এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করার শরয়ী বিধান 

 মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করার শরয়ী বিধান 


অনেক সময় মসজিদে ইমাম সাহেবের সাথে জামাত না পেলে কিছু ভাইকে দেখা যায় তারা দ্বিতীয় জামাত করেন। কখনো তারা নিজে থেকে এটা করেন, কখনোবা তার মতো আরও যারা জামাত ধরতে পারেনি তাদের অনুরোধে করেন। শহরের বড় বড় মসজিদগুলোতে এ চিত্র প্রায়ই দেখা যায়। 


একসময় এর পরিমাণ কম থাকলেও বর্তমানে তা প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায়ই মসজিদে কিছু মুসল্লী দেরি করে আসেন। তারপর নিজেরা কয়েকজন মিলে জামাতে নামায আদায় করেন। অনেকে জিজ্ঞাসা করে থাকেন যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কতটা সঠিক? নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।


যে মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন নিযুক্ত আছে এবং নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে জামাতের সাথে নামায আদায় হয়ে থাকে, সেখানে নির্ধারিত সময়ে মহল্লাবাসীর জামাতের সাথে নামায আদায় সম্পন্ন হওয়ার পর আগত ব্যক্তিদের জন্য দ্বিতীয় জামাত করা মাকরূহ। এ ধরনের মসজিদে নির্ধারিত জামাতেই সকলের শরিক হওয়ার জন্য যত্নবান হওয়া কর্তব্য।


কোনো কারণে যদি কখনো কারো মসজিদের জামাত ছুটে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে একাকী নামায না পড়ে সম্ভব হলে মসজিদের বাইরে বাসা-বাড়ি বা অন্য কোনো স্থানে গিয়ে ভিন্ন জামাত করা উত্তম হবে।


হাদীস শরীফে আছে, হযরত আবু বাকরা রা. বলেন- 


أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَقْبَلَ مِنْ نَوَاحِي الْمَدِينَةِ يُرِيدُ الصَّلَاةَ، فَوَجَدَ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا، فَمَالَ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَجَمَعَ أَهْلَهُ فَصَلَّى بِهِمْ.

ﺭﻭاﻩ اﻟﻄﺒﺮاﻧﻲ ﻓﻲ اﻟﻜﺒﻴﺮ ﻭاﻷﻭﺳﻂ ﻭﺭﺟﺎﻟﻪ ﺛﻘﺎﺕ.


‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) মদীনার উপকণ্ঠ থেকে নামায পড়ার জন্য এসে দেখেন সবাই (জামাতের সাথে মসজিদে) নামায পড়ে ফেলেছে। তখন তিনি ঘরে গিয়ে লোকজন জমা করে তাদের নিয়ে (জামাতের সাথে) নামায পড়ে নেন।’  -আলমুজামুল আওসাত তবারানী, হাদীস: ৪৬১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস: ২১৭৭


আর যদি মসজিদের বাইরে এভাবে জামাত করা সম্ভব না হয় তাহলে একাকী নামায আদায় করে নিবে। মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করবে না। সাহাবায়ে কেরামের সাধারণ আমল এমনটাই ছিল। 


বিশিষ্ট তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বলেন-


كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ إِذَا دَخَلُوا الْمَسْجِدَ وَقَدْ صُلِّيَ فِيهِ صَلَّوْا فُرَادَىٰ


‘নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন এবং দেখতেন যে, সেখানে ইতোমধ্যে নামায আদায় করা হয়ে গেছে, তখন তাঁরা পৃথকভাবে (একাকী) নামায আদায় করতেন।’ -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস: ৭১১১


অবশ্য এক্ষেত্রে যদি প্রথম জামাতের স্থান থেকে সরে মসজিদের কোনো কোণায় বা বারান্দায় কোনোরূপ ডাকাডাকি ও পুনরায় আযান দেওয়া ব্যতীত উপস্থিত কয়েকজন মুসল্লীকে নিয়ে দ্বিতীয় জামাত করে নেওয়া হয় তবে তা কোনো কোনো ফকীহের মতে মাকরূহ হবে না। তবে একে সাধারণ নিয়ম ও অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না।


আর স্টেশন বা সড়কের পাশে অবস্থিত যেসব মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও নিয়মিত মুসল্লী নেই এবং জামাতের জন্য কোনো সময়ও নির্ধারিত নেই। যখন যারা আসে, তারা নিজেরাই জামাত করে নেয়। এ ধরনের মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করতে কোনো অসুবিধা নেই। 


-কিতাবুল আছল ১/১১৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়্যা পৃ. ৯৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৯৫; কিফায়াতুল মুফতী ৩/১৪৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩৬২; ইমদাদুল আহকাম ১/১১১; ইমদাদুল মুফতীন পৃ. ৩০৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৯/৪১৩

Mufti Mosleh Uddin Aljahid 

Mufti Mosleh Uddin Aljahid 

নোয়াখালী বিভাগ  

Imran Nomani HM Hanif Saheb 

#মসজিদে #alexandradaddario 

#FIFA

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ ১৫-০২-২০২৫ খ্রি:। 

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ ১৫-০২-২০২৫ খ্রি:। 


আজকের শিরোনাম:


দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা।


ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের আওতায় না আনতে পারলে দেশের জনগণ অন্তবর্তী সরকারকে ক্ষমা করবে না - দুবাইয়ে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বললেন অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস।


রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ।


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ হাসানের মরদেহ নিয়ে মিছিল - আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি ছাত্রদের।


যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় দেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত - ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করলেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।


রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ হতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির আহ্বান।


করাচিতে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে ত্রি-দেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতলো নিউজিল্যান্ড।

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ১৪-০২-২০২৫ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ১৪-০২-২০২৫ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে যোগদান শেষে আজ দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা।


ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রশাসনকে বিচারের আওতায় না আনতে পারলে দেশের জনগণ অন্তবর্তী সরকারকে ক্ষমা করবে না --- দুবাইয়ে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’কে দেয়া সাক্ষাতকারে বললেন অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস।


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ হাসানের মরদেহ নিয়ে মিছিল --- আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি ছাত্রদের।


যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় দেশে আজ রাতে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত --- ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে এ রাত অতিবাহিত করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।


টঙ্গীর তুরাগ তীরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার তৃতীয় ও শেষ পর্ব।


আজ পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন --- বসন্ত বরণে দেশজুড়ে নানা আয়োজন।


মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হবে --- জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আজ সকালে দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ ১৪-০২-২০২৫ খ্রি:। 

