এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫

উত্তরাধিকার আইনে কিছু সচরাচর প্রশ্ন,,,,,,,,,,,,

 

উত্তরাধিকার আইনে কিছু সচরাচর প্রশ্ন

❏ প্রশ্নঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারীর শ্রেণীবিভাগ কিভাবে হয়?

উত্তরঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ৩ শ্রেনীর উত্তরাধিকার আছে। যেমন : অংশীদার, অবশিষ্টাংশ ভোগী, দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ।

❏ প্রশ্নঃ অংশীদার কারা?

উত্তরঃ যে উত্তরাধিকারীদের অংশ কোরআনে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তারাই অংশীদার।

❏ প্রশ্নঃ অবশিষ্টাংশভোগী কারা?

উত্তরঃ কোরআনে নির্দিষ্ট অংশীদারদের সম্পত্তি বন্টনের পর মৃতের সাথে যাদের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে এবং অবশিষ্ট সম্পত্তিতে যাদের অধিকার রয়েছে তারাই অবশিষ্টাংশ ভোগী।

❏ প্রশ্নঃ দূরবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে কারা সম্পত্তি পাবে?

উত্তরঃ যাদের সাথে মৃতের রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু তারা অংশীদার বা অবশিষ্টাংশভোগী নয় তারাই মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ। যদি মৃতের অংশীদার এবং অবশিষ্টাংশ ভোগী উত্তরাধিকার না থাকে তাহলেই কেবল মৃতের দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ সম্পত্তি পাবেন।

❏ প্রশ্নঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী আমি কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার?

উত্তরঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে ৩ শ্রেণীর মধ্যে অংশীদারগণই প্রধান উত্তরাধিকার। কোরআনে নির্ধারিত অংশ তাদেরকে দেয়ার পর যদি সম্পত্তি থাকে তবে তা অন্যদের মধ্যে বন্টন করতে হবে অর্থাৎ অংশীদারগণ সকল উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অগ্রাধিকার পান। অংশীদারগণের মধ্যে স্ত্রী অন্যতম। উল্লেখ্য, স্বামীর অবর্তমানে স্ত্রী এবং স্ত্রীর অবর্তমানে স্বামী সম্পত্তি পাবেন।

❏ প্রশ্নঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে আর কে কে অংশীদার আছেন?

উত্তরঃ মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মোট ১২ জন অংশীদার আছেন। তাদের ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী, কন্যাসহ অন্যরা হলেন-দাদা, পুত্রের কন্যা, দাদী বা নানী, আপন বোন, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় ভাই, বৈপিত্রেয় বোন।

❏ প্রশ্নঃ ছেলে মৃত বাবার সম্পত্তি কতটুকু পাবেন?

উত্তরঃ মৃত ব্যক্তির ছেলে / ছেলেরা সকল ক্ষেত্রেই সম্পত্তি লাভ করবেন।nযেক্ষেত্রে মৃতব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে বর্তমান সেক্ষেত্রে ছেলে/ ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের দ্বিগুন সম্পত্তি পাবেন। মৃতব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা, মাতা, স্বামী/ স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে পাবে।

❏ প্রশ্নঃ মেয়ে মৃত বাবার সম্পত্তি কতটুকু পাবেন?

উত্তরঃ উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মেয়ে তিনভাবে সম্পত্তি পেতে পারেন- ক. একজন কন্যার অংশ দুইভাগের একভাগ (১/২) খ. একাধিক মেয়ে হলে সকলে মিলে সমানভাবে তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) পাবে। গ. যদি পুত্র থাকে তবে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির অনুপাত হবে ২:১ অর্থাৎ এক মেয়ে এক ছেলের অর্ধেক অংশ পাবে।

❏ প্রশ্নঃ স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তি কতটা পাবেন?

উত্তরঃ স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তি দুইভাবে পাবেন- ক. সন্তান বা সন্তানের সন্তান থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির চারভাগের একভাগ (১/৪) পাবেন। খ. যদি সন্তান বা সন্তানের সন্তান, যত নিম্নের হউক, না থাকে তাহলে স্বামী মোট সম্পত্তির দুই ভাগের এক ভাগ (১/২) পাবেন।

❏ প্রশ্নঃ স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি কতটা পাবেন?

উত্তরঃ স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দুইভাবে পাবেন- ক. সন্তান বা পুত্রের সন্তান, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পাবেন।

খ. যদি সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পাবেন। এখানে উল্লেখ্য, যদি মৃতের একাদিক স্ত্রী থাকেন তাহলে কোরআনে বর্ণিত অংশ স্ত্রীদের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ হবে।

❏ প্রশ্নঃ একজন মুসলিম নারী বা পুরুষকে কি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য ত্যাজ্য করা যায়?

উত্তরঃ না, একজন মুসলিম নারী বা পুরুষকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা বা ত্যাজ্য ঘোষণা করা যায় না।

❏ প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তির ছেলে না থাকলে মেয়ে কি সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবে?

উত্তরঃ না, যদি মেয়ে সন্তান একজন হয় তবে মৃত ব্যক্তির মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাবে (১/২), একাধিক মেয়ে হলে মোট সম্পত্তির তিন ভাগের দুই (২/৩) ভাগ পাবে। তবে যদি মৃতব্যক্তি জীবিত অবস্থায় মেয়েকে বা মেয়েদেরকে সম্পূর্ণ সম্পত্তি দান করে যায় তাহলে মেয়েরা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবে।

❏ প্রশ্নঃ মেয়েরা কি মায়ের সম্পত্তি ছেলের চাইতে বেশি পায়?

