পাউরুটির কেক ইংরেজি, পাউরুটি পর্তুগীজ। 😃😄

একটু দামী খানাপিনায় যাই। আগেই বলে রাখি, খানাপিনা হিন্দী আর দাম গ্রীক। রেস্তোরাঁ বা ব্যুফেতে গিয়ে পিৎজা, বার্গার বা চকোলেট অর্ডার দেয়ার সময় কখনো কি খেয়াল করেছেন, রেস্তোরা আর ব্যুফে দুইটাই ফরাসী ভাষার, সাথে পিৎজাও। পিৎজাতে দেয়া মশলাটা আরবি। মশলাতে দেয়া মরিচটা ফারসি! 😵😖

বার্গার কিংবা চপ দুটোই আবার ইংরেজি। কিন্তু চকোলেট আবার মেক্সিকান শব্দ। অর্ডারটা ইংরেজি। যে মেন্যু থেকে অর্ডার করছেন সেটা আবার ফরাসী।

ম্যানেজারকে নগদে টাকা দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন, নগদ আরবি, আর ম্যানেজার ইতালিয়ান।

আর যদি দারোয়ান কে বকশিস দেন, দারোয়ান ও তার বকশিস দুটোই ফারসি।

😂🤓

এবার চলুন বাজারে, সবজি ফলমূল কিনতে। বাজারটা ফারসি, সবজিও। যে রাস্তা দিয়ে চলছেন সেটাও ফারসি। ফলমূলে আনারস পর্তুগিজ, আতা কিংবা বাতাবিলেবুও। লিচুটা আবার চীনা, তরমুজটা ফারসি, লেবুটা তুর্কী। পেয়ারা-কামরাঙা দুইটাই পর্তুগীজ। পেয়ারার রঙ সবুজটা কিন্তু ফারসি। 😃😛

ওজন করে আসল দাম দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন ওজনটা আরবি, আসল শব্দটাও আসলে আরবি। তবে দাম কিন্তু গ্রীক, আগেই বলেছি।🤣😂

ধর্মকর্মেও একই অবস্থা। মসজিদ আরবি দরগাহ/ঈদগাহ ফারসি। গীর্জা কিন্তু পর্তুগীজ, সাথে গীর্জার পাদ্রীও। যিশু নিজেই পর্তুগীজ। কেয়াং এদিকে বর্মিজ, সাথে প্যাগোডা শব্দটা জাপানি। আর, মন্দিরের ঠাকুর হলেন তুর্কী। 😲😵

আর কি বাকি আছে? ও হ্যাঁ। কর্মস্থল! অফিস আদালতে বাবা, স্কুল কলেজে কিন্ডারগার্টেনে সন্তান। বাবা নিজে কিন্তু তুর্কী, যে অফিসে বসে আছেন সেটা ইংরেজি, তবে আদালত আরবি, আদালতের আইন ফারসি, তবে উকিল আরবি।🤩😃

ছেলে যে স্কুলে বা কলেজে পড়ে সেটা ইংরেজি, কিন্তু কিন্ডারগার্টেন আবার জার্মান! 🤠😃

স্কুলে পড়ানো বই কেতাব দুইটাই আরবি শব্দ। যে কাগজে এত পড়াশোনা সেটা ফারসি। তবে কলমটা আবার আরবি। রাবার পেনসিল কিন্তু আবার ইংরেজি!😲🤪

পুরোটা মনে না থাকলে অন্তত এটা মনে রাখবেন যে মন শব্দটা আরবি।🙏 ❤

শব্দের কেচ্ছা-কাহিনী এখানেই খতম। তবে কেচ্ছাটা আরবি, কাহিনীটা হিন্দি, উভয়ের খতমটা আরবিতে। মাফ চাইলাম না বা সরি বললাম না, কারণ মাফটা আরবি আর সরিটা ইংরেজি।

(সংগৃহীত)

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...