এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

ক্যামোমিলা✴ Chamomilla----🎋 ---🫒--- ৪র্থ কবিতা----🫒--- ছন্দে ছন্দে ক্যামোমিলার লক্ষন মনে রাখার সহজ কৌশল।

 🍁🍃ক্যামোমিলা✴ Chamomilla----🎋

---🫒--- ৪র্থ কবিতা----🫒---

ছন্দে ছন্দে ক্যামোমিলার লক্ষন মনে রাখার সহজ কৌশল।



অত্যান্ত বিরক্ত শিশু,কোলে নিলে বেশ

এক ডোজ ক্যামোমিলায়, সব সমস্যা শেষ,

রোগ যাই হোক সেটা জ্বর বা পেট ব্যথা

লক্ষণেতে কাজ করে সেটাই আসল কথা।


যখন তখন উত্তেজনা, যদি দেখা যায়

মানষিক নার্ভাসনেস চোখের পাতায়, 

মাদকের ইতিহাস কারো থাকে সাথে

শীতভাব ও জ্বরের দেখা প্রায় প্রতি রাতে।


সদ্যজাত শিশুদের দাঁত উঠতে ব্যথা

ক্ষনে ক্ষনে কেঁদে উঠে জ্বল ঝড়ে সদা

নোংরা ঘাটে হিংসুটে, বদমেজাজী হয়

ক্যামোমিলা কাজে লাগে এমন সময়।


কথা বলতে বিরক্ত, রেগে থাকে রোজ

কেউ তার কাছে থেকে নেয় যদি খোজ

এক গাল লাল আর অন্য গাল সাদা

মাঝ রাতের আগেই হয় ঘারে বেশ ব্যথা।


ঠান্ডা লেগে উদরাময়,জ্বলের মত মল

ভীষণ দুর্বল শরীরটা করে টলমল

উত্তাপে খোলা হাওয়ায় রোগের বৃদ্ধি হয়

এক ডোজ ক্যামোমিলা করে নিরাময়।


🎍 উৎসাহ পেলে আরো লিখতে চাই 👻 🪡


🍃 Dr.Md.Forhad Hossain 

D.H.M.S(B.H.😎,DHAKA

Pdt(Hom)

Consultant:Homoeopathic  Medicine 

🍎চেম্বার:জার্মান হোমিও কেয়ার

সময় গেলে সাধন হবেনা

 জীবনে যে-কোনো শখ বা আহ্লাদ পূরণের নির্দিষ্ট একটা সময় থাকে। সঠিক সময়টা একবার পেরিয়ে গেলে শখ হয়ত পূরণ হয় ঠিকই, তবে তৃপ্তিটা ঠিক পাওয়া যায় না।


১৭ বছর বয়সে যে বিরিয়ানিটা খেতে অমৃতের মতো লাগে, ৩২ বছর বয়সে এসে সেটা ভালো নাও লাগতে পারে।


১৮ বছর বয়সে সমবয়সী কারো সাথে পাঞ্জাবি বা শাড়ি পরে রিকশায় ঘুরতে ভীষণ রোমান্টিক লাগে, ৩৬ এ পা দিয়ে একই কাজ করতে রোমান্টিক লাগবেই তার কোনো গ্যারান্টি নাই। 


২১ বছর বয়সে ভার্সিটির বন্ধুবান্ধব নিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে যেই আনন্দ পাওয়া যাবে, ৪০ পার করে সেই আনন্দ পাওয়া নাও যেতে পারে। 


একদিন নিজের ছাদে বাগান করব, এই আশায় বসে থেকে যেই মানুষটা বারান্দার টবে কোনো গোলাপের চারা লাগাল না, ছাদ হওয়ার পর দেখা গেল সেই মানুষটার আর বাগান করার সময়ই নেই। 


একদিন চাকরি করে বাবা-মাকে দামী দামী জিনিস কিনে দেয়ার স্বপ্ন দেখা মানুষটা চাকরি করে টাকা কামাবে ঠিকই, কিন্তু ততদিনে মা-বাবা এই দুনিয়ায় নাও থাকতে পারে। 


জীবনের ছোটখাট সাধ আহ্লাদ খুব দামী জিনিস। এগুলোই একটা মানুষের হৃদয়কে জীবিত রাখে, সতেজ রাখে, প্রাণবন্ত রাখে। মানুষের হৃদয় একটু একটু করে মরে যায় ইচ্ছা পূরণের অভাবের নীরব হাহাকারে! এজন্য সময় থাকতেই এসব শখ পূর্ণ করে ফেলতে হয়। 


অনেক টাকা জমলে একদিন খাব, এই চিন্তা না করে অল্প কিছু টাকা জমিয়ে এখনি খেয়ে আসুন পছন্দের কাচ্চিটা। বিশ্বাস করুন, জীবনের শ্রেষ্ঠ স্বাদটা পাবেন।


দেরি না করে পছন্দের মানুষটাকে আজকেই রিকশা ডেটিংয়ের অফারটা দিয়ে দেখুন। রাজি হলে শাড়ি বা পাঞ্জাবি পরে হুডখোলা রিকশায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে শহরময় ঘুরে বেড়ান। লিখে নিন, লাইফের সেরা রোমান্সটা পাবেন।


পকেটে কিছু টাকা হলেই বন্ধুর ঘাড়ে হাত রেখে বলে বসুন, চল ব্যাটা, সাজেক যাব। আজকেই যাব, এক্ষণি যাব। ব্যাগ গুছিয়ে নে, বাস ধরতে হবে।


নিজের ছাদে বাগান হবে, এই আশায় বসে না থেকে ভাড়া বাসার বারান্দার টবেই লাগিয়ে ফেলুন পছন্দের গোলাপের চারাটা। টিউশানির টাকায় কম দামেই কিনে ফেলুন বাবা-মায়ের জন্য শার্ট বা শাড়ি, হোক না সুতি, শখ পূরণটাই বড় কথা! 


মনে রাখবেন, একদিন সব হবে - এই আশায় যে নিজেকে বঞ্চিত করে, তার জীবনে কিছুই হয় না। তার জীবন কাটে বিষন্নতা আর অপেক্ষায়, শেষ হয় আফসোস আর হতাশা দিয়ে।

শিয়াল পণ্ডিত উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 

 শিয়াল পণ্ডিত

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 



কুমির দেখলে, সে শিয়ালের সঙ্গে কিছুতেই পেরে উঠছে না। তখন সে ভাবলে, 'ও ঢের লেখাপড়া জানে, তাতেই খালি আমাকে ফাঁকি দেয়। আমি মূর্খ লোক, তাই তাকে আঁটতে পারি না।' অনেকক্ষণ ভেবে কুমির এই ঠিক করল যে, নিজের সাতটা ছেলেকে শিয়ালের কাছে দিয়ে খুব করে লেখাপড়া শেখাতে হবে। তার পরের দিনই সে ছানা সাতটাকে সঙ্গে করে শিয়ালের বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হল। শিয়াল তখন তার গর্তের ভিতরে বসে কাঁকড়া খাচ্ছিল। কুমির এসে ডাকলে,


'শিয়াল পণ্ডিত, শিয়াল পণ্ডিত, বাড়ি আছ?' শিয়াল বাইরে এসে বললে, 'কী ভাই, কী মনে করে?'