উত্তরঃ না, মেয়েরা সবসময়ই ছেলের চাইতে অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তি মা বা বাবা যেই হোক না কেন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একজন পুত্র, একজন কন্যার দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে।

❏ প্রশ্নঃ সৎ ছেলে মেয়েরা কি বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাবেন?

উত্তরঃ না, কোন সৎ ছেলে-মেয়ে, সৎ বাবা-মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন না। এমন কি সৎ বাবা-মাও সৎ ছেলে মেয়ের সম্পত্তির উত্তররাধিকারী হবেন না।

❏ প্রশ্নঃ মৃতের বাবা কতটা সম্পত্তি পায়?

উত্তরঃ মৃত ব্যক্তির পিতা উত্তরাধিকার লাভে তিন অবস্থায় পড়তে পারেন-

ক. মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে বাবা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন।

খ. পুত্র, পুত্রের পুত্র না থাকলে কিন্তু কন্যা, পুত্রের কন্যা থাকলে ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন এবং তাদের দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তাও পাবেন। গ. মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে অন্যান্য অংশীদারদের দেয়ার পর বাকী সমস্ত সম্পত্তি পিতা পাবেন।

❏ প্রশ্নঃ মৃতের মাতা কতটা সম্পত্তি পায়?

উত্তরঃ মৃত ব্যক্তির মাতা তিনভাবে উত্তরাধিকার লাভ করতে পারেন-

ক. মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন।

খ. কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকলে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পাবেন।

গ. কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকলে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকলে এবং যদি মৃত ব্যক্তি স্বামী বা স্ত্রী হয়, তবে তার স্বামী বা স্ত্রী, মাতা ও পিতা উত্তরাধিকারী হলে সেই স্বামী বা স্ত্রীর অংশ বাদ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) মাতা পাবেন। মৃত ব্যক্তির এক ভাই থাকলেও মাতা (১/৩) অংশ পাবেন।


হিন্দু উত্তরাধিকার আইন,,,,,,

 

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন

হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দুধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

দায়ভাগ উত্তরাধিকার আইনে অধিকার ভোগীদের তালিকা

দায়ভাগ স্কুলকে বেঙ্গল স্কুল বলা হয়। দায়ভাগ আইনে একজন হিন্দু তার প্রাপ্ত পৈত্রিক সম্পত্তিতে এবং স্বীয় পরিশ্রমে অর্জিত স্ব-উপার্জিত ভিন্ন সম্পত্তিতে পূর্ণ স্বত্বাধিকারী অর্থাত্ তার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। জীবিত অবস্থায় সে তার সর্বপ্রকার সম্পত্তি যে কোন প্রকারে হস্তান্তর করতে পারে। তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা তার ত্যক্ত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার সূত্রে উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে। দায়ভাগ আইনে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয় তা মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণে আধ্যাত্নিক নীতি অর্থাত্ মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের উদ্দেশ্যে তার পাবণা শ্রাদ্ধে পিন্ডদানের নীতি। শাস্ত্র অনুসারে মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিন্ডদানের (অর্থাত্ পূজো করতে সক্ষম) অধিকারী সে সপিন্ড। সপিন্ডই মৃত ব্যক্তির ত্যক্ত সম্পত্তির অধিকারী।

আধ্যাত্নিক সুবিধা অর্পণের যোগ্যতার উপরেই দায়ভাগ মতবাদের উত্তরাধিকার নীতি প্রতিষ্ঠিত। পাবণ শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হল আধ্যাত্নিক সুবিধানীতির ভিত্তি। এই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠান পালনকারী তার মৃত পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তিন ধরনের অঞ্জলি দিয়ে থাকে; যথা

(১) পিন্ড বা একটি সম্পূর্ণ কেক যাকে বলে অবিভক্ত অঞ্জলি এবং

(২) পিন্ড লেপা বা পিন্ডের টুকরা টুকরা অংশ যা পিন্ড তৈরীর সময় হাতে লেপে থাকে তাকে বলে বিভক্তি অঞ্জলি এবং

(৩) মৃত পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে জল অঞ্জলি অতি প্রাচীনকালে আতপ চাউল, দুধ, কলা, মিষ্টি ইত্যাদি একত্রে মেখে আমন্ত্রিত আত্মাদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হত এবং একেই বলে পিন্ড দান। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন মৃত ব্যক্তিসহ উর্দ্ধতন তিন পুরুষদের আত্নাগন এই পিন্ড গ্রহণ করেন এবং তৃপ্ত হন। দায়ভাগ আইন অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির তিন শ্রেণীর উত্তরাধিকারী, যথা-

(১) সপিন্ড, (২) সাকুল্য ও (৩) সমানোদক।

১) সপিন্ড: যে সব ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের উদ্দেশ্যে তার শ্রাদ্ধে পিন্ডদান করে এবং মৃত ব্যক্তির জীবিতকালে যে সকল ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের উদ্দেশ্যে পিন্ডদান করতে বাধ্য, তারা সবাই পরস্পরের সপিন্ড।

২) সাকুল্য: যে সব আত্নীয় মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্বের সময় পিন্ডে পিন্ডলেপ প্রদান করে তারা মৃত ব্যক্তির সাকুল্য।