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ ১৪-০২-২০২৫ খ্রি:। 


আজকের শিরোনাম:


দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটের পার্শ্ববৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত   আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাক্ষাৎ - দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার।


বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে ইলন মাস্কের সাথে প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের ভার্চুয়াল বৈঠক।


টঙ্গীর তুরাগতীরে বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্যদিয়ে বিশ্ব ইজতেমার তৃতীয় ও শেষ পর্ব শুরু হয়েছে আজ। 


আজ দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালিত হবে পবিত্র শবে-বরাত। 


বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো দেশে বিশ্ব বেতার দিবস পালিত - গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, বললেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব।


হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক অনুষ্ঠিত।


চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নিতে গতরাতে দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ১৩-০২-২০২৫ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ১৩-০২-২০২৫ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটের পার্শ্ববৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাক্ষাৎ --- দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার।


প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি --- শনিবার থেকে কার্যক্রম শুরু।


গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার --- বিশ্ব বেতার দিবসে বাংলাদেশ বেতারের আলোচনা অনুষ্ঠানে বললেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব।  


যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে সম্মত হামাস।  


এবং আগামীকাল করাচিতে ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মোকাবেলা করবে স্বাগতিক পাকিস্তান।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

 শবে বরাতের নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) হলো পবিত্র শবে বরাত। ফারসি ভাষায় শব অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ মুক্তি। শবে বরাত অর্থ মুক্তির রাত। এই রাতে মহান আল্লাহ মুক্তি ও মাগফিরাতের দুয়ার খুলে দেন। সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। এটি নিঃসন্দেহে বরকতময় রাত। রাতটি শাবান মাসের মধ্যবর্তী হিসেবে হাদিসে এই রাতকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান তথা অর্ধ শাবানের রাত বলা হয়েছে। বিশ্ব মুসলিমবাসীর বিশ্বাস, এ রাতে অসংখ্য বান্দা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও আশীর্বাদ লাভ করে থাকে। এ কারণে এ রজনীকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা ‘নিষ্কৃতি/মুক্তির রজনী’ বলা হয়।


হযরত মোহাম্মদ (সা.) এ রজনী সম্পর্কে বলেছেন, এই রাত্রিতে এবাদতকারীদের গুণাহরাশি আল্লাহ তালা ক্ষমা করে দেন। তবে কেবল আল্লাহর সঙ্গে শিরককারী, সুদখোর, গণক, যাদুকর, কৃপণ, শরাবী, যিনাকারী এবং পিতা-মাতাকে কষ্টদানকারীকে আল্লাহ মাফ করবেন না।

শবে বরাতের নামাজ এবং নিয়ম কানুন


প্রকৃত অর্থে শবে বরাতের নামাজ বলে আলাদা কিছু নেই, যেহেতু এই রাতটি ইবাদত বন্দেগি করে কাটাতে হবে তাই হাদিসেই এই সমাধান দেয়া হয়েছে। আর বিশ্ব মুসলিম এই বিশেষ কিছু ইবাদত পালন করে থাকেন।


সন্ধ্যায়- এই রাতে মাগরিব নামাজের পর হায়াতের বরকত, ঈমানের হেফাযত এবং অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়ার জন্য দুই রাকাত করে মোট ৬ রাকাত নফল নামায পড়া উত্তম। এই ৬ রাকাত নফল নামাজের নিয়ম- প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা এরপর যে কোন একটি সূরা পড়তে হবে। দু’রাকাত নামাজ শেষ করে সূরা ইয়াছিন বা সূরা এখলাছ ২১ বার তিলাওয়াত করতে হবে।


শবে বরাতের নফল নামাজ


দুই রাকাত তহিয়াতুল অজুর নামাজ, নিয়ম- প্রতি রাকাতে আল হামদুলিল্লাহ (সূরা ফাতিহা) পড়ার পর, ১ বার আয়াতুল কুরসি এবং তিন বার ক্বুলহু আল্লাহ (সূরা এখলাছ)। ফজিলত: প্রতি ফোটা পানির বদলে সাতশত নেকী লিখা হবে।


দুই রাকাত নফল নামাজ, নিয়ম- ১ নম্বর নামাজের মত, প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর, ১ বার আয়াতুল কুরসি এবং ১৫ বার করে সূরা এখলাছ, অতঃপর সালাম ফিরানোর পর ১২ বার দুরূদ শরীফ। ফজিলত: রুজিতে বরকত, দুঃখ-কষ্ট হতে মুক্তি লাভ করবে, গুনাহ হতে মাগফিরাতের বকশিস পাওয়া যাবে।


আট রাকাত নফল নামাজ দু’রাকাত করে পড়তে হবে, নিয়ম- প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর, সূরা এখলাছ ৫ বার করে। একই নিয়মে বাকি সব। ফজিলত: গুনাহ থেকে পাক হবে, দু’আ কবুল হবে এবং বেশি বেশি নেকী পাওয়া যাবে।


১২ রাকাত নফল নামাজ দু’রাকাত করে, নিয়ম- প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর, ১০ বার সূরা এখলাছ এবং এই নিয়মে বাকি নামাজ শেষ করে, ১০ বার কালেমা তওহীদ, ১০ বার কলেমা তামজীদ এবং ১০ বার দুরূদ শরীফ।


১৪ রাকাত নফল নামাজ দু’রাকাত করে, নিয়ম- প্রতি রাকাত সূরা ফাতিহার পর যে কোন একটি সূরা পড়ুন। ফজিলত: যে কোনো দু’আ চাইলে তা কবুল হবে।


চার রাকাত নফল নামাজ এক সালামে পড়তে হবে, নিয়ম- প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পর ৫০ বার সূরা এখলাছ শরীফ। ফজিলত: গুনাহ থেকে এমনভাবে পাক হবে যে সদ্য মায়ের গর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হয়েছে।


আট রাকাত নফল নামাজ এক সালামে, নিয়ম- প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১১ বার সূরা এখলাছ শরীফ। ফজিলত: এর ফজিলতে সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, হযরতে সৈয়্যদাতুনা ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহা এরশাদ করেছেন, ‘আমি ওই নামাজ আদায় কারীর সাফায়াত করা ব্যতীত জান্নাতে কদম রাখব না।


রোজার ফজিলত হুজুর সালল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে শাবানে ১ দিন রোজা রেখেছে, তাকে আমার সাফায়াত হবে। আরো একটি হাদিস শরীফে আছে যে, হুজুর সালল্লাহু তালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শাবানের ১৫ তারিখে রোজা রাখবে, তাকে জাহান্নামের আগুন ছোঁবে না। এছাড়াও পড়তে পারেন ‘সালাতুল তাসবীহ এর নামাজ। এই নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে।


