#ঘুরে_দাঁড়ানোর_গল্প
“একজন ভারতীয় মহিলা শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে দর্শক আমার থেকে আশা রাখেন, যে আমার একঢাল লম্বা চুল থাকবে। মাথার চুল পরে গেলে মহিলারা এমনিতেই নিজেদের লোকচক্ষুর আড়াল করে নিতে চান।
কিন্তু আমি মনে করি আমার চুল হলো আমার জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশ; এর অভাবে আমি নিশ্চয়ই বাঁচা ছেড়ে দেবো, তাই না? আমি আজও নিজেকে আগের মতোই সুন্দর দেখি। আর এইভাবেই যখন কেউ নিজেকে সাদরে গ্রহণ করে নেয়, সমাজও তখন তাকে সেইভাবেই গ্রহণ করে নেয়।
কত্থকের অর্থ হলো কাহিনী ব্যক্ত করা; এবং নৃত্য শুধুমাত্র শরীরের নড়াচড়ার বিষয় নয় বরং এটি মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, যা সমাজ পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
এমনও সময় গেছে, যখন আমি কখনও কেমোর একদিন আগে বা একদিন পরেও নৃত্য উপস্থাপন করেছি। নাচ আমার কাছে অক্সিজেনের মতো। আমি নাচ ছাড়া কিছুতেই থাকতে পারবো না। আমার তৃতীয় এবং ষষ্ঠ কেমোর মধ্যবর্তী সময়ে, আমি 15টি শো করেছি।
আমার মানসিক স্বাস্থ্য এবং একটি প্রাথমিক রোগ নির্ণয় আমাকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে সাহায্য করেছে। আমি যদি বিছানায় থাকতাম, আমি অবসাদে চলে যেতাম। পরিবর্তে, নাচ আমাকে এই কঠিন রজার মধ্যেও বাঁচার শক্তি ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কিন্তু আমিও একাকীত্বে চোখের জল ফেলি।
ঈশ্বরকে প্রশ্ন করি, ‘আমিই কেন?’ আমি তো কারো প্রতি কোন অন্যায় করিনি। কিন্তু যখন আমি দেখি কত মানুষ আমার থেকেও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি লড়াই করার শক্তি খুঁজে পাই। আমি কারও সহানুভূতি চাই না। আমি ভালবাসা চাই। একজন নারী হিসাবে, আমরা প্রতিনিয়ত অন্যের জন্য বাঁচতে গিয়ে নিজের বাঁচার কথাই ভুলে যাই। আমি বিশ্বাস করি, আপনি নিজে যদি সুখী থাকেন, একমাত্র তখনি আপনি অন্যকে সুখী রাখতে পারবেন।
মৃত্যু তো একদিন আসবেই; কিন্তু সেই একদিন মরার আগে প্রত্যেকদিন প্রাণভরে বাঁচবো না কেন আমি? আমি যখন আজ ঘুম ভেঙে চোখ খুলে আজকের সকাল দেখতে পেরেছি, তার মানে, আমি আরও একটা সুযোগ পেলাম নতুনভাবে বাঁচার জন্যে, তাহলে আমি অযথা দুশ্চিন্তা করে সময় নষ্ট করবো কেন?”
-- অলকানন্দা দাশগুপ্ত