৩) সমানোদক: যে সকল আত্নীয় মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্বে পিন্ডে পিন্ডজল প্রদান করে তারা মৃত ব্যক্তির সমানোদক৷ সংক্ষেপে যে ব্যক্তি পিন্ডদান করে, যে ব্যক্তি পিন্ড গ্রহণ করে এবং যে ব্যক্তি পিন্ডদানে অংশগ্রহণ করে, তারা সকলেই পরস্পরের সপিন্ড। সপিন্ডরা সবাই মৃত ব্যক্তির সগোত্র নয়, তারা ভিন্ন গোত্র আত্নীয় হতে পারে। যেমন কন্যার পুত্র। সপিন্ড সাকুল্যের আগে এবং সাকুল্য সমানোদকের আগে মৃত ব্যক্তির ত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।


মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের ৬ জন কোন অবস্থায়ই উত্তরাধিকার হতে বাদ যায় না,,,,,,

 

মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিচের ৬ জন কোন অবস্থায়ই উত্তরাধিকার হতে বাদ যায় না

১) বাবা?

ক.মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র থাকলে বাবা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন।

খ.পুত্র, পুত্রের পুত্র না থাকলে কিন্তু কন্যা, পুত্রের কন্যা থাকলে ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন এবং তাদের দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তাও পাবেন।

গ. মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে অন্যান্য অংশীদারদের দেয়ার পর বাকী সমস্ত সম্পত্তি পিতা পাবেন।

২) মাতা?

ক. মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান থাকলে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন।

খ. কোন সন্তান না থাকলে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পাবেন।

৩) স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তি কতটা পাবেন?

ক. সন্তান থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির চারভাগের একভাগ (১/৪) পাবেন।

খ. যদি সন্তান না থাকে তাহলে স্বামী মোট সম্পত্তির দুই ভাগের এক ভাগ (১/২) পাবেন।

৪) স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি কতটা পাবেন?

ক. সন্তান থাকলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পাবেন।

খ. যদি সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পাবেন।

গ. যদি মৃতের একাদিক স্ত্রী থাকেন তাহলে কোরআনে বর্ণিত অংশ স্ত্রীদের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ হবে।

৫) ছেলে মৃত বাবার সম্পত্তি কতটুকু পাবেন?

ক. মৃতব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে পাবে।

৬) মেয়ে মৃত বাবার সম্পত্তি কতটুকু পাবেন?

ক. একজন কন্যার অংশ দুইভাগের একভাগ (১/২)

খ. একাধিক মেয়ে হলে সকলে মিলে সমানভাবে তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) পাবে।

গ. যদি পুত্র থাকে তবে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির অনুপাত হবে ২:১ অর্থাৎ এক মেয়ে এক ছেলের অর্ধেক অংশ পাবে।


মুসলিম আইনে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারীরা কে কিভাবে পাবেন?

 

মুসলিম আইনে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারীরা কে কিভাবে পাবেন?

❏ অংশীদারগণ (Sharers):

যে ওয়ারিশেরা মিরাস যোগ্য সম্পত্তি পাওয়ার অধিকারী তারাই অংশীদার। তাদের তালিকা এবং মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তাদের স্ব স্ব পরিমাণ অংশ কুরআনে আল্লাহপাক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এ জন্য এদেরকে জুল কুরআন বা কুরানী ওয়ারিশ বলা হয়। মূলত কোরআনের নির্দেশ, হাদিসের ব্যাখ্যায় এবং ইজমার সমর্থনে তাদের অংশ নির্ধারিত হয়েছে।

অন্য সবার উপর তাদের অবস্থান হলেও তারা কোন সুবিধাভোগী শ্রেণী নয়; কারণ তারা খুবই ছোট বা সামান্য অংশ পেয়ে থাকেন। এই অংশীদারদের সংখ্যা ১২ জন; এরা বিবাহ সিদ্ব জাত এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়। তার মধ্যে চারজন পুরুষ এবং আটজন মহিলা। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে অন্য সব উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অগ্রাধিকার পান এবং তাদের অংশ রেখে পরে অন্যান্যদেরকে সম্পত্তি প্রদান করা হয়।

পুরুষ চার জন হলো:

১) পিতা ২) দাদা বা তদুর্ধ ৩) স্বামী ৪) বৈপিত্রেয় ভাই

মহিলা আটজন হলো:

১) স্ত্রী ২) মাতা ৩) কন্যা ৪) সহোদরা বোন ৫) বৈমাত্রেয়া বোন ৬) বৈপিত্রেয়া বোন ৭) কন্যা ও ৮) দাদী তাদের মধ্যে পিতা, স্বামী, মাতা, কন্যা ও স্ত্রী এই পাঁচজন কখনো উত্তরাধিকার থেকে কখনো বঞ্চিত হয়না। তাই তাদেরকে প্রতক্ষ্য অংশীদার বলা হয় এবং বাকীদেরকে পরোক্ষ অংশীদার বলা হয়। কারণ তারা কোন কোন ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয়।

অবশিষ্টাংশ ভোগীগণ (Residuaries):

মৃত ব্যক্তির যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এবং যারা অংশীদারদের নির্দিষ্ট অংশ নেবার পর কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে তা অথবা কোন অংশীদার না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন সমস্ত নিকটবর্তী আত্নীয়রা তালিকায় উল্লেখিত ক্রমানুসারে লাভ করে থাকে। মৃত ব্যক্তির এ সকল নিকটত্নীয়দেরকে অবশিষ্টাংশভোগী বলা হয়। এই অবশিষ্টংশ ভোগীদের কোন নির্দিষ্ট অংশ নাই। অংশীদারদের দেওয়ার পরেই কেবল অবশিষ্ট সম্পত্তি তারা পাবেন, কিন্তু এই অবশিষ্টাংশের পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। যদি কোন অংশীদার না থাকেন, তবে সমস্ত সম্পত্তিই আসাবা বা অংশীদারগণ পাবেন। এ সকল আসাবা বা অবশিষ্টাংশ ভোগীগণকে এগনেটিক ওয়ারিশ ও বলা হয়। কারণ এরা পুরুষ আত্নীয়ের মাধ্যমেই ওয়ারিশ হয়ে থাকে।

মুসলিম আইনে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারীরা কে কিভাবে পাবেন??

