নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আক্রমণ কেন হয়েছিল? কেন তাকে একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছিল?
বখতিয়ার খলজিকে চিকিৎসা করে সুস্থ করার পরিণামে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়েছিল।
নালন্দার পরিচয় :
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কোন রাজার দূর্গ ছিল না, কোনো খাজানা (কর) সংগ্রহ করে রাখার জায়গা ছিল না। ছিল শিক্ষার প্রচার প্রসার করার এক ইউনিভার্সিটি নালন্দা স্থাপনা পঞ্চম শতাব্দীতে হয় বলে মনে করা হয়, এটি ছিল বিশ্বের সবথেকে পুরনো ইউনিভার্সিটির মধ্যে একটি। বর্তমানে বিহারে এটি অবস্থিত। সংস্কৃতির তিন শব্দ -' না' ' আলম ' এবং ' দা ' থেকে নালন্দা হয়েছে। যার অর্থ হলো স্তব্ধ না হওয়া জ্ঞানের প্রবাহ।
সারাবিশ্ব থেকে বিশেষ করে জাপান চীন রাশিয়া ইন্দোনেশিয়া পার্শিয়া তুর্কী শ্রীলঙ্কা থেকে অধ্যায়ন করতে প্রচুর বিদ্যার্থীরা আসতো নালন্দা তে। ১০০০০ সন্ন্যাসী এবং ১৫১০ জন আচার্য ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য বিদ্যার্থীদের কোনো টাকা দিতে হতো না। হর্ষবর্ধন বসুবন্দু ধর্মপাল নাগার্জুন পদ্মসম্ভব হিউয়েন সাঙ এর মত লোক পড়াশোনা করেছেন এই নালন্দাতে। শোনা যায় আর্যভট্টও একসময় এই ইউনির্ভাসিটিতর প্রধান ছিলেন। এভাবেই ৮০০ বছর ধরে সারা বিশ্বকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে চলেছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও নালন্দা আক্রমণ একবার নয় তিন তিনবার হয়েছিল।
বখতিয়ার খলজি কেন সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করেছিলেন? খিলজি একবার প্রচুর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, অনেক চিকিৎসা পরও কোন উন্নতি হচ্ছে না দেখে একজন পরামর্শ দেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য রাহুল শ্রীভদ্র এর চিকিৎসা করতে পারেন। উনার থেকে একবার চিকিৎসা করে দেখা যেতে পারে।
বখতিয়ার খলজির কোন অমুসলিমের থেকে চিকিৎসা করার ইচ্ছে ছিল না ( বর্তমানে আমরা দেখতে পাই) তাই প্রথমে এই প্রস্তাব এড়িয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়ায় ডাক পড়ে রাহুল শ্রীভদ্ররের।
রাহুল শ্রীভদ্র খিলজির কাছে গিয়ে উনার শরীরের পর্যবেক্ষণ করার পর খিলজী শর্ত রাখেন উনি রাহুল শ্রীভদ্ররের দেওয়া কোন ওষুধ খাবেন না। এভাবে উনি রাহুল শ্রীভদ্র কে তাচ্ছিল্য করতে চান এবং হি n du দেরও ছোট দেখাতে চেয়েছিলেন।
রাহুল শ্রীভদ্র উনার শর্তে রাজি হয়েছিলেন এবং কুরআনের কয়েকটি পৃষ্ঠা তাকে প্রতিদিন পড়তে বলেন। খিলজি প্রতিদিন তাই করতে থাকেন, কিছু দিন মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান।
রাহুল শ্রীভদ্র কোরআনের ওই পাতা গুলির মধ্যে ওষুধ মিশিয়ে দেয়, যা প্রতিদিন পড়বার সময় খিলজির নাক অবধি পৌঁছে যেত।
করেকদিনের মধ্যেই খিলজি এ বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তার মনে প্রবল হিংসা হয় এবং তিনি চিন্তা করতে থাকেন এই ' কাফেরদের ' কাছে কিভাবে মুসলিম হাকিমের থেকেও বেশি জ্ঞান হলো? ঠিক এর পরই উনি প্রতিজ্ঞা করেন জ্ঞানের ভান্ডার নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করার।
রাহুল শ্রীভদ্র সমেত হাজারো বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের জ্ঞানের ভান্ডার ছিল এখানকার লাইব্রেরি। আসলে তখন নালন্দার ছিল বিশ্বের সবথেকে বড় গ্রন্থগার, যার নাম ছিল ধর্মগঞ্জ। এখানে প্রায় ৯০ লক্ষ বই ছিল। এই সমস্ত কিছু জেনেই খিলজি নালন্দার উপর আক্রমণ করেন।
কয়েক হাজার বৌদ্ধ সন্ন্যাসী কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, অনেক বিদয়ার্থীদের জীবন্ত জ্বালানো হয়েছিল এবং এরপরেই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইতিহাসবিদ মিনহাজ সিরাজ তার বই তাবাকাত-ই-নাসারীতে লিখেছেন এই লাইব্রেরির সব সম্পূর্ণভাবে জ্বলতে সময় লেগেছিল তিন মাস। এর থেকেই বুঝতে পারেন কত বড় ছিল -এই লাইব্রেরি সংগ্রহশালা। যার মধ্যে বেশিরভাগ বইছিল আরিজিনাল, যার কোন কপি অন্য জায়গায় ছিল না।
খিলজী শুধু নালন্দাকেই ধ্বংস করেননি, করেছিলেন ভারতবর্ষের জ্ঞানের ভান্ডারকে। যা আজো চলে বর্তমান যুগে শিক্ষা ব্যবস্থা কে ধ্বংস করার জন্য সেই খিলজির বংশধরেরা।
এর জন্য আমি মনে করি একজন ভুল মানুষকে চিকিৎসার ফল হিসেবে নালন্দাকে ধ্বংস হতে হয়েছে। সেই বংশধরেরা বর্তমানেও বিরাজমান
-
বি.দ্রঃ সংগৃহীত