রাসূলুল্লাহ সালল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় চাচা হযরত আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুকে এই নামায শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এই নামাজ পড়লে আল্লাহ আয-যাওযাল আপনার আউয়াল আখেরের সগীরা কবীরা জানা অজানা সকল গুণাহ মাফ করে দেবেন।


‘হে চাচা জান! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামাজ পড়বেন। যদি দৈনিক না পারেন, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারা জীবনে একবার হলেও এই নামাজ পড়বেন (তবুও ছাড়বেন না।


শবে বরাতের নামাজের নিয়ত


নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লা-হি তাআ-লা- রাকআতাই ছালা-তি লাইলাতিল বারা-তিন্ -নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কাবাতিশ্ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার।


বাংলায় নিয়ত করলে এই ভাবে করতে পারেন: ‘শবে বরাতের দুই রাকাত নফল নামাজ/ সালাত কিবলামুখী হয়ে পড়ছি, আল্লাহু আকবর’।


সতর্কতা


মনে রাখতে হবে ফরজ নফলের চেয়ে অনেক বড় শবে বরাতের নামাজ। যেহেতু নফল সেহেতু নফল পড়তে পড়তে ফরজ পড়া ভুলে গেলে বা ঘুমের কারণে পড়তে না পারলে কিন্তু সবই শেষ। অর্থাৎ নফল নামাজ পড়ে পড়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন আর এই দিকে ফজরের নামাজ পড়তে পারলেন না। সাবধান এ যেন না হয়। ভাল হয় শবে বরাতের নফল শেষ করে বেতের নামাজ পড়ে এর পর ফজর পড়া। যাই করেন নামাজ পড়েন আর ঘুমান সমস্যা নেই, ঠিক সময় মত উঠে ফজর নামাজ যেন পড়তে পারেন সেই দিকে খেয়াল রাখবেন।

অদ্ভুত_ধর্ষক পর্ব ১ লেখা- নয়ন_আলী_নাঈম

 অমাবস‍্যার গভীর রাত। নিজের স্তনে ঠান্ডা ত্বকের স্পর্শ অনুভব করে নুপুর। হাত পায়া নাড়াতে চেষ্টা করতেই অবাক হয়ে গেলো। তার মনে হচ্ছে যেনো,হাত পায়া ভাড় হয়েছে। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছে না। ঠান্ডা ত্বকের স্পর্শ ধীরে ধীরে তার পুরো শরীরকে গ্রাস করতে থাকে। সে শুধু অনুভব ছাড়া কিছুই করতে পারছেনা। 


চোখ মেলে দেখছে সুদর্শন একজন পুরুষ  তার শরীরের উপড়ে যৌন ক্ষিধায় ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। অন্ধকার রুমে শুধু তার সুন্দর মুখটাই নুপুরের চোখে ভাসছে। শরীর থেকে চমৎকার সুগন্ধ ভেসে আসছে। ঠিক যেনো অমৃতের সুভাস। নুপুর যেনো মুহূর্তেই ভুলে গেলো নিজের সতিত্ব! ধীরে ধীরে তাল মিলাচ্ছে,রেসপন্স দিচ্ছে সুদর্শন পুরুষটাকে। এই প্রথম কোনো পুরুষের ছোয়া পাচ্ছে এবং মোন ভরে উপভোগ করছে। অথচ সে ভেবেও দেখছে না,সে কাকে রেসপন্স দিয়ে সহবাসে লিপ্ত হচ্ছে।  

বেশ ক্ষাণিক পর হঠাৎই উধাও হয়ে গেলো সুদর্শন পুরুষ এবং তার শরীর থেকে ভেসে আসা সুগন্ধ। নুপুর নেতিয়ে পড়ে অনবরত হাপাচ্ছে। কখন যে চোখে ঘুম এসে গেছে নিজেই যানেনা।


দূর মসজিদ থেকে ভোরের আজান ভেসে আসছে। মারমা জাতির হলেও কেনো জানি আজানের ধ্বনি তার অসম্ভব ভালো লাগে। মোন ভড়ে আজান শুনতে প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ‍্যাস গড়ে তুলেছে। 

আজকেও অভ‍্যাসের কারনে ঘুম ভাঙ্গলো! সারা শরীরে ব‍্যাথা করছে। ঠোঁট জোড়া ঝাঝাচ্ছে। বিছানাটা ভেজা ও কড়াকড়া লাগছে। অবাক হয়ে রুমের বাল্বটা জালালো। বিছানার চাদরটা দেখতেই অবাক হয়ে গেলো! চাদরে রক্ত আর সাদা ছিটে ফোটার দাগ লেগে আছে। ততক্ষণাত মনে পড়ে গেলো সুদর্শন পুরুষটার কথা! তবে কেমনে সম্ভব,হয়তো স্বপ্নদোষ হবে? তাতেও দিধা নুপুরের মোনে। কেনো জানি সম্পূর্ণ ঘটনা বাস্তব মনে হচ্ছে। তা হলে সারা শরীরে ব‍্যাথা ক‍্যামনে সবে।

নুপুর এসব ভেবে কোনো কিছুরেই হিসাব মেলাতে পারছে না। আপাতত ওসব বাদ দিয়ে গোসল করে নিতে হবে। তাইতো দ্রুত বিছানা থেকে নেমে রক্তাক্ত চাদরটা নিয়ে গোসল করতে গেলো। শরীরে ব‍্যাথা নিয়ে চারদটা পরিস্কার করে ধুয়ে নিতে থাকে। পাটা'র ন‍্যায় কি বিশ্রি গন্ধ বের হচ্ছে। তবুও নাক চেপে চাদরটা ধুয়ে রুমেই শুকাতে দিলো এবং গোসল শেষে ড্রেস চেন্জ  করে আয়নার সামনে যেতেই দেখলো তার ঠোঁটের কিছু অংশ কেটে গেছে। সুদর্শন পুরুষটা নয়তো?কেমনে এটা হবে,যাষ্ট স্বপ্ন। উফ এসব নিতে পারছি না। সারা শরীর ব‍্যাথা করছে। মাথাটাও ধরেছে খুব আবার কলেজেও আজকে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে। কিন্তু এই ঠোঁট? এই ঠোঁট নিয়ে কেমনে ফ্রেন্ডদের সামনে যাবো! উপায় পাইছি ওড়না দিয়ে মুসলিম মেয়েদের মতো হিজাব পড়বো। 