একজন মুসলমান যদি মারা যায় তবে তাঁর সম্পত্তি বন্টনের আগে কিছু বিষয়ে তাঁর আত্মীয় স্বজনদের বিশেষ মনোযোগ রাখতে হয় এবং ঐ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই কেবল মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করা যাবে।

একজন মুসলমানের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি ভাগের আগে যা করনীয়ঃ

১) যদি মৃত ব্যক্তির পর্যাপ্ত সম্পত্তি থাকে তবে তাঁর সম্পত্তি থেকে তাঁর দাফন কাফনের ব্যবস্থা করা।

২) মৃত ব্যক্তির কোন প্রকারের ঋণ কিংবা ধার দেনা থাকলে তা ঐ ব্যক্তির সম্পদ থেকে পরিশোধ করারম ব্যবস্থা করা।

৩) মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর দেনমোহোর পরিশোধ হয়েছে কিনা দেখা যদি না হয়ে থাকে তা পরিশোধ করা।

৪) মৃত ব্যক্তি যদি কোন হেবা বা দান কিংবা অসিয়ত করে যান তবে উল্লেখিত সম্পত্তি দান করে দেয়া। এবার যদি উপরের কাজ সমূহ করার পরে মৃত ব্যক্তির কোন সম্পদ-সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে তবে অবশিষ্ট সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারীদের মাঝে বন্টন করতে হবে। তবে বন্টনের ক্ষেত্রে মুসলিম আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ আছে।

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উপর তাঁর উত্তরাধিকারীরা কে কি পরিমাণ অংশ পাবেনঃ

স্বামী:-

স্বামী দুই ভাবে স্ত্রীর উপরে সম্পত্তি পাবে, যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি থাকে তবে স্বামী পাবে এক চতুর্থাংশ। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে স্বামী পাবে অর্ধেক সম্পত্তি।

স্ত্রীঃ

মৃত ব্যক্তির স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দুইভাবে পাবেন-যদি মৃত ব্যক্তির এবং তাঁর স্ত্রীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে তবে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) পাবেন।

যদি মৃত ব্যক্তি এবং তাঁর স্ত্রীর সংসারে কোন সন্তান না থাকে তাহলে স্ত্রী মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) পাবেন।

পুত্রঃ

ছেলেরা মৃতের উপরে সকল ক্ষেত্রেই সম্পত্তি পেয়ে থাকে, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ক্ষেত্রে সকলের অংশ ভাগের পর অবশিষ্ট সকল অংশ ছেলে এবং মেয়ে পাবে।

তবে এই ক্ষেত্রে ছেলে সম্পদে যে পরিমাণ অংশ পায় মেয়েরা সম্পদের উপরে ছেলের অর্ধেক পরিমাণ পাবে। যদি মেয়ে না থাকে তবে বাকী সম্পূর্ণ অংশ ছেলে পাবে।

মেয়েঃ

মুসলিম সম্পত্তি আইন অনুযায়ী একজন মেয়ে ৩ নিয়মে মৃতের সম্পদ পেয়ে থাকে। যদি একজন মেয়ে হয় তবে দুইভাগের একভাগ (১/২) পাবে। যদি একাধিক মেয়ে হয় তবে সবাইকে তিন ভাগের দুই ভাগ (২/৩) দেয়া হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে মেয়ে উভয়েই থাকে তবে ছেলে যে পরিমাণ পাবে মেয়ে তাঁর অর্ধেক পাবে।

বাবাঃ

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি উপর তাঁর বাবা ৩ প্রকারে সম্পত্তি পাবেন, যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র কিংবা আরও নিচে পুত্রের পুত্রের পুত্র যত নিচেই হোক না কেন থাকে তবে মৃত ব্যক্তির পিতা পাবেন সম্পত্তি ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬)।

যদি মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র কিংবা নিন্মগামী পুত্র না থাকে কেবল কন্যা থাকে তবে ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন এবং কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে তাও পাবেন।

যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে তবে বাদ বাকী অংশীদারদের দেয়ার পর সকল সম্পত্তি বাবা পাবেন। মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকলে যদি বাবাও না থাকে তবে তাঁর জীবিত ভাই পাবে, ভাই না থাকলে ভাইয়ের সন্তান পাবে।

মাতাঃ

মৃত ব্যক্তির মা তিন ভাবে সম্পত্তি পাবেন, যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নেরই হউক, থাকলে অথবা যদি পূর্ণ, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন।

যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে এবং যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পাবেন।

যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, যত নিম্নের হউক না থাকে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকে এবং যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) মাতা পাবেন।

মুসলিম আইনের কিছু সাধারণ বিষয়

অনেকেই ভাবেন পিতার সম্পত্তি সন্তানকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করা যায় অর্থাৎ ত্যাজ্য করলে সন্তান সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে, কিন্তু বিষয়টি ঠিক নয় কেউ চাইলে কাউকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে ত্যাজ্য করতে পারবেনা।

