এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

একটি নদীর সাগর হওয়ার গল্প

 একটি নদীর সাগর হওয়ার গল্প


একদিন নদীর খুব ইচ্ছে হলো মহাসাগরের সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়ার। দিনক্ষণ ঠিক করে সে বেড়িয়ে পরলো সাগরের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য।অনেক  দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে জেনেও নদীর পথ চলা থেমে থাকলো না, এক মুহুর্তের জন্যও।নদী যেন আরও বেশি গতি দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেই থাকলো।


অবশেষে  নদী যখন সাগরের খুব নিকটে এসে দাড়ালো। সাগরের বিশালতা দেখে  নদী এবার তার  ইচ্ছেটাকে হারিয়ে ফেলল।ভয়ে অনবরত কাঁপতে শুরু করলো। 


মনে মনে ভাবতে লাগলো এখন সে কী করবে? যাত্রাপথের দিকে তাঁকিয়ে সে ভাবতে লাগলো অনেকটা  পথ অতিক্রম করে এসেছে সে।পথে পথে পাড়ি দিতে হয়েছে শৃঙ্গ,পাহাড়, জঙ্গল। অতিক্রম করতে হয়েছে কত বাঁধা বিপত্তি। 


নদী মনে মনে এটাও ভাবলো এই বিশাল সাগরে প্রবেশ করা মানে চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। নিজেকে হারিয়ে ফেলা।কিন্তু সে তো আর ফিরে যেতে পারবে না।ফিরে যাওয়ার কোনো পথ আর খোলা নেই।প্রকৃতির নিয়ম মেনে তাকে সাগরের বুকেই ডুবে যেতে হবে।


প্রকৃতির নিয়ম মেনে অবশেষে নদী সাগরে প্রবেশ করলো। অতঃপর সে অনুভব করলো সে আরও বিশাল  জায়গা জুড়ে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে পেরেছে।একটা সময় নদী অনুভব করতে শুরু করলো যে সে সাগরের বিশালতার মাঝে নদী পরিচয় হারিয়েছে। সে তখন বিশালতম  সাগরে পরিণত হয়েছে।


গল্পটির শিক্ষা হলো,বড় বড় স্বপ্ন দেখতে আমরা ভয় পাই।অথচ সাহস করে আমরা যদি সামনে এগিয়ে যেতে পারি অবশেষে  সফলতা আমাদের হাতেই ধরা দেবে।


ফারহানা সুমনা

শিরোনাম***রাজপথে রানি               কলমে***দুলাল বালা                 তারিখ 17--12--24                  ১লা পৌষ ১৪৩১

 শিরোনাম***রাজপথে রানি

              কলমে***দুলাল বালা

                তারিখ 17--12--24

                 ১লা পৌষ ১৪৩১


        রাজা-রানি ফিরছে দেশের রাজপথে,

        পারিষদবর্গ চলে তার সাথে সাথে।

        মহা-ধুমধাম রাজ আড়ম্ভর কতো!

        রানির অঙ্গে মূল্যবান রত্নভূষণ যতো।

        অঙ্গে কুসুম গন্ধ-সুবাস বাতাসে ভাসে।


        হঠাৎ মহারানি স্বর্ণরথ থেকে নেমে।

        খুলেছে যতো গরীবের অঙ্গ-ভূষণ!

        ক্রোধে রানির অঙ্গ-ভূষণ পড়লো খসে!

        পারিষদ দল বলে শাবাস শাবাস!

        এটাই গরীবের দুঃখের-নির্মম পরিহাস?


        কে করবে প্রতিবাদ? ঘাড়ে ক'টা মাথা!

         লাগুক লজ্জা লাগুক মরমে ব্যথা!

         অসহায় দুর্বল চিরদিনই রাজ-রোষে!

        শকুনি মন্ত্রী রাজা দুর্যোধন যে দেশে।


        যুবতীর পোশাক ধরে চলে টানাটানি।

        বিস্ময়ে অবাক!এ-কোন কুসিৎ-ভণ্ডামি?

        কেনো কর'ছে নারীর শীলতা হানি?

        তুমি মহারানি? বড্ড জিদ্দি-ভিখারিণী! 