যেমন ভাবা তেমনি কাজ। ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে পিতামাতার আড়ালে মুখ লুকিয়ে খাবার খেয়ে করেজের দিকে যেতে লাগলো। নুপুরের বাবা হঠাৎ করে মেয়ের অদ্ভুত পরিবর্তন দেখে ভাবতে লাগলো! মেয়েটার কি হয়ে গেলো,হঠ‍্যাৎ করে মুখ ঢেকে খাবার খেয়ে কলেজে যাচ্ছে কেনো। 

কোনো উত্তর মিললো নুপুরের ভাবনার।


কলেজের গেটে দিয়ে ঢোকার পথে বন‍্যার সাথে দেখা হয় নুপুরের। কেমন যেনো উসখো খুসকো লাগছে বন‍্যাকে। চোখে মুখে কালো দাগ পড়েছে সাথে চুলগুলোয় ঝাপটা বেধেছে। 

বন‍্যা নুপুরকে একনজর দেখে ভিতরে প্রবেশ করতেছে। হয়তো নুপুরের মুখটা ঢেকে থাকার কারনে বন‍্যা নুপুরকে চেনেনি। এই ভেবে নুপুর বন‍্যাকে ডাক দিতেই বন‍্যা পিছনে ঘুরে দেখলো ওড়না দিয়ে হিজাব পড়া একটা মেয়ে তার দিকে আসতেছে। নুপুর বন‍্যার কাছে এসে বললো!

"কি হলো চিনতে পারিস নি।

বন‍্যা অবাক হয়ে বললো!

"নুপুর ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে কলেজে আসছিস কেনো? তোকে তো চিনতেই পাড়িনি।

নুপুর কি যেনো ভেবে বললো!এমনিই মন চাইলো এভাবে আসলাম। তবে তোর চেহারার এই অবস্থা কেনো। পাগলিদের মতো উসখো খুসকো হয়ে কলেজে আসছিস।

বন‍্যা কি আমতা আমতা করে বললো!

"তে'তেমন কিছু না। তারাহুরা করে আসছি'তো।

নুপুর লক্ষ্য করলো বন‍্যা তার থেকে কিছু হয়তো লুকাচ্ছে। তখনি বন‍্যার ঘাড়ে দিকে  চোখ পড়তেই দেখলো কামরের চিন্হ। হয়তো কোনো হিংস্র পশু এমন ভাবে কামরিয়েছে। বন‍্যা নুপুরের তাকানো'টা টের পেয়ে চুল দিয়ে দাগটা ডেকে ফেললো। 

বন‍্যার প্রতি নুপুরের ভাবনাটা বেড়ে গেলো। কেননা এই একই কামরের চিন্হ নুপুরের ঠোঁটেও। বন‍্যাকে এই বিষয়ে বলতে যেয়েও কিছুই বললো না। ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করে ক্লাসে গেলো। নুপুরের মুখ ঢেকে নেওয়া নিয়ে ফ্রেন্ডদের হাসি ঢাড্ডা। নুপুর ঠোঁটের দাগটার প্রবলেমে হাসি ঢাড্ডার মাঝেও মুখ থেকে ওড়না সরালো না। 

দুইটা ক্লাস করে মন টিকছে না ক্লাসে,তাই ক্লাস থেকে বেরিয়ে বাসার দিকে যেতে লাগলো। তার মনে হচ্ছে তাকে সঙ্গ দিয়ে কেউ একজন পাশে হাটছে। 

অথচ কেউই নেই তার পাশে। তবে রাতের সুদর্শন পুরুষটার শরীরের সুগন্ধ ভেসে আসছে নাকে!এই সুগন্ধ যেনো পাগল করে তুলতেছে নুপুরকে। রাস্তার কোনো দিকে খেয়াল নেই তার। হঠাৎই চারদিক আবছা অন্ধকার দেখতে লাগলো! চারপাশে মৃদু বাতাস বইছে! ঘন জঙ্গলের ভিতরে নিজেকে আবিস্কার করলো। দূরে একটা পুরোনো বিল্ডিং;ওখান থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় হাত ছানি দিয়ে ডাকছে সুদর্শন পুরুষটা। নুপুরের মনে হচ্ছে যেনো তাকে চুম্বকের ন‍্যায় আকর্ষণ করে পুরুষটা নিজের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ছন্নছাড়া পাগলের মতো করে সে তার দিকে দৌড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরুষটাকে কাছে পেলেই দূর হয়ে যাবে জীবনের সব ক্লান্তি। 

দৌড়াতে দৌড়াতে পুরষটার খুব নিকটে গেলো নুপুর। পুরুষটা নেশা ভড়া চোখে অলতো করে এগিয়ে আসছে তার দিকে। এক  ধাক্কায় অন্ধকার রুমে নিয়ে গেলো তাকে। সাথে সাথেই মুখ আর স্তন দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে নুপুরের।...


চলবে.........


পর্ব ১


অদ্ভুত_ধর্ষক


লেখা- নয়ন_আলী_নাঈম

শিক্ষানীয় গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

  শিক্ষানীয় গল্প 

আমা‌দের দে‌শে খুব কম স্বামীই আছেন যারা ওয়াই‌ফের পি‌রিয়‌ডের সময় তা‌দের প্যাড পা‌ল্টে দেওয়ার ম‌তো ম‌নোভাব পোষন ক‌রেন।


‌সিজা‌রের ঘন্টা দুই কি তিন পর। একজন আয়া এসে সবাই‌কে বল‌‌লেন,

'কে‌বিন থে‌কে বের হোন ‌রোগী‌কে ফ্রেশ কর‌তে হ‌বে।'

আ‌মি তখন যন্ত্রণায় কাতর। তা-ও জি‌জ্ঞেস কর‌লাম,

'কী রকম ফ্রেশ?'

ম‌হিলা বলল,

'প্যাড বদলা‌তে হ‌বে।'


আমি অসহায় চো‌খে তা‌কি‌য়ে বললাম,

'আপ‌নি চেইঞ্জ কর‌বেন?'