অনেক ক্ষেত্রে সৎ ছেলে মেয়ের বিষয়টি আসে, কিন্তু ইসলামে পরিষ্কার বলা আছে সৎ ছেলে মেয়ে কখনোই সৎ বাবা মায়ের সম্পত্তির অংশীদার হবেনা একই সাথে সৎ বাবা মাও সৎ ছেলে মেয়ের সম্পত্তির অংশীদার হবেনা।

ইসলামিক সরিয়া আইনে বলা আছে যদি পিতা বেঁচে থাকতে কোন বিবাহিত সন্তান স্ত্রী এবং সন্তান রেখে মারা যায় তবে ঐ পিতার মৃত্যুর পর পিতার বর্তমানে মৃত সন্তান কোন সম্পত্তি পাবেনা, কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে উত্তরাধিকার সংক্রান- বিধান সংশোধন করে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বিবাহিত মৃত পুত্রের ওয়ারিশরা অংশ পাবে এই বিধান সংযুক্ত করা হয়।


জমি ক্রয়ের পর ক্রেতা-মালিকের করণীয়,,,,,,,,,,

 

জমি ক্রয়ের পর ক্রেতা-মালিকের করণীয়

একজন ক্রেতা হিসেবে আপনি যে জমি ক্রয় করুন না কেন, ঐ জমি ক্রয় করার পর মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নিম্মুক্ত কাজগুলো করতে হবে।

১) জমি রেজিস্ট্রি করার পর ওই জমি পরিমাপপূর্বক সীমানা নির্ধারণ করে পূর্বের মালিকের কাছ থেকে দখল বুঝে নিতে হবে।

২) জমিতে দখল প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তব ব্যবহার তথা চাষাবাদ/ঘরবাড়ি নির্মাণ ইত্যাদি করতে হবে।

৩) সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে মূল দলিল সংগ্রহ করতে হবে। মূল দলিল উত্তোলনে বেশি সময়ের প্রয়োজন হলে সার্টিফায়েড কপি (মূল দলিলের হুবহু নকল) তুলে নিতে পারেন।

৪) সার্টিফায়েড কপি (নকল) প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ওই ক্রয়কৃত জমি আপনার নিজ নামে নামজারি জমা ভাগের জন্য আবেদন করতে ভুলে যাবেন না।

৫) সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারি খতিয়ান অনুমোদন দেয়ার পর নামজারি খতিয়ান, ডিসিআর-এর কপি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে দাখিলার কপি আপনি নিজে সংগ্রহপূর্বক সংরক্ষণ করুন।

৬) মনে রাখবেন, আপনি কষ্টার্জিত অর্থে জমি ক্রয়ের পর ওই জমি আপনার দখলে নিতে ব্যর্থ হলে এবং আপনার নিজ নামে নামজারি (মিউটেশন) করতে বিলম্ব করলে অসাধু ও চতুর জমি বিক্রেতা ঐ জমি আবার অন্যত্র বিক্রয়ের প্রচেষ্টা চালাতে পারে। তাই জমি ক্রয়ের পরপরই ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝে নিন এবং নামজারি করুন।


জমি রেজিষ্ট্রেশনের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতার করণীয়,,,,,,,,

 

জমি রেজিষ্ট্রেশনের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতার করণীয়

(১) ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের নিজের স্বাক্ষর/টিপ সহি যুক্ত ছবি দিবে৷

(২) সম্পত্তির বিবরণসহ মানচিত্র আঁকিয়ে দিতে হবে৷

(৩) সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে মর্মে ক্রেতাকে হলফনামা দিতে হবে৷

(৪) শেষ ২৫ বছর জমিটি কার কার মালিকানায় ছিল তা দাখিল করতে হবে৷

(৫) জমির মূল্য ৫ লাখ টাকার কম হলে রেজিষ্ট্রেশন ফি হবে ৫০০ টাকা, ৫ লাখ হতে ৫০ লাখ টাকা হলে রেজিষ্ট্রেশন ফি ১০০০ টাকা, জমির মূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে রেজিষ্ট্রেশন ফি ২০০০ টাকা৷

(৬) উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির মূল্য যাই হোক রেজিষ্ট্রেশন ফি ১০০ টাকা দিতে হবে৷

(৭) জমি হস্তান্তরের সকল চুক্তি লিখিত হতে হবে এবং রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক৷

(৮) বর্তমানে জমি ক্রয়ের চুক্তি, চুক্তি সম্পাদনের তারিখ হতে ১ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে৷

(৯) সম্পত্তি বিক্রির বাযনা চুক্তিও রেজিষ্ট্র্রেশন করতে হবে, যে বায়না চুক্তিগুলি এখনও রেজিষ্ট্রি করা হয়নি সেগুলি এই আইন বলবত্ হওয়ার পর ৬ মাসের মধ্যে রেজিষ্ট্রি করতে হবে৷

(১০) বন্ধকী জমির ক্ষেত্রে বন্ধক দাতার লিখিত সম্মতি ছাড়া অন্য কারো নিকট বন্ধক রাখা বা বিক্রি করা যাবে না৷

জমি কেনার আগে বা কেনার সময় করণীয়,,,,,,,

 

জমি কেনার আগে বা কেনার সময় করণীয়

কথায় আছে “পয়সা দিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ কিনতে চায় কে?” তাই ভূমি ক্রয়ের সময় সম্ভাব্য সকল যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা অবলম্বন ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। জমি ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতাকে যে প্রধান বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক হতে হবে তা হলো:

১। প্রথমেই প্রস্তাবিত জমিটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে হবে। তাহলেই জমিটির প্রকৃত রূপ বুঝা যাবে যে তা আদৌ ভালো জমি নাকি ডোবা-নালা-পুকুর!