        দূরে দাড়িয়ে অতিসাধারণ গ্রাম‍্য-বালিকা

        উচ্চস্বরে প্রতিবাদে করে জোর-চিৎকার।

        সমেবেত প্রতিবাদে ওঠে উচ্চ-কণ্ঠস্বর।

        ভাগে রাজ প্রহরি যতো চাটুকার।

        প্রতিবাদে ভাঙ্গলো রানির অহংকার!


       ভাঙ্গলো ঘুম, ফিরলো রানির হুঁশ।

       ছুটে গেলো চাটুকারের রাতের ঘুম!

       গণদেবতা রাজ দণ্ড নিলো রানির কেড়ে!

       উমেদার-চাটুকার-পেটুয়ারা কারাগারে!


একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 একটা কাক ভালোবেসেছিল এক ময়ূরকে। সে প্রায়ই ময়ূরের পিছে পিছে ঘুরে বেড়াত। ময়ূর এটা বুঝতে পারলেও না বোঝার ভান করে কাককে এড়িয়ে চলতো। এভাবে দীর্ঘদিন কেটে যায়। 


একদিন ময়ূর তার বাসার সামনে একটা হলুদ খাম দেখতে পেল। সেই খামের ভিতরে একটা ছোট্ট কালো রঙের ফুল। ময়ূর বুঝতে পারল কাকই খামের ভিতরে ফুল পাঠিয়েছে।

 

কয়েকদিন পর কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হলো। ময়ূর বলল, "তোমার শরীর যেমন কালো রঙের, তেমনি তোমার রুচিও কালো। তাই তো এত ভালো ভালো রঙের ফুল থাকতে কালো ফুল পাঠিয়েছো!"

কাক ময়ূরের কথা শুনে দু:খ পেয়ে চলে গেল।

 

বেশ কিছুদিন ময়ূর আর কাকের দেখা পেল না। এভাবে সপ্তাহ গেল, মাস গেল, বছর পেরিয়ে গেল। কাকের সন্ধান আর ময়ূর পেল না। অবশ্য ময়ূর কাকের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টাও কখনো করে নি। 


কয়েক বছর পর হঠাৎ করে কাকের সাথে ময়ূরের দেখা হয়ে গেল। ময়ূর কাককে দেখে বলল, "আমার রূপ দেখে সবাই আমাকে ভালোবাসতে চায়। তুমিও তো ভালোবাসতে চেয়েছিলে। তবে আমাকে জয় করার চেষ্টা আর করলে না কেন?"


কাক জবাব দিল, "তোমার সাথে জীবনে একদিনই আমার কথা হয়েছিল। তুমি যতদিন আমার সাথে কথা বলো নি; ততদিন মনে হয়েছিল, সুন্দর রূপের আড়ালে একটা সুন্দর মনও লুকিয়ে আছে। কিন্তু যখন দেখলাম, ফুলের মতো জিনিসকেও তুমি রঙ দেখে বিচার করো; তখনই বুঝেছিলাম মরীচিকার পিছে ছুটে চলেছি। তাইতো নিজেকে সরিয়ে নিলাম।"


ময়ূর বলল, "এখন যদি তোমাকে পেতে চাই, তবে কি তুমি আমাকে ভালোবাসবে?"


কাক বলল, "চোখের নেশা কেটে গেছে। চোখের নেশা কেটে গেলে ময়ূরের সৌন্দর্যও আর চোখে ধরা পড়ে না। তখন ময়ূরকেও কাকের মতো লাবণ্যহীন মনে হয়। জীবনের আসল বাস্তবতা তখন চোখের সামনে দীপ্তিমান হয়ে ফুটে ওঠে। এই বাস্তবতা-ই সঠিক পথের দিশা দেয়। বাস্তবতাকে ভুলে আবেগে আবার গা ভাসালে দিশাহীন নাবিকের মতো অথই সাগরে ঘুরপাক খাব।"


কাক ও ময়ূর বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করল। ধীরে ধীরে দু'জনার দূরত্ব বাড়তে লাগল। এ দূরত্ব যত বাড়বে "জীবন" নামক সমুদ্র থেকে তারা তত বেশি মুক্তা সংগ্রহ করতে পারবে।

পারিজাত সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা:-৩৮০ বিষয়: ভয়/ ঘুড়ি/ তামসা/ চতুর/ অর্থ পিপাসু/ কম্পিউটার  কবিতার বিষয়: ভয় বিভাগ: ক(কবিতা) তারিখ: ১৬/১২/২০২৪