'হ্যাঁ।'

আ‌মি বেশ অস্বস্তি বললাম,

'আ‌মি নি‌জে ক‌রে নিব। আপ‌নি প্লিজ চ‌লে যান।'

ম‌হিলা শক্ত ক‌ণ্ঠে বলল,

'আপ‌নি চে‌য়েও এখন নি‌জের পা-ও নাড়া‌তে পার‌বেন না। পাল্টা‌বেন কী ক‌রে? সিজা‌রের পর তো আমিই আপনা‌কে চেইঞ্জ ক‌রে দি‌য়ে‌ছিলাম।'

'আ‌মি সেটা দে‌খি‌নি। আপ‌নি প্লিজ যান। আমি নি‌জে ক‌রে নিব। আমার শরী‌রে অন্য ‌কেউ হাত দি‌লে রাগ লা‌গে। হোক সে মে‌য়ে মানুষ।'


ম‌হিলা কিছু বলতে গে‌লে আজমীর সা‌হেব বল‌লেন,

'আ‌ন্টি, আপ‌নি যান। আমি দেখ‌ছি। ওর কো‌নো কাজ আপনা‌দের কর‌তে হ‌বে না। আমি আছি সারাক্ষণ ওর সা‌থে। ওর সব কাজ আমি করব।'

‌বোঝা গেল মহিলা বেশ বিরক্ত হ‌য়ে চ‌লে গে‌ছি‌লেন আজমীর সা‌হেব দরজা বন্ধ ক‌রে বলল,

'এটা কীভা‌বে পাল্টায় বলে দাও। আমি পা‌ল্টে দি‌চ্ছি।'

আমি প্রচণ্ড লজ্জা পে‌য়ে ব‌লে‌ছিলাম,

'তু‌মি আমা‌কে ধ‌রে দাঁড় করাও, ওয়াশরু‌মে নি‌য়ে চ‌লো। বা‌কিটা আমি করে নিব।'

ভদ্র‌লোক মুচ‌কি হে‌সে বলল,

'চুপ ক‌রে শু‌য়ে থা‌কো।'


‌সে সময় আমা‌কে ফ্রেশ ক‌রি‌য়ে দেওয়ার পর ওকে কিছু বল‌তে পা‌রি‌নি। লজ্জায় ওর দি‌কে তাকা‌‌তেই পারি‌নি। শুধু আস্তে ক‌রে ব‌লে‌ছিলাম,

'‌তে‌ামার ঘৃণা লাগ‌ছে না?'

‌সে তার চিরা‌চরিত দুষ্টু মি‌ষ্টি হা‌সি হাসল। সে সময় তা‌কে কিছু বল‌তে পা‌রি‌নি। প‌রের দুই বা‌রেও বল‌তে পা‌রি‌নি। বিকা‌লে আবার ‌চেইঞ্জ করার পর বলল‌াম,

'‌তোমার স‌ত্যি ঘৃণা লা‌গে না?'


ভদ্র‌লোক আমার পা‌শে ব‌সে মাথাটা আমার বু‌কে রে‌খে অনেকটা শক্ত ক‌রে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে বলল,

'কতক্ষণ পর তোমা‌কে একা পেলাম। সারাক্ষণ তোমার আশেপা‌শে লোকজন মা‌ছির ম‌তো ভিন‌ভিন ক‌রে। যেন তু‌মি আর আমার মে‌য়ে গর‌মের দি‌নের পাকা আম। তার জন্য এতো মা‌ছি ভনভন কর‌ছে। এতো কেন দেখতে হবে? বউ আমার, বাচ্চা আমার অথচ আমি একটু একা তা‌দের পা‌চ্ছি না।'


আ‌মি মৃদু হে‌সে বলে‌ছিলাম,

'আমার প্র‌শ্নের জবাব কিন্তু প‌াই‌নি।'

ভদ্র‌লোক আমার গা‌লে চুমু এঁকে ব‌লে‌ছি‌লেন,

'তু‌মি এতো বছ‌রেও বুঝ‌তে পা‌রো‌নি, আমি তোমা‌কে কতটা ভা‌লোবা‌সি!'

আ‌মি চুপ ক‌রে শুধু তার মাথ‌ায় হাত বুলা‌চ্ছিলাম। কিছু বলার ম‌তো খুঁজে পাই‌নি। সু‌খের কান্নাগু‌লো চোখ বে‌য়ে নিচে পড়ার আগেই আমি আট‌কে দি‌য়ে‌ছিলাম। সে বলেছিল,

'‌‌তোমার এই যন্ত্রণার জন্য তো আমিই দা‌য়ি।'

'কীভা‌বে?'


ফা‌জিল লোক দুষ্ট হে‌সে ব‌লে‌ছি‌লেন,

'মা তো আর একা একা হতে পা‌রে‌া‌নি। আমারও ক‌ন্ট্রি‌বিউশন আছে। জা‌নো কতটা ভ‌য়ে ছিল‌াম। বারবার ম‌নে হ‌চ্ছিল বাবা হ‌তে চাওয়‌াটা ঠিক হয়‌নি। য‌দি তোমা‌কে হা‌রিয়ে ফে‌লি! তোমরা মে‌য়েরা স‌ত্যি অনবদ্য। একটা বাচ্চার জন্য নি‌জের জীবনটার কথাও ভা‌বো না। তোমার প্র‌তি আগে যা সম্মান ছিল, এখন আরও হাজার লক্ষগুণ তা বে‌ড়ে গে‌ছে।'

আ‌মি দীর্ঘশ্বাস ছে‌ড়ে সেই পুড়া‌নো ডায়লগ ব‌লে‌ছিলা,

'তু‌মি কি স‌ত্যি এতোটা ভা‌লো? না‌কি অভিনয় কর‌ছো এতগুলো বছর যাবত?'

‌সে হে‌সে বলে‌ছিল,

'তু‌মি জা‌নো না, আমি ক‌তো বড়ো মা‌পের অভি‌নেতা।'

উক্ত লাইন‌টি আমি তা‌কে প্রায়ই ব‌লি। কারণ সে কাজগু‌লোই এমন ক‌রে। বারবার ভা‌বি, একটা মানুষ স‌ত্যি কী এতটা ভা‌লো হ‌তে পা‌রে?