২। সংলগ্ন জমির মালিক বা এলাকাবাসীর নিকট হতে জমির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হবে। এরাই আপনাকে জমির বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারবে।

৩। বিক্রেতার কাছ থেকে তার মালিকানার প্রমাণ স্বরূপ দলিল দস্তাবেজ ও অন্যান্য কাগজপত্রের ফটোকপি চেয়ে নিতে হবে। জমির দলিল, ওয়ারিশ সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), সিএস/ এসএ/ আরএস/ মহানগর/ মিউটেশন পরচা, ডিসিআর, খাজনার দাখিলা ইত্যাদির ফটোকপি সংগ্রহের চেষ্টা করতে হবে। বিক্রেতা এসব কাগজপত্র দিতে গড়িমসি করলে তাকে যতদূর সম্ভব চাপ দিতে হবে। সংগৃহীত কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি তহশীল বা ভূমি অফিসে যেতে হবে। উক্ত অফিসে কর্মরত কাউকে কাগজপত্র গুলো যাচাইয়ের জন্য সহায়তা করতে অনুরোধ করতে পারেন। কোন জমির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য কেবলমাত্র তহশীল অফিস থেকেই পেতে পারেন। অর্থাৎ খাজনার রশিদটি সঠিক কি না, প্রস্তাবিত দাগ খতিয়ানের জমির প্রকৃত মালিক কে, জমিতে কোন সরকারি স্বার্থ (খাস, ভিপি, পরিত্যাক্ত, অধিগ্রহণ বা এ্যাকুইজিশনকৃত, কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ওয়াকফ ইত্যাদি) জড়িত কি না ইত্যাদি বিষয়ে উক্ত অফিসই আপনাকে প্রকৃত তথ্য দিতে পারে।

৪। এসি (ল্যান্ড) অফিস থেকে পূর্ব মালিকের অর্থাৎ বিক্রেতার নামে মিউটেশনের কাগজপত্র (মিউটেশন পরচা, ডিসিআর) সঠিক আছে কি না তা যাচাই করে নিতে হবে। যে জমিটি কিনতে চাচ্ছেন তা বিক্রেতার নামে অবশ্যই মিউটেশন করা থাকতে হবে। বিক্রেতার নামে মিউটেশন না থাকলে জমি রেজিস্ট্রেশন হবে না।

৫। জমিটির কাগজপত্র যাচাইয়ে সন্তুষ্ট হয়ে কেনার বিষয়ে মনস্থির করলে বা বায়না করলে আপনার নাম, ঠিকানা, জমির দাগ-খতিয়ান উল্লেখ করে জমিতে একটি সাইনবোর্ড দিন। একইসাথে পত্রিকায় ছোট আকারের হলেও একটি বিজ্ঞাপন দিন। এতে পরে কোন সমস্যা হলেও আপনি আইনগত সুবিধা পাবেন। তাছাড়া, এই জমির অন্য কোন দাবীদার বা ওয়ারিশ থাকলে, মামলা মোকদ্দমাসহ অন্য কোন সমস্যা থাকলে তা প্রকাশিত হবে এবং আপনি ভবিষ্যতের একটি স্থায়ী ও জটিল সমস্যা থেকে রক্ষা পাবেন। প্রয়োজনে এবং অবস্থা বুঝে আপনার জমি কেনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন।

৬। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে রশিদ নেওয়ার এবং সাক্ষী রাখার চেষ্টা করবেন। যতটা সম্ভব চেক বা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা-পয়সা লেনদেন করবেন।

৭। জমি কেনার ক্ষেত্রে সরাসরি জমির প্রকৃত মালিকের সাথেই আলোচনা করা উচিৎ। মধ্যস্বত্ত্বভোগী বা ভায়া মিডিয়ার মাধ্যমে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া ভাল। এতে যেমন জমির নিষ্কন্টকতার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন, তেমনি দাম-দরের ক্ষেত্রেও প্রতারণার শিকার হতে পারেন।

মনে রাখবেন, জমি কেনার সময় কখনই তাড়াহুড়ো করবেন না। কম দামে কেনার আকর্ষণে ভালভাবে যাচাই না করে জমি কিনতে গিয়ে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারেন।


জমি জমা ক্রয় সংক্রান্ত আইন ও নিয়মাবলী,,,,,,,,

 

জমি জমা ক্রয় সংক্রান্ত আইন ও নিয়মাবলী

আমরা অনেকেই জমি কেনার সময় নানা রকম ভুল করে ফেলি ফলে অনেক আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যাই। বর্তমানে এটা সবার জানা প্রয়োজন যে জমি ক্রয় করার সময় কিছু বিবেচ্য বিষয় সতর্কতার সাথে খেয়াল করতে হবে। অনেকেই না জেনে জমি কিনে বিপদে পড়েছেন এইরকম আমি বেশ কিছু মামলা মোকদ্দমা করছি। তাই আমি মূল বিষয় গুলি তুলে ধরলাম।

১) জরিপের মাধ্যমে প্রণীত রেকর্ড অর্থাৎ খতিয়ান ও নকশা যাচাই করতে হবে।

২) জমির তফসিল অর্থাৎ জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর উক্ত দাগে জমির মোট পরিমাণ জানতে হবে।

৩) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সি,এস; এস,এ; আর,এস পর্চা দেখাতে হবে।