 পারিজাত সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা:-৩৮০

বিষয়: ভয়/ ঘুড়ি/ তামসা/ চতুর/ অর্থ পিপাসু/ কম্পিউটার 

কবিতার বিষয়: ভয়

বিভাগ: ক(কবিতা)

তারিখ: ১৬/১২/২০২৪

""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""


                        ভয়ার্ত পরিবেশ 

                      জ্যোতিষ চন্দ্র সাউ 


বেশ ছিল পরিবারগুলো একে অপরের সাথে মিলেমিশে,

বিভিন্ন ধর্ম হলেও একই ভাষা, একই সংস্কৃতি, 

ধর্মাচরণ যে যার মতো, অবাধ অংশগ্রহণ,

সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু, কাগজ কলমের হিসাব মাত্র,

একে অপরের দুঃখে পাশে দাঁড়াত, সুখের সাথী হতো,

সহাবস্থানে বিশ্বাসী ছিল তারা, ছিল না হিংসা, দ্বেষ;

পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষ হিসাবে বাস করতো তারা,

মানবতার প্রতীকে, পশুর পরিচয়ে নয়।

ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল এমন একটি জায়গা,

যেখানে বাজতো শুধু শান্তির জয়গান।


ঘটনার সূত্রপাত বিংশ শতাব্দী শুরুর কিছু পর থেকে,

ইংরেজ শাসক যখন বুঝলো আর বেশিদিন নয়,

এবার পাততাড়ি গোটাতে হবে তাদের,

ভাবলো, মরণ কামড় একটা দিয়ে যাওয়া যাক;

ধর্মের বিষ-ধান বপন করতে শুরু করলো তারা,

খুচে দিল নিরপেক্ষ ধর্মের মাটি হিংসার নিড়ানি দিয়ে।

যার ফলশ্রুতি হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা, মারামারি,

এক অবিশ্বাস ও ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়ে গেল,

সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু তত্ত্ব প্রকট হয়ে দেখা দিল,

ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়ে গেল দুই গোষ্ঠী, হিন্দু মুসলমান।


উনিশশো সাতচল্লিশের পঁনেরই আগষ্ট ভাগ হয়ে গেল

বৃহৎ ভারত, 'হিন্দুস্তান', যা রয়ে গেল ভারত নামেই,

'পাকিস্তান', হয়ে উঠলো মুসলমানদের ভরসাস্থল;

তাও আবার দুটি ভাগে, পূর্ব এবং পশ্চিম, লেজ ও মাথা।

কিছু দিন যেতে না যেতেই সব ভরসা বিলীন,

শুরু হয়ে গেল ভাষার ভিত্তিতে আন্দোলন ও নিপীড়ন,

পূর্ব পশ্চিমের লড়াইয়ে ভীত সন্ত্রস্ত পূবের মানুষ জন,

জাত ধর্ম নির্বিশেষে ঢেউয়ের মতো আছড়ে  পড়লো

ভারত সাগরের তীরে, তাদের বুকে তুলে নিল হিন্দুস্থান।

মুজিবের হাত ধরে জন্ম নিল আর এক রাষ্ট্র, 'বাংলাদেশ'।


হায়রে বাংলাদেশ! আবার তোমার উপর হায়নার নজর,

ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রদের মতো কাটাছেঁড়া করছে শরীর,

মৌলবাদী, তালিবানি ফতোয়া জারি সারা দেশে,

নারকীয় অত্যাচার চলছে সংখ্যালঘু মানুষের উপর,

যে ভারতের অংশ ছিল ওরা, যে ভারত এনে দিল

একাত্তরের স্বাধীনতা, যার আর্থিক আনুকুল্য ছাড়া

এক পা-ও নড়ার ক্ষমতা ছিল না জন্মের পর,

তাকে ভাবছে চরম শত্রু, কৃতঘ্নতার কদর্য রূপ।

নিজের পায়ে  কুড়ুল মেরে করছে সর্বনাশ,

কে বোঝাবে,  মত্ত ওরা সংখ্যালঘুর ত্রাস।


সদ্য নোবেল শান্তি পুরস্কার যাঁর পকেটে,

তাঁর রাজত্বে নেই সংখ্যালঘুর অধিকার,

নেই ধর্ম স্থানের সুরক্ষা, ধর্মাচরণের সুযোগ।

আতঙ্ক, ভয়, সন্ত্রাসের আগুন জ্বলছে বাংলাদেশে,

শিশুর চীৎকার, নারীর আর্তনাদ, পুরুষের হাহাকার,

শুনতে কি পাচ্ছো না ইউনুস সরকার?