সে‌দিন সন্ধ্যার পর আমি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে প‌ড়ি। জীবন নি‌য়ে টানাটা‌নি হ‌য়ে‌ছিল। মৃত্যুর মু‌খোমু‌খি ঐ মুহূ‌র্তে আমার মাথায় দু‌টো প্রশ্ন ঘুরপাক খা‌চ্ছিল,

'আ‌মি না থাক‌লে এই পাগলা‌টা নি‌জে‌কে সামলা‌তে পার‌বে তো? আর ভাব‌ছিলাম, আমার সদ্য জন্ম নেওয়া মে‌য়ের কথা।'


‌সে‌দিন তার পাগলা‌মির গল্প না হয় আরেক‌দিন বলব।

আজমীর সা‌হে‌বকে য‌ত জে‌নেছি, তত তার প্র‌তি মুগ্ধ হ‌য়ে‌ছি, আকৃষ্ট হ‌য়ে‌ছি। তত সম্মান, শ্রদ্ধা বে‌ড়ে‌ছে তার প্র‌তি। সৃ‌ষ্টিকর্তার কা‌ছে প্রার্থণা আমার ভদ্রলোকটা সবসময় খুব ভা‌লো থাকুক। আমার লেখায় পোস্টগুলো কখনো যদি ভুল হয় তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই প্লিজ। 


____________________সমাপ্ত______________________

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

রহস্যময় ভালোবাসা: পুনর্জন্মের অভিশাপ

 ⭕⭕ রহস্যময় ভালোবাসা: পুনর্জন্মের অভিশাপ ⭕⭕


রাহুলের মনে পড়ল সেই রাতের কথা—যখন সে নীলার অনুরোধে অভিশপ্ত আয়নাটি ভেঙে ফেলেছিল। তার মনে হয়েছিল, সে হয়তো নীলাকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু সবকিছু এত সহজে শেষ হতে পারে?


পরদিন সকালে, সে পাশের বাড়ির দিকে তাকাল। বাড়িটি আবার আগের মতোই নীরব, ধূলিধূসর। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছিল, কিছু একটা ঠিক নেই। রাতের স্মৃতিগুলো তার মাথায় ঝড়ের মতো ঘুরপাক খাচ্ছিল।তারপরই অদ্ভুত ঘটনা শুরু হলো।


প্রথমে খুব সামান্য। গভীর রাতে, তার ঘরের জানালার কাঁচে অদ্ভুত একটা ছাপ পড়তে লাগল—ঠিক যেন কোনো নারীর হাতের স্পর্শ। বাতাসে মাঝে মাঝে ভেসে আসত মিষ্টি, কিন্তু কিছুটা পোড়া গন্ধ। রাহুল যখনই আয়নার সামনে দাঁড়াত, মনে হতো যেন তার পাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।


কিন্তু এক রাতে, যখন সে অন্ধকার ঘরে শুয়ে ছিল, তখন তার দরজায় এক ধীর অথচ জোরালো শব্দ হলো—ঠকঠক... ঠকঠক...


সে উঠে দরজা খুলতেই দেখল, কেবল অন্ধকার। ঠান্ডা বাতাস ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ল, তার সারা শরীর শীতল হয়ে গেল।


হঠাৎ তার ঘরের আয়নার সামনে একটা ছায়া দেখা গেল। ধীরে ধীরে ছায়াটা পরিষ্কার হতে লাগল—নীলা!কিন্তু এটি সেই নীলা নয়, যাকে রাহুল চিনত।


তার চোখদুটি এখন সম্পূর্ণ কালো, মুখে কোনো আবেগ নেই, আর শরীর যেন কুয়াশার মতো ধীরে ধীরে দুলছে।"তুমি... তুমি কি মুক্ত হলে না?" রাহুল কাঁপা কণ্ঠে বলল।


নীলা ধীরে ধীরে এগিয়ে এল, ফিসফিস করে বলল, "আমি মুক্ত হয়েছি... কিন্তু ওরা নয়!"


রাহুল হতবাক হয়ে গেল। "ওরা? কারা?"নীলা হঠাৎ দরজার দিকে তাকাল। ঘরের বাতিগুলো একে একে নিভে গেল। বাতাস ভারী হয়ে উঠল, যেন চারপাশের সব কিছু থমকে গেছে। তারপর একটা শীতল কণ্ঠ শোনা গেল—"আমরা মুক্তি চাই... আমরা মুক্তি চাই..."


রাহুলের পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল। সে দেখল, তার ঘরের আয়নাটার ভেতর ধীরে ধীরে কিছু অস্পষ্ট মুখ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে—বিভৎস, মৃত, কালো চোখের শূন্যতা নিয়ে।


নীলা বলল, "এই আয়নাটাই আসল অভিশপ্ত বস্তু, রাহুল। তুমি যেটা ভেঙেছিলে, সেটা ছিল প্রতিচ্ছবি মাত্র। আসল আয়নাটা এখানেই ছিল—তোমার নিজের ঘরে।"


রাহুল দৌড়ে দরজার দিকে যেতে চাইল, কিন্তু দরজাটা কিছুতেই খুলছিল না! তার মাথার ওপর বাতিটা বিকট শব্দে ফেটে গেল, ঘরের চারপাশে ছায়াগুলো আরও গাঢ় হয়ে উঠল।


"তোমাকে এটা শেষ করতে হবে, রাহুল। নাহলে আমরাও মুক্তি পাব না, আর তুমিও নয়।" নীলার কণ্ঠ আগের মতো কোমল ছিল না, যেন এক বিষাদময় অভিশাপের ধ্বনি।


রাহুল জানত, যদি সে এবার ব্যর্থ হয়, তাহলে এই অভিশাপ চিরতরে তার জীবনের অংশ হয়ে যাবে।


রাহুল ধীরে ধীরে আয়নার সামনে দাঁড়াল। ভেতরের ছায়াগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, তাদের মুখগুলো এখন স্পষ্ট—নীলার বাবা, মা, ছোট ভাই, এবং আরও অনেক অপরিচিত মুখ।"তারা সবাই অভিশপ্ত?"


নীলা মাথা ঝাঁকালো, তার চোখে জল চিকচিক করছিল। "ওরা সবাই এই আয়নার দ্বারা বন্দী। একমাত্র এটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারলেই ওরা মুক্তি পাবে। কিন্তু...""কিন্তু কী?"


"একজনকে এই অভিশাপ নিজের শরীরে ধারণ করতে হবে, নাহলে আয়না শেষ হবে না। কেউ না কেউ এর মূল্য দেবে।"


রাহুল জানত, সে যদি এই আয়নাটা ধ্বংস করে, তাহলে হয়তো নিজেই সেই অভিশাপের শিকার হবে। কিন্তু সে দেরি করতে পারল না।সে দ্রুত আয়নাটা তুলে নিয়ে দেওয়ালের দিকে ছুঁড়ে মারল!


ভেঙে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, আয়নার ভেতর থেকে বিকট এক চিৎকার বেরিয়ে এলো! একটা কালো ছায়া বেরিয়ে এসে রাহুলের শরীরে ঝাঁপিয়ে পড়ল।


সে অনুভব করল, শরীরটা কাঁপছে, যেন কিছু একটা তার ভেতরে ঢুকছে!