কুমির বললে, 'ভাই, এই আমার ছেলে সাতটাকে তোমার কাছে এনেছি। মূর্খ হলে করে খেতে পারবে না। ভাই, তুমি যদি এদের একটু লেখাপড়া শিখিয়ে দাও।' শিয়াল বললে, 'সে আর বলতে? আমি সাতদিনে সাতজনকে পড়িয়ে পণ্ডিত করে দেব।' শুনে কুমির তো খুব খুশি হয়ে ছানা সাতটাকে রেখে চলে গেল।

তখন শিয়াল তাদের একটাকে আড়ালে নিয়ে বললে—

'পড় তো বাপু— কানা খানা গানা ঘানা,

কেমন লাগে কুমির ছানা?'


এই কথা বলে, সেটার ঘাড় ভেঙে, খেয়ে ফেললে।

পরদিন যখন কুমির তার ছানা দেখতে এল, তখন শিয়াল তাদের একেকটি করে গর্তের বাইরে এনে দেখাতে লাগল। ছয়টিকে ছয়বার দেখালে, শেষেরটা দেখালে দুবার। বোকা কুমির তা বুঝতে না পেরে ভাবলে, সাতটাই দেখানো হয়েছে। তখন সে চলে গেল, আর অমনি শিয়াল ছানাগুলোর একটাকে আড়ালে নিয়ে বললে—

'পড় তো বাপু— কানা খানা গানা ঘানা,

কেমন লাগে কুমির ছানা?'


এই কথা বলে, সেটার ঘাড় ভেঙে, খেয়ে ফেলল।

পরদিন কুমির তো ছানা দেখতে এল। শিয়াল একেকটি করে গর্তের বাইরে এনে, পাঁচবার পাঁচটাকে দেখাল, শেষেরটিকে দেখাল তিনবার। তাতেই কুমির খুশি হয়ে চলে গেল। তখন শিয়াল ঠিক আগের মতো করে আর একটা ছানাকে খেল।

এমনি করে সে রোজ একটি ছানা খায়, আর কুমির এলে তাকে ফাঁকি দিয়ে ভোলায়। শেষে যখন একটি ছানা বই আর রইল না, তখন সেই একটিকেই সাতবার দেখিয়ে সে কুমিরকে বোঝাল। তারপর কুমির চলে গেলে সেটিকেও খেয়ে ফেলল। তারপর আর একটিও রইল না।

তখন শিয়ালনী বললে, 'এখন উপায়? কুমির এলে দেখাবে কি? ছানা না দেখতে পেলে তো অমনি আমাদের ধরে খাবে!'

শিয়াল বললে, 'আমাদের পেলে তো ধরে খাবে। নদীর ওপারের বনটা খুব বড়, চল আমরা সেইখানে যাই। তা হলে কুমির আর আমাদের খুঁজে বার করতেই পারবে না।'

এই বলে শিয়াল শিয়ালনীকে নিয়ে তাদের পুরনো গর্ত ছেড়ে চলে গেল। এর খানিক বাদেই কুমির এসেছে। সে এসে 'শিয়াল পণ্ডিত, শিয়াল পণ্ডিত' বলে কত ডাকল, কেউ তার কথার উত্তর দিল না। তখন সে গর্তের ভিতর-বার খুঁজে দেখল—শিয়ালও নেই শিয়ালনীও নেই! খালি তার ছানাদের হাড়গুলো পড়ে আছে।

তখন তার খুব রাগ হল, আর সে চারদিকে ছুটাছুটি করে শিয়ালকে খুঁজতে লাগল। খুঁজতে-খুঁজতে নদীর ধারে গিয়ে দেখল, শিয়াল আর শিয়ালনী সাঁতরে নদী পার হচ্ছে।

অমনি 'দাঁড়া হতভাগা।' বলে সে জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়ল। জলের নীচে ছুটতে কুমিরের মতো আর কেউ পারে না, দেখতে দেখতে সে গিয়ে শিয়ালের পিছনের একটা পা কামড়ে ধরল।

শিয়াল সবে তার সামনের দু-পা ডাঙায় তুলেছিল, শিয়ালনী তার আগেই উঠে গিয়েছিল। কুমির এসে শিয়ালের পা ধরতেই সে শিয়ালনীকে ডেকে বললে, 'শিয়ালনী, শিয়ালনী, আমার লাঠিগাছা ধরে কে টানাটানি করছে। লাঠিটা বা নিয়েই যায়।'

একথা শুনে কুমির ভাবলে, 'তাই তো, পা ধরতে গিয়ে লাঠি ধরে ফেলেছি। শিগগির লাঠি ছেড়ে পা ধরি।'

এই ভেবে যেই সে শিয়ালের পা ছেড়ে দিয়েছে, অমনি শিয়াল একলাফে ডাঙায় উঠে গিয়েছে। উঠেই বোঁ করে দে ছুট। তারপর বনের ভিতরে ঢুকে পড়লে আর কার সাধ্য তাকে ধরে।


তারপর থেকে কুমির কেবলই শিয়ালকে খুঁজে বেড়ায়। কিন্তু শিয়াল বড্ড চালাক,

তাই তাকে ধরতে পারে না। তখন সে অনেক ভেবে এক ফন্দি করল। কুমির একদিন চড়ায় গিয়ে হাত পা ছড়িয়ে মড়ার মতো পড়ে রইল। তারপর শিয়াল আর শিয়ালনী কচ্ছপ খেতে এসে দেখল, কুমির কেমন হয়ে পড়ে আছে। তখন শিয়ালনী বললে, 'মরে গেছে। চল খাইগে!' শিয়াল বললে, 'রোস, একটু দেখে নিই।' এই বলে সে কুমিরের আর-একটু কাছে গিয়ে বলতে লাগল, 'না। এটা দেখছি বড্ড বেশি মরে গেছে। অত বেশি মরাটা আমরা খাই না। যেগুলো একটু-একটু নড়ে-চড়ে, আমরা সেগুলো খাই।' তা শুনে কুমির ভাবলে, 'একটু নড়ি-চড়ি, নইলে খেতে আসবে না।' এই মনে করে কুমির তার লেজের আগাটুকু নাড়তে লাগল। তা দেখে শিয়াল হেসে বললে, ঐ দেখ, লেজ নাড়ছে! তুমি তো বলেছিলে মরে গেছে!' তারপর আর কি তারা সেখানে দাঁড়ায়! তখন কুমির বললে, 'বড্ড ফাঁকি দিলে তো! আচ্ছা এবারে দেখাব!'


একটা জায়গায় শিয়াল রোজ জল খেতে আসত। কুমির তা দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে লুকিয়ে রইল। ভাবল শিয়াল জল খেতে এলেই ধরে খাবে। সেদিন শিয়াল এসে দেখল সেখানে একটাও মাছ নেই! অন্য দিন ঢের মাছ চলা-ফেরা করে। শিয়াল ভাবল, 'ভালো রে ভালো আজ সব মাছ গেল কোথায়? বুঝেছি, এখানে কুমির আছে!' তখন সে বললে, 'এখানকার জল বেজায় পরিষ্কার। একটু ঘোলা না হলে কি খাওয়া যায়? চল শিয়ালনী, আর-এক জায়গায় যাই।' এ কথা শুনেই কুমির তাড়াতাড়ি সেখানকার জল ঘোলা করতে আরম্ভ করলে। তা দেখে শিয়াল হাসতে-হাসতে ছুটে পালিয়েছে!