হিন্দু বলে থাকবে না তার জন্মভূমির অধিকার?

পদের লোভে জলাঞ্জলি দিলে বিবেক, বুদ্ধি , ন্যায়নীতি?

শান্তির দূত হিসাবে সারা বিশ্ব চেনে যাকে,

রাতারাতি জহ্লাদ রূপ তার করেছে হতবাক।


***********************************************

পারিজাত সাহিত্য প্রতিযোগিতা  বিষয় -  ভয়/ঘুড়ি/তামাশা/চতুর/অর্থ পিপাসু/কম্পিউটার বিভাগ - কবিতা ,পর্ব - ৩৮০ শিরোনাম - মৃত্যুর পারে  কলমে - আরতী ব্যানার্জী  তারিখ - ১৪/১২/২০২৪

 পারিজাত সাহিত্য প্রতিযোগিতা 

বিষয় -  ভয়/ঘুড়ি/তামাশা/চতুর/অর্থ পিপাসু/কম্পিউটার

বিভাগ - কবিতা ,পর্ব - ৩৮০

শিরোনাম - মৃত্যুর পারে 

কলমে - আরতী ব্যানার্জী 

তারিখ - ১৪/১২/২০২৪


ছেড়ে যেতে ইচ্ছে না করলেও ছেড়ে যেতে হয়

ক্ষণস্থায়ী জীবন 

একটু একটু করে ছাড়তে ছাড়তে

দেহটাকেও যে ছাড়তে হয় বুঝতে 

চায়না মন,

মায়া মোহ দিয়ে প্রাণপণে যতই আগলে ধরি 

ততই বিদায় ঘণ্টা দূর থেকে শুনতে পাই যেন

হাহাকারের অন্তিম মুহূর্তের সন্ধিক্ষণ 

অদৃশ্য হাতছানিতে কাছে টেনে নেয়,

মায়াবিনীর মতো শিয়রে শমন হাসে

কখন করবে সমাপন করাল গ্রাসে।


সজ্ঞানে চেষ্টা নেই মৃত্যুকে জানার 

শুধু ভয় আর ভয়!

হুড়কো লাগিয়ে দিলে বুঝি কেউ টের পাবে না,

বোধবুদ্ধি লুপ্ত হতে হতে মরীচিকার মতো তৃষিত

অবকাশ নেই পিছন ফিরে একবার 

শুধু একবার নিজের কর্মকে দেখার!

জীব ভেসে চলে অজ্ঞানের প্রেত সায়রে-

এর শেষ কোথায় কোন সুদূরে --!!

টাকা না মনুষ্যত্ব কোনটা দামি কোনটা জীবনকে

বয়ে নিয়ে যাবে সেই সত্য দর্শনের 

জীবনচক্রের নিশ্চিত মৃত্যুর পারে?


এর উত্তরও আছে! 

ভোরের কুয়াশা সরিয়ে হঠাৎই যখন জ্বলে ওঠে জ্যোতির্ময়-

জ্ঞানআকাশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে 

প্রতিটি মুহূর্তের চির সাক্ষীস্বরূপ সত্তাখানি 

চোরকুঠুরিতে আবদ্ধ থাকা অনুভূতি তখন প্লাবিত হয় জোয়ারে।

ঠিক তখনই সেই মায়ার বেষ্টনী ভেদ করে 

জীব পেতে চায় অনন্তের মধুর স্পর্শখানি,

হ্যাঁ, তখনি সে ক্ষুদ্র গণ্ডির বাইরে এসে

দেখতে পায় সেই অসীম আকাশ

আনন্দের সঙ্গী হয়ে চলে যেতে পারে মৃত্যুর পারে!