চারপাশে সব কিছু ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে গেল। নীলা হাসল, তার শরীর ফিকে হতে লাগল।"ধন্যবাদ, রাহুল..."তারপর সে মিলিয়ে গেল বাতাসে।


পরদিন সকালে, রাহুল জেগে উঠল। তার শরীর ভারী লাগছিল, মাথার মধ্যে এক অদ্ভুত চাপ অনুভব করছিল।সে আয়নার দিকে তাকাল।


আর সেখানে সে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেল না।বরং, দেখতে পেল নীলাকে!তার ঠোঁটে এক অদ্ভুত হাসি, আর চোখদুটি সম্পূর্ণ কালো।


রাহুল চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু তার কণ্ঠ বের হলো না। সে বুঝতে পারল—এবার সে-ই অভিশপ্ত!"আমি মুক্তি পেয়েছি... কিন্তু তুমিও কি পাবে?"


চারপাশের বাতাস থমকে গেল, আর রাহুলের ভেতর থেকে একটা নিঃশব্দ হাসি বেরিয়ে এলো...

এক_মুঠো_রোদ্দুর  (সূচনা পর্ব)১১১

 -- স্যার কাজ করাবেন? আমার অনেক টাকার প্রয়োজন। প্লিজ আসেন। এক রাতের জন্য আপনি খুশি হয়ে যা দিবেন তাই হবে। 


রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আদনান। তখনই মেয়েলি কণ্ঠ শুনে পিছন ফিরে তাকালো। মেয়েটা তাকানো দেখে আবার বলল, স্যার যাবেন?  আমার বাবা খুব অসুস্থ আমার অনেক টাকার প্রয়োজন। 


আদনান নিজের রাগ কন্ট্রোল করে বলল,


-- আমাকে দেখে কি মনে হয় তোমার? 


-- স্যার বিশ্বাস করুন আমি আজ প্রথম এসেছি। আর আপনি হবেন আমার প্রথম কাস্টমার। 


-- আমার সামনে থেকে যাও। এমনিতেই মেজাজ গরম হয়ে আছে।


আদনান মেয়েটার দিকে না তাকিয়ে আবার হাঁটা শুরু করে। কিছুক্ষণ আগে গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়াতে গাড়ি সেখানেই রেখে পায়ে হেঁটে বাসায় যাচ্ছে আদনান। আর রাস্তায় এই মেয়ের সাথে দেখা। আদনান নিজ গতিতে হেঁটে যাচ্ছে সে খেয়াল করিনি মেয়েটা যে এখনও তার পিছনে পড়ে আছে।হঠাৎ করে একটা শব্দ বেশে আসে আদনানের কানে। সাথে সাথে পিছনে ঘুরতেই সে দেখতে পায় কয়েকটি ছেলে মিলে মেয়েটার সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। আর মেয়েটাকে কোথাও নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া করছে। আদনান এবার এগিয়ে যেতেই ছেলে গুলো দৌড়ে পালিয়ে যায়। 


-- ধন্যবাদ স্যার।


-- ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু হয়নি। বাসায় চলে যাও রাত অনেক হয়েছে। 


-- কিন্তু!


-- কিন্তু কি? 


-- আমার বাবার চিকিৎসার টাকা না নিয়ে গেলে তো আমার বাবার চিকিৎসা হবে না। আমার বাবা ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার আর কেউ নেই। 


এই কথা বলে মেয়েটা কান্না করতে শুরু করে। আদনান এবার মেয়েটার দিকে ভালো ভাবে তাকায়। মেয়েটার মুখে হিজাব থাকায় মুখ দেখা যাচ্ছেনা। পড়নে কালো বোরখা। 


-- কোন হাসপাতালে আছে তোমার বাবা? 


মেয়েটা হাসপাতালের নাম বলল। হাসপাতালের নাম শুনে আদনান একটা রহস্যময় হাসি দিলেন। আর বলল -- কতো নাম্বার কেবিনে আছে তোমার বাবা? 


-- তিনশো দশ নাম্বার কেবিন। 


-- ঠিক আছে তুমি এখন বাসায় চলে যাও। আর টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তোমার বাবার চিকিৎসা হবে। 


-- কীভাবে হবে?  


-- এতো কিছু তোমার না জানলেও চলবে। তুমি এখন বাসায় যাও। 


-- এতো রাতে আমি একা কীভাবে বাসায় যাবো?  


আদনান দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে কন্ট্রোল করে বলল -- একা বের হতে পারছ আর এখন যেতে পারবেনা? আজব মেয়ে তো!  


মেয়েটা মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে শুরু করে। মেয়েদের কান্না আদনানের অসহ্য লাগে। তাই আদনান একটা ধমক দিয়ে মেয়েটাকে থামিয়ে দেয়। আদনানের ধমকে মেয়েটা কেঁপে ওঠে। 


-- আজাইরা কান্নাকাটি করতে হবে না। তোমার বাসা কোথায়?  


মেয়েটা নিজের ঠিকানা বলল। 


-- ঠিক আছে আমার বাসাও ঐদিকে। 


এবার দু'জনে হাঁটতে শুরু করে। দু'জনেই নিশ্চুপ। নিরবতা ভাঙে মেয়েটা বলল -- স্যার আমার নাম আদিবা রহমান। 


এই কথা বলে আদিবা আদনানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতেই আদনান মেয়েটার দিকে চোখ বড়বড় করে তাকায়। আদনানের চোখ দেখে আদিবা একটা ঢোঁক গেলে। আর সে নিজের হাত নামিয়ে মনে মনে আদনানের চোদ্দগুষ্টিকে উদ্ধার করতে থাকে। 


-- ও স্যার আপনার নাম তো বললেন না!


-- তোমার বাসা চলে আসছে, তুমি এখন বাসায় যাও।


-- কিন্তু আপনার নামটা? 


-- আর কোনো কথা নই। বাসায় যাও। আর একটা কথা! আজ যে ভুল পথে পা বাড়ালে নেক্সট টাইম কখনো এসব চিন্তা ও মাথায় আনবেনা। 


-- ঠিক আছে, আপনার নাম? 


-- গুড নাইট। 


এই কথা বলে আদনান চলে গেলো। আর আদিবা মনে মনে বলছে, গুড নাইট আবার কারোর নাম হয় নাকি? তাতে আমার কি? হলেও হতে পারে। তবে নামটা সুন্দর আছে 'গুড নাইট' হিহিহি। 


এদিকে আদনান কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের বাসায় পৌছে যায়। বাসায় গিয়ে দরজার কলিং বেলে চাপ দিতেই আদনানের আম্মু এসে দরজা খুলে দেয়। পায়ে হেঁটে আসার কারণে আদনানের পুরো শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। 


-- কিরে তোর এই অবস্থা কীভাবে হলো?