আর একদিন শিয়াল এসেছে কাঁকড়া খেতে। কুমির তার আগেই সেখানে চুপ করে বসে আছে। শিয়াল তা টের পেয়ে বললে, 'এখানে কাঁকড়া নেই, থাকলে দু-একটা ভাসত।'

অমনি কুমির তার লেজের আগাটুকু ভাসিয়ে দিল। কাজেই শিয়াল আর জলে নামল না। এমনি করে বারবার শিয়ালের কাছে ঠকে গিয়ে, শেষে কুমিরের ভারি লজ্জা হল। তখন সে আর কী করে মুখ দেখাবে? কাজেই সে তার ঘরের ভিতরে গিয়ে বসে রইল।

থাইরয়েড

 ♦♦ থাইরয়েড♦♦

>>>আজ আপনাদের সামনে নিরবঘাতক (Silent killer) থাইরয়েড সম্পর্কে কিছু কথা বলব।

>প্রথমে আসি থাইরয়েড কি? এবং এর কারনঃ

থাইরয়েড একটি বৃহৎ গ্ল্যান্ড যা আমাদের গলার মাঝামাঝি ও নিচের অংশে থাকে। এই অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়।থাইরয়েড হরমোন তৈরীর জন্য আয়োডিন লাগে, এবং সারা দুনিয়ার পরিসংখ্যানে আয়োডিনের অভাবই হাইপোথাইরয়েডিজমের সর্বপ্রধান কারণ। এমন একটি কারণ যা দূর করা কঠিন নয়। অথচ এখনো এই দূরণীয় কারণের প্রকোপ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ শিশুর মানসিক জড়তা ঘটিয়ে চলেছে। আয়োডিনের অভাবই প্রধান কারণ হলেও হাইপোথাইরয়েডিজমের একমাত্র কারণ নয়। নানান কারণে থাইরয়েড গ্রন্থিতে হর্মোন উৎপাদনের অভাব হতে পারে, যার পরিণাম সাময়িক অথবা স্থায়ী হতে পারে। যেমন হাইপারথাইরয়েডিজমের ট্রিটমেন্ট করবার সময় তেজস্ক্রীয় আয়োডিন-১৩১ প্রয়োগ করা হয় যা থাইরয়েড গ্রন্থিতে জমা হয় ও থাইরয়েড গ্রন্থির তীব্র ক্ষতি করে যার স্থায়ী ফল হিসাবে আয়াট্রোজেনিক (অর্থাৎ ঔষধজনিত বা চিকিৎসাঘটিত) হাইপোথাইরয়েডিজম ঘটে এবং তখন বাকী সারা জীবন এই রোগীদের থাইরয়েড হর্মোন ওষুধ হিসাবে খেতে হয়।

থাইরয়েড গন্থি থেকে ২ ধরনের হরমোন বের হয়।

T3, T4, 

থাইরয়েড আমাদের গলায় অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রন্থি যা আমাদের দেহে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। থাইরয়েড হরমোন দুই ধরণের হয়ে থাকে। একটি হলো T3(০.১%) এবং অপরটি T4(৯৯.৯%)। এই হরমোন দুটি আমাদের শরীরের অনেক গুরত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।

হাইপোথালামাস, পিটুইটারি  এই ২ টির যে কোন একটিতে সমস্যা থাকলে, শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণের তারতম্য ঘটে। এছাড়া আয়োডিন এর অভাব হলেও থাইরয়েড হরমোনের পরিমান কমে যায়। যদি শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে যায় তবে তাকে বলে হাইপোথাইরয়েডিসম আর যদি বেড়ে যায়, তাকে বলে হাইপারথাইরয়েডিসম। এই দুটোই শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে থাইরয়েডের সমস্যায় মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দেখে নেয়া যাক থাইরয়েড সমস্যা প্রকাশ করে যে লক্ষণগুলো। 

♦থাইরয়েডের লক্ষন সমূহঃ

মেজাজ খিটমিটে থাকা, খুব সহজে রাগান্বিত হওয়া, মাথা হালকা বোধ হওয়া, মাথা ঘোরানো বা মাথাব্যথা, সব কিছুকে স্নায়ু রোগের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শারীরিক দুর্বলতা, শারীরিক অক্ষমতা, শক্তি প্রয়োগের কাজ করতে অপারগতা ইত্যাদি হলো শারীরিক কাঠামোগত অসুস্থতার লক্ষণ। বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, প্রস্রাব করার পরও পেটে প্রস্রাব জমা থাকার মতো ভাব হওয়া ইত্যাদি মূত্ররোগের লক্ষণ। চর্ম রোগের লক্ষণ হিসেবে চামড়া পাতলা হয়ে যাওয়া, খসখসে হয়ে যাওয়া, পশম ঝরে পড়া, চামড়ায় দাগ পড়া, চুলকানি হওয়া লক্ষ করা যায়। স্ত্রীরোগের লক্ষণ যেমন, ঋতুস্রাবের সমস্যা, পিরিয়ডের সময় অত্যধিক ব্যথা অনুভূত হওয়া, অত্যধিক পরিমাণে রক্তস্রাব হওয়া, বন্ধ্যত্ব দেখা দেওয়া। উল্লেখিত লক্ষণসমূহ যদিও বিভিন্ন শারীরিক সিস্টেমের (তন্ত্রের) সমস্যা কিন্তু একটি মাত্র কারণে কোনো ব্যক্তির শরীরে এগুলো পর্যায়ক্রমে বা এলোমেলোভাবে পরিলক্ষিত হতে পারে এবং তা হলো থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা। থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যায় আরও অনেক উপসর্গ দেখা দিতে পারে যেমন- অত্যধিক গরম বা অত্যধিক ঠাণ্ডা অনুভূত হওয়া, শারীরিক ওজন কমে যাওয়া বা শারীরিক ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকা।


♦ এবার মুলত ২ প্রকার থাইরয়েড সম্পর্কে বলবঃ


#হাইপারথাইরয়েডসিম অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ বেশি হলে এর লক্ষন সমূহ:

* অতিরিক্ত ঘাম হওয়া শুরু হয়।

* রোগী একেবারেই গরম সহ্য করতে পারেন না।

* হাত ও পায়ে হালকা কাঁপুনি অনুভব করা। অর্থাৎ কোনো কিছু করতে গেলে বা ধরতে গেলে হাত কাঁপা।

* কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অতিরিক্ত নার্ভাস বোধ করা।

* সব সময় মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ থাকা এবং খিটখিটে হয়ে যাওয়া।

* সাধারণের তুলনায় হার্টবিট বেশি মাত্রায় বেড়ে যাওয়া।

* হঠাৎ করে কোন কারন ছাড়াই ওজন কমতে শুরু করা।

* অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া ও দুর্বলতা অনুভব করা।

* কাজেকর্মে মনোযোগী হতে না পারা বা একদিকে মনোনিবেশ করতে না পারা।

* চোখ বড় বড় হয়ে যাওয়া।

* ঘুম অনেক কম হওয়া ও অনিদ্রার সমসায় ভোগা।


#হাইপোথাইরয়েডিসম অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কম হলে এর লক্ষন সমূহ:

* অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া ও সব সময় দুর্বলতা অনুভব করা।

* স্মৃতিশক্তি অনেক কমে যাওয়া এবং কোনো কিছু মনে করতে না পারা।

* একেবারেই ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা।

* ত্বক একেবারে বিবর্ন ও শুস্ক রুক্ষ হয়ে যাওয়া।

* মাংসপেশি এবং জয়েন্ট গুলোতে জড়তা বা ব্যাথা অনুভব করা।

* বিষণ্ণতায় ভোগা।

* চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত আগা ফাটা ও চুল পরে যাওয়া অথবা নখে ফাটা দাগ পরা।

* সাধারণ হাঁটাচলায় কষ্ট হওয়া।

* হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া।


♦    হাইপারথাইরয়েডিসম   এ রোগীর লক্ষণ গুলো হলোঃ

১.বুদ্ধি কম

২.হজমে সমস্যা, যেহেতু মেটাবলিজম কম হয় তাই কোষ্ঠকাঠিন্য

৩.অরুচি

৪. মানসিক বিকৃতি

৫. শরীর শুকিয়ে যাওয়া

৬ লোম না উঠা

৭.ত্বক খসখসে

৮. শীর্নতা


♦হোমিও মেডিসিন : হোমিওপ্যাথিতে থাইরয়েডের চিকিৎসায় থাইরয়েডিনাম ছাড়াও আয়োডিন, নেট্রাম মিউর, লাইকোপিডিয়াম, সাইলেসিয়া, থুজা, মেডোরিনাম, স্পজ্ঞিয়া,  লেপিস এলবা,ক্যাল ফ্লোর সহ আরো অনেক মেডিসিন লক্ষণের ওপর আসতে পারে তবে কথা হল" Treat the patient not the disease "

বাকি টুকু একজন চিকিৎসকের নিজিস্ব চিন্তা ধারার উপর নির্ভর করবে। তবে কথা হল ধাতুগত ট্রিটমেন্ট অতি জরুরী একে নিয়ন্ত্রন করার জন্য।

হোমিওপ্যাথিতে ওষুধ নির্ধারণ কীভাবে করবেন?* - ২য় পর্ব -- লেখক: মার্গারেট লুসি টাইলার

 *হোমিওপ্যাথিতে ওষুধ নির্ধারণ কীভাবে করবেন?* - ২য় পর্ব

--------------------------------------------------

লেখক: মার্গারেট লুসি টাইলার


একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত কষ্ট তাকে অন্যের কষ্ট বুঝতে ও সহানুভূতি দেখাতে সহায়তা করে। বড় কিছু করতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ করতে হয়। হোমিওপ্যাথি অলস বা মনোযোগহীনদের জন্য নয়।


আমাদের হাতে অসংখ্য ওষুধ থাকলেও, সেগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হলে রেপার্টরি ও লক্ষণ বিশ্লেষণের কৌশল জানতে হয়। 


লক্ষণগুলোর গুরুত্ব বোঝা (grading of symptoms) হলো মূল চাবিকাঠি। শুরুতে যে ক্ষেত্রে তিন ঘণ্টা লাগত, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের হাতে সেটাই ১০-১৫ মিনিটে হয়ে যায়।


অথবা, যদি চিকিৎসক ওষুধগুলো ভালোভাবে জানেন, এবং অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন, তাহলে হয়ত চোখের এক ঝলকেই তিনি ওষুধ চিনে ফেলেন—এক-দু’টি প্রশ্ন করলেই তা নিশ্চিত হয়। যেমন Sulphur, Calcarea বা Sepia রোগীদের ধরতে ভুল হয় না। এটাই বহু রোগী দেখা সম্ভব করে তোলে।


আমরা “TOTALITY OF SYMPTOMS” কথাটা সহজে বলি, কিন্তু এর মানে কী? এর মানে কি সব ছোট-বড় লক্ষণ এবং প্যাথোলজিক্যাল (রোগতাত্ত্বিক) উপসর্গও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে? এত বিশাল কাজ, অথচ ফলাফল সামান্য।


আপনি আপনার বন্ধুদের হাতের আঙুল গুনে চিনে নেন না। বরং তাদের লিঙ্গ, উচ্চতা, রঙ, কণ্ঠস্বর, অভিব্যক্তি, মন-মানসিকতা দিয়ে চিনেন—অর্থাৎ যেগুলো অন্যদের থেকে আলাদা।


একইভাবে একটি ওষুধের চিত্র গঠিত হয় এর বিশেষ, মানসিক এবং পার্থক্যসূচক লক্ষণ দিয়ে— যে লক্ষণ হাজারো ওষুধে সাধারণভাবে পাওয়া যায়, সেগুলো দিয়ে নয়।


হ্যানিম্যান বলেছেন, “যে লক্ষণগুলো ওষুধ নির্বাচনে মুখ্য ভূমিকা রাখে, সেগুলো সাধারণত সেই ওষুধের জন্যই বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং রোগের লক্ষণের সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ ( mostly peculiar to that remedy, and of marked similitude to those of the disease.)।”


হাজার ওষুধের উপসর্গের একটি বিশাল অংশ সাধারণ এবং তাই কোন ওষুধ নির্ধারণে সহায়ক নয়। আপনি যদি এসব উপসর্গকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেন, তাহলে আপনি যেন ওষুধ নির্বাচন করার জন্য লটারির টিকিট টানছেন।


“প্রতিটি ওষুধের প্রভাব অন্যান্যদের থেকে আলাদা”— বিষয়টি হলো, যে বৈশিষ্ট্যগুলো আলাদা, তা-ই আমাদের প্রধান বিবেচ্য, না যে বৈশিষ্ট্যগুলো একরকম।


হ্যানিম্যান অস্পষ্ট উপসর্গ যেমন, ক্ষুধামন্দা, ঘুমের অভাব, দুর্বলতা ইত্যাদিকে "প্রায় সব ওষুধ এবং প্রায় সব রোগে সাধারণ" বলে অকেজো হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


তিনি আরও বলেন: "রোগের উপসর্গগুলোকে পরীক্ষিত ওষুধগুলোর উপসর্গের সঙ্গে তুলনা করার সময়, কেসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ (characteristic) দিকগুলোকে বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে, যেগুলোর সঙ্গে ওষুধের উপসর্গগুলো সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে— ওষুধটিই তখন নিরাময়কারী হবে।” 


আবারও তিনি বলেন: “রোগীর মানসিক অবস্থা ও মেজাজ ওষুধ নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি।” এবং তিনি “বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপসর্গগুলোর সমষ্টি”-র কথাও বলেন। আমরা যেন বুঝি যে “TOTALITY” বলতে বোঝানো হয়েছে “CHARACTERISTIC TOTALITY”— শুধু উপসর্গ গণনা করলেই হবে না।