পারিজাত সাহিত্য প্রতিযোগিতা পর্ব ৩৮০ বিভাগ - গল্প বিষয় - ভয় গল্প - পুরীতে প্রেতাত্মা  গল্পকার - শিলাবৃষ্টি  তারিখ - ১০/১২/২৪

 পারিজাত সাহিত্য প্রতিযোগিতা পর্ব ৩৮০

বিভাগ - গল্প

বিষয় - ভয়

গল্প - পুরীতে প্রেতাত্মা 

গল্পকার - শিলাবৃষ্টি 

তারিখ - ১০/১২/২৪


তখন আমার ক্লাস নাইন। পুরী যাব প্রথম বার,  ভীষণ উত্তেজনা। মাসীমণিরাও যাবে। জগন্নাথ এক্সপ্রেসে টিকিট কাটা হয়েছে। কয়েকদিন আগে থেকেই গোছগাছ শুরু করে দিয়েছি। অবশেষে যাওয়ার দিন এসে গেল,  আমরা ট্রেনে খুব মজা করতে করতে ভোর বেলায় পুরী পৌঁছে গেলাম। একজন পাণ্ডার সাথে মেসোর আলাপ ছিল, সেই পাণ্ডাই আমাদের স্টেশনে এসে রিসিভ করে নিয়ে গেল! অটোয় উঠে সমুদ্র দেখতে দেখতে আমরা 

হোটেলে গেলাম।  সমুদ্রের কাছেই আমাদের হোটেল।  নাম সোনালী। দোতালায় দুটো বড় বড় রুম আমাদের জন্য খুলে দিল।  ঝাঁ চকচকে নতুন হোটেল না হলেও,  বেশ আভিজাত্যে মোড়া। আমার তো খুব পছন্দ হয়ে গেল!  

ব্যাগপত্র রেখে আমরা সীবিচে চলে গেলাম। কচুরি, ঘুগনী,  চা দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারা হলো। মাসীর মেয়ে ফুচুদি আমার থেকে তিন বছরের বড়ো।  ফুচুদি আর আমি সমুদ্র স্নানে নেমে পড়লাম। বাবা মা মাসী মেসো সবাই নামলো।  তবে আমার আর ফুচুদির 

আনন্দটা যেন সবাইকে ছাপিয়ে গেল। 

হোটেলে ফিরে চেঞ্জ করে খেতে গেলাম বিখ্যাত মাসীর হোটেলে। ভীষণ ক্লান্ত লাগছিল,  তাই সারা দুপুর ঘুমালাম আমরা। সন্ধের দিকে বীচে গেলাম, একের পর এক এটা ওটা খাওয়া চলতে লাগলো। অবশেষে ডিনার সেরে সোনালী হোটেলে ফিরলাম। 

এতক্ষণে আমরা খেয়াল করলাম হোটেলে আমরা ছাড়া আর তেমন কেউ নেই!  ফুচুদিই বললো ~" একটা জিনিস নোটিশ করেছ তোমরা? পুরীতে এত ভিড়,  অথচ এই হোটেলে আমরা ছাড়া কেউই নেই বোধহয়!" 

হ্যাঁ তাইতো সকাল থেকে এতবার বেরোলাম ফিরলাম,  তেমন কারো সাথেই দেখা হয়নি!  শুধু ম্যানেজার বা হোটেলে কাজ করা দু একটা লোক ছাড়া!

যাইহোক আমরা ফ্রেস হয়ে গা এলিয়ে দিলাম বিছানায়। ফুচুদি আর আমি একটা বেডে, আর মা বাবা আরেকটা বেডে। মাসীমণিরা পাশের রুমে। 

গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কে জানে!  

ঘুমটা ভেঙে গেল বাবা মায়ের গলার আওয়াজে।  মা বলছে " তুমি দরজাটা লক করোনি?"

বাবার উত্তর " কেন করবোনা!  দেখো দরজাটা লক আছে এখনো!"

আমি আর ফুচুদিও উঠে বসলাম -

"কি হয়েছে বাপী? "

মা বললো যে মা স্পষ্ট কাউকে রুমের ভেতর চলাফেরা করতে দেখেছে! "কে? কে তুমি?" বলার পরে আর দেখতে পায়নি। বাবারও তখন ঘুম ভেঙে গেছে! 

