এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪

ফেইসবুক থেকে নেওয়া গল্প

 ভীড় ছিল ট্রেনে। আমি সীট না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছি। ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে আটটা। দেখলাম পঁচিশ ছাব্বিশ বছরের একটি ছেলে আমার দিকে অনেকক্ষণ ধরেই তাকিয়ে আছে। প্রায় ছ ফিট লম্বা, দেখতে হিরো টাইপ, হাতে একটা বালা। যখনই ছেলেটির চোখে চোখ পড়ছে,তখনই  দেখছি আমার দিকে দেখছে একদৃষ্টে। ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে আমি ঘুরে দাঁড়ালাম, যাতে ও আর না আমার দিকে তাকায়। ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ সন্দেহজনক ছিল। অপরিচিত কেউ একজন এভাবে ফলো করছে দেখে ব্যাপারটা ভালো ঠেকল না।


ভীড় বাড়তে লাগল। ভাবলাম ভালোই হল। ছেলেটির গতি প্রকৃতি ভালো লাগছিল না আমার। মনের মধ্যে একটা খটকা তৈরি হলো। ভাবছিলাম কেন তাকাচ্ছিল ও? চোখ দুটো বেশ সন্দিহান। ভীড়টা বেড়ে যেতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পিছন ফিরে তাকাবার চেষ্টা করতে আর দেখতে পেলাম না ছেলেটিকে।


যাইহোক, আমার এ বিষয়ে এত না ভাবলেও চলে। হয়তো আমার লেখা পড়ে। তাই হয়তো চিনতে পেরেছে। খারাপ চিন্তা ছেড়ে ভালো চিন্তাই করতে শুরু করেছি তখন। মানুষকে খারাপ ভাবা ঠিক নয়। নিজের মত করে অনেক কিছুই ভেবে নিই আমরা, পরে দেখা যায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভুল থাকে।

ঠিক এমনটাই  ভাবছি, হঠাৎ আমি তাকিয়ে দেখি ছেলেটি একদম আমার পাশে। আমি বুঝতে পারিনি কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। মুখের দিকে তাকাতেই দেখি, আমাকে আপাদ মস্তক দেখছে। হঠাৎ করেই আমার হাতটা চেপে ধরল, বেশ শক্ত করেই। আমি কিছু বলতে যাব,তার আগেই বলল,


-এড়িয়ে যাচ্ছেন আমাকে?


জিজ্ঞেস করলাম,


-কে আপনি?


-আমাকে আপনি বলছেন? আমাকে কি সত্যিই চিনতে পারলেন না স্যার?


স্যার বলতেই ধাতস্ত হলাম একটু। বললাম,


-চিনতে পারলাম না তো?


-আপনার ক্লাসের সব থেকে খারাপ ছেলেটা। টেনের টেস্ট পরীক্ষার সময় খাতা কেড়ে নিয়েছিলেন বলে আমি বলেছিলাম, আপনাকে দেখে নেব স্যার, সেই  খারাপ ছেলেটাই আমি।  বলতে পারেন ক্লাসের সব থেকে বদ ছেলেটা। জানেন স্যার এখনও মনে পড়লেই খুব লজ্জা লাগে। আজ আপনাকে সামনে দেখে খুব আনন্দ হচ্ছে। 


স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে মনে পড়ল রোগা পাতলা চেহারার তালপাতার সেপাইকে। বললাম,তুই মানে সেই...


-হ্যাঁ স্যার আমি সৌম্য। অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছি। আপনি চিনতে পারেন নি বলেই হয়তো বুঝতে পারেন নি। আমি আপনাকে ঠিক চিনতে পেরেছি। দশ বছর আগে আপনাকে দেখেছিলাম। তারপর আজ দেখছি। আপনার লেখা পড়ি। ক্লাসে আপনার পড়া হয়তো শুনতাম না, এখন আপনার লেখা পড়ে মনের শক্তি পাই। পড়াশোনায় তো ভালো ছিলাম না, তাই আপনাকে মেসেজ করতে সাহস পাইনি। বিশ্বাস করুন স্যার স্কুলের সব স্যারকেই মনে আছে। আপনাকেও খুব মিস করি।বলতে বলতেই ভীড়ের মধ্যেই প্রণাম করতে গেলে বুকে টেনে নিই। মনে মনে বলি এত ভালোবাসা, এত সম্মান পায়ে রাখি কী করে? জিজ্ঞেস করলাম,


-করিস কী?


বলল,


-পোস্টিং পাঞ্জাবে। সেনাবাহিনীতে আছি।

আশীর্বাদ করবেন স্যার। জীবনে আপনাদের  অবদান যেন ভুলতে না পারি। একটা আর্জি আছে স্যার, আমাদের মত এই সাধারণ ছেলেদের নিয়ে একদিন  লিখবেন আপনার কলমে।আমি পাঞ্জাব থেকে পড়ব আর আমার সব সহকর্মী বন্ধুদের শোনাব, বলব আমার স্যার লিখেছে। 


চোখটা ভিজে যাচ্ছিল আমার। ট্রেন হাওড়া ঢুকল। নামলাম দুজনেই। ওর সাথে ওর বড় লাগেজ। আবার প্রণাম করতে গেলে, আমি বলি থাক রে। বলল, "স্যার আপনার পা দুটো ছুঁতে দিন অন্তত , এই প্রণামটা আমার সব স্যারদের জন্য। আপনাদের আশীর্বাদ না থাকলে এত দূর আসতে পারতাম? বাবা মায়ের পরেই তো আপনারা।" শিক্ষকতার জীবনে এই গুলোই তো আসল পাওয়া। বললাম, স্যালুট দেশ নায়ক। তোমরাই তো আমাদের রিয়েল হিরো।

(রিপোস্ট)

ঘটনা:৭ নভেম্বর,২০২২


কলমে:সরজিৎ ঘোষ।

ছবি সংগৃহীত।

কোন মন্তব্য নেই:

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...