কেন্ট ছিলেন একজন যিনি হ্যানিম্যানের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন এবং বিশাল কাজ করেছিলেন। ১৯১২ সালে কেন্ট আমাকে যা লিখেছিলেন, তা হলো:

“আপনার পদ্ধতিগুলো কঠিন ও শ্রমসাধ্য, এবং আমার পদ্ধতি থেকে অনেকটাই ভিন্ন। আপনি আপনার কেসগুলিতে আমার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেন। একটি উপসর্গ তালিকা দেখে প্রথমেই খুঁজে বের করুন ৩, ৪, ৫ বা ৬টি উপসর্গ যা ‘অদ্ভুত, বিরল ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।’ এগুলিই হলো সর্বোচ্চ স্তরের সাধারণ (general) উপসর্গ, কারণ এই ‘অদ্ভুত, বিরল ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ’ উপসর্গগুলো রোগীর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে।

যখন এসব উপসর্গ বিশিষ্ট ৩-৪টি বা ৬টি ওষুধের নাম আপনার কাছে আসে, তখন দেখুন এদের মধ্যে কোনটি বাকি উপসর্গগুলোর সাথে সবচেয়ে বেশি সাযুজ্যপূর্ণ— সাধারণ এবং পার্টিকুলার উভয়ের ক্ষেত্রেই।

কেস নেওয়ার পর আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে কোন উপসর্গগুলো সেই রোগীর ক্ষেত্রে ফেলা যাবে না— মানে বাদ দেওয়া যাবে না।

যে ওষুধে সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তার সব ছোটখাটো উপসর্গ থাকা জরুরি নয়। যদি সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো ওষুধে থাকে, তবে সব ছোট উপসর্গ খোঁজার পেছনে সময় নষ্ট করার দরকার নেই।


অদ্ভুত, শক্তিশালী, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপসর্গগুলো ধরুন— তারপর নিশ্চিত হন যে কেসে এমন কোনো সাধারণ উপসর্গ নেই যা সেই ওষুধের বিপরীত বা বিরোধী।


উদাহরণ:

যদি আপনি আর্সেনিকামের কী-নোট দেখেন, দেখুন রোগী ঠান্ডা-প্রবণ, ভীতু, অস্থির, দুর্বল, ফ্যাকাসে, এবং দেয়ালের ছবি টানটান করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে— তাহলে আর্সেনিকাম সঠিক ওষুধ হবে।

অথবা যদি লক্ষণগুলো পালসেটিলার মতো মনে হয়, তাহলে নিশ্চিত হোন যে সে ঠান্ডা-প্রবণ নয়, জানালা খোলা পছন্দ করে, ঠান্ডা হাওয়া ভালো লাগে, হাঁটাহাঁটি ভালো লাগে, তৃষ্ণাহীন, কাঁদে, কোমল স্বভাব— তাহলেই পালসেটিলা কাজ করবে।


কী-নোট-এর সমস্যা হলো এগুলো অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়। যদিও কী-নোট অনেক সময় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপসর্গ, তবে যদি শুধুমাত্র এগুলোর উপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা হয় আর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো তার সঙ্গে না মেলে, তাহলে ফলাফল ব্যর্থতাই হবে।


ওষুধ খোঁজার অন্যতম উপায় হলো বিস্তারিত রেপার্টরি ব্যবহার করা, যা বেশিরভাগ কেসেই ভালো ফল দেয়। মানসিক ও সাধারণ/সার্বদৈহিক উপসর্গগুলোকে গুরুত্বের ভিত্তিতে বিবেচনা করে আপনি উপযুক্ত ওষুধে পৌঁছাতে পারেন, যদি -

(a) ওষুধটি ভালোভাবে পরীক্ষিত হয়;

(b) ওষুধটি রেপার্টরিতে ভালোভাবে উপস্থাপিত হয়।

এই শর্তগুলো বহু ওষুধের ক্ষেত্রে সত্য, কিন্তু সংখ্যায় সীমিত।


এটি কঠিন কাজ, কিন্তু অভিজ্ঞতা বাড়লে ধীরে ধীরে সহজ হয়। এর জন্য সাহস ও পরিশ্রম প্রয়োজন।

কিন্তু যদি আপনি অতিরিক্ত সহজভাবে উপসর্গ গ্রহণ করেন, তাহলে আপনি বারবার সেইসব ওষুধেই ফিরে যাবেন যেগুলো ভালোভাবে প্রমাণিত, এবং রেপার্টরিতে ভালভাবে স্থান পেয়েছে— অর্থাৎ "পলিক্রেস্ট"-গুলো।


তাহলে কী হবে সেই গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলোর, যেগুলো হয়তো অর্ধেক প্রমাণিত, এবং রেপার্টরিতে ঠিকভাবে নেই? এদের মধ্যে কোন একটি হয়তো আপনি ছয় বছরে একবারই ব্যবহার করবেন, কিন্তু তখন সেইটিই একমাত্র পন্থা হবে।


কিছু ওষুধের তথ্য পাওয়া গেছে দুর্ঘটনাজনিত বিষক্রিয়া থেকে। আবার কিছু এসেছে সাপের কামড় বা পোকামাকড়ের দংশন থেকে।

এদের মধ্যে কিছু একটিমাত্র রুব্রিকে থাকে— কিন্তু থাকে কালো হরফে (অর্থাৎ ফার্স্ট গ্রেডে)।

যদি কোনো কালো হরফে থাকা, বিরল ওষুধের উপসর্গ রোগীর উপসর্গের সাথে মিলে যায়, তবে সরাসরি ম্যাটেরিয়া মেডিকায় যান এবং দেখুন পুরো কেসের সাথে ওষুধটি কতটা মিলে যায়। এভাবে শিখে নেওয়া ওষুধ কখনো ভুলবেন না। এটা যেন কষ্টের বিরুদ্ধে আপনার ঝুলিতে আরও একটি তীর।


একটি উদাহরণ:

একজন বিষণ্ন রোগী, যার মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিল। পালসেটিলা ও ইগনেশিয়া কিছুটা মিললেও সে ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছিল। হাসত না, একাকী থাকত, কিছুতেই আগ্রহ ছিল না, খেত না, ঘুমাত না, রং ও ওজন হারাচ্ছিল, সব চিন্তা একটাই— "আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি"।

ম্যানসিনেলা (Mancinella) ওষুধটি পুরো কেসের সাথে মিলে গেল এবং রোগী দ্রুত সেরে গেল। রেপার্টরিতে ম্যানসিনেলা হয়তো মাত্র দুই জায়গায় আছে, কিন্তু সেখানে তার একটাই বড় উপসর্গ কালো হরফে: পাগল হয়ে যাওয়ার ভয়।


মাত্র দুই-তিনটি ডোজ, তাও দীর্ঘ বিরতিতে, মাঝে মাঝে হালকা রিল্যাপ্স হলে দেওয়া হয়— এবং তাও চলে যায়। এরপর সে ১২ বছর ধরে পুরোপুরি সুস্থ।


আরেকটি উদাহরণ: Latrodectus mactans — এনজাইনা পেক্টরিসের জন্য। রেপার্টরিতে এর একটি রুব্রিকে কালো হরফে লেখা আছে: “হৃদয়ের ব্যথা, যা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ে”— এখান থেকেই আপনি ম্যাটেরিয়া মেডিকায় যান এবং এটার ভয়ানক উপসর্গের নিখুঁত চিত্র দেখতে পাবেন— এবং এটা কাজ করে।