আমি বললাম " দরজাটা খুলে একবার দেখো।! আবার মায়ের মনের ভুলও হতে পারে!  " মা এ কথা শুনে খুব রেগে গেল। 

বাবা ইতস্তত করছে দেখে আমি আর ফুচুদি রুমের লাইট জ্বেলে দরজা খুলতে এগোলাম। পেছনে বাবা। লম্বা বারান্দার অল্প আলোয় তাকিয়ে দেখলাম আমরা তিনজনেই- টুপি পরা একটা সাহেব গোছের লোক এগিয়ে আসছে পায়ে পায়ে।

কাছাকাছি আসতেই লোডশেডিং হয়ে গেল গেল মানে ঘরের আর বারান্দার আলোগুলো নিভে গেল। কিন্ত সেই সাহেবটার চোখের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা এক অদ্ভুত রশ্মিতে হালকা আলোয় 

ভরে গেল টানা বারান্দাটা। লোকটা বিকট ভাবে হাসতে থাকলো।আর আমরা কাঁপতে থাকলাম। বাবা তাড়াতাড়ি দরজাটা বন্ধ করে দিল। ঘুটঘুটে অন্ধকার ঘরে ফুচুদি মোবাইলের টর্চ জ্বেলে খাটে গিয়ে বসলো।  বাবা আমাকে বললো" এ হোটেলে থাকা যাবেনারে টুলটুল।" আমরা অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকালাম।  "বেশ কয়েকবছর  আগে পেপারে মনে হয় এই সোনালী হোটেলের কথাই পড়েছিলাম! এই হোটেলে নাকি আত্মা ঘুরে বেড়ায়! " শুনে আমরা তো ভয়ে কাঠ। সবাই একটা বেডেই জড়ো হয়ে বসে আছি। এমন সময় কারেণ্ট এলো। মা তাড়াতাড়ি ঘরের বড় আলোগুলো জ্বেলে দিলো। সবাই শুয়ে পড়লাম।  বাবা বললো ভোর হলেই হোটেলের খোঁজে বেরোবে।  আর কয়েক ঘণ্টা এখানে এভাবেই কাটাতে হবে! 

সবাই বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে বা তন্দ্রাচ্ছন্ন!  আমার চোখে কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছেনা।  আবার লোডসেডিং হয়ে  গেল! খানিক বাদে দরজার বাইরে পায়ের আওয়াজ আর ফিসফিসানি শুনতে পেলাম। ভয়ে আমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল,  চোখ খুলতে পারছিলাম না।  তবু অন্ধকারে সাহস করে চোখটা খুলতেই দেখি ফ্যানের সাথে একটা বডি ঝুলছে! রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে আমার গলা থেকে একটা চিৎকার শুধু প্রতিধ্বনিত হলো..., বাবা গো..... 

আর কিছু মনে নেই আমার।  যখন জ্ঞান ফিরলো তখন ভোরের আলো ফুটে গেছে আর আমার চারিদিকে সকলে ভিড় করে আছে।

হোটেল চেঞ্জ করে আমরা আর ওমুখো হইনি। ম্যানেজার বিশ্বাস না করলেও,  পরে আলোচনা প্রসঙ্গে অনেকের কাছেই শুনেছিলাম সোনালী হোটেলে অনেক বছর আগে এক সাহেবকে কেউ খুন করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল ওই ১৬নং রুমেই। তারপর থেকেই মাঝে মাঝে সাহেবের ভুত নাকি ওখানে দেখা যায়!  আর বড় একটা কেউ জেনেশুনে ওই হোটেলে ওঠেনা।

এখনো সেই দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে!!!

কিছু মানুষ আছে, যারা মাঝে মাঝে মেসেজ করে, কেমন আছি জিজ্ঞেস করে, শরীর খারাপ শুনলে ডাক্তার দেখাতে বলে, কোথাও বেড়াতে গিয়েছি শুনলে ফিরে আসার পর খোঁজ নেয়,

 কিছু মানুষ আছে, যারা মাঝে মাঝে মেসেজ করে, কেমন আছি জিজ্ঞেস করে, শরীর খারাপ শুনলে ডাক্তার দেখাতে বলে, কোথাও বেড়াতে গিয়েছি শুনলে ফিরে আসার পর খোঁজ নেয়, কল করলে ব্যস্ত আছি শুনলে পরে কথা বলবো বলে হাসি মুখে ফোন রেখে দেয়, নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়, জন্মদিনের তারিখ মনে রেখে ছোট্ট একটা অভিনন্দন জানায়, হঠাৎ করে কোথাও দেখা হয়ে গেলে হাসি মুখেই  দাঁড়িয়ে যায়, কি সুন্দর করে কথা বলে, কোনো কথা বললে মন দিয়ে শোনে, মুখে যেন সব সময় হাসি লেগেই থাকে.....। 