৪) বিক্রেতা ক্রয় সুত্রে ভূমির মালিক হয়ে থাকলে তার ক্রয়ের দলিল/ভায়া দলিল রেকর্ডের সঙ্গে মিল করে বিক্রেতার মালিকানা নিশ্চিত হতে হবে।

৫) বিক্রেতা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হলে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান বিক্রেতা বা তিনি যার মাধ্যমে প্রাপ্ত তার নামে অস্তিত্ব (যোগসুত্র) মিলিয়ে দেখতে হবে।

৬) জরিপ চলমান এলাকায় বিক্রেতার নিকট রক্ষিত মাঠ পর্চা যাচাই করে দেখতে হবে। যদি মাঠ পরচার মন্তব্য কলামে কিছু লেখা থাকে যেমন: মন্তব্য কলামে (AD) এভাবে লেখা থাকলে বুঝতে হবে অত্র খতিয়ানের বিরুদ্ধে তসধিক পর্যায়ে আপত্তি আছে। এরূপ জমি ক্রয়ের আগে জরিপ অফিস / ক্যাম্পে গিয়ে উক্ত জমিটির সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে হবে।

৭) উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রেতার শরীকদের সঙ্গে বিক্রেতার সম্পত্তি ভাগাভাগির বণ্টন নামা (ফারায়েজ) দেখে নিতে হবে।

৮) বিক্রেতার নিকট থেকে সংগ্রহিন দলিল, খতিয়ান / পর্চা ইত্যাদি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তলবকারি /স্বত্বলিপি রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

৯) সর্বশেষ নামজারি পর্চা ডি, সি, আর খাজনা দাখিল (রসিদ) যাচাই করে দেখতে হবে। জমির খাজনা বকেয়া থাকলে এবং বকেয়া খাজনাসহ জমি ক্রয় করলে বকেয়া খাজনা পরিশোধের দায় ক্রেতার।

১০) বিবেচ্য জমিটি সার্টিফিকেট মোকদ্দমা ভুক্ত কি না, কখনও নিলাম হয়েছে কি না তা তফসিল অফিস / উপজেলা ভূমি অফিস হতে জেনে নিতে হবে। সার্টিফিকেট মামলা ভুক্ত সম্পত্তি বিক্রয় যোগ্য নয় (সরকারি দাবি আদায় আইন ১৯১৩ এর ৭ ধারা)

১১) বিবেচ্য ভূমি খাস, পরিত্যক্ত / অর্পিত (ভি পি) , অধিগ্রহণকৃত বা অধিগ্রহণের জন্যে নোটিশকৃত কি না তা তফসিল, উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখা থেকে জেনে নিতে হবে।

১২) বিবেচ্য ভূমি কোনো আদালতে মামলা মোকদ্দমা ভুক্ত কি না তা জেনে নিতে হবে। মামলা ভুক্ত জমি কেনা উচিত নয়।

১৩) বিবেচ্য জমিটি সরেজমিনে যাচাই করে এর অবস্থান নক্শার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে এবং দখল সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে বিক্রেতার মালিকানা ও দখল নিশ্চিত হতে হবে।

১৪) সব রেজিস্টারের অফিসে তল্লাশি দিয়ে জমির সর্বশেষ বেচা কেনার তথ্য জেনে নেয়া যেতে পারে।

১৫) প্রস্তাবিত জমিটি ঋণের দায়ে কোন ব্যাংক / সংস্থার নিকট দায়বদ্ধ কি না।

১৬) প্রস্তাবিত জমিতে যাতায়াতের রাস্তা আছে কি না তাও দেখা প্রয়োজন।

১৭) কোনো কোনো এলাকায় জমিতে নানা ধরনের বিধি নিষেধ থাকতে পারে যেমনঃ ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার নিম্নোক্ত মৌজাসমূহের ব্যক্তি মালিকানাধীন বা সরকারি জমিতে শিল্প / কারখানা / ইমারত সহ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, কৃষি, দুগ্ধ ও মৎস্য খামার ইত্যাদি স্থাপন না করার জন্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় ২২/১১/৯৯ ইং তারিখে ১৪/৯৪/৯৮৮ নং স্মারকে একটি পরিপত্র জারি করে। তাই এ সকল বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জমি কেনা উচিত। অতিরিক্ত সতর্কতা ও পরবর্তীতে কোনো ঝামেলা হলে আইনি সহায়তা অর্জনের লক্ষ্যে জমি ক্রয়ের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্যে কমপক্ষে ৩টি জাতীয় দৈনিক লিগ্যাল নোটিশ প্রকাশ করা যেতে পারে।

দলিল সম্পাদন এবং রেজিস্ট্রির জন্যে দাখিলের সময়সীমাঃ

রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৯০৮ এর ২৩ ধারায় বলা হয়েছে যে উক্ত আইনের ২৪, ২৫ ও ২৬ ধারার শর্ত সাপেক্ষে উইল ব্যতীত অন্যান্য সকল দলিল সম্পাদনের তারিখ হতে ৪ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রির জন্যে রেজিস্টারিইং অফিসারের নিকট পেশ করতে হবে। ৪ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে উহা রেজিস্ট্রির জন্যে গ্রহণ করা হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতের কোনো রায় / আদেশ থাকলে এবং উক্ত রায় বিক্রির বিরুদ্ধে কোনো আপিল হলে তা নিষ্পত্তির ৪ মাসের মধ্যে দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্যে দাখিল করতে হবে।



বিভিন্ন প্রকার খতিয়ান চেনার উপায়,,,,,,,,,

 