অনেক ওষুধ আপনি শুধু পড়াশোনার মাধ্যমে জানবেন। এক প্রবীণ চিকিৎসকের নিয়ম ছিল: “প্রতিদিন একটি ওষুধ পড়ো, আর রবিবারে (ছুটির দিনে)দুটো।”

কিন্তু পড়ার সময় চিহ্নিত করুন বা আন্ডারলাইন করুন সেই শক্তিশালী, বিরল ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপসর্গগুলো। পরে শুধু চিহ্নিত অংশগুলো দেখলেই পুরো ওষুধের ছবি মনে পড়বে।

যে কোনো ওষুধ পড়ার সময় লক্ষ্য করুন:

এর স্থানীয় (LOCAL) প্রভাব।

যেসব টিস্যু ও অঙ্গ এটি বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। (Dr. Burnette, Rademacher-কে অনুসরণ করে, অঙ্গ-ভিত্তিক ওষুধ অনেক ব্যবহার করতেন, ঠিক যেমন পলিক্রেস্টগুলোও করতেন।)

সেই ওষুধের মানসিক ও শারীরিক বিশেষ অনুভূতিগুলো। ক্লার্কের ডিকশনারিতে প্রতিটি ওষুধের আগে যেসব মন্তব্য আছে, সেগুলোতে এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Nash's Leaders, Allen's Keynotes, Boger's Synopsis — এই বইগুলো সবই ওষুধের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে এবং অত্যন্ত সহায়ক।


যদি আপনার কাছে ’অ্যালেনের সাইক্লোপিডিয়া’ থাকে, তাহলে শুধু কালো হরফের উপসর্গগুলো এবং ইটালিকগুলো দেখেই অনেক ভালো ও উপকারী পড়াশোনা করা যায়। এমনকি সাধারণ হরফেও মাঝে মাঝে এমন উপসর্গ পাবেন যা বিরল; সেগুলো আন্ডারলাইন করে রাখুন।


যেসব কেসে একটি শক্তিশালী মানসিক উপসর্গ স্পষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়, আপনি তা দিয়েই অন্য উপসর্গগুলো বাছাইয়ের কাজ সহজ করতে পারেন। রেপার্টরির অন্য রুব্রিকগুলোতে খুঁজুন শুধু সেই ওষুধগুলো যেগুলোর সাথে এই মানসিক উপসর্গ মেলে।


আর যেসব কেসে আপনাকে মানসিক উপসর্গ থেকে শুরু করে জেনারেল সবকিছু গুরুত্ব অনুসারে বিশ্লেষণ করতে হয়, তখন এইভাবে সময় বাঁচানো যায়:

রোগীর সাধারণ উপসর্গ (তাপমাত্রা, আবহাওয়া, খাবার, পরিবেশ ইত্যাদির প্রতি প্রতিক্রিয়া) যদি খুব দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পায়, তবে সেগুলো ব্যবহারযোগ্য। তখন সেগুলো রেপার্টরির কালো হরফ বা ইটালিকে রয়েছে এমন ওষুধগুলোর মধ্যেই দেখতে চেষ্টা করুন।

এবং এমনকি বড় রুব্রিকের ক্ষেত্রেও, শুধুমাত্র কালো হরফ ও ইটালিকের ওষুধগুলো (black type and italics) লিখে রাখাই যথেষ্ট।


(চলবে.....)


Source: Different ways of Finding a Remedy

by Margaret Lucy Tyler

তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট -তারা প্রস্তুত আপনাকে ক্লোন করতে।

 তাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট—তারা প্রস্তুত আপনাকে ক্লোন করতে!


হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। আপনার দেওয়া ছবি, ভিডিও, ভয়েস, প্রোফাইল ইনফো—সবকিছু তারা সংরক্ষণ করছে। এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার মতো করে একটা ক্লোন বানানো হচ্ছে। হতে পারে সেটা রোবট, হিউম্যানয়েড অথবা ভার্চুয়াল সত্তা।


এই ক্লোন শুধু আপনার চেহারা বা কণ্ঠ নয়—আপনার আবেগ, আচরণ, স্টাইল সব নকল করতে পারবে। এখান থেকেই দাজ্জালের ফিতনা শুরু হবে। 


কীভাবে?

এই ক্লোনের ভেতর মৃত মানুষের জিন/কারিন ঢুকিয়ে তাকে জীবিত মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় তারা কাজ করছে। আপনার প্রিয় কেউ মারা গেছে—হঠাৎ একদিন সেই মানুষটাই দাঁড়িয়ে থাকবে আপনার সামনে! বলবে আপনার পরিচিত ভাষায়, আপনার সুরে—"আমি ফিরেছি..."। 


আপনি হতবাক হয়ে যাবেন। অনেকেই বিশ্বাস করবে, অনেকেই ধোঁকায় পড়বে। যারা বুদ্ধিমান তারা হয়ত ধরে ফেলবে, এটা প্রযুক্তিল খেল। 


_____


কেন এটা সম্ভব?


• AI (Artificial Intelligence)

• Deepfake প্রযুক্তি

• জিন (কারিন)

• রোবট ও ক্লোনড বডি

• আপনার ছবি, তথ্য, ভিডিও প্রায় সবই আজ অনলাইনে। 

• প্রত্যেকের হাতে মোবাইল, সবকিছু ভিডিও হচ্ছে।

• AI + ডেটা + জ্বিন—দাজ্জালের ফিতনাকে বাস্তব করছে। 

• সার্ভার-ভিত্তিক ক্লোনিং এখন বাস্তবতা, কাল্পনিক বিষয় নয়। 


এসব মিলিয়ে ভবিষ্যতে এমন প্রতারক প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে, যা মৃত মানুষকে “জীবিত” বলে মিথ্যে উপস্থাপন করা হবে‌।


_____


কী করা উচিত?


• ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ভিডিও অপ্রয়োজনে শেয়ার বন্ধ করুন।

• নিজের ও সন্তানদের তথ্য গোপন রাখুন।

• AI-কে খেলাচ্ছলে সব দিয়ে দেবেন না।

• সর্বদা আল্লাহর জিকিরে থাকুন, দোয়া ও ইস্তেগফার করুন।


শেষ কথা, ক্লোনিং বিজ্ঞানের একটি বাস্তব দিক। মানুষের সম্পূর্ণ হুবহু কপি তৈরির চেষ্টা চলছে। আত্মা দেওয়া সম্ভব নয়—এই জায়গাটায় দাজ্জাল জিন/কারিন ব্যবহার করতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দাজ্জালের ফিতনার অংশ হতে পারে।

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ : ২৩+০৪-২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ২৩-০৪-২০২৫ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরুর জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহে ওআইসি দেশগুলোকে সক্রিয় করতে কাতারকে জোরালো ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। 


আগামী মে মাসের মধ্যে বাংলাদেশে স্পেসএক্স ইন্টারনেট সেবা চালু হবে - ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট।


কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।


বিএফডিসি’র সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার - বললেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।


বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেভাবেই হোক তিস্তা মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে - বললেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


কুয়েটের ৩৭ জন শিক্ষার্থীর সাময়িক বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার - শিক্ষা কার্যক্রম শুরু চৌঠা মে।


সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় পোপ ফ্রান্সিসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ  - শেষকৃত্য আগামী শনিবার – বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন প্রধান উপদেষ্টা।


সিলেটে প্রথম ক্রিকেট টেস্টে বাংলাদেশকে তিন উইকেটে হারালো জিম্বাবুয়ে।

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ২৩-০৪-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ২৩-০৪-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা।


বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের জন্য সাতশো ২৫ জন বাংলাদেশী সেনা সদস্য নেবে কাতার, জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।


সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার না করতে পুলিশকে নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার।


গুজব ও অপতথ্য মোকাবেলায় জেলা তথ্য অফিসসমূহকে কাজ করার তাগিদ তথ্য  ও সম্প্রচার উপদেষ্টার।


জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক অনুষ্ঠিত - স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, সংবিধান ও আইন যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেজন্য ঐকমত্যে পৌঁছতে চায় দলটি।


ভারত-শাসিত কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের গুলিতে কমপক্ষে ২৬ পর্যটক নিহত।


সিলেটে সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে আজ বাংলাদেশ গতকালের চার উইকেটে ১৯৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাটিং আবার শুরু করবে।

বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫

সাইট কাটা নাকি সিজার ভাল⁉️⁉️

 📌সাইট কাটা নাকি সিজার ভাল⁉️⁉️


আমার ২ বাবু নরমাল ডেলিভারির সময় সাইট কাটা লেগেছিল সেটার অভিজ্ঞতা নিয়েই বলছি।


📌সাইড কাটা বা এপিসিওটমি কি⁉️

📌 স্বাভাবিক প্রসবের সময় যখন মায়ের পেরিনিয়াম (যোনিপথ ও পায়ুপথের মধ্যবর্তী জায়গা) ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন ডাক্তার ডান বা পাশ থেকে যোনিপথ কিছুটা কেটে বড় করতে হয় এটিকেই বলে এপিসিওটমি বা সাইড কাটা। এতে বাবুর মাথা সহজে বের হয় আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে না। 


📌 এখন চলুন, কিছু অনুমান/ধারণা দূর করি আগে। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে। 🫵📌সিজার আর সাইড কাটা কি সেইম? প্রথমেই বুঝতে হবে সিজার একটা মেজর অপারেশন আর সাইড কাটা একটা নরমাল ইনসিশন। 

📌সিজারে পেটের চামড়া, নিচের লেয়ার, জরায়ু কাটতে হয়, এনেস্থিসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করতে হয়, পরবর্তী তে নানা ধরনের জটিলতা হয় কিন্ত সাইড কাটাতে এমন কিছুই নেই –📌 সন্তান প্রসবের সময় পেরিনিয়াম ছিড়ে যাওয়ার চান্স থাকলে তখন সেখানে একটা লোকাল এনেস্থিসিয়া দিয়ে আবার অনেক সময় দেয় ও এই সিধান্ত ডক্টরেে  ডান বা বাম সাইড থেকে একটা প্ল্যান ওয়েতে কাটা হয়, যেটা তখন মা বুঝতেই পারে না কারণ তখন তিনি জায়গাটা অনেক পাতলা থাকে এবং নরমাল ডেলিভারিতে অনেই পেইন থাকে এসব কাটা তখন কিছুই মনে হয় না।

📌 সন্তান প্রসবের পর সেই কাটা জায়গাটা সুন্দর করে সেলাই করে দেয়া হয় যেটার সুন্দর যত্ন নিলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সেরে যায়। অথচ সিজারে পুরো পেট কা-ট-তে হচ্ছে, সিজার পরবর্তী সময়েও নানা সমস্যা হয়। তাহলে কি করে সিজার আর সাইড কাটা এক হয়📌, রান্নাঘরে কাজ করার সময় হাত কেটে গেলে যেমন পরে ঠিক হয়ে গেলে বুঝা যায় না সাইড কাটাও সেইম। বাসায় নরমাল ডেলিভারিতে কি সাইড কাটতে হতো? আগেকার যুগে বা বাসায় নরমাল ডেলিভারি তে তো সাইড কাটতে হয় না তাদের কিভাবে প্রসব হয়?  খুব কমন একটা প্রশ্ন। এটা বুঝিয়ে বলছি – আগের দিনে বা এখনো যারা বাড়িতে প্রসব করান যেখানে কোনো প্রশিক্ষিত বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই তারা সাইড কাটা বা সেলাই করা বলতে কিছুই জানতেন না। ফলে সেসময় বেশীরভাগ বাচ্চা যোনিপথ মারাত্মক ভাবে ক্ষত হয়ে ছিঁড়ে বের হতো। এই মায়েরা পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুকির মুখোমুখি হতেন। প্রসাব পায়খানা করতে গিয়ে সমস্যায় পরতেন, স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা করতেও সমস্যা হতো। কিন্ত হসপিটালে ডেলিভারী করালে এই সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই। সন্তান প্রসব অবশ্যই হাসপাতালে করাতে হবে। হাসপাতালে সন্তান প্রসব এজন্যই নিরাপদ, যখনই দেখা যায় মায়ের যোনিপথ ছোট বা বাচ্চার মাথা জোর করতে গেলে ক্ষতি হবে তখনই একটুখানি যোনিপথের সাইড কেটে দিতে হয়। তখন বাচ্চার মাথা সহ বাচ্চার শরীর সহজে চলে আসে। সন্তান প্রসবের পরপরই যোনিপথের কাটা সাইডটা সেলাই দেওয়া হয়, যেটা ১৫ দিনের মধ্যেই খুব সুন্দর সেরে যায়, ভয়ের কিছুই নেই। 📌📌সাইড কাটা কখন দরকার হয়? অনেকে ভাবেন নরমাল ডেলিভারি মানেই সাইড কাটে। অথচ নরমাল ডেলিভারি তে যে সবসময়ই সাইড কাটা বা যোনিপথ কাটাতে হয় তা কিন্তু সঠিক নয়। ডেলিভারির সময় বাচ্চার ও মায়ের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যেমন আমার ২ বাবুর ই ৩ কেজি+ ওজন ছিল  তখন সাইড কাটার  দরকার। 