স্বার্থপরের রুক্ষ পৃথিবীটা এদের জন্যই আজও সুন্দর। এদের বিশেষ চাওয়া নেই, ক্ষতি করার মানসিকতা নেই, প্রতারণার ফাঁদ নেই, ঠকানোর শিক্ষা নেই, হিংসার বিষ নেই, যা আছে সুস্থ সুন্দর এক মানসিকতা। এদের ভালোবাসতে কারণ লাগে না, যোগ্যতা লাগে না, দক্ষতা লাগে না। এরা তো সেই পাহাড়ি বুনো ফুল, বড় অযত্নেও পাহাড়ের গায়ে সুন্দর করে ফুটে থাকে। এদের কখনো ছিঁড়তে নেই।


সংগৃহীত পোস্ট 🌹🌻

দৈ‌নিক ক‌বিতা প্রতি‌যোগিতা ক‌বিতাঃ লাল সবু‌জের পতাকা কল‌মেঃ মোঃ জামাল উ‌দ্দিন তা‌রিখঃ ১৭/১২/২০২৪‌ খ্রিঃ

 দৈ‌নিক ক‌বিতা প্রতি‌যোগিতা

ক‌বিতাঃ লাল সবু‌জের পতাকা

কল‌মেঃ মোঃ জামাল উ‌দ্দিন

তা‌রিখঃ ১৭/১২/২০২৪‌ খ্রিঃ

------------------------------------------------

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

সবুজ ঘা‌সে এক নদী রক্ত।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

সন্তানহারা মা‌য়ের করুন আকু‌তি।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

মা-হারা সন্তা‌নের আর্তনাদ।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

ছে‌লেহারা বাবার করুন কান্না।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

ভাইহারা বো‌নের ‌রোনাজারী।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

স্বামীহারা বিধবার দীর্ঘশ্বাস।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

সম্ভ্রমহারা নারীর অ‌ভিশাপ।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

বিধ্বস্ত নগরীর অ‌ভিশপ্ত ধূ‌লিকনা।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

তোমার আমার ভ‌ক্তি শ্রদ্ধা ভা‌লোবাসা।

লাল সবু‌জের পতাকায় মি‌শে আ‌ছে

এক‌টি মান‌চিত্র, আমার দে‌শের সার্বভৌমত্ব।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা – শামসুর রাহমান

 তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা

– শামসুর রাহমান


তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,

তোমাকে পাওয়ার জন্যে

আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?

আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?


তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,

সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,

সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর।

তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,

শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো

দানবের মত চিৎকার করতে করতে

তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,

ছাত্রাবাস বস্তি উজাড় হলো। রিকয়েললেস রাইফেল

আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।

তুমি আসবে ব’লে, ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম।

তুমি আসবে ব’লে, বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভূর বাস্তুভিটার

ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করলো একটা কুকুর।

তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,

অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিলো পিতামাতার লাশের উপর।


তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে

আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?

আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে এক থুত্থুরে বুড়ো

উদাস দাওয়ায় ব’সে আছেন – তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের

দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।

স্বাধীনতা, তোমার জন্যে

মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে

নড়বড়ে খুঁটি ধ’রে দগ্ধ ঘরের।


স্বাধীনতা, তোমার জন্যে

হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে

বসে আছে পথের ধারে।

তোমার জন্যে,

সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,

কেষ্ট দাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,

মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি,

গাজী গাজী ব’লে নৌকা চালায় উদ্দান ঝড়ে

রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস

এখন পোকার দখলে

আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়ানো

সেই তেজী তরুণ যার পদভারে

একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হ’তে চলেছে –

সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।


পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জলন্ত

ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,

মতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক

এই বাংলায়

তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।


ছবি- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড চলচিত্র হতে

বোম্বেতে বোধহয় গায়ক,সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেববর্মণের মত সম্মান আর কোনও বাঙালি পাননি! কিন্তু মানুষটার মন চিরকাল কলকাতার জন্য ছটফট করত