-- রাস্তায় হঠাৎ করে গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। তাই পায়ে হেঁটে আসছি। 


-- গ্যাস চেক করিস নি? 


-- না। এখন এতো কথা বলতে পারবোনা। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি তুমি খাবার রেডি করে রেখো।


আদনানের আম্মুকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সে নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে কাওকে ফোন দেয়। ফোনে কথা বলে সে খাবার খাওয়ার জন্য আসে। আদনানের আম্মু রানী বেগম খাবার নিয়ে অপেক্ষা করছে। আদনান আসতেই বলল, 


-- এতক্ষণ লাগে? 


-- একটু ফোনে কথা বলছিলাম। 


-- এভাবে আমি আর একা কতো কাজ করব? এবার তো একটা বিয়ে কর। আমার ও কথা বলার একটা মানুষ হবে। 


-- আবার শুরু করলে? বলছিনা আমার সময় হলে আমি অবশ্যই বলব। 


-- পড়াশোনা তো অনেক আগেই শেষ করলি। আর তুই তো বেকার না। 


-- শোনো আম্মু আমি মনের মতো যেদিন কাওকে পাবো সেদিন সবার আগে তোমাকে বলব। এখন এসব নিয়ে কথা বলবেনা। 


-- ঠিক আছে এখন খাবার খেয়ে নে। আমাকে ঘুমাতে হবে।


আদনান এবার খাবার খেয়ে নিজের রুমে গিয়ে  ঘুমিয়ে পড়ে। 


সকালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে আদিবা। আর সে তার অসুস্থ বাবার জন্য রান্না করতে শুরু করে। রান্নাবান্না শেষ করে খাবার গুলো নিয়ে হাসপাতালের দিকে চলে যেতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আদিবা হাসপাতালে পৌছে যায়। আর সে বাবার কেবিনে গিয়ে দেখে কেবিন ফাঁকা হয়ে আছে। আদিবা বাবাকে কেবিনে দেখতে না পেয়ে সে ঘাবড়ে যায়। আর তাড়াতাড়ি করে ডাক্তারের কাছে চলে গেল। 


-- ডাক্তার আমার বাবা কেবিনে নেই কেন? আমার বাবাকে কি করছেন আপনারা? আমার বাবা কোথায়? (কান্না করতে করতে কথাগুলো বলছে আদিবা)


-- কান্না করছেন কেন? ভয় পাবেন না আপনার বাবা ঠিক আছে। 


-- কোথায় আমার বাবা? আমার বাবাকে আমার কাছে এনে দেন। 


ডাক্তার উঠে আদিবার কাছে আসতেই আদিবা ডাক্তারের পা ধরে বলে -- ডাক্তার প্লিজ আমাকে কিছু সময় দেন। আমি টাকার ব্যবস্থা করব। তাও আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন। আমার বাবা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। 


-- কি করছ তুমি এসব। তোমার বাবার কাল রাতেই অপারেশন হয়েছে। উনি এখন সুস্থ আছে। 


আদিবা কথাটা শুনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল, 


-- মানে? আমি তো এখনও টাকা দিতে পারিনি। তাহলে অপারেশন কীভাবে হলো?  


-- আমাদের বড় স্যার সব কিছুর ব্যবস্থা করছে। 


-- আমার বাবা এখন কোথায় আছে? 


-- কিছুক্ষণ পরে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হবে তখন দেখবে। আর চিন্তার কোনো কারণ নেই।


-- আচ্ছা আপনাদের স্যার কোথায় ওনার সাথে কি দেখা করা যাবে? 


-- উনি এতো তাড়াতাড়ি হাসপাতালে আসেন না। 


-- কখন আসবেন?


-- দশটার দিকে। 


কিছুক্ষণ পরে আদিবার বাবাকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়। আদিবা গিয়ে তার বাবার পাশে বসতেই উনি চোখে মেলে তাকান। 


-- বাবা তোমার আর কষ্ট হবেনা। তুমি এবার খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে। 


-- তুই আমার জন্য অনেক কষ্ট করছিস। আমি তো ভাবতেও পারিনি আবার তোর সাথে কথা বলতে পারবো। আমি ভাবছিলাম আমিও বুঝি তোকে একা করে দিয়ে চলে যাবো। 


-- এসব কথা বলতে নেই বাবা। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার কি হতো? 


-- তুই এতো টাকা কোথায় পেয়েছিস? 


-- আমি তো কিছুই করতে পারিনি তোমার জন্য। সব করছে একটা অচেনা মানুষ। 


-- কে সে? 


-- আমিও জানিনা। ডাক্তার বলল এই হাসপাতালে বড় স্যার। 


-- ওহ। 


তাদের কথা বলার মাঝে একজন নার্স এসে আদিবাকে বলল -- আপনাকে বড় স্যার ডাকছেন। ওনার সাথে দেখা করুন। 


বড় স্যারের কথা শুনে আদিবা তাড়াতাড়ি চলে যায় বড় স্যারের কেবিনে। আদিবা কেবিনের সামনে গিয়ে দেখে গতকাল রাতের সেই লোক।


আদিবা ভিতরে যেতে যেতে বলল -- আরে গুড নাইট স্যার আপনি? 


কথাটা শুনে এবার আদনান তাকিয়ে দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা পরির মতো মেয়ে। মায়াবী চেহারা। আদনান মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল। আদিবা আদনানের কাছে গিয়ে বলল -- গুড নাইট স্যার আপনি এখানে?  


আদনান আদিবার কথা শুনে বলল -- কে আপনি? 


-- আরে স্যার আমি আদিবা। কাল রাতে পরিচয় হয়ে ছিল। আমাকে চিনতে পারছেন না গুড নাইট স্যার?  


আদিবার কথা শুনে আদনান পাশে তাকিয়ে দেখে নার্স দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। আদনান নার্সকে ধমক দিয়ে বলল -- এখানে দাঁড়িয়ে হাসার কি আছে? নিজের কাজে যান। 

১নার্স আদনানের রাগী মুখ দেখে১ তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যায়। আদনানের রাগি মুখ দেখে আদিবাও একটু ভয় পায়।

দা Delete5ো আদনান নিজের চেয়ার থেকে উঠে আদিবার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। আরআদিবা ভয়ে পিছনে যেতে থাকে। চলবে? 

এক_মুঠো_রোদ্দুর 

(সূচনা পর্ব)১১১

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...