কখন সাইট কাটা হয় অবস্থা গুলো বুঝিয়ে বলি – প্রসবকালীন সময়ে যখন বাচ্চার মাথা আসতে থাকে তখন ডক্টর যদি দেখে মায়ের যোনিপথের প্রশস্ততার তুলনায় বাচ্চার মাথা বড় সেক্ষেত্রে মাথা বের করে নিয়ে আসতে গেলে আশপাশের সব ছিঁড়ে যাওয়ার ও ক্ষতবিক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন একটুখানি সাইড কেটে দিলে বাচ্চার মাথাটা সহজভাবে চলে আসে। যদি বাচ্চার মাথা অনেকক্ষণ ধরে আটকে থাকে বের না হয় সেক্ষেত্রে সাইড কেটে দিয়ে সহজে বাচ্চাকে বের করে আনা হয়। বাচ্চার যদি কোন সমস্যা তৈরি হয় যার ফলে দ্রুত প্রসবের প্রয়োজন তখন। বাচ্চার মাথা নিচে না থেকে যদি উপরে হয়। যদি এমন হয় কয়েক ঘন্টা ধরে চেষ্টার পর মা ক্লান্ত হয়ে গেছে কারণে এপিসিওটমি করার প্রয়োজন হতে পারে। সাইড কাটলে কি প্রস্রাব পায়খানা, সহবাসে সমস্যা হয়?📌📌📌 অনেকের ধারণা সাইড কাটলে প্রস্রাব পায়খানা, সহবাসে সমস্যা হয়। এটা ভুল ধারণা❌❌❌। সাইড কাটার পর প্রস্রাব পায়খানা তে কোনো সমস্যা হয় না, সহবাসেও কোনো সমস্যা হয় না – প্রসব পরবর্তী যে ৪৫ দিন সহবাস বিরত থাকতে বলা হয় এর মধ্যেই সেলাই পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়, আগের মতো। 📌📌📌📌

সাইড কাটার পর যত্ন ও করনীয়ঃ সাইড কাটার পর কিছু যত্ন নিতে হয়। প্রথমেই সেগুলো বুঝিয়ে বলছি – 

১. ডাক্তার ব্যথার জন্য ঔষধ , এন্টিবায়োটিক ও তিন বেলা কাটা জায়গায় লাগানোর একটা মলম দিবেন, পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সিরাপ সহ অনান্য ঔষধ – এই জিনিস সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলা। 

২. অনেকে বলেন সেলাই এ পানি লাগানো যাবে না, এটা ভুল কথা – প্রস্রাবের পরপরই আপনার যোনিপথ ও নীচের দিকও ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। 

৩. কুসুম গরম পানিতে ১ চামচ পভিসেপ আয়োডিন মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট পানিতে বসে থাকা,  যেটাকে হিপ বাথ বলে দিনে ২ বার করে – ১ মাস কন্টিনিউ করা। 

৪. খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যুক্ত খাবার রাখুন, পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান ও সুষম খাবার খেতে হবে যেন কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়। 

📌পেন্টি ব্যাবহার না করা ভাল ডাবল বেল্ট সিস্টেম স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করবেন। ২ ঘন্টার পর পর ১০ মিনিট জন্য প্যাড খুলে বাতাস লাগাবেন এতে ইনফেকশন পাকার ভয় থাকবে না।

📌প্রচুর ভিটামিন সি খাবেন এতে সেলাই পাকবে না।আমি একটা মাল্টা লেবু টানা ৩০ দিন প্রতিদিন খেয়েছি।

৫. নিয়মিত হাটা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পোস্ট ন্যাটাল ব্যায়াম (বিশেষ করে পেলভিক ফ্লোর এর ব্যায়াম) গুলো করা যা পেলভিক মাংশপেশীতে রক্ত সংবহন বাড়ায় যা ক্ষত স্থানকে দ্রুত সারাতে সাহায্য করে।

 📌সম্পর্কিত: স্বাভাবিক প্রসবের পর প্রসব পরবর্তী যত্ন (Postpartum Care) সাইড কাটার সেলাই কাটা সাইড কাটার সেলাই কাটতে হয় না, এটা নিজে নিজেই পরে যায়। চিন্তার কিছুই নেই, ডেলিভারির পর, ৭ দিন পর যে ভিজিটে গিয়ে ডাক্তারকে দেখানো উচিত। যদিও সাইড কাটাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সমস্যা হয় না 📌

তবে কখনো কারো ডায়বেটিস বা যত্নের অভাবে বা অন্য কারনে কাটা জায়গায় সমস্যা হতে পারে। তাই জানা উচিত কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেনঃ লক্ষ্মণ গুলো হলোঃ 

যদি বেশিদিন ব্যথা থাকে। কাটা জায়গা থেকে পুঁজ অথবা গন্ধযুক্ত কিছু বের হয়। কাটা জায়গার আশপাশ লাল হয়ে যায়, ফুলে যায়, জ্বর হয় – এগুলোর যেকোনো একটি যদি চোখে পরে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। আশা করি লেখাটি পড়ে সাইডকাটা নিয়ে আপনাদের ধারণা ক্লিয়ার হবে। সিজার আর সাইড কাটা কখনোই এক না, বিশাল ব্যবধান। তাই সাইড কাটার ভয়ে সি সেকশনে যাওয়া বড় বোকামি যেন না হয়।

সংগ্রহীত 👍👍

ইনফেকশনে আক্রান্ত দেশীয় দোকানের ব্রয়লার মুরগীগুলো! ছড়াতে পারে মানুষেও!

 ইনফেকশনে আক্রান্ত দেশীয় দোকানের ব্রয়লার মুরগীগুলো! ছড়াতে পারে মানুষেও!


জাপানের বাজারে মুরগির মাংসে সম্প্রতি নতুন এক ব্যাকটেরিয়া সনাক্ত হয়। নাম— ইশেরিশিয়া আলবার্টি বা ই. আলবার্টি। এটি ই. কোলাইয়ের একটি ভ্যারিয়েশন। শতাধিক জাপানি এই মাংস খেয়ে রোগাক্রান্ত হন। দেখা দেয় ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, কিডনি জটিলতার মতো রোগ।


এ ঘটনার পর জাপানি গবেষকদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশেও একই পরীক্ষা চালান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর জায়েদুল হাসান। চারটি জেলা থেকে ১৭টি নমুনা মুরগি সংগ্রহ করেন তাঁরা। বিস্ময়করভাবে সবগুলো মুরগিতেই ই. আলবার্টি ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পাওয়া যায়।


ই. আলবার্টি 'জুনোটিক' জীবাণু। এরা অন্য প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায়। শুধু ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো পেটের অসুখই নয়, এই মাংস খেলে আপনার দেহ অন্তত একটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রতিরোধি হয়ে উঠবে। সেই সম্ভাবনা ৯৪ ভাগ। অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ওষুধ আপনার দেহের রোগ সারাতে ব্যর্থ হবে। এমনকি আপনার অনাগত সন্তানও একই সমস্যা নিয়ে জন্ম নেবে।


শুধু মুরগির মাংসেই নয়, মুরগির দোকানে ছুরি, ব্লিডিং কোন এমনকি কর্মীর হাতেও এই জীবাণু পাওয়া গেছে। ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানপ্রিয়।


সূত্র: Dr. Jayedul Hassan, IJFM, Mar 2025.

গবেষণা ডকুমেন্ট লিংক কমেন্টে।


*শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ পেতে পেজে ফলো দিয়ে সাথে থাকুন*


বি দ্রঃ ব্রয়লার মুরগির মাংস খাবেন নাকি খাবেন না এমন ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পোস্ট করা হয়নি। এখানে জাস্ট একটা তথ্য জানানো হয়েছে যেটা গবেষণায় পাওয়া গেছে। কে কি করবেন সেটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে এটাও ঠিক আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মনে হয় একটু বেশি।

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: দিনব্যাপী সফরে আজ ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - যোগ দেবেন খাল ...