 বোম্বেতে বোধহয় গায়ক,সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেববর্মণের মত সম্মান আর কোনও বাঙালি পাননি! কিন্তু মানুষটার মন চিরকাল কলকাতার জন্য ছটফট করত। বলতেন দূর যে দেশে গঙ্গা নাই- সেটা আবার দেশ নাকি! যখন ফিল্মিস্তানের কাজ করতেন দুটো করে টাকা পকেটে নিয়ে যেতেন। পরবর্তী কালে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করেছেন তখনও দু'টাকা ও দুই লক্ষ টাকার টাকার মধ্যে বিশেষ প্রভেদ ছিল না। এক মন উদাস করা সন্যাসী গায়ক ও সঙ্গীতজ্ঞ,সংসার ,বিবাহ সবকিছু সামলেও  যাঁর জীবনের প্রথম ও শেষ প্রেম বোধহয় গান!


রাজ পরিবারের ছেলে শচীন দেববর্মণ ,মানুষ হয়েছেন সেই রকম স্টাইলে। সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র, টেনিস খেলতেন কলকাতার সাউথ ক্লাবে। মান্না দে'র কাকা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে গান শিখেছেন পরে ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর গানের প্রথম দিকে দুজনের প্রভাব ছিল। কিন্তু সীমাহীন টান ছিল রবীন্দ্রনাথের গানের প্রতি। এক দিন মেঘলা দুপুর শচীন কর্তা একা একা হারমোনিয়াম নিয়ে গুনগুন করছেন। সেই সময়ে  কাজী নজরুল ইসলাম আসলেন। দরজা থেকে বললেন " আরে মুখটা তো বেশ করেছো শচীন, দাঁড়াও একটা কাগজ পেন্সিল দাও"।  মিনিট পনেরো সময় নিলেন নজরুল ইসলাম লিখে ফেললেন একটা গান। সুর বসাতে ঘন্টা খানেক সময় লাগল। পরদিন রেকর্ডিং হল প্রচণ্ড হিট গান ' মেঘলা নিশি ভোরে,মন যে কেমন করে'।


অন্য একবার-  চিত্র পরিচালক তপন সিংহ বম্বেতে গিয়ে দেখলেন শচীন কর্তা একটা সুর করছেন। তপন সিংহ কে বললেন " শোনো তো একটা গানের সুর করছি - কী রকম লাগছে? লতা গাইবে। শোনালেন বিখ্যাত সেই গান : ' মেঘছায়ে আঁধি রাত'। শচীন দেববর্মণের দরদি কণ্ঠ মল্লার ঘেঁসা সুর। তপন সিংহ বললেন চমৎকার হয়েছে। কর্তা উত্তরে জানালেন" আরে রাম রাম - একি আমার নিজের! সবই রবীন্দ্রনাথের কৃপায়।


বোম্বেতে তপন সিংহ একবার দিলীপকুমার কে কোনও প্রয়োজনে টেলিফোন করে পেলেন না । সায়রাবানু ফোন ধরে  জানালেন দিলীপকুমার হায়দরাবাদ গিয়েছেন পরশু ফিরবেন। প্রায় সাথে সাথেই বললেন দাদা শুনেছেন শচীনদার স্ট্রোক হয়েছে। বম্বে হসপিটালে ভর্তি  শচীন কর্তা।  হাসপাতালে গিয়ে তপন সিংহ দেখলেন শচীন কর্তার বাঁদিক পক্ষঘাতে অচল। করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, বললেন " তপন আর কিছু চাই না - যদি একটু গুনগুন করে গান গাইতে পারতাম"।


কর্তাকে উৎসাহ দিয়ে স্নেহের তপন বললেন নিশ্চয়ই পারবেন। বড়ে গোলাম আলি সাহেব একটা স্ট্রোকের পরেও গান গেয়েছেন। আমি নিজের কানে সেই গান শুনেছি শচীনদা। কিন্তু মৃত্যু বোধহয় চলে নিজের খেয়ালে। বোম্বে থেকে কলকাতায় ফিরেছেন, কিছুদিন পরে তপন সিংহ খবর পেলেন শচীন দেববর্মণ চলে গেছেন না ফেরার দেশে সেদিন ছিল ৩১ অক্টোবর ১৯৭৫ । ভারতের সংগীতের আকাশ থেকে খসে পড়ল উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। বোধহয় শেষ হল সংগীতের একটি অধ্যায়। দেশ হারালো এক কৃতী সন্তানকে।


© ধ্রুবতারাদের খোঁজে


সংগৃহীত পোস্ট

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...