বিভিন্ন প্রকার খতিয়ান চেনার উপায়

CS খতিয়ান চেনার উপায়ঃ ১. এটা উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে থাকবে, ২. এপিট ওপিট উভয় পৃষ্ঠায় হবে, ৩. প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামে দুইটা ভাগ থাকবে, ৪. সবার উপরে লেখা থাকবে “ বাংলাদেশ ফরম নং ৫৪৬৩” (এটা সব ফরমে একই থাকবে), ৫. অপর পৃষ্ঠায় “উত্তর সীমানা” নামে একটা কলাম থাকবে।

❏ RS খতিয়ান চেনার উপায়ঃ ১. ফরম এর সবার উপরে হাতের ডান পাশে লেখা থাকবে “রেসার্তে নং”, ২. আগে সাধারনত ২ পৃষ্ঠায় হত, এখন এই খতিয়ান ১ পৃষ্ঠায় হয়, ৩. এটাও উপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ভাবে হয়।

❏ SA খতিয়ান চেনার উপায়ঃ ১. এই খতিয়ান সবসময় আড়াআড়ি ভাবে হয়, ২. এইটা সবসময় হাতে লিখা হয়(প্রিন্ট হবেনা), ৩. এই খতিয়ানে সাবেক খতিয়ানের (CS) এবং হাল নম্বরটা থাকবে, ৪. এইটা এক পৃষ্ঠায় হবে।

❏ Mutation খতিয়ান চেনার উপায়ঃ ১. এই খতিয়ানের বাম পাশে হাতে লেখা থাকবে “নামজারি”।

❏ City Survey খতিয়ান চেনার উপায়ঃ ১. এই খতিয়ানে ৯ টা কলাম থাকবে, ২. এতে আরো বলা থাকবে কি ধরনের জমি নিয়ে খতিয়ানটা(যেমনঃ নাল জমি, পুকুর)।


খাস দখলের মামলা কখন করবেন?,,,,,,

 

খাস দখলের মামলা কখন করবেন?

আপনার নিজস্ব এক খন্ড জমি থেকে কেউ অন্যায় ও বেআইনীভাবে আপনাকে বেদখল করে দিল। এখন আপনি এই অন্যায় বেদখলদারকে জমি থেকে সমূলে উচ্ছেদ করে আপনার খাস দখল ফিরে পাওয়ার জন্য কখন মামলা করবেন?

এই মামলাটি করতে হবে জমি থেকে আপনাকে বেদখল করে দেয়ার তারিখ থেকে বার বছরের মধ্যে। এরপর বলা যায় আপনার ২০ বছরের অর্জিত ব্যবহার সিদ্ধ অধিকারে কেউ যদি বাঁধা দান করে তবে আপনার ব্যবহারসিদ্ধ অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বাঁধা দানের দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।

❏ এ আইনটিও একটি উদাহরণ দ্বারা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি:

ধরা যাক, ছগির রাশেদের বাড়ীর পাশ দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে যাওয়া আসা করে। অর্থাৎ ছগির তার বাড়ী থেকে বাইরে যাওয়া এবং বাড়ীতে ঢোকার জন্য ২০ বছর ধরে রাশেদের বাড়ীর এই অংশটিকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে নিজ অধিকারে প্রকাশ্যে শান্তিপূর্ণভাবে রাশেদের পক্ষ থেকে কোন প্রকার প্রতিবাদ বা বাধাহীন অবস্থায় ২০ বছর একটানা নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের ফলে রাশেদের বাড়ির এই অংশটির উপর ছগিরের ব্যবহার করার অধিকার জন্মেছে। কিন্তু ২০ বছর পর হঠাৎ ছগির একদিন দেখে রাশেদ ছগিরের সেই চলাচলের রাস্তাকে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। ছগির জানে রাশেদ এই দীর্ঘদিন পর তার পথ রোধ করতে পারে না। ছগির তার পথাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করতে চাইলে বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে ছগিরকে রাশেদের অন্যায় বাধা দানের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। ছগির যদি ২ বছরের মধ্যে মামলা না করে আর রাশেদ একটানা ২ বছর বাধা কার্যকর রাখতে পারে তবে ছগির তার পথাধিকার হারাবে এবং কাদেরের সে চলাচলের রাস্তায় রাশেদের পূর্ণ অধিকার বর্তাবে। আরো এক ধরনের অধিকার খর্বের বিরুদ্ধে তামাদি মেয়াদ গননা চলতে থাকে। সেটা হচ্ছে-

জবর দখলের অধিকার: এ অধিকার খর্ব করতে মামলা করতে হবে ১২ বছর এবং ৬০ বছরের মধ্যে। বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১২ বছর এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে ৬০ বছর।

যেমন: কাদের বাসেদের এক খন্ড জমিতে বাসেদের জ্ঞাতসারে নিজের মধ্যে জোর করে ভোগ দাবি করে দখল করে চলছে। এভাবে টানা ১২ বছর জোর করে ভোগ দখল অক্ষুন্ন রাখতে পারলে বাসেদের জমিতে কাদেরের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে আর বাসেদের স্বত্ব ক্ষুন্ন হবে। বাসেদ তার জমিতে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে হলে বেদখল হওয়ার ১২ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে। জমিটি যদি সরকারি জমি হয় তবে একটানা ৬০ বছর কাদের জবর দখল করে রাখতে পারলে সে জমিতে তার স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে আর কাদেরকে উচ্ছেদ করতে হলে সরকারকে ৬০ বছরের মধ্যে কাদেরকে উচ্ছেদ এর জন্য মামলা দায়ের করতে হবে